জিওপলিটিক্স ফরেন পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি

জিওপলিটিক্স ফরেন পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি

Share

ভূরাজনীতি বৈদেশিক নীতি এবং কূটনীতি - Geopolitics Foreign Policy and Diplomacy

01/06/2025

আফ্রিকায় চীনের কৌশলগত বন্দর উন্নয়ন

আফ্রিকার প্রায় সব বন্দরের এক-তৃতীয়াংশের বেশির উন্নয়নে কাজ করছে চীন। এ মহাদেশের অনেক বন্দর সম্প্রসারণের জন্য চীনের নৌবাহিনীরও উপস্থিতি রয়েছে।

আফ্রিকা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এক প্রতিবেদনে বলছে, এ মহাদেশের ৩২টি দেশের ৭৮টি বন্দর নির্মাণ, অর্থায়ন ও পরিচালনায় কাজ করছে বেইজিং। এর মধ্যে পূর্ব আফ্রিকার ১৭ দেশের ৩৫টি বন্দর, দক্ষিণাঞ্চলের ১৫টি ও উত্তরাঞ্চলের ১১টি বন্দরে চায়না পোর্ট ডেভেলপমেন্ট কাজ করছে। আফ্রিকার মোট ২৩১টি বাণিজ্যিক বন্দরের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি সামুদ্রিক বাণিজ্য কেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি রয়েছে।

ভূরাজনৈতিক কৌশলগত কারণে চীন একইভাবে ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকায় বন্দর নিয়ন্ত্রণের জাল বিছিয়েছে।

চীন ২০১৭ সালে তার নৌবাহিনীর জন্য আফ্রিকার জিবুতিতে একটি নৌঘাঁটি তৈরি করে। এটি ছিল দেশের বাইরে চীনের প্রথম কোনো নৌঘাঁটি। চীন সে সময় বলেছিল, আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তিরক্ষা ও মানবিক সাহায্য প্রদানে চীনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এ ঘাঁটি। একই সঙ্গে এটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে নয় বলেও দাবি করে বেইজিং। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক নীতি ও বিশ্বশক্তির প্রতিযোগিতায় চীনের সামরিক অবস্থানকে উন্মুক্ত করেছে।

ভূরাজনৈতিক কৌশলগত দিক থেকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নিজের শক্তিমত্তার জানান দিতে বিভিন্ন মহাদেশে নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে চীন। চীনের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতির ও বেশকিছু পদক্ষেপ থেকে এ পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিভিন্ন মহাদেশে মোট আটটি নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। আর এজন্য চীনা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলো ২০০০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ৪৬টি দেশে ৭৮টি বন্দরে ১২৩টি প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। আর এসব প্রকল্পে ২৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে চীন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করেছে চীন।

বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে, চীনা অর্থায়নে নির্মিত পোতাশ্রয় এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগুলো যে কোনো সময়ে চীন তার সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারবে। চীনা আইন অনুসারে এসব বেসামরিক বন্দরগুলো বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োজনের সময় চীনা নৌবাহিনীকে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে। এসব প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ যত বড় হবে সেখানে বেইজিং তত বেশি সুবিধা চাইবে।

মার্কিন গবেষণা সংস্থা এইডডাটার এক প্রতিবেদনে আগামী দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে চীনা নৌঘাঁটি স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য আটটি স্থানকে হাইলাইট করা হয়েছে।

এইডডাটার গবেষকরা দাবি করেছেন, নৌঘাঁটি গড়ে তোলার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি নৌঘাঁটির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে চীন। এটি চীনের সমুদ্র বাণিজ্যের পথগুলোকে নিরাপত্তা দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।

নৌঘাঁটি স্থাপনে বেইজিংয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে দেওয়া। যেমনটি চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং তথাকথিত কোয়াড জোট ভারত মহাসাগরে চীনকে চাপে ফেলে। চীনের সম্ভাব্য এই আট নৌঘাঁটির অর্ধেকেরও বেশি প্রকৃতপক্ষে ইন্দো-প্যাসিফিকভিত্তিক। আফ্রিকার আটলান্টিক প্রান্তে বন্দরসহ চীনা বিনিয়োগ অনেক বেশি। এই অঞ্চলে চীনা কার্যক্রম অনেক বেশি সক্রিয়। এখানে চীন তার ভূ-রাজনৈতিক মনোযোগ বৃদ্ধি করেছে।

আমেরিকাকে প্রতিহত করার জন্য মৌরিতানিয়া থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দক্ষিণ দিকে গিনি উপসাগর হয়ে ক্যামেরুন, অ্যাঙ্গোলা এবং গ্যাবন পর্যন্ত বন্দর নির্মাণ করছে চীন।

