বিয়ের পূর্বে কনে দেখার ইসলামী বিধান:
আমাদের সমাজের একটা বড় সমস্যা হলো, আমরা যে কোন জায়েজ মুস্তাহাব কাজকে নিজস্ব একটা রুপ দান করি। এটাকে সাহাবা বা রাসূলের সুন্নাহ মোতাবেক নয়, বরং নিজেদের মত ও পথ অনুযায়ী চলতেই যেন আমাদের প্রবল আগ্রহ। এই প্রবণতার খেসারত স্বরুপ অনেক হালাল ও মুস্তাহাব কাজকেও বেদাত বা অপসংস্কৃতি বানিয়ে ছেড়েছি। মৃতের বাড়ির আয়োজন থেকে নিয়ে ঈদ, শবে বারাত সবকিছুতেই আমাদের বাড়তি সংযোজন। বাদ যায় নি, বিয়েও।
বিয়ের কনে দেখার ক্ষেত্রে আমরা দু ধরনের সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত। ১- পশ্চিমা সংস্কৃতি ও ২- হিন্দু প্রথা।
পশ্চিমা ধারাটা গড়ে উঠেছে খুব বেশিদিন হয় নি। পাত্র পাত্রীর হোটেলে, রেস্টুরেন্ট সাক্ষাৎ, আড্ডা, একান্তে মিলিত হওয়া। ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি নানা কায়দায় পাত্র পাত্রী একে অন্যকে নিরীক্ষা করে। ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগেও কোন কোন গোত্রে এই 'টেস্টিং প্রোসেস' বিদ্যমান ছিল।* ওয়েস্টার্ন কালচারে এটা পারিবারিক বিয়ের ভদ্রোচিত নমুনা। আর লাভ ম্যারেজ? জঘন্য সব পাপে লিপ্ত হওয়ার পর সেটাকে জায়েজ করার জন্যে একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন!
দ্বিতীয় এই ধারাটির চল সবচেয়ে বেশি ননপ্রাক্টিসিং মুসলিমদের মাঝে তো বটেই প্রাক্টিসিং মুসলিমদের মাঝেও এটা দেখা যায়। তা হলো, ঘটা করে ছেলে, ছেলের বন্ধু, ভাই, বাবা- মা সবাইকে নিয়ে কনের বাড়িতে গিয়ে হাজির হওয়া। এটা সম্ভবত হিন্দু সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত প্রথা। এর কারণে শরীয়তের বিধান লংঘনের পাশাপাশি বেশ কিছু সামাজিক সমস্যাও অটোমেটিক তৈরি হয়। যেমন:
১- মেয়ের পরিবারের বাহুল্য অর্থ খরচ করে আয়োজন।
২- ছেলের পরিবারের ইজ্জত রক্ষার্থে ব্যপক উপহার প্রদান।
৩- মেয়েকে মানসিক অস্বস্তি ও চাপের সম্মুখীন করা।
৪- সবচেয়ে বিশ্রী ও ভয়ানক ব্যাপার ঘটে, যখন বিয়েটা হয় না। সামাজিকভাবে হেনস্তা ও গ্লানির শিকার হতে মেয়ে ও মেয়ের পরিবারকে। এই সামগ্রিক 'আযাব' আমাদের নিজেদের তৈরি করা 'কুপ্রথা' থেকেই।
রাসুলের যুগে:
কেমন ছিল "তাদের" কনে দর্শন?
সাহাবাদের আমল আর রাসূল সা. এর বাণী বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সাহাবাদের দর্শন ছিল নিতান্তই সাদামাটা। সেটার স্থায়িত্ব ছিল খুব সামান্য সময়ের জন্যে। অনেক মুহাদ্দিস বলেছেন, ক্ষণিকের দৃষ্টি বা আচমকা দৃষ্টিপাত। দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা বা আয়োজন করে আলাপচারিতার নজীর নেই। কখনো এমন হয়েছে, "আমি আপনার ব্যাপারে জেনেছি। আপনাকে বিয়ে করতে আগ্রহী! এর উত্তর "আমার ইদ্দতের দুমাস বাকী আছে। এরপর".. ব্যস! এই প্রয়োজনীয় কথাই শেষ!
বিয়ের জন্যে যে মেয়ে দেখা যায়, এটাতেও অনেক সাহাবিরা অবাক হয়েছেন। যেমন দেখুন,
মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে এক মহিলাকে বিবাহ করার ব্যাপারে তাঁর সাথে আলাপ করলাম। তিনি বলেনঃ তুমি যাও এবং তাকে দেখে নাও। হয়তো তাতে তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালোবাসার সৃষ্টি হবে। অতএব আমি এক আনসার মহিলার নিকটে এসে তার পিতা-মাতার নিকট তাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিলাম এবং সাথে সাথে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীসও তাদের অবহিত করলাম। কিন্তু মনে হলো তার পিতা-মাতা এটা অপছন্দ করলো। রাবী বলেন, মেয়েটি পর্দার আড়াল থেকে উক্ত হাদীস শুনে বললো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে পাত্রী দেখার আদেশ দিয়ে থাকলে আপনি দেখে নিন। অন্যথায় আমি আপনাকে শপথ দিচ্ছি (যেন না দেখেন)। কনে যেন ব্যাপারটিকে অভিনব মনে করলো। রাবী বলেন, আমি তাকে দেখে নিলাম এবং তাকে বিবাহ করলাম। পরে মুগীরাহ (রাঃ) তাদের উভয়ের মাঝে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।তিরমিযী ১০৮৭, নাসায়ী ৩২৩৫, দারেমী ২১৭২, ইবনে মাজা ১৮৬৬ সহিহ
পাত্র/পাত্রীর ব্যাপারে খোজ নেয়া:
বিয়ের পূর্বেই পাত্র-পাত্রী দেখে সকল দিক গভীরভাবে তলিয়ে দেখা জরুরী, যেন পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত কোন সমস্যা দাম্পত্য জীবনকে দুর্বিষহ না করে তোলে। এ জন্য ইসলাম এর প্রতি যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়েছে।
সাহাবী আবু হুরায়রা রা. এর বর্ণনায় এসেছে, এক ব্যক্তি মহানবীর সা. নিকট এসে বলল, আমি একজন আনসারী রমণীকে বিয়ে করতে চাচ্ছি। এ কথা শুনে মহানবী সা. বললেন, মেয়েটিকে দেখে নাও। কেননা আনসারীদের কারো চোখে আবার সমস্যা থাকে। (মুসলিম:১424)
পাত্র বা পাত্রীর ব্যাপারে আগেই সব জেনে নিবে। বিয়ের ক্ষেত্রে কারো দোষ বা ত্রুটি থাকলে সেটা উল্লেখ করলে গীবত হবে না।
কনে দেখার শরয়ী বিধান:
কনে দেখাকে মুস্তাহাব বলা হয়েছে। কেউ কেউ অবশ্য সুন্নাতও বলেছেন। ইসলাম কনে দেখাকে জায়েজ করেছে, উৎসাহিতও করেছে। উম্মাহর সিংহভাগ আলেমের মতও তাই। বিয়ের পূর্বে কনেকে এক নজর দেখে নেয়া। এটা কখন? যখন বিয়ের ইচ্ছা প্রবল হয়। অনেকে বলেছেন, এটা তখন যখন বিয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছে। অর্থাৎ পাক্কা এরাদা ও স্থির সিদ্ধান্তের পরেই কনে দেখার সুযোগ।
এক হাদীসে সাহাবী হযরত জাবির রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় তখন সে যেন তার এমন কিছু দেখে, যা তাকে তার সাথে বিয়েতে উৎসাহিত করে’ (আবু দাউদ : ২০৮২, মুসনাদে আহমদ - ১৪৫৮৬- হাসান)
অন্য বর্ণনায় হযরত মুগিরা বিন শো’বা রা. বলেন, আমি জনৈক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। এটা শুনে রাসূলূল্লাহ্ সা. আমাকে জিজ্ঞাস করলেন, তুমি কি তাকে দেখেছ? আমি বললাম, না দেখিনি। তখন তিনি নির্দেশ দিলেন যে, তুমি তাকে দেখে নাও। তোমার এই দর্শন তোমাদের মাঝে দাম্পত্য জীবনের প্রণয় ভালোবাসা গভীর হবার বড় সহায়ক হবে। (তিরমিযী: ১০৮৭- সহীহ)
উপরোক্ত হাদীসগুলোর ভাষ্য এক ও অভিন্ন। তা হচ্ছে বিয়ের পূর্বে বর কনেকে দেখে নেয়া। তো মেয়ে দেখার শরীআত সম্মত নিয়ম হলো দীনদারীকে প্রাধান্য দিয়ে আনুসাঙ্গিক সকল বিষয় প্রথমে দেখে নিবে। অন্যথায় তার সোনার সংসারে সুখের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।
নবী সা: বলেন, যার দ্বীন ও চরিত্র তোমাদের মুগ্ধ করে, তার সাথে (তোমাদের ছেলেদের কিংবা মেয়েদের) বিয়ে দাও। যদি তা না করো তবে পৃথিবীতে ফিতনা, ফ্যাসাদ ও বিপর্যয় নেমে আসা অবশ্যম্ভাবী।’( তিরমিজি ১০৮৪- হাসান)
যেভাবে পাত্রী দেখবে:
গোপনে দেখা মানে এই না যে তার সাথে নির্জনে মিলিত হওয়া। বরং অভিভাবকের উপস্থিতিতে অথবা মেয়ের মাহরাম ভাই বা বৃদ্ধা দাদী নানীর উপস্থিতিতে মেয়েকে দেখে নিবে। এটা খুব বেশি প্রলম্বিত করার প্রয়োজন নেই। কেউ হয়ত ভ্রুকুচকাতে পারেন, মাত্র কয়েক মিনিটে মেয়ের অবস্থা জানা সম্ভব? এভাবে বিয়ে হয়?
কয়েক মিনিট কেন? দীর্ঘ প্রেম করে একে অন্যকে গভীরভাবে চেনার পর যখন বিয়ে করে, তখনও অনেকে অভিযোগ করেন "বিয়ের আগে তোমাকে চিনতে পারিনি"... আসলে অফিসিয়াল এই দেখায় কাউকে চিনে ফেলা সম্ভব না। যেটা সম্ভব না সেটার অজুহাতে প্রলম্বিত করারও প্রয়োজন নেই। শরীয়ত দেখার অনুমতি দিয়েছে ঘাটাঘাটি করার জন্যে না। বরং হাদিস থেকে প্রতিভাত হয়, কনের প্রতি আগ্রহী হওয়ার জন্যে। আর সেটা সম্ভবত কয়েক মুহুর্তের স্থায়ীত্বের মাধ্যমেই সুদৃঢ় হয়। বেশি খুঁটিয়ে দেখতে গেলে নেগেটিভ মাইন্ড কাজ করে। এতে মূল উদ্দেশ্য 'কনের প্রতি আগ্রহী' হওয়ার উল্টোটা হয়। কনের ভালোমন্দ জানার জন্যে খোজ নেয়া যায়। তাছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে "এস্তেখারা'' তো করে নিতে হবেই।
ঘটা করে কনে দেখা:
আমাদের দেশে ঘটা করে কনে দেখতে গিয়ে, বরের পাশাপাশি বাবা- বন্ধুরাও কনে দেখে।
বর ছাড়া অন্য কোন পুরুষের কনে দেখা শরীআতে নিষিদ্ধ। চাই সে বরের পিতা বা অন্য কোন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হোক না কেন। তাদের কেউ বরের পক্ষ হয়ে কনে দেখলে কবীরা গুনাহ হবে। সুতরাং আমাদের দেশে বাবা, ভাই, বন্ধু-বান্ধব মিলে ঘটা করে মেয়ে দেখার যে প্রচলন চালু আছে তা শরীআতের দৃষ্টিতে নাজায়িজ ও হারাম। পুরুষ সদস্য বাদ দিয়ে শুধু নারী সদস্য নিয়েও ঘটা করে মেয়ে দেখা শরীআত সম্মত নয়। কেননা এভাবে ঘটা করে কনে দেখার পর যদি কোন কারণবশতঃ বিয়ে না হয়, তাহলে এটা ঐ মেয়ে পক্ষের জন্য রীতিমত বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তী সময়ে অন্যরা মেয়ের ব্যাপারে নানা রকম সন্দেহের মধ্যে পড়ে। ফলে এই মেয়ে বিয়ে দেয়া কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। আর কোন মানুষকে এভাবে বিপদে ফেলা ইসলাম সম্পূর্ণ নিষেধ করেছে।
[মুসলিম:১/৪৫৬; আবু দাউদ:১/২৮৪; তিরমিযী:১/২০৭;ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৩/২১২]
কনের কতটুকু দেখা জায়েজ?
১- কনে দেখার ক্ষেত্রে কেবল মাত্র কনের হাত ও মুখই দেখা যেতে পারে। অবশ্য কাপড়ের উপর দিয়ে যদি শরীরের সামগ্রিক অবয়ব দেখে নেয়া হয়, তাহলে কোন অসুবিধা নেই। কেবল মাত্র বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই কনে দেখতে পারবে এছাড়া নয়। বিয়ে করার উদ্দেশ্যে কনে দেখার সময় যদি কামোত্তেজনার সৃষ্টি হয়, তাতেও কোন আপত্তি নেই। কেননা এটাতো শরীআত অনুমোদিত একটি প্রয়োজন।
২- ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতে ,হাত ও চেহারার বাইরে পা ও দেখা বৈধ।
( আল জাওহারাতুন নায়্যিরাহ ৬/১৬৩ আল মাবসুত লিসারাখসী ১২/৩৭১)
৩- আর যদি মেয়েরা কনে দেখে, তাহলে প্রয়োজনে শরীআতের সাধারণ রীতি অনুযায়ী সতরের অংশটুকু বাদ দিয়ে অবশিষ্ট পূর্ণ শরীর দেখতে পারবে।
এমনকি কোন অঙ্গ সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দিলে নির্ভরযোগ্য কোন নারীর মাধ্যমে তা যাচাই করে নিতে পারবে। তবে সেটা যেন ভদ্রতার মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়।
৪- যদি পাত্র পাত্রীকে একবার দেখেই পরিতৃপ্ত হয়ে যায়, তবে তার জন্য একবারের অতিরিক্ত দেখা হারাম। কারণ এই দেখা হালাল করা হয়েছে অনিবার্য প্রয়োজনে। সুতরাং এখানে অনিবার্য প্রয়োজন বিবেচ্য!
[হিদায়া:৪/৪৪৩;আল মুগনী:৭/৭৪;] (রাদ্দুল মুহতার : ৬/৩৭০ ৫/২৩৭)।
পাত্রী কি সাজগোজ করতে পারবে?
হ্যা, পাত্রী পাত্রের সামনে যাওয়ার আগে সাধারণ সাজগোজ করতে পারবে। কিন্তু সেটা এই পর্যায়ে নয়, যেটা একধরনের ধোকা হয়ে যায়। যেমন, অতিরিক্ত মেকাপ এর ফলে তার বাস্তব আকৃতিই বদলে যায়। ফলে পাত্র সাময়িক ধোকায় পরে রাজী হয়ে যায় বটে, কিন্তু পরবর্তীতে সংসারে অশান্তি হয়। হয়ত এ বাড়াবাড়ি পর্যায়ের মেকাপ না করলেও এখানেই বিয়ে হত কিন্তু এটার কারণে সম্পর্কে মাধুর্যতা থাকে না। যে হাদিসে রাসূল সা. পাত্রকে পরামর্শ দিয়েছেন পাত্রী দেখতে সেখানে এটাও বলেছেন, "দেখে নেয়ার দ্বারা সুসম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক হয়"! সুতরাং এর উলটা যেন না হয়, এ ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে। অর্থাৎ দেখে বিয়ে করে পরে ধোকা খেল এতে সুসম্পর্ক তো দূরের কথা, সাধারণ সম্পর্কও আর থাকে না। তবে স্বাভাবিক পর্যায়ের সাজগোজ ও নিজেকে আকর্ষিত ও মোহনীয় করতে পারবে।
মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে 'সুবাইয়া'হ বিনতে আবি বারযাহ' রা. এর স্বামী এন্তেকালের পর দ্বিতীয় বিয়ের সময়, যখন আবু সানাবেল রা. তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ঐ সময়ে তিনি খেজাব লাগিয়েছিলেন ও সুরমা দিয়েছিলেন।
(আহমদ- ২৭৪৩৮- সহীহ)
এর থেকে বোঝা যায়, সাধারণ সাজগোজ করা যাবে কিন্তু বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যেন না হয় কারণ তাতে ধোকা খাওয়ার আশংকা আছে।
আল্লাহ যেন আমাদেরকে সামাজিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন এবং ইসলামের রীতি অনুযায়ী সার্বিক কার্য পরিচালনা করার তৌফিক দান করেন। আমিন।
তথ্যসূত্র :
- ফাতহুল বারী- ৯/২১০
- ফাতহুল মুলহিম ৬/৩৯২
- শারহু সাহিহীল বুখারী লি ইবনে বাত্তাল ৭/২৩৭
- আলমিনহাজ ৯/২১০
- আশশারহুল কাবীর লি আবুল ফারজ ২/৩৪১
- এলাউস সুনান ১৭/৩৮২
- বাহরুর রায়েক ৩/৮৭
- হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা ২/১৯২
- আহকামুল আওরাহ ফি ফিকহিল ইসলামী ১/৩২৯
- আহকামুন নাযর লি ইবনিল কাত্তান ৬৭-৬৮
- শারহুস সুন্নাহ - ৯/১৭
- আন নিহায়াহ ফি গারিবীল হাদিস- ১/৬২
- হাশিয়াতুস দাসুকী - ৭/৩৩১
Talimul Quran Academy -TQA
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Talimul Quran Academy -TQA, Public School, House/55, Road/10, Sector-13, Uttara, Dhaka.
