24/10/2026
একটা সময় প্রতিমা তৈরি করা হতো মাটির
সাধারণ কাঠামো, খড় আর প্রাকৃতিক রঙ দিয়ে, যা পানির সাথে সহজেই মিশে যেত।
কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রতিমাকে আরও চকচকে, দীর্ঘস্থায়ী এবং 'জীবন্ত' রূপ দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মারাত্মক সব রাসায়নিক উপাদান।
যা মূর্তি তৈরিতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও
তাদের প্রভাব ....
১. প্লাস্টার অব প্যারিস (PoP) এখনকার বেশির ভাগ মূর্তির মূল উপাদান এটি-
মাটি যেখানে পানিতে গলে যায়, PoP কিন্তু সহজে গলে না। এটি বছরের পর বছর পানির তলায় জমা হয়ে নদী বা সমুদ্রের তলদেশ শক্ত করে ফেলে। ফলে পানির প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং জলজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়।
২. লেড (সীসা) ও ক্রোমিয়াম: মূর্তির গায়ে উজ্জ্বল লাল, হলুদ বা সবুজ রঙের যে চকমকে ছটা আমরা দেখি, তা মূলত লেড নাইট্রেট এবং ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর কারসাজি। বিসর্জনের পর এই সীসা ও ক্রোমিয়াম পানির সাথে মিশে যায়।
৩. পারদ (Mercury) ও আর্সেনিক: রঙ স্থায়ীকরণ এবং জীবন্ত টেক্সচার আনতে এগুলো ব্যবহৃত হয়। এগুলো অত্যন্ত বিষাক্ত।
এর ভয়াবহ পরিণতি কী....?
★ জলজ প্রাণের মৃত্যু: এই ভারী ধাতুগুলো পানির দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা (DO) কমিয়ে দেয়। ফলে মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়।
★আমাদের শরীরে বিষ ছড়ানো (Food Chain): পানির ক্ষতিকর কেমিক্যালগুলো প্রথমে ছোট ছোট শ্যাওলা ও মাছের শরীরে ঢোকে। সেই মাছ যখন আমরা খাই, তখন সীসা, পারদ ও আর্সেনিক সরাসরি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসকদের মতে, এর ফলে ক্যানসার, লিভারের ক্ষতি, নার্ভের সমস্যা এবং গর্ভস্থ শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
★প্লাস্টিক ও সিন্থেটিক গহনা: মূর্তির সাথে থাকা সিন্থেটিক কাপড়, থার্মোকল, প্লাস্টিকের মালা ও রাসায়নিক গহনা জলের উপরিভাগে ভাসতে থাকে এবং বছরের পর বছর জলকে দূষিত করে।