06/12/2025
Clap for The Heroes: Bangladesh Covid-19
চলুন আমাদের জাতীয় বীরযোদ্ধাদের সম্মানে #করতালির_মাধ্যমে আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি!
06/12/2025
01/10/2025
❤️❤️
25/07/2025
স্কুলের ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দিচ্ছিল এই তিন বন্ধু। আরমান,নাফি এবং প্রলয় ওরা সবাই ক্লাস সিক্সের স্টুডেন্ট।
আড্ডার মাঝখানে হঠাৎ তারা দেখতে পায় বিকট শব্দে একটা বিমান এসে পড়েছে ক্লাসরুমের উপর। তারা তিনজনই আড্ডা বাদ দিয়ে দৌড়ে চলে যায় ক্লাসরুমের দিকে।
আরমান গিয়ে দেখে অনেকগুলো বাচ্চার শরীর পুড়ে ঝলসে গিয়েছে, শরীর থেকে মাংস গলে গলে পড়ছে। পুড়ে যাওয়া একটা ছেলেকে নিজের স্কুল ব্যাগ দিয়ে চেপে ধরে আরমান,
তাতে শরীরের আগুনটা নিভে যায়। এরপর তাকে ফাঁকা জায়গায় পাঠিয়ে দেয় আরমান।
নাফি তখন দেখতে পায় ৪-৫ জন বাচ্চা পোড়া শরীর নিয়ে দিক্বিদিক হয়ে দৌড়াচ্ছে। একটা বাচ্চা মেয়ের ব্যাগ পুড়ে পিঠের সাথে লেগে গিয়েছে। মেয়েটা ব্যাগটা খুলতে পারছিল না, কথাও বলতে পারছিল না।
পরে নাফি মেয়েটার ব্যাগটা পিঠ থেকে আস্তে আস্তে সরিয়ে দেয়। তাৎক্ষণিক ভ্যানে তুলে নিরাপদ জায়গায় পাঠিয়ে দেয় সবাইকে।
প্রলয় তখন উদ্ধার করছিল অন্যদিকে। সে দেখতে পায় তাদেরই কিছু বন্ধু পোড়া শরীরে ক্লাসের পাশে পড়ে আছে, আর মা মা বলে চিৎকার করছে।
তখন এই তিন বন্ধু মিলে টেনেহিঁচড়ে বের করে বাকি বন্ধুদেরকে। বন্ধুদের বের করতে গিয়ে পিঠে আগুন লেগে যায় একজনের, প্রচন্ড আঘাতও পায় হাতে।
তবুও নিজ শরীরের আঘাত আর আগুন নিয়েই একে একে বের করতে থাকে বাকি বন্ধুদেরকে। কিছু বন্ধুর শরীর পুড়ে গিয়েছিল, কারো ফুসফুস পুড়ে গিয়েছিল, কেউ মা মা বলে চিৎকার করছিল।
এভাবেই তীব্র সাহসিকতা নিয়ে তিন বন্ধু মিলে উদ্ধার করেছিল বাকি বন্ধুদেরকে। উদ্ধার করার পর ওদের কিছু বন্ধু মারা গিয়েছে, কিছু এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
আমি জানতাম তুমি আসবে- এই উক্তির মতো তিন বন্ধু মিলে উদ্ধার করেছিল বাকি ১৮-২০ জন বন্ধুকে।
সাংবাদিকরা যখন এই তিনজনকে জিজ্ঞেস করেছিল - বন্ধুদেরকে বাঁচাতে গিয়ে তোমাদের যদি কিছু হয়ে যেত? তোমাদেরও যদি পুরো শরীরে আগুন লেগে যেত?
