বাংলাদেশ গণ পাঠাগার

বাংলাদেশ গণ পাঠাগার

Share

বাংলাদেশ গণ পাঠাগার ,মহিরুহের একটি স্বপ্নবীজ। সবার জন্য উন্মুক্ত গ্রন্থ-বাগিচা ।

16/02/2024

. 🔳মানুষ‌কে অপমান না ক‌রেও
সংশোধন করার অসাধারণ শিক্ষা।🔳
---------------------------------------------------
হঠাৎ এক‌দিন রাস্তায় এক বৃ‌দ্ধের সা‌থে এক যুব‌কের দেখা। যুবক একটুখানি অগ্রসর হয়ে স‌ম্বোধন ক‌রে বিনয়ের সাথে বৃদ্ধ‌কে জিজ্ঞাসা কর‌লো, -স্যার,আমাকে চিন‌তে পে‌রে‌ছেন? উত্ত‌রে বৃদ্ধ লোক‌ বল‌লেন, -না বাবা, আমি তোমা‌কে চিন‌তে পা‌রি‌নি। অতপর বৃদ্ধ লোক জান‌তে চাই‌লেন, -- "তুমি কে?"

তারপর যুবক‌ বললো,
--"আমি একসময় আপনার ছাত্র ছিলাম। ও আচ্ছা! ব‌লে সেই বৃদ্ধ লোক‌ যুব‌কের কা‌ছে কুশলা‌দি জানার পর জিজ্ঞাসা কর‌লেন এখন তু‌মি কি কর‌ছো? যুবক‌ অত‌্যন্ত বিন‌য়ের সা‌থে জবাব দিলো, --"আমি একজন শিক্ষক। বর্তমা‌নে শিক্ষকতা কর‌ছি।"

সা‌বেক ছা‌ত্রের মুখ থে‌কে এই কথা শু‌নে বৃদ্ধ শিক্ষ‌ক অত‌্যন্ত খু‌শি হ‌য়ে বললেন, --বাহ্! বেশ তো! খুব ভালো! খুব ভালো!
ঠিক আমার মতো হয়েছো তাহলে!"

যুবক মৃদুহেসে জবাব দিলো, --"জ্বি,আসলে আমি আপনার মতো একজন শিক্ষক হতে পে‌রে‌ছি ব‌লে নি‌জে‌কে ধন‌্য ম‌নে কর‌ছি।" তখন সেই যুবক এর পিছ‌নের কারণ বর্ণনা কর‌তে গি‌য়ে বল‌লো, -"আপনি আমাকে আপনার মতো হতে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছেন স্যার!"

বৃদ্ধ শিক্ষক কিছুটা কৌতূহল নি‌য়ে যুবকের শিক্ষক হওয়ার নেপথ্য কারণ জান‌তে চাই‌লে, যুবক‌ তার শিক্ষক হ‌য়ে উঠার গল্প বল‌তে গি‌য়ে বৃদ্ধ শিক্ষক‌'কে ষ্মরণ ক‌রিয়ে দি‌লো, স্কু‌লে ঘ‌টে যাওয়া সেই পুরনো দিনের ঘটনা। পুরনো দি‌নের ঘটনা বর্ণনা কর‌তে গি‌য়ে যুবক‌ তখন বৃদ্ধ শিক্ষ‌ককে উ‌দ্দেশ‌্য ক‌রে বল‌লো,

--"ম‌নে আছে স্যার?
একদিন আমার এক সহপা‌ঠি বন্ধু, যে আপনারও ছাত্র ছিল, সে একটি নতুন হাতঘড়ি নি‌য়ে ক্লা‌সে এসেছিল। তার ঘড়ি‌টি এতোটাই সুন্দর ছিল যে, আমি কোনভাবেই লোভ সামলা‌তে পা‌রি‌নি। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যেভাবেই হোক ঘ‌ড়ি‌টি আমার চাই। অতঃপর, সুযোগমতো আমি তার প‌কেট থে‌কে ঘ‌ড়িট‌ি চুরি করি।

কিছুক্ষণ পর আমার সেই বন্ধু তার ঘড়ির অনুপস্থিতি লক্ষ্য করে এবং অবিলম্বে আমাদের স্যার অর্থাৎ আপনার কাছে অভিযোগ করে। তার এই অ‌ভি‌যোগ শু‌নে আপনি ক্লাসের উদ্দেশ্যে বলে‌ছি‌লেন, --"আজ ক্লাস চলাকালীন সম‌য়ে এই ছাত্রের ঘড়িটি চুরি হয়েছে, যেই চুরি করে থাকো, ঘা‌ড়ি‌টি ফিরিয়ে দাও।"

