25/04/2020
The_Haunter_Of_The_Dark
পর্ব-২
মায়ের কথা শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ । একটু পর আমিই বলে উঠলাম, “গালে মশা বসেছিল, বেশি জোরে চড় মেরে ফেলি যার কারণে গাল লাল হয়ে আছে । মা আর কিছু বললেন না, নিজের কাজে মন দিলেন । আমি বাথরুমে গিয়ে আয়নাতে নিজের গাল দেখে নিলাম । গালে পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ বসে আছে । এবার আর কোনো দ্বিধা রইল না । আমি এখন নিশ্চিত আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি না । আমি ঘুমালে অন্য কোনো সময়ে চলে যাই। কিন্তু কেন? আর এসব ঘটার মানে কি? কোনো বিপদের সংকেত নয় তো? মাথার ভিতর হাজার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ।কোনটির উত্তর নেই আমার কাছে । গালে হাত দিতেই ব্যথায় আঁতকে উঠলাম । গালটা অনেক জ্বলছে । একটু পানি মেরে বাথরুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমে চলে গেলাম ।
রাতে
খাবার শেষ করে নিজ রুমে এসে বসলাম মাত্র । ঘুমাবো কিনা ভাবছি । ভেবে একটা জিনিস পেলাম যে আমি তো আজীবন না ঘুমিয়ে থাকতে পারব না । আজ নয় তো কাল ঘুমাতেই হবে । তাহলে আজই ঘুমাবো । দেখা যাক আজ রাতে কি দেখি । এসব দেখার কারণ হয়ত এক জানতে পারব। ঘুমিয়ে পড়লাম ।
চোখ মেলে দেখি আমি বন্দি শালার এক কোণে বসে আছি । সামনে তাকিয়ে দেখি বন্দিগণ পালিয়ে যাচ্ছে । জেল খানার দরজারটা সবাই মিলে ভেঙ্গে ফেলেছে । একটু পর কিছু সংখ্যক প্রহরী এসে তাদের বাঁধা দিতে লাগল । দুই দলের মাঝে মারামারি শুরু হয়ে গেল। এই সুযোগ জেল থেকে আমি পালিয়ে গেলাম । জেল থেকে বের হতেই তিনজন প্রহরীর সম্মুখিন হলাম। লম্বায় তারা আট ফুট । আর আমি পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি । তারা দৌড়ে এগিয়ে আসতে লাগল আমার দিকে । আমিও পালানোর জন্যে বিপরীত দিকে দৌড় দিলাম। দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময় দেয়ালের সামনে এসে ঠেকলাম । এখন কি করব আমি? এদিক ওদিক তাকিয়ে কোনো পথ দেখলাম না । নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম বড় সড় একটা পাইপ জাতীয় কিছু । সেটার ভিতর প্রবেশ করলাম । ভিতরে বিচ্ছিরি গন্ধ । একটু পর সামনে আলো দেখলাম । পাইপ থেকে বের হতেই ধপ করে নিচে পড়ে গেলাম । উঠে আশে পাশে তাকিয়ে দেখি ময়লা পানি সব । চারিদিকে নানান পাইপের খোলা মুখ । সব পানি এসে এখানে জমছে । সেই সব পানি বড় মুখের একটা পাইপের ভিতর দিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে । বড় পাইটা অনুসরণ করে এগুতে লাগলাম । ময়লা পানির গন্ধে বমি পাচ্ছে । এগুতে এগুতে এক সময় পাইপ থেকে বের হয়ে গেলাম । সূর্যের আলো মুখে পড়ছে । আশে পাশে তাকিয়ে দেখি এখানে সব ময়লা পানি । শহরের সব ময়লা পানি এখানেই ফেলা হয় । পানি থেকে উঠে এলাম । শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে । একটু দূর যেতেই আচমকা মাটি কাঁপা শুরু করল । আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি পুরো আকাশ মেঘাচ্ছন্ন । মুষুলধারে বৃষ্টি শুরু হলো । শরীর থেকে সব ময়লা পানি ধুয়ে চলে গেল । অনেক দূর হাঁটলাম । প্রায় দুই ঘন্টা হাঁটার পর একটা পরিপূর্ণ পিরামিড দেখলাম । বিশালাকার পিরামিডের প্রবেশ পথটা খোলা । কোনো প্রহরীও নেই । পিরামিডের ভেতরটা দেখার প্রবল আগ্রহ জন্মাল । পিরামিডের ভেতরে প্রবেশ করলাম । পিরামিডের দেয়ালে মশাল দেখতে পেলাম । মশালগুলো পুরো পিরামিডকে আলোকিত করে রেখেছে । মশালগুলো দেখে বুঝা যাচ্ছে যেন একটু আগেই ধরানো হয়েছে ।তাহলে কি ভিতরে কেউ আছে? ফিরে যাব নাকি বাহিরে? বাহিরের দিকে পা বাড়াতেই প্রহরীদের কথোপকথন শুনতে পেলাম । ভাষাটা বুঝতে পারি নি । তবে মনে হলো যেন তারা পিরামিডটা দেখে অসম্ভব ভয় পেয়েছে । দুই মিনিট হবে পিরামিডের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল তারা । তারপর এক রকম দৌড়েই পালিয়ে গেল তারা ।
পিরামিডের একটু ভেতরে ঢুকলাম আমি । আয়তাকার পাথরের দেয়াল বিশিষ্ট একটা কক্ষ । কক্ষের সামনের তিন দিকে, তিনটে পথ গেছে । একটা পথের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম । ঠিক তখনই আবার মাটি কাঁপতে লাগল । আমার কাছে মনে হলো আমি যেন মাটির নিচে চলে যাচ্ছি । কিন্তু তাকিয়ে দেখলাম আমি পিরামিডের ভিতরে, একই স্থানে । মনের ভুল না তো?
পিছনের দিকে তাকাতেই প্রবেশ পথে চোখ পড়ল । বাহিরের মরুর বালি আকাশে উঠছে । যেন হঠাৎ মরুর বুক ফুলে উঠেছে । আচমকা একটা অজানা ভয় সারা দেহে ছড়িয়ে গেল । একটু পর আন্দাজ করলাম পিরামিডটা কি মরুর তলে চলে যাচ্ছে নাকি । দৌড়ে গেলাম প্রবেশ পথের দিকে । ব্যর্থ হলাম বের হতে । অনেক আগেই মরুর বালির নিচে চাপা পড়ে গেছে পিরামিডটা । প্রবেশ পথে এখন বালি আর বালি । বালিগুলো ধীরে ধীরে পিরামিডের ভেতর আসছে । বাঁচতে হলে ভেতরের দিকে যেতে হবে । নইলে মরুর বালির নিচে পিরামিডের মতো আমিও চাপা পড়ে যাব । আবার ভেতরে গেলাম, সামনে তিনটে পথ । দ্রুত ডান পাশের পথটায় প্রবেশ করলাম । একটু এগুতেই একটা কক্ষে এসে পৌঁছালাম । সামনে চারটে বাক্স । বাক্সগুলো বড় বড় । কাছে গিয়ে বাক্সগুলো দেখে বুঝতে পারলাম, এই বাক্সগুলোর ভিতর হয়ত কাউকে মমি করে রাখা হয়েছে । একবার সখ জগলো মমি দেখার, কিন্তু পরোক্ষণে সখটা চলে গেল । কিছু অজানা কন্ঠস্বর পাচ্ছি । কিন্তু কক্ষে শব্দের উৎপত্তি খুঁজে পেলাম না । শুনেছিলাম পিরামিডে গুপ্ত চেম্বার থাকে । যেখানে নানান মূল্যবান রত্ন থাকে । তাহলে কি শব্দটা সেই গুপ্ত কক্ষ থেকে আসছে?
