বাংলাদেশ ছাত্রমুক্তি- BCM

বাংলাদেশ ছাত্রমুক্তি- BCM

Share

হিযবুত তাহরীরের ছাত্র সদস্যবৃন্দ।

07/06/2023

“যদি তারা তোমাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে তবে তারা শত্রুর মতো আচরণ করবে, আর তোমাদের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে তাঁদের হস্ত ও রসনাসমূহ প্রসারিত করার এবং চাইবে যে, কেনিরূপে তোমরাও কাফের হয়ে যাও” [সূরা আল মুমতাহিনা: ২]




06/06/2023

হিযবুত তাহরীর এর নেতৃত্বে খিলাফতে রাশিদাহ্ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নব্য-উপনিবেশবাদী এই মার্কিন প্রকল্প প্রতিহত করুন।




04/06/2023

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে উন্নয়নের মাইলফলক হিসেবে দেখানো হলেও এটি মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক চৌকিদার- জাপানি ও ভারতের স্বার্থে নির্মিত এবং বাংলাদেশে মার্কিন নব্য উপনিবেশবাদ স্থাপনের প্রাথমিক পদক্ষেপ।




Photos from বাংলাদেশ ছাত্রমুক্তি- BCM's post 04/06/2023

হে দেশবাসী! ক্ষমতায় টিকে থাকতে মরিয়া হয়ে হাসিনা সরকার দেশের কৌশলগত সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব মার্কিন-ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে।
হিযবুত তাহরীর এর নেতৃত্বে খিলাফতে রাশিদাহ্ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নব্য-উপনিবেশবাদী এই মার্কিন প্রকল্প প্রতিহত করুন।




01/06/2023

'ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ’ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রের ছত্রছায়ায় হাসিনা সরকার এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধীজোটের মধ্যে একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে চায় যাতে সে তার উপনিবেশিক প্রকল্প ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি-কে বৈধতা দিতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানকে ‘সমর্থন’ দেয়ার উদ্দেশ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গত বুধবার একটি নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে। জবরদস্তিমূলক এই নীতির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্তকারী যেকোন বাংলাদেশী নাগরিককে ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপে সক্ষম হবে। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো, জনগণের সমবেত হওয়ার ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুন্ন করতে সহিংস পন্থার ব্যবহার, এবং রাজনৈতিক দল, ভোটার, সুশীল সমাজ বা মিডিয়ার মতামত প্রচারে বাধা প্রদানের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত পদক্ষেপসমূহের মতো কর্মকাণ্ড। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু পরিষ্কারভাবে বলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচনকে দুর্বল করার কাজে জড়িত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও ভিসা বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত হবে। এই ঘোষণাটি বাংলাদেশের বিরোধী দল ও তথাকথিত সুশীল সমাজের সদস্যদের আনন্দিত করেছে, কারণ তাদের আশা এবার আঙ্কেল স্যাম বাংলাদেশকে শেখ হাসিনার নির্মম শাসন থেকে উদ্ধার করবে এবং জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে। হাসিনা সরকার এ ঘোষণায় বিব্রত, কারণ তাদের বিশ্বাস ক্ষমতায় থাকার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে ইতিমধ্যে তারা অনেক কিছু করেছে। শেষপর্যন্ত মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকারও করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নব্য-উপনিবেশিক প্রকল্প ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’-কে গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোও মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েছে। তারা জনগণের হাসিনাবিরোধী মনোভাবকে পুঁজি করে দেশবাসীকে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের’ দাবীতে ব্যস্ত রেখেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জনগণের ত্রাণকর্তা হিসাবে চিত্রায়িত করেছে কিন্তু এটির উপনিবেশিক এজেন্ডাকে গোপন করেছে। একদিকে, হাসিনা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নির্বাচনের সাথে সহমত নয়, কারণ তাদের আশঙ্কা জনগণকে ভোট দেয়ার সুযোগ দিলে তার সরকারের অবশ্যম্ভাবী পতন হবে। অন্যদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলসমূহের ‘সরকার পতনের’ এক দফা দাবী হতে বের হবার একটি রাস্তা প্রয়োজন, যে কারণে তারা জনসমর্থন পেয়েছিল। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবিষয়ে সচেতন যে, যেহেতু হাসিনা সরকারের পক্ষে জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নেই, সেহেতু এই সরকার যেসব মার্কিন নীতি গ্রহণ করবে তা জনগণ কর্তৃক স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে। একারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাসিনা সরকার এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে জবরদস্তিমূলক ভিসা নীতি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। আমেরিকা আওয়ামী লীগ-বিএনপি শাসকগোষ্ঠীকে একত্রিত করে একটি গণতান্ত্রিক সার্কাস প্রদর্শনীর আয়োজন করতে চায়। কারণ শুধুমাত্র ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারই ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি সহ অন্যান্য মার্কিন উপনিবেশিক প্রকল্পগুলোকে বৈধতা দিতে পারে।
হে দেশবাসী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বাংলাদেশের ত্রাণকর্তা হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করছে, যেন মনে হয় কাফির-উপনিবেশবাদীদের এই মোড়ল প্রকৃত অর্থেই উম্মাহ্’র অধিকার ও কল্যাণ নিয়ে চিন্তিত! এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই স্বৈরাচারী সরকারকে সমর্থন দেয়ার পর এখন হঠাৎ করে তারা ‘গণতন্ত্র’ নিয়ে মাথা ঘামানো শুরু করেছে! বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কুমিরের কান্না শুরু করেছে তা না বোঝার মতো বোকা আপনারা নন।