চাঙ্কাই: যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় তথা লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর উপকূলে চাঙ্কাই বন্দর উদ্বোধন করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নভেম্বর, ২০২৪ সালে এ বন্দর চালু করে সবাইকে চমকে দিয়েছে বেইজিং। বিআরআইর আওতায় তৈরি বিশাল এ বন্দর লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যে নতুনমাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাটা: আফ্রিকার দেশ গিনির এই বন্দর শহরটিতে চীনা নৌঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। এখান থেকে পশ্চিম আটলান্টিকে চীন তার সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়। এই ঘাঁটি আমেরিকা মহাদেশের খুব কাছে হওয়ায় এটি চীনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তার ও চীনা বাণিজ্যিক পথকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই নৌঘাঁটি চীনের জন্য জরুরি।

ক্রিবি: ক্যামেরুনের ক্রিবি বন্দরটিতে চীনের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। এখান থেকে মধ্য আটলান্টিকে চীন তার বাণিজ্যিক ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। মধ্য-পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে এই বন্দর চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রেম: যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম কম্বোডিয়ানদের কাছে জনপ্রিয়, প্রধানমন্ত্রী হুন সেন বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের মিত্র। কম্বোডিয়ার অভিজাতরা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে ভালো কাজ করেছেন এবং চীনের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ভারত মহাসাগর থেকে দক্ষিণ চীন সাগরের প্রবেশমুখে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়াডকে মোকাবিলায় এ বন্দর চীনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

লুগানভিল: ভানুয়াতুর এসপিরিতু সান্টো দ্বীপের পোর্ট লুগানভিলে অর্থায়ন করেছে চীন। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে নিজের সামরিক অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করতে ছোট্ট এ দ্বীপ দেশের বন্দরে চীনের সামরিক ঘাঁটির সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থিত দ্বীপটি প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি ছিল। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো মেরামতের একটি আবাসস্থল ছিল এটি।

নাকালা: যদিও মোজাম্বিকের নাকালা বন্দরে চীনের বিনিয়োগ খুব বেশি নয়; তবুও এখানের অভিজাত এবং সাধারণ জনগণের কাছে চীন অনেক জনপ্রিয়। তাই চীনে এখানে নৌঘাঁটি গড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নৌয়াকচট: পশ্চিম আফ্রিকার মৌরীতানিয়া দেশটি রাজধানী ও প্রধান বন্দর যা উল্লেখযোগ্যভাবে ইউরোপের জিব্রাল্টার প্রণালির মতো চোকপয়েন্টগুলোর কাছাকাছি হওয়ায়; এখানে চীন তার উপস্থিতি জরুরি বলে মনে করে।

ওয়াইল্ড কার্ড: যদিও চীনের বিনিয়োগগুলো বেশিরভাগই উন্নয়নশীল দেশে করা হয়েছে; তবুও তারা উন্নত বিশ্বেও একটি ঘাঁটির জন্য চেষ্টা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে চীন একাধিক রাশিয়ান নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে পারে বা রুশ নৌঘাঁটিগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহার করতে পারে। চীনা স্পষ্টভাবেই পশ্চিমাবিরোধী একটি উত্থান চায়। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপকে ভূরাজনৈতিক কৌশলগত পদক্ষেপ দেখিয়ে চীন সূক্ষ্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে রাশিয়ান নেতৃত্বকে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে রাজি করাতে পারে।

জিওপলিটিক্স ফরেন পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি

28/05/2025

হুমকি ধামকির রাজনীতি আর নয়

একটি বিপ্লবের মধ‍্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন কিভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থান থেকে দেশের সাংবিধানিক সংকট কাটিয়ে না উঠে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করবে, কিসের ভিত্তিতে?

অযৌক্তিক দাবী মেনে নিতে গেলে দেশের সংকটময় অবস্থা আরো গুরুতর হবে। যতক্ষন পর্যন্ত সাংবিধানিক সংকটের মোকাবেলা না করা হয়েছে ততক্ষন নির্বাচন অপ্রাসঙ্গিক বলে আমরা মনে করি। অন্তত সংবিধানের ধারা ৭০ বাতিল করে দিয়ে জনগণের বাংলাদেশ ও জনগণ বাংলাদেশের মালিক প্রতিষ্ঠিত করেই কেবল নির্বাচন, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন, অনুষ্ঠিত করা অন্তবর্তী সরকারের পক্ষে যুক্তিসঙ্গত হবে বলে মনে করি।

অন‍্যথায় দেশ বিভিন্ন সংকটের অতল গহ্ববরে পতিত হবে। দেশের আয় উন্নতির অংশীদারত্ব ৯৫ শতাংশ নাগরিকের থাকবে না। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক ব‍্যবসা বানিজ্যের পরিবেশ তৈরি করার জন‍্য বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট মোকাবেলা করেই অগ্রসর হতে হবে। দ্বিতীয় কোন পন্থা আমাদের জন‍্য খোলা নেই।

আমরা সাংবিধানিকভাবে মৃত জাতি হিসাবে জাতীয় স্বার্থ উদ্ধার করা ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কোনোদিনই শক্তিশালী দেশ হিসাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবো না। এই আয়তনে ছোট বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য আমাদের দেশ হতে হবে জনগণের মালিকানাধীন, মনে রাখতে হবে কথাটি।

