নাগরিক ছাত্র ঐক্যর কেন্দ্রীয় সংসদের আহ্বায়ক ফজলে রাব্বি ভাইয়ের নেতৃত্বে এলাকার অসহায় মানুষের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণ। 🤍
নাগরিক ছাত্র ঐক্য
শিক্ষা-ঐক্য-শান্তি
(কেন্দ্রীয় সংসদের অফিসিয়াল পেইজ)
কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রতিজ্ঞায় নাগরিক ছাত্র ঐক্য' সর্বদা সংগ্রাম করছে।
22/05/2026
ক্ষমতার রাজনীতি নয়, মানুষের রাজনীতি করুন: মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আজ সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি সাধারণ মানুষকে হতাশ করছে, সেটি হলো রাজনীতির মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি। রাজনীতি হওয়ার কথা ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামের হাতিয়ার এবং সমাজ পরিবর্তনের একটি মহৎ মাধ্যম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ রাজনীতির বড় একটি অংশ পরিণত হয়েছে ক্ষমতা দখল, প্রভাব বিস্তার এবং ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার প্রতিযোগিতায়। ফলে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, কষ্ট এবং বাস্তব সমস্যা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা চিরকাল বেঁচে থাকে। ইতিহাসে যারা মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন, জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদেরকেই মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। আর যারা কেবল ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেছেন, তারা সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছেন। তাই আজ সময় এসেছে নতুন করে ভাবার আমরা কি ক্ষমতার রাজনীতি করবো, নাকি মানুষের রাজনীতি করবো?
মানুষের রাজনীতি মানে শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যাওয়া নয়। মানুষের রাজনীতি মানে সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা, সমাজের অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করা। আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, শিক্ষার্থীরা শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকটে ভুগছে, বেকার যুবকরা হতাশায় দিন কাটাচ্ছে, সাধারণ যাত্রীরা পরিবহন নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে এসব সমস্যার সমাধানে রাজনীতিবিদদের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
রাজনীতি তখনই অর্থবহ হয়, যখন একজন নেতা জনগণের কষ্ট নিজের কষ্ট হিসেবে অনুভব করেন। একজন প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মী কখনো জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারেন না। তিনি মাঠে থাকেন, মানুষের কথা শোনেন, সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু বর্তমানে আমরা এমন এক বাস্তবতা দেখছি, যেখানে অনেকেই রাজনীতিকে সেবার জায়গা হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি অনাস্থা তৈরি হচ্ছে।
তরুণ সমাজ আজ পরিবর্তন চায়। তারা এমন নেতৃত্ব দেখতে চায়, যারা সত্য কথা বলবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে এবং দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ সবসময় পরিবর্তনের অগ্রদূত ছিল। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রামে তরুণদের ভূমিকা ছিল অনন্য। তাই আজও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের মানবিক ও আদর্শিক রাজনীতির দিকে এগিয়ে আসতে হবে।
ক্ষমতার রাজনীতি মানুষকে বিভক্ত করে, কিন্তু মানুষের রাজনীতি মানুষকে একত্রিত করে। ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে শত্রু মনে করা হয়, কিন্তু মানুষের রাজনীতিতে ভিন্নমতকে সম্মান করা হয়। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গঠনমূলক সমালোচনার চর্চা বাড়াতে হবে।
একটি রাষ্ট্র তখনই উন্নত হয়, যখন সেই রাষ্ট্রের রাজনীতি মানবিক হয়। উন্নয়ন শুধু বড় বড় সেতু, ফ্লাইওভার কিংবা অট্টালিকা নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হবে, মানুষ ন্যায়বিচার পাবে, শিক্ষার সুযোগ বাড়বে, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হবে এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে। তাই রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে মানুষকে।
আজকের সমাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব অনেক বেশি। অনেকেই রাজনীতিকে এখন শুধুমাত্র বক্তব্য, ছবি বা প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মানুষ এখন শুধু কথায় বিশ্বাস করে না, কাজ দেখতে চায়। একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় মাঠের কাজে, মানবিক আচরণে এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতায়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া জনপ্রিয়তা টেকসই হয় না।
আমরা যদি সত্যিকার অর্থে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই, তাহলে আমাদের রাজনীতির চরিত্র পরিবর্তন করতে হবে। ক্ষমতা অর্জনের জন্য হানাহানি, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্য, মানবিকতা ও ন্যায়ের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনীতিবিদদের মনে রাখতে হবে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণকে অবহেলা করে দীর্ঘদিন টিকে থাকা সম্ভব নয়।
বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক নেতাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। রাস্তা-ঘাটের সমস্যা, পানি সংকট, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, মাদক ও সন্ত্রাস এসব বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। একজন জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ব শুধু বক্তব্য দেওয়া নয়; বরং মানুষের সমস্যার বাস্তব সমাধান নিশ্চিত করা।
আমাদের সমাজে এখনো অনেক মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। গরিব মানুষ অনেক সময় তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। একজন প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ব হলো সেই অসহায় মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়া। রাজনীতি যদি দুর্বল মানুষের আশ্রয়স্থল না হয়, তাহলে সেই রাজনীতির কোনো মূল্য নেই।
আজ দেশে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা বিলাসী জীবন নয়, সাধারণ মানুষের জীবন বুঝতে সক্ষম হবেন। একজন নেতা তখনই বড় হন, যখন তিনি জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেন। জনগণের ভালোবাসা অর্জনের জন্য বড় বড় পোস্টার নয়, দরকার সততা, মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধ।
ক্ষমতা মানুষকে অহংকারী করে তুলতে পারে, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করা একজন নেতাকে মহৎ করে তোলে। তাই আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে আহ্বান থাকবে রাজনীতিকে ঘৃণা নয়, বরং শুদ্ধ ও মানবিক করার দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ রাজনীতি খারাপ নয়, খারাপ হলো রাজনীতির অপব্যবহার।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কেমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাচ্ছি তার ওপর। যদি আমরা বিভাজনের রাজনীতি রেখে যাই, তাহলে সমাজে অস্থিরতা বাড়বে। আর যদি আমরা মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনগণমুখী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর।
রাজনীতির আসল শক্তি ক্ষমতায় নয়, মানুষের আস্থায়। একজন নেতা কত বড় পদে আছেন, সেটি বড় বিষয় নয়; বড় বিষয় হলো তিনি মানুষের হৃদয়ে কতটা জায়গা করে নিতে পেরেছেন। তাই আসুন, ক্ষমতার রাজনীতি নয় মানুষের রাজনীতি করি। মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করি। তাহলেই একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
লেখক
মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী
যুগ্ম সদস্য সচিব
নাগরিক ছাত্র ঐক্য কেন্দ্রীয় সংসদ
ইমেইল: [email protected]
19/05/2026
শুভ জন্মদিন!
নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য সচিব
তানভীর ইসলাম স্বাধীন-কে।
সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আদর্শের পথে যে তরুণ নিজেকে প্রতিনিয়ত গড়ে তুলেছেন ছাত্ররাজনীতির এক নিবেদিত কর্মী হিসেবে, আজ তার জন্মদিন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জোনের একজন সাধারণ সদস্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য, কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্ব এবং বর্তমানে সদস্য সচিবের মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হওয়া; এ পথচলা কেবল পদোন্নতির ইতিহাস নয়; এটি ত্যাগ, শ্রম, নিষ্ঠা ও রাজনৈতিক আদর্শে অবিচল থাকার এক অনন্য অধ্যায়।
বাংলার ছাত্ররাজনীতির প্রজ্ঞাবান অভিভাবক ও কিংবদন্তি রাজনীতিক মাহমুদুর রহমান মান্না-র আস্থাভাজন ছাত্রনেতাদের অন্যতম তিনি। যার রাজনৈতিক হাতেখড়ি হয়েছিল একজন অপরিচিত ছাত্র হিসেবে, সেই মানুষটির আদর্শ, স্নেহ ও রাজনৈতিক দর্শনের আলোয় আজ তিনি হয়ে উঠেছেন দায়িত্বশীল, মানবিক ও সম্ভাবনাময় এক তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক।
তার পথচলায় রয়েছে সাহসী উচ্চারণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ের দৃঢ় প্রত্যয়। তিনি বিশ্বাস করেন,
“রাজনীতি কেবল ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, এটি মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার মহৎ অঙ্গীকার।”
নাগরিক ছাত্র ঐক্য বিশ্বাস করে, আদর্শিক রাজনীতির এই অভিযাত্রায় তানভীর ইসলাম স্বাধীন আগামী দিনে ছাত্রসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষার আরও উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠবেন।
জন্মদিনে নাগরিক ছাত্র ঐক্যের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও রাজনৈতিক জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।
“যে তরুণ স্বপ্ন দেখে মানুষের জন্য,
ইতিহাস একদিন তাকেই ডাকে নেতৃত্বের নামে।”
- নাগরিক ছাত্র ঐক্য পরিবার।
11/05/2026
নাগরিক ছাত্র ঐক্য-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব তানভীর ইসলাম স্বাধীন এশিয়া পোস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি বলেন, “সংবাদ মাধ্যম হোক স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ। আগামী দিনের পথচলায় এশিয়া পোস্ট দেশ ও জাতির সামনে সত্য ও বাস্তবতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে; এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, গণমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সত্য প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়া পোস্ট সেই আদর্শকে ধারণ করে একটি আধুনিক, নিরপেক্ষ ও জনমুখী সংবাদমাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ছাত্র ঐক্য-এর যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) নিহামূল নিহাম, যুগ্ম সদস্য সচিব (গণ-পরিবহন) মো: মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী শাওন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব (আন্তর্জাতিক) সাজিয়া সোয়াদ।