ওরা তিনজন উত্তর দিয়েছে- তখন এসব মাথায় আসে নাই, বারবার শুধু মনে হচ্ছিল ছোট বাচ্চাগুলোকে বাঁচাতে হবে, আমাদের বন্ধুদেরকে বাঁচাতে হবে। আমরা কাঁদছিলাম আর বন্ধুদের পোড়া শরীর ভ্যানে তুলছিলাম।
এই তিনজনের বয়স আর কত হবে, খুব বেশি হলে ১২ কিংবা ১৩। ওদের বয়স হয়তো কম কিন্তু যে অসীম সাহসিকতার কাজ করেছে সেটা পাহাড়ের উচ্চতার চেয়েও বেশি।
সাহসী তো হবেই, ওরা যে মাহরীন, মাসুকাদের মতো সাহসী ম্যাডামদের স্টুডেন্ট। ম্যাডামদের কাছ থেকেই সাহস সঞ্চারিত হয়েছে স্টুডেন্টদের বুকে।
এই তিনজন সাহসী হিরোর জন্যেই বেঁচে গিয়েছে অনেকগুলো বাচ্চা এবং বন্ধুর প্রাণ। বন্ধুত্ব শব্দটা মহিমান্বিত হয়েছে তাদেরই কারণে।
এই তিনজনের যে বন্ধুগুলো বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছে তারা যখন সুস্থ হবে তখন হয়তো আবারও বন্ধুদের সাথে খেলবে, গান গাইবে।
খেলার কোন এক ফাঁকে হয়তো এই তিনজনকে উদ্দেশ্য করে বাকি বন্ধুরা বলবে- আমরা জানতাম তোরা আসবি, আমাদেরকে উদ্ধার করবি
লেখা- Ibrahim Khalil Shawon
19/04/2024
পরপারে চলে গেলেন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার মূল নকশাকারী….
শিব নারায়ন দাস।
তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।
বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই এই মহান শিল্পীর প্রতি॥
আমরা কি এই মানুষটিকে চিনতে পেরেছিলাম???
অথবা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি মনে রাখবে এই মানুষটির অবদান???
অনেক বছর আগে শিব নারায়ন দাসের স্ত্রী অভিনেত্রী গীতশ্রীদি’র ( নির্মাতা অরুন চৌধুরীর বড় বোন ) সাথে অভিনয় করার সময় শুনেছিলাম তাঁর দীর্ঘ ইতিহাস॥
এভাবেই নীরবে নিভৃতে চির বিদায় নেবে সত্যিকারের দেশ প্রেমিক মানুষগুলো…..
আমরা বোধ হয় এটাও জানিনা,এই মানুষটা নিজের দেহটাও দান করে গেছেন মেডিক্যালে!!!
আর আমরা শুধুই ভাববো…
কি করা উচিত ছিলো আমাদের???
বলবো…..
“তোমাদের যা বলার ছিলো,বলছে কি তা বাংলাদেশ??”
আবারো বিনম্র শ্রদ্ধা হে মহান শিল্পী🙏🙏
তাঁর শোকস্তব্ধ পরিবারের সবার জন্য শোক ও সমবেদনা॥
বিঃদ্রঃ
আগেও দেখেছি কিছু কিছু পত্র পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেল,কোন মহান ব্যক্তির মৃত্যুকে “মারা গেছেন” লিখে হেড লাইন করেন।
মারা তো সবাই যায়….কিন্তু কিছু মানুষের মৃত্যুর প্রকাশটা বোধ করি আরেকটু সম্মানজনক হাওয়া উচিত।
গুনী মানুষের মহান মৃত্যুকে তো এভাবেও লেখা যায়….