হুমকি ধামকি দিয়ে বাংলাদেশ লুটতরাজ করার রাজনীতি ভুলে গিয়ে সততার সত‍্যিকার নেতৃত্বের রাজনীতির মাধ‍্যমে বিশ্বের সকল দেশের সহিত বন্ধুত্বের ও মর্যাদা সম্পন্ন ব‍্যবসা বানিজ‍্যের সম্পর্ক স্থাপন করে বজায় রেখে ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করতে হবে গনতান্ত্রিক ও ধর্মীয় মুল‍্যবোধ বজায় রেখে, ইনশাআল্লাহ।

প্রফেসর মোহাম্মদ সিদ্দিক হোসাইন
নিউক্লিয়াস পার্টি, বাংলাদেশ- NPB
Ex Information Officer, IMF
Ex Faculty Member, IBA, DU

14/05/2025

দাবা খেলা আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। দাবায় প্রতিপক্ষকে ধ্বংস না করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয় কিন্তু রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত না করেও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা যায়।

10/05/2025

পাকিস্তানের রাজনীতি: সামরিক আধিপত্য ও বেলুচিস্তানের সংগ্রাম

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নিজেকে কেবল প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসেবে নয় বরং রাষ্ট্র গঠনের একটি প্রধান উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে; যা পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্র পাকিস্তান, যার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নানা কারণে জটিল। পরমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে পাকিস্তান শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। তবে, দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেসামরিক সরকারগুলো কখনোই পূর্ণ স্বাধীনতা বা কর্তৃত্ব উপভোগ করতে পারেনি সেখানে। এর প্রধান কারণ সামরিক বাহিনীর ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কেবল জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজনীতি, অর্থনীতি এবং কূটনীতিতেও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

পাকিস্তানের সরকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি

সংবিধান অনুযায়ী পাকিস্তান একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। কিন্তু বাস্তবে, সামরিক বাহিনীর প্রভাবের কারণে দেশটির রাজনীতিতে অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতা একটি ধারাবাহিক বৈশিষ্ট্য। এই পরিস্থিতি দেশটির গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দুর্নীতির অভিযোগ এবং সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ হস্তক্ষেপ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর থেকে দেশের রাজনীতি আরও বিভক্ত ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এছাড়া, বেলুচিস্তানে স্বাধীনতা সংগ্রাম, সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন এবং চোলিস্তান ক্যানাল প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব, দুর্বল অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক ঋণের চাপ সরকারের জন্য নানামুখী চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। ফলে জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতা ও সামাজিক অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব

পাকিস্তানের ইতিহাসে বেশ কয়েকবার সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতা দখল করেছে। ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের (১৯৫৮-১৯৬৯) অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই প্রবণতা শুরু হয়। পরবর্তীতে আরও তিনটি উল্লেখযোগ্য সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। জেনারেল ইয়াহিয়া খান (১৯৬৯-১৯৭১) পূর্ব পাকিস্তানের সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হন, যার পরিণতিতে বাংলাদেশ জন্ম নেয়। জেনারেল জিয়াউল হক (১৯৭৭–১৯৮৮) জুলফিকার আলী ভুট্টোর সরকার উৎখাত করে ইসলামিক শাসন পদ্ধতি চালু করেন। জেনারেল পারভেজ মোশাররফ (১৯৯৯-২০০৮) এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে অপসারণ করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে দশ বছর দেশ শাসন করেন।

এমনকি গণতান্ত্রিক শাসনকালেও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই) এবং সেনাপ্রধানরা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। সামরিক বাহিনীকে প্রায়শই ‘রাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি রাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারগুলো প্রায়শই সেনাবাহিনীর অনুমোদন ছাড়া নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম।

পাকিস্তানের ‘ডিপ স্টেট’

সামরিক বাহিনী বর্তমানে সরাসরি ক্ষমতায় না থাকলেও ‘ডিপ স্টেট’ বা অপ্রকাশ্য রাষ্ট্রের মাধ্যমে তাদের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২-২৩ সালে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্পষ্ট ছিল। নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ, নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে বিচারব্যবস্থার ব্যবহার এবং গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপের অভিযোগ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে উঠেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পিটিআই-এর উত্থানেও সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও, গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের গুম, নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। জিও টিভি, ডন এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং সিন্ধুতে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য সেনাবাহিনী ও আইএসআই দায়ী বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি।

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম

সামরিক বাহিনীর অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য, যা ‘মিলবাস’ (Military Business) নামে পরিচিত, পাকিস্তানের অর্থনীতির একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ফৌজি ফাউন্ডেশন, আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং শাহিন ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ব্যাংকিং, কৃষি, শিক্ষা, খাদ্য এবং রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগ করেছে। অনুমান অনুযায়ী, পাকিস্তানের অর্থনীতির প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বেসামরিক সরকার ও সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্ব

বেসামরিক সরকারগুলোর প্রতি সামরিক বাহিনীর অনাস্থা সুস্পষ্ট। প্রতিবার যখনই বেসামরিক সরকার নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, সেনাবাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। ইমরান খান সেনাবাহিনীর সমর্থনে ক্ষমতায় এলেও পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নওয়াজ শরীফ তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই সেনাবাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে ক্ষমতা হারান। প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীরের মতে, “পাকিস্তানের ইতিহাসে বেসামরিক সরকারগুলোর বারবার ব্যর্থতার পেছনে সামরিক বাহিনীর অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ একটি বড় কারণ।”

বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলন

পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের মধ্যে বেলুচিস্তান আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড়, যা দেশটির প্রায় ৪৪ শতাংশ ভূখণ্ড জুড়ে রয়েছে। এই প্রদেশে প্রচুর প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ রয়েছে এবং পাকিস্তানের গ্যাসের ৩০ শতাংশ এখান থেকে আসে। তবে, বেলুচ জাতীয়তাবাদীরা অভিযোগ করেন যে, সরকার ও সামরিক বাহিনী তাদের সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে একতরফাভাবে শোষণ করছে। বর্তমানে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ, যেখানে জিডিপির মাত্র ৩.৭ শতাংশ অবদান রাখে এবং শিক্ষার হার মাত্র ২৫ শতাংশ।

কয়েক দশক ধরে বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ), বেলুচ রিপাবলিকান আর্মি এবং বেলুচ লিবারেশন ফ্রন্টের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। এই বিদ্রোহ দমনের জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কঠোর অভিযান চালায়, যার ফলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৫০০ বেলুচ নাগরিক গুম বা খুন হয়েছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বেলুচ নিখোঁজদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া মানবাধিকার কর্মী মাহরাং বেলুচের গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিএলএ ২০২৫ সালের মার্চে জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন হাইজ্যাক করে, যাতে ২৬ জন নিহত এবং শতাধিক যাত্রী জিম্মি হয়। কাচ্চি জেলায় একটি রোডসাইড বোমা হামলায় সাতজন সেনা নিহত হয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই হামলার জন্য বিএলএ-কে দায়ী করলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামরিক দমন-পীড়নের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংলাপ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে বেলুচিস্তানের সমস্যা সমাধান সম্ভব। চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পগুলো স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে, কারণ তারা মনে করে এই উন্নয়ন তাদের উপকারে আসছে না।

সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন ও চোলিস্তান ক্যানাল প্রকল্প

পাকিস্তান সরকারের ‘গ্রিন পাকিস্তান ইনিশিয়েটিভ’-এর অংশ হিসেবে চোলিস্তানে ছয়টি নতুন ক্যানাল নির্মাণের পরিকল্পনা সিন্ধু প্রদেশে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে। সিন্ধু প্রদেশের জনগণ ও পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন যে, এই প্রকল্প সিন্ধুর পানি সরবরাহ কমিয়ে ইকোসিস্টেমের ক্ষতি করবে। সিন্ধু প্রদেশের আইনসভা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস করেছে এবং সিন্ধুর বাবারলোই এলাকায় আইনজীবীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও উত্তেজনা

ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ। কাশ্মীর ইস্যু, জঙ্গিবাদ, পানি চুক্তি এবং সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এই বৈরিতাকে আরও জটিল করেছে। সম্প্রতি ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আলোচনা পর্যন্ত উঠে আসছে। এই দ্বন্দ্ব শুধু দুই দেশের জনগণের নিরাপত্তাই নয়, দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্ব রাজনীতির স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ শরিফ) ভারতের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী সামরিক প্রতিশোধের অনুমোদন দিয়েছেন। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো ভারতের সামরিক হামলার নিন্দা করেছেন। পাশাপাশি, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ও কাশ্মীর ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ, জামায়াত-ই-ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোর নেতৃবৃন্দ ভারতের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

সামরিক বাহিনীর আধিপত্য, বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলন, ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে আবর্তিত হচ্ছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এই সমস্যাগুলোর সমাধানে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, মানবাধিকার রক্ষা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অপরিহার্য।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি। পাকিস্তানের সমাজবিজ্ঞানী আকবর এস. আহমেদের মতে, “সামরিক বাহিনী নিজেকে কেবল প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসেবে নয়, রাষ্ট্র গঠনের একটি প্রধান উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।” এই বাস্তবতা পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রোধ করা জরুরি।

মঞ্জুরে খোদা
লেখক-গবেষক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক

09/05/2025

॥পাকিস্তান ও ভারত নির্লজ্জ হলে চলবে না॥

বর্তমান বিশ্ববাজারে আয় ব‍্যয় যদি দেখেন ডলারে তাহলে পাকিস্তান ইন্ডিয়া মাথাপিছু আয় দেখবেন যথাক্রমে ১০ কোটি ও ৭০ কোটি মানুষের বার্ষিক আয় হবে ৫০০ ডলারের কম। তাদের শোষণ অপশাসন ঢেকে রাখতে অন‍্য কি আর করার আছে। কিছুই নাই।

