25/10/2025
ফখরুদ্দীন আহমদের মন্ত্রিসভা ও বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গুঞ্জন
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা ও গুঞ্জন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকে স্মরণ করছেন ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে।
ফখরুদ্দীন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা। রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভা ছিল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং পেশাদারদের নিয়ে গঠিত। সরকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালায়, শত শত রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী গ্রেফতার হন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
এই সরকার দুই বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকে এবং ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনার পর ক্ষমতা হস্তান্তর করে। যদিও অনেকেই এই সরকারকে প্রশংসা করেছেন সুশাসনের জন্য, তবে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে একে অসাংবিধানিক এবং অতিসক্রিয় বলেও সমালোচনা করা হয়েছে।
২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আদালতের রায়ে অসাংবিধানিক ঘোষণা পায় এবং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। তবুও আজও জনগণের একটি বড় অংশ নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনরায় প্রবর্তন কি আদৌ সম্ভব? নাকি নতুন কোনো মডেল নিয়ে ভাবা উচিত? ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নির্বাচন ব্যবস্থার দিকনির্দেশনা এখন সময়ই বলে দেবে।
