মো. বায়েজীদুর রহমান

মো. বায়েজীদুর রহমান

Share

ব্যক্তিগত পেজ

Photos from মো. বায়েজীদুর রহমান's post 08/05/2026

#আলফা_মেল
#হেলথ_অফিসার
#চোখ_দিয়ে_খাই

ধন্যবাদ আল্লাহকে যিনি আমাকে সুন্দর না বানালেও সুন্দর সুন্দর ক্যামেরা বানিয়ে দিয়েছেন যেসব ক্যামেরায় ছবি তুললে সবাই কমেন্ট করে "সুন্দর লাগছে ভাই", "মিস ইউ ভাই", "ভালোবাসি ভাই", "সুন্দর লাগছে ভাই", "সেই হইছে ভাই"....

01/05/2026

#হেলথ_অফিসার


পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন। সাহিত্যের জগতে তিনি নকশিকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট কবিতার জন্য বিখ্যাত। আমার কাছে তিনি বিখ্যাত ছোটদের হাসির গল্প-১ এবং ছোটদের হাসির গল্প-২ নামের দুটি গল্পের বইযের জন্য। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে কেমন বই। আমরা ছোট বেলায় যেসব গল্প শুনতাম সেসব গল্পের বই।

চাচা আর ভাস্তে সন্ধ্যা বেলায় আলাপ সংলাপ করিতেছে-

ভাস্তে: চাচা,আজ বাজারে গিয়াছিলাম৷
চাচা: যাবি না! তবে কি বাড়ি বসিয়া থাকবি নাকি?

ভাস্তে: একটা কুমড়া লইয়া গিয়াছিলাম৷
চাচা: নিবি না? খালি হাতে যাইবি নাকি?

ভাস্তে: একটা লোক আসিয়া কুমড়াটার দাম জিজ্ঞাসা করিল৷
চাচা: দাম জিজ্ঞাসা করিবে না তো কুমড়াটা মাগনা লইবে নাকি?

ভাস্তে: আমি আট আনা চাহিলাম৷
চাচা: আট আনা চাহিবি না? তবে কি মাগনা দাবি অত বড় কুমড়াটা?

ভাস্তে: সে লোকটা দুই আনা বলিল৷
চাচা: বলিবে না? অতটুকু কুমড়া তুমি আট আনা চাহিলেই সে নিবে কেন?

ভাস্তে: আমি বলিলাম, বাপের পুষ্যি কুমড়া খাইছ কোনো দিন?
চাচা: বেশ বলিয়াছিস৷ এত বড় কুমড়াটা ব্যটা কিনা দুই আনা মাত্র দর করিল!

ভাস্তে: এমন সময় এক পুলিশ আসিল৷
চাচা: আসিবে না? তুমি ভদ্রলোকের ছেলেকে বলিয়াছ, বাপের পুষ্যি কোনো দিন কুমড়া খাইছ? দেখ না কী হয়!

ভাস্তে: পুলিশ আসিয়া কুমড়াটার দাম জিজ্ঞাসা করিল৷
চাচা: করিবে না? পুলিস বলিয়া কুমড়াটা মাগনা লইবে নাকি?

ভাস্তে: আমি কুমড়ার দাম আট আনা চাহিলাম৷
চাচা: বেশ! বেশ! আমার ভাস্তে! দাম চাহিবি না? পুলিশ দেখিয়া ডরাইবি নাকি?

ভাস্তে: পুলিস দুই আনা দাম করিল ৷
চাচা: করিবে না? পুলিশ বলিয়া কি তাহারা জিনিসের দাম-দস্তর জানে না? বলি অতটুকু কুমড়া- তার দাম দুই আনার বেশি আর কত হইবে?

ভাস্তে: আমি বলিলাম, বাপের পুষ্যি কুমড়া খাইছ কোনো দিন?
চাচা: বেশ বলিয়াছিস৷ বেটা আট আনার কুমড়াটা কিনা না দুই আনায় লইতে চায়৷

ভাস্তে: তখন পুলিশ আমাকে ধরিয়া খুব মাইর দিল৷
চাচা: দিবে না? যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা?

ভাস্তে: মারিতে মারিতে আমাকে থানায় লইয়া গেল৷
চাচা: থানায় লইয়া যাইবে না? পুলিশকে তুমি অপমান করিয়াছ৷

ভাস্তে: সেখানে গেলে বড় দারোগা আসিল৷
চাচা: আসিবে না? দেখ না, তোমার ওপর আরও কি দুর্গতি হয়!

