WonderFul Story And Letter - পড়ুন আপনার পছন্দের গল্প

WonderFul Story And Letter - পড়ুন আপনার পছন্দের গল্প

Share

এটি রোমান্টিক গল্পের ওয়েবসাইট। এখানে আপনার পছন্দের গল্প পাবেন।

23/12/2020

অধিকার নেই
কাল আমার বিয়ে পারিবারিক ভাবে।আজ হাত ভরতি মেহেদী দিয়ে পালাচ্ছি।ভয় হচ্ছে খুব ।হার্টবিট বন্ধ হবার জোগাড়।এমন কিছু আমি করবো তাতো কল্পনাতেও ভাবিনি?।কিন্তু কি করবো ?এ সুযোগ হাত ছাড়া করতে পারছি না যে।রাত দশটার সময় সবার চোখ ফাঁকিয়ে দিয়ে আজ পালাচ্ছি ক্ষনিকের জন্য।আজ ভয় হচ্ছে একটা সময় এ স্মৃতি মনে করে খুব হাসবো।উফফ দুই হাতে মেহেদী।যদিও মেহেদী শুকিয়ে গেছে প্রায়।তাও আমি চাই না সামান্য ও লেপ্টে যাক।গ্রামের আঁকা বাঁকা পথ দিয়ে হাঁটছি।বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে হালকা হালকা ।হিম বাতাস বইছে হয়তো বৃষ্টি হবে।বলেছিলাম বৃষ্টি হতে পারে আসা দরকার নেই।কাল একবারে দেখে নিয়েন।কে শুনে কার কথা।এক দম ঘাড় তেরা ।ইসস কেও দেখে ফেললে কি যে বলবো।কোথায় যাচ্ছি?তার মধ্যে গ্রামেত এই নিয়ম সেই নিয়ম কত কি নিয়ম।হলুদ লাগিয়ে নাকি কনে বাইরে একা কোথাও যেতে নেই।তা না হলে নাকি ভুতে ধরে।উফফ কথা বলতে বলতে রাস্তার মোড়ে চলে এসেছি।ঐযে দোকানের ঐখানে কাওকে দাঁড়ানো দেখা যাচ্ছে।ইসস দূর থেকে দেখেই কেমন হার্টবিট গতিহীন হয়ে গেছে সামনে গেলে কি করবো?হুহুহুহু আসসালামুয়ালাইকুম
;;;ওলাইকমসালাম।নীড়
(মুচকি হেসে)জি,দোকানের বাল্ভ লাইটের আলোতে দুইজন কে দেখা যাবে একটু আড়ালে আসেন।
:::কেমন আছেন
খুব নার্ভাস আছি
;;;কেনো
বিয়ের আগে বউ বাসা থেকে হাওয়া কেও টের পেলে?সাথে আপনি কেও দেখে ফেললে?
;;;;হুমম তা বটে।কিন্তু দেখা করাটা জরুরি ছিল।তাই না?
ছবি দেখেছিলাম চাইলে ভিডিও কলেও আসতাম খামাখা এতো রিক্স না নিলে হতো না?
;;;কেনো হবে এটা কি সে আদি কালের বিবাহ হচ্ছে যে যাকে খুশি ধরে দিল তাকেই বিয়ে করে নিলাম না দেখে।
ছবি দেখেছিলেন না?ফোনেও কথাও হয়েছে।তাহলে?
;;;দেখা বাকি ছিল সেটা পুরণ করতে এসেছি?আপনার দেখা দরকার না আপনার হবু বর কেমন?
;নিজের টা আমার উপর দিয়ে চালাচ্ছেন না?আমি কিছু বুঝি না ?তাইতো?😁
;;;লিসেন দুই পক্ষের মৌলিক অধিকার এর চেয়েও যদি বড় অধিকার থেকে থাকে তাহলে তা 😊
;কি
;;;;এইযে বিয়ের আগে একে অপরকে দেখা।😁
;আচ্ছা আমরা কি খালি তর্ক করবো?
::::তো আপনি কি করতে চাইছেন মিস নীড় রেহমান?
;মিস্টার অর্ক আহামেদ ,আপনি আমাকে দেখতে এসেছেন দেখা কি আপনার হয়েছে?আপনিকি আমাকে দেখে সন্তুষ্ট ?না কি বাসায় গিয়ে বলবেন না মেয়ে পছন্দ হয়নি কাল বিয়েটা হচ্ছে না।😊
;;;;নীড় রেহমান পছন্দ না হলেও বিয়ে করতেই হবে আপনাকে না করার কোন অপশন আমার কাছে নেই।
;কেনো নেই
;;;;বাসায় কেউ জানে না কি যে আমি আপনার সাথে দেখা করতে এসেছি?
;বলবেন না মানে আমি অনেক ভেবে দেখলাম নীড় আমার জন্য পারফেক্ট না।তাই বিয়ে বাদ।অন্য মেয়ে দেখো।
(দুজনে মিলে খুব হাসলো এ কথা বলে)
;;;;আপনার কাঁধে কি এটা
;কথা বলতে বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম আমি আপনার জন্য চা করে নিয়ে এসেছি।আপনি আমাদের দ্বিতীয় দিন কথা বলার সময় বলেছিলেন না যে আপনি আমার হাতে চা খাবেন তাই।
;;;;ওওও যাক ভালোই হলো ।দেরি কিসের দেন খাই ।
;আপনি আমাকে সে কখন থেকে আপনি আপনি করে যাচ্ছেন ?
;;;;ওওও হ্যাঁ তাইতো।আচ্ছা দেও।
;আমার হাতে মেহেদী আপনি প্লীজ আমার কাঁধে থেকে ফ্লাস্ক নিয়ে ঢেলে খাবেন।
;;;ঢালবো কিসে।
;কাপ আনিনি ওই ঢাকনায় খান।
;;;তুমি খাবা না
;নাহ আপনি খান
;;;;হাতে মেহেদী তাহলে চা বানালে কি ভাবে?চা বানাতে কি দুই হাত লাগে ।আমার মুখী যথেষ্ট আমি ইন্সট্রাকশন দিয়েছি ওই ভাবে ওই ভাবে আমার এক কাজিন বানিয়েছে।ওই আমাকে আপনার সাথে দেখার রাস্তা বের করে দিয়েছে।ইভেন আমার এবসেন্স এ ওই সামলে নিচ্ছে সবাইকে।
;;;বাহ ভালোতো।চা টাও ভালো হয়েছে।
;;;(কিছুক্ষন নীরবতা।অর্ক চা খেতে খেতে বলে)আচ্ছা আমরাতো একে অপরকে দেখতে এসেছি তাই না?
;হুমম
;;;;আমাকে কি দেখা যাচ্ছে।মানে তুমি কি আমাকে দেখতে পাচ্ছ?
;হুমম যখন বিদ্যুৎ চমকায় তখন দেখি এমনিতে এখনতো অন্ধকার।আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমাকে
;;;;ওই সেইম,নেও আমার চা খাওয়া শেষ।
;তাহলে এখন আসি।
;;;;;চলে যাবে
;হুমম ,যেকোন সময় বৃষ্টি শুরু হবে আপনিও জান গিয়ে একটা টেক্সট পাঠাবেন কেমন?
;;;হুমম তুমি যেতে পারবে একা?
;হুম পারবো(সাথে সাথে সুসু শব্দ করে দূর থেকে দৌড়ে এক দল বৃষ্টি চলে এলো।ওরা দৌড়ে বন্ধ দোকানের নীচে দাঁড়ায়।সামান্য টিনের চাল বাড়ানো দোকান তাতে মাথা গুঁজে দাঁড়িয়ে রইলো দুজন।মাথায় টিনের চালের পানি লেগে সর্বাঙ্গ ভিজে যাচ্ছে।নীড় খুব চেষ্টা করছে নিজের মেহেদী লাগানো হাতকে বাঁচাতে যাতে পানি না লাগে।দোকানের বাল্ভ লাইটের আলোতে নীড় কে মুগ্ধ হয়ে দেখছে অর্ক।পাতা রঙ্গের ড্রেস পরা।মাথায় ওড়না দেওয়া।কিন্তু চুল ভিজে বোজা যাচ্ছে।হাত দুইটা তুলে রেখেছে যাতে পানি না লাগে মেহেদী যেনো ধুয়ে না যায়।ভেজা কাপড় শরীলে লেপ্টে থাকলেও কিছু দেখার উপায় নেই।ওড়না দিয়ে গাঁ সম্পূন ঢাকা। এমন সময় নীড় খেয়াল করে অর্ক ওর দিকে তাকিয়ে আছে।নীড় লজ্জা পাচ্ছে।
;;;তুমি নিজেকে সেভ না করে হাতকে কেনো সেভ করছো?
;আমি চাই না পানি লেগে আমার মেহেদীর রং হালকা হোক।আমি চাই আমার মেহেদীর রং সবচেয়ে বেশি রং হয়।
;;;;;শুনেছি যার জামাই যাকে বেশি ভালোবাসে তার মেহেদীর রং নাকি তত বেশি গভীর হয়।তুমিও কি সেই কথা বিশ্বাস করো?
;হাঁ হয়তো করি কিন্তু আপনি এসব কিভাবে জানেন।নাটক দেখে শিখেছেন?😊
;;;আরে নাহ বড় ভাই বিয়ের সময় ভাবীর মুখে শুনেছিলাম।কিন্তু এসব ভুয়া।ভালোবাসা হাতের মেহেদীর রং এর সাথে কোন সম্পর্ক নেই।
;হম্ম মানি।
(ঠিক তখন জোরে বিদ্যুৎ চমকে ।আকাশে গুরুম করে জোরে শব্দ করে।নীড় চোখ বন্ধ করে কলেমা পরে।)
::::আচ্ছা প্রায় মোভিতে দেখি ভয় পেয়ে মেয়েরা চমকে উঠে হিরোকে ঝাপটে ধরে।তুমিতো বেশ সাহসী দেখছি।ভয় পেলে না।
;😊কেনো আপনি কি চাইছেন যে আমি ভয় পেয়ে আপনার কোলে চড়ে বসি😁
;;;;নাহ মানে এমনি বলাম।
;জানেন আমি না খুব বেশি কথা বলি না ।কিন্তু যখন থেকে আপনার সামনে এসেছি আমি না নিজেকে আলাদা ভাবে আবিষ্কার করছি।অনেক কথা বলছি?একটু আগেও ভাবছিলাম আমি আপনার সাথে কি কথা বলবো।এখন দেখেন কত কথা বলছি।
;;;;😊তুমি কি তাহলে আমাকে ভালোবেসে ফেললে নাকি?
;😊যা কি সব বলেন
;;;তুমি লজ্জ্বায় ব্লাস করছো।মনে হচ্ছে ভালোবেসে ফেলেছো।😊
;ধূর এমন কিছু না।(এখানে দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে লজ্জায়।এদিকে বৃষ্টি ও প্রায় কমে এসেছে।নীড় দৌড় দিতে গেলে পিছলা খেয়ে দিরিম করে পরে যায়।)
আহহ আমার কোমড়
;;;;খুব ব্যথা পেয়েছো(হাঁটু গেড়ে নীড় এর সামনে বসে)
;হুমম মোটা মুটি।
;;;;দোড় দিলে কেনো
;মাথা নিচু করে আছে
;;;বলো আমি কি তোমাকে ধরতে গিয়ে ছিলাম যে তুমি দোড় দিলা
;আমি কখন বল্লাম আপনি আমাকে ধরতে এসেছিলেন
;;;তাহলে দোড় দিলা কেনো
;আমি বাসায় যাবো।
;;;;উঠো
;(কেমন ছেলে আজ বাদে কাল যার সাথে বিয়ে সে একটু হাত বাড়িয়ে তুলতেও এলো না।আমিকি হাত ধরতাম নাকি?এক বার বাড়িয়ে দিয়ে দেখতো?এ কেমন ছেলে ভবিষ্যতে কি হবে আমার?)
::::এতো না ভেবে উঠো?কথা দিচ্ছি আজ পরে যেতে দিলাম ?হাত বাড়িয়ে ও দিলাম না ।কাল কবুল বলার পর থেকে কখনো পরতে দিব না। আর পরে গেলে তুলে বাহুডোরে বেঁধে রেখে দিব।যাতে দ্বিতীয় বার পরে যাবার ভয় না থাকে।
:মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে অর্ক চোখের দিকে।ঠোঁটে মুচকি হাসি।ভিতরে ভিতরে খুশির শত শত বাজি ফুটে যাচ্ছে ধুম ধাম করে ।
;;;;উঠো এমনি অনেক ভিজে গেছ।কাল জ্বর আসতে পারে।উঠো
;নীড় মেহেদী দিকে তাকিয়ে দেখে প্রায় ধুয়ে গেছে।মন খারাপ করে উঠতে উঠতে দোকানে ছোট বেঞ্চে কোমড়ে লেগে ব্যথা পায় সাথে কামিজ ছিরার আওয়াজ হয়।নীড় ব্যথা পায় অনেক জোড়ে হাত কোমড়ে দিয়ে অবাক হয়ে অর্ক দিকে তাকায়।অর্ক বুঝতে পারে ।কি করবে তা ভেবে পাচ্ছে না।নীড় হাত সামনে এনে দেখে একটু রক্ত ।অর্ক দেখে রক্ত আর হাতে রইলো কৈ ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে সেই টুকু হাত থেকে ধুয়ে গেল।
::::অনেক কেটে গেছে হয়তো
(নীড় ব্যথা পেয়ে চুবসে গেছে)
;;;;তুমি মেহেদী ধুয়ে ফেলো।যা রং হবার হয়েছে।কোমড়ে কতটা ক্ষত হয়েছে হাত ধুয়ে দেখো।
(নীড় মন খারাপ করে দোকানের চালের কোনা বেয়ে যে পানির ঢল নেমেছে সেইখানে হাত দিয়ে মেহেদী ধুয়ে নিল।হাতের দিকে মন খারাপ করে তাকিয়ে আছে।
;;;;আরে বাহ অনেক রং হয়েছেতো ।ও এইযে আমার নাম দেখো আমি খুঁজে পেয়েছি।আরে বাহ আমার নাম বেশি লাল হয়েছে।অনেক সুন্দর হয়েছে তোমার মেহেদী দেওয়া স্বার্থক।
;নীড় এবার মুচকি হাসছে।
;;;;এখন দেখো কতটা কেটেছে।
নীড় কোমড়ে হাত দিয়ে অনুমান করলো।প্রায় অনেকটা কেটেছে।তার থেকে বেশি কামিজ ছিড়ে গেছে।বিব্রত হচ্ছে কিভাবে বাসায় যাবে আবার কিভাবে নিজেকে অর্ক চোখে থেকে আড়াল করবে।ওড়না পাতলা সব দেখা যাবে পিছনে থেকে।কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।
;;;;খুব লেগেছে না
(নীড় চুপ করে আছে ।মাথা নিচু করে একতো খুব জ্বলছে অন্য দিকে ড্রেস ফেটে গেছে)
অর্ক নীড়কে অবাক করে দিয়ে নিজের পরনের বেবি পিঙ্ক শার্ট খুলে।নীড় এর গায়ে জড়িয়ে দিল।অর্ক উপরে একটা শার্ট পড়েছে ভতরে একটা গেঞ্জি সাদা রঙের। নীড় অর্ক মুখো মুখী নীড় যেনো লজ্জায় জমে গেছে।নীড় চোখ তুলে অর্ক দিকে তাকায়।অর্ক মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে নীড় এর দিকে।অর্ক হাত তখন নীড় এর কাঁধের পাশে শার্ট এর কলার ধরে রেখেছে।বাতাসে উড়ছে শার্ট ।
;::::নীড় শার্ট টা গায়ে জড়িয়ে নেও।
;কিন্তু আপনি
;;;;,আমার গায়ে আরেকটা গেঞ্জি আছেতো।নেও?আমার গায়ের গন্ধ নেইতো?
;নীড় এবার হেঁসে দিল।
;;;;;নেও না ।দেখো আমি তোমাকে পরিয়ে দিতাম কিন্তু এখনো তোমাকে আমার হিসেবে পায়নি পেলে পরিয়ে দিতাম।
;কালতো পেয়ে যাবেন
;;;;;তখন পরাবো কম খুলবো বেশি(জোরে হেঁসে দিল)
;ছি
;;;; লজ্জ্বা পাবার কিছু নেই।বাস্তব কথা বললাম।এক মাস আছি বাংলাদেশে।এক বার বাড়ি নেই বউ করে তখন বুঝবে ।
;আমি কিন্তু এখন চলে যাবো।
;;; জাও যাবার সময় কিন্তু ছেড়া অংশ দেখা যাবে তখন
;গেলে যাক আমি দব দবে ফর্সা না আর রক্ত দিয়ে মেখে আছে বেশি বুঝা যাবে না।
;;;;দাক টা অনেক গভীর না?
;হয়তো ,আমিতো দেখতে পাচ্ছি না।
;;;;আমি ইচ্ছে থাকার সর্তে ও দেখতে পাচ্ছি না।দেখা মাত্র পুষিয়ে দিব।
চলবে,,,,,
(কেমন হলো জানাবেন ।)