একটু পর মনে হলো মমির বাক্স থেকে আসছে না তো? সারা শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেল । পালানোর কোনো উপায় নেই, না জানি মাটির ক'শত ফুট গভীরে আছি । আমাকে পিরামিড থেকে বের হতে হবে । আবার শব্দ পেলাম । একটা বয়স্ক লোকের কণ্ঠ মনে হলো । মমির বাক্সের পাশেই ছিলাম, কিন্তু সেখান থেকে কোনো শব্দ আসে নি । মনে হলো বাম পাশের দেয়ালটা থেকে এসেছে । মুহূর্তের মধ্যেই ভয়টা কেটে গেল । এগিয়ে গেলাম দেয়ালের দিকে । দেয়ালে কান পেতে রাখলাম । মিনিট কয়েক পরে আবার বয়স্ক কন্ঠটা পেলাম । স্পষ্ট লোকটার কথা শুনতে পাচ্ছি । লোকটা কাউকে বলছেন, “বাক্সটা খুলার কোনো চাবি তো দেখছি না এখন কি করব আমরা?’’
আরেকজন লোক বললেন, “বাক্সটা ভেঙ্গে ফেলি । ’’
“পাগল হলেন নাকি? বাক্সটা জানেনই চাবি ছাড়া কোনো ভাবেই খুলা যাবে না । ’’
এরপর কিছু সময় কোনো শব্দ পেলাম না । আমার কাছে তাদের কথার রহস্য থেকে অন্য আরেকটা বিষয় আজব লাগছে । বিষয়টা হলো আমি তাদের ভাষা কি করে বুঝতে পারছি?
অন্যদিকে
মরুর বুক ছিঁড়ে দৈত্যের মতো দাঁড়িয়ে থাকা আগন্তুক পিরামিডকে দেখে অনেক ভয় পেয়েছে প্রহরীগুলো । তারা এসে মহামান্য সিপাহিকে বিষয়টি বললেন । সেনাপ্রধান ছুটে গেলেন ফাও বাদশার কাছে ।
সেনাপ্রধান রাজ দরবারে বাদশার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন । তিনি বললেন, “মহামান্য বাদশার জয় হোক । ’’
ফাও বাদশা বলে উঠলেন, “কি সংবাদ নিয়ে আসলে? ’’
“মহামান্য বাদশা বন্দি শালার বিদ্রোহকারীদের কঠোর শাস্তি দেয়া হয়েছে । তবে একজন পালিয়ে গিয়েছিল । আমাদের প্রহরী তার পিছু নিতে নিতে উত্তর দিকে যায় । সেখানে তারা একটা পিরামিড দেখে । যেটা আমাদের নয়, আচমকা মরুর বুকে কোথা থেকে জন্ম নিয়েছে । ’’
বাদশা সেনাপ্রধানের কথা শুনে বললেন, “পিরামিডের ভেতর কেউ যায় নি তো?’’
“না বাদশা । তবে আমাদের সন্দেহ আছে, হতে পারে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীটা পিরামিডের ভেতর আশ্রয় নিয়েছিল । ’’
বাদশার মুখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ । চিন্তার ছাপ দেখে সেনাপ্রধান বললেন, “মহামান্য বাদশা চিন্তিত কেন?’’
“সন্দেহ হচ্ছে ভবিষ্যৎবাণী যদি সত্য হয়ে যায় । ’’
“মহামান্য বাদশা যদি ভবিষ্যৎবাণী সম্পর্কে আমাকে বলেন তাহলে আমি কৃতজ্ঞ হব।’’
“ভবিষ্যৎবাণী নিয়ে কয়েকটা কিতাব রয়েছে । এর মধ্যে একটা হলো আমাদের নগরী ধ্বংস নিয়ে । বইটিতে বলা হয়েছে অভিশপ্ত সেই জীবটার কথা । সে জীবটা অন্ধকারে থাকে । সেই পিরামিডের ভেতর একটা পথ রয়েছে । যেটা বন্ধ । তবে ভবিষ্যৎবাণী অনুসারে কেউ সেই পথটা খুলে দিবে । অন্ধকার জগতের সাথে পৃথিবীর সংযোগ ঘটবে । ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের নগরী । ’’
“আশা করি তেমন কোনো কিছুই ঘটবে না । বাদশাকে জবান দিচ্ছি এই সমস্যার সমাধান আমি করব । ’’
অন্যদিকে
দেয়ালের ওপার থেকে একটু পর কিছু হিস হিস শব্দ ভেসে আসলো । দেয়ালে এক হাত ছিল আমার । আচমকা একটা পাথরে টুকরোতে হাত লাগলে পিরামিড কেঁপে উঠে । ধীরে ধীরে দেয়াল সরে যায় । দেয়ালের ওপারে স্পষ্ট একটা বিশালাকার ধূসর বর্ণের সাপ দেখলাম । সাপটি একটা মানুষকে গিলে খাচ্ছে । নিচে আরো এক জনের মৃত দেহ পড়ে আছে । লোকটার শরীর হালকা নীল দেখাচ্ছে । সাপের বিষের প্রভাব । আমি নড়া চড়া বন্ধ করে দিলাম । সাপটা আমায় দেখতে পেলে রক্ষা নেই । ধীরে ধীরে হাত টেনে দেয়ালের সেই স্থানে চাপ দিলাম । পিরামিড কাঁপতে লাগল । কিন্তু দেয়াল লেগে যাবার আগেই বিশালাকার সাপটি লেজ দিয়ে আঘাত করলো । ভেঙ্গে গেল পাথরের দেয়াল । সাপের মুখে থাকা লোকটার মৃত দেহ ফেলে দিয়ে আমার দিকে এগুতে লাগল ।
মৃত্যু সন্নিকটে..
চলবে….
