শিয়ালের মুরগি স্বাধীনতা...
গত বেশ কয়েকদিন ধরে ফেসবুক, টিভি, পত্রপত্রিকা সহ অন্যান্য সব মিডিয়াতে শুধু একটাই বিষয়...
পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে নারীদের যৌন নির্যাতন। নারীদের বস্ত্রহরন এবং নির্যাতনের স্পস্ট প্রমাণ থাকলেও এখনো আসল হোতারা গ্রেপ্তার হয়নি। অনেকেই আইন শৃংখলাবাহিনীর ব্যর্থতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অন্যায় আর অবিচারকে দায়ী করছেন, কেউ কেউ আবার রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আজ নারী সংগঠন গুলো চুপ হয়ে আছে, সুশীল সমাজ ঘুমাচ্ছে, প্রগতিশীলরা দিবালোকে জনসম্মুকে নারীভোগের দৃশ্য দেখে মজা লুটছে। দায়িত্বশীলরা প্রমাণের অভাবের অজুহাত দেখাচ্ছেন।
ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছেন। কেউ আবার এসব নিয়ে টকশোতে হট টেম্পার্ড হয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার এসব নিয়ে বিশ্লেষনের পাহাড় দাড় করিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মজার বিষয় আসল দুটি জিনিষ সবাই এড়িয়ে যাচ্ছে। যাদের উপর এমন নির্যাতন হয়েছে তারা আজ কেমন আছেন? ব্যক্তি ও সমাজ থেকে তাদের যে সহযোগিতা করার কথা তার কি হলো? শারীরিক ও মানুষিক ভাবে সুস্থ করে তুলতে তাদের প্রতি সমাজের তথা আজকে বড় গলায় প্রতিবাদকারিরা কি ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন?
আর দ্বিতীয়টি হলো এমন ঘটনা কেন বার বার ঘটছে? এটা কি শুধুই নারীদের উলঙ্গ চলার ফল নাকি নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রকৃত ধর্ম শিক্ষার অভাব?
একটু খেয়াল করলেই দেখবেন পৃথিবীর সব গুলো ধর্মেই কিন্তু নারীপুরুষ উভয়ে উভয়ের প্রতি পুর্ণ শ্রদ্ধা আর সম্মান জানানোর কথা বলা হয়েছে, সালীনভাবে চলার কথা বলা হয়েছে। সত্যিকারের মনুষত্ব্য সব ধর্মেরই শিক্ষা। তাহলে আজ মানুষ কেন এমন হিংস্র আচরন করছে? এর উত্তর একটাই। মানুষ আজ ধর্মকে তুচ্ছজ্ঞ্যান করেছে, অনেকে আবার ধর্মকে এক ধরনের ফ্যাশন হিসেবে নিয়েছেন। কেউ আবার ধর্মভিরুদের মৌলবাদী বলে গাল দেয় হোক সে মুসলিম বা হিন্দু অথবা বুদ্ধ। কেউ আবার ধর্মকে নিছক কিছু সিলেক্টিভ গোষ্ঠীর গোড়ামী ও উগ্রতা মানষিকতা সম্পন্ন বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
আসলে তথাকথিত প্রগতিশীল কিছু মানুষ আছে যারা আধুনিকতার নামে সবসময় ধর্ম থেকে বা ধর্ম শিক্ষা থেকে মানুষকে আলাদা করে রাখতে চায়। এসব মানুষের কথা মাথায় আসতেই সেই কথাটাই মনে পড়ে যায়...
“শিয়ালরা সবসময় মুরগির স্বাধীনতা চায় কারণ মুরগি যখন স্বাধীন হয়ে বাইরে বের হবে তখন শিয়ালরা খুব মজা করে মুরগিদের খাবে, ঠিক একই ভাবে শিক্ষিত আর আধুনিকতার মুখোশ পরিহিত লুইচ্চারা সব সময় নারীদের সম-অধিকারের কথা বলে নারীদের উলংভাবে রাস্তায় বের হতে উৎসাহ দেয় যাতে করে খুব মজা করে তারা নারীদেহের মজা নিতে পারে” – যার যোগ্যতম উদাহারন হলো এই পহেলা বৈশাখের আলোচিত ঘটনাটি।
নওরোজী-হাজার বছরের বাঙ্গালি
আমার সংস্কৃতি আমার প্রাণ
স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের অবদানঃ আওয়ামীলীগ ই প্রথম ভোট ডাকাতি করে...হেলিকপ্টার করে ব্যালট বাক্স ঢাকায় এনে। আওয়ামীলীগ ই প্রথম ব্যাঙ্ক ডাকাতি করে...শেখ কামাল। আওয়ামীলীগ ই প্রথম ধর্ষণ করে...সেনাবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তার বউ (( শেখ কামাল ))। আওয়ামীলীগ ই প্রথম রাজনৈতিক হত্যা করে...মেজর জলিল। আওয়ামীলীগ ই প্রথম মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করে...জাসদের ৩০ হাজার নেতা কর্মীর হত্যার মাধ্যমে। আওয়ামীলীগ ই প্রথম বুদ্দিজীবী হত্যা করে...জহির রায়হান। আওয়ামীলীগ ই প্রথম একদলীয় শাসন কায়েম করে...বাকশাল। আওয়ামীলীগ ই প্রথম সংবাদ পত্রের কন্ঠ রোধ করে। আওয়ামীলীগ ই প্রথম সংখালুঘুদের উপুর আক্রমন করে। আওয়ামীলীগ ই প্রথম রাজাকারদের ছেড়ে দেয়। আওয়ামীলীগ ই প্রথম রাজাকার মন্ত্রী বানায়। আওয়ামীলীগ ই প্রথম (( ইসলামের উপুর আঘাত করে ))মুসলিম শব্দ উঠিয়ে দিয়ে। আওয়ামীলীগ ই প্রথম বাংলাদেশে রক্ষী বাহিনী গঠন করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেয়। আওয়ামীলীগ আমলেই বাংলাদেশে প্রথম জঙ্গির উত্থান ঘটে। আওয়ামীলীগ আমলেই বাংলাদেশে রমনা বটমূলে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। আওয়ামীলীগ আমলেই বাংলাদেশে দুর্নীতিতে ১ নম্বর হয়। আওয়ামীলীগ আমলেই বাংলাদেশে ধর্ষণের সেঞ্চুরি হয়। আওয়ামীলীগ আমলেই বাংলাদেশে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা হয়। আওয়ামীলীগ আমলেই বাংলাদেশে প্রথম লগি বৈঠার মাধ্যমে মানুষ হত্যা করে তার উপর নৃত্য করে। আওয়ামীলীগ আমলেই বাংলাদেশ বিশ্ব দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হলো (( পদ্মা ব্রীজ ))। আওয়ামীলীগ আমলেই বাংলাদেশে হত্যা /গুম /আর ধর্ষণের মাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। আওয়ামীলীগ আমলেই বাংলাদেশে কেউ রাস্তায় / কিংবা বেডরুমেও নিরাপদ থাকে না। আওয়ামীলীগ আমলেই বাংলাদেশে আলেম হত্যা হয়। আওয়ামীলীগ আমলেই বাংলাদেশের সীমান্তে ফেলানিকে হত্যা করে কাটা তারে ঝুলিয়ে রাখে। একমাত্র আওয়ামীলীগই বলতে পারে মা দূর্গা এসে এবার আমাদের ফসল ভালো করেছে। একমাত্র আওয়ামীলীগই প্রকাশ্যে মানুষ কে কুপিয়ে হত্যা করতে পারে (( বিশ্বজিত ))। একমাত্র আওয়ামীলীগই মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসুল্লিদের পিটাতে পারে (( বায়তুল মুকাররম ))। একমাত্র আওয়ামীলীগই সন্মানিত মানুষদের অপমান করতে পারে (( মুহাম্মেদ ইউনুস ))। একমাত্র আওয়ামীলীগই মিথ্যার বিশ্ব রেকর্ড গর্তে পারে (( শেখ হাসিনা ))। একমাত্র আওয়ামীলীগই বিচার বিভাগ কে ধংস করেছে। একমাত্র আওয়ামীলীগই সুপ্রিম কোটে লাঠি মিছিল আর বিচারপ্রতির দরজায় লাথি মারে। একমাত্র আওয়ামীলীগই ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে সন্মাননা আনতে পারে। (( শেখ হাসিনা )) একমাত্র আওয়ামীলীগের কাছেই--- ভোটের আগে ওমরা, ভোটের পরে গোমরা... ভোটের আগে নামাজ-তসবী, ভোটের পরে দূর্গা-দেবী... ভোটেরআগে মদীনা সনদ, ভোটের পরে নাস্তিক মনদ... ভোটের আগে ঘরে ঘরে চাকরী, ভোটের পরে ঘরে ঘরে লাশের সারি... ভোটের আগে এ দেশ সবার, ভোটের পরে এ দেশ আমার... ভোটের আগে ডিজিটাল বাংলাদেশ, ভোটের পরে ডিফিক্যাল্ট বাংলাদেশ... বাংলাদেশের সব চাইতে বড় ভন্ড এবং ধর্ম ব্যবসায়ী হলো শেখ হাসিনা..
তোমরা যারা নারীদের বস্ত্র হরণ কর
( এদেশের স্বনামধন্য এক প্রফেসর প্রতিপক্ষ ছাত্রদের নসিহত করার জন্যে একটি কলাম লিখেছিলেন। যে সংগঠনকে তিনি উপদেশ দিয়েছেন সেই সংগঠণ তাকে গুরু নয়, বিপরীত কিছু জ্ঞান করে। কিন্তু যে সংগঠন উক্ত প্রফেসরকে গুরু বলে জ্ঞান করে, পীরের চেয়েও বেশি ভক্তি দেখায় তাদের প্রতি অনেক নসিহত ওয়াজেব হয়ে পড়লেও তা তিনি করেন না।
কাজেই বিবেকের তাড়নায় স্বত:প্রনোদিত হয়ে উক্ত প্রফেসরের জবানীতে কয়েকটি লাইন লেখার চেষ্টা করেছি ।)
বাংলা ভাষার 'কিন্তু ' শব্দটির উপর কেমন ক্ষেপেছিলাম তা তোমাদেরকে নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়বে না। এবার সম পরিমাণ কিংবা তার চেয়েও বেশি রাগ হয়েছে বস্ত্র হরণ শব্দটির প্রতি। রাজাকার প্রভাবিত মিডিয়া এই শব্দটি নিয়ে সত্যি বাড়াবাড়ি শুরু করে দিয়েছে। দেশের গর্ব প্রগতিশীল পুলিশ ভাইয়েরা যেটাকে বলছে একটু আধটু ধাক্কা ধাক্কি, সেখানে এই প্রতিক্রিয়াশীলরা বলছে বস্ত্রহরণ। শব্দটি শুধু কানে নয়,মনেও বাজছে। বিশেষ করে সোশাল মিডিয়া বেশ বাড়াবাড়ি শুরু করে দিয়েছে। আমি সহ আরো বেশ কয়েক জন নীরব কেন, এই ধরনের প্রশ্ন বুলেটের মত এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়ছে। এই গর্দভেরা জানে না যে সামান্য বস্ত্রহরণের চেয়েও আরো বড় বড় বিষয় নিয়ে আমাদেরকে চিন্তা গবেষণা করতে হয়।
তাছাড়া নারীর বস্ত্রহরণ কর্মটি নারীকে বস্ত্রে অাচ্ছাদিত করনের বিপরীত হওয়ায় একটু প্রগতি প্রগতি গন্ধ রয়েছে। আশার কথা হলো, দেশের মূল ধারার মিডিয়া এই রাজাকার ভাবাপন্ন শব্দটি নিয়ে কোন উচ্চ বাচ্য করছে না।
দেশের অর্থ নিয়ে যিনি হিসাবে ব্যস্ত সেই আবুল মালের হিসাব মতে, দেশের আট কোটি নারীর মধ্যে কয়েকজন নারীর বস্ত্র হরণ তো মোট সংখ্যার বিবেচনায় 'পি-নাট' মাত্র। কাজেই রাবিশ ও বোগাস লোকগুলিই এগুলি নিয়ে মাতামাতি করছে।
হাসানুল হক ইনুর সন্দেহটিও উড়িয়ে দেয়া যায় না। এই কাজের পেছনেও কোন না কোনভাবে জঙ্গী ও মৌলবাদীরা জড়িয়ে আছে বলে আমারও সন্দেহ হচ্ছে। তেতুল হুজুরেরা গত পঞ্চাশ বছর ধরে তেতুল সংক্রান্ত ওয়াজ করে নারীদের এই সব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন থেকে বিরত রাখতে পারে নি। এখন তোমরা আহম্মকেরা তেতুল হুজুরদের সেই কাজটিই করে দিয়েছো। ডিজিটাল যুগে এসে তোমরা এনালগ প্রক্রিয়ায় নারীর বস্ত্র হরণ করেছো। আমার আক্ষেপটি মূলত এখানেই।
তোমরা ইন্ডিয়ান নায়িকা দীপিকা পাডুকোনের ' মাই চয়েজ' ঠিক ভাবে বুঝলে এই কাজটি কখনই করতে না। সমাজে দীপিকা পাডুকোনদের সংখ্যা বাড়াতে পারলে বস্ত্র হরনের কাজটি এমন বোকার মতো তোমাদের করতে হতো না। হতাশার কথা কী আর বলবো? তোমাদেরকে লেসন দেই ডিজিটাল, আর তোমরা করো গিয়ে এনালগ কাজ কারবার। যত্তসব!
তোমাদেরকে এখন যতই বকাঝকা করি, এই কাজের দায় এখন কোন না কোনভাবে আমার বা আমাদের উপরও চাপছে। ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্যে এখন আমাদের পরামর্শ চাচ্ছো ? তোমরা আসলেই বোকা। ইশারা দিলেও বুঝো না।
বিজিবি প্রধান প্রেস কনফারেন্স করে বলেছেন যে তারা সরকারের কোন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন না। তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। বিজিবি প্রধানের প্রেস কনফারেন্সের এই কথা যদি জনগণ বিশ্বাস করতে পারে, তবে একই ধরনের প্রেস কনফারেন্স করে তোমরাও যদি এই বস্ত্রহরণকে অস্বীকার করো, তবে তোমাদের কথা জনগণ বিশ্বাস করবে না কেন ?
তোমাদের প্রেস ব্রিফিংয়ের কথা বিশ্বাস না করে জনগণের সামনে অন্য কোন উপায় নেই। এই মহৎ কাজটিই আগত প্রজন্মের জন্যে করে রেখেছি।
সেদিন প্রায় বিবস্ত্র এক নারী ঢুকে পড়েন রোকেয়া হলের গেস্ট রুমে'
বর্ষবরণের দিন। পরনে এলোমেলো শাড়ি। ব্লাউজ কিছুটা ছেঁড়া। দুই চোখে জল। চোখে-মুখে ভয়-আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় তিনি ঢুকে পড়লেন রোকেয়া হলের গেস্টরুমে। এমন দৃশ্য দেখে দৌড়ে গেলাম। কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন মেয়েটি। এর পর যা বললেন, তা অবিশ্বাস্য, মর্মান্তিক। রাজু ভাস্কর্যের কাছে কিছু যুবকের হাতে চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন তিনি। তাকে শাড়ি পরিয়ে দিয়ে আবরু রক্ষা করেছি।
নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিপীড়নের শিকার এক তরুণীকে রোকেয়া হলে আশ্রয় নেওয়ার পর তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যান এক ছাত্রী। গতকাল রাতে ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের এ ছাত্রী তিনি এ ঘটনা হলের প্রভোস্টকেও জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সেদিন পুরো ক্যাম্পাস লোকে লোকারণ্য। কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। সন্ধ্যার দিকে আমার ভাইয়ের সঙ্গে হলের ফটকে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি, একজন নারী হলের সামনে রিকশা থেকে নামছে। পোশাক একেবারেই এলোমেলো। দ্রুত হলের ভেতরে ঢুকলেন তিনি। গেস্টরুমে গিয়ে বসলেন। তার চেহারায় ক্ষোভ, ভয় আর আতঙ্কের ছাপ। তিনি জানালেন। একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন তিনি। থাকেন আজিমপুরে। হবু বরের জন্য টিএসসি এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন। টিএসসি এলাকায় এসে যে আচরণের শিকার হয়েছেন, তা জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। কিছু তরুণ বাজে মন্তব্য করে তাকে ঘিরে ফেলে। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মনে হয়নি। তারা তাকে প্রায় বিবস্ত্র করে ফেলে।
ওই ছাত্রী জানান, হলের প্রভোস্টের মাধ্যমে ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তিনি। প্রথমে তার ধারণা ছিল, শুধু ওই মেয়েটি বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনার শিকার হন। পরে একই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনা তাদের কানে আসে। হতবিহ্বল হয়ে পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই তরুণীর বিস্তারিত নাম-পরিচয় নেওয়ার কথা তার মাথায় আসেনি। পরে ওই নারী একটি রিকশায় উঠে বাসায় চলে যান।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এম আমজাদ জানান বলেন, বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার এক নারী রোকেয়া হলে গিয়ে আশ্রয় নিলে ওই হলের ছাত্রী ইরা মেয়েটিকে সাহায্য করে। প্রভোস্ট ইরার বক্তব্য শুনেছেন। পরে তদন্ত কমিটি ইরাকে ডেকে নেবে।
কালের কণ্ঠ অনলাইন
পহেলা বৈশাখে নারী নির্যাতনের ঘটনা ও তার পরবর্তী ঢাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি কথা আমার মনে শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে.............
১) প্রতি বছরই তো কোন না কোন মেয়েকে বিবস্ত্র করা হয়(http://goo.gl/ojl7t8), কিন্তু কোন মিডিয়া ও সংবাদ সংস্থা সে খবর কানেই নেয় না, কিন্তু এবার বামপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন ও তাদের সমগোত্রীয় মিডিয়াগুলো সেটা কেন ও কোন স্বার্থে প্রচার করলো ??
২) এত স্থান থাকতে ১৮টি সিসিটিভির মাঝে কেন ঘটনাটা ঘটলো ??
৩) ঐ দিন এত মানুষ থাকতে তিন জন (লিটন নন্দী, সুমন সেন গুপ্ত ও অমিত দে) একই সম্প্রদায়ের ব্যক্তিই কেন ঐ মেয়েদের বাচাতে এগিয়ে গেলো ??
৪) প্রথম আলো কেন সাথে সাথে রিপোর্ট করলো না, কেন ঘটনা ঘটার ২৮ ঘন্টা পর নিউজ করলো ??
৫) গতকাল আন্দোলনকারীরা কেন মুসলিম মেয়েদের একটি বিশেষ ধর্মীয় পোষাক বোরকাকে ব্যঙ্গ করে কার্টুন প্রদর্শনী করলো (http://goo.gl/f7PmR4) ??
৬) কেন ঘটনার পর ছোট ছোট ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লো, যেখানো বলা হচ্ছে, নারীরা যেন সাথে সব সময় ছুরি ও মরিচ গুড়া সাথে রাখে (http://goo.gl/jxv6aG)।
৭) প্রথম আলো কেন আজ নিউজে “বখাটে মুখে চাপ দাড়ি’ তত্ত্ব প্রকাশ করলো (http://goo.gl/hyCdBs) ??
৮) ঘটনার সময় অনেক পুরুষই নিজের গায়ের চাদর খুলে নারীদের দিয়েছিলো (চায়ের স্টল দোকানদারও দিয়েছিলো), কিন্তু ঘটনার পর সবাইকে ভিলেন বানিয়ে কেন বামপন্থী ছাত্র ইউনিয়নকে হাইলাইট করা হচ্ছে ??
৯) ঘটনার প্রচারের দায়িত্ব কেন বাম ঘরোনার টিভি একাত্তরের হাতে গেলো ? তারা সিসিটিভি ফুটেজ পেলো কিভাবে ??
আমি কেন জানি সব প্রশ্নগুলোর উত্তর একসাথে মেলাতে পারছি না। আপনারা পেলে দয়া করে একটু কমেন্টে উত্তর দিবেন................
বিডিআর হত্যাকান্ড,আজ রায় হচ্ছে না, উইকিলিকসের চাঞ্চল্যকর তথ্যঃ হাসিনা,আ.লীগ ও RAW জড়িত
2.1K
রায় সরকারের জন্য বুমেরাং হওয়ার আশংকা
প্রকৃত আসামীরা আড়াল হলে সেনাবাহীনি ক্ষেপে যাবে
বিদ্রোহ নিয়ে সেনা তদন্ত এড়াতে শেখ তাপস গা ঢাকা দেয় বিদেশে
bdr khoonডেস্ক রিপোর্টঃপিলখানা হত্যা মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা হচ্ছে না। কথা ছিলো পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসার পাশে কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করবে।
মোট ২৩২ কার্যদিবসে সাড়ে ৬০০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছিলো এ মামলায়। রায় ঘোষনাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নেয়া হয়েছিলো বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দেশের ফৌজদারি অপরাধের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অভিযুক্তের মামলা পিলখানা হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ করতে সময় লেগেছে ২৩২ কার্যদিবস। সাড়ে ৮০০আসামির মধ্যে ৮২৬ জনের উপস্থতিতে গত ২০ অক্টোবর মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করে মহানগর দায়রা জজ আদালত। আসামিদের মধ্যে বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টুও রয়েছেন।
মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে হত্যাকণ্ডের প্রকৃত ঘটনা প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী। রায়ে ন্যায় বিচারের প্রতিফলন হবে বলে মনে করছেন তিনি।
উল্লেখ, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদরদপ্তর পিলখানা হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত হয় ৭৪ জন। এরইমধ্যে বিজিবি আইনে বিদ্রোহের দায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার হচ্ছে প্রচলিত আইনে।
২৫ ফেব্রুআরির পিলখানায় নারকীয় সেনা হত্যাযঙ্গের কথা আজও ভুলতে পারেনি জাতি। কি হয়েছিল সেদিন? কারা বা কাদের নির্দেশে এই হত্যাযঙ্গ সংগঠিত হয়েছিল?? উইকিলিকসের সেই কথাটিই ফাঁস করে দিল। নিচে বিস্তারিতঃ
সেনা হত্যা নিয়ে সেনাবাহিনীর গঠিত তদন্ত রিপোর্টে মোটামুটি উঠে এসেছিল সব কিছু। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সে তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। তবে অনলাইনের কল্যানে জনগণ সব জেনে গেছে ভেতরের গোপন কথা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সৈনিক ও অফিসার জানে – কেনো, কোন্ পরিকল্পনায়, কারা পিলখানায় ৫৭ সেনা অফিসার হত্যা করেছে। সেটাই সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো।
wek১. RAW: ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘R&AW’এর পরিকল্পনায় ও ব্যবস্থাপনায় ”পিলখানা হত্যাকান্ড” ঘটে। এর মূল লক্ষ ছিল- পাদুয়া ও রৌমারীর ঘটনার বদলা নেয়া এবং বিডিআর বাহিনী ধংস করে দেয়া। ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিডিআর-বিএসএফ যুদ্ধে ১৫০ জন বিএসএফ নিহত হয়। এর আগে পাদুয়ায় নিহত হয় ১৫ বিএসএফ। বিডিআর ডিজি মেজর জেনারেল এএলএম ফজলুর রহমানের নির্দেশে ঐ যুদ্ধে অংশ নেয় বিডিআর। ঐ ঘটনার পরে ভারতীয় ডিফেন্স মিনিষ্টার জসবন্ত সিং উত্তপ্ত লোকসভায় জানান, ”এ ঘটনার বদলা নেয়া হবে।” লক্ষ করুন, ১৯৭১ সালে যে সব শর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সামরিক সাহায্য দেয়, তার অন্যতম শর্ত ছিল “Frontier Guards will be disbanded” (CIA Report SC 7941/71). অর্থাৎ বাংলাদেশের কোনো বর্ডার গার্ড থাকবে না। কিন্তু স্বাধীনতার পরে নানা কারনে পাকিস্তান রাইফেলস বালাদেশ রাইফেলসে (বিডিআর) রূপ নেয়। বিডিআর বাহিনীটি ছিলো আধাসামরিক বাহিনী, যার মূল কমান্ড ও ট্রেনিং ছিলো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মত। অন্যদিকে ভারতের বিএসএফ ছিলো সিভিল বাহিনী, যাদের ট্রেনিং, জনবল সবই ছিলো নিম্নমানের। এসব কারনে বর্ডারে কোনো যু্দ্ধ হলে তাতে বিডিআর সামরিক পেশাদারিত্ব দিয়ে বিজয়ী হত।
bangladesh_mutiny_3915fপাদুয়া-রৌমারীর বদলা নেয়ার জন্য বিডিআর বাহিনী ধংস করার পরিকল্পনা করে ভারত। এ লক্ষে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী সময়টিকে বেছে নেয়া হয়- যখন হাসিনার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহনের পর পর নাজুক সময়। অনেকেই মনে করেন, ভারতীয় পরিকল্পনায় নির্বাচন ছাড়া অপ্রত্যাশিত পদ্ধতিতে হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর নানা শর্তের মধ্যে একটি গোপন শর্ত থাকতে পারে “বিডিআর ধংস করা।” চুড়ান্ত রিস্ক থাকা স্বত্ত্বেও হাসিনাকে তা মেনে নিতে হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিডিআর সৈনিকদের দাবীদাওয়ার আড়ালে মুল প্লানটি বাস্তবায়নের জন্য মোট ৬০ কোটি রুপী বরাদ্দ করে ভারত। এর মধ্যে পিলখানায় ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা বিলি হয়, যাতে প্রতিটি অফিসারের মাথার বদলে ৪ লক্ষ টাকা ইনাম নির্ধারন করা হয়। ১৯ ও ২১ ফেব্রুয়ারী ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বাছাই করা ১৫ জন শুটারকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়, যারা পশ্চিম বঙ্গ সরকারের পাঠানো (প্রেমের নিদর্শন) ১ লক্ষ মিষ্টির সাথে বাংলাদেশে ঢুকে। একজন বেসামরিক দর্জি’র কাছ থেকে বিডিআর এর পোশাক বানিয়ে বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে পিলখানায় উপস্থিত থাকে শুটাররা। তাদের দায়িত্ব ছিলো লাল টেপওয়ালা (কর্নেল ও তদুর্ধ) অফিসারদের হত্যা করা। তারা একটি বেডফোর্ড ট্রাক ব্যাবহার করে ৪ নং গেইট দিয়ে প্রবেশ করে ২৫ তারিখ সকালে। ঘটনার দিন সকাল ১১টায় বাংলাদেশের কোনো সংবাদ মাধ্যম জানার আগেই ভারতের “২৪ ঘন্টা” টিভিতে প্রচার করা হয় জেনারেল শাকিল সস্ত্রীক নিহত। অর্থাৎ মূল পরিকল্পনা অনুসারেই খবর প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম!
bdr3পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে বা আর্মির পদক্ষেপে শেখ হাসিনার জীবন বিপন্ন হলে তাকে নিরাপদে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ৩০ হাজার সৈন্য, ছত্রীবাহিনী ও যুদ্ধবিমান আসামের জোরহাট বিমানবন্দরে তৈরী রেখেছিলো ভারত। বিদ্রোহের দিন ভারতের বিমান বাহিনী IL-76 হেভি লিফ্ট এবং AN-32 মিডিয়াম লিফ্ট এয়ারক্রাফট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। ঐসময় প্রণব মুখার্জীর উক্তি মিডিয়ায় আসে এভাবে, “এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। … আমি তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবাণী পাঠাতে চাই, যারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা যদি এ কাজ অব্যাহত রাখে, ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।”
2netri২. শেখ হাসিনা : ভারতের এই পরিকল্পনাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয় বেশ আগেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিমিত্তে ঘটনার ১ সপ্তাহ আগে তড়িঘড়ি করে প্রধানমন্ত্রীকে সুধাসদন থেকে সরিয়ে যমুনা অতিথি ভবনে নেয়া হয়, কেননা পিলখানার ডেঞ্জার এরিয়ার মধ্যে ছিল ওটা। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার মেরামত শেষ না হওয়া স্বত্ত্বেও ভারতের সিগনালে খুব দ্রুততার সাথে হাসিনাকে সুধাসদন থেকে সরানো হয়। এটা এক অসম্ভব ঘটনা। পিলখানা হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায় বিরাট সংখ্যায় সেনা অফিসার হত্যা করা হবে, যেটা ১৯৭৫ সালে তার পিতৃহত্যার একটা বদলা হিসাবে হাসিনার কাছে সুখকর ছিলো। এর মাধ্যমে বিডিআর নিশ্চিহ্ন হবে, টার্গেট করে বিপুল সংখ্যক সেনা অফিসার হত্যা করা হলে তাতে মূল সেনাবাহিনীর কোমর ভেঙ্গে যাবে। গোয়েন্দা খবর পেয়ে ২৫ তারিখে পৌনে ন’টার মধ্যেই এনএসআই ডিজি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে- “পিলখানায় বিদ্রোহ হচ্ছে। ” প্রধানমন্ত্রী নিরব থাকেন! আক্রমনের পরে অফিসারদের SOS পেয়ে সকাল ১০টার মধ্যে র্যাবের একটি দল, এবং ১০.২৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর একটি দল পিলখানার গেটে পৌছায়। কিন্তু শেখ হাসিনা কোনো অভিযান চালানোর অনুমতি দেয়নি। আশ্চয্যজনকভাবে তিনি সময় ক্ষেপন করতে থাকেন। আর এর মধ্যে ঘটতে থাকে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। খেয়াল করুন, সেনা অফিসাররা কোনো প্রতিরোধ করেনি, কাজেই কি কারনে বিডিআর সৈনিকরা অফিসারদের হত্যা করবে? এটা ছিল সুপরিকল্পিতভাবে সেনা অফিসার হত্যাকান্ড। সারাদিন হত্যাকান্ড চালানোর সুযোগ দিয়ে বিকালে শেখ হাসিনা হত্যাকারীদের সাথে বৈঠক করে তাদের সাধারন ক্ষমা ঘোষণা করেন। কিন্তু তিনি একবারও জানতে চাননি, ডিজি শাকিল কোথায়? কি বিস্ময়!! জেনারেল জাহাঙ্গীরের তদন্ত কমিটি শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুপারিশ করেছিল, যার ফলে হাসিনা ক্ষেপে গিয়ে ঐ রিপোর্ট ধামাচাপা দেন।
Prothom-Alo৩. গোয়েন্দা সংস্থা: ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর এক সাংবাদিক ঘটনার আগের দিন এটা জানার পর সে এনএসআইকে এই মর্মে অবহিত করে যে, পিলখানায় বিদ্রোহের প্রস্তুতি চলছে যার সাথে বিডিআর ও আওয়ামীলীগের নেতারা জড়িত। এনএসআই থেকে উক্ত সাংবাদিককে বলা হয় বিষয়টা চেপে যেতে। ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর পিলখানায় যাওয়ার আগের দিন পিলখানা অস্ত্রাগার থেকে ৩টি এসএমজি খোয়া যায়। তখন সেনা অফিসারদের দায়িত্ব দেয়া হয় অস্ত্রাগার পাহারায়। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দাগিরি বহাল থাকে। নূন্যতম কোনো বিচ্যুতি ঘটলে প্রোগ্রাম বাতিল হয়। এত কিছু সত্তেও ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান। মূলত: বিদ্রোহের আগাম বার্তা সেনাপ্রধান ম্ইন, ডিজিএফআই প্রধান মোল্লা ফজলে আকবর (ইনি হাসিনার এক সময়ের প্রেমিক ছিলেন), এনএসআই প্রধান মেজর জেনারেল মুনির, সিজিএস মেজর জেনারেল সিনা জামালী, বিডিআর কমিউনিকেশন ইনচার্জ লেঃ কর্নেল কামরুজ্জামান, ৪৪ রাইফেল’এর সিও শামস, মুকিম ও সালাম-এর জানা ছিল। কেননা ২৫ তারিখের আগেই দাবী দাওয়ার লিফলেটের কপি ডিজি শাকিল, এনএসআই ও সরকারের কাছে পৌছে। এমনকি মাঠ পর্যায়ের বহু সেক্টর কমান্ডাররা জানত, ২৫ তারিখে একটা ঘটনা ঘটবে। পরিকল্পনামত প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ২৪ তারিখে জানিয়ে দেয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী ২৬ তারিখের নৈশভোজে যাচ্ছেন না। এমন ঘটনা অতীত কখনও কখনো ঘটেনি!
2b0fb146-1ddd-4da0-ae95-f78827235f58HiRes৪. জেনারেল মইন উ আহমেদ: তৎকালীন সেনাপ্রধান ও ১/১১র প্রধান কুশীলব। ২০০৮ সালের গোড়ার দিকে ভারত সফর করে মইন চেয়েছিলেন পূর্ন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভারতীয় সমর্থন। ভারত রাজী হয়নি, বরং আ’লীগকে ক্ষমতায় আনার লক্ষে মইনকে কাজ করতে বলে, বিনিময়ে সেফ প্যাসেজ পাবে কুশীলবরা। উপায়ান্তর না দেখে মইন রাজী হয় এবং ২৯ ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পিত ফলাফলের নির্বাচনে ক্ষমতার পালবদল ঘটায়। মইনের বদলে আসেন হাসিনা! ওয়ান ইলেভেনের খলনায়করা যে সব রাজনীতিবিদদের অত্যাচার করেছে, তাদের বিচারের জন্য ফেব্রুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদে প্রবল দাবী ওঠে। তখন সেনাবাহিনীর চাপের মুখে জেনারেল মইন নিজে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথে সংসদ অফিসে। এরপর শেখ হাসিনা ধমকে দেন মখা আলমগীর, আবদুল জলিলদের, যাতে করে সেনাবাহিনীর বিচারের দাবী আর না তুলে। হাসিনা এ সময় হুঁশিয়ার করেন, “কিভাবে ক্ষমতায় এসেছি, সেটা কেবল আমিই জানি।” অন্যদিকে ঐ সময়ই ভারত তার প্লানমত এগিয়ে যায় বিডিআর অপারেশনে। মইনকে বলা হয় প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে। মইন তার দু’বছরের অপকর্মের স্বাক্ষী আর্মি অফিসারদের আগে থেকেই পোষ্টিং দিয়ে জড়ো করে বিডিআরে। এদের নিধন করা হলে মইনের অপকর্মের সাক্ষী আর পাওয়া যাবে না। ফলে মইনের বিরাট প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল এই হত্যাযজ্ঞ। অন্যদিকে এত সেনা অফিসার নিহত হলে ১/১১ নিয়ে সেনাবাহিনী তথা মইনের বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদরা আর মুখ খুলবে না। এতকাল আর্মির রদ্দিমালগুলো যেতো বিডিআরে। কিন্তু এবারে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র- পরিকল্পিতভাবে অনেক চৌকশ অফিসার একসাথে পাঠানো হয় বিডিআরে। পিলখানা হত্যাকান্ডের মাত্র ২ মাস আগে গুলজারকে ষ্টান্ড রিলিজ করে বিডিআরে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। রাইফেলস সপ্তাহের আগেই কানাঘুসা শুরু হয়- ২৫ তারিখে বিদ্রোহ হবে। তাই অনেক অফিসার নানা অযুহাত দিয়ে ছুটিতে চলে যায়। সেনাপ্রধান মইনের পিলখানা হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিল, যার প্রমান মেলে ঘটনার সাথে সাথেই আক্রান্ত ডিজি শাকিল ও অফিসাররা মইনকে ফোনে জানায়। মইন আশ্বাস দেন সেনা পঠাচ্ছি। অথচ তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন নি, সময় ক্ষেপন করে হত্যার সুযোগ তৈরী করে দেয়। ম্ইন চলে যায় যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে। তেজগাওয়ে এয়ারফোর্স রেডি, আর্মি রেডি সেনিাবাসে। কিন্তু হুকুম আসে না। বিকালে কিছু সেনা ও যানবাহন ধানমন্ডি পর্যন্ত পৌছে গেলেও অপারেশনের অনুমতি দেয়নি হাসিনা ও ম্ইন। ঘটনার ৪ দিন পরে ১ মার্চে হাসিনা সেনাকুঞ্জে গেলে মইন সেনা অফিসারদের ব্যাপক অসন্তোষের মুখে পরেন। এমনকি নিহতদের জানাজার সময় মইনকে চেয়ার তুলে মারতে যায় কেউ কেউ। উল্টো, সেনাকুঞ্জে যে সব সেনা অফিসার বিচার চেয়ে জোর গলায় বক্তৃতা করেছিল, প্রতিবাদ করেছিল- ভিডিও দেখে দেখে এমন প্রায় দু’শ জনকে চাকরীচ্যুত করেছে মইন অনেক অফিসারকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মামলায় কারাদন্ডও দেয়া হয়েছে।
joy+2৫. সজীব ওয়াজেদ জয়: শেখ হাসিনার এই পুত্রটি আগে থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর ক্ষিপ্ত ছিলো। ২০০৮ সালের নির্বাচনের দেড় মাস আগে (১৯ নভেম্বর) হাসিনার উপদেষ্টা ও পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় তার Stemming the Rise of Islamic Extremism in Bangladesh শীর্ষক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, জোট সরকারের আমলে সেনাবাহিনীতে ৩০% মাদ্রাসার ছাত্ররা ঢুকানো হয়েছে। এদের নির্মুল করে সেনাবাহিনী পূনর্গঠন করতে হবে। পিলখানায় বিপুল সেনা অফিসার হত্যা করা হলে সেনাবাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার করা সহজ হবে, এবং নতুন নিয়োগ করা যাবে- এমন বিবেচনায় জয় ভারতীয় প্রস্তাবটি গ্রহন করেন। পিলখানা হত্যার পরে জয় দুবাই যান এবং সেখানে ঢাকা থেকে আগত হত্যাকারীদের নগদ পুরস্কৃত করেন বলে খবর প্রকাশ।
৬. শেখ ফজলে নূর তাপস: হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে এই তাপস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ঘটনায় তার পিতা নিহত হয়। তাপস ঢাকা-১২র নির্বাচন করতে গিয়ে বিডিআর এলাকায় ৫ হাজার ভোট প্রাপ্তির লক্ষে ৪৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি তোরাব আলী’র মাধ্যমে বিডিআর নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে। তাপসকে নিশ্চয়তা দেয়া হয় যে, বিডিআর সকল সদস্য নৌকায় ভোট দিবে। তার বদলে তাপস আশ্বাস দিয়েছিল বিডিআরের দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার ব্যবস্থা করবে। তাপসের বাসায় (স্কাই ষ্টার) বিডিআরের প্রতিনিধিরা এ নিয়ে একাধিক বৈঠক করে। এমনকি দাবীদাওয়া পুরন না হওয়ায় পিলখানা বিদ্রোহের আগের দিন তাপসকে সম