হে দেশবাসী, হাসিনা সরকারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আপনাদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ উপলব্ধি করে আমেরিকা এটিকে তার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ব্যবহার করতে চায়। গণতন্ত্রের নাটক মঞ্চস্থ করে আমেরিকা আপনাদের পক্ষ থেকে তার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির জন্য বৈধতা লাভের আশা করে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রকৃত বিপদ হচ্ছে আপনাদের সচেতনতা ও তার অশুভ পরিকল্পনার প্রতি আপনাদের অস্বীকৃতি জ্ঞাপন, এবং তার স্বার্থ হাসিলের পথে যেকোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি। সুতরাং, এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য স্থায়ী করার জন্য প্রয়োজনীয় একটি কল্পকথা ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান এই বিশ্বব্যবস্থায় তথাকথিত গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে যারাই ক্ষমতায় আসবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে সক্ষম হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আনুগত্যের বিষয়ে সরকার কিংবা বিরোধী দল কোনটাই ব্যতিক্রম নয়। সুতরাং, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র, অবাধ নির্বাচন, প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ, কিংবা তথাকথিত বাকস্বাধীনতা আমাদের জন্য কোনো বাস্তব পরিবর্তন বয়ে আনবে না; কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটা নিশ্চিত করে যে, গণতন্ত্রের মধ্যে থাকা সকল পক্ষ তার বেধে দেয়া নিয়ম অনুযায়ী কাজ করবে। শাসক হিসেবে আমাদের উপর চেপে বসা পশ্চিমা-সমর্থিত এসব হায়েনাদের অস্তিত্ব এবং পশ্চিমা শক্তিসমূহের আধিপত্যের ধারাবাহিকতার একমাত্র কারণ হচ্ছে মহিমান্বিত খিলাফত রাষ্ট্রের অনুপস্থিতি। কাফির-উপনিবেশবাদীদের এই সন্ত্রাসের অবসান ঘটাতে এবং আমাদের ভূমি থেকে তাদের শক্তিসমূহকে বিতাড়িত করতে আপনাদেরকে অবশ্যই নবুয়্যতের আদলে প্রতিশ্রুত খিলাফতে রাশিদাহ্ পুনঃপ্রতিষ্ঠার বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে লিপ্ত হতে হবে, কারণ এই খিলাফতই মুসলিম ও মানবজাতির প্রকৃত ত্রাণকর্তা।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন:
“তারা তাদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহ্’র নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর নূরকে পরিপূর্ণ করবেনই, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।”
[সূরা আস-সফ: আয়াত- ৮]

