Kamrangirchar Thana Awami League

Kamrangirchar Thana Awami League

Share

Unofficial page of Kamrangirchar Thana Awami League. Join us in shaping a better tomorrow! #WithOurPartyPrinciple #BangladeshAwamiLeague

13/11/2025

ইউনুস সরকারের কাউন্টডাউন শুরু, পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে
-----

দেশের রাজনৈতিক আকাশে এখন ঘন কালো মেঘ। ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে যে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও হতবাক। আজ থেকে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক কর্মসূচী—যার লক্ষ্য একটাই, “ইউনুস হটাও, দেশ বাঁচাও।” এই কর্মসূচী চলবে ২০ তারিখ পর্যন্ত, আজকের লকডাউনের প্রতিধ্বনি ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে পাল্লাভর্তি সাড়া জাগিয়েছে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দিয়েছে—মানুষ আর চুপ নেই। অবৈধ, অগণতান্ত্রিক ও জনগণবিমুখ সরকারের বিরুদ্ধে এই লকডাউন যেন এক নতুন জাগরণের সূচনা। মানুষ এখন বুঝে গেছে, দেশ বাঁচাতে হলে প্রথমেই ইউনুসের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনুস সরকারের অবস্থান এখন লেজেগোবরে। প্রশাসন বিভক্ত, আমলারা দ্বিধাগ্রস্ত, আর মাঠের কর্মীরা দিশাহারা। এই অবস্থায় একটুখানি চাপ বা জনতার এক জোয়ারই হতে পারে সরকারের পতনের কারণ। কেউ কেউ মনে করেন, পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হলে ইউনুস পালানোর পথ খুঁজবেন; আর পালাতে না পারলে, আত্মহননের পথও বেছে নিতে পারেন—ইতিহাসের বহু স্বৈরশাসকের মতোই।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশজুড়ে যে গণআন্দোলনের ধারা তৈরি হচ্ছে, তা এখন থামার নয়। এই আন্দোলন কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটি জনগণের আন্দোলন—অত্যাচার, নিপীড়ন ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াই। আজকের লকডাউন প্রমাণ করেছে, জনতা একজোট হলে কোনো শক্তিই তাদের রুখতে পারে না।

ইউনুস পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে—এ ঘোষণা এখন রাস্তায়, জনসভায়, প্রতিটি মানুষের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটবে কেবল তখনই, যখন ইউনুস স্বেচ্ছায় গদি ছাড়বেন অথবা জনগণের ঢেউয়ে তা ভেসে যাবে।

দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে—যেখানে ভয় নয়, আশা কথা বলে; যেখানে প্রজন্মের শপথ একটাই—বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে দুর্বৃত্তের শাসন থেকে, আবার ফিরিয়ে আনতে হবে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের মুক্তিযুদ্ধের ধারক বাহক, মেহনতি মানুষের আশার আলো, দেশের মানুষের মুক্তির একমাত্র ভরসা তিনি তাকে মিথ্যা মামলায় ফাসানো হচ্ছে যা দেশের ৮০ ভাগ মানুষ মেনে নিতে পারছে না। তাই জনগন স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে ক্ষমতা আর দেখতে চায় না, ইউনুস গংরা দেশের শত্রু এদের বিচায় মানুষ।

আন্দোলনকারীরা স্পষ্টভাবে বলেছেন —ইউনুস পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।



Bangladesh Awami League

03/11/2025

“শোক থেকে শক্তি,
শোক থেকে হোক
মুক্তিকামী বাঙালি জাগরণ”

৩রা নভেম্বর জাতীয় জেল হত্যা দিবস
জাতীয় চার নেতার প্রতি কামরাঙ্গীচর থানা আওয়ামী পক্ষ থেকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু

16/10/2025

আজ অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

২০২৪ সালের এই দিনে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হন। আমরা বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদকে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ।

16/10/2025

অবৈধ দখলদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে এবং দেশবিরোধী সকল শক্তিকে সঙ্গে নিয়্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দমন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নেতাকর্মীদের ইস্পাত-দৃঢ় মনোবল ও আদর্শের প্রতি অবিচলতা প্রতি মূহুর্তে জানান দিচ্ছে বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগ অদম্য ও অপ্রতিরোধ্য।

দেশ ধ্বংসের পাঁয়তারা রুখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এ দাবিগুলো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে এগুলো প্রকাশ করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিজ নিজ দায়িত্বে এটা প্রকাশ করে প্রচারের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

একইসাথে এটা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারের পুনরায় আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক

Bangladesh Awami League

08/10/2025

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ৮ অক্টোবর ২০২৫

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জননেত্রী শেখ হাসিনা সর্বোপরি বাংলাদেশকে নিয়ে তারেক রহমানের অযৌক্তিক, অসংলগ্ন, ভিত্তিহীন ও মনগড়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিবৃতি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ করেছে যে, লন্ডনে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যে মন্তব্য করেছে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বিনষ্ট, অসহনশীলতাকে উসকে দেওয়া ও সুস্থ গণতান্ত্রিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার প্রক্রিয়াকে আরও জোরালো করবে। তারেক রহমানের বক্তব্যের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। তাতে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের কোনো সম্ভাবনা নেই। আছে জনকল্যাণমুখী রাজনীতি ব্যতিরেকে লুটপাট তন্ত্রের যে নীতিতে বিগত দিনে তাদের রাজনীতি পরিচালিত হয়েছে সেটাকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা।

তারেক রহমান হত্যা, লুটপাট, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের দায়ে আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত। এমন নেতা নিশ্চয়ই দেশ ও জাতিকে কিছু দিতে পারে না, বরং জনগণের ন্যায্য হিস্যা কেড়ে নেয়। সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতায় না আসলেও গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা যে পরিমান খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলবাজি করেছে, সেটাই তার প্রমাণ এবং বিএনপি বোধহয় পৃথিবীতে আত্মস্বীকৃত সর্বাধিক চাঁদাবাজ, দখলবাজ, সন্ত্রাসীদের দল। আর তারেক রহমান তাদের নেতা। তারেক রহমানের প্রধান কাজ এসব চাঁদাবাজ, দখলবাজ সন্ত্রাসীদের প্রশয় দেওয়া ও লালন-পালন করা। তাই তার কোনো কথাই জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে না।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতি নিয়ে তারেক রহমানের মন্তব্য করার কোনো নৈতিক অধিকারই নেই। কেননা আওয়ামী লীগ রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনকল্যাণ আর বিএনপির রাজনীতির নীতি হলো জনগণের অধিকার হরণ। গণবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানে থাকার কারণে বিএনপি ও তারেক রহমান কখনোই জনগণের ভাষা বোঝে না। ষড়যন্ত্রের রাজনীতির কাছে হেরে গেলেও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থার সংগঠন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা ভাগ্যোন্নয়নের নেতা। তাই দেশের জনগণ অবলীলায় বলে, ' আগেই ভালো ছিলাম। ' দেশের জনগণ নির্ভয়ে ও নিশঙ্কচিত্তে তাদের রায় দিতে পারলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই রায় দেবে। এটা বুঝতে পেরেই জনগণকে একটা ভয়ের মধ্যে রেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচন করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণের শক্তি অপ্রাজেয়, গণশক্তি অপ্রতিরোধ্য। তারা যে কোনোভাবে এই রাক্ষসপুরীর হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের লড়াই-সংগ্রামের কাফেলায় শামিল আছে।

আওয়ামী লীগ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে দেশের জনগণের রায়ের মাধ্যমে— কোনো বিদেশি শক্তির প্রেস্ক্রিপশনে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি ও জনবিচ্ছিন্ন নেতার যোগসাজশে নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছে, যেন তারা অসত্য প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে সুমহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণ, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ থাকে।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
Bangladesh Awami League