24/04/2020
The_Haunter_Of_The_Dark
পর্ব-১
অসহ্যকর গরম পড়ছে । পুরো শরীর ঘেমে গেছে আমার । আরে এ আমি কোথায়? আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম, আমি তো মরুভূমিতে । অসম্ভব আমি তো আমার নিজ রুমে ছিলাম । এই নির্জন মরুভূমিতে কি করে আসলাম? স্বপ্ন দেখছি না তো? নিছক স্বপ্ন বলে উড়িয়ে দিতে পাড়লাম না । কারণ সূর্যের তীব্রতা আর মরুভূমির গরম বালির তাপ অনুভব করছি আমি । বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম । ঘেমে পুরো শরীর স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে গেছে । গরম বালির উপর দাঁড়াতেই পায়ের তালুটা জ্বলতে শুরু করল । যেন গরম কয়লার উপর দাঁড়িয়ে আছি । গলাটাও শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে । এক ফোঁটা পানির খোঁজে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম । একটু হাঁটতেই অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেল । পায়ের তালুর জ্বালাটা আর সহ্য হচ্ছে না । হাঁটু গেঁড়ে গরম বালির উপর বসে পড়লাম । বালির দিকে তাকাতেই একটা বাক্স চোখে পড়ল । অর্ধেকটা বালির নিচে চাপা পড়ে আছে, বাকি অর্ধেকটা বালির উপর । বাক্সের আশে পাশের বালিগুলো সরিয়ে বাক্সটা বের করে আনলাম । বাক্সটা অনেক পুরনো। যেন কয়েক শত বছর আগের । অজানা এক কৌতুহল কাজ করতে শুরু করলো । কি জানি বাক্সতে কি আছে? বাক্সটা ভালো করে দেখে নিলাম । খোলার জন্যে একটা চাবি দরকার, কিন্তু আশে পাশে কোনো চাবি দেখছি না । আর এই বিশাল মরুভূমিতে, ক্ষুদ্র চাবি খোঁজা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয় । বাক্সটার মুখ হাত দিয়ে টেনে খুলার চেষ্টা করলাম । চেষ্টাটা বৃথা গেল । বাক্সের মুখটা অনেক শক্ত । বাক্সটি হাজার বছর পুরনো হবার সত্ত্বেও অনেক মজবুত । বাক্সটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম । যত তাকাচ্ছি ততই কৌতুহল বাড়ছে । না জানি কি আছে ভেতরে? হয়তো কোনো মূল্যবান রত্ন রয়েছে ।
আচমকা মরুঝড় ঝড় শুরু হলো । প্রচণ্ড বাতাস বয়ে যাচ্ছে, সেই সাথে বালি উড়ছে । নাকে,মুখে যাচ্ছে বালিগুলো । ধীরে ধীরে মরুঝড়ের ভিতর ফেসে গেলাম । পুরো শরীর বালুতে ভরে গেছে ।চোখ দুটো বন্ধ করে রাখলাম । কিছুক্ষণ পর চোখ খুলতে দেখলাম আমি নিজের রুমে । বিছানার উপর শুয়ে আছি । উঠে বসে পড়লাম । ভালো করে শরীরে হাত দিয়ে দেখলাম, না ঘেমে আছি, না শরীরে বালি আছে । অনেক অবাক হলাম আমি । তাহলে কি আমি স্বপ্ন দেখছিলাম?
কিন্তু স্বপ্ন হলে তো আমি ঘেমে যেতাম না, না আমার পায়ের তালু জ্বলত । পায়ের তালুর কথাটা মনে পড়তেই তালুর দিকে তাকালাম । তাকিয়ে দেখি তালু একদম ঠিক । নিজেকে কেমন পাগল পাগল মনে হচ্ছে । নিশ্চয়ই অধিক মাত্রায় গল্প পড়ার পরিণাম ।
ওহ হ্যাঁ আমি একটু বেশি গল্প পড়ি । গল্প প্রেমিক বলতে পারেন। মাঝে মাঝে দুই একটা গল্পও লিখি । যাই হোক নিজের পরিচয়টা দিই । আমার নাম ফারহান । থাকি ব্যস্ত নগরী ঢাকাতে । পরিবারের সাথেই থাকি । আজকের অদ্ভুত স্বপ্নটা সারা দিনের শান্তিটা কেড়ে নিয়ে নিলো । শুক্রবার দিন একটু বিশ্রাম নিব ভেবেছিলাম, তাও কপালে নেই । এখন তো আমার ঘুমাতেই ভয় করছে ।
ভাবতে লাগলাম স্বপ্নটা নিয়ে । আচমকা মূল দরজার শব্দ পেলাম । রুম থেকে বের হয়ে বাড়ির মূল দরজার কাছে গিয়ে দাড়ালাম । আমার রুমের পাশেই মূল দরজাটা । জানা মতে এই সময় তো কারো আসার কথা নয় । পিছন থেকে মা ডাক দিয়ে বললেন, “দেখ তো দরজায় কে । ’’
দরজাটা খুলে বাহিরে উঁকি দিলাম । একজন বৃদ্ধ লোক দাঁড়িয়ে আছেন । তিনি আমায় বললেন, “বাবা দয়া করে আমায় একটু সাহায্য করো । ’’
জামা কাপড়ের ধরন দেখে বুঝলাম ভিক্ষুক তিনি । খালি গা একটা চাদরে মুড়ানো । চাদরটি একদম কুচকুচে কালো । লোকটার গা থেকে একটা উদ্ভট গন্ধ আসছে । ঘরের ভিতরে গিয়ে দু’মুঠো চাল, আর দশ টাকা নিয়ে উনার হাতে ধরিয়ে দিলাম । টাকা আর চাল থেকে লোকটার মুখে হাঁসি ফুটে উঠল । আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন, আর দোয়া করলেন । লোকটা চলে গেলেন । লোকটাকে সাহায্য করতে পেরে মনের ভিতর একটা অজানা ভালো লাগা কাজ করতে লাগলো । মনে হচ্ছে কলিজাটা শীতল হয়ে গেছে । বুকের ভিতরে শান্তির ঝড় বয়ে যাচ্ছে ।
অনেকক্ষণ যাবত দরজার সামনে বিনা কারণে দাঁড়িয়ে রইলাম । আচমকা মায়ের ডাকে আমার ভাবনায় ছেদ পড়ল ।
“কিরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছিস।কেনো? দরজা বন্ধ কর । ’’
মায়ের কথা মতো দরজা বন্ধ করে রুমে চলে আসলাম । কিছুক্ষণ শুয়ে রইলাম ।একটু পর উঠে গোসল সেরে মসজিদে চলে গেলাম । নামাজ শেষে বাড়ির দিকে রওনা হলাম । নিজেদের গলিতে ঢুকতেই অনুভব করলাম কেউ আমার পিছু নিচ্ছে । পিছনে তাকালাম, কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না । মনের ভুল ভেবে আবার হাঁটা ধরলাম । দুই কদম দেবার পর আবার মনে হলো কেউ পিছু নিচ্ছে । পিছনে তাকালাম না, মনে মনে দোয়া পড়তে থাকলাম । দোয়া পড়তে পড়তে ঘরে চলে আসলাম । মাথাটা কেমন ভারী হয়ে আছে । কি সব যে হচ্ছে আমার সাথে । একটু পর মায়ের ডাক পড়ল । দুপুরের খাবার খেতে ডাকছেন । গিয়ে দুপুরের খাবার সেরে নিলাম । খাবার টেবিল থেকে উঠে যাবার সময় মা আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “ফারহান কিছু নিয়ে চিন্তিত নাকি?’’
“মা হঠাৎ এই প্রশ্ন? ’’
“ভাত খাবার সময় লক্ষ্য করলাম, খুব আসতে আসতে খাচ্ছিলে আর কিছু ভাবছিলে । ’’
“তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু না ।একটা বাজে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেটা নিয়েই ভাবছিলাম । ’’
“কি স্বপ্ন দেখলি? ’’
“দেখলাম আমি নির্জন উত্তপ্ত মরুভূমিতে। ’’
“এতে এত চিন্তিত হবার কি আছে?’’