ভাস্তে: বড় দারোগা আসিয়া আমাকে ছাড়িয়া দিল ৷
চাচা: দিবে না? তুমি যে রহিমুদ্দির ভাইয়ের বেটা৷

-রহিমুদ্দির ভাইয়ের বেটা

Photos from মো. বায়েজীদুর রহমান's post 24/04/2026

#হেলথ_অফিসার


ছোট গল্পে রাশিয়া সবসময় বেস্ট। ১৮৮৪ সালে আন্তন চেখভ লিখেছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ছোট গল্পটি, যা যুগে যুগে কালে কালে মানুষের তোষামুদে ও ক্রমপরিবর্তনশীল সুবিধাবাদী চরিত্রকে খোদাই করে রেখেছে। পড়েই দেখুন সেই সময়কার রাশিয়ার ছোট্ট এক গ্রামের ঘটনা আর বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কী এমন পার্থক্য ! মাত্র পাঁচ মিনিট লাগবে পড়তে, কিন্তু এই গল্পের রেশ রয়ে যাবে আজীবন।

'বহুরূপী'

পুলিশ ইনস্পেক্টর ওচুমেলভ (ওচুমেলি কথার অর্থ ক্ষিপ্ত; তাই থেকে ওচুমেলভ) হেটে যাচ্ছিলেন বাজারের মধ্যে দিয়ে। গায়ে তাঁর নতুন ওভারকোট, হাতে পুঁটুলি। তাঁর পিছন পিছন চলেছে এক কনেস্টবল। কনেস্টবলের চুলের রঙটা লাল, হাতের চালুনিটা ভর্তি হয়ে গেছে বাজেয়াপ্ত-করা গুজবেরিতে। কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই... বাজার একেবারে খালি... খুদে খুদে দোকান আর সরাইখানার খোলা দরজাগুলো যেন একসার ক্ষুধার্ত মুখ-গহ্বরের মতো দীনদুনিয়ার দিকে হাঁ করে আছে। ধারে কাছে একটি ভিখিরি পর্যন্ত নেই।

হঠাৎ একটা কণ্ঠস্বর শোনা গেল, 'কামড়াতে এসেছ হতচ্ছাড়া? ওকে ছেড়ো না। ইচ্ছামত সবাইকে কামড়ে বেড়াবে সে দিন নেই আর। আটকাও শালাকে'

কুকুরের ঘ্যান ঘ্যান ডাকও শোনা গেল একটা। ওচুমেলভ সেদিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন, পিচুগিনের দোকান থেকে বেরিয়ে এসে একটি কুকুর তিন ঠ্যাঙে লাফাতে লাফাতে ছুটছে আর তার পিছু পিছ তাড়া করেছে একটি লোক, গায়ে তার কড়া ইস্ত্রি করা ছাপা কাপড়ের জামা, ওয়েস্টকোটের বোতাম সব খোলা, সারা শরীর ঝুঁকে পড়েছে সামনের দিকে। হুমড়ি খেয়ে পড়ে লোকটা কুকুরের পিছনের একটি পা চেপে ধরল। কুকুরটা আবার কেউ কেউ করে উঠল, আবার চিৎকার শোনা গেল, 'ধর শালাকে' দোকানগুলো থেকে উকি মারতে লাগল নানা তন্দ্রাচ্ছন্ন মুখ। দেখতে দেখতে যেন মাটি ফুঁড়ে ভিড় জমে উঠল দোকানের কাছে।

কনেস্টবল বলল, 'বেআইনী হৈচৈ বলে মনে হচ্ছে, স্যার।'

ওচুমেলভ ঘুরে দাঁড়িয়ে দমদম করে গেলেন ভিড়টার কাছে। দোকানের ঠিক সামনেই তাঁর নজরে পড়ল বোতাম খোলা ওয়েস্টকোট-পরা সেই মূর্তিটি দাঁড়িয়ে। ডান হাত উঁচু করে লোকটা তার রক্ত মাখা আঙুলখানা সবাইকে দেখাচ্ছে। তার মাতাল চোখমুখগুলো যেন বলছে, 'শালাকে দেখে নেবো।' আঙুলটা যেন তার দিগ্বিজয়েরই নিশান। লোকটাকে ওচুমেলভ চেনেন- স্যাকরা খিউকিন ( খিউ খিউ - অর্থ শুয়োরের ঘোঁৎ ঘোঁৎ)। ভিড়ের ঠিক মাঝখানটায় বসে আছে আসামী, অর্থাৎ বর্জোই জাতের একটি বাচ্চা কুকুর - চোখা নাক, পিঠের ওপর হলদে একটা ছোপ। সর্বাঙ্গ তার কাঁপছে। সামনের দুপা ফাঁক করে সে বসে, দুই চোখে আতঙ্কের ছাপ।