31/05/2023

“আলোচনায় রাষ্ট্রদূতদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার ও স্যাংশন”

খবরঃ
বাংলাদেশে ছয়টি বিদেশি দূতাবাসের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার। যেসব দেশ স্যাংশন দিয়েছে তাদের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ। আর প্রধানমন্ত্রীকে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এইসব বিষয় নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নিয়ে দুইবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশ নিয়ে কথা বললেন। প্রথম তিনি বলেছেন, যারা আমাদের স্যাংশন দিয়েছে তাদের কাছ থেকে আমরা কিছু কিনব না। এরপর গতকার সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাদের সঙ্গে আমরা লেনদেন করব না। মঙ্গলবারই আবার যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয়টি দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়। আর মঙ্গলবার রাতে বিবিসিতে প্রচার হওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আমাকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলে র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

মন্তব্যঃ
বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী জ্বালাময়ী বক্তব্য শুনে শেখ হাসিনাকে পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধে আপোষহীন ভাবার কোন কারণ নেই। পশ্চিমা দাসত্ব বজায় রেখে তার আকস্মিক এই পশ্চিমাবিরোধী অবস্থান মূলত ক্ষমতায় টিকে থাকতে হাসিনা সরকারের ধূর্ত ম্যাকিয়াভেলিয়ান কৌশলের অংশবিশেষ। ২০০৮ সালে ইঙ্গ-মার্কিন শক্তির সমঝোতায় ক্ষমতায় আরোহণের পর থেকেই হাসিনা সরকার উম্মাহ্’র সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত সম্পদসহ (জ্বালানি খাত, গভীর সমুদ্র বন্দর, বিদ্যুৎ) দেশের প্রতিরক্ষা খাতকে পশ্চিমা উপনিবেশবাদীদের কাছে সমর্পণ করে আসছে। উৎপাদন-বন্টন চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন-বৃটিশ কোম্পানিগুলোকে আমাদের গ্যাস সম্পদ ইজারা দিয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়ায় (CARAT) অংশগ্রহণের মাধ্যমে উপনিবেশিক আমেরিকার মেরিটাইম এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা ছাড়াও, এখন তাদের কোম্পানীগুলোকে আমাদের অফশোর ব্লকে সুযোগ অন্বেষণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা এবং জনগণকে পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক আধিপত্যের অধীনে রাখার জন্য নব্য উপনিবেশবাদী প্রতিষ্ঠান আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে আঁতাত করে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ACSA ও GSOMIA’র মত দেশবিরোধী সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে শেখ হাসিনা মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে সম্প্রতি তার ত্রিদেশীয় সফরের (জাপান-যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য) আগে মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে “ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা” ঘোষণা করেছে। এমতাবস্থায় হাসিনা সরকার যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী সাহসী বক্তব্য দিয়ে জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি করছে এবং জনগণের সহানূভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে যেন জনগণ তাকে বিশ্বাসঘাতক ও বেঈমান হিসেবে সাব্যস্ত না করে। যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা ও নিন্দার মাধ্যমে সে বুঝাতে চায় তার সরকার কখনোই পশ্চিমা চাপ ও তাদের স্যাংশনের কাছে মাথা নত করেনি। বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের মাধ্যমে সে এই ম্যাসেজ দিতে চায় যে তার সরকার যেকোন বিদেশী হস্তক্ষেপ ও চাপ মোকাবেলা করতে সক্ষম। যুক্তরাজ্যের দালাল শেখ হাসিনা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাহসী বক্তব্য দিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে, কিন্তু দরজার আড়ালে সে আসলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দর কষাকষি করছে।