“আমার কাছে মনে হচ্ছিল বাস্তবে সেখানে আছি আমি । ’’
“স্বপ্ন দেখলে এমনই মনে হয়, যেন সব বাস্তব । আসলে কিন্তু সবই অবাস্তব । এটা এত ভাবার কিছু নেই । ’’
মায়ের কথার উত্তর স্বরুপ মাথা উপর থেকে নিচে নাড়ালাম ।তারপর ফিরে গেলাম নিজ রুমে । কিছুক্ষণ ফেসবুকে ঘুরাঘুরি করলাম, তারপর একটু বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম । আজ কেমন জানি লাগছে । যেন আমার মাথায় কেউ হাজার টন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে । খুব ভারী হয়ে আছে মাথাটা । আমার জানা মতে অতিরিক্ত ঘুমালে মাথা ভারী হয়ে যায়, কিন্তু আমি তো অতিরিক্ত ঘুমাই নিই । মাথাটা হালকা করার জন্যে বারান্দায় আসা । আকাশের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম । আকাশটা কেমন উদাস । হঠাৎ করে আবহাওয়াটা পাল্টে গেল । মুহূর্তের মাঝেই রোদেলা দুপুরটা পরিণত হলো মেঘাচ্ছন্ন দুপুরে । আকাশটা কালো মেঘে ঢাকা পরে গেছে । একটু পর মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো । বারান্দা থেকে রুমে চলে আসলাম । রুমের জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালাম, মনে হলো গভীর রাত এখন । এত অন্ধকার । ঢাকা শহরে এমনই মুষলধারে বৃষ্টি খুব কমই হয় । বৃষ্টি তো হয় না বললেই চলে । প্রতিদিনের তাপমাত্রা ত্রিশ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে থাকে ।
অপূর্ণ ঘুমটা পূর্ণ করার সুবর্ণ সময় মনে হলো । ডুব ঘুমের জগতে । একটু পরই ঘুমিয়ে গেলাম ,ঠাণ্ডার আবহাওয়ার কারণে ।
চারিদিকে কেমন হৈচৈ হচ্ছে । চোখটা মেলে তাকালাম । অবাক হলাম প্রচুর, আমি তো আবার সেই মরুভূমিতে । তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন । হাজার হাজার মানুষ, অদ্ভুত তাদের পোষাক । সবাই কোনো অজানা শব্দ উচ্চারণ করেই যাচ্ছে । তাদের শুধু একটা কথা বুঝতে পাড়লাম । সেটা হলো অন্ধকার । তারা সেটা ডার্ক বলে সম্বোধন করছিল । কিন্তু বুঝতে পাড়লাম না কি করছে তারা? আশে পাশে চোখ বুলিয়ে প্রথমে নিজের অবস্থানটা দেখে নিলাম। একটা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি । একটা নদীর কিনারে গাছটি । নদীর ওপাড়ে তাকাতে দেখলাম, পিরামিড!
আশ্চর্য হলাম আমি । আমি মিশরে তার মানে?কিন্তু এই মিশর তো বর্তমানের মিশর হতে পারে না, কারণ আমার চোখের সামনে পিরামিড তৈরি হচ্ছে । আরো অবাক হলাম বিশাল আকৃতির মানব দেখে । দশ ফুটের উপর হবে তারা । পিরামিডের বিশালাকার পাথর চার পাঁচ জন মিলে নিয়ে যাচ্ছে । আয়তাকার পাথরগুলো সাত থেকে আট ফুট হবে । মাত্র চারজন মিলে এত ভারী পাথর টেনে নিয়ে যাচ্ছে । একটা পাথরের উপর আরেকটা পাথর রাখা হচ্ছে । ত্রিভুজাকৃতির পিরামিডের অর্ধেক কাজ প্রায় শেষ । পিরামিডের থেকে চোখ সরিয়ে নিলাম নিজের পিছনে । তাকিয়ে দেখলাম বিশাল এক নগরী । বুঝতে পারছি না আমি কোন যুগে চলে এসেছি । নাকি আমি স্বপ্ন দেখছি? নিজেকে পাঁচ থেকে ছয় বার চিমটি কাটলাম । প্রতিবারই সমান ব্যথা অনুভব করেছি
মোটেও স্বপ্ন নয় । কিন্তু আমি এসব কেন দেখছি?
ধীরে ধীরে সেই নগরীর দিকে এগিয়ে যেতে লাগালাম । প্রায় আধা ঘন্টা হেঁটে পৌঁছালাম সেখানে । অন্যরকম পোষাকে দেখে কিছু প্রহরী আমার দিকে এগিয়ে আসলো । তাদের ভাষা বুঝতে পারছিলাম না আমি । ফলে তাদের কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারি নি । ফলাফল আমাকে গ্রেফতার করা হলো । আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো বিশালাকার এক রাজ প্রসাদের দিকে ।
আমাকে আনা হলো তাদের বাদশার সামনে । অর্থাৎ একজন ফারাও রাজার সামনে আনা হয়েছে ।
ফারাও রাজা প্রহরীর সাথে কিছু কথা বললেন । হয়তো তারা আমায় ভিনদেশী গুপ্তচর ভাবছেন। না জানি এর শাস্তি কি হয় । আবার আমাকে প্রহরীরা কোথায় নিয়ে যেতে লাগল । আনা হলো এক বন্দি শালায় ।
আমি ঘুম থেকে উঠতে চাই । এই বাজে স্বপ্ন থেকে মুক্ত হতে চাই । শত চেষ্টা করেও নিজে ঘুম ভাঙাতে পারলাম না । বন্দি শালায় কয়েকজন বিশালাকার দেহের অধিকারী লোক আমায় কিছু জিজ্ঞাসা করলেন। এবারও উত্তর দিতে পারি নি তাদের কথার । ফলাফল কষে এক চড় পড়ল আমার গালে । সাথে ভেঙ্গে গেল ঘুম । ঘুম থেকে উঠে হাঁপাতে লাগলাম । নিজ রুম থেকে বের হয়ে টয়েলেটের দিকে যেতে লাগলাম ।
আচমকা মা বলে উঠলেন, “তোর গালে চড়ের দাগ কিসের? ’’
চলবে…….
গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক । বাস্তবতার সাথে না মিলালেই ভালো ।
25/11/2019
★★★MY-Deadly-cases-series-1 প্রতিবিম্ব (Reflection)★★★
পর্ব ৮ও শেষ পর্ব
আমার নাম নিশি আর ও আমার ববান্ধবি রিতা আর ওনি আমার ভাই আকাশ(নিশি)
ওহ(আমি)
এবার প্লেনটা বলুন(নিশি)
দাড়ান তার আগে দেখি চার্লসের সাথে কাথা বলা যায় কি না।চার্লস বলেছি তাকে স্মরণ করলে কথা বলতে পরব।চেষ্টা করলাম কথা বলার।সফল হলাম।
কি জানতে চাও(চার্লস)
তরওয়ারটা কি যখন ইচ্ছা গায়েব যখন হচ্ছে আনা যাবে(আমি)
হুম।পরবে।শুধু ভাবলেই চলবে(চার্লস)
কিরে একা একা কার সাথে কথা বলছিলি(রাব্বি)
চার্লসের সাথে।এবার প্যালটা শুন।(আমি)
বলেন ভাই(আকাশ)
আমরা...........(এখন বলা যাবে না পঠকেরা অপেক্ষা করন)
ভালো আইডিয়া তবে ফিপটি ফিপটি চান্স(আবির)
এর চেয়ে ভালো আইডিয়া কারো আছে(রিতা)
না।।(আবির,রাব্বি,আকাশ,নিশি)
ওতে এবার আইডিয়া অনুযায়ী কাজ করা যাক(আমি)
হুম চলুন(নিশি)
আবার প্রতিবিম্ব পুরের দিকে যাচ্ছি।প্যানটা হলো যে আমরা ধরা দিব। কালকে যখন বলি দিতে নিবে তখন তওয়ার দিয়ে রক্ত চোষা রাজাটাকে মেরে ফেলব।
পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করলাম দানবদের সাদের আনন্দের সামনে দৌড় দিলাম সবাই ব্যস কাজ হয়ে গেল দেখে ফেলল।আমরা ধিরে দৌউড়ালাম দানবগুলো ধরে ফেলল।নিয়ে গেল রাজার কাছে।
কত বড় সাহস তোরা এখানে এসেছিস আর তিনজনকে বাচাতে চেয়েছিস।সাহস বেড়ে গেছে না। বন্ধি করে রাখ কালকে কাজে লাগবে।।(রাজা)
একটা ঘরে বন্ধি করে রাখল।আবির বলে উঠল।
দোস্ত খুদা লাগছে ওই দুপুরে খাইছি।এরপরতো শুধু দৌড়াছি (আবির)
চিন্তা করিস না মাত্র আর একদিন না খাইয়া থাকতে হইব।(আমি)
আমি মইরা যামুরে।(আবির)
সবাইর এবই অবস্থা না খেয়ে আছে কিবা করার আগে জীবন পরে খাবার।
সবাই ঘুমিয়ে গেল শুধু জেগে রইলাম আমি আর নিশি।
আপনি ঘুমাবেন না(নিশি)
না।চিন্তা করছি কিভাবে সবাইকে বাচাবো পারবতো(আমি)
সাহস রাখেন ইনাশাল্লাহ পারবেন(নিশি)
হুম।আপনি ঘুমান(আমি)
ওকে(নিশি)
------রাত তিনটায়----
হঠাৎ নিশি জেগে গেলাম আর আমাকে বলল।
আমি একটা খারপ সপ্ন দেখেছি।দেখি আমাদের সাবইকে বলি দেওয়া হয়েছে।আপনাকে দেওয়া তলওয়ারটা রাজা নিয়ে নেয় আর আপনাকে মারতে থাকে।আপনার গলা কাটতে যাচ্ছিল ঠিক তখনেই আমার ঘুম বেঙ্গে যায়(নিশি)
নিশি প্রচন্ড ভয় পেয়েছে তা দেখেই বুঝা যাচ্চে।নিশিকে শান্তনা দিলাম।কিছুক্ষণ পরে আমার কাদে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেল।কি সুন্দর দেখাচ্ছে।মনে হচ্ছে পরী।
ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম টের পেলাম না।
যখন ঘুম ভঙ্গল তখন দেখি অন্য জায়গায় আমরা। একটা গাছের সাথে বাধা।পাশে তাকিয়ে দেখি আমার মতো বাকি রাও অবাক।রাজাটা এসে বলল কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের বলি দেওয়া হবে।কিন্তু রাতে দেওয়ার কথা এখন কেন দিচ্ছি।
আরে ছোকরা তোদের ভুল তথ্য দিয়েছিল।এখন মরার জন্য প্রস্তুত হ।আগে নিশিকে মারব তোর সাথে একদিনের মধ্যেই বেশি ক্লোজ হয়ে গেছে।কাধে মাথা রেখে ঘুমায়।ওয়াহ।তাই তোর সামনে ওকে আগে মারব(রাজা)
।সালা একবার আমার হাতটা খুল তোকে বুঝাব কত ধানে কত চাল(আমি)
নিশিকে নিয়ে গেল।শয়তানের সামনে রাখা হল একটু পর ওর নিথর দেহ পড়ে থাকবে। না না আমরা কিছু করতে হবে।তখনেই তলওয়ারটার কথা মনে হলো।ভাবতেই তলওয়ারটা হাতে আসল।একটু লড়াতে পারছিলাম কারণ হাত বাধা অনেক কষ্টে জোরে টান দিলাম দড়ি কেটে হাত্ও কেটে গেল। প্রচুর রক্ত পরছে সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।বলতেই হবে সাধারণ কোনো তলওয়ার নয় এটা।প্রচুর ধারালো।দৌড়ে গিয়ে গেলাম নিশির গলায় চাকু চালানোর আগেই দানবটাকে দুই ভাগ করে দিলাম।বুঝতে শুরু করেছি তলওয়ারের শক্তি।রাজা বাতাসের বেগে এসে আমায় গুসি দিল সাথে সাথে রক্ত বের হলো।উঠতে পারছিলাম না তবুও সাহস করে উঠে মারতে চাই লাম পারলাম না তার আগেই পেটে জোরে গুসি দিল। উড়ে গিয়ে গাছের সাথে বারি খেলাম।এবার আর উঠতে পারছি না।চোখ দুটো বন্ধ করে বসে রাইলাম।তখন চার্লসের সাথে দেখার সময় তিনি যখন এক সাথে সব আত্মাদের মেরেছিলেন সেই দৃশ্যটি মনে পড়ছে।তিনি শুধু তলওয়ারটা দিয়ে জোরে টান দিয়ে ছিলেন সাথে সাথে একটা নীল রংএর মতো কিছু যায় যাব সিরিয়ালে সব আত্মাদের দুই ভাগ করে দেয়।হুম বুঝেছি কি করতে হবে।