06/06/2023
ছবি কথা বলে,কত বছর আগের ছবি! এখন আমার বাবারা মা শা আল্লাহ কত বড় হয়েছে! সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে ওদের নেক হায়াত ও কল্যাণের জন্য দোয়ার আবেদন রইল।
প্রশ্ন: বিতিরের নামায কি এক রাকাত পড়া যাবে ? বিতিরের তৃতীয় রাকাতে আমরা দোআ কুনুতের পূর্বে যে তাকবীর বলে হাত উত্তোলন করে পুনরায় হাত বাঁধি এটার দলিল কি?
উত্তর : শরীয়তে এমন কোনো নামায নেই, যা শুধু এক রাকাত পড়া যায় । কিংবা দুরাকাতের মাঝে তাশাহহুদ ছাড়া দু’রাকাতের অধিক আদায় করা যায়; বরং শরীয়তে সকল নামাযের মূলকথা এই যে, প্রতি দুই রাকাতে বৈঠক হবে এবং তাশাহহুদ পড়া হবে।
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে সহীহ মুসলিম (১/১৯৪, হাদীস ৪৯৮)-এ একটি দীর্ঘ হাদীসে রাসূলুল্লাহﷺ-এর এক ব্যাপক বাণী উদ্ধৃত রয়েছে। তাতে তিনি ইরশাদ করেন- فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ التَّحِيَّةَ ‘প্রতি দুই রাকাতে তাশাহহুদ রয়েছে।’ একই হুকুম একাধিক সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত রয়েছে। যেমন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. বলেন, لَيْسَ مِنْ صَلَاةٍ إلَّا وَفِيهَا قِرَاءَةٌ وَجُلُوسٌ فِي الرَّكْعَتَيْنِ সকল নামাযে কিরাত আছে। আর আছে দু’ রাকাতে বসা। (মুসান্নাফ, ইবনে আবী শায়বা ৮৫৭৭)
শরীয়তের এ মৌলিক শিক্ষা পরিহার করে কোন রেওয়ায়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে যদি কোনো ব্যক্তি একথা বলে যে, বিতির নামায এক রাকাত কিংবা তিন রাকাত বিতির পড়লে শুধু এক বৈঠকেই পড়তে হবে- তাহলে এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এমন ব্যক্তি সালাফের অনুসারী আলেম হতে পারে না। বরং তার এজাতীয় বক্তব্য দীনের মধ্যে নব আবিষ্কৃত বেদআত বৈ কিছু নয়।
মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, বিতির এক রাকাত নয়; তিন রাকাত। যেসব বর্ণনায় তিন রাকাতের অধিক, যথা পাঁচ, সাত বা নয় রাকাত পড়ার কথা বলা হয়েছে সেখানেও মূল বিতর তিন রাকাত। বর্ণনাকারী পূর্বের বা পরের রাকাতসমূহ মিলিয়ে সমষ্টিকে ‘বিতির’ বলে বর্ণনা করেছেন। নিম্নে কিছু প্রমাণ পেশ করা হল-
১. আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযি. কে জিজ্ঞাসা করেন, রমযানুল মুবারকে নবী ﷺ -এর নামায কীরূপ হত? উম্মুল মুমিনীন বলেন,
مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا
নবী ﷺ রমযানে ও রমযানের বাইরে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন-এত সুন্দর ও দীর্ঘ সে নামায, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অতঃপর চার রাকাত পড়তেন-এরও দীর্ঘতা ও সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে চেয়ো না। এরপর তিন রাকাত পড়তেন। (বুখারী ১১৪৭ মুসলিম ৭৩৮ নাসায়ী ১৬০৭ আবু দাউদ ১৩৪১ তিরমিযী ৪৩৯ মুসনাদে আহমদ ৬/৩৬, ৩৯, ৭৩, ১০৪)
২. আয়েশা রাযি. বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لَا يُسَلِّمُ فِي رَكْعَتَيْ الْوِتْرِ
নবী ﷺ বিতরের দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না। ( নাসায়ী ১৬৯৮; মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৫১ (বাবুস সালাম ফিল বিতর) মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬৯১২ সুনানে দারাকুতনী ১৫৬৫ সুনানে কুবরা বাইহাকী ৩/৩১)
এই হাদীসটি ইমাম হাকেম আবু আব্দুল্লাহ রহ.ও ‘মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন। তার আরবী পাঠ এই-
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَا يُسَلِّمُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ مِنْ الْوِتْرِ
অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ ﷺ বিতরের প্রথম দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না।
ইমাম হাকেম রহ. তা বর্ণনা করার পর বলেন- هذا حديث صحيح على شرط الشيخين অর্থাৎ হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক সহীহ। ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী রহ. ‘তালখীসুল মুস্তাদরাক’-এ হাকেম রহ.-এর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। (মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন ১/৩০৪, হাদীস ১১৮০)
৩. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী কাইস বলেন, আমি হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবীজী ﷺ বিতরে কত রাকাত পড়তেন? উত্তরে তিনি বলেন,
كَانَ يُوتِرُ بِأَرْبَعٍ وَثَلَاثٍ وَسِتٍّ وَثَلَاثٍ وَثَمَانٍ وَثَلَاثٍ وَعَشْرَةٍ وَثَلَاثٍ وَلَمْ يَكُنْ يُوتِرُ بِأَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَلَا أَنْقَصَ مِنْ سَبْعٍ
অর্থাৎ চার এবং তিন, ছয় এবং তিন, আট এবং তিন, দশ এবং তিন। তিনি বিতরে তের রাকাতের অধিক এবং সাত রাকাতের কম পড়তেন না। ( আবু দাউদ ১১৯০ তহাবী ১০৬৬ মুসনাদে আহমদ ২৬৬১০ আসসুনানুল কাবীর লিল বাইহাকী ৪৪৭১ মুসনাদে ইসহাক ইবন রাহয়াইহ ১৪৮৫)
লক্ষণীয় বিষয় হল, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাহাজ্জুদ নামায কখনো চার রাকাত, কখনো ছয় রাকাত, কখনো আট রাকাত, কখনো দশ রাকাত পড়তেন; কিন্তু মূল বিতর সর্বদা তিন রাকাতই হত।
তিন. দোয়ায়ে কুনূত রুকুর আগে,না পরে? এ বিষয়ে মতভেদ আছে। হানাফী মাযহবের আলিমগণ বলেন, রুকুর আগে পড়া হবে। এর দলিল হল, সহীহ বুখারী (১/১৩৬) ‘বাবুল কুনূত কাবলার রুকু ওয়া বা’দাহ’ শীর্ষক পরিচ্ছেদে আছে, আসিম আহওয়াল বলেন,
سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، عَنِ الْقُنُوتِ؟ فَقَالَ: قَدْ كَانَ الْقُنُوتُ، قُلْتُ: قَبْلَ الرُّكُوعِ أَوْ بَعْدَهُ؟ قَالَ: قَبْلَهُ، قُلْتُ: فَإِنَّ فُلَانًا أَخْبَرَنِي عَنْكَ، أَنَّكَ قُلْتَ: بَعْدَ الرُّكُوعِ، فَقَالَ: كَذَبَ، إِنَّمَا قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ – ﷺ– بَعْدَ الرُّكُوعِ شَهْرًا،.