প্রকৃতপক্ষে, শেখ হাসিনার মত বিশ্বাসঘাতক শাসক হচ্ছে পশ্চিমা সমর্থিত ম্যাকিয়াভেলিয়ান রাজনীতির ফসল যে ক্ষমতা অর্জন এবং জনগণকে বোকা বানানোর জন্য প্রতারণাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি চতুরতা ও ধূর্ততার সাথে জনগণের সাথে প্রতারণা করার কৌশল সম্পর্কে বলেছিল, “Those princes who have done great things have considered keeping their word of little account, and have known how to beguile men’s minds by shrewdness and cunning”। ফলশ্রুতিতে পশ্চিমা বিশ্বসহ মুসলিম বিশ্বের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক ব্যবস্থার গর্ভে ম্যাকিয়াভেলিয়ান ধ্যান-ধারণায় গভীরভাবে সংক্রমিত রাজনীতিবিদদের জন্ম হচ্ছে যারা ধূর্ত কথার আড়ালে জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করার আর্ট সুদক্ষতার সাথে আয়ত্ত করেছে।
আমরা যতক্ষণ এসব শাসকদের হাতে উম্মাহ্‌’র দেখভাল ও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে রাখবো ততক্ষণ তারা ম্যাকিয়াভেলিয়ান পলিসি “End Justify the Means” কে ব্যবহার করে ক্ষমতা সুরক্ষিত রাখতে উপনিবেশবাদী কাফেরদের কাছে উম্মাহর সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করবে না। তাদের নেতৃত্বের অধীনে আমরা কখনোই পশ্চিমা আধিপত্য থেকে বের হয়ে আসতে পারবো না। এমতাবস্থায় পশ্চিমা আধিপত্যের অবসান ঘটাতে দেশের নিষ্ঠাবান জনগণ ও রাজনীতিবিদদের অবশ্যই প্রতিশ্রুত খিলাফতে রাশিদাহ্ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামী বিশ্বব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে। ইসলামে রাজনীতির (সিয়াসাহ) মূল দর্শন হচ্ছে জনগণের অভ্যন্তরীণ বিষয়সমূহ তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি বহিঃশত্রুর আগ্রাসন থেকে জনগণকে রক্ষা করা। ইসলাম “End Justify the Means” নামক ম্যাকিয়াভেলিয়ান নীতিকে স্বীকৃতি দেয় না। খিলাফত রাষ্ট্রে শাসকগণ শারীআহ্‌ বিধিবিধান দ্বারা আবদ্ধ, অর্থাৎ তাদের গৃহিত “Means/Actions have to be Justified by Sharia”. পশ্চিমা পরাশক্তির চাপে দেশের অভ্যন্তরীন ও বহিঃস্থ বিষয়াদিকে তাদের হাতে সমর্পণ করা শারীআহ্‌ কর্তৃক নিষিদ্ধ: “এবং কিছুতেই আল্লাহ্‌ মু‘মিনদের উপর কাফিরদের কর্তৃত্বকে মেনে নিবেন না” (সূরা আন-নিসা: ১৪১)। শারীআহ্‌ নির্ধারিত শক্তিশালী পররাষ্ট্র নীতির মাধ্যমে এঅঞ্চলসহ বিশ্বব্যাপী আমেরিকা ও অন্যদের আধিপত্যকে ধ্বংস করতে আমেরিকা, বৃটেন ও তাদের মিত্রদেরকে একে অন্যের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে এবং পশ্চিমা মদদপুস্ট ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী ব্যবস্থা থেকে মানবজাতিকে মুক্ত করে বিশ্বজুড়ে ইসলামের মহাত্ব্ প্রচার করবে। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে আমার সামনে সংকুচিত করলেন, ফলে আমি এর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত দেখতে পেলাম; এবং যতদূর পর্যন্ত দেখেছি আমার উম্মতের কর্তৃত্ব ঐ পর্যন্ত পৌছে যাবে” (মুসনাদে আহমাদ)

- সিফাত নেওয়াজ

31/05/2023

"যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের বলি ৪৫ লাখ মানুষ”

