19/09/2026
নারীসহ ফ্ল্যাটে সাবেক ওসি, ৯৯৯ কলে পুলিশ-ফায়ার সার্ভিসের অভিযান
প্রতিবেদন
রাজশাহী, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: রাজশাহী নগরের নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এক নারীসহ পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে উদ্ধারের পর থানায় নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সেখানে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা দরজা বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ফ্ল্যাটে প্রবেশ করা হয়।
মাহবুব আলম ২০২৪ সালে রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত এবং নওগাঁ জেলা পুলিশের সঙ্গে তাঁর কর্মসংযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৯৯৯ নম্বরে ফোন
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাহবুব আলমের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া আন্নি আক্তার শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটে যান। তাঁর দাবি, মাহবুব সেখানে অন্য এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
দরজায় দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও দরজা খোলা না হলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা খুলে ভেতর থেকে মাহবুব আলম ও এক নারীকে বের করে আনেন।
নারীকে স্ত্রী দাবি, তালাক নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য
ফ্ল্যাটে থাকা নারীকে মাহবুব আলম তাঁর স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দাবির সমর্থনে তিনি সাংবাদিকদের সামনে কোনো কাবিননামা দেখাননি।
অন্যদিকে মাহবুব আলমের দাবি, আন্নি আক্তারকে তিনি চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত একটি কাগজ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। আন্নি অবশ্য বলেছেন, তিনি কোনো তালাকের কাগজ হাতে পাননি। ফলে তালাকের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নারীর পরিচয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে সানজিদা মৌ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো বক্তব্য দেননি। তাই তাঁর পক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কিছু নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
থানায় নেওয়ার পর কী হয়েছে?
প্রথমদিকে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সময়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ না থাকায় দুজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরে আন্নি আক্তার মাহবুব আলম, তাঁর কথিত পালিত কন্যা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে প্রথম আলো জানিয়েছে। পুলিশ বলেছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “ওসি হাজতে” বা “পরকীয়া করতে গিয়ে গ্রেপ্তার” ধরনের ভাষার সঙ্গে বর্তমান যাচাই করা তথ্য পুরোপুরি মেলে না। প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে থানায় নেওয়া হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলবে।
কর্মস্থলে না থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি ছিল না এবং কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই তিনি রাজশাহীতে গিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের বিষয়টি বিভাগীয়ভাবে দেখা হবে এবং নওগাঁ জেলা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
আগের দায়িত্ব নিয়েও তথ্য
মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে একজন ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এরপর তাঁকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে।
তবে এসব পুরোনো অভিযোগের বিস্তারিত বিচারিক ফলাফল সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সেগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
অভিযোগ ও সত্যতার মধ্যে পার্থক্য জরুরি
আন্নি আক্তার মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে মাহবুব আলমের বক্তব্যে তালাক এবং ফ্ল্যাটে থাকা নারীকে স্ত্রী দাবি করার বিষয়টি এসেছে। এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি ও আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফল প্রয়োজন।
সুতরাং বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য হলো: ১৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর একটি ফ্ল্যাট থেকে মাহবুব আলম ও এক নারীকে পুলিশ-ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বের করে থানায় নেওয়া হয়েছিল; পরে তাৎক্ষণিক ফৌজদারি অভিযোগ না থাকায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আন্নি আক্তারের লিখিত অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী অনুসন্ধান ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ সতর্কতা
ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা নৈতিকতার অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার না করে অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্য আলাদা করে দেখা জরুরি। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্তের আগে তাকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।