ভিড় ঠেলে ঢুকতে ঢুকতে ওচুমেলভ জিজ্ঞেস করলেন, 'ব্যাপারটা কী? কী লাগিয়েছ তোমরা? আঙুল তুলে রেখেছিস কী জন্যে? চিল্লাচ্ছিল কে? কে চিল্লাচ্ছিল?'

খিউকিন মুঠো-করা হাতের ওপর একটু কেশে নিয়ে শুরু করলে, 'আমি, স্যার, হেটে যাচ্ছিলাম নিজের মনে। তা খামকা, এই কুত্তার বাচ্চাটা এসে কামড়ে দিল একেবারে। স্যার, মেহনত করে খেতে হয় আমাদের... আমার ব্যবসার কাজটিও কষ্টের। যা অবস্থা তাতে আঙুলটি তো হপ্তাখানেক নড়াচড়া করা যাবে না। আইনে তো এসব নাই যে বুনো জানোয়ার মানোয়ারদের কামড়াবে আর আমাদের তা সহ্য করতে হবে।'

গলাখাঁকারি দিয়ে ভুরু কুঁচকে ওচুমেলভ বললেন কড়া সরে, 'কার কুকুর এটা? এ আমি সহজে ছাড়ছি না! কুকুর ছেড়ে রাখার মজা দেখিয়ে ছাড়ব আজ! যেসব ভদ্রলোক আইন মেনে চলতে চান না তাঁদের ওপর নজর দেবার সময় এসেছে। শালার ওপর এমন জরিমানা চাপাব যে শিক্ষা হয়ে যাবে: যত রাজ্যের গরু ভেড়া কুকুরকে চরতে ছেড়ে দেওয়ার মানে কী! কত ধানে কত চাল তা টের পাওয়াচ্ছি।'

কনেস্টবলের দিকে ফিরে ওচুমেলভ হাঁকলেন, 'এলুদীরিন, খোঁজ লাগাও কার কুত্তা এটা, আর একটা এজাহারও লিখে ফেলো। যা মনে হচ্ছে এ কুকুর ক্ষ্যাপা না হয়ে যায় না- ওটাকে সাবাড় করে ফেলা দরকার এখুনি!.. কার কুকুর এটা, জবাব দাও, কার কুকুর?'

ভিড় থেকে কে যেন বলে উঠল, 'মনে হচ্ছে ওটা জেনারেল জিগালভের কুকুর!'

'জেনারেল জিগালভ? হম্!.. এলুদীরিন, আমার কোটটা খুলে দাও... উহ্ কি গরম! বোধ হয় বৃষ্টি পড়বে।' ইনস্পেক্টর খিউকিনের দিকে তাকালেন, 'কিন্তু একটা ব্যাপার আমার মাথায় ঢুকছে না, রাস্তায় এত মানুষ থাকতে তোকে কামড়ালো কী করে? একেবারে হাতের আঙুলে গিয়ে কামড় বসাল, কিভাবে সম্ভব? এইটুকু একটা বাচ্চা কুকুর আর তুই বেটা এত বড় জোয়ান মর্দ? আমি নিশ্চিত ও আঙুল তুই পেরেক-মেরেকে খুঁচিয়ে এখন মতলব করেছিস ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায় কিনা। তোদের চিনতে তো আমার বাকি নেই, শয়তানের ঝাড় সবাই!'

একজন বলে উঠল 'ও লোকটা, স্যার, তামাসা করে কুকুরটার নাকে সিগারেটের ছোঁকা দিতে গিয়েছিল। কুকুরটাও অমনি কামড় লাগিয়েছে। ঐ খিউকিনটা চিরকালই বদমাইসি করে বেড়ায়।'

চিৎকার করে উঠল খিউকিন 'মিথ্যা কথা, শালা ট্যারা চোখো কোথাকার! আমাকে ছোঁকা দিতে দেখেছিস?'