দেশ অপশাসন করার মাপকাঠির বিচারে এদের বিচার করতে হবে কারণ তারা বিরাট দেশের মালিক, তারা কেন পথের ফকির করে রেখেছে বিরাট জনগোষ্ঠীকে? তার বিচার না করে কেমনে যুদ্ধ বিমান কিনতে দেন; যারা মনে হয় বাস চালাতে শিখে নাই।

পাকিস্তান ভারত কোনো হিন্দু মুসলমান সমস‍্যা নয়। এ হলো জনগণকে নিজ নিজ দেশে দাসত্বের জেলখানায় আটকে রাখা, পরাধীন নির্বাসনে নিজ মাতৃভূমিতে। নিজের মানুষদের অমানবিক-অমানসিক পরিবেশে জমিদারীতে বা বর্ণবাদের নামে নির্মম নির্যাতন নিপীড়ন অসহায় জীবনে আটকিয়ে রাখা অধিকারবিহীন কত বড় লজ্জার কথা এই বর্তমান বিশ্বে। তাই করে যাচ্ছে, এই নির্লজ্জ দেশ দুটি।

তারা পারমানবিক অস্ত্রধারী কেন? দুদিন আগে আমরা যখন একসাথে ছিলাম বৃটিশের বিরুদ্ধে লড়েছি, আজকে কে কিভাবে কেন পারমানবিক শক্তির মালিক হয়েছেন এই ভুখা নাঙ্গা ভাইদের উপর নিউক্লিয়ার বোম ড্রপ করতে, আমরা জানি না। নিজের মানুষদের মুক্তি দেন, সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করেন, রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের নামে সাংবিধানিক কায়দায় দলীল করে দেন। তারপর যখন শিক্ষিত জনতার নতুন ব্রান্ড এর জনগণ রাজনীতিতে মাঠে আসবে, তখনই কেবল ভারত উপমহাদেশ মানুষের দেশ হবে।

বেহুশ হয়েন না। দেশের মাটির দখল ছেড়ে দিয়ে সবাইকে জমি দেন, সুযোগ দেন, দেশের নাগরিক হওয়ার। বন্দী করে পানির দামে তাদের শ্রম নিয়ে ধনাঢ্যের বাহাদুরি ছেড়ে দেন। সকল মানুষের জন্য প্রত্যেকটি আত্মার জন‍্য অন্ন বস্র বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসা ও নিরাপত্তার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন। সাহসী হন, লুকিয়ে যড়যন্ত্রের অধীনে জীবন বিনাশ করিয়েন না। এই ভূপৃষ্ঠের মালিক আমরা নই।

নিউক্লিয়াস পার্টি বাংলাদেশ - NPB আমরা বাংলাদেশকে জনগণের হাতে দেশের মালিকানা সাংবিধানিক কায়দায় দলীল করে লিখে দিবো। জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার মাধ‍্যমে যাবতীয় সেবা জনগনের হাতে পৌঁছে দেয়াই আমাদের সহজ সরল পৃথিবীর সবচেয়ে মুল‍্যবান কাজ, সেটাই আমরা করবো, ইনশাআল্লাহ। আপনারাও পাকিস্তান ও ভারতের জন‍্য আরো উন্নত মানের চিন্তা চেতনা দিয়ে জনগণকে মুক্ত স্বাধীন দেশ গড়ার সুযোগ দেন, বাকী আল্লাহর রহমত।

অধ্যাপক এম সিদ্দিক হোসাইন
চেয়ারম্যান
নিউক্লিয়াস পার্টি, বাংলাদেশ- NPB

06/05/2025

ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত সংকটে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় পর্ব

হুইটল্যামকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা সিআইএর একার ছিল না। এমআইসিক্স এবং অস্ট্রেলীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এই পরিকল্পনায় জড়িত ছিল। এমআইসিক্স সদস্যরা অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে হুইটল্যামের নিকট প্রেরিত গোপন বার্তাগুলো তাঁর কাছে পৌঁছানোর আগেই সেগুলোকে ডিকোড করছিল (অর্থাৎ সেগুলোর মর্মোদ্ধার করছিল)। হুইটল্যামের মন্ত্রিসভার বৈঠকগুলোতেও তারা আড়ি পাতার ব্যবস্থা করেছিল। অবশ্য হুইটল্যাম এই তথ্যগুলো জানতে পারেন।

৯ নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে গভর্নর জেনারেল স্যার কের ‘অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স সিগন্যালস ডিরেক্টরেট’ পরিদর্শন করেন। এই সংস্থাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনএসএর অনুরূপ, এবং হুইটল্যামকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনায় এরাও জড়িত ছিলো। সংস্থাটির কর্মকর্তারা কেরকে জানান যে, অস্ট্রেলিয়ায় একটি নিরাপত্তা সঙ্কট চলছে, এবং এর জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী হুইটল্যামকে দায়ী করেন।