উঠে মূর্তির দিকে লক্ষ করে ঠিক চার্লসের মতো একটা টান দিলাম।মূর্তি দুভাগ হয়ে গেল।আর রাজাটা চিৎকার দিতে লাগল।রাজার সারা শরীরে অগুন লেগে গেল সাথে দানবগুলো শরীরেও।এখন আমার ইচ্ছে করছে ডক্টর গ্রিফিনোকে থেংস্ক দিতে।তিনি বলেছিলেন সমস্যার মূলকে শেষ করে দেও সমাধান এমনেই আসবে।হাত থেকে রক্ত যাচ্ছিল।নিশি বাকিদের মুক্ত করল।নাকে, মুখে, হাতে দিয়ে অনেক রক্ত গিয়েছে। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
জ্ঞান ফিরার পর নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম।কিভাবে এলাম এখানে।বাকিরা এর মধ্যেই ভিতরে এলো।আমি কিছু বলার আগে আবির বলল।
জ্ঞান হারানো পর যে দানবগুলো আমাদের সাহায্য করেছিল তারা আসল। আমাদের সামনেই তারা মানুষ হয়ে যায়।শয়তানও শেষ আর তাদের উপর করে রাখা জাদুও শেষ হয়ে যায়।তারা গাড়ি পর্যন্ত আমাদের অনেক কম সময় নিয়ে আসে।তোকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।টানা দুইদিন তুই অজ্ঞান ছিলি।(আবির)
ওহ(আমি)
আর শুন এই দিন নিশি তোর জন্য অনেক কেদেছে।মেয়েটা তোকে ভালোবেসে ফেলেছে(আবির)
ওই সালা চুপ কর(আমি)
বিয়ের দাওয়াত দিতে ভুলবি না।সবাই চল তোদের দুই জনকে সময় দেখয়া উচিত।(আবির)
সবাই বাহিরে চলে গেল শুধু নিশি রয়ে গেল।আমি নিশির হাত ধরলাম।আরে ডাইরেক বলাল।
উইল ইউ মেরি মি(আমি)
হুম(নিশি)
তারপর আমি নিশির কপালে একটা চুমু দিলাম।।।।।
THE END
(অনেক দিন পর আবার শুরু করলাম।বানান ভুল হলে ক্ষমা করবেন।পরের সিরিজ তারাতারি দেওয়ার চেষ্টা করব।ধন্যবাদ সবাইকে)
19/08/2019
★★★প্রতিবিম্ব(Reflection)★★★
পর্ব ৭
নিজের জীবন আর চার্লসকে দেখার জন্য পূর্ব দিকে দৌড়াছি।
আর পিছনে আত্মার দল।
মিনিট দুয়েক পর জায়গাটা অন্য রকম লাগছে।চারিদিক খুব সুন্দর দেখতে।একটু সামনে যেতে দেখি একটা কবর পাশে আরো কিছু কবর।তার মানে এটা একটা কবরস্থান। থেমে গেলাম সাথে আবির আর রাব্বিকে থামতে বললাম।
লক্ষে পৌছে গেছি।এখনেই আছে চার্লসের কবর(আমি)
হুম।তাইতো মনে হচ্ছে। (আবির)
পিছনে তাকা ভাই(রাব্বি)
পিছনে তাকিয়ে দেখি তাত্মাতো আসছেই সাথে রক্ত চোষা দানব।লক্ষের এতো কাছে এসেই কি হেরে যায(আমি)
দানবগুলো আমাদের ঘিরে ফেলল।দানব আর আত্মাগুলো লোভাত্বক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।যত কাছে আসছে তত পচা মাংসের গন্ধ আসছে।দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
আত্মাগুলো এগিয়ে আসছিল হঠাৎতে মাটি কেপে উঠল।প্রচন্ড ঝড় শুরু হলো আর মাটিও কাপছে।ঝড় আর মাটি কাপা বন্ধ হয়ে গেল।দানবগুলো চোখে ভয় দেখা যাচ্ছে।
হঠাৎ পিছন কেউ থেকে বলে উঠল---
এডওয়ার্ড প্রেজেন্টস দি চার্লস এডওয়ার্ড।(চার্লস)
আত্মাগুলো ঝাপিয়ে পড়ল চার্লসের উপর চার্লসও কিন্তু আত্মা।প্রায় বারোটা আত্মা আর দশটা দানব চার্লস কি একা পরবে আমাদের বাচাতে।
আমার সাথে যুদ্ধ হুম ভুলে গেছোস অতীত। (চার্লস)
চার্লস বাতাসের মতো গিয়ে একটা আত্মাকে গিয়ে ঘুসি মারল সাথে সাথে আত্মাটার বুক ফেটে গেল।ভীতরের সব এক টানে বের করে দিল।এরপর মাথাটা একচাপে পুরো প্লেটের মতো করে দিল।আত্মাটা গায়েব হয়ে গেল।এরপর বাতাসের বেগে চোখেে পলকে দানবগুলোকে টুকরো টুকরো করে দিল।চারিদিকে রক্ত আর মাংস পড়ে আছে।
নো টাইম টু ওয়েস্ট। লেস্ট ফিনিস দিচ।(চার্লস)
চার্লসে হাতে একটা তলওয়ার আসল। মনে হয় এটাই সেই তলওয়ার।
চার্লস চোখের পলকে আত্মাগুলোকে টুকরো টুকরো করে দিল। আত্মাগুলো গায়েব হয়ে গেল।এতক্ষণ চার্লসকে ভালো করে দেখি নি।চার্লস আমার দিকে ফিরল। দেখেতো আমি পুরাই আবাক পুরা আমার মতো। মনে হচ্ছে আমি আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছি।আমি চুপ থাকতে দেখে চার্লস বলা শুরু করল।
হাতে সময় খুব কম। আর একদিন সময় আছে।এই এক দিনে জঙ্গলে আসা নতুন তিনজনকে বাচাতে হবে সাথে রক্ত চোষা রাজাটাকেও মারতে হবে।।(চার্লস)
আপনিইতো পারেন এই মারতই তো আপরি দারব আর আত্মাগুলো মারলেন।(আমি)
আমি শুধু কবরস্থানেরর ভিতরেই থাকতে পারি বাহিরে যেতে পারি না।ভেবো না আমি তোমায় তাবিজটা দিয়েছি।সেটা অন্য একটা আত্মা দিয়েছে(চার্লস)
ওহ।সময় নাই তলওয়ারটা দেন(আমি)
আগে নিজের বুদ্ধিমতার প্রমাণ দেও।আমার কবরটা খুজে বের করো। কবরটা খুজতে পারলেই তলওয়ারটা আপনা আপনি হাতে চলে আসবে(চার্লস)