-কেন্দ্রীয় দপ্তর
06/05/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন
নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় সংসদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী এবং সদস্য সচিব তানভীর ইসলাম স্বাধীনের স্বাক্ষরিত অনুমোদনে আজ আব্দুল মোমিনকে আহ্বায়ক এবং সাজ্জাদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে।
আহ্বায়ক: আব্দুল মোমিন
সদস্য সচিব: সাজ্জাদুল ইসলাম
সদস্যবৃন্দ:
সিহাব উদ্দিন ওসামা (দপ্তর)
মাহমুদা বেগম (অর্থ)
রাকিব ইসলাম
আমিনুল ইসলাম রিফাত
তাইয়েবা রুদ
মোহাম্মদ রাফিন
আবু তালহা
মারিয়া তাসনিম
আবু সাইয়েদ
উক্ত কমিটিকে আগামী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় সংসদে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
বার্তা প্রেরক,
নিহামূল নিহাম
যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর)
নাগরিক ছাত্র ঐক্য, কেন্দ্রীয় সংসদ।
04/05/2026
শুধু সরকারি নয় সব বাসেই শিক্ষার্থীদের হাফ পাস নিশ্চিত করতে হবে: মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী
বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ পাস কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক প্রয়োজন। শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে বাসে চলাচল করতে হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সরকারি বাসে সীমিতভাবে হাফ পাস চালু থাকলেও বেসরকারি পরিবহনগুলোতে এই সুবিধা কার্যত উপেক্ষিত। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তি, হয়রানি এবং আর্থিক চাপের শিকার হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকায় কিছু পরিবহন হাফ পাস দিলেও সেটিও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর নয়। অনেক বাসে সর্বনিম্ন ২০ টাকা ভাড়া নেওয়ার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া না নিয়ে প্রায় পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হয়। এতে হাফ পাসের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই সুবিধা শুধু ঢাকার কিছু রুটেই সীমাবদ্ধ, চট্টগ্রামসহ দেশের অধিকাংশ জেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো হাফ পাস ব্যবস্থা নেই।
একজন শিক্ষার্থীর আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনা করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজস্ব আয়বিহীন, পরিবারের উপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য যদি পূর্ণ ভাড়া দিতে হয়, তাহলে মাস শেষে সেই ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এটি শিক্ষার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস নিয়ে নীতিগত কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। বেসরকারি বাস মালিক ও শ্রমিকরা অনেক ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা মানতে অনাগ্রহী। ফলে আইন থাকলেও তার প্রয়োগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে গণপরিবহন কি শুধুই ব্যবসার জন্য, নাকি এটি জনসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ? বাস্তবতা হলো, গণপরিবহন একটি পাবলিক সার্ভিস, যেখানে সামাজিক দায়বদ্ধতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস চালু করা কোনো ক্ষতি নয়; বরং এটি একটি বিনিয়োগ, যা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক।
বিশ্বের অনেক দেশেই শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহনে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। এমনকি অনেক উন্নত দেশে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বা অত্যন্ত কম ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারে। বাংলাদেশেও যদি একটি শিক্ষাবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে চাই, তাহলে এই ধরনের উদ্যোগগুলোকে সর্বজনীন করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নীতির অভিন্নতা নেই। কোথাও হাফ পাস আছে, কোথাও নেই; কোথাও আছে কিন্তু সঠিকভাবে প্রয়োগ হয় না। এই বৈষম্য দূর করতে হলে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে দেশের সব গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক হাফ পাস কার্যকর করতে হবে।
এছাড়া মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। হাফ পাস না দিলে বা শিক্ষার্থীদের হয়রানি করলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার মতো কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
শুধু আইন করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তাদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে এবং অন্যায় হলে প্রতিবাদ করতে হবে। একই সঙ্গে ছাত্র সংগঠনগুলোকে এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নেয়।
এক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যেমন ডিজিটাল স্টুডেন্ট আইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ড চালু করে সহজেই যাচাই করা যেতে পারে কে শিক্ষার্থী। এতে করে ভাড়া নিয়ে তর্ক-বিতর্ক বা হয়রানির সুযোগ কমে যাবে। একই সঙ্গে বাসে নির্দিষ্ট নির্দেশনা ও হেল্পলাইন নম্বর থাকলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত অভিযোগ জানাতে পারবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাস মালিকদের আশঙ্কা দূর করা। অনেক মালিক মনে করেন হাফ পাস চালু করলে তাদের আয় কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় যাত্রীসংখ্যা বাড়ে এবং মোট আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে না। বরং একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের জন্য লাভজনক।
সর্বোপরি, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস নিশ্চিত করা মানে শুধু ভাড়া কমানো নয়; এটি শিক্ষার সুযোগকে সহজ করা, সামাজিক বৈষম্য কমানো এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। তাই এই দাবি শুধু একটি সংগঠনের নয়, এটি দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকের দাবি হওয়া উচিত।
সরকার, বাস মালিক, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবিকে গুরুত্ব দিন। শুধু সরকারি বাস নয়, দেশের প্রতিটি বাসে হাফ পাস বাধ্যতামূলক করুন। শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করুন এবং একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলুন।
আজকের শিক্ষার্থীই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের জন্য সামান্য এই সুবিধা নিশ্চিত করা মানে দেশের ভবিষ্যৎকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানো।
লেখক:
মোঃ মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী
যুগ্ম সদস্য সচিব- নাগরিক ছাত্র ঐক্য কেন্দ্রীয় সংসদ
ই-মেইল: [email protected]
01/05/2026
শোষণ নয়, সম্মান চাই
শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি চাই।
মোঃ মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী
যুগ্ম সদস্য সচিব- নাগরিক ছাত্র ঐক্য কেন্দ্রীয় সংসদ
27/04/2026
ভাড়া বাড়ানোর দায়িত্ব সরকারের মনিটরিং এর দায়িত্ব কার: মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী
ঢাকা: ২৭ এপ্রিল সোমবার ২০২৬,
গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি সরকারের দায়িত্ব হলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন ও কার্যকর মনিটরিংয়ের দায়িত্ব কার সাধারণ যাত্রীর মুখে মুখে ঘুরছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ছাত্র ঐক্য কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী।
সরকার সম্প্রতি প্রতি কিলোমিটারে মাত্র ১১ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে যা দেখবার কেউ নাই।
গতকাল বিকেলে সরেজমিনে গণপরিবহনের ভাড়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী নিজেও এই অনিয়মের শিকার হন। সাইনবোর্ড থেকে শাহবাগ (এই রুটের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার) কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা ভাড়া হলে সরকারি নির্ধারিত নতুন ভাড়া হওয়ার কথা ৩০ টাকা সেখানে যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এই রুটে নিয়মিত চলাচলকারী ‘রজনীগন্ধা পরিবহন’-এ যাতায়াতকালে তিনি লক্ষ্য করেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার যদি ভাড়া নির্ধারণ করে, তাহলে সেটি বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বও সরকারেরই। শুধুমাত্র ঘোষণা দিয়ে দায় শেষ করা যায় না। প্রশ্ন হচ্ছে এই অনিয়ম রোধে কার্যকর মনিটরিং কোথায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা কি এই নৈরাজ্যকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না?”
তিনি আরও বলেন, গণপরিবহন খাতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে পরিবহন খাতে এমন অনিয়ম এটি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।
মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, “কিছু অসাধু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় দেশের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল। এভাবে চলতে থাকলে জনগণের আস্থা ভেঙে পড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
তিনি অবিলম্বে গণপরিবহন খাতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
বার্তা প্রেরক
নিহামুল নিহাম
যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর)
নাগরিক ছাত্র ঐক্য কেন্দ্রীয় সংসদ
23/04/2026
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কিছু অপরিপক্ব কর্মীর কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিত লেখালেখি বর্তমান বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিকে নোংরামির আর মবের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
23/04/2026
আপনার পছন্দের দল ক্ষমতায় থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে অন্যায়ের পক্ষে থাকা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যায়কে অন্যায় বলার সাহস রাখুন, কারণ মনুষ্যত্বই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
মনুষ্যত্ব যেন কখনো বিক্রি না হয়।
মোঃ মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী
যুগ্ম সদস্য সচিব- নাগরিক ছাত্র ঐক্য কেন্দ্রীয় সংসদ
২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০২৬
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
22/1, Topkhana Road
Dhaka
1000