চির বিদায় নিলেন,পরপারে চলে গেলেন বা আমরা তাঁকে হারালাম।
যোগ্য সম্মান দিতে পারাটাও একটা শিক্ষা॥
16/03/2024
২০০১ সালের ৫ই মে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে বলে একটা গুজব উঠেছিল। কারন? ওই সময় পৃথিবী সহ সৌরজগতের ৫ টা গ্রহ একই সরলরেখায় চলে আসবে।
এই বিরল ঘটনার ফলে গ্রহগুলার অধ্যকার আকর্ষণ বলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। অন্য গ্রহগুলা এসে পৃথিবীর উপর ধপাস করে কলাপ্স করবে। ফলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে --- এটাই ছিল তখনকার গুজব।
সেই আমলে ফেসবুক ছিল না। কিন্তু গুজবটা খুব ভালমতই চাউর হয়েছিল। দৈনিক পত্রিকাগুলা নিয়মিত হেডলাইন করছিল এই ঘটনা নিয়ে। সবাই ৫ই মে'র আগে, নিজেদের দেনা পাওনা মিটিয়ে, শত্রুদের কাছে মাফ টাফ চেয়ে প্রিপারেশন নিচ্ছিলেন :)। টিভিতে নাটক হচ্ছিল, পত্রিকায় গল্প লেখা হচ্ছিল এই ৫ই মে নিয়ে।
২০০১ সালের ৪ মে ছিল শুক্রবার। ওইদিন মসজিদে মসজিদে জুম্মার নামাজে স্পেশাল তওবা, মোনাজাত এবং অনেক কান্নাকাটি হয়েছিল বলে মনে পড়ে।
তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জামাল নজরুল ইসলাম F =Gm1m2/d2 এবং অন্যান্য সূত্রাবলী দিয়ে অঙ্ক করে করে দেখালেন, ৫ টা গ্রহ এক লাইনে আসলেও, তাদের আকর্ষণ বল এমন বিপজ্জনক কিছু হবেনা, যা সৌরজগতের ব্যালান্সের জন্য হুমকি।
তার অঙ্ক থেকে তিনি ভবিষ্যতবাণী করলেন, ৫ ই মে কিছুই হবেনা। সামান্য ভূমিকম্প ও না। পৃথিবী বাসী টেরই পাবেনা যে অন্য কয়েকটা গ্রহের সাথে এক লাইনে এসেছে।
৫ ই মে তে ঘটনা ঘটলও তাই। কিছুই হল না সেই দিন। আমরা বেচে থাকলাম । ২০ বছর পরেও আমরা বহাল তবিয়তে বেচে আছি।
এই বাঙালি বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ১৬ই মার্চ ।
জন্ম তার ঝিনাইদহে, ১৯৩৯ সালে।
স্কুলজীবন শুরু হয় কলকাতায়, সেখান থেকে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে কিছুদিন, শেষে পাকিস্তানের লরেন্স কলেজ থেকে সিনিয়র কেমব্রিজ পাস করেন।
বিএসসি করেন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে। এরপর বৃত্তি নিয়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে ট্রাইপজে তিন বছরের কোর্স দুই বছরে শেষ করেন। ১৯৬০ সালে কেমব্রিজ থেকেই মাস্টার্স। ১৯৬৪ সালে এখান থেকেই প্রায়োগিক গণিত ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
এরপর ড. ইসলাম অত্যন্ত দুর্লভ ও সম্মানজনক ডক্টর অব সায়েন্স বা ডিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
ছাত্রজীবনে তাঁর সমসাময়িক ও আজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বিস্ময়কর বিজ্ঞান-প্রতিভা স্টিফেন হকিং।
জামাল নজরুল ইসলাম ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরাল ফেলো ছিলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কেমব্রিজ ইনস্টিটিউট অব থিওরেটিক্যাল অ্যাস্ট্রোনমিতে গবেষণা করেছেন। ১৯৭১-৭২ দুই বছর ক্যালটেক বা ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ভিজিটিং অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ১৯৭৩-৭৪ সালে লন্ডনের কিংস কলেজে ফলিত গণিতের শিক্ষক, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে সায়েন্স রিসার্চ ফেলো এবং ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মনে সিটি ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন।
এর মধ্যে জামাল নজরুল ইসলামের অনেক গবেষণা নিবন্ধ বিখ্যাত সব বিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৮৩ সালে তাঁর গ্রন্থ দ্য আল্টিমেট ফেইট অব দ্য ইউনিভার্স কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হলে সেটা বেশ জনপ্রিয়তা পায় । পরের বছর কেমব্রিজ থেকেই প্রকাশিত হয় ক্লাসিক্যাল জেনারেল রিলেটিভিটি।
তাঁর গবেষণা আইনস্টাইন-পরবর্তী মহাবিশ্ব গবেষণায় বিরাট অবদান রেখেছে। তিনি এই ধারায় গবেষণা অব্যাহত রেখে পরবর্তীকালে লেখেন ফার ফিউচার অব দ্য ইউনিভার্স বা মহাবিশ্বের দূরবর্তী ভবিষ্যৎ।
কেমব্রিজ এবং পশ্চিমে শিক্ষার গবেষণা ও অধ্যাপনায় থাকাকালে তাঁর বন্ধু ও সুহৃদমহল গড়ে ওঠে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের নিয়ে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তাঁর শিক্ষক ফ্রিম্যান ডাইসন, পদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান, ভারতের সুব্রহ্মনিয়াম চন্দ্রশেখর, পাকিস্তানের আবদুস সালাম, ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও অমিয় বাগচী, তাঁর সহপাঠী জয়ন্ত নারলিকার, ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জিম মার্লিস প্রমুখ। হকিংয়ের কথা তো আগেই এসেছে।