এতোগুলো কবরের মধ্যে খুজতে হবে বাবারে।প্রায় পচিশটাতো হবেই।সুজুক একবার। প্রত্যেকটা কবর ভালো করে দেখছি।প্রতিটার পর্থক্য মিলাছি সব দেখতে এক।কি করি।মাথায় একটা বুদ্ধি আসল চার্লস এই দুনিয়ার হতে পারে না কারণ ইতিহাসে এই রকম যোদ্ধার কথা বলা নেই।সে মারা যাওয়ার আগেই একা পুরো রক্ত চোষাদের মারেন কিরমক যোদ্ধা চিন্তা করুন।শুনেছি ভালো মানুষদের কবরটা নাকি প্রকৃতিই আগলে রাখে।চারিদিক দেখলাম একটা কবরের পাশ অন্য রকম।সামনে এগিয়ে গেলাম।কবরের পাশে একটা গাছ দেখতে খুব সুন্দর এমন গাছ আগে কখনো দেখি নি।
ইয়েস এটাই আপনার কবর (আমি)
হুম।গুড।সঠিক ধরেছ(চার্লস)
সাথে সাথে হাতে তলওয়ারটা এসে গেল।
তলওয়ারটা কিন্তু কোনো সাধারণ তলওয়ার নয় এটা চার্লসের তলওয়ার।পুরো মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধার তলওয়ার>
14/08/2019
★★★প্রতিবিম্ব(Reflection)★★★
পর্ব ৬
শুরুতে যে দানবটা তোমাদের মারতে চেয়েছিল সেটা ছিল একটা রক্ত চোষা প্রাণী।তাদের দাতগুলো বড় হয় আর আমাদের ছোট।(রাজা)
তো কিভাবে আপনারা দানব হলে?(আমি)
আমাদের শয়তানটা এমন কারণ আমাদের আমারতে পারবে না তাই।(রাজা)
কেন মারতে পারবে না(আমি)
কারণ আমরা চার্লসের সঙ্গী ছিলাম। তিনি আমাদের মৃত্যুর পূর্বে কিছু ক্ষমতা দেন।(রাজা)
ওহ।তো কিভাবে শয়তানটাকে মারা যাবে(আমি)
সেজন্য তোমার একটি অস্ত্রের দরকার হবে যেটা চার্লস ব্যবহার করব।(রাজা)
অস্ত্রটা কোথায়(আমি)
চার্লসের কাছে।(রাজা)
মানে। তিনিতো মারা গিয়েছেন তাকে কোথায় পাব?(আমি)
তার কবর খুজে বের করতে। আমরা কিন্তু জানি না তার কবর কোথায়(রাজা)
তাহলে কোথায় খুজব(আমি)
এই জঙ্গলের আছে। তোমাকেই খুজতে হবে(রাজা)
কি করব কিছু মাথায় আসছে না এই বিশাল জঙ্গলের কোথায় খুজব।যেখানে আছে একদিকে রক্ত চোষা দানব আরেক দিকে শয়তান আর বৃদ্ধটা।
---রাতে---
আবির রাব্বি খুব ক্লান্ত তাই তারা ঘুমিয়ে পড়েছে।কিন্তু আমার চোখে ঘুম নেই।
কোনো উপায়তো বের করতেই হবে।।কাল থেকে খুজা শুরু করব।।
----সকালে----
আচ্ছা আমরা আসি(আমি)
যাওয়ার পূর্বে আরেকটা কথা শুনো।।ভয় পাবে না কখনো,বুদ্ধি ছাড়া কিন্তু কিছুই করতে পারবে না(রাজা)
কথার মাজখান একটা দানব এসে রাজাকে কিছু বলল।রাজার মুখ কালো হয়ে গেল।
কি হয়েছে(আমি)
তিনজন এসেছে জঙ্গলে তাদের রক্ত চোষারা ধরে নিয়ে গেছে।পূর্ণিমায় বলি দেওয়া হবে। পূর্ণিমায় আর দুই দিন বাকি।একবার বলি দিলে কিন্তু রক্ত রাজা শয়তানটা কিন্ত দেহ পাবে।আর একবার দেখ পেলে মহা বিপদ।সে তার প্রভু ইবলিস শয়তাটাকেও পৃথিবীতে দেহ সহ আনতে পারবে।তোমাকে দুই দিনের মধ্যেই চার্লসের কবর খুজে তার সাথে দেখা করে তার তলওয়ারটা নিতে হবে।
মনে রেখ তলওয়ারটা দিয়ে যেকোনো খারাপ আত্মা, শয়তান,যেকোনো প্রাণি মারা যায়।
আমার উপরে বিশ্বাস রাখুন। আমার কাছে একটা বুদ্ধি আছে।(হাসি মুখে আমি)
আবির আর রাব্বি চল (আমি)
----চলে আসলাম জঙ্গলের গভীরে---
দেখেছিস জঙ্গলের মধ্যেই সব উত্তর(আবির)
কিন্তু আমরা কোথায় যাচ্ছি(রাব্বি)
পূর্ব দিকে(আমি)
কেন(আবির)
কারণ ভিতর থেকে পূর্বে অনেক জঙ্গল কিন্তু বাহিরে পূর্বে দিয়ে ঢুকলে মায়াজাল। যেখানে আমি এটকেছিলাম।(আমি)
ঠিকেইতো বাহিরে বৃদ্ধটা পাহারা দিছিল।আবার মায়াজাল করেছিল।(আবির)
মানে বাহির দিয়ে গেলে ভুল আর ভিতর দিয়ে গেলে সঠিক।।(রাব্বি)
কারেক্ট(আমি)
পূর্ব দিকে যাচ্ছি হঠাৎ করে কয়েকটা রক্ত চোষা দানব আসল মোট পাচটা।
হাতে আগে থেকে বন্দুক রেখেছিলাম জানতাম আসবে।গুলি করললাম পাচটাকে।
মারা গেল সাথে সাথে। কিন্তু কোথায় থেকে যেন একটা রক্ত চোষা হাত থেকে তাবিজটা নিয়ে পালিয়ে গেল।
ব্যস বিপদ শুরু।সাথে সাথে বৃদ্ধটার হাসির আওয়াজ।
হঠাৎ একটা গর্জনের আওয়াজ আসল। বুকটা কেপে উঠল।পিছনে তাকিয়ে দেখি বিশ বছরের এক যুবক।তখনেই বৃদ্ধটা বলে উঠল প্রনাম রাজা মসাই।
বুঝে গেলাম একটা রক্ত চোষা রাজার আত্মা।।
আমি হাসেম রাক্ত চোষাদের রাজা।(রক্ত চোষা রাজার আত্না)
এবার তোদের মৃত্যু দিব পূর্ণিমায় একসাথে আমি আর আমার প্রভু দেহ পাব আরদুনিয়াকে ধ্বংস করে দিব(রক্ত চোষা রাজার আত্মা)
বুঝলাম আমাদের এখন মারবে না(মনে মনে আমি)
আবির আর রাব্বিকে ইশারা করলাম দৌউড়াতে সাথে আমিও দৌউড়াতে শুরু করলাম।।
পিছনে তাকিয়ে দেখি অনেক গুলো আত্মা আমাদের দিকে আসছে।করো মাথা নেই করো বা হাত করো বা চোখ করো বা পা নেই।
কি ভঙ্কর দেখতে।
তেড়ে আসছে আমাদের দিকে........
দৌড়ানো অবস্থাতেই আমি গুলি লোড করলাম আর গুলি করতে লাগলাম যদি কোনো কাজ হয়।
হ্যা কাজ হয়েছে কয়েকটা আত্মার পা আলাদা হয়েগিয়েছে।তারা আবার পা লাগিয়ে দৌড়াছে। এই সময় কাজে লাগিয়ে আত্মাদের থেকে দূরে চলে যাই।
কিন্তু কখনো পিছু ছাড়ে নি।
নিজের জীবন আর চার্লকে দেখার জন্য দৌড়াছি আর পিছনে আত্মার দল.....
চলবে...