আপনার নির্দেশ শু‌নেও আমি ঘা‌ড়ি‌টি ফেরত দিতে পারিনি।
কারণ, ঘড়িটি ছিল আমার কা‌ছে খুবই লে‌াভনীয়, তাছাড়া, আমরা খুবই গরীব ছিলাম, এমন ঘড়ি ক্রয় করার সামর্থ্যও আমাদের ছিল না। তারপর আপনি দরজা বন্ধ করে সবাই কে বেঞ্চ ছে‌ড়ে উঠে দাঁড়ি‌য়ে ক্লাসরু‌মের ফ্লো‌রের ম‌ধ্যে একটি গোলাকার বৃত্ত তৈরি করতে বললেন এবং সবাই‌কে চোখ বন্ধ করার নির্দেশন দি‌লেন, অতঃপর ঘড়ি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আপনি পর্যায়ক্রমে আমাদের সবার পকেট খুঁজ‌তে লাগ‌লেন। আমরা সবাই আপনার নির্দেশনা মোতাবেক নিরবে দাঁ‌ড়ি‌য়ে রইলাম।

এক এক ক‌রে পকেট চেক ক‌রতে গিয়ে
একটা সময় আপনি যখন আমার পকেটে হাত দি‌য়ে ঘ‌ড়ি‌টি খুঁ‌জে পে‌লেন তখন ভ‌য়ে, লজ্জায় আমার শরীর কাঁপ‌ছিল। কিন্তুু সেই মুহূ‌র্তে ঘড়ি‌টি আমার প‌কে‌টে পাবার পরও আপনি কিছু ব‌লেন‌ নি এবং শেষ ছাত্র পর্যন্ত সবার প‌কেটই চেক কর‌ছি‌লেন। সব‌শে‌ষে আপ‌নি সবাই‌কে বললেন ঘ‌ড়ি পাওয়া গে‌ছে, এবার তোমরা সবাই চোখ খুল‌তে পা‌রো।

ঘ‌ড়ি‌টি পাবার পর আমার সেই বন্ধু‌টি
আপনার কা‌ছে জান‌তে চে‌য়ে‌ছিল, ----"ঘ‌ড়ি‌টি কার প‌কে‌টে পাওয়া গি‌য়ে‌ছিল? ‌কিন্তুু আপনি তা‌কে ব‌লে‌ছি‌লেন, ঘ‌ড়ি‌টি কার প‌কে‌টে পাওয়া গে‌ছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তোমার ঘ‌ড়ি পাওয়া গে‌ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

সেই দি‌নের ঘটনা নি‌য়ে পরবর্তী‌তে আপনি আমার সা‌থে কো‌নো কথা ব‌লেন‌নি। এমন‌কি সে কাজের জন‌্য আপনি আমাকে তিরস্কারও করেননি। নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য আপ‌নি আমাকে স্কু‌লের কো‌নো কামরায় নিয়ে যাননি। সেই ঘটনা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে লজ্জাজনক দিন। অথচ আপ‌নি অত‌্যন্ত বু‌দ্ধিমত্তার সা‌থে, কৌশল অবলম্বন ক‌রে চু‌রি হওয়া ঘ‌ড়ি‌টি উদ্ধার কর‌লেন এবং আমার মর্যাদা চিরতরে রক্ষা করলেন।
সে ঘটনার পর আমি অ‌নেক‌দিন অনু‌শোচনায় ভোগে‌ছি। ক্লা‌সে ঘ‌টে যাওয়া ঘটনার রেশ সে দিন চ‌লে গে‌লেও এর প্রভাব র‌য়ে যায় আমার ম‌নের ম‌ধ্যে। বি‌বে‌কের যু‌দ্ধে বার বার দং‌শিত হ‌য়ে‌ছি। তারপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এই সব অ‌নৈ‌তিক কাজ আর কখ‌নো করব না। একজন ভা‌লো মানুষ হ‌বে‌া। একজন শিক্ষক হ‌বো। স‌ত্যিকার অ‌র্থে মানুষ গড়ার কা‌রিগর হ‌বো। আপনার কাছ থে‌কে সে দিন আমি স্পষ্টভাবে বার্তা পেয়েছিলাম প্রকৃতপ‌ক্ষে কি ধর‌ণের একজন শিক্ষা‌বি‌দ হওয়া উ‌চিত। অপমান ছাড়াও মানু‌ষকে সং‌শোধন করা যায় সে‌টি আপনার কাছ থে‌কে শি‌খে‌ছি। আপনার উদারতা এবং মহানুভবতা আজ আমা‌কে শিক্ষ‌কের মর্যাদায় আসীন ক‌রে‌ছে।

সা‌বেক ছা‌ত্রের কথাগু‌লো শোনতে শোনতে বৃদ্ধ শিক্ষকের চোখে জল গড়িয়ে পড়লো! চোখের জল মুছতে মুছতে মৃদু হেসে শিক্ষক বললেন, --"হ‌্যাঁ, সেই ঘটনা আমার দিব্যি ম‌নে আছে। কিন্তুু আমি তোমাকে মনে রাখিনি, কারণ সে সময় শুধু তোমাদের নয় আমার চোখও বন্ধ ছিল। "

তারপর শিক্ষক দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে বললেন,
--"তুমিই বলো বাবা, কোন শিক্ষক কি সন্তানতূল্য ছাত্রদের চোরের বেশে দেখতে পারে? শিক্ষক চায় তার ছাত্রদের বীরের বেশে দেখে গর্ববোধ করতে।।

[ সংগৃহীত ও পরিমার্জিত ]

04/02/2024

এক লেখকের পাঁচ হাজার টাকা দামের বই বের হয়েছে। এত দামি বই!