খবরঃ
একুশ শতকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাত কোনটি? অনেকেই হয়ত বর্তমানে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের কথা বলবেন। না ইউক্রেন যুদ্ধ নয়! হতাহতের বিচারে চোখ কপালে উঠারমত সমীক্ষা প্রকাশ করেছে খোদ মার্কিন একটি সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল এন্ড পাবলিক এ্যাপেয়ার্সের কস্ট অফ ওয়ার প্রজেক্টে বলা হয়েছে, টুইনটাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র যে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ শুরু করে তাতে ৪৫ লাখেরও বেশি লোক মারা গেছে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বিশ্বব্যাপী কথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন। মার্কিন সে আগ্রাসীনীতির অংশ হিসেবে আফগানিস্তান ও ইরাকে আক্রমণ চালানো হয়। এতে অসংখ্য নীরিহ মানুষ প্রাণ হারান বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের বলি হয়েছে যেসব অঞ্চলের মানুষ সেগুলোহলো পাকিস্তান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন সহ আরও অসংখ্য দেশ। এইদেশগুলোতে বিভিন্নপক্ষ বিবাদমান থাকলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় বলাহচ্ছে, “মার্কিন সন্ত্রাসবাদ সহিংসতাকে তীব্রতর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”

মন্তব্যঃ
স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে মার্কিন আধিপত্যের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে স্যামুয়েল হানটিংটন (ক্ল্যাশ অব দ্যা সিভিলাইজেশন এর লেখক)-এর মত পশ্চিমা গবেষকরা যখন ইসলামী রাষ্ট্রের উত্থান-কে তাদের গবেষণায় তুলে নিয়ে এসেছে, তখন থেকে আমরা প্রত্যক্ষ করি সারা বিশ্বব্যাপী ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি আমেরিকা ইসলামের উত্থান ঠেকাতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য শত্রুতায় লিপ্ত হয়। শুধু তাই নয়, তারা বিশ্বকে দুইভাগে বিভক্ত করে। মার্কিনপন্থী অঞ্চলসমূহকে “শান্তি প্রতিষ্ঠিত অঞ্চল (zones of peace)” এবং মার্কিনবিরোধী অঞ্চল সমূহকে “হাঙ্গামাপূর্ণ অঞ্চল (zones of turmoil)” হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ছদ্দাবরণে সারাবিশ্বব্যাপী সহিংসা ছড়িয়ে দেয়, বিশেষ করে “zones of turmoil” অধিভুক্ত অঞ্চলসমূহে। উদ্দেশ্য মার্কিন আধিপত্যকে টিকিয়ে রাখতে সম্ভাব্য হুমকিগুলোকে দমন করা। এরই ধারাবাহিকতায়, ২০০১-২০২৩ পর্যন্ত ৪৫ লক্ষ্যেরও বেশি নীরিহ মানুষকে হত্যা এবং কোটি কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত্ত করে এই বিশ্ব সন্ত্রাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্যামুয়েল পি.হানটিংটঙ্গের মতে, “পশ্চিমারা তাদের বিশ্বাস, মূল্যবোধ কিংবা ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে বিশ্বকে জয় করেনি …বরং, করতে পেরেছে বিশ্বব্যাপী সুসংগঠিত সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে। পশ্চিমারা তা ভুলে যায় কিন্তু বাকিরা তা ভুলেনা”। সুতরাং, এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, পশ্চিমাদের ওয়েস্টফিলিয়া শান্তি চুক্তি, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ শান্তি মিশন যে সম্পূর্ণরূপে ভন্ডামি আর প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এসব সংস্থার কাজ হচ্ছে শুধু পশ্চিমা কাফের রাষ্ট্রসমূহের সহিংসতাকে শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম হিসেবে বৈধ করা। ঠিক যেমনটি আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, “আর যখন তাদেরকে বলা হয় “তোমরা জমিনে বিশৃংখলা করোনা”, তারা বলে, “আমরাতো কেবল শান্তি স্থাপনকারী” (সূরা-বাকারা-১১)”।
এই বাস্তবতায় আমাদেরকে অবশ্যই “আমেরিকা”কে তার প্রকৃত চেহারায় চিনতে হবে। তার আগ্রাসী নীতির বাহিরে আমাদের এই অঞ্চলের কোন মুসলিম ভূখন্ডও অবশিষ্ট নাই। তাই ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে তার আধিপত্য বিস্তার করে এই অঞ্চলে ইসলামের উত্থানকে ঠেকাতে আমেরিকা বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশে তথাকথিত গণতন্ত্রের জন্য আমেরিকার মাতব্বরি নব্য-উপনিবেশবাদী আগ্রাসন বৈকি আর কিছুই না। বাংলাদেশকে আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের বেড়াজালে আটকিয়ে, পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা ও সম্পর্কের নামে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি এবং টাইগার শার্কের মত সামরিক মহড়ার আড়ালে মূলত আমাদের মুসলিম সামরিকবাহিনীকে মার্কিনীরা তাদের স্বার্থে ব্যবহৃত করতে চাচ্ছে। তারা চাচ্ছে আকসা এবং জিসোমিয়া চুক্তির মাধ্যমে আমাদের এই পবিত্রভূমি এবং সেনাবাহিনী যাতে তাদের যুদ্ধের গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে আধিপত্য বিস্তারের পিছনে মার্কিনীদের দু’টো মূল উদ্দেশ্য রয়েছে,
(১) যেকোন মূল্যে ইসলাম তথা আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্রের প্রত্যাবর্তন ঠেকানো এবং
(২) চীনকে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে না দেওয়া।
এই দুই নীতিকে কেন্দ্র করেই যখন তারা এগোচ্ছে তখন আমাদের এই বিষয়টা অনুধাবন করা জরুরী যে আমাদের জান-মাল পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত মার্কিন আগ্রাসনের হুমকিতে ভয়াবহভাবে ধ্বংসে পরিণত হতে যাচ্ছে। আর, এটি করতে মার্কিনীদের ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তানের মত এই অঞ্চলের দালাল আওয়ামী-বিএনপি শাসকগোষ্ঠী অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে। আমরা দেখছি, আওয়ামী-বিএনপি শাসকগোষ্ঠী যেকোন মূল্যে মার্কিনীদের সাথে সম্পর্ক রাখতে বদ্ধ পরিকর। কেননা উম্মাহ্‌’র সার্বভৌমত্ব আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার বিনিময়ে এরা চায় নিজের ক্ষমতার সিংহাসনকে সুরক্ষিত রাখতে। যা বর্তমান দালাল সরকার শেখ হাসিনার কথা এবং কাজে গত কয়েকদিন ধরে সুস্পষ্ট। সুতরাং, আমরা যদি এইসব দালাল শাসকদের অতিদ্রুত উচ্ছেদ করে এই অঞ্চলকে খিলাফত রাষ্ট্রের অধীনে মার্কিন আগ্রাসন থেকে সুরক্ষিত না করি; তাহলে বুঝতে হবে, দ্রুতই আমরা মার্কিন ধ্বংসনীতির বলি হতে চলেছি। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন, “ইমাম (খলীফা) হলো সে ঢাল যার পিছনে দাঁড়িয়ে মুসলিমরা লড়বে এবং কাফিরদের কাছ থেকে নিজেদের রক্ষা করবে” (সহীহ্‌ মুসলিম)।