লোকটাও পাল্টা জবাব দিল 'স্যারের বুদ্ধি বিবেচনা আছে। উনি নিজেই বুঝতে পারবেন কে মিথ্যা বলছে, কে সত্য বলছে। মিথ্যা কথা বললে আদালতে তার বিচার হবে। না জানো তো বলি, আমারও এক ভাই পুলিশে আছে...'

'তর্ক কোরো না, তর্ক কোরো না বলছি!' ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ ইনস্পেক্টর ওচুমেলভ।

'এটা জেনারেলের কুকুর নয়,' কনেস্টবল বলল বিচক্ষণের মতো, 'অমন কোনো কুকুরই নেই জেনারেলের। ওনার সবকটা কুকুরই শিকারী কুকুর।'

'ঠিক জানিস?'

'ঠিক জানি, স্যার।'

'ঠিকই বটে, আমিও তাই ভাবছিলাম! জেনারেলের কুকুরগুলো সব দামী দামী, উঁচুজাতের কুকুর। আর এটা তাকাতেই ইচ্ছে করে না, বিচ্ছিরি নেড়ি কুত্তা একটা। অমন কুকুর কেউ পোষে নাকি? তোদের মাথ্য খারাপ? মস্কো কি পিটার্সবুর্গে ওরকম কুকুর দেখা গেলে কী হত জানো? মেরে ফেলত খিউকিন, তোমাকে কামড়েছে মনে রেখো, সহজে ব্যাপারটা ছাড়া হবে না। শিক্ষা দেওয়া দরকার এর মালিকের! সময় হয়েছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার...'

কনেস্টবল আপন মনে বলতে শুরু করলে, 'কে জানে বাবা, জেনারেলের কুকুর হলেও হতে পারে। ওর গায়ে ত আর লেখা নেই। সেদিন জেনারেলের উঠোনে এমনি একটা কুকুর দেখেছিলাম মনে হয়।'

'জেনারেলের কুকুরই তো এটা!' ভিড় থেকে কে একজন বলে উঠল।

'হাঁ!.. এলুদীরিন কোটটা পরিয়ে দে... দমকা হাওয়া দিল কেমন, শীত করছে... জেনারেলের কাছে এটাকে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে আয়। বলবি, আমি কুকুরটাকে পেয়ে পাঠিয়েছি। বলবি অমন করে যেন রাস্তায় ছেড়ে না দেন এত দামী কুকুর। খিউকিনের মত শুয়োরের বাচ্চারা যদি সবাই সিগারেট দিয়ে অমন করে নাকে ছ্যাঁকা দিতে থাকে তবে অমন দামী কুকুরের বারোটা বেজে যেতে কতক্ষণ? কুকুর হল গিয়ে আদুরে জীব... আর তুই ব্যাটা আহাম্মক, হাত নামা শীগগির! উজবুকের মতো আঙুল দেখাচ্ছিস কাকে? তোরই তো দোষ!..'

'ওই তো জেনারেলের বাবুর্চি এসে গেছে। ওকেই জিজ্ঞেস করা যাক..., ও ভাই প্রোখর, এসো তো একটু এখানে! দেখতো ভালো করে, কুকুরটা কি তোমাদের?'

'মানে! কস্মিনকালেও অমন কোনো কুকুর আমাদের ছিল না।'

'ব্যস, ব্যস! ব্যাপারটা বোঝা গেল তাহলে।' ওচুমেলভ বললেন, 'বেওয়ারিশ একটা কুকুর। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তর্ক করে আর কী হবে; বলছি বেওয়ারিশ কুকুর এটা, এটাকে খতম করে ঝামেলা চুকিয়ে দেওয়া যাক।'

প্রোখর কিন্তু বলে চলল, 'এটা আমাদের নয়। এই কিছুদিন হল জেনারেলের ভাই এসেছেন, এটা তাঁরই কুকুর। বজোই জাতের কুকুর সম্পর্কে আমাদের জেনারেলের কোনোই শখ নেই। কিন্তু ওর ভাই- ওঁর পছন্দ হল গিয়ে...'

'কি বললে, জেনারেলের ভাই? ভ্লাদিমির ইভানিচ এসেছেন?'

ওচুমেলভ চেচিয়ে উঠলেন, তাঁর সারা মুখ ভরে উঠল এক অপার্থিব হাসিতে, 'কী কাণ্ড! আর আমি কিনা জানি না! এখানে থাকবেন বুঝি কিছুদিন?'