সাংবাদিকরা লেখককে জিজ্ঞেস করল, "বইয়ের এত দাম কেন?"

"আমি সস্তা জিনিস লিখি না! আর জিনিস যেটা ভালো দাম তার একটু বেশিই হয়।"

এত দামি হওয়ার পরও বইয়ের কাটতি ভালো হচ্ছে!

সাংবাদিকদের আবার লেখকের কাছে আসতে হলো কারণ লেখক যে বই বিক্রি করছেন তাতে কোনো লেখা নাই। সম্পূর্ণ বই ফাঁকা!

লেখক জানালেন, এটা বিশেষ এক ধরনের কালি দিয়ে লেখা। এটা কী করে পড়তে হবে সেটা আমি পরে ফেসবুকে স্টাটাস দিয়ে জানিয়ে দিব। একটা বই শুধুমাত্র একজনই পড়তে পারবেন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়ল। ধুমসে মানুষ বই কিনছে! পনেরোদিন পরে লেখক জানাবেন এই বই কী করে পড়তে হবে। এরমধ্যেই বই কিনে ফেলতে হবে।

দেখা গেল পনেরোদিনে একলাখের বেশি বই বিক্রি হয়ে গেছে! এমন রেকর্ড পরিমান বই বিক্রি, আগে কখনো হয়নি!

আজ রাত বারোটায় লেখক বই পড়ার পদ্ধতি স্টাটাস দিবেন। রাত বারোটায় ওনার টাইম লাইনে একটা স্টাটাস দেখা গেল।

আ'হা'ম্ম'কের দল!

বই কিনতে হয় লেখকের লেখা পড়ে ভালো লাগার পর। কিছুই না জেনে সবাই কিনছে বলে বানরের মতো বই কেনা পাঠকদের জন্য আমি কী লিখব?

আপনাদের যে শিক্ষাটা দিলাম এটার মূল্যই পাঁচ হাজার টাকার বেশি।

#সংগৃহীত

কোন একটা নির্দিষ্ট বই সবাই কিনছে বলেই যে আপনারও কিনতে হবে এমন ভাবনা থেকে বের হয়ে আসুন।

26/01/2024

আহমদ ছফার শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক স্যার কে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ডি.লিট উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে। সে উপলক্ষ্যে আহমদ ছফা তাঁর স্যারকে একটি সিল্কের পাঞ্জাবি, পাজামা, একটি ভালো ফাউন্টেন পেন এবং খুব দামি কিছু লেখার কাগজ উপহার দিয়েছিলেন। তিনি অনুরোধ করেছিলেন রাজ্জাক স্যার যেন তার উপহার দেওয়া কলম ও কাগজে উনার আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন।

জবাবে আব্দুর রাজ্জাক স্যার হাসতে হাসতে একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন;

" আমি একবার মিস্টার এ কে ফজলুল হকেরে যাইয়া কইলাম, আমি আপনের জীবনীটা লেখবার চাই। আপনি যদি দয়া কইর‍্যা পারমিশনটা দেন, কাজ শুরু করবার পারি। হক সা'ব তখন ইস্ট পাকিস্তানের গভর্নর। আমার প্রস্তাব শুইন্যা খেকাইয়া উইঠ্যা কইলেন, আমার জীবনী লেখতে চাও, নিশ্চয়ই কোন মতলব আছে। আমি কইলাম, মতলব তো একটা অবশ্যই আছে। হক সাহেব কইলেন হেইডা আগে কও।

আমি কইলাম আপনে যখন গাঁও গেরামে যান, মাইনষের লগে এমন ব্যবহার করেন, তারা মনে করে জনম ভইর‍্যা আপনি গাঁও গেরামে কাটাইয়া তাগো সুখ-দুঃখের অংশ লইতাছেন।

তারপরে গাঁও গেরাম থেইক্যা ঢাহা শহরে আইস্যা আহসান মঞ্জিলের ছাদে উইঠ্যা নওয়াব হাবিবুল্লাহর লগে যখন গুড্ডি উড়ান, লোকজন দেইখ্যা আপনেরে নওয়াব বাড়ির ফরজন্দ মনে করে।

তারপর আবার যখন কলিয়াতায় যাইয়্যা শ্যামাপ্রসাদের লগে গলা মিলাইয়া ভাই বইল্যা ডাক দেন কলিকাতার মানুষ চিন্তা করে আপনে শ্যামাপ্রসাদের মেলায় হারিয়ে যাওয়া ভাই।

