27/10/2023
বিরোধী দলের সমাবেশে বাধা দিলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ
-পীর সাহেব চরমোনাই
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, সরকার বিরোধী দল দমনে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। প্রশাসন ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। হামলা, মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ২৮ তারিখ বিএনপির সমাবেশ ও ৩ নভেম্বর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসমাবেশ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সরকার ভয়ে এসব সমাবেশে ঘিরে নানা অপকৌশল গ্রহণ করেছে। স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে ওঠেছে। ৩ নভেম্বরের পূর্বে সরকার সসম্মানে পদত্যাগ না করলে ৩ নভেম্বরের পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতির সকল দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর ঢাকায় জনতার মহাস্রোত নামবে। জনতার মরাস্রোতে সরকার ভেসে যাবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলপন, সর্বত্র অশান্তির আগুন জ্বলছে। মানুষ গড়ে থাকলে খুন হয়, আর রাস্তায় বের হলে হয় গুম। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা যাচ্ছে না। সরকার বাকশাল কায়েম করতে চায়। এ জন্যেই স্বচ্ছ ভোট দিতে চায় না। তামাশার ভোট আয়োজন করলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। জাতীয় সরকারের অধীন ছাড়া কোনো নির্বাচন সহ্য করা হবে না। তিনি আরও বলেন, দেশ আজ নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করে জলকামান, টিয়ারসেল, বুলেট মেরে জনতার যৌক্তিক আন্দোলন দাবিয়ে রাখতে চায়। সরকার দেশের জনগণের ওপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালাচ্ছে।
পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলের আন্দোলনে বাধা প্রদান করলে রাজপথ আরও প্রকম্পিত হবে। জনতার উত্তাল তরঙ্গ শুরু হবে। সভাসমাবেশে বাধা দিলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
আজ ২ ৭ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৯টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে "চলমাম রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে রাসুল সা.-এর সিরাত" শীর্ষক জাতীয় সিরাত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ।
এতে আলোচনা করেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র সহসম্পাদক মাওলানা লিয়াকত আলী, সংঠনের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি ইমামুদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুফতি রশীদ আহমাদ, বিশিষ্ট লেখক মুহাদ্দিস ও গবেষক মাওলানা মাুহাম্মাদ যাইনুল আবিদীন, মাদরাসাতুস শরফ আল-ইসলামিয়া সোনাগাঁর মহাপরিচালক আল্লামা ওবায়দুল কাদের নদভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. হুসাইনুল বান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম অপু, মাসিক মদিনা সম্পাদক আহমদ বদরুদ্দীন খান, খতিব ও মুফাসসিরে কুরআন মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী। সম্মেলনে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলামিস্ট ও সিরাত গবেষক করেন কবি মুসা আল হাফিজ।
সংগঠনের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর নগদ দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন আলহাজ আালতাফ হোসেন, ডা. শহীদুল ইসলাম, কেএম শরীয়াতুল্লাহ, মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, ফজলুল হক মৃধা, আলহাজ নজরুল ইসলাম খোকন, এম এম শোয়াইব, জিয়াউল আশরাফ, নাযীর আহমাদ শিবলী মুফতি আবদুল আহাদ প্রমুখ।
অধ্যক্ষ মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী বলেন, ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাসুলের সিরাতের বাস্তবায়ন ঘটানো সময়ের অপরিহার্য দাবি। রাসুলের সিরাত অনুসরণ করে আওয়ামী জাহালাতের বিরুদ্ধে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, রাসুল সা. মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। ব্যক্তি জীবন থেকে সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে রাসুল সা.-এর আদর্শ প্রতিষ্ঠা হলে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে জাহালত দূর হবে। অসভ্যতা ও বর্বরতা থাকবে না। রাষ্ট্রের জনতার প্রতি জুলুম হবে না।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইসলামই একমাত্র হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল দলমতের মানুষের জন্য নিরাপদ। ইসলামই মানুষের মুক্তির একমাত্র ঠিকানা।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম বলেন, রাসুল সা.-এর আদর্শ বুকে ধারণ করে রাষ্ট্রীয় সকল জুলুমের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে ছিলাম আছি ও থাকবো ইনশাআল্লাহ।
বক্তারা বলেন, বিরোধী মতের সভা সমাবেশে আশা জনতার স্রোত ঠেকাতে সরকার র্যাব, পুলিশ দিয়ে তল্লাশির নামে হয়রান, বাসাবাড়িতে হানা, গ্রেফতার, নির্যাতন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য চরম অবমাননাকর ও সংবিধান পরিপন্থী।
বক্তারা আরও বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের সর্বস্তরে নবীজীর সিরাত বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান অনাচার, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য বিগত ২ মাস যাবত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা সিরাতবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়। সম্মেলন শেষে হিফজুল হাদিস, প্রবন্ধ, কুইজ ও বক্তৃতা এ ৪ ফরমেটে বিজয়ীদের ৩৬ হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তুলে দেন পীর সাহেব চরমোনাই। এর আগে সিরাত বিষয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম।
বার্তাপ্রেরক
মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান
প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