'হ্যাঁ, থাকবেন।'

'কী কাণ্ড! ভাইকে দেখতে এসেছেন। আর আমি খবর পাই নি! কুকুরটা তাহলে ওরই? ভারি আনন্দের কথা। কত সুন্দর ছোট্ট কুকুরটি! ওর আঙুলে কামড়ে দিয়েছিলি! হাঃ-হাঃ-হাঃ! আরে কাঁপছিস কেন?.. কত কিউট একটা বাচ্চা!'

প্রোখর কুকুরটাকে ডেকে নিয়ে দোকান থেকে চলে গেল। ভিড়ের লোকগুলো হেসে উঠল খিউকিনের দিকে চেয়ে। ওচুমেলভ হুমকি দিলেন, 'জেনারেলের ভাইয়ের কুকুরের নাকে সিগারেটের ছ্যাঁকা, তোকে আমি পরে মজা দেখাচ্ছি!' তারপর ওভারকোটটা ভালো করে গায়ে টেনে নিয়ে বাজারের মধ্যে দিয়ে হেটে চললেন পুলিশ ইনস্পেক্টর ওচুমেলভ।

17/04/2026

#আলফা_মেল
#হেলথ_অফিসার

অসাধ্য সাধন। একটা খেলাই বাকি ছিল। জীবনে প্রথমবার মাঠে নেমেই সেটাতেও চ্যাম্পিয়ন। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকের প্রত্যাশার পাহাড়সম চাপ; মাঠে উপস্থিত প্রতিপক্ষ, রেফারি সবার বিরুদ্ধে খেলে তারপরেই চ্যাম্পিয়ন।

ভিডিওতে স্পষ্টই দেখতে পাবেন আমাকে ব্যর্থ করার জন্য কি না করল সবাই। প্রাণান্ত প্রচেষ্টা, নিত্যনতুন আইন। যখনই সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে তখনই বাঁধা। সবকিছুর পরেও চ্যাম্পিয়ন।

10/04/2026


#আলফা_মেল
#হেলথ_অফিসার

সবার পছন্দের মানুষ হতে চাওয়া একধরনের মানসিক অবস্থা। বাঙালি যেদিন ফেসবুক ব্যবহার শুরু করলো, সেদিন থেকে তার সকল ফোকাস ফেসবুক কেন্দ্রিক হয়ে গেল। একটা ছবি আপলোড করবে বা লেখা পোস্ট করবে বা একটা কমেন্ট করবে; সবার আগে চিন্তা থাকে কে কি মনে করে, কয়টা লাইক পড়বে, কেউ আবার বাজে কমেন্ট করে কিনা।

আরেকজনের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের অনেক চাওয়া, অনেক ইচ্ছাকে দমন করলেই শুধুমাত্র সবার কাছে প্রিয় হওয়া যায়। সবাই বলে বাহ ছেলেটা কত ভদ্র, লোকটা কত বিনয়ী। যত ভদ্র তত লাইক। লাইক পাওয়ার নেশায় পেয়ে বসে আমাদের।

ভদ্র ছেলে, ভালো মানুষ হবার সামাজিক পিয়ার প্রেসারে (Peer Pressure) পড়ে মনে হয় আমদের জন্মই হয়েছে অন্য মানুষকে খুশি করার জন্য। এতকিছু ব্যালান্স করতে গিয়ে নিজেকেই হারিয়ে ফেলে মানুষ।

ভদ্র তকমা পাওয়া যতটা না সহজ, টিকিয়ে রাখা আরোও বেশি কঠিন। একটু নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করলেই দেখা যাবে সবাই জাত গেল জাত গেল বলে হইহই করে উঠবে।

যারা জীবনে আপনাকে অবহেলা করেছে, আপনার মূল্য বোঝেনি, তাদের সবার মাঝে একটা মিল আছে; তারা সবাই জানতো আপনি যেকোনো ব্যাপারে তাদের সার্টিফিকেটকে বেশি গুরুত্ব দেন। তারা আপনার সাথে চরম অন্যায় করে হাসিমুখে বলবে "সরি (Sorry)" আর আপনি আপনার ভদ্রতার তকমা টিকিয়ে রাখতে সেই অন্যায় মেনে নিয়ে বলবেন "সমস্যা নাই"। মানুষ খুব সহজেই কিছু মিষ্টি কথা বলে আপনার মনের উপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ফেলে।

নিজের ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্ত কাউকে ব্যাখ্যা করতে যাবেন না। আপনি যত বেশি ব্যাখ্যা করতে যাবেন, মানুষ আপনাকে ততই পেয়ে বসবে। নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করা একধরনের দুর্বলতা।