#অধিকার_নেই গল্পের সব পার্ট ⇩
https://sites.google.com/view/odikarnei/home

23/12/2020

জিরো থেকে হিরো হবো কিভাবে?

আমরা সেরা হতে চাই, অন্তত স্বপ্ন দেখি যে অনেক ভাল কিছু করবো এবং বড় হবো। কেউ ডাক্তার, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার, খেলোয়াড়, সিনেমার নায়ক হতে চায় এবং সেরা হতে চায়, ভাল কিছু করতে চায় জীবনে। কিন্তু বাস্তবতা হল খুব কম লোক ভাল কিছু করতে পারে আমাদের সমাজে। তাই হতাশায় কাটে আমাদের অনেকের জীবন। সবচেয়ে খারাপ দিক হল অল্প বয়সে অনেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে তাদের দিয়ে ভাল কিছু হবে না। মূলত তাদের জন্যই আমার এই লেখাটি।

গত দুই বছরে অনেক তরুন তরুণীর সঙ্গে ফেইসবুকে, মোবাইল ফোনে, স্কাইপে এবং সামনা সামনি আমার কথা হয়েছে। তাদের থেকে যে ধরনের হতাশাজনক বাক্য শুনেছি তার মধ্যে কিছু হল এমনঃ

১। আমি কোন পাবলিক (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং ঢাকা মেডিক্যাল) বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় টিকিনি তাই আমার জীবনে আর কিছু হবে না।

২। আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তাই আমার কোন ভবিষ্যৎ নেই।

৩। আর্টস নিয়ে পড়ছি তাই জীবন এখানেই শেষ।

৪। আমি অনেক চেষ্টা করেও কোন চাকুরী পাইনি গত ১ বছরে তাই সারা জীবন বেকার থাকতে হবে।

৫। ফ্রিল্যান্সিং করার চেষ্টা করছি এবং প্রতিদিন বিড করি কিন্তু একটাও প্রোজেক্ট পাইনি।

এসব কারনে হতাশা আসা স্বাভাবিক এবং অযৌক্তিক নয়। কিন্তু যা মনে রাখা দরকার তাহল জীবনে হাল ছেড়ে দিলে কোন লাভ হবে না। বরং খারাপ অবস্থার মধ্যেও চেষ্টা করে যেতে হবে। আর চেষ্টা না করলে নিশ্চয়ই অবস্থার উন্নতি হবে না।

আসলে খারাপ অবস্থায় নিজের মনকে শান্ত, শক্ত ও স্বাভাবিক করতে পারাটাই যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ধাপ। যারা এটা করতে পারে তাদের জন্য পরের অংশটা অনেক সহজ হয়ে যায়। ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে তার জন্য আজ থেকেই চেষ্টা করা শুরু করে দিন।

জিরো থেকে হিরো হবো কিভাবে?

ঠিক আছে ধরা যাক আমার লেখার এই অংশটুকু পড়ে আপনি পটে গেছেন এবং মনকে শান্ত, শক্ত ও স্বাভাবিক করতে পেরেছেন। এর পর কি করতে হবে? এর পর যা করতে হবে তাহল কি করতে চান, কি লক্ষ্য বা কি স্বপ্ন তা স্থির করা। তবে আপনার অনেক টাকা হবে সে স্বপ্ন দেখবেন না। টাকা পেতে হলে আপনাকে কিছু একটা করতে হবে এবং সেদিকে দক্ষ হতে হবে। তাই কোন কাজে দক্ষ হলে এবং পরিশ্রম করতে পারলে টাকা এমনিতেই আসে। ঢাকাতে অনেক চা বিক্রেতা এবং চটপটি বিক্রেতা মাসে ৫০,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা আয় করছেন।

আপনি হয়তো স্থির করতে পেরেছেন কি করতে চান। এর পরের ধাপ হল যা করতে চান সেদিকে শেখার চেষ্টা করেন। ইন্টারনেটের যুগে প্রায় সব বিষয়ের উপর ওয়েবসাইট আছে এবং অনেক কিছু শেখা সম্ভব প্রায় বিনামূল্যে। এজন্য অবশ্য একটু ইংরেজি জানা দরকার আগে এবং তাও শেখার জন্য অনেক কিছু আছে।

পড়ার অভ্যাস থাকা খুব জরুরী। বাংলাদেশে বেশীরভাগ মানুষ মনে করে যে মাস্টার্স পাস করার পর আর নতুন করে পড়ার দরকার নেই। অথচ আমাদের মনে রাখা উচিত যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা পড়ি পরিক্ষা পাসের জন্য আর এর পর আমরা পড়ি পেশাগত জীবনে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য যা আমাদের বাড়তি টাকা এনে দিতে পারে।

পড়ার পাশাপাসি আরেকটি জিনিশ দরকার তাহল প্রতিদিন সময় দিয়ে অনুশীলন বা প্র্যাকটিস করা। আপনি যে দিকে দক্ষ হতে চান, সেরা হতে চান সেদিকে আপনাকে প্রতিদিন সময় দিতে হবে প্র্যাকটিস করার জন্য। হতাশ না হয়ে ৮-১০ ঘণ্টা করে সময় দেবার চেষ্টা করুন এবং দেখবেন ৬ মাসে অন্যরকম দক্ষতা এসে গেছে আপনার মধ্যে। যে কোন দিকেই আপনি ভাল এক ধরনের উন্নতি দেখতে পাবেন ৬ মাসের মধ্যে। আর ১ বছর নিয়মিত লেগে থাকলে অনেক উন্নতি করবেন।

তবে এজন্য আপনাকে অনেক কিছু বাদ দিতে হবে, আত্মত্যাগ করতে হবে। বিনোদন এর পরিমান কমাতে হবে। মন দিয়ে ৮-১০ ঘণ্টা প্রতিদিন এবং দিনের পর দিন লেগে থাকা কঠিন এটি আমি মানি। তবে এর কোন বিকল্প নেই। অবশ্য আজ থেকেই আপনি ৮ ঘণ্টা মন দিয়ে কিছু করতে পারবেন তা নয়। বরং চেষ্টা করুন ১ ঘণ্টা সব ভুলে গিয়ে একদিকে মন দিয়ে কাজ করার, অনুশীলন করার। ১ ঘণ্টা থেকে একটু একটু করে সময় বাড়ান এবং দেখবেন ১ মাসের মধ্যে ৩-৪ ঘণ্টা আমি মন দিয়ে কিছু করতে পারছেন একাগ্রচিত্তে। আর এভাবে প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা কাজ করার অভ্যাস করতে হয়তো ৩ মাস লাগবে।

বাংলাদেশে আমরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবার, সমাজ, বন্ধু, আত্বীয়, সহপাঠী, প্রতিবেশি থেকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য, বিদ্রূপ, হিংসা- এসবের স্বীকার হই অনেক বেশি। সেই তুলনায় প্রশংসা, উৎসাহ ও সহযোগিতা তেমন পাই না। তাই যখন সব কিছু ফেলে আপনি একদিকে চেষ্টা করে যাবেন তখন নানা ধরনের সমস্যায় পরবেন চার পাশের মানুষের কারনে। অনেকে আপনাকে পাগল মনে করবে, অনেকে বাঁধা দেবার চেষ্টা করবেন, অনেকে আপনাকে নিয়ে ফালতু কথা বলবে। এসবকে পাত্তা দেবেন না। বরং একটু একটু করে এগিয়ে যান।

এক বছর পর দেখবেন অনেকেই আপনার প্রশংসা করছে। অনেকে আপনাকে সমীহ করে চলছে। আসলে লড়াইয়ের ৯০% শতাংশ আপনার নিজের সঙ্গে। আপনি যদি এ দিকে জয়ী হতে পারেন তাহলে বাকি ১০% কোন ব্যপার হবে না।

১ বছর চেষ্টা করলেই কি আমি শুন্য থেকে সেরা হয়ে যাবো? না মনে হয়। তবে সেরা হবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে চলে আসবেন। আমার নিজের একটা উদাহরণ দেই। ধরা যাক এই আজ ৯ সেপ্টেম্বার ২০২০ তারিখে আমি এই পোস্ট লিখলাম। এরপর আমি সহ আমরা কয়েকজন ফেইসবুকে শেয়ার করলাম এবং লেখাটি আগামী কয়েকদিনে ১০০০ বার এর মত পড়া হল। এখন হয়তো এতেই আমি ভীষণ আনন্দিত হবো কারণ একটি লেখা হাজার বার পড়া হলে তা নিজের কাছে এক ধরনের সন্তুষ্টি নিয়ে আসবে। কিন্তু চেষ্টা করে গেলে হয়তো এক বছর পর এই লেখাটি ১০,০০০ বার পড়া হতে পারে। অর্থাৎ সেরা থেকে আরও সেরা হবার রাস্তা সব সময় ফাঁকা আছে।