বাংলার বাইরে লখনৌ কিংবা এলাহাবাদে গিয়ে মুসলিম নাইট নবাব গো লগে যখন বয়েন, দেখলে মনে অইব আপনে তাগো একজন।

এই এতগুলা ভুমিকায় আপনে এতো সুন্দর সাকসেসফুল অভিনয় করতে পারেন, এইডা ত একটা মস্ত ক্ষমতা। এই ক্ষমতা স্যার অলিভার লরেন্সেরও নাই। এই অভিনয়ক্ষমতার একটা এনকোয়ারি আমি করবার চাই। আর নইলে আপনের আসল গুণপনা কোথায় হেইডা ত আমাগো অজানা নাই।

হক সাহেব হুঙ্কার ছাইড়া জিগাইতে লাগলো, তুমি আমার সম্পর্কে কি জান? আমি কইলাম, আপনে সুন্দর সুন্দর বিশ্বাসযোগ্য মিছা কথা কইবার পারেন। আমার জবাব শুইন্যা হক সাহেব হ হ কইরা হাইস্যা উঠলেন।"

আহমদ ছফা আরেকবার শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক কে শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে উনার মতামত জানতে চাইলেন। তখন ও শেখ সাহেব বেঁচে আছেন।রাজ্জাক স্যার একটু নড়েচড়ে বসলেন। তারপর বললেন;

" নাইন্টিন সিক্সটি থেকে নাইন্টিন সেভেন্টি ওয়ান পর্যন্ত সময়ে শেখ সাহেব যারেই স্পর্শ করছেন, তার মধ্যে আগুন জালাইয়া দিসেন। হের পরের কথা আমি বলবার পারুম না। আমি গভর্মেন্টের কারো লগে দেখাসাক্ষাৎ করি না। সেভেন্টি টুতে একবার ইউনিভার্সিটির কাজে শেখ সাহেবের লগে দেখা করতে গেসিলাম। শেখ সাহেব জীবনে অনেক মাইনষের লগে মিশছেন তো আদব লেহাজ আছিল খুব ভালা। অনেক খাতির করলেন।

কথায়-কথায় আমি জিগাইলাম, আপনের হাতে তো অখন দেশ চালাইবার ভার। আপনে অপজিশনের কী করবেন। অপজিশন ছাড়া দেশ চালাইবেন ক্যামনে। জওহরলাল নেহরু ক্ষমতায় বইস্যাই জয়প্রকাশ নারায়ণরে কইলেন, তোমরা অপজিশন পার্টি গইড়্যা তুলো।

শেখ সাহেব বললেন আগামী নির্বাচনে অপজিশন পার্টিগুলো ম্যাক্সিমাম পাচঁটার বেশি সিট পাবে না। আমি একটু আহত অইলাম, কইলাম, আপনে অপজিশনরে একশো সিট ছাইড়া দেবেন না? শেখ সাহেব হাসলেন,আমি চইলা আসলাম। ইতিহাস শেখ সাহেবরে স্টেটসম্যান অইবার একটা সুযোগ দিসিলো। তিনি এইডা কাজে লাগাইবার পারলেন না।"

~ যদ্যপি আমার গুরু(আহমদ ছফা)

C

26/01/2024

আমি একবার আমার শাইখকে অভিযোগ করলাম, শাইখ! আমি বই পড়ি, কিন্তু পড়া শেষ করার পর আমার কিছুই মনে থাকে না।

শাইখ আমার দিকে একটি খেজুর বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ❝এটা চিবিয়ে খাও।❞ আমি তাই করলাম।

শাইখ: এখন শারিরীক কোনো বৃদ্ধি টের পাচ্ছো কি?
আমি: না তো!

শাইখ: ❝তুমি অনুভব না করলেও খেজুরটি কিন্তু আলাদা আলাদা হয়ে তোমার রক্ত, মাংস, হাড্ডি, চামড়া, চুল ও নখে পরিনত হচ্ছে। ঠিক এমনিভাবে আমরা যখন কোনো বই পড়ি, তখন তা আমাদের অগোচরেই আমাদের ভাষাকে শক্তিশালী করে, জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে, চরিত্রকে শুদ্ধ করে, লেখনী ও বাচনভঙ্গি উন্নত করে।❞

- শাইখ সালমান আল আওদাহ (হাফি.)
C

Photos from বাংলাদেশ গণ পাঠাগার's post 20/01/2024

প্রিয় সাহিত্য ম্যাগাজিন আন-নাবাত এখন পাঠকের হাতে,খাটে,পাঠে

18/01/2024

প্রিয় আন-নাবাত এখন পাঠকের ঘরে।

12/01/2024

চাকরি- জিনিসটাই আমার পছন্দ না। নিচের গল্পটি ভালো লেগেছে।

দিল্লিতে একজন সামুচা ওয়ালা ছিল এবং তাঁর দোকানের সামনে একটি বড় কোম্পানির অফিস ছিল। একদিন এক ম্যানেজার দোকানে সামুচা খেতে গেল।
২ টা সামুচা নিয়ে সামুচা ওয়ালাকে প্রশ্ন করলো যে, তুমি খুব সুন্দর করে দোকানটা সাজিয়েছো, সিস্টেম গুলো ভালো, সুন্দর এডমিনিষ্ট্রেশন, তাহলে তোমার এত সুন্দর প্লানিং নিয়ে আমার মত জব করলে ভালো হতো না, এই সামুচা বিক্রি করে তো তুমি সময় নষ্ট করছো না?

সামুচা ওয়ালা হাসি দিয়ে বলল - স্যার আমার কাজটা আপনার থেকে অনেক ভাল। আজ থেকে ১০ বছর আগে আমি সামুচা বিক্রি করতাম টুকরীতে। তখন আমার আয় ছিল ১০০০/মাস এবং আপনার বেতন ছিল ১০ হাজার। আজ ১০ বছর পর আমার আয় ১ লক্ষ এবং কোন কোন মাসে ১ লক্ষ বেশি আর আপনার এখন বেতন ৪০ হাজার । তাহলে আপনার থেকে আমার কাজটা বেশি ভালো না?

আমার পরে আমার এই ব্যবসা আমার ছেলে দেখবে। সে সাজানো একটা ব্যবসা পাবে কিন্তু আপনার ছেলে মেয়ে কি আপনার মত পজিশন পাবে? আমি ০ থেকে শুরু করেছি কিন্তু আমার ছেলে মেয়েরা ০ থেকে শুরু করবে না। চাকুরীজিবীগনের ছেলে মেয়েদের ০ থেকেই শুরু করতে হবে। আপনি চাইলেও আপনার পজিশনে আপনার ছেলে মেয়ে কে বসাতে পারবেন না। আপনি ১০ বছর আগে যে কষ্টটা করেছেন আপনার ছেলে মেয়েদের কেউ একই কষ্ট করতে হবে।আমার ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত গুছিয়ে দেওয়া আমার দায়িত্ব আর আমি তাই করেছি যা আপনি পারেন নাই।

লোকটা কথা গুলো শুনে ৫০ টাকা বিল পরিশোধ করে চলে গেল। এন্টারপ্রেনারের জন্ম হয় কঠোর পরিশ্রমে যার পিছনে থাকে সূদৃঢ় সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা ও পরিশ্রম।

(কালেক্টেড)

11/01/2024

এক চুমুকে ফিলিস্তিনের ইতিহাস।

10/01/2024

সময়ই জীবন। সুতরাং সময় নষ্ট করা মানেই নিজেকে ধ্বংস করা।
আসুন নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করি।

08/01/2024

কয়েক শতাব্দীর জ্ঞানার্জন করতে চাও?
বই পড়।

07/01/2024

ঘুঘু দেখেছো ঘুঘুর ফাঁদ দেখোনি।

জসিম উদ্দিন

বাপ মরে গিয়েছে। ঘুঘু আর ফাঁদ দুই ভাই। কি একটা কাজে দুই ভাইয়ের লাগল মারামারি। ফাদ রেগে বলল, “তুই ঘুঘু দেখেছিস। কিন্তু ফাঁদ দেখিস নাই।”
ঘুঘু রাগ করে বাড়ি হতে পালিয়ে গেল। বিদেশে গিয়ে সে এ বাড়ি, সে বাড়ি, কত বাড়ি ঘুরল। সবাইকে বলল, আমি ধান নিড়াইতে পারি-পাট কাটতে পারি-গরুর হেফাজত করতে পারি। কিন্তু কার চাকর কে রাখে! দেশে বড় আকাল। অবশেষে ঘুঘু গিয়ে উপস্থিত হল কিরপন (কৃপণ) ঠাকুরের বাড়ি। কিরপন ঠাকুর চাকর রেখে খেতে দেয় না, খেতে দিলেও তার বেতন দেয় না, তাই কেউই তার বাড়িতে চাকর থাকে না।

ঘুঘুকে দেখে কিরপন ঠাকুর বলল, “আমার বাড়িতে যদি থাকতে চাও তবে প্রতিদিন তিন পাখি করে জমি চাষ করতে হবে, বেগুন ক্ষেত সাফ করতে হবে। আর যখন যে কাজ করতে বলব তাই করতে হবে। তেঁতুল পাতায় যতটা ভাত ধরে তাই খেতে দিব। উহার বেশি চাইলে দিব না। মাসে আট আনা করে বেতন দিব। উহাতে রাজী হলে আমার বাড়ি থাকতে পার।”

আর কোথাও কাজ যখন জোটে না, ঘুঘু তাতেই রাজী হল। কিরপন ঠাকুর বলল, “আমার আরও একটি শর্ত আছে। আমার কাজ ছেড়ে যেতে পারবে না। কাজ ছেড়ে গেলে তোমার নাক কেটে নিব।”

ঘুঘু বলল, “আমি এই শর্তেও রাজী আছি।”

কিরপন ঠাকুর পাকা লোক। সে গ্রামের লোকজন ডেকে সমস্ত শর্ত একটি কলা পাতায় লিখে নিল। তিন পাখি জমি চাষ করতে ঘুঘুর প্রায় দুপুর গড়িয়ে গেল। তারপর গোছল করে খেতে আসল। কিরপন ঠাকুরের বউ বলল, “তেঁতুল পাতা নিয়ে আস।”

ঘুঘু একটি তেঁতুল পাতা এনে সামনে বিছিয়ে খেতে বসল। তেঁতুল পাতায় আর কয়টিই বা ভাত ধরে? একে তো সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম! এমন ক্ষুধা পেয়েছে যে সমস্ত দুনিয়া গিলে খেলেও পেট ভরবে না। সেই তেঁতুল পাতার উপরে চারটি ভাত মুখে দিয়ে ঘুঘু কিরপন ঠাকুরের বৌকে কাকুতি মিনতি করল, “আর কয়টি ভাত দিন।”

কিরপন ঠাকুর সাথে সাথেই তার কলা পাতায় লেখা শর্তগুলি পড়ে শুনিয়ে দিল। বেচারা ঘুঘু আস্তে আস্তে উঠে বেগুন ক্ষেত সাফ করতে গেল।

রাতে আবার সেই তেঁতুল পাতায় বাড়া ভাত। সারাদিনের হাড় ভাঙ্গা খাটুনি। তিন চারদিনেই ঘুঘু একেবারে আধমরা হয়ে গেল। তখন চাকরি না ছাড়লে জীবন যায় যায় অবস্থা; কিন্তু যখনই কিরপন ঠাকুরের কাছে চাকরি ছাড়ার কথা বলেছে তখনি সে তার নাকটা কেটে ফেলল। নেকড়া দিয়ে কোনো রকমে নাক বেঁধে ঘুঘু দেশে ফিরল।

তার ভাই ফাঁদ জিজ্ঞাসা করল, “কিরে! তোর নাকটা কাটা কেন?”

ঘুঘু কেঁদে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। শুনে ফাঁদ বলল, “ভাই! তুমি বাড়ি থাক। আমি যাব কিরপন ঠাকুরের বাড়ি চাকরি করতে।”

ঘুঘু কত বারণ করল। ফাঁদ তা কানেও নিল না। সে বলল, “কিরপন ঠাকুর ঘুঘু দেখেছে কিন্তু ফঁদ দেখে নাই। আমি তাঁকে ফাঁদ দেখিয়ে আসতেছি।”

ফাঁদ গিয়ে কিরপন ঠাকুরের বাড়িতে উপস্থিত। জিজ্ঞাসা করল, “আপনারা কোনো চাকর রাখবেন?”

কিরপন ঠাকুর বলল, “আমার একজন চাকর ছিল সে অল্প কয় দিন হয় চলে গেছে। তা তুমি যদি থাকতেই চাও, তবে আমার কয়েকটি শর্ত আছে। তা যদি মেনে নাও তবেই তোমাকে রাখতে পারি।”

ফাঁদ জিজ্ঞাসা করল, “কি কি শর্ত?”

কিরপন ঠাকুর কলার পাতায় লেখা আগের চাকরের শর্তগুলি তাঁকে পড়ে শুনাল।

“প্রতিদিন তিন পাখি করে জমি চষিতে হবে। বেগুন ক্ষেত সাফ করতে হবে। আর যখন যে কাজ বলব তা করতে হবে! তেঁতুল পাতায় করে ভাত দিব! মাসে আট আনা (৫০ পয়সা) করে বেতন। চাকরি ছেড়ে গেলে নাক কেটে রাখব।”

ফাঁদ সমস্ত শর্ত মেনে নিয়ে বলল, “আমারও একটি শর্ত আছে। আমাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করতে পারবেন না। বরখাস্ত করলে আমি আপনার নাক কেটে নিব।”

কিরপন ঠাকুর বলল, “বেশ, তাতেই আমি রাজী।”

সে পাড়ার আরও দশজনকে ডেকে সাক্ষী মেনে আর একটা কলা পাতায় সমস্ত শর্ত লিখে নিল।

সকালে ফাঁদ চলল ক্ষেতে লাঙল চষিতে। সে তিন পাখি জমির এদিক হতে ওদিকে দিল এক রেখ, আর ওদিক হতে এদিক দিল এক রেখ। এইভাবে সমস্ত জমিতে তিন চারটি রেখ দিয়ে গরু-বাছুর নিয়ে, বেলা দশটা না বাজতেই বাড়ি ফিরে আসল। এসেই বলল, “ক্ষেতে লাঙল দেওয়া শেষ হয়েছে। এখন আমাকে খেতে দাও।”

কিরপন ঠাকুরের বউ বলল, “আগে তেঁতুল পাতা নিয়ে আস।”

ফাঁদ বলল, “একটি ধামা দাও আর একখানা কুড়াল আমাকে দাও।” ধামা কুড়াল নিয়ে ফাঁদ কিরপন ঠাকুরের উঠানের তেঁতুল গাছটির বড় ডালটি কুপিয়ে কেটে ফেলল।

কিরপন ঠাকুরের বউ চেঁচাতে লাগল, “কর কি? কর কি? সমস্ত গাছটা তুমি কেটে ফেললে?”