05/10/2025



জরুরি নির্দেশনাঃ
পুলিশের ওসি, ইন্সপেক্টর , এস আই, এ এস আই
ডিবি পুলিশের ওসি, এস আই
এবং
র‍্যাব এর কমান্ডিং অফিসার ও অন্যান্য পদমর্যাদার অফিসাররা
- বিনা মামলা ও ওয়ারেন্টে গ্রেফতার
- আওয়ামী লীগ কর্মীদের বাড়িতে তল্লাসির নামে ভাংচুর ও পরিবারকে হেনস্তা
- বাজার, রাস্তাঘাট বা পাবলিক প্লেস থেকে কোন ওয়ারেন্ট ছাড়া, তদন্ত ছাড়া গ্রেফতার
- ফোন করে প্রচ্ছন্ন হুমকি ও চাঁদাবাজি
- অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে গ্রেফতার
- বিএনপি ও জামাত নেতাদের সাথে আঁতাত করে মামলায় নাম ঢুকানো
আরও নানা রকম মানবাধিকার হরণের সাথে জড়িত তাদের নাম, সম্ভব হলে ছবি, তাদের র‍য্াঙ্ক, মোবাইল নম্বর এবং মোবাইল ও সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ [ যদি থাকে ] এরকম তথ্য ইমেইল করুন [email protected] এই মেইলে, ১২ অক্টোবর, ২০২৫ বাংলাদেশ সময় রাত ১১.৫৯ এর মধ্যে।

ইতোমধ্যেই আমরা বেশ কিছু পুলিশ র‍্যাব কর্মকর্তার নাম পেয়েছি, তাদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। যারা মেইল করেছেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সকল সংস্থা এসব অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সোচ্চার।



Bangladesh Awami League

05/10/2025

বঙ্গবন্ধুর চার নীতি এবং বাংলাদেশের চার স্তম্ভ

শেখ মুজিবুর রহমানের আবির্ভাব বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা। বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্ব একটি ভাষাভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি রূপকথার নায়কের মতোই উজ্জ্বল। পৃথিবীর ইতিহাসে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইতালিতে ম্যাটসিনি ও গ্যারিবল্ডি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ওয়াশিংটন ও ভারতের মহাত্মা গান্ধী যেমন; বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তেমনই একজন মহানায়ক। স্বাধীনতার পর নতুন একটি সংবিধান প্রণয়ন করে দেশের জনগণকে স্থিতিশীলতা এনে দেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর কাছে মূল লক্ষ্য ছিল পুরোনো পাকিস্তানি শাসন-শোষণের রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো ভেঙে ফেলা। এবং দুঃখী ও মেহনতি মানুষের রাজনীতি, গণমানুষের স্বার্থে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি, নিজ দেশের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন। তাই বঙ্গবন্ধু বলতেন, 'আমরা চাই শোষিতের গণতন্ত্র, আমরা চাই না শোষকের গণতন্ত্র।' বঙ্গবন্ধু শোষিতের গণতন্ত্র বলতে এমন গণতন্ত্রকে বুঝতেন, যা শোষিত মানুষের জন্য। শোষিত মানুষের স্বার্থে এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত। বিশেষ করে কৃষক-শ্রমিক, দুঃখী-মেহনতি মানুষকে যেন কেউ শোষণ করতে না পারে। বঙ্গবন্ধু শোষণমুক্ত সোনার বাংলা গঠনের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। শ্রেণিবিভক্ত সমাজে পশ্চাৎপদ অবহেলিত বিশাল জনগোষ্ঠী এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তি, দল ও শক্তির সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অনড়।

১৯৭২ সালের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ নেতারা দলের এক নতুন ভাবাদর্শ প্রচার করতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই রাষ্ট্রীয় মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে সৃষ্ট এই তত্ত্বের নাম হয় মুজিববাদ। দেশব্যাপী মুজিববাদের প্রচারাভিযানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘোষণা করেন যে- এই তত্ত্বের লক্ষ্য হলো বাঙালি জাতিকে সংহত করা।

মুজিববাদ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর ব্যাখ্যা ছিল নিম্নরূপ, ‘মুজিববাদকে ভাবাদর্শ হিসেবে ধরতে গলে দার্শনিকদের তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। আমি শুধু মুজিববাদ নামে যা আখ্যায়িত করা হয়েছে, সে সম্পর্কে নিজে যা বুঝি, তা বলতে পারি। সবার আগে আমি বিশ্বাস করি গণতন্ত্র, গণতন্ত্রে বিশ্বাসের সাথে সাথে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, শুধু শোষণমুক্ত সমাজেই গণতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব। ঠিক এ জন্যই আমি গণতন্ত্রের সাথে সমাজতন্ত্রের কথা বলি। আমি আরো বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশে যত ধর্ম আছে, তার সবগুলোর সমঅধিকার থাকবে। এর অর্থ আমি বুঝি ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মপালনের স্বাধীনতা। শেষে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা, তা হলো বাঙালি সংস্কৃতি, ভাষা, কৃষ্টি এবং সমগ্র বাঙালি পরিবেশে অনুপ্রেরণা জোগানোর প্রয়োজনীয়তা। যাকে আমি জাতীয়তাবাদ বলে আখ্যায়িত করি। (সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, প্রস্তাবনা)

১৯৭২ সালের ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রথম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও সমাজতন্ত্রকে নির্বাচন করা হয়। এই চার মূলনীতির ভিত্তিতে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়।

বাংলাদেশের সংবিধানেও কতকগুলো রাষ্ট্রীয় মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের মহান সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, যে সকল মহান আদর্শ বা চেতনা আমাদের বীর বাঙালি জাতিকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদের প্রাণ উৎসর্গ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল তা হলো-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িকতা এই মহান সংবিধানের মূলনীতি হবে। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ৮নং অনুচ্ছেদ থেকে ২৫নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

১. জাতীয়তাবাদ

বাঙালি জাতীয়তাবাদ হলো বাঙালি থেকে বাংলাদেশ। বাঙালিরা দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছেন। তা করেছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী নেতৃত্বে। বাঙালিদের এ যুদ্ধ হাজার বছরের সংগ্রামের ঘনীভূত রূপ। তাই ব্যাপকভাবে বলতে গেলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ হলো বাঙালি জাতির প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসের বিকশিত গতিধারার রূপায়ণ। এর পরিধি অসীম। জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল চরম মরণ-সংগ্রামে।

আমাদের মহান সংবিধানের প্রধান চারটি স্তম্ভের মধ্যে একটি অন্যতম স্তম্ভ জাতীয়তাবাদ। অভিন্ন ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে একই ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে লালিত, বাঙালি জাতি ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে নিজেদের ঐতিহ্য ও মননে পাকিস্তানি জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা মনে করতে শুরু করে। বাঙালি সাধারণ জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তি সংগ্রামের মহান চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

তাই আমাদের সংবিধানের ৯নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট, যা বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছিলেন সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি। বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতির মূলে রয়েছে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অভিন্নতা। বাঙালিরা একটি স্বতন্ত্র জাতি। এই জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করেই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে তারা বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বস্তুত আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি। আমরা একটি স্বতন্ত্র, স্বাধীন জাতি। এ স্বাতন্ত্র্যবোধ ও স্বকীয়তাই আমাদের এক সুদৃঢ় ঐক্যে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

২. সমাজতন্ত্র

বঙ্গবন্ধু মনে করতেন- দুর্নীতি প্রথাগত এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থার একটি প্রক্রিয়াজাত ফলাফল। সেজন্য বঙ্গবন্ধু ঘুণে ধরা পুঁজিবাদী সমাজকে ভেঙে নতুন সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বাকশাল কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।

প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে অর্থ সম্পদের অবাধ ও মুক্ত প্রতিযোগিতা চলে। দরিদ্র জনসাধারণ এ ধরনের প্রতিযোগিতায় সমান সুযোগ পায় না। শুধু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে এবং তখনই আর্থসামাজিক, মানবাধিকার ও জনগণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা আসতে পারে। সেই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শোষণহীন সমাজব্যবস্থা গড়তে চেয়েছেন বঙ্গবন্ধু।

সমাজতন্ত্রের প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেছেন, 'আমাদের সমাজতন্ত্র মানে শোষণহীন সমাজ। সমাজতন্ত্র আমরা দুনিয়া থেকে হাওলাত করে আনতে চাই না। এক এক দেশ, এক এক পন্থায় সমাজতন্ত্রের দিকে এগিয়ে চলেছে। সমাজতন্ত্রের মূলকথা হলো, শোষণহীন সমাজ। সেই দেশের কী ক্লাইমেট, কী ধরনের অবস্থা, কী ধরনের মনোভাব, কী ধরনের আর্থিক অবস্থা, সব কিছু বিবেচনা করে স্টেপ বাই স্টেপ এগিয়ে যেতে হয় সমাজতন্ত্রের দিকে। রাশিয়া যে পন্থা অবলম্বন করেছে, চীন তা করে নাই, সে অন্যদিকে চলেছে। রাশিয়ার পার্শ্বে বাস করেও যুগোস্লাভিয়া, রুমানিয়া, বুলগেরিয়া তাদের দেশের এনভাইরমেন্ট নিয়ে, তাদের জাতির ব্যাক গ্রাউন্ড নিয়ে, সমাজতন্ত্রের অন্য পথে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যান- ইরাক একদিকে এগিয়ে চলেছে, আবার মিসর অন্যদিকে চলেছে।

মহান সংবিধানের অন্যতম একটি মূলনীতি হলো সমাজতন্ত্র। বাংলাদেশে একটি শোষণমুক্ত এবং সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কায়েম করার কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ১০নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে যে, মানুষের ওপর মানুষের শোষণের অবসান করে ন্যায়ানুগ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে শোষণহীন সমাজব্যবস্থা কায়েম করা হবে। সমাজতন্ত্রের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে সংবিধানে উল্লেখ করা হয় যে, রাষ্ট্র তার প্রয়োজনে যেকোনো ধরনের সম্পত্তিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীনে গ্রহণ করতে পারবে। সংবিধানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেহনতি মানুষকে সকল প্রকার শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। রাষ্ট্রের উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থার মালিক হবে জনগণ তথা রাষ্ট্র। আইনের ধারা আরোপিত সীমার মধ্যে ব্যক্তিগত মালিকানার বিধানও রাখা হয়।

৩. গণতন্ত্র

বঙ্গবন্ধুর শোষিতের গণতন্ত্র হলো এমন এক গণতন্ত্র, যা গরিব মানুষের জন্য, তাদের স্বার্থে এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত। এর অর্থ হল এই যে, আজকে যে প্রচলিত গণতন্ত্র রয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘিষ্ঠ কতিপয় ধনীক চক্র রাষ্ট্রক্ষমতাকে দখল করে আছে, এবং তাদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। এর পরিবর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিপুল গণ-মানুষ সেই ব্যবস্থাটাকে বদলে দিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনায় সরাসরি অংশ নেবে, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র কাজ করবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ''আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। গণতন্ত্র, সেই গণতন্ত্র যা সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধন করে থাকে। আগেও আমরা দেখেছি যে, গণতন্ত্র যে সব দেশের চলেছে, দেখা যায়, সেই সব দেশে গণতন্ত্র পুঁজিপতিদের প্রটেকশন দেওয়ার জন্য কাজ করে। সেই গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা চাই, শোষিতের গণতন্ত্র এবং সেই শোষিতের গণতন্ত্রের অর্থ হলো- আমরা দেশে যে গণতন্ত্রের বিধিলিপি আছে, তাতে সেসব বন্দোবস্ত করা যাতে এ দেশের দুঃখী মানুষ রক্ষা পায়, শোষকেরা যাতে রক্ষা পায় তার ব্যবস্থা নাই। সেজন্য আমাদের গণতন্ত্রের সঙ্গে অন্যের পার্থক্য আছে। শোষিতকে রক্ষা করার জন্য এই গণতন্ত্র ব্যবহার করা হবে।"

আমাদের সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি হচ্ছে গণতন্ত্র এবং স্বৈরশাসনের অবসান। সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে, 'প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে; মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রনৈতিক ব্যবস্থা হবে গণতান্ত্রিক। প্রাপ্তবয়স্কদের সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নাগরিকগণ । রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য দূর করাই হবে গণতন্ত্রের লক্ষ্য। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে গণতন্ত্র রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবন ব্যবস্থার একটি পরিপূর্ণ রূপ নির্দেশ করবে। গণতন্ত্র শুধু শাসনব্যবস্থার রূপ নির্দেশ করবে না, সামাজিক আদর্শ হিসেবেও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। রাষ্ট্র পরিচালনার সকল স্তরে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।'

৪. ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা

সংবিধানের অন্যতম মূল আদর্শ বা নীতি ধর্মনিরপেক্ষতা। আমাদের সংবিধানের ১২নং অনুচ্ছেদে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। প্রত্যেক নাগরিক তার নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচার করতে পারবে। কোনো বিশেষ ধর্মাবলম্বী ব্যক্তির প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া বা তার প্রতি কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। সমাজজীবন হতে সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতার অবসান ঘটিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা হবে রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা নয়। তাই ৭২-এর সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের ব্যবহার, কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তার উপর উৎপীড়ন করা হবে না।'

১৯৭২ সালের ৭ জুন রেসকোর্স ময়দানে ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, 'বাংলাদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ধর্মনিরপেক্ষ মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান মুসলমানের ধর্ম পালন করবে। হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে। খ্রিষ্টান তার ধর্ম পালন করবে। বৌদ্ধও তার নিজের ধর্ম পালন করবে। এই মাটিতে ধর্মহীনতা নাই, ধর্মনিরপেক্ষতা আছে। এর একটা মানে আছে। এখানে ধর্মের নামে ব্যবসা চলবে না। ধর্মের নামে মানুষকে লুট করে খাওয়া চলবে না। ধর্মের নামে রাজনীতি করে রাজাকার, আল-বদর পয়দা করা বাংলার বুকে আর চলবে না। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।'

অসাম্প্রদায়িকতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, 'ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। তাতে বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্ম-কর্ম করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে। তাদের বাধা দেওয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রের নাই। হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কারো বাধা দেওয়ার মতো ক্ষমতা নাই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে। তাদের বাধা দিতে পারবে না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। ২৫ বছর আমরা দেখেছি ধর্মের নামে জোচ্চরি, ধর্মের নামে বেঈমানি, ধর্মের নামে অত্যাচার, খুন, ব্যাভিচার বাংলাদেশের মাটিতে চলেছে। ধর্ম অতি পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।

04/10/2025

চাঁদাবাজির অন্ধকার যুগ চলছে, ইউনুস সরকারের ছায়াতলে বিএনপি–জামায়াত–এনসিপির নৈরাজ্য

বাংলাদেশ আজ এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতার মুখোমুখি। ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে চাঁদাবাজির মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাবেক গভর্নর ও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্টভাবে বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ নৃশংস সমস্যার মোকাবেলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন চরম বিপর্যস্ত। বড় ব্যবসায়ী থেকে ফুটপাতের দোকানদার, রিকশাচালক থেকে কৃষক, এমনকি ভিক্ষুক—কেউই চাঁদাবাজির জালে নিরাপদ নয়।

চাঁদাবাজির পেছনে যে রাজনৈতিক ছায়া কাজ করছে, তা অস্বীকার করা যায় না। বিএনপি–জামায়াত–এনসিপির নেতা-কর্মীরা সক্রিয়ভাবে এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তারা ইউনুস সরকারের ছায়াতলে বসে দেশের প্রতিটি কোণে ভয়, আতঙ্ক এবং অর্থনৈতিক নিপীড়ন ছড়াচ্ছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, প্রশাসন নিশ্চুপ দর্শক। হত্যা, খুন, ধর্ষণ—এই নৈরাজ্যের সঙ্গে প্রশাসন কার্যত নিঃশব্দ। যদি এই গোষ্ঠী ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে, তাহলে মেয়েরা ঘরে-বাইরে নিরাপদ থাকবে না। প্রতিবাদ করলে প্রকাশ্যে খুন, প্রশাসন তখনও নির্বিকার।

এরা ইসলামের মুখোশ পরে, কিন্তু প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা থেকে তারা শতভাগ বিচ্যুত। ইসলাম শান্তি, ন্যায় এবং সহনশীলতার ধর্ম, যেখানে মানুষের ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। কোরআনে বলা হয়েছে—“তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আর আমার ধর্ম আমার।” অথচ জামায়াত ও তাদের সহযোগীরা ধর্মকে মানুষের শোষণ এবং রাজনৈতিক দাপট চালানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তরুণ সমাজ বিভ্রান্ত হচ্ছে, সমাজে ঘৃণা ও ভয় ছড়িয়ে পড়ছে।

চাঁদাবাজি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে না এটি দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যারা ক্ষমতার প্রতীক্ষায় আছে, তারা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে নিপীড়ন করছে। ছোট ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী এবং কৃষকরা তাদের চাঁদা না দিলে জীবন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এমনকি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও চাঁদাবাজির চাপের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলছে।

ড. সালেহউদ্দিনের মন্তব্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ একা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন শক্তিশালী, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার এবং দৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। কারণ চাঁদাবাজির অপরাধ সরাসরি রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। যখন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তখন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা অনুপস্থিত থাকে।

বাংলাদেশের মানুষ আজ এক গভীর সংকটে দাঁড়িয়ে। চাঁদাবাজি কেবল অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, দেশের গণতন্ত্রও মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রশাসন যখন নিশ্চুপ, অপরাধীরা লুটপাট, হত্যাযজ্ঞ ও ভয় ছড়িয়ে দিচ্ছে, তখন দেশের ভীতু জনগণ নিঃশব্দ। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে গণভোটের মাধ্যমে শক্তিশালী নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা একমাত্র সমাধান।

দেশকে রক্ষা করতে হলে এখনই সময় শক্তিশালী রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার, প্রশাসনকে সক্রিয় করার এবং চাঁদাবাজদের দমন করার। নাহলে বাংলাদেশের আগামী প্রজন্ম ভয়ে, ঘৃণায় এবং অরাজকতায় ভুগবে।⁩

29/09/2025

⁨বিএনপি মানেই লোপাট, টেন্ডারবাজী, জঙ্গী উত্থান, অরাজকতা, চাটুকারী আর বিশ্বাসঘাতকতা
----
বিএনপি নামের দলটি আজ বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ ছাড়া আর কিছু নয়। নিজেদের “জনগণের দল” বলে প্রচার করলেও বাস্তবে তারা জনগণের রক্ত চুষে খাওয়া এক চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আর চাটুকারীর দল।

ক্ষমতায় আসার আগেই চাঁদাবাজি

বিএনপি ক্ষমতায় বসার আগেই চাঁদাবাজির মহড়া দিয়েছে। থানায় মামলা তুলতে টাকা, কোর্টে রায় পেতে ঘুষ, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খোলা চাঁদা—সবই ছিল বিএনপির সংস্কৃতি। স্কুল-কলেজে তাদের নেতাকর্মীরা অস্ত্রের ঝনঝনানি আর চাঁদাবাজির দাপটে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল। জনগণের জন্য রাজনীতি নয়—বিএনপির রাজনীতি মানে ছিল লোপাট, টেন্ডারবাজি আর সন্ত্রাস।

জঙ্গী উত্থান ও অরাজকতা

২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি দেশজুড়ে জঙ্গী উত্থানের সুযোগ করে দিয়েছিল। নিরীহ মানুষ, সংখ্যালঘু, সাংবাদিক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কেউই তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা পায়নি। দেশে গণতন্ত্র নয়, বরং অরাজকতা ছড়ানোই হয়ে উঠেছিল বিএনপির প্রধান কৌশল।

আজকের চাটুকারীতা

সময় গড়িয়েছে, কিন্তু বিএনপির চরিত্র বদলায়নি। আজ তারা ইউনুস সরকারের চাটুকারীতে মেতে আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি সবকিছু বিসর্জন দিয়ে বিদেশি প্রভুদের পদলেহনে ব্যস্ত। আমেরিকার হুকুমে নাচা, পাকিস্তানের সাথে আঁতাত এটাই আজ বিএনপির মূল এজেন্ডা।

মহাসচিব না বডিগার্ড

সবচেয়ে লজ্জাজনক দৃশ্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমেরিকায় গিয়ে ইউনুসকে পাহারা দিতে বডিগার্ডে পরিণত হয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে একটি বড় দলের মহাসচিব কি আদর্শের প্রতীক নাকি বিদেশি প্রভুর দেহরক্ষী? বিএনপি কি রাজনৈতিক দল নাকি বিদেশি চাটুকারদের ভাড়াটে সৈন্যদল?

বিএনপির আসল রূপ

জনগণ বোঝে গেছে বিএনপি মানেই বিশ্বাসঘাতকতা। বিএনপি মানেই পাকিস্তানপ্রেম, বিএনপি মানেই জঙ্গী উত্থান, বিএনপি মানেই চাঁদাবাজি আর বিদেশি দালালি। তারা জনগণকে ব্যবহার করে, অথচ জনগণের পাশে দাঁড়ায় না।

বাংলাদেশের মানুষ আজ ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপির থেকে । এরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির উত্তরসূরি, যারা সুযোগ পেলেই দেশকে বিক্রি করে দেয় বিদেশি দালালের কাছে।
বিএনপি আর কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়—এটি একটি চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, জঙ্গী উত্থানকারী, চাটুকার ও দেশবিরোধী গোষ্ঠী। বিএনপির ধ্বংসই বাংলাদেশের মুক্তির একমাত্র পথ।⁩

27/09/2025

অন্ধকার দুঃশাসনে একমাত্র আলো শেখ হাসিনা


বাংলাদেশের ইতিহাস যতটা রক্তে রঞ্জিত, ততটাই সংগ্রাম, স্বপ্ন আর আশার। সেই ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে দাঁড়িয়ে আছেন এক মহীয়সী নারী—জননেত্রী শেখ হাসিনা। আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা শুধু একজন ব্যক্তিকে স্মরণ করি না; স্মরণ করি এক মহান সংগ্রামী আত্মাকে, যিনি কোটি মানুষের স্বপ্নের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

অন্ধকার থেকে আলো

১৯৭৫-এর কালরাত্রি শুধু শেখ হাসিনার পরিবারকেই নিঃস্ব করেনি, পুরো জাতিকে করেছে পথহারা। বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত অবস্থায় থেকেও তিনি দেশের জন্য বুকভরা ভালোবাসা লালন করেছেন। পরে দেশে ফিরে যখন আওয়ামী লীগের হাল ধরলেন, তখন শুরু হলো এক অনন্ত লড়াই গণতন্ত্র বনাম স্বৈরাচার, মানবতার পক্ষে বনাম দখলদার শক্তির বিপক্ষে।

আজও বাংলাদেশ এক কঠিন ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দখলদার ড. ইউনুসের দুঃশাসন, বিদেশি স্বার্থের দৌরাত্ম্য ও জঙ্গিবাদের ছায়া আবারও অন্ধকার নামাতে চাচ্ছে। সাধারণ মানুষ হাহাকার করছে, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে জর্জরিত। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষের একটাই ভরসা শেখ হাসিনা। তিনি ছাড়া জাতিকে এই দুঃশাসন থেকে মুক্ত করার আর কোনো বিকল্প নেই।

জননেত্রী শেখ হাসিনা সংগ্রামের প্রতীক

শেখ হাসিনা শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি মমতার মা, সাহসের সৈনিক, মানবিকতার মূর্ত প্রতীক। তিনি জানেন বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। তাই তিনি কখনও মাথা নত করেননি বিদেশি চাপ কিংবা দখলদার শক্তির কাছে। পদ্মা সেতু তাঁর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক, ডিজিটাল বাংলাদেশ তাঁর দূরদর্শিতার ফসল, আর দারিদ্র্য বিমোচন তাঁর মানবিক অঙ্গীকারের সাফল্য।

জন্মদিনের তাৎপর্য

আজকের দিনে আমরা উপলব্ধি করি, শেখ হাসিনার জন্ম কেবল একটি পরিবারের জন্য আশীর্বাদ নয়, পুরো জাতির জন্য কল্যাণের আলো। তিনি থাকলেই বাংলাদেশ থাকে নিরাপদ তিনি নেতৃত্ব দিলেই দেশ এগোয় উন্নয়নের পথে। তাঁর জন্মদিন তাই শুধু শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়,এটি প্রতিজ্ঞা করার দিন যে, আমরা তাঁর নেতৃত্বে দুঃশাসন ও দখলদারিত্বকে পরাজিত করব।

বাংলাদেশের মানুষের চোখে শেখ হাসিনা এখন আলোর প্রদীপ, যিনি অন্ধকার দূর করে ভবিষ্যতের পথে পথ দেখান। ড. ইউনুসের দুঃশাসন, দুর্নীতি আর ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পেতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তাঁর জন্মদিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব তাঁর পাশে, মুক্তির সংগ্রামে, উন্নয়নের অভিযাত্রায়।

শুভ জন্মদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলার মাটি ও মানুষ আপনাকে ভালোবাসে, আপনিই আমাদের শেষ আশ্রয়।



Bangladesh Awami League

27/09/2025

আর সাম্প্রদায়িকতা যেন মাথাচারা দিয়ে উঠতে না পারে। ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ। মুসলমান তার ধর্মকর্ম করবে। হিন্দু তার ধর্মকর্ম করবে। বৌদ্ধ তার ধর্মকর্ম করবে। কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না।
- বঙ্গবন্ধু

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Kamrangirchar
Dhaka
1211