তাহলে এতক্ষণ যা বললাম তার একটা সারাংশ টানিঃ

১। আজকেই সিদ্ধান্ত নিন এবং নিজের মনে বারবার বলুন যে অবস্থা যত খারাপ থাকুক না কেন আপনি চেষ্টা করে যাবেন।

২। কোন দিকে দক্ষ হবার চেষ্টা করবেন তা স্থির করুন। লাগলে একটু সময় নিয়ে পরিকল্পনা করুন।

৩। পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং যেদিকে দক্ষ হতে চান সেদিকে যতটা সম্ভব পড়ার ও জানার চেষ্টা করুন।

৪। প্রতিদিন মাত্র ১ ঘণ্টা সব বাদ দিয়ে মন দিয়ে অনুশীলন করুন এবং ৩ মাসে হয়তো ১০ ঘণ্টা তা করতে পারবেন।

৫। অন্যদের ফালতু কথাকে পাত্তা দেবেন না।

৬। এক বছর লেগে থাকুন এবং দেখবেন অনেক উন্নতি হয়েছে।

তাহলে আজ থেকেই চেষ্টা শুরু করে দিন।

রাত এখন ৪ঃ২০ আপনি ফেসবুকে বিনোদন করছেন আপনার পোস্টে ১০০০+ লাইক ৫০০+ কমেন্ট দরকার আপনারে ভার্চুয়াল জগতের মানুষেরা অচেনা এক নামে নতুন করে চিনুক এরকম যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় আপনি জীবনে একদিন আমার মতো হয়তো পস্তাইবেন তবে আমি আলহামদুল্লিল্লাহ এই ট্রেন্ড থেকে ফিরে এসেছি ২ বছর আগে ।

আপনি বলবেন আমি ফেসবুকে তাহলে ৪ঃ২০মিনিটে কি করছি আমি আমার কাজের উদ্দেশ্যে এসেছি কারণ ফেসবুক বিশ্ব-সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইট বিনোদনের জন্য প্রস্তুত করা নয় এটা টিকটক নয় যার মুল উদ্দেশ্য বিনোদন এটা পাবজি নয় যার মুল উদ্দেশ্য বিনোদন+এডিকশন । তাই এখন আমি চেষ্টা করি আমার ফেসবুক টাইমলাইনের সদব্যবহার করতে যেটা সবারই করা উচিত । কাজের ফাকে কালেক্টেড একটা পোষ্ট তরুনদের উদ্দেশ্যে কপি পেষ্ট করলাম যারা ভাবে আমাকে দিয়ে কিছু হবেনা আমি কিছু করতে পারবোনা আসলেই সময় এইসব চিন্তা ভাবনা করাতে বাধ্য করে আমাদের তবে আমাদের সেই চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে নিজেকে সময় দিতে হবে নিজের ভবিষ্যতের জন্য ।

২০১৮ সালে এক গুরুজন আমার জীবনে সবচেয়ে কঠীনতম সময়ে আমাকে একটি উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন "মনে করো তুমি একটা পথ ধরে তোমার ঘরে ফিরছো, তোমায় একাই হেটে যেতে হবে পথ দিয়ে, হোচট খেয়ে পরে গেলে কেউ আসবেনা তোমার হাতটি ধরে টেনে তুলবার জন্য তাহলে যদি কখনো পড়ে যাও তুমিকি আর ঘরে ফিরবেনা? তুমিকি সেখানেই পরে থাকবে অব্যশই না যত কষ্টই হোক তুমি আবার উঠে দাড়াবে এবং তোমার গন্ত্যবে পোছাবে ।" জীবনটা ঠিক তেমনি আজ তুমি খারাপ পরিস্তিথির মধ্যে আছো তাইবলে হাল ছাড়া যাবেনা তোমার রাস্তা তোমায় শেষ করতেই হবে যেভাবেই হোক আবার ঊঠে দাড়াতে হবে আবার হাটতে হবে তবেই তুমি তোমার গন্তব্য খুজে পাবে । তার এই কথাটি আমার অনেক কাজে দিয়েছে

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address


Dhaka