এখন থেকে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করতে শিখুন, যা মনে চাইবে সেটা করা শুরু করুন। কেউ আপনার সিদ্ধান্ত বা ইচ্ছার মূল্যায়ন না করলে রিয়েক্ট করবেন। কোন নিঃশর্ত ক্ষমা (Unconditional Apology) গ্রহণ করবেন না। সকল ধরনের অ্যাপোলজিকে (Apology) শর্তের আওতায় নিয়ে আসবেন। আরেকজনের কথায় বা আরেকজনের ভদ্রতার সার্টিফিকেটের আশায় নিজের ইচ্ছাকে গলাটিপে মারার কোন মানে হয়না। ফেসবুকের লাইক, কমেন্ট, শেয়ারকে লাথি মারেন। মনে রাখবেন, আমাদের সোসাইটিতে যে যত ভদ্র সে তত স্পাইনলেস (Spineles)।

Universal Declaration of Human Rights (UDHR) এর আর্টিকেল ১২ অনুযায়ী সম্মান পাওয়া প্রতিটি মানুষের অধিকার। আর অধিকার কেউ কাউকে দেয় না, অধিকার আদায় করে নিতে হয়।

25/03/2026

েজাজ_খারাপ_থাকলে_গান_গাই

কোন এক অদ্ভুত কারণে ফেসবুকে সম্পূর্ণ গানটি আপলোড হচ্ছে না। ইউটিউবে সম্পূর্ণ গানটি আপলোড দিলাম।
https://youtu.be/djnMvlhBoW0

13/03/2026

#হেলথ_অফিসার
#আলফা_মেল


আমাদের চারপাশে যা দেখি সব আসলে এটম বা পরমাণু। প্রকৃতি প্রথমে হালকা ভরের হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম এটম তৈরি করেছে। এই হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম নক্ষত্র বা তারার ফুয়েল হিসেবে কাজ করে। তারাগুলির মৃত্যুর সময় সুপারনোভা এক্সপ্লোসনের (Supernova Explosion) ফলে এই হালকা এটম একটার সাথে আরেকটা জোড়া লেগে কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, আয়রন, গোল্ড এর মত ভারী এটম তৈরি হয়েছে। কোটিকোটি বছর পরে এই এটমগুলি একটার সাথে আরেকটা জোড়া লেগে বিভিন্ন বায়োলজিকাল ফর্ম তৈরি করেছে। আমরা মানুষও সেই বায়োলজিকাল ফর্মের একটা রূপ।

থার্মোডাইনামিক্সের ফার্স্ট ল (First Law of Thermodynamics) অনুযায়ী শক্তি তৈরি করা যায়না বা ধ্বংসও করা যায়না। ইউনিভার্সের টোটাল শক্তি সবসময় সমান। ইউনিভার্স যখন শুরু হয় তখন যতটা শক্তি ছিল, আজকে ১৪ বিলিয়ন বছর পরে এখনো ততটুকুই আছে, আজ থেকে ১৪ বিলিয়ন বা তারওপরেও ততটুকুই থাকবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে মৃত্যুর পরে তো আমাদের বডি পচে যায়, কিছুদিন পরে বডির কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তাহলে থার্মোডাইনামিক্সের ফার্স্ট ল কি মিথ্যা!!! মৃত্যুর পরে আমাদের শরীরে বিভিন্ন কেমিক্যাল রিয়েকশন শুরু হয়। এটমগুলি মাটিতে মিশে যায়, পানিতে মিশে যায়, বাতাসে মিশে যায়। এর বাইরে আর কিছুই হয় না। একটা সিঙ্গেল এটমও ধ্বংস হয় না।

মাটিতে মিশে যাওয়া এটম থেকে গাছ, শাক-সবজি, ফুল-ফল জন্ম নেয়। পানিতে মিশে যাওয়া এটম থেকে প্ল্যাঙ্কটন জন্ম নেয়। সেই প্ল্যাঙ্কটন খেয়ে মাছ বেঁচে থাকে। আমাদের বডি কার্বন ডাই অক্সাইড, অ্যামনিয়া, মিথেন ইত্যাদি গ্যাস হিসেবে বাতাসে মিশে যায়। গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহন করে কেমিক্যাল রিয়েকশনের (Photosynthesis) মাধ্যমে অক্সিজেন বাতাসে ছাড়ে। পশু-পাখি বা মানুষ সেই শাক-সবজি, ফুল-ফল, মাছ বা অন্য প্রাণী খায়। এভাবেই এই সাইকেল চলছে সৃষ্টির শুরু থেকে।