আমি আনাস ইবনে মালিক রাযি.কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, কুনূত আছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, রুকুর আগে, না পরে? তিনি বললেন, রুকুর আগে। আমি বললাম, জনৈক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন যে, আপনি রুকুর পরে কুনূত পড়ার কথা বলেছেন? তিনি বললেন, সে ভুল বলেছে। রুকুর পরে তো নবী ﷺ শুধু এক মাস কুনূত পড়েছেন।
এছাড়াও আরো দলিল আছে। তবে রুকুর পরে কুনূতের কথাও হদীসে আছে। হানাফী আলিমগণ উভয় বর্ণনার মাঝে সমন্বয় এভাবে করেন যে, কুনূতে নাযেলা রুকুর পরে ও বিশেষ বিশেষ অবস্থায় পড়া হবে। আর বিতিরের কুনূত রুকুর আগে ও সব সময় পড়া হবে। কেননা, আনাস রাযি. থেকেই অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ মৃত্যু পর্যন্ত কুনূত পড়েছেন। (বাযযার-মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৩৯) এই বর্ণনায় বিতরের কুনূতই উদ্দেশ্য। কারণ ফজরের কুনূত সর্বদা পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না।
চার. যারা উপরোক্ত হাদীসসমূহের ভিত্তিতে রুকুর আগে কুনূত পড়ার কথা বলেন তাদের নিকট কিরাত ও কুনূতের মাঝে তাকবীর দেওয়া সুন্নত। এই তাকবীরের সাথে রাফয়ে ইয়াদাইন (হাত উত্তোলন) আছে। এজন্য ইমাম তহাবী রহ. বলেন, وقد أجمع الذين يقنتون قبل الركوع على الرفع معها ‘যারা রুকুর পূর্বে কুনূত পড়ার কথা বলেন তাদের ইজমা রয়েছে যে, এই তাকবীরের সাথে রাফয়ে ইয়াদাইনও করতে হবে।’ (তহাবী ১/৩৩২) এ প্রসঙ্গে সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে কিছু দলিল উল্লেখ করা হল। কেননা, সাহাবায়ে কেরামের আমল নিশ্চয় নবী ﷺ-এর সুস্পষ্ট শিক্ষা থেকেই গৃহীত আমল।
১. আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, মাসরূক রহ., আসওয়াদ রহ. ও ইবনে মাসউদ রাযি.-এর অন্য শাগরিদগণ বলেছেন,
وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ لا يَقْنُتُ إلا فِي الْوِتْرِوَكَانَ يَقْنُتُ قَبْلَ الرُّكُوعِ يُكَبِّرُ إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَتِهِ حِينَ يَقْنُتُ
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. শুধু বিতর নামাযে কুনূত পড়তেন আর তিনি কুনূত পড়তেন রুকুর আগে এবং কিরাআত সমাপ্ত হওয়ার পর কুনূত পড়ার সময় তাকবীর দিতেন। (শরহু মুশকিলিল আছার ১১/৩৭৪ মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৩০৭)
২. ইমাম বুখারী রহ. জুয্উ রাফয়িল ইয়াদাইন (পৃ. ৬৮)-এ উল্লেখ করেছেন, عن أبي عثمان كان عمر رضي الله عنه يرفع يديه في القنوت আবু উছমান বলেন, ‘উমর রাযি. কুনূতে রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন।’
৩. ইমাম বাইহাকী রহ. উল্লেখ করেছেন, إن عدداً من الصحابة – رضي الله عنهم – رفعوا أيديهم في القنوت ‘নিশ্চয় সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই কুনূতে রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন।’ (আস সুনানুল কুবরা ২/২১১)
পাঁচ. রাফয়ে ইয়াদাইন (হাত উত্তোলন) পর হাত কী করবে? এর তিনটি পদ্ধতি হতে পারে- ১. দোয়ার মতো হাত উঠিয়ে রাখবে ২. রাফয়ে ইয়াদাইন (হাত উত্তোলন) করার পর কওমার মত হাত ছেড়ে দিবে ৩. রাফয়ে ইয়াদাইনের পর কিয়ামের মত দুই হাত বেঁধে নিবে।
প্রথম পদ্ধতিটি হানাফী ইমামগণের নিকট পসন্দনীয় নয়। কেননা, যদিও হাত তুলে দোয়া করাই দোয়ার সাধারণ নিয়ম কিন্তু নামাযের যত জায়গায় দোয়া আছে কোথাও হাত ওঠানোর নিয়ম নেই। সুতরাং দোয়ায়ে কুনুতের সময়ও এর ব্যতিক্রম হবে না। এজন্যই ইবনে উমর রাযি. এই পদ্ধতিকে বিদআত বলেছেন। তিনি বলেন,
أرأيتم قيامكم عند فراغ الإمام من السورة هذا القنوت والله إنه لبدعة ما فعله رسول الله ﷺ غير شهر ثم تركه أرأيتم رفعكم في الصلاة والله إنه لبدعة ما زاد رسول الله ﷺهذا قط فرفع يديه حيال منكبيه، رواه الطبراني في الكبير وفيه شهر بن حوشب ضعفه أحمد وابن معين وأبو زرعة وأبو حاتم والناسئي ووثقه أيوب وابن عدي
দেখ,তোমরা যে ফজরের নামাযেও ইমামের কিরাত শেষে কুনূতের জন্য দাঁড়াও,আল্লাহর কসম,এটা বিদআত। নবী ﷺ তা শুধু এক মাস করেছেন। দেখ, তোমরা যে নামাযে হাত তুলে কুনূত পড়, আল্লাহর কসম, এটিও বিদআত। নবী ﷺ তো শুধু কাঁধ পর্যন্ত হাত তুলতেন। (আলমু’জামুল কাবীর তবারানী; মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৩৭)
উপরোক্ত রেওয়ায়েতের সরল অর্থ এটাই যে, নবী ﷺ কুনূতের জন্য যদিও রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন কিন্তু দোয়ার মতো হাত উঠিয়ে কুনূত পড়তেন না।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় পদ্ধতি সম্পর্কে কথা এই যে, কুনূত যদি রুকুর আগে পড়া হয়, যেমন বিতরের কুনূত, তো রুকুর আগের হালত যেহেতু কিয়ামের হালত, আর কিয়ামের হালতে হাত বাঁধা সুন্নত তাই এ সময় হাত বাঁধা থাকবে। পক্ষান্তরে কুনূতে নাযিলা যেহেতু রুকুর পর কওমার হালতে পড়া হয় আর কওমার হালতে হাত বাঁধা সুন্নত নয় এজন্য এ কুনূত হাত ছেড়ে পড়া হয়।
বিতির নামাজকে মাগরিবের সাথে মিলিয়ে ফেলনা –এমন কোন হাদীস আছে কি?
১. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,وِتْرُ اللَّيْلِ ثَلاَثٌ كَوِتْرِ النَّهَارِ صَلاَةِ الْمَغْرِبِ দিনের বিতির মাগরিব এর মত রাতের বিত্রও তিন রাকাত। (দারাকুতনী ১৬৭২)
২. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. বলেন,রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,صلاة المغرب وتر النهار فأوتروا صلاة الليل দিনের বিতির হল মাগরিবের নামায। তোমরা রাতের নামাযকেও অনুরূপ বিতির করে পড়। (মুসনাদে আহমদ ৪৮৪৭ এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য: শুয়াইব আরনাউত। ইবনে আবী শাইবা ৬৭৭৩, ৬৭৭৮ আব্দুর রাযযাক ৪৬৭৫ তাবারানী: সগীর ও আওসাত। হাফেজ ইরাকী রহ. বলেন, এর সনদ সহীহ, আত্তা‘লীকুল মুমাজ্জাদ পৃ.১৪৭ শরহুয্ যুরকানী আলাল মুয়াত্তা)
৩.আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, الوتر كصلاة المغرب বিতির নামায মাগরিবেরই অনুরূপ। (মুয়াত্তা মুহাম্মদ পৃ.১৫০ কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মদীনাহ ১/১৩৬)
হ্যাঁ, কিছু বর্ণনা এমন আছে যে, যেখানে বিতিরকে মাগরিবের নামাযের মত পড়তে নিষেধ করা হয়েছে । কিন্তু এর উদ্দেশ্য কি, এ বিষয়ে যথার্থ বক্তব্য হল: বিতিরের ক্ষেত্রে শরীয়তের কাম্য এই যে, তা কিছু নফল নামায পড়ার পর আদায় করা। যেমন, নবীজী ﷺ বলেন, لا توتروا بثلاث تشبهوا بصلاة المغرب و لكن أوتروا بخمس أو بسبع أو بتسع أو بإحدى عشرة ركعة أو أكثر من ذلك তোমরা শুধু তিন রাকাত বিতর পড়ো না, এতে মাগরিবের মত হয়ে যাবে; বরং পাঁচ, সাত, নয়, এগার বা এরও অধিক রাকাতে বিতির পড়। ( আলমুসাতদরাক ১১৩৭ সুনানে কুবরা-বাইহাকী ৩/৩১, ৩২)
অর্থাৎ বিতির এর আগে কিছু নফল অবশ্যই পড়: দুই, চার, ছয়, আট, যত রাকাত সম্ভব হয় পড়ে নাও। যেমন,ইতিপূর্বে আমরা আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ ﷺ চার ও তিন, ছয় ও তিন, আট ও তিন, এবং দশ ও তিন: বিভিন্ন সংখ্যায় রাতের নামায পড়তেন, যেখানে তিন রাকাত ছিল বিতির। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিতর নামায সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত আয়েশা রাযি.অপর বর্ণনায় বলেন, لا تُوتر بِثَلاَثٍ بُتْرٍ، صَلِّ قَبْلَهَا رَكْعَتَيْنِ، أَوْ أَرْبَعًا শুধুই তিন রাকাত বিতির পড়ো না। এটি অপূর্ণাঙ্গ নামায। বরং এর পূর্বে দুই বা চার রাকাত পড়ে নাও। (ইবনে আবী শাইবা ৬৮৯৮ এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত)
নবীজীর বিতির নামাযের প্রত্যক্ষদর্শী অপর সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন,إنِّي لَأَكْرَهُ أَنْ يَكُونَ بَتْرَاءَ ثَلَاثًا، وَلَكِنْ سَبْعًا أَوْ خَمْسًا রাতে শুধুই তিন রাকাত নামায পড়া আমি পছন্দ করি না। বরং অন্তত পাঁচ থেকে সাত রাকাত পড়া উচিত। (হাফেজ আইনী রহ. এটিকে সহীহ বলেছেন)
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক কথা বলার ও মানার তৌফিক দান করুন, এবং অপয়োজনীয় বিতর্ক করা থেকে বিরত থাকার তৌফিক দিন, আমীন।
বাবা তোমাকেই বলছি ...
তোমার সাফল্য নির্ভর করে তোমার উপর।
তোমার সুখ নির্ভর করে তোমার উপর।
তোমাকে নিজের গতিপথের হাল ধরতে হবে।
তোমার নিজকে শিক্ষিত করতে হবে।
তোমাকেই ভাবতে হবে নিজের ভাবনা।
তোমাকেই বাঁচতে হবে নিজের চেতনায়।
তোমার মন তোমার আর ব্যবহার করবে শুধুই তুমি।
তুমি এই দুনিয়ায় এসেছ একা।
তুমি কবরে যাবে একা।
তুমি নিজের ভাবনাসহ এই মধ্যবর্তী যাত্রায় একা।
তুমি নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে।
তুমি নিজের কাজের পরিণতি অবশ্যই মান্য করবে.. তুমিই চালু করতে পারো নিজের নিয়ম ..
আর সুগঠিত করতে পারো নিজের ভগ্ন স্বাস্থ্য।
তুমি শিক্ষিত হতে পারো শিক্ষকের দ্বারা।
কিন্তু জ্ঞান পান করতে হবে তোমাকেই।
তিনি এটা প্রবিষ্ট করতে পারবেন না তোমার মস্তিষ্কে। তুমি নিয়ন্ত্রণ করবে তোমার মন- মস্তিষ্কের কোষ।
তুমি সামনে মেলে নিতে পারো সর্ব যুগের জ্ঞান।
কিন্তু আত্তীকৃত না করা পর্যন্ত কোন কল্যানে আসবে না তোমার;
কেউ জোর করে তা ঢুকাতে পারবে না তোমার করোটিতে।
তুমিই পারো তোমার পা নড়াতে।
তুমি পারো তোমার বাহু নাড়াতে
তুমি পারো তোমার হাত কাজে লাগাতে।
তুমিই পারো তোমার পেশি নিয়ন্ত্রণ করতে।
তোমাকে অবশ্য নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে দৈহিক ও রূপকার্থে..
তোমাকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে...
তোমার মানসিক ও দৈহিক যন্ত্রপাতির
আর নিজেকে কিছু তৈরি কর..
তোমাকে নিজের নিয়তির ক্যাপ্টেন হতে হবে।
তোমাকে দেখতে হবে নিজের চোখ দিয়ে।
তোমাকে ব্যবহার করতে হবে নিজের কান।
তোমার সমাধান করতে হবে নিজের সমস্যা।
তোমাকে গঠন করতে হবে নিজের আদর্শ।
তোমাকে তৈরি করতে হবে নিজের আইডিয়া। তোমাকে অবশ্যই বাছতে হবে নিজের কথা।
তোমাকে অবশ্যই শাসক হতে হবে নিজের জিভের।
তোমার বাস্তব জীবন হচ্ছে তোমার ভাবনা।
তোমার ভাবনা তোমার নিজের তৈরি।
তোমার চরিত্র তোমার নিজের হস্তশিল্প।
তুমি তার উপাদান নির্ধারণ করতে পারো।
তুমি বাতিল করতে পারো যা তার উপযুক্ত নয়।
তুমি স্রষ্টা তোমার ব্যক্তিত্বের।
তুমি অপদস্থ হতে পারো অন্যের হাতে;
নয় নিজেরই হাতে।
তুমি উত্থিত হতে পারো কারো দ্বারা; নয় নিজের দ্বারা ।তোমাকে লিখতে হবে তোমার নথি।
তোমাকেই গড়তে হবে তোমার স্মৃতিস্তম্ভ;
কিংবা খুড়তে হবে হবে নিজের গর্ত।
.............
বি সি ফোর্বস এর কিছু জ্ঞানের কথা অবলম্বনে।
বোনের উত্তরাধিকার সম্পত্তি প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করতে হবে এ ব্যাপারে ইসলাম কি বলে??
নারী-পুরুষ। একে অপরের পরিপূরক। জীবনের প্রতিটি স্তরে ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। ইসলাম নারীকে দিয়েছে মহা সম্মান ও মর্যাদা। মেয়ে সন্তানের সুষ্ঠু লালন-পালনকে জান্নাতে যাওয়ার অনন্য মাধ্যম বলা হয়েছে। রাসুল সা. বলেন, ‘যার তিনটি মেয়ে আছে অথবা তিনজন বোন আছে কিংবা দুই বোন বা দুই মেয়ে আছে, অতঃপর সে তাদের শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করে, উত্তম পাত্র দেখে বিয়ে দেয় এবং তাদের সঙ্গে সর্বোত্তম ব্যবহার করে। তার জন্য জান্নাত অবধারিত।’ [সুনানে তিরমিজি]
ইসলামে নারীর জন্য পরিষ্কার ভাষায় পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করেছে। পুরুষ এবং নারী উভয়েই পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অংশ লাভ করবে। এ ক্ষেত্রে সমাজে কিছু কুসংস্কার দেখা যায়। আমাদের দেশের মেয়েরা বা বোনেরা বাবার বাড়ির সম্পত্তি আনেন না। এটা ভেবে যে, বাবার বাড়ির সম্পত্তি আনলে তারা গরিব হয়ে যাবেন! বাবার বাড়ির সম্পত্তি আনলে ভাইদের কাছে দাঁড়ানোর অধিকার তাদের থাকবে না। বাবার বাড়ির সম্পত্তি নিলে যেন সে পর হয়ে যায়।
তিক্ত সত্য হলো, অনেক এলাকায় দেখা যায় বোন বা ফুফুরা যদি তাদের উত্তরাধিকারী সম্পত্তি নিয়ে যায়- তাহলে তাদের বাবার বাড়ি আসা, বেড়ানোর অধিকার থাকে না। এটা ঠিক নয়। ইসলাম একে সমর্থন করে না। কারণ, সম্পত্তির অংশ নেওয়া বোনের স্বতন্ত্র অধিকার।
পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানের বিষয়ে আদেশ দিচ্ছেন। (তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পদে) এক ছেলের অংশ দুই মেয়ের অংশের সমান। আর যদি সন্তান শুধুই মেয়ে হয়, তাহলে তারা একাধিক হলে পুরো সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ পাবে। যদি এক মেয়ে থাকে, তাহলে সে পাবে পূর্ণ সম্পদের অর্ধেক...।’ [সূরা নিসা, আয়াত : ১১]
পবিত্র কুরআনে কন্যাদেরকে অংশ দেয়ার প্রতি এতটুকু গুরুত্ব আরোপ করেছে যে, কন্যাদের অংশকে আসল ভিত্তি সাব্যস্ত করে এর অনুপাতে পুত্রদের অংশ ব্যক্ত করেছে। অর্থাৎ ‘দুই কন্যার অংশ এক পুত্রের অংশের সমপরিমাণ’ বলার পরিবর্তে ‘এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমপরিমাণ’ বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। অনেকেই বোনদেরকে অংশ দেয় না এবং বোনেরা এ কথা চিন্তা করে অনিচ্ছাসত্ত্বেও চক্ষুলজ্জার খাতিরে ক্ষমা করে দেয় যে, পাওয়া যখন যাবেই না, তখন ভাইদের সাথে মন কষাকষির দরকার কি। এরূপ ক্ষমা শরীয়তের আইনে ক্ষমাই নয়; ভাইদের জিম্মায় তাদের উত্তরাধিকারী সম্পত্তি পাওনা থেকে যায়। যারা এভাবে ওয়ারিশীর অংশ আত্মসাৎ করে, তারা কঠোর গোনাহগার। এরপর আরো ব্যাখ্যা সহকারে কন্যাদের অংশ বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে, যদি পুত্র সন্তান না থাকে, শুধু একাধিক কন্যাই থাকে, তবে তারা পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ পাবে। এতে সব কন্যাই সমান অংশীদার হবে। অবশিষ্ট তিন ভাগের এক ভাগ অন্যান্য ওয়ারিশ যেমন মৃত ব্যক্তির পিতা-মাতা, স্ত্রী অথবা স্বামী প্রমূখ পাবে। কন্যাদের সংখ্যা দুই বা তার বেশী হলে দুই-তৃতীয়াংশের মধ্যে তারা সমান অংশীদার হবে।
বোনের সম্পত্তিকে মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমা আখ্যা দেয়া হয়েছে এবং সুষ্ঠুভাবে বুঝিয়ে দেয়াকে জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা তাতে চিরবাসী হবে এবং এটা বিরাট সাফল্য।’ [সূরা নিসা, আয়াত : ১৩]
আর যারা বোনের সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয় না তাদেরকে জাহান্নামের অপমানজনক শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।’ [সূরা নিসা, আয়াত : ১৪]
আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা তথা ওয়ারিশী নীতির ব্যাপারে যে বিধান দেয়া হয়েছে তা লঙ্ঘন করবে তার জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। কেননা সে আল্লাহর হুকুমকে পরিবর্তন করেছে, আল্লাহর বিধানের বিরোধিতা করেছে। তখনই কেউ এরূপ করতে পারে যখন সে আল্লাহর নির্দেশের উপর অসন্তুষ্ট থাকে। এজন্য আল্লাহ তাকে চিরস্থায়ী লাঞ্ছনা দ্বারা শাস্তি দিবেন।
ভাইয়ের সঙ্গে বোনের যে রক্তের সম্পর্ক তা উত্তরাধিকারী সম্পত্তি নিলেও থাকবে, না নিলেও থাকবে। বাবার সম্পত্তি যদি বোন নিয়ে যায় তার পরেও ভাইয়ের কর্তব্য হলো; বোনের দেখা-শোনা করা, খোঁজ-খবর নেওয়া। বোন যদি তার উত্তরাধিকারী সম্পত্তি না নেয় তারপরেও ভাইয়ের কর্তব্য হলো, তার বোন কি কুসংস্কারের কারণে বা তার খোঁজখবর নেওয়া হবে না এ কারণে সম্পত্তি নিচ্ছে না! এটা জানা।
যদি এটাই হয় তাহলে বোনকে বোঝাতে হবে, ভাই হিসেবে তোমার প্রতি আমার যে দায়িত্ব এর ব্যত্যয় ঘটবে না। অতএব তুমি নির্ধিদ্বায় সম্পত্তি নিতে পার। এভাবে বলার পরও যদি বোন বাবার বাড়ির সম্পত্তি না নেয় তাহলে এটা ভাইয়ের জন্য ভোগ করা জায়েজ। ভিন্ন কোনো কারণে হলে জায়েয হবে না।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের সমাজে ভাইয়েরা ছলেবলে-কৌশলে বোনদের প্রাপ্য থেকে তাদের বঞ্চিত করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ভাইয়ের কাছ থেকে প্রাপ্য অর্থ-সম্পদ নেওয়াকে সমাজের চোখে ‘অপরাধ’ হিসেবে দেখা হয়। অথচ রাসুল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কারো উত্তরাধিকার সম্পত্তি গ্রাস করে, অন্য বর্ণনামতে, যে ব্যক্তি কারো উত্তরাধিকারী সম্পত্তি নিয়ে পলায়ন করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের অংশ থেকে বঞ্চিত করবেন।’ [ইবনে মাজাহ]
মহান আল্লাহ আমাদেরকে বোনদের সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে বুঝিয়ে দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
”কুরআনিক এরাবিক ক্লাস”-০৮ , ক্লাস শুরুর তারিখ : ২৬-০৯-২০২২, ক্লাস শুরুর সময় রাত : ৯:০০ টা , ক্লাস শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় : ১০:৩০ ( বাংলাদেশ সময়) অনুগ্রহপূর্বক নিচের লিংকে ক্লিক/টাচ করে ক্লাসে প্রবেশ করুন এবং অন্যদের শেয়ার করুন। https://bdren.zoom.us/j/69040290297
”কুরআনিক এরাবিক ক্লাস”-১ , ক্লাস শুরুর সময় রাত : ৯:০০ টা , ক্লাস শেষ হবার সময় : ১০:৩০ ( বাংলাদেশ সময়) নিচের লিংকে ক্লিক/টাচ করে ক্লাসে প্রবেশ করুন এবং অন্যদের শেয়ার করুন।
Join our Cloud HD Video Meeting Zoom is the leader in modern enterprise video communications, with an easy, reliable cloud platform for video and audio conferencing, chat, and webinars across mobile, desktop, and room systems. Zoom Rooms is the original software-based conference room solution used around the world in board, confer...
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Website
Address
House/55, Road/10, Sector-13, Uttara
Dhaka

05/11/2022