কার কথা কে শোনে। সেই কাটা ডাল হতে মুঠি মুঠি তেঁতুল পাতা এনে অর্ধেক উঠানে বিছিয়ে দিয়ে বলল, “এবার আমাকে ভাত দাও।”

কিরপন ঠাকুরের বউ সামান্য কয়টি ভাত একটি তেঁতুল পাতার উপর দিতে যাচ্ছিল। ফাঁদ বলল, “আমার সঙ্গে চালাকি করলে চলবে না। শর্তে লেখা আছে তেঁতুল পাতায় করে ভাত দিতে হবে। কয়টা তেঁতুল পাতায় করে ভাত দিতে হবে তা লেখা নাই। সুতরাং তোমাদের উঠানে যতগুলি তেঁতুল পাতা বিছিয়েছি তার সবগুলি ভরে ভাত দিতে হবে।”

কিরপন ঠাকুর তার ভাঙ্গা চশমা জোড়া নিয়ে সেই কলার পাতায় লেখা শর্তগুলি বহুক্ষণ পরীক্ষা করল। ফাঁদ যা বলেছে তা সত্য। সে তখন বউকে বলল, “দাও, হাঁড়িতে যত ভাত আছে তেঁতুল পাতার উপর বেড়ে দাও।”

একবার ভাত দেওয়া হলে ফাঁদ বলল, “আরও ভাত এনে দাও। সমস্ত তেঁতুল পাতা ভাতে ঢাকে নাই।”

কিরপন ঠাকুরের বউ কি আর করে? হাঁড়িতে যত ভাত ছিল সব এনে সেই তেঁতুল পাতায় ঢেলে দিল। ফাঁদ বলল, “ইহাতে আমার পেট ভরবে না। আরও ভাত এনে দাও।”

“আর ভাত হাড়িতে নাই।”

কিরপন ঠাকুর বলল, “কাল তোমার জন্য আরো বেশি করে ভাত রান্না করব। আজ এগুলোই খাও।”

ফাঁদ কতক খেল-কতক ছিটিয়ে ফেলল। তারপর ঢেঁকুর তুলতে তুলতে হাত মুখ ধুতে লাগল।

বিকাল হলে কিরপন ঠাকুর ফাঁদকে বলল, বেগুন ক্ষেত সাফ করতে। ফাঁদ গিয়ে সব বেগুন গাছ কেটে ফেলল।

কিরপন ঠাকুর হায় হায় করে মাথায় হাত দিয়ে বেগুন ক্ষেতের পাশে বসে পড়ল। ফাঁদকে বলল, “ও ফাঁদ! তুই তো আমার সর্বনাশ করেছিস।”

ফাঁদ বলল, “তুমি আমাকে সমস্ত বেগুন ক্ষেত সাফ করতে বলেছ। সমস্ত বেগুন গাছ না কাটিলে ক্ষেত সাফ হবে কেমন করে?”

তার পরদিন কিরপন ঠাকুর ফাঁদকে পাঠাল ধান ক্ষেত নিড়াতে। ফাঁদ ক্ষেতের সমস্ত ধান গাছ কেটে ঘাসগুলি রেখে আসল।

সেদিন তাকে নদীতে পাঠাল জাল ফেলতে। জাল ফেলতে মানে নদীতে গিয়ে জাল দিয়ে মাছ ধরতে। ফাঁদ সেই কথাটার উল্টা ব্যাখ্যা করল। নদীতে গিয়ে সে কিরপন ঠাকুরের এত হাউসের খেপলা জালটা ফেলে দিয়ে আসল। কিরপন ঠাকুর নদীতে গিয়ে এত খোঁজাখুঁজি করল। অত বড় নদী কোথায় জাল তলিয়ে গেছে! খুঁজে বের করতে পারল না।

সেদিন সন্ধ্যাবেলা তার ছেলেটি ধুলো কাদা গায়ে মেখে নোংরা হয়েছিল। কিরপন ঠাকুর বলল “ফাঁদ, যাও তো ছেলেটাকে সাফ করে আন।”

ফাঁদ তার ছেলেটিকে পুকুরের কাছে নিয়ে গিয়ে পানিতে চুবিয়ে ধোপার পাটে দিল তিন চার আছাড়। ছেলের হাত পা শরীর ফেটে গেল। সে চিৎকার করে কেঁদে উঠল। কিরপন ঠাকুর তাড়াতাড়ি ফাঁদের হাত হতে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তাঁকে বকতে লাগল।

ফাঁদ বলল, “আমাকে বকলে কি হবে? আপনি ছেলেকে সাফ করে আনতে বলেছেন। ধোপার পাটে না আছড়াইলে (আছাড় দিলে) তাকে সাফ করব কিভাবে?”

রাত্রে কিরপন ঠাকুর আর তার বউ মনে মনে ফন্দি আঁটে, কি করে এই দুর্মুখ চাকরকে বিদায় করা যায়, কিন্তু কোনো উপায় নাই। তাকে বরখাস্ত করলেই কলা পাতায় লেখা শর্তানুসারে সে কিরপন ঠাকুরের নাক কেটে নিবে।

পরদিন সকালে কিরপন ঠাকুর ফাঁদকে একটি বড় গাছ ফেড়ে চেলা (চিকন ও লম্বা কাঠের টুকরা) বানাতে হুকুম করল। ফাঁদ গাছটি কেটে অনেক গুলো চেলা বানালো। তারপর চেলার বোঝা মাথায় করে বাড়ি ফিরল।

কিরপন ঠাকুরের বৃদ্ধ মা বারান্দায় বসে পান চিবাচ্ছিল। ফাঁদ তাঁকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “খড়ির বোঝা কোথায় নামাব?”

সারা উঠান খালি পড়ে আছে। যেখানে সেখানে নামান যায়। তবুও ফাঁদ এই সামান্য ব্যাপারটির জন্যে বুড়ীকে জিজ্ঞাসা করায় বুড়ি ভীষণ রেগে গেল। সে বলল, “বুঝতে পার না কোথায় নামাতে হবে? আমার ঘাড়ে নামাও।”

যেই বলা অমনি ফাদ খড়ির বোঝা বুড়ীর ঘাড়ের উপর ফেলে দিল। ঘাড়ের উপর এতগুলো কাঠের ভার সইতে না পেড়ে বুড়ী দাঁত কেলিয়ে মরে গেল।

কিরপন ঠাকুর ফাঁদকে কিছু বলতেও পারে না। কারণ সে বুড়ীর আদেশ মতোই কাজ করেছে। ফাঁদকে বাড়ি হতে তাড়িয়ে দিতে গেলেও সে তার নাক কেটে নিবে। ফাঁদকে নিয়া কি করা যায়?

প্রতিদিন সে একটা না একটা অঘটন করে বসে। অনেক ভেবে চিন্তে কিরপন ঠাকুর ঠিক করল, সে আর তার বউ তীর্থযাত্রা গিয়ে অন্ততঃ কিছুদিনের জন্য ফাঁদের হাত হতে রক্ষা পাবে। যাওয়ার সময় কিরপন ঠাকুর ফাঁদকে বলল, “ফাঁদ! আমরা চললাম। তুই বাড়ি-ঘর দেখিস।”

ফাঁদ জবাব দিল, “আর বলতে হবে না। তোমরা নিশ্চিন্তে চলে যাও। আমি সব দেখব।”

কিরপন ঠাকুর চলে গেল। ফাঁদ তার ভাই ঘুঘুকে ডেকে এনে বাড়ির সর্বেসর্বা হয়ে বসল। বাড়িতে আম, জাম, কাঁঠাল, সুপারি, নারিকেল, কত রকমের গাছ। দুই ভাই সেই সব গাছের ফল বিক্রি করে অনেক টাকা জমাল। তার মধ্যে গ্রামে আসল সেটেলমেন্টের আমিন। ফাঁদ কিরপন ঠাকুরের বাড়ি-ঘর, জমা-জমি সকল নিজের নামে লেখিয়ে নিল।

কিছুদিন পরে তীর্থ থেকে কিরপন ঠাকুর আর তার বউ দেশে ফিরল। ফাদ তাদের বাড়িতে ঢুকতে দিল না। সে বলল, “এ বাড়ি তো আমাকে বেচে গিয়েছো। দেখ না গিয়ে সেটেলমেন্টের অফিসে, সেখানে বাড়ি আমার নামে লেখা হয়েছে।”

গচ্ছিত টাকা-পয়সা যা ছিল তা কিরপন ঠাকুর তীর্থে গিয়ে খরচ করে এসেছে। ফাঁদের নামে মামলা করার টাকা পাবে কোথায়? আর মামলায় জিতলেই বা কি হবে? কলার পাতায় লেখা যে শর্তে সে ফাঁদের সঙ্গে আটকা পড়েছে তাহা হতে কে তাঁকে রক্ষা করবে?

কিরপন মেল্লার বাড়িতে ফাঁদ আর ঘুঘু সুখে বাস করতে লাগল। কিরপন ঠাকুরের উপর কারো কোনো দয়া নাই! কারণ সে বিনা অপরাধে ঘুঘুর নাক কেটেছিল। সে গ্রামের কোন মানুষের কোন উপকার করে নাই বা কাউকেই কোনোদিন আধ পয়সাও দান করে নাই।

06/01/2024

বাংলা সাহিত্যের বিরাট বিরাট বটবৃক্ষের মাঝে আমাদের কচি সাহিত্যাঙ্কুর ; সাহিত্য পত্রিকা " আন-নাবাত " ইনশা আল্লাহ অচিরেই আলোর মুখ দেখবে।

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Dhaka