মৃত্যুর পরে আমাদের শরীরের এটম থেকে জন্ম নেবে গাছ-পালা, পশু-পাখি। তৈরী হবে ঘর-বাড়ি, মেট্রোরেল-ফ্লাইওভার এমনকি নিউক্লিয়ার বোম্ব। মৃত্যু কোন শেষ নয়, রূপান্তর। এই রূপান্তরকে আবার ব্যাখ্যা করা যায় থার্মোডাইনামিক্সের সেকেন্ড ল (Second Law of Thermodynamics) দিয়ে। অন্য কোনদিন সেকেন্ড ল নিয়ে আলাপ করা যাবে।

জীবনানন্দ দাস মৃত্যুর পরে আবার ফিরে আসতে চেয়েছেন মানুষ নয়– শঙখচিল, শালিক, কাক, হাঁস, ঘুঙুর, সুদর্শন, লক্ষীপেঁচা, খৈয়ের ধান, বক হয়ে। জীবনানন্দ দাস কি থার্মোডাইনামিক্সের ফার্স্ট ল, সেকেন্ড ল জানতেন? নাকি আমি অ্যাপোফেনিক (Apophenic)?

Apophenia: A psychological tendency to see patterns or connections where none actually exist. The brain tries to link unrelated events into a “meaningful” story.

Photos from মো. বায়েজীদুর রহমান's post 13/02/2026

#হেলথ_অফিসার
#আলফা_মেল


আমার এক অতিপরিচিত বড়ভাই মাসুদ। মাসুদের আপন বড়ভাই মস্তবড় অফিসার। তার এক ছেলে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, সম্প্রতি এইচএসসিতে জিপিএ ৫.০০ মেরেছে; এখন বাকী পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে যাবে। পাতি অফিসার হিসেবে সেই মস্তবড় অফিসারের সাথে আমার কিছুটা পরিচয় রয়েছে। আমাকে একদিন বলল, বাসায় এসে আমার ছেলেটাকে একটু উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে টিপস দিতে। তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম তার এবং পরিবারের সবার ইচ্ছা সে ব্যারিস্টার হবে। আমি তো এই লাইনেরই লোক না, কি টিপস দিব। ভিক্ষা চাইনা, কুত্তা ঠেকাও অবস্থা আমার। কিছু ভুংভাং বুঝ দিয়ে কোনমতে নিজের মান সম্মান নিয়ে পালালাম।

মাসুদ ভাই কিছুদিন আগে আমাকে ফোন করে বললেন তার বড়ভাই এলাকায় মাদ্রাসা বানিয়েছেন, সেটার ওপেনিং হবে। ছোটখাট একটা প্রোগ্রাম হবে, আমাকে অবশ্যই তার সাথে তাদের গ্রামের বাড়ি যেতে হবে।

আলহামদুলিল্লাহ। শুনে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে গেলাম। বললাম যাক আল্লাহ আপনার ভাইকে দিয়ে একটা ভালো কাজ করাচ্ছেন, অনেক মানুষের টাকা থাকে কিন্ত আল্লাহ তার খাসবান্দা ছাড়া কাউকে দিয়ে তার কাজ করান না। এমন একটা ভালোকাজে অবশ্যই আমি যাবো।

এরপর বললাম আপনার ভাইর ব্যাটার (ভাতিজা) কি অবস্থা? ও তো মনে হয় মাদ্রাসায় ভর্তি হবে। ওকে কোন ক্লাসে ভর্তি করাবেন? আমার প্রশ্ন শুনে ওনার পাল্টা প্রশ্ন "ভাই কিরম কথা কন আপনি!!! ও তো লন্ডনে চলে গেছে। আর ও কেন মাদ্রাসায় পড়তে যাবে!!!"

