22/08/2026
সিজদায় ইস্তিগফার পাঠ করার ফজিলত সম্পর্কে জানলে অবাক হবেন।
মানুষের জীবনে এমন অনেক ভুল ও গুনাহ হয়ে যায়,যা সে প্রকাশ করতে পারে না।কিন্তু একজন মুমিন জানে আল্লাহর কাছে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি হলো সিজদা।
কারণ সিজদার অবস্থায় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে।রাসূল (সা.)বলেছেন,বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদার অবস্থায়। অতএব তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।(সহিহ মুসলিম)
সিজদা শুধু নামাজের একটি অংশ নয়,এটি হলো বান্দার বিনয়ের চরম প্রকাশ।যখন একজন মানুষ তার মাথা আল্লাহর সামনে মাটিতে রেখে বলে,হে আমার রব,আমি ভুল করেছি,আমাকে ক্ষমা করুন,তখন এটি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল।
সিজদায় পড়ার জন্য একটি সুন্দর ইস্তিগফার:
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْه
উচ্চারণ:
আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি যাম্বিও ওয়া আতুবু ইলাইহি।অর্থ:আমি আমার রব আল্লাহর কাছে আমার সকল গুনাহের জন্য ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছেই তওবা করি।আরও একটি দোয়া যা রাসূল(সা.)সিজদায় বেশি পড়তেন
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: সুবহানাকাল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা,আল্লাহুম্মাগফিরলি।
অর্থ:হে আল্লাহ!আপনি পবিত্র,হে আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি।হে আল্লাহ!আমাকে ক্ষমা করুন।
সিজদায় ইস্তিগফারের মাধ্যমে বান্দা শুধু গুনাহ মাফ চায় না,বরং নিজের হৃদয়কেও পরিষ্কার করে।দুশ্চিন্তা,অশান্তি এবং অন্তরের ভার ধীরে ধীরে হালকা হয়ে আসে।
অনেক সময় আমরা জীবনের সমস্যার সমাধান মানুষের কাছে খুঁজি,অথচ যিনি সব সমস্যার মালিক তিনি হলেন আল্লাহ।সিজদায় চোখের পানি ফেলে করা একটি দোয়া কখনো কখনো মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।তবে মনে রাখতে হবে,ইস্তিগফার শুধু মুখের শব্দ নয়। এর সঙ্গে থাকতে হবে গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং অন্তর থেকে অনুতপ্ত হওয়া।
উপসংহার:
যখন পৃথিবীর সবাই থেকে দূরে সরে যাওয়ার মতো মনে হয়,তখন সিজদায় চলে যান।কারণ সেখানে এমন একজন রব আছেন,যিনি বান্দার কান্না শোনেন,গোপন কষ্ট জানেন এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন।
আজ থেকেই সিজদাকে শুধু নামাজের একটি অংশ নয়,বরং আল্লাহর সঙ্গে নিজের একান্ত কথোপকথনের সময় বানিয়ো
✒️✒️✒️
HM Ridwan Khan Riyad