১৯৮৪ সালে প্রফেসর ইসলাম তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন। পশ্চিমের উন্নত দেশে ৩০ বছরের অভ্যস্ত জীবন, সম্মানজনক পদ, গবেষণার অনুকূল পরিবেশ, বিশ্বমানের গুণীজন সাহচর্য এবং আর্থিকভাবে লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফিরে এলেন। এলেন একেবারে নিজ জেলা চট্টগ্রামে। অতি দামি চাকরি ছেড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে যোগ দিলেন মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে।
এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, ‘স্থায়ীভাবে বিদেশে থাকার চিন্তা আমার কখনোই ছিল না। দেশে ফিরে আসার চিন্তাটা প্রথম থেকেই আমার মধ্যে ছিল, এর ভিন্নতা ঘটেনি কখনোই। আরেকটা দিক হলো বিদেশে আপনি যতই ভালো থাকুন না কেন, নিজের দেশে নিজের মানুষের মধ্যে আপনার যে গ্রহণযোগ্যতা এবং অবস্থা সেটা বিদেশে কখনোই সম্ভব ছিল না।’
দেশে ফিরে এসে একদিকে জামাল নজরুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণাগার আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গাণিতিক ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র বা রিচার্স সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্স (আরসিএমপিএস), যেটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেশের প্রবীণ পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর এ এম হারুন-অর রশিদ ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে আগত খ্যাতিমান পদার্থবিজ্ঞানী, আপেক্ষিকতত্ত্ববিদ এবং বিশ্ব সৃষ্টি তাত্ত্বিকদের অবদান’ স্মরণ করে এ প্রতিষ্ঠানকে প্রফেসর ইসলামের শ্রেষ্ঠ কীর্তি আখ্যা দিয়েছিলেন। এখানে তিনি উচ্চতর গবেষণার ছাত্রদের সহায়তার পাশাপাশি অনেক আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করেছেন, যাতে অনেক নোবেলজয়ীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের পণ্ডিতজন যোগ দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয়, যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে এই সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান আজ যথাযথভাবে ভূমিকা পালন করতে পারছে না।
এই সরল বিশ্বাসপ্রবণ মানবতাবাদী মানুষটি বিশেষত চট্টগ্রাম সমাজের নানা সংস্থা ও উদ্যোগে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর মূল্যবান সময়ের অনেকখানিই এভাবে ব্যয়িত হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা তাঁকে চিন্তিত রাখত। সমাজে হিংসা ও হানাহানি, ক্ষমতাবানের দৌরাত্ম্য, চরমপন্থা ও অসহিষ্ণুতার প্রকোপ তাঁকে খুবই কষ্ট দিত। মানুষের মধ্যে লোভ আর স্বার্থপরতা দেখলেও তিনি খুব মনঃকষ্টে ভুগতেন। আবার তাঁর সারল্যের সুযোগ নিতেও অনেকে কসুর করেনি।
উন্নয়নের নামে প্রকৃতি, পরিবেশ ও গরিবের স্বার্থবিরোধী কাজ দেখলে তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হতেন। একপর্যায়ে তিনি এ নিয়ে কঠোর সমালোচনা প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হতেন না; বহুতল ভবন, যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ এবং বঞ্চনা ও বৈষম্যের অর্থনীতি, কালোটাকা ও অবৈধ সম্পদের ছড়াছড়ির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন।
তার লেখা বইগুলার মধ্যে আছে --
দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স (১৯৮৩)
ক্লাসিক্যাল জেনারেল রিলেটিভিটি (১৯৮৪)
রোটেটিং ফিল্ড্স ইন জেনারেল রিলেটিভিটি (১৯৮৫)
অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু ম্যাথমেটিক্যাল কসমোলজি (১৯৯২)
কৃষ্ণ বিবর – বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত।
মাতৃভাষা ও বিজ্ঞান চর্চা এবং অন্যান্য প্রবন্ধ – রাহাত-সিরাজ প্রকাশনা
শিল্প সাহিত্য ও সমাজ – রাহাত-সিরাজ প্রকাশনা
স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ – কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। স্প্যানিশ ভাষায় অনুদিত
দ্য ফার ফিউচার অফ দি ইউনিভার্স – এনডেভারে প্রকাশিত
২০১৩ সালের ১৬ মার্চ মধ্যরাতে এ মহান বিজ্ঞানী আমাদের ছেড়ে গেছেন। আজকের এই দিনে তাকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায়।
©জহিরুল ইসলাম
16/12/2023
৫ সন্তানের পিতা 'নওয়াব সিরাজ-উদ-দৌলা' ফিল্মে বাংলার শেষ স্বাধীন নওয়াবের স্বার্থক অভিনেতা আনোয়ার হোসেন!
এক ছেলে থাকেন সুইডেন। বাকী তিন ছেলে ও এক মেয়ে থাকেন আমেরিকায়। জীবনের সব আয় খরচ করেছেন সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে। পেটের তাগিদে জীবনের শেষ বয়স পর্যন্ত তাকে করতে হয়েছে চাকর-বাকরের অভিনয়।
কিন্তু তার মৃত্যুর সময় সেই উচ্চ শিক্ষিত একটি ছেলে-মেয়েও দেশে আসেননি, বাবাকে শেষ দেখাটাও দেখেননি!!
বর্তমানে অনেক উচ্চ শিক্ষিত, শিল্পপতি, ধর্নাঢ্য ব্যাবসায়ী, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, সচিব, অধ্যাপক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার'দের মা-বাবা'রাও বৃদ্ধাশ্রমে!
সর্বোপরি বলা যায় যে, শুধু উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করলেই শিক্ষিত হওয়া যায় না, ভালো মানুষ হওয়া যায়না; ভালো সন্তান হওয়া যায়না। একজন আদর্শ মানুষ হতে হলে প্রয়োজন নিজের বিবেককে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা!
কোথায় চলেছে আমাদের মানবিকতা, সামাজিক মুল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধন??
(রিপোস্ট)
Rtn Golan Mostafa
Director - Unique Hotel and Resorts LTD-Westin Dhaka & Dhaka Sheraton
(প্রোফাইল থেকে নেয়া)
20/11/2023
STOP Gonoside.
23/10/2022
………
25/03/2021
১৯৭১ এ বাংলাদেশে সংগঠিত
নৃশংস গনহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতির দাবী করছি।🇧🇩
20/02/2021
একবিংশ শতাব্দীর 'ভাষাসৈনিকের' গল্প শুনতে চান? তাহলে শুনুন 'অভ্র' কি-বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা মেহদি হাসান খানের কথা!
২০০৩ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে রোগাটে ধরনের একটা ছেলে ভর্তি হল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে।
চোখে চারকোণা চশমা। মাথা ভর্তি চুলে চিরুনি চলে না সেভাবে। প্রাণোচ্ছল। আড্ডাবাজ। গভীর বুদ্ধিদীপ্ত দৃষ্টি। ১৮ বছর বয়সের ছেলেরা যেরকম হয় আর কি!
সহজ ভাষায় এই হচ্ছে মেহদি। মেহদি হাসান খান।
মেডিকেল কলেজ চিকিৎসক তৈরি করবে, সেটাই স্বাভাবিক; কিন্তু মেডিক্যাল কলেজ যদি সফটওয়্যার ডেভেলপার সৃষ্টি করে, তাহলে তা আশ্চর্যের বৈকি!!! কিন্তু তাই ঘটেছিল ২০০৩ সালে। কীভাবে? তাহলে শোনাই যাক গল্পটা।
১৭ বছরের ছেলেটা ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটা কাজে সরব, উপস্থিতিও সেরকম প্রাণোচ্ছল। হঠাৎ করে ছেলেটা হয়ে গেলো চুপচাপ। মাথা নীচু করে হাঁটছে, জিজ্ঞাসা করলে কথা বলছে। মেহদির চরিত্রের সাথে যায়না, অন্তত যারা ওর সাথে আড্ডা দিতো, তাদের জন্য অবশ্যই।
এর মাঝে জানা গেলো বাংলা লেখার জন্য ওর নিজের বানানো একটা সফটওয়্যার আছে।
খুব করে চেপে ধরতেই জানা গেলো ঘটনা। ইংরেজি অক্ষর টাইপ করে কী-বোর্ডে বাংলা লেখা যায়! এই হচ্ছে মেহদির বানানো সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্য। রোমান টাইপ করে বাংলা লেখার প্রথম সফটওয়্যার।
কত করে নিবি? জানতে পেরে বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করে মেহদি-কে।
কীসের কত করে নিবো?
এরপরে মেহদী যা বললো, তাতে আক্কেলগুড়ুম হয়ে গেলো। ১৮ বছরের একটা ছেলে বলছে, ফ্রি!!!
ভাষার জন্য টাকা নেবো কেন?!
হ্যাঁ, এ ধরনের বৈপ্লবিক কথাবার্তা এই বয়সেই মানায়। কারণ, এই সফটওয়্যার তৈরির কাজটাও যে লেখনী জগতে এক বিপ্লবেরই শামিল।
অভ্র কী-বোর্ড আসার আগে ইন্টারনেট দুনিয়ায় বাংলা ভাষার প্রতিপত্তি একদমই ছিলো না, এটা তো সবার জানা!
এরপরের সময়টা মেহদির আত্মনিবেদন।
বিপ্লবকে সফল করার প্রতিজ্ঞা।
দুর্ধর্ষ ১৮ বছর বয়েসটাকে দরজার ওপাশে আটকে, হোস্টেলের একটা রুমে নিজের পৃথিবী বেঁধে ফেলে মেহদী তখন গোটা পৃথিবীর জন্য বাংলা ভাষাকে উন্মুক্ত করে দেয়ার যুদ্ধে নেমে গেছে।
বিপ্লবের শ্লোগান "ভাষা হোক উন্মুক্ত"!
রুমে না গেলে ছেলেটার সাথে দেখা হয়না।
কলেজ ক্যান্টিনে নেই। মাথার চুল ছেড়ে দেয়া বাড়তে দিয়ে, থুতনির নিচে ফিনফিনে দাঁড়ি গজাচ্ছে। চোখের নিচে কালিটুকু হয়ে যাচ্ছে স্থায়ী।
এর মাঝে আছে মেডিকেল নামের রোড রোলার। তাবৎ বিজ্ঞ শিক্ষকেরা ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দিলেন, এ ছেলে মেডিকেলের অনুপযোগী। বিজ্ঞ শিক্ষকেরা বলে দিলেন, সময় থাকতে মেডিকেল ছেড়ে দিতে।
মেডিকেলের অসহ্য, দমবন্ধকরা পৃথিবী মেহদীকে চেপে ধরছিলো আষ্টেপৃষ্ঠে, মরে যাওয়ার কথা ছেলেটার। একদিকে নতুন আইডিয়া, তাঁর স্বপ্ন, আরেকদিকে মেডিকেল। অসম্ভব অস্থিরতা কাটাতে যখন রাতে একটু রাস্তায় হাঁটত মেহদি, তাঁর একাকী পথের সঙ্গী হত হোস্টেলের সারমেয়বাহিনী।
মেহদি আটকায়নি। সৃষ্টি সুখের উল্লাস প্রথম সফল হয় ২০০৩ সালের ২৬ মার্চ! অভ্র'র আবির্ভার এই দিনেই। মেডিকেলটাও শেষ করেছেন সন্মানের সাথেই। আটকায়নি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ অনেক রথীমহারথী চিকিৎসক তৈরী করেছে, আর অন্যদিকে সব অপমানকে হেলায় তুচ্ছ করে মেহদী বরং সেই কলেজটাকে সমৃদ্ধ করেছেন।
মেহদি লেগে থেকে এই পৃথিবীকে যেটা দিয়েছে,
তা হচ্ছে মুক্তি, স্বাধীনতা। বাংলা লেখার স্বাধীনতা। ইংরেজি হরফ নিজেই রূপান্তরিত হয়ে বাংলায় মনখোলার স্বাধীনতা।
উন্মুক্ত এই সফটওয়্যার বাঁচিয়েছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। সরকারি দপ্তরগুলোতে অভ্র ব্যবহার হয়। নির্বাচন কমিশন ব্যবহার করে আমার আপনার পরিচয়পত্র বানাচ্ছে, পাসপোর্ট বানাচ্ছে, সরকারি ফাইলে হচ্ছে লেখা। সবকিছুর মূলে ছিলো মেহদির সেই এক রুমের পৃথিবী, একটা ছোট্ট কম্পিউটার আর পর্বতসম স্বপ্ন। স্বপ্নের নাম 'অভ্র'। অভ্র, মেহদির ব্রেনচাইল্ড। সেই সন্তান আজ আমাদের সকলেরই আত্মজ।
বাংলা ভাষাকে ভালবেসে আজ আপনি যত পোস্ট করবেন, অভ্র'র সাহায্যে, তা হয়তো সম্ভবই হতো না মেহেদি না থাকলে। তাই আপামর বাঙালীর কাছ থেকে সেই প্রচারবিমুখ, নিজের কাজে ডুবে থাকা একাগ্র ছেলেটার জন্য অনেক শুভকামনা।
Courtesy Ashiq Rono
17/12/2020
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা সহ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অনেক প্রেরণাদায়ী গানের গীতিকার গোবিন্দ হালদার।
আসুন তার সম্পর্কে খানিকটা জেনে নেই।
গোবিন্দ হালদার ১৯৩০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন বাঙালি গীতিকার। তার রচিত প্রথম কবিতা ছিল ‘আর কতদিন’। তিনি প্রায় সাড়ে তিন হাজার কবিতা ও গান লিখেছেন। তার প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দূর দিগন্ত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারে সম্প্রচারিত তার লেখা গানসমূহ মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রচিত উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, লেফট রাইট লেফট রাইট, হুঁশিয়ার হুঁশিয়ার, পদ্মা মেঘনা যমুনা, চলো বীর সৈনিক, হুঁশিয়ার, হুঁশিয়ার বাংলার মাটি অন্যতম।তিনি ভারতের আকাশবাণী বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার ছিলেন।
আয়কর বিভাগে কর্মরত অবস্থায় বন্ধু কামাল আহমেদের অনুপ্রেরণায় এবং উৎসাহে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর গান রচনা করেন। কামাল আহমেদ তাকে স্বাধীন বাংলা বেতারের কর্ণধার কামাল লোহানীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তার হাতে ১৫টি গানের একটি খাতা দেন। এ গানগুলোর মধ্যে স্বাধীন বেতারে প্রথম প্রচারিত হয় সমর দাসের সুরারোপিত পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে গানটি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই তার আরও কিছু গান স্বাধীন বেতারে সম্প্রচারিত হয়। পাক বাহিনীর আত্মসমর্থনের খবর পাওয়ার পরপরই সন্ধ্যায় ১৬ই ডিসেম্বর প্রচারিত হয় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে গানটি যা সুর দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ এবং মূল কণ্ঠ দিয়েছিলেন স্বপ্না রায়। আরও কণ্ঠ দিয়েছিলেন আপেল মাহমুদ এবং সহশিল্পীরা।
তিনি ২০১৫ সালের ১৭ই জানুয়ারি কলকাতায় মারা যান।
উইকিপিডিয়া থেকে/
https://youtu.be/X--AqwOzVFE
(C)
28/11/2020
করোনায় কেড়ে নিল আরও এক নক্ষত্র গুনী সরোদ শিল্পী ওস্তাদ শাহাদত হোসেন খান কে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Clap For The Heroes
চলুন করোনা প্রতিরোধে আমাদের জাতীয় বীরযোদ্ধাদের সম্মানে #করতালির_মাধ্যমে আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি! 🇧🇩
Please join on: https://www.facebook.com/events/543074016338301/
★১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টায় যে যেখানে আছি একসাথে অংশগ্রহন করি।
Location
Category
Contact the business
Website
Address
Dhaka
