13/04/2022
চারদিকে স্পর্শকাতর উত্তেজনা: কী করবেন মুসলমানরা?
কয়েকদিন ধরে ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী কিছু উত্তেজনাপূর্ণ ও উস্কানিমূলক ঘটনার প্রচার আমাদের চোখের সামনে। টিপ নিয়ে মিথ্যা নাটক, আমোদিনী পালের ছাত্রী প্রহার, হৃদয় মন্ডলের বিজ্ঞান কান্ড, ময়মনসিংহে স্বেচ্ছায় হিন্দু মেয়ের হিজাব পরা নিয়ে মিথ্যাপ্রচার, বাগেরহাটে হিন্দু তরুণ কর্তৃক ইসলাম অবমাননা ঘটিত ভাঙচুর এবং এসব কিছু নিয়েই ব্যাপক প্রচার ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতে মুসলমান নারী-পুরুষকে কোণঠাসা ও অপমানিত করা হচ্ছে। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যারা এসব অন্যায় কাজগুলো করছে, কেন করছে এবং এতে তাদের টার্গেট কী হতে পারে? মুসলমানরাই বা কী করবেন?
এসব পরিস্থিতি ও ঘটনাবলি এবং ঘটনাবলি কেন্দ্রিক প্রচার-অপপ্রচারের বন্যা দেখে আমার মনে হয়েছে, দুটি বিষয়ে সবার চোখ রাখা দরকার।
১, মন্দ লোকেরা চায়, অপমান ও দুঃখে সরল মুসলমানদের কোনো কোনো ব্যক্তি/গ্রুপ যেন পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে রসদ তুলে দেয়। এতে ব্যাপক মুসলিম নির্যাতনের দেশ ইন্ডিয়ার পাশের এ-দেশটিতে মুসলমানদেরকে অসহিষ্ণু ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে বারবার উপস্থাপনের সুযোগ তারা তৈরি করবে এবং উদ্দেশ্যমুলকভাবে কাজে লাগাবে। তিলকে বারবার তাল বানানো হবে। প্রচার মাধ্যম তাদের হাতে। অনেক রকমের শক্তি ও পক্ষ তাদের পেছনে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দায়বদ্ধতা থাকার কারণেও অনেকে এইসব ষড়যন্ত্রকারীদের সহযোগী ভূমিকা পালন করছে। এজন্য ইসলাম ও মুসলিম সংশ্লিষ্ট আবেগপূর্ণ কোনো বিষয়ে পূর্ণ সংযম বজায় রাখা। কোনো রকম ভাঙচুর, হামলাচেষ্টা, হাতাহাতি, গালাগাল, ছোটখাটো ঠেলা ধাক্কা-এসব থেকে নিজেদেরকে পুরোপুরি দূরে রাখা। যারা আপনার-আমার বিরুদ্ধে কাজ করে, তারা অনেক সশস্ত্র ঘটনা ঘটালেও পার পেয়ে যায়। মারমুখী আচরণ, হামলা-আক্রমণ তাদের নিত্যকার স্বভাব। এগুলোতে তাদের সমস্যা নেই। কারণ প্রচারমাধ্যম তাদের বিরুদ্ধে না গিয়ে আপনার বিরুদ্ধে যাবে। এজন্যই কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটনা/আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতে হবে। নিজেদের লোকজনকে সরিয়ে রাখতে হবে।
২, ষড়যন্ত্রকারী শক্তি আরেকটা জিনিস চায়। ইসলামী বিশ্বাস, আচরণ ও সংস্কৃতি নিয়ে নানা রকম আক্রমণ ও তাচ্ছিল্যের ঘটনায় মুসলমানরা যদি অসংগঠিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত না হতে চায়, তাহলে ধীরে ধীরে তারা যেন সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা হারিয়ে ফেলতে থাকে। এবং ইসলামবিরোধী সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শিক মিশনের কাছে আত্মসমর্পণ করে। অর্থাৎ দুঃখজনক ঘটনাগুলোর সময় কোনো 'শক্ত' ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলে এক বিপদ। অপরদিকে আত্মমর্যাদা হারিয়ে আত্মসমর্পণ করলে আরেক বিপদ। সব কিছু 'নীরবে' মেনে আত্মসমর্পণ করলে ইসলামবিরোধী চিন্তা, অপবিশ্বাস, সংস্কৃতি ও অপ-জীবনকে মেনে নেওয়ার পরিবেশটাকে মুসলমানদের মধ্যে তারা সক্রিয় করতে চাইবে। সুতরাং এই ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে দুষ্টদের যে কোনো 'সাংস্কৃতিক অভিযানের' সময় বুদ্ধিবৃত্তিক সচেতনতা, প্রতিবাদ, আলোচনা, মত-বিনিময়, সাধারণ মানুষের মধ্যে ধরিয়ে দেওয়া-এ চর্চাগুলো জারি রাখতে হবে। তাদের দ্বিমুখী দুটি মিশনই ব্যর্থ করতে হবে।
অসংগঠিত-ভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া, হামলা- ভাঙচুর এগুলো থেকেও বেঁচে থাকতে হবে। আবার সব রকম ধর্মদ্রোহমূলক অপসংস্কৃতির আগ্রাসনের যথোপযুক্ত সমালোচনা, সতর্কতা, সচেতনতাও জারি রাখতে হবে। প্রতিবাদের কথা বলে হামলা করা যাবে না। আবার শান্তির কথা বলে সাংস্কৃতিকভাবে আত্মসমর্পণ করা যাবে না। হাতের ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে, কিন্তু সচেতনতা তৈরি ও আত্মমর্যাদার সংগ্রাম জারি রাখতে হবে। সচেতনতা ও ধৈর্যের পথের শেষে ভালো সময় আসে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের কষ্ট এবং ধৈর্য দেখেন এবং পুরস্কার ও নৈকট্য দেন।
নানা রকম মিথ্যাচার, অন্যায়, অসভ্য অপপ্রচার ও ফেতনার এই পরিস্থিতিতে এই দুই দিকেই খেয়াল রেখে চলা দরকার। আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা ঈমানদার মুসলমানদেরকে দেশে দেশে হেফাজত করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের দেশকে শান্তি স্বস্তি ও ঈমানের সম্পদে সমৃদ্ধ করুন।

13/04/2022
09/07/2021