১০ নভেম্বর হুইটল্যামকে তার সহকর্মীরা একটি অতি গোপনীয় টেলেক্স বার্তা দেখায়। এই বার্তাটি প্রেরণ করেছিলেন সিআইএর পূর্ব এশিয়া ডিভিশনের প্রধান থিওডোর শ্যাক্লে। শ্যাক্লেই ১৯৭৩ সালে চিলিতে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থান পরিচালনা করেছিলেন। তার এই বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, অস্ট্রেলিয়ার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হুইটল্যাম অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’! এই অতি গোপনীয় বার্তাটি হুইটল্যামের লোকজন ইন্টারসেপ্ট (পথিমধ্যে রোধ) করেছিল, এবং এর মধ্য দিয়ে হুইটল্যাম তার বিরুদ্ধে সিআইএর পরিকল্পনা সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা লাভ করেন।

হুইটল্যামের পরিকল্পনা ছিল, পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১১ নভেম্বর তিনি অস্ট্রেলীয় আইনসভায় অস্ট্রেলিয়ায় সিআইএর কার্যক্রম জনসম্মুখে ফাঁস করে দেবেন। কিন্তু সেটি আর তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ১১ নভেম্বর গভর্নর জেনারেল কের (Ker) হুইটল্যামকে ডেকে পাঠান, এবং নিজস্ব বিশেষ ক্ষমতাবলে তাকে বরখাস্ত করেন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলীয় ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর সাংবিধানিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। এটি ছিলো কোনো গভর্নর জেনারেল কর্তৃক অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার প্রথম ও একমাত্র ঘটনা। গভর্নর জেনারেলের এরকম ক্ষমতা আদৌ রয়েছে কিনা, সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এজন্য হুইটল্যামকে বরখাস্ত করার ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত রাজনৈতিক ঘটনাবলির মধ্যে একটি।

যা-ই হোক, এভাবে সিআইএ ও এমআইসিক্সের পরিকল্পনায় অস্ট্রেলীয় জনসাধারণের নির্বাচিত ‘ভুল ব্যক্তি’টি অপসারিত হন। ১৯৭৫ সালেই অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, এবং এই নির্বাচনে যাতে অস্ট্রেলীয় জনসাধারণ আবার কোনো ‘ভুল ব্যক্তি’কে নির্বাচিত না করে, সেজন্য সিআইএ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়। নির্বাচনে লেবার পার্টি পরাজিত হয়, এবং এর কয়েক বছরের মধ্যেই হুইটম্যান রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ‘হুইটম্যান সমস্যা’র (the Whitman Problem) অবসান ঘটে, এবং অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতির এক বিশেষ অধ্যায় সমাপ্ত হয়।

হুইটম্যানের ক্ষমতাচ্যুতির মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার তিন বছর স্থায়ী ‘কৌশলগত সার্বভৌমত্বে’র অবসান ঘটে। এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়া আর কখনো স্বতন্ত্র পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের প্রচেষ্টা করেনি, কিংবা পাইন গ্যাপ গোয়েন্দা ঘাঁটি বন্ধ করার প্রচেষ্টাও করেনি। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একনিষ্ঠ ‘মিত্র’, এবং জয়েন্ট ডিফেন্স ফ্যাসিলিটি পাইন গ্যাপ থেকে সিআইএ, এনএসএ ও এনআরও যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক শত্রুদের ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

Sovereignty Issues (সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হুমকি)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একক আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিশ্বের উন্নত, উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশসমূহের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে সোফা চুক্তি সম্পাদন করেন। যার নির্দিষ্ট একটি মেয়াদ থাকে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো দেশের সোফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তার মেয়াদ বা বৈধতা আজীবন ধরে রাখার চেষ্টা করে। ২০০৮ সালে ৪৩তম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাকের সাথে SOFA চুক্তি করেছিলেন যার মেয়াদে ছিল ৩১ ডিসেম্বর, ২০১১ সাল পর্যন্ত। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও যুক্তরাষ্ট্র বলছে ইরাকে সৈন্য মোতায়ন রাখার বৈধ অধিকার তাদের আছে। কিন্তু ইরাক বলছে মার্কিন সেনা মোতায়ন করা হয়েছিল তখনকার সময়ের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কিন্তু বর্তমানে মার্কিন সেনার উপস্থিতি দেশের অভ্যন্তরে কোনভাবেই কাম্য নয়। অর্থাৎ ইরাকি জনগণ দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি কোনক্রমেই মানতে রাজি নন। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি, যদি বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ০৫ বছরের জন্য সোফা চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর মার্কিন সেনা চলে যায়। কিন্তু আজ থেকে ৫০ বছর পর তাইওয়ান প্রশ্নে অথবা অন্য কোনো ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে চিন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হলো। তখন যুক্তরাষ্ট্র ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে বাংলাদেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে চাইবে কারণ তারা বলবে পূর্বে বাংলাদেশের সাথে আমাদের সোফা এগ্রিমেন্ট ছিল; তাই আমরা বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারব। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অনুমতি ব্যতীত সেনা মোতায়ন করতে পারে। যাইহোক এমন সংকটকালীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হুমকির সম্মুখীন হবে। বাংলাদেশের নিকট এটি একটি কাল্পনিক উদাহরণ হলেও পৃথিবীর অনেক দেশের ক্ষেত্রে এটি একটি চরম বাস্তবতা। এ কারণেই বিগত বাংলাদেশ সরকার ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে সোফা চুক্তিটি অত্যন্ত কূটনৈতিক দক্ষতার সাথে এড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক করিডোর অথবা অন্য কোনো কিছু নামে যদি এরকম কিছু ঘটে তাহলে বাংলাদেশ পুনরায় পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হতে পারে।

যে কারণে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত দিক বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান নতুন করে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়। ভারত মহাসাগরের নৈকট্য বঙ্গোপসাগরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার করে তুলেছে, যা দক্ষিণ এশিয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ তার বাইরের দুনিয়ার সাথে সংযুক্ত করবার প্রধান রুটে পরিণত করেছে। আলফ্রেড থায়ের মাহান তার The Influence of Sea Power Upon History: 1660–1783 শীর্ষক গবেষণায় মন্তব্য করেছেন, Navies are ‘essential components of the modern global political system,’ and that only those powers with ’superior navies’ have been able to claim a position of world leadership. (নৌবাহিনী হল 'আধুনিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান' এবং শুধুমাত্র 'উচ্চতর নৌবাহিনী' সহ সেই শক্তিগুলিই বিশ্ব নেতৃত্বের অবস্থান দাবি করতে সক্ষম হয়েছে।)

তার বক্তব্যের মূল কথা হলো বৈশ্বিক রাজনীতিতে নেতৃত্বের আসনে থাকতে হলে সমুদ্রে শক্তিশালী নৌবাহিনীর বিকল্প নেই। সুতরাং বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরে পরাশক্তিগুলোর প্রভাব বজায় রাখা প্রধান স্ট্র্যাটেজিতে রূপ নিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও বাজারের আকারও বিশ্ব অর্থনৈতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। পৃথিবীর অষ্টম জনঅধ্যুষিত রাষ্ট্রের নাম বাংলাদেশ, যার জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। এ বিশাল জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তার বাজার এবং কার্যকর শ্রমশক্তির জোগান দেয়। ফলে বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশে ব্যবসা ও বাণিজ্যে আন্তর্জাতিক পুঁজি বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ ছাড়াও বঙ্গোপসাগরে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এর গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি মোটা দাগে তিনটি মৌল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। তা হচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক মানবিক উন্নয়ন। আর তিনটি উদ্দেশ্য সাধনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনো Isolation-এর নীতি গ্রহণ করে। আইসোলেশন হচ্ছে সেই নীতি, যা অন্য রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয়াদি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে। আবার যুক্তরাষ্ট্র কখনো containment নীতি অনুসরণ করে। আর কন্টেনমেন্ট হচ্ছে সেই নীতি, যা যুক্তরাষ্ট্রকে বৈরী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক এবং সামরিক অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ রাখতে সচেষ্ট করে। আবার কখনো দেশটি deterrence নীতি অনুসরণ করে। ডেটারেন্স হচ্ছে সেই নীতি, যা নিজের সামরিক শক্তির উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ এমনভাবে করে যাতে শত্রুরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করতে নিরুৎসাহিত হয়। ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প ‘আইসোলেশন’ নীতি অনুসরণ করে ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের অংশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত একচ্ছত্র অধিপতির আসনে আসীন হয় কিন্তু ভারত ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত অদক্ষতার কারণে বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্ব হারাচ্ছে। যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পছন্দসই সরকার ক্ষমতায় থাকবে এটি এখন আর স্বাভাবিক বিষয়। অন্যদিকে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যে পরিবর্তনের ধারায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রসমূহের সাথে ‘স্টেট টু স্টেট’ যোগাযোগে মনোনিবেশ করে। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ভারতের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া থেকে সরে আসে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার নির্ণয়ে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ নীতি ঘোষণা করে- যে নীতির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে- এতদঅঞ্চলে চিনের অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব কমিয়ে আনা। যুক্তরাষ্ট্রঘোষিত ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে এ অঞ্চলের গুরুত্বের বিষয়টি উঠে আসে ঠিক এভাবে- ‘As we enter a decisive decade that holds considerable promise and historic obstacles for the indo-pacific, the American role in the region must be more effective and enduring than ever.’ (যেহেতু আমরা একটি নির্ধারক দশকে প্রবেশ করছি যা ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য যথেষ্ট প্রতিশ্রুতি এবং ঐতিহাসিক বাধা ধারণ করে, এই অঞ্চলে আমেরিকান ভূমিকা অবশ্যই আগের চেয়ে আরও কার্যকর এবং স্থায়ী হতে হবে।)

ইউক্রেন যুদ্ধপরবর্তী বৈশ্বিক নয়া মেরুকরণ:
ইউক্রেন যুদ্ধ পরবর্তী বৈশ্বিক রাজনীতিতে নয়া মেরুকরণ শুরু হয়েছে। একদিকে চিনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ হিসেবে ভারতের ইউক্রেন ইস্যুতে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নামে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়া। ইউক্রেন প্রশ্নে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবে জাতিসঙ্ঘে ভারত, হয় ভোট দান থেকে বিরত ছিল নতুবা নিন্দা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ছিল পীড়াদায়ক। বিনিময় হিসেবে ভারত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে সুলভ মূল্যে তেল পাচ্ছে। আর এই লেনদেনের পুরোটাই হচ্ছে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে রাশিয়ার রুবলে। ভারতের এই অবস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, বিগত বিশ বছর ভারতের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরশীলতা কি তাহলে পানিতে তলিয়ে গেল। কোনো বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিচ্ছেন দক্ষিণ এশিয়া ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভারত নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতেই এতদঅঞ্চলে ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলোতে মনোনিবেশ করেছে দেশটি। আর এসব দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দসই সরকারকেই প্রাধান্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যারা আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখবে। যার ফল হিসেবে আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্ষমতার আকস্মিক রদবদল দেখতে পাই। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদলের বিষয়টি তদারকিতে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের কাউন্সিলর ডেরেক সোলে (Counselor Derek Chollet)।

বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের কাছে সেন্টমার্টিন চাওয়ার বার্তা দিয়েছে। কিন্তু তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার প্রধান এ ধরনের প্রস্তাব ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে নাকচ করে দিয়েছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ড কোনভাবেই বিদেশি সামরিক স্থাপনের জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। প্রশান্ত মহাসাগরী অঞ্চলে চিনের আধিপত্য সম্প্রসারণের কারণে উপমহাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আধিপত্য ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে। এদিকে ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেখা গেছে ভারত একাধারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেমন সম্পর্ক রেখেছে ঠিক তেমনিভাবে রাশিয়ার সঙ্গেও বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে। আর এই বাস্তবতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত নির্ভরতা অনেকখানি কমিয়ে ফেলেছে।
বর্তমানে পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া প্রায় একটি রাষ্ট্র এবং এখানেও চিনের প্রভাব অনেক বেশি। যার ফলে উপমহাদেশে মার্কিন প্রভাব ক্ষুন্ন হয়ে গেছে। অন্যদিকে উপমহাদেশের অন্যান্য দেশগুলো সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত দিক থেকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় বাংলাদেশ যতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আর এ কারণেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক চাপ ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তারা একটি অনুগত সরকার আনতে চায় যে সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলগত আকাঙ্খাগুলো পূরণ করবে।

উদাহরণস্বরূপ: পশ্চিমা বিশ্বের মান অনুযায়ী, জিবুতি কোনো 'গণতান্ত্রিক' বা 'মুক্ত' রাষ্ট্র নয়। জিবুতিকে একটি 'স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র' হিসেবে অভিহিত করা হয়। জিবুতির রাষ্ট্রপতি ইসমাইল ওমর গুয়েল্লেহ ১৯৯৯ সাল থেকে দেশটির শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে, এবং তার আমলে জিবুতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। তদুপরি, জিবুতির সংবিধানে রাষ্ট্রপতির মেয়াদের ওপর যে সীমাবদ্ধতা ছিল, সেটিও অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু জিবুতির সরকার পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোকে জিবুতিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং এজন্য নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো জিবুতির সরকারব্যবস্থার সমালোচনা করতে ইচ্ছুক নয়।

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ
বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারে চলছে জনযুদ্ধ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী অং সান সু চিকে হটিয়ে আবারো ক্ষমতায় দখল করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। আর এর বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। চিন মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পক্ষ নেয় আর যুক্তরাষ্ট্র নেয় জনগণের পক্ষ। মিয়ানমারের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা এখন জনতার নিয়ন্ত্রণে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্মা অ্যাক্ট’ পাস হয়, যার লক্ষ্য হচ্ছে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা। আর মিয়ানমারে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ভারতের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র তেমন কোনো সহায়তা না পেয়ে বাংলাদেশের ওপরই নির্ভর করছে। আর সে যাত্রায় বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত গ্রহণযোগ্য সরকার প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের। যে সরকার মিয়ানমারে মার্কিন পলিসি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

তৃতীয় খণ্ড পেতে চোখ রাখুন জিওপলিটিক্স ফরেন পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি পেইজে।

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Dhaka University
Dhaka
1100