12/08/2019
★★★প্রতিবিম্ব(Reflection)★★★
পর্ব ৫
আবির, রাব্বি দৌউড়া
এই ব্যাডা কি জন্য দৌউরামু। পিছে তাকা(রাব্বি)
ওহ পিছনেতো কেউ নাই।ওহ সরি সরি(আমি)
হাহা কি ভীতুরে (বৃদ্ধটা)
সাহস থাকলে সামনে আয়(আমি)
সময় হলে আসব(বৃদ্ধটা)
আরে দোস্ত আসব কেমনে তোর হাতেতো তাবিজ আছে(আবির)
তাবিজতো আত্মা থেকে রক্ষা করবে কিন্তু এই জঙ্গলের দানবদের থেকে কে রক্ষা করবে।(বৃদ্ধ)
কি দানব(রাব্বি)
হঠাৎ করে মাটি কাপতে শুরু করল।বিশাল কোনো প্রাণি আমাদের দিকে আসছে।এখন কি করব
দেখি এবার কিভাবে বাচো আমার ভাইয়ের প্রতিবিম্ব(বৃদ্ধ)
কি তার ভাইয়ের প্রতিবিম্ব মানে কি(আমি)
চোখ গেল সামনে দেখি বিশাল বড় দাত ওয়ালা একটা প্রাণি আসছে আমাদের দিকে।আমার থেকে দিগুণ হবে সাইজে।তারাতারি ব্যাগ থেকে বন্দুকটা বের করে দানবটার দিকে তাক করলাম।কিন্তু ততক্ষণে দানবটা আবিরকে ধরেছে। এক মূহুর্তও নষ্ট করলাম না, মাথায় গুলি করলাম। সাথে সাথে মারা গেল।ভেবেছিলাম বেচে গেছি কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।গুলির আওয়াজ পেয়ে আরো ১০-১২টা দানবকে দূরে দেখা যাচ্ছে। বন্দুকে মাএ ৫টা গুলিই আছে নতুন করে গুলি লোড করতে গেলে মারা পড়ব।তাই তিনজনে একসাথে দৌড় দিলাম।
কিরে রাব্বি এখন কি জন্য দৌউড়াছ(আমি)
ফাইজলামি করবি না। চুপচাপ দৌড়া(রাব্বি)
প্রায় দশ মিনিট ধরে দৌড়াছি। পিছনে তাকিয়ে দেখি দানবগুলো নেই।যাক বাচা গেল।
দোস্ত সামনে দেখ(রাব্বি ও আবির এক সাথে)
সামনে তাকিয়ে দেখি একটা দানব। ডানে বামে ও পিছনে আরোও দানব আসল।মোট দশটা দানব আমাদের ঘিরে ফেলেছে।চোখের পলকে কি ঘটল কিছুই বুলাতে পারছি না।
এবার আমাদের মৃত্যু নিশ্চিত (আবির)
বাচার কি কোনো পথ নেই (রাব্বি)
চিন্তা করবি না দানবগুলো আমাদের মারবে না। (আমি)
তুই কিভাবে এত সিউর(আবির)
মারতে হলে এতক্ষণে মারতে পারত।মনে আছে শয়তানটা বলেছিল তার নাকি আমার প্রয়োজন।অতএব মারবে না, জীবিত রাখবে।হয়তবা তাবিজটা নিয়ে নিবে(আমি)
হুম ছিক বলেছিস(রাব্বি)
দানবগুলো আমাদের চারদিকে ঘুরে আমাদের দেখতে লাগল বিশেষ করে আমাকে।মনে হচ্ছে যেন তারা আমাকে চিনে।কিছুক্ষণ পর তারা একে অপরের সাথে কথা বলতে লাগল।
তাদের মধ্য থেকে একজন আমার দিকে এগিয়ে আসল।মনে হয় ওদের রাজা হবে।রাত তখন ১০:৩০মিনিট।জঙ্গলে গাছ পালা থাকায় হালকা দেখা যাচ্ছে।
দানবের রাজাটা আমার সামনে আসল।ওদের ভাষা অন্য দানবদের কিছু বলল।কিছুক্ষণ পরে দেখি আগুন জ্বালালো একটা দানব।
এরাকি দানব না মানুষ। আগুনও জ্বালাইতে পারে (আবির)
চুপ কর.(আমি)
তারপর আমাদের নিয়ে যেতে লাগল। আলো সব দানব গুলোর হাতে থাকায় চারিদিন আলোকিত।কিছুক্ষণ পর দেখি একটা খোলা মাঠ আর কয়েকটা গুহা।চারিদিকে আগুন জ্বালানো। পুরো একটা দানবের গ্রামে নিয়ে আসল। একটা গুহার ভিতরে আমাদের রেখে গেল।বাহিরে চারটা দানব পাহারা দিচ্ছে।।আমরা হয়তো বা তাদের আজ রাতের খাবার হবো।
কিছুক্ষণ পর আমাদের দানব রা নিতে এলো।নিয়ে গেল রাজার গুহায়।গুহাটা বেশ বড়।চারদিকে সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে আছে দানবেরা তবে মাথা নিচু করে।কেন বুঝালাম না।
রাজার সামনে নানা রকমের ফল রাখা।আশ্চার্য রাজার পাশে বসাল আমাকে আর পাশে আবির, রাব্বি কে।কিছুক্ষণ পর রাজা খাটি শুদ্ধ বাংলা ভাষায় বলতে শুরু করল আমিতো পুরাই অবাক।
প্রিন্স আপনার কি খাবার গুলো পছন্দ হয় নি(দানব রাজা)
কি প্রিন্স(আমি)
হ্যা আপনি আমাদের মহান রক্তকেরর প্রতিবিম্ব তাই আপনাকে প্রিন্স বলছি।আপনি আমাদের কাছে দেবতার মতো।(রাজা)
দয়া করে একটু বুঝিয়ে কেন সবাই আমাকে কারো প্রতিবিম্ব বলছে(আমি)
প্রায় ১০০বছরের আগের ঘটনা তখন বাবা রাজা ছিলেন।আপনার মতো দেখতে একজন মহান ব্যক্তি ছিলেন। আগে প্রতিবিম্ব পুরে রক্তচোষা প্রাণিরা থাকত। তারা প্রতিদিন শহর থেকে মানুষ ধরে নিয়ে আসত।তাদের রক্ত পান করত।এছাড়া শয়তানের জন্য বলি দিত।শয়তানের পূজা করত।একদিন এক লোক আসে এই গ্রামে তিনি ছিলে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারি।তিনি একে একে সব রক্ত চোষা প্রাণিদের মেরে ফেলেন।রয়ে যায় রাজা।তিনি ছিলেন শয়তানে খুব প্রিয়।যখন তাকে মারার জ্ন্য যায় তখনা রাজা নিজের রক্ত দিয়ে শয়তানকে খুশি করে। রাজা সেখানেই মারা যায়।
।প্রায় দুই হাজার লোকে জ্বীবিত পাওয়া যায় তারা আপনার মতো দেখা মানুষটাকে অনেক শ্রদ্ধা করত।মানুষ গ্রামে সুখে জীবন কাটাতে লাগল।আমার বাবাকে রাজা করা হয়।আমারর তখন মাত্র জন্ম হয়।(রাজা)
তারমানে আপনারা সবাই মানুষ ছিলেন এক সময়(আমি)
হুম।কিছুদিন পর রক্ত বিহিন দেহ পাওয়া যায়।প্রতিদিন একজন করে মারা যায়।চার্লস আপনার মতো দেখা লোকটার নাম,, তিনি সমস্যার উৎস খুজতে থাকেন।তিনি জানতে পারেন যে রক্ত চোষক রাজাই আত্মা হয়ে ফিরে এসেছে। তিনি আমাদের বলেন যদি শয়তানে মূূর্তি আমার রাজার দেহটাকে ধ্বংস করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।(রাজা)
তারপর কি রক্তচোষা রাজাকে মারেন তিনি??(আমি)
না...তিনি একটা ভুল করেন। (রাজা(
কি করেন(আমি)
তিনি..আমাদের অনেক বিশ্বাস করতে কিন্তু গ্রামের কিছু লোক শয়তানটাকে সাহায্য করে আর চার্লসকে মেরে ফেলে। কিভাবে মারে তা আমার জানা নেই কিন্তু মৃত্যুপূর্বে তিনি ভবিষ্যৎবানি করেন যে তার মতো দেখতে একজন লোক যতদিন পর্যন্ত না গ্রামকে মুক্ত করতে পারবে ততদিন তার অাত্মা শান্তি পাবে না(রাজা)
কিন্তু আপনারা দানব কিভাবে হলেন আর আমাদের কেন শুরুতে মারতে চেয়েছিলেন।আর শয়তানটাকে কিভাবে মারব(আমি)
আপনাকে তার জন্য......
চলবে...