Hidayah Path
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Hidayah Path, Social service, Dhaka.
Spreading the نور of Islam 🌙
Daily Quran, Hadith & Islamic reminders
Stay connected with Deen 🤍
ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা 🌙
প্রতিদিন কুরআন, হাদিস ও ইসলামিক রিমাইন্ডার
দ্বীনের সাথে থাকুন 🤍
এক বুযুর্গ বোনদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“ আমার প্রিয় বোনেরা, কথাগুলো একটু মন দিয়ে শোনো...
কখনো কোনো পরপুরুষ বা অপরিচিত মানুষকে তোমার ব্যক্তিগত সময় দিও না। মনে রেখো, একটা সময় আসবে যখন সেই মানুষটিই তোমার চরিত্রের দিকে আঙুল তুলবে এবং তোমাকে মানসিক যন্ত্রণার সাগরে ভাসিয়ে দেবে।
ভালোবাসার মতো পবিত্র আবেগের ভুল ব্যবহার কখনো করো না। সবসময় সিরাতে মুস্তাকিম বা সঠিক পথে চলো এবং কেবল বিয়ের পবিত্র বন্ধনকেই গুরুত্ব দাও।
যদি বুঝতে পারো যে পরিবার বা সমাজ এই সম্পর্কের পক্ষে নেই এবং এটি পরিণতির দিকে যাবে না, তবে ভবিষ্যতের বড় কোনো দুঃখ বা লাঞ্ছনা থেকে বাঁচতে আজই সেই সম্পর্কের ইতি টানো। বিশেষ করে মেয়েদের এই সত্যটি গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত।
যৌবনের উন্মাদনায় পুরুষদের কাছে প্রতিটি নারীই আকর্ষণীয় মনে হয়, আর নারীদের কাছে প্রতিটি পুরুষের মায়াবী কথাকেই 'সত্যিকারের ভালোবাসা' মনে হয়।
পুরুষের সামান্য একটু চাহনিও নারীর কাছে বিশেষ কিছু মনে হতে পারে, আর পুরুষের সামান্য সহানুভূতিকে নারী তার ভালোবাসার স্বীকৃতি বলে ভুল করে। এই বয়সটাই এমন—মন কেবল রঙিন স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে।
কারো একটু যত্ন বা খেয়াল পেলেই আমাদের মনে হয় আমরা প্রেমে পড়ে গেছি। কিন্তু এই মোহময় ভালোলাগাগুলো ক্ষণস্থায়ী।
কারো বিশ্বাসের সাথে খেলা করো না। যদি সত্যিই কাউকে ভালোবাসো, তবে সম্মানের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দাও। মনে রেখো, ভালোবাসার জন্য 'সম্মান' অনিবার্য; কেবল শারীরিক আকাঙ্ক্ষাকে ভালোবাসার নাম দিও না।
পুরুষ যখন কোনো নারীকে সত্যিই ভালোবাসে, তখন সে তাকে নিজের সম্মান হিসেবে গণ্য করে এবং আগলে রাখে। সে চায় না তার ভালোবাসার ওপর অন্য কারো নজর পড়ুক।
আর যদি সে তা না করে, তবে বুঝে নিও সেই নারীর স্থান তার হৃদয়ে নেই; সে কেবল বন্ধুদের কাছে নিজের গুরুত্ব বাড়াতে বা সময় কাটানোর জন্য সেই নারীকে ব্যবহার করছে। সেখানে স্বার্থ আছে, সম্মান নেই!
আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন প্রতিটি মেয়ে ও বোনের ইজ্জত-সম্মান হেফাজত করেন এবং তাদের নিজেদের মর্যাদা বোঝার তাওফিক দান করেন।
মনে রেখো বোন, সেই নারীর কোনো সম্মান বাকি থাকে না যে আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে একজন গায়র-মাহরামের কথায় চলে। যার জন্য সে আজ সব বিসর্জন দিচ্ছে, সেই মানুষটিই কাল তাকে 'চরিত্রহীন' বা 'বাজে মেয়ে' অপবাদ দিয়ে নতুন কোনো শিকারের খোঁজে চলে যাবে। তখন সেই মেয়ের কাছে আফসোস ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকবে না।
বিখ্যাত বুযুর্গ হযরত সুফিয়ান সাওরি (রহ.) এর পকেটে সবসময় একটি ছোট চিরকুট থাকত। তিনি বারবার সেটি পকেট থেকে বের করে দেখতেন এবং গভীর চিন্তায় মগ্ন হতেন।
একদিন অসাবধানতাবশত সেই চিরকুটটি তাঁর পকেট থেকে নিচে পড়ে গেল। কৌতূহলী হয়ে লোকজন সেটি কুড়িয়ে নিল। তারা দেখতে চাইল, কী এমন মহামূল্যবান কথা সেখানে লেখা আছে যা ইমামকে বারবার দেখতে হয়?
কাগজটি খুলে তারা অবাক হয়ে দেখল, সেখানে মাত্র একটি লাইন লেখা ছিল:
"সুফিয়ান! আল্লাহর সামনে (হিসাবের জন্য) দাঁড়ানোর কথা মনে রেখো!"
আমরা সারাদিন কত শত অপ্রয়োজনীয় মেসেজ আর নোটিফিকেশন চেক করি, অথচ যে আসল ঠিকানায় আমাদের দাঁড়াতে হবে—সেই রিমাইন্ডারটা কি আমাদের অন্তরে আছে? আজই নিজের জন্য একটি 'চিরকুট' তৈরি করুন, যা আপনাকে রবের কথা মনে করিয়ে দেবে।
সূত্র: সিয়ারু সালাফিস সালিহীন
আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে জাহান্নামের কঠিন শাস্তির বর্ণনা দিয়ে আমাদের সতর্ক করেছেন। পাপাচারী ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য যে ভয়াবহ আবাস অপেক্ষা করছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরা হলো:
১. জাহান্নামের আগুনকে দাউদাউ করে জ্বালিয়ে রাখার জন্য মানুষ এবং পাথরকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। (সূরা বাকারা: ২৪, সূরা তাহরীম: ৬)
২. যখনই জাহান্নামীদের চামড়া পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে, তখনই সেখানে নতুন চামড়া গজিয়ে দেওয়া হবে—যাতে তারা শাস্তির তীব্রতা সমভাবে অনুভব করতে পারে। (সূরা নিসা: ৫৬)
৩. জাহান্নামীদের বিছানা হবে আগুনের এবং তাদের গায়ের চাদর বা পোশাকও হবে আগুনের। (সূরা আরাফ: ৪১)
৪. তৃষ্ণার্ত জাহান্নামীদের পানির বদলে গলিত পুঁজ পান করতে বাধ্য করা হবে, যা তারা চরম অনীহা সত্ত্বেও গিলতে থাকবে। (সূরা ইব্রাহিম: ১৬-১৭)
৫. তাদের পরনের পোশাক হবে অতি দাহ্য গন্ধক বা আলকাতরার, যাতে আগুন দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। (সূরা ইব্রাহিম: ৫০)
৬. শাস্তির চোটে জাহান্নামীদের চিৎকার ও আর্তনাদ এত তীব্র হবে যে, কানে তালা লেগে যাওয়ার উপক্রম হবে। (সূরা হুদ: ১০৬, সূরা আম্বিয়া: ১০০)
৭. তাদের মাথায় ফুটন্ত পানি ঢালা হবে, যা শরীরের ভেতর ঢুকে নাড়িভুঁড়ি সব গলিয়ে বের করে দেবে। উপর থেকে ফেরেশতারা লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাদের পিটাতে থাকবে। (সূরা হজ: ১৯-২২)
৮. আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে জাহান্নামীদের চেহারা এমনভাবে ঝলসে যাবে যে, তাদের চেনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। (সূরা মুমিনুন: ১০৪)
৯. ক্ষুধার জ্বালায় তারা কদর্য 'জাক্কুম' গাছ খাবে, যা পেটে গিয়ে ফুটন্ত তেলের মতো ফুটতে থাকবে। (সূরা আস-সাফফাত: ৬২-৬৭, সূরা দুখান: ৪৩-৪৮)
১০. অপরাধীদের গলায় আগুনের বেড়ী এবং পায়ে শিকল পরিয়ে উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে ফুটন্ত পানিতে নিক্ষেপ করা হবে। (সূরা গাফির: ৭১-৭২, সূরা হাক্কাহ: ৩০)
১১. জাহান্নামের পাহারায় নিয়োজিত আছেন অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোর ফেরেশতারা, যারা আল্লাহর আদেশের তিল পরিমাণ লঙ্ঘন করেন না এবং কারো প্রতি করুণা দেখান না। (সূরা তাহরীম: ৬)
আল্লাহ আমাদের জাহান্নামের ভয়াবহতা থেকে হেফাজত করুন। আমিন
ইমাম ইবনুল জাওযি (রহ.) বলেছেন, "আমি দীর্ঘ সময় নফসের সাথে লড়াই করেছি; কখনো আমি জিতি, কখনো নফস জিতে যায়।
একদিন একান্তে নফসকে বললাম, ধিক্কার তোমাকে! যদি তুমি সন্দেহযুক্ত পথে সম্পদ জমা করো, তবে কি নিশ্চিত যে তুমিই তা ভোগ করবে?
নফস বলল, না।
আমি বললাম, তবে মৃত্যুর সময় এটিই হবে তোমার বড় কষ্ট যে, ভোগ করবে অন্য কেউ আর গুনাহের বোঝা বইবে শুধু তুমি!"
নফস হলো মানুষের হৃদয় এবং রবের মাঝখানে এক বিশাল দেয়াল। নফসকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধ করা ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি বা পরকালের মুক্তি সম্ভব নয়।
আল্লাহ বলেন,
"শপথ নফসের এবং যিনি তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন... যে নিজেকে শুদ্ধ করল সেই সফল হলো, আর যে নিজেকে কলুষিত করল সে ব্যর্থ হলো।" (সূরা শামস: ৭-১০)
ব্যক্তির সংশোধনই জাতির সংশোধন। আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা (নফস) পরিবর্তন না করে।
আজ যারা দ্বীনের পথে চলেন, তাদের মধ্যেও অনেকের পদস্খলন ঘটছে। এর কারণ, নিজেকে গড়ার চেয়ে অন্যকে গড়ায় আমরা বেশি ব্যস্ত। অথচ যে নিজেকে গড়তে পারে না, সে অন্যকে গড়বে কীভাবে?
আল্লাহ সাতটি শপথ করে বলেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করবে, সেই সফল হবে। আর এই শুদ্ধির পুরস্কার হলো চিরস্থায়ী জান্নাত।
নফস কলুষিত হওয়ার লক্ষণগুলো কী কী?
১. ছোট হোক বা বড়, গুনাহ করার পর যদি মনে খটকা না লাগে, তবে বুঝবেন নফস অসুস্থ। মুমিন ব্যক্তি ছোট গুনাহকেও পাহাড়ের মতো ভয় পায়।
২. ইবাদতের স্বাদ হারিয়ে ফেলা। ফজর সালাতের চেয়েও যখন ঘুম ও লেপের উষ্ণতা বেশি মিষ্টি মনে হয়, তখন বুঝবেন নফসের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
৩. তিলাওয়াত, যিকির বা দ্বীনি আলোচনার চেয়ে দুনিয়ার গল্প, হাসি-ঠাট্টা, গীবত বা টাকা-পয়সার চিন্তায় ডুবে থাকা।
নফসকে পরিশুদ্ধির ৫টি কার্যকর পদক্ষেপ:
১. নফসের স্তর নির্ণয় করার চেষ্টা করা। কুরআন অনুযায়ী নফস তিন প্রকার
নফসে আম্মারা: যা কেবল মন্দের আদেশ দেয়। (সূরা ইউসুফ: ৫৩)
নফসে লাওয়াম্মা: যা ভুল করলে নিজেকে ধিক্কার দেয়। (সূরা কিয়ামাহ: ২)
নফসে মুতমাইন্না: যা আল্লাহর স্মরণে শান্ত থাকে। (সূরা ফজর: ২৭-৩০)
২. "আমি অনেক বড় দ্বীনদার" এই অহংকার ছেড়ে নিজের দোষগুলো চিহ্নিত করে নিজেকে সংশোধন করা।
৩. আল্লাহর পথে নিজেকে পরিচালিত করতে মনের বিপরীতে গিয়ে নফসের সাথে যুদ্ধ করা।
৪. ধৈর্য ও বিনয়ের মতো গুণগুলো বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে স্বভাবে পরিণত করা।
৫. আল্লাহর কাছে নিজের মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা এবং এই দোয়া করা,
اَللّٰهُمَّ آتِ نفسي تَقْوَاهَا ، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا ، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আ-তি নাফসী তাক্বওয়া-হা-, ওয়া যাক্কিহা- আন্তা খইরু মান যাক্কা-হা-, আন্তা ওয়ালিইয়্যুহা- ওয়া মাওলা-হা-।
অর্থ:
"হে আল্লাহ! আমার নফসকে তার তাকওয়া (আল্লাহভীতি) দান করুন এবং তাকে পরিশুদ্ধ করুন। আপনিই তো তার সর্বোত্তম পরিশোধনকারী। আপনিই তার অভিভাবক এবং তার মালিক।"
আরবি থেকে অনূদিত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka
