13/12/2018
পরের জন্য না কাঁদিলে সুখ পাওয়া যায়না। পরের জন্য কাঁদিলেই চিত্ত সজীব হয়। মুড়োটাও চাইবো, লেজটাও ছাড়বো না -এমন কথায় আবদারেরই পরিচয় মেলে বুদ্ধির নয়।
সুখ কি ? # শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাধা সব ভেংগে ফেলা হচ্ছে - এই বোধ।
কার বিরুদ্ধে যাবেন সেটা ভেবে লাভ নেই, কার পক্ষে থাকবেন সেটাই বড়।সত্যের ভান নেই, তা নিরাভরণ। রং-চঙে পোশাক পরে তা কারো মন ভোলাতে চায়না।
আমরা সকলেই সুখ চাই, আর সুখ জিনিষটা প্রয়াসলভ্য। চাওয়া মাত্র তা বেহেশতী মেওয়ার মতো মুখে এসে ঢোকে না।
ভালবাসে বলেই মা শিশুকে সকল জ্ঞান দিতে পারবে, এ কথা ঠিক না। জ্ঞান জ্ঞানবানের কাছ থেকেই নিতে হয়, মার কাছ থেকে নয়। মাতৃত্ব জীবনের অংশ মাত্র, সবটা নয়, এ কথা মনে রাখা দরকার। মা বয়স্ক সন্তানকে নিজ হাতে খাবার তুলে খাওয়ায়,-এ যেন ’ অপূর্ব স্নেহময়ী’ মা। কিন্তু আসলে এ স্নেহ স্নেহ নয়, মোহ। তা সন্তানকে মুক্তি দেয় না, পাকে জড়িয়ে রাখে। যে ছেলেটি খেতে শিখেছে, তাকেও যখন আপনি খাইয়ে দেন, তখন বুঝতে হবে ছেলেটিকে নাবালক করে রাখাই আপনার উদ্দেশ্য। আর তা অবশ্যই ভাল নয়।
ভালবাসার ব্যপারে পাটোয়ারি বুদ্ধি ভাল নয়। যাকে দেবেন সম্পুর্নই দেবেন। তা না হলে জীবনে বিকৃতি দেখা দেবে। প্রেম কারাগার রচনার জন্য নয়, মুক্তির জন্য। আগুন নিয়ে খেলা না করাই ভালো।
যে ভালবাসার উদ্দেশ্য কেবল পুরনো দুঃখ দূর করা, নতুন সুখ সৃষ্টি করা নয়, তার মূল্য কম। তা কৃপণের ধন, ঐশ্বর্যবানের বিভূতি নয়। ভালবাসাই সুখ। বাংলা লাভকে যথা সম্ভব বর্জন করে ইংরেজি ’লাভে’র অনুশীলন করলেই সুখ পাওয়া যায়। লাভের খেয়াল থাকলে ’লাভ’ ব্যর্থ হয়ে যায়।
"যে প্রেম অনুরাগের পাত্রটিকে বিকাশের জন্য ছেড়ে দেয় সে-প্রেমই যথার্থ প্রেম। যে প্রেম ধরে রাখে, বিকাশের দিকে তাকায় না, সে প্রেম প্রেম নয়, স্বার্থপরতা। যে অনুরাগ স্বার্থের দিকে নজর রাখে এবং অধিকার খাটাতে চায় সে-অনুরাগ নয়।
যে লোকটি নিজের মধ্যে বিভক্ত -চেতন আর অচেতন যার দ্বন্দ্ব, আর সমাজের সাথে সম্বন্ধটি শত্রুতার-সে হতভাগ্যটি কোনদিন সুখের স্বাদ পায় না।
মানুষ চায় রস, চায় প্রান। ভালবাসার ব্যাপারে স্বার্থপরতাকে বড় করে তুললে আপনি অপরের ভালবাসা পাবেন না; যাকে ভালবাসতে চাইবেন সে আপনাকে ভয়ংকর কিছু মনে করবে। সুখের জন্য কষ্ট দরকার, বিনা কষ্টে সুখ মেলে না। সুখের সাধনা সহজতার সাধনা, কিন্তু সহজ সাধনা নয়। তা জয় করে নিতে হয়, অমনি পাওয়া যায় না।