01/06/2026
আমৃত্যু বিপ্লবী গণসংগীত শিল্পী কামরুদ্দিন আবসারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের এর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন।
১ জুন ২০২৬
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা
একটি স্বাধীন-প্রগতিশীল-বিপ্লবীধারার ছাত্র গণসংগঠন
01/06/2026
আমৃত্যু বিপ্লবী গণসংগীত শিল্পী কামরুদ্দিন আবসারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের এর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন।
১ জুন ২০২৬
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা
29/05/2026
প্রকৃতিবিদ, জীববিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান লেখক অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার জন্মদিনে শ্রদ্ধা।
28/05/2026
কমরেড সাহাদাত হোসেন লাল সালাম।
শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না।
25/05/2026
রামিসাসহ সকল খুন-ধর্ষণের বিচার, অপরাধীর বিচার দ্রুত কার্যকর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল গঠন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন গাইবান্ধা জেলা সংসদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে
24/05/2026
আগামীকালের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিন, আওয়াজ তুলুন।
24/05/2026
জাতীয় কবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে অতল শ্রদ্ধা।
24/05/2026
নূতন মাটিতে আসে ফসলেরই কাল, আঁধার পেরিয়ে আসে আগামী সকাল” – এই স্লোগানকে ধারণ করে সম্পন্ন হলো বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের ৩৬তম সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশন। ৩৬তম সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে দূর্জয় রায়কে সভাপতি, মুহাম্মদ মোস্তাকিমকে সাধারণ সম্পাদক ও মিশকাতুল মাশিয়াতকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২১ মে ২০২৬ বেলা ১২টায় কলাভবনের বটতলায় আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশে ৩৬তম সম্মেলন উদ্বোধন করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বিদায়ী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ফাতিন ইশরাকের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উদ্বোধক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, কেন্দ্রীয় সভাপতি তামজীদ হায়দার, বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ। বিদায়ী সভাপতি মেঘমল্লার বসুর সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে সমাবেশ সমাপ্ত হয়।
কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী কমিটির সভাপতি মেঘমল্লার বসু এবং সঞ্চালনা করেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ। কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি তামজীদ হায়দার ও সহ-সভাপতি আসিফ জামান। কাউন্সিলের শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও ১ মিনিট নীরবতা পালন করার পর সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করা হয়। কমিটি বিলুপ্তির পর বিষয় নির্বাচনী কমিটি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে কাউন্সিলরদের দীর্ঘ আলোচনার প্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে ২টি পদ ফাঁকা রেখে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়। নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শপথ পাঠ করান কাউন্সিল বিদায়ী সভাপতি মেঘমল্লার বসু।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের ৩৬তম কমিটির নেতৃবৃন্দ:
সভাপতি: দূর্জয় রায়
সহ-সভাপতি: মধুসূদন কর্মকার, অর্থী আনজুম, ফাতিন ইশরাক, সাব্বির হোসেন
সাধারণ সম্পাদক: মুহাম্মদ মোস্তাকিম
সহকারী সাধারণ সম্পাদক: ইসরাত জাহান অনু, ফাহিম ইনতিসার তাসীন, জোবায়ের ইবনে ইমাম
সাংগঠনিক সম্পাদক: মিশকাতুল মাশিয়াত
কোষাধ্যক্ষ: সীমান্ত রঞ্জন চাকমা
দপ্তর সম্পাদক: মৃধা রাইয়ান
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: ফাইজা ফাইরুজ রিমঝিম
শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক: আনিয়া খান
সাংস্কৃতিক সম্পাদক: শেখ শাবাব ত্বকী রূপক
ক্রীড়া সম্পাদক: অন্টু চাকমা
পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: প্রাপ্তি পিয়া
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক: অসীম দেব চৌধুরী
সদস্য: লবিয়ত তালুকদার, রাই মিউ সিং মারমা, লাজিম খান, সিফাত রেজওয়ান, বসন্ত চাকমা, মেঘমল্লার বসু, মাঈন আহমেদ
23/05/2026
20/05/2026
আজ ২০ মে। ১৯২১ সালের এই দিনে চাঁদপুরের মেঘনা ঘাটে সংঘটিত হয়েছিল উপমহাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর নির্মমতার শিকার হয়ে সেদিন প্রাণ হারিয়েছিলেন হাজার হাজার নিরীহ চা-শ্রমিক।
১৯ শতকের দিকে ব্রিটিশ শাসকেরা আসাম ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চল পরিষ্কার করে চা শিল্প গড়ে তোলে। এই বাগানগুলোতে শ্রমের ঘাটতি মেটাতে ভারতের বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ ও মাদ্রাজ অঞ্চলের দরিদ্র ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষকে "গাছ হিলায়েগা, পায়সা মিলেগা" বলে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বাস্তবে তাদের জীবন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে চা বাগানের চার দেয়ালে। নামমাত্র পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হতো 'টি-টোকেন', যা বাগানের বাইরে সম্পূর্ণ অচল ছিল। ফলে একপ্রকার দাসত্বের জীবন বেছে নিতে বাধ্য হন এই শ্রমিকেরা।
দীর্ঘ ৭০ বছরের শোষণ ও নির্যাতনের পর, ১৯২১ সালে বিশ্বমন্দার অজুহাতে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি হ্রাস করে মাত্র ৩ পয়সা করা হয়। এই চরম অবমাননার মুখে এবং তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনের উদাত্ত আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাদের স্লোগান ছিল "মুল্লুক চলো" (নিজ দেশে চলো)। ব্রিটিশ প্রশাসন ও বাগান মালিকদের যৌথ ষড়যন্ত্রে ট্রেন ও স্টিমার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলেও, শ্রমিকেরা পায়ে হেঁটেই রওনা হন। দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে শত শত মাইল পথ পাড়ি দিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজার হাজার ক্ষুধার্ত শ্রমিক চাঁদপুরের মেঘনা ঘাটে এসে পৌঁছান।
১৯ মে, জাহাজে উঠার সময় আকস্মিকভাবে শ্রমিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয় এবং জাহাজের পাটাতন সরিয়ে দিয়ে বহু মানুষকে নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়। ২০ মে, গভীর রাতে চাঁদপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত শ্রমিকেরা নিদ্রামগ্ন ছিলেন, তখন ব্রিটিশ প্রশাসনের নির্দেশে গোর্খা সৈন্যরা উন্মুক্ত বেয়নেট ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। নির্বিচারে চালানো এই গণহত্যায় নিহত হাজার হাজার শ্রমিকের লাশ মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বাকিদের জোর করে আবারও বাগানের দাসত্বে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এই আন্দোলনের পেছনে তৎকালীন বৃহত্তর রাজনৈতিক দলগুলোর পরোক্ষ আহ্বান ছিলো। তবে এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে একমাত্র তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলে 'আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে'র শ্রমিক সংগঠন। দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের নেতৃত্বে একটানা আড়াই মাস ধর্মঘট পালন করার অপরাধে প্রায় ৫,০০০ রেল-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত হতে হয়েছিল। আজ এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। মেঘনার জল চা-শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হওয়ার ইতিহাস আমাদের পাঠ্যপুস্তকে লেখা হয়নি।। ইতিহাসের পাতায় উপেক্ষিত এই বীর শ্রমিকদের আত্মত্যাগের উত্তরাধিকার আমরা বহন করি। অধিকার আদায়ের লড়াই আমরা চিরকাল লড়ব।