- আসাদুল্লাহ্‌ নাঈম

31/05/2023

আরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসছে, প্রস্তুত সরকার”

খবরঃ
বাংলাদেশের ওপর আরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসছে। মানবাধিকার ইস্যু ছাড়াও গণতন্ত্র খর্ব, রাজনৈতিক নিপীড়ন, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে জড়িত সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপর চলতি মাসেই নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে যে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সরকার।

মন্তব্যঃ
কোন দেশের উপর অন্য দেশের সামরিক অনুপ্রবেশ বা আক্রমণকে দেশটির স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের উপর আক্রমণ হিসেবে মানুষ যেমন সহজেই বুঝতে পারে (যেমনটা ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার মত ঘটনা), কিন্তু আমেরিকা বা অন্যকোন পশ্চিমা দেশ অথবা দেশগুলোর জোট (ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন) অথবা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান (জাতিসংঘ, আইএমএফ) ইত্যাদি কর্তৃক অন্যদেশের উপর ‘স্যাংশন’ বা নিষেধাজ্ঞা দেয়াকে কিন্তু একইরকমভাবে ঘৃণ্য হিসেবে দেখা হয় না। যেমন: বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, সরকারের যুলুম ও দুঃশাসনের জর্জরিত জনগণের সরকারবিরোধী আবেগকে ব্যবহার করে “স্যাংশন” অস্ত্রটিকে পরিত্রাণের পথ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এই ‘স্যাংশন’ অস্ত্র ব্যবহার করেই আমেরিকা প্রায় সারা বিশ্বে তার রাজত্ব চালাচ্ছে। ‘স্যাংশন’-কে ভয়ংকর, প্রভাবশালী ও কার্যকর রাখার জন্য আমেরিকা অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর সহযোগিতায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন বা কনভেনশন (UN Charters & Conventions), আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান (UN, ICC) এবং জোট (NATO, QUAD, EU, ASEAN etc.) গঠন করে। এসবের সমন্বয়েই চলে American Hegemony বা আমেরিকান রাজ। এখানে যেসব দেশ আপোসে নিজেই নিজের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা বা স্বাধীনতাকে আমেরিকার ইচ্ছার কাছে সপে দেয়না, এই ‘স্যাংশন’ ব্যবহার করে আমেরিকা প্রথমে তাদেরকে ক্রিমিনালাইজ করে বা খারাপ হিসেবে তুলে ধরে এবং পরবর্তিতে বাগে না আসলে আমেরিকা সামরিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি আগ্রাসন চালিয়ে দেশসুদ্ধ প্রায় ধ্বংস করে দেয়। যেমন ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, ইরান, সোভিয়েত ইউনিয়ন, কিউবা, ভেনেজুয়েলা, পাকিস্তান ‌ইত্যাদি। শুধু তাই নয় যেসব দেশ এই আমেরিকান রাজের সাথে দরকষাকষি করতে চায় তাদেরকেও এই স্যাংশন ব্যবহার করে দমন করা হয়।
মার্কিন আধিপত্যবাদ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন মুখরোচক শব্দ যেমন স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার ইত্যাদি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্বব্যবস্থারই অংশ। হাসিনা সরকার জানে তারাও আমেরিকান রাজ-এরই অংশ, কারণ তারা পশ্চিমাদের প্রণীত ও নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। উপরে উপরে তারা যতই মার্কিন বিরোধিতার ভাব ধরুক না কেন, প্রকৃতপক্ষে তারা আমেরিকার সব চাওয়াই মেনে নিচ্ছে। তাছাড়া, তার পক্ষে চীন, রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়ে এই আমেরিকান রাজের Status Quo কে ভেঙে ফেলাও সম্ভব না। কারণ তারাও সেক্যুলার বিশ্বব্যবস্থা দ্বারা আষ্ঠেপৃষ্ঠে বাধা।
একমাত্র খিলাফত রাষ্ট্রের পক্ষেই সম্ভব এই বিশ্বব্যবস্থাকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে নতুন Status Quo তৈরি করা। কারণ এটি ইসলামী আক্বিদার স্পিরিটুয়াল শক্তি দিয়ে মুসলিমদের একত্র করতে পারবে। এই শক্তি একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, ফ্রীডম ইত্যাদিকে প্রত্যাখ্যান করে ও মুসলিম জাতিকে অন্যের অধীনস্থ থাকতে নিষিদ্ধ করে, অন্যদিকে পুরো মানবজাতির দায়িত্ব গ্রহণের ফারজিয়া আরোপ করে। একারণেই ইসলামের শক্তিতে বলিয়ান খলিফা মুসলিম দেশগুলোকে খিলাফতের মধ্যে নিয়ে এসে এবং উম্মাহর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুতই এই আমেরিকান রাজকে পর্যদুস্ত করে নতুন এক বিশ্ব রচনা করবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন, “এভাবে আমি তোমাদেরকে আদর্শ জাতি করেছি, যেন তোমরা মানবগণের জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূলও তোমাদের জন্য সাক্ষী হয়” (সুরা বাকারা: ১৪৩)।

- মোহাম্মদ তালহা হোসেন

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Dhaka