আমি সরলমনে বললাম ভাই মাদ্রাসা তো পড়াশোনার জন্যই, মাদ্রাসায় পড়লে সমস্যাটা কোথায়? আপনাদের নিজেদের মাদ্রাসা। আপনার বড়ভাইকে যতটা চিনি, উনি পড়াশোনার কোয়ালিটির ব্যাপারে নিশ্চয়ই কোন কম্প্রোমাইজ করবেন না। আর আপনার ভাতিজাই যদি না পড়ে তাহলে এই মাদ্রাসা খোলার উদ্দেশ্য কি? আমি ভাই সহজ সরল মানুষ, একটু সহজ বাংলা ভাষায় আমাকে বুঝিয়ে বলেন।

মাসুদ ভাই: এটা হচ্ছে এলাকার গরীব মানুষের জন্য, যারা পড়াশোনা করতে পারে না।
আমি: ও
মাসুদ ভাই: এখানে মেধার ভিত্তিতে আগেই আলাদা করে ফেলা হবে ছাত্রদেরকে, যারা মেধাবী তাদের শুধু পড়াশোনাই করানো হবে। যারা সাধারণ তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ শেখানো হবে।
আমি: আচ্ছা
মাসুদ ভাই: যারা মেধাবী এবং গরীব, তাদের বৃত্তি দেওয়া হবে। অলরেডি বৃত্তির জন্য ইসলামী ব্যাংকে একটা এফডিআর করা হইছে, সেখান থেকে যে মুনাফা আসবে তা থেকেই বৃত্তির টাকা চলে আসবে।
আমি: সুন্দর আইডিয়া
মাসুদ ভাই: .......
আমি: ভালো
মাসুদ ভাই: ........
আমি: বাহ
মাসুদ ভাই: .........
আমি: ঠিক
মাসুদ ভাই: সর্বোপরি মাদ্রাসা হচ্ছে সদকায়ে জারিয়া, কেয়ামত পর্যন্ত যতদিন ছাত্ররা এখানে পড়াশোনা করবে, ততদিন পর্যন্ত সওয়াব পেতে থাকবে।

(আমি এই পয়েন্টের জন্যই ওয়েট করতেছিলাম)
আমি: ও আচ্ছা, এতক্ষণে বুঝলাম; বসে বসে ইহকালের কামাই করা টাকা দিয়ে পরকালের জন্য সওয়াব কেনার সিস্টেম চালু করতেছেন আপনার ভাই। জান্নাতে তো সবকিছু সওয়াব দিয়ে কেনাবেচা হবে। যার যত সওয়াব সে তত উপরের লেভেলে যাবে। তার বাড়ি তত বড় হবে। জান্নাতুল ফিরদাউসে বড় একটা বাড়ির মালিক থাকবেন আপনার ভাই। দেখছেন ভাই টাকা থাকলে জান্নাতে জায়গাও কেনা যায়। টাকা দিয়েই আপনার ভাই জান্নাত কিনে ফেলতেছেন।

কথার মাঝখানেই মাসুদ ভাই বলল ভাই আমার একটা জরুরী ফোন আসছে, আপনাকে একটু পরে কল দিচ্ছি। এই একটু পরের ডিউরেশনটা ছিল প্রায় মাসখানেক। এতক্ষণ কিভাবে দুইটা মানুষ না খেয়ে, না ঘুমিয়ে, না গোসল করে শুধু ফোনেই কথা বলল, আল্লাহই জানেন।

The Prophet ﷺ said: “Indeed, Paradise has one hundred levels, which Allah has prepared for those who strive in His cause. The distance between each level is like the distance between the heavens and the earth.” — Sahih al-Bukhari (2790). এই হাদীস অনুযায়ী জান্নাতের অন্তত ১০০ টি লেভেল আছে। প্রচলিত যে সাতটি/আটটি লেভেলের কথা বলা হয়, এই হাদীস অনুযায়ী সেটা ভুল। “In Paradise there are eight gates, and among them is a gate called Ar-Rayyān. None will enter through it except those who used to fast.” — Sahih al-Bukhari (3257). এই হাদীস অনুযায়ী জান্নাতের আটটি দরজার কথা জানা যায়।

“It has seven gates; for every gate is a portion assigned.” — Surah Al-Hijr (15:44). কুরআন শরীফে বলা হয়েছে জাহান্নামের ৭টি দরজা আছে। “The hypocrites will be in the lowest depth of the Fire.” — Surah An-Nisa 4:145. কুরআন শরীফে বলা আছে "hypocrites" দের অবস্থান হবে "lowest depth"-এ।

বি.দ্র. বিভিন্ন এডিশনে হাদীস নাম্বারের পরিবর্তন হতে পারে। এখানে Darussalam English Edition এর রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে।

Photos from মো. বায়েজীদুর রহমান's post 03/02/2026

#হেলথ_অফিসার
#আলফা_মেল
েজাজ_খারাপ_থাকলে_গান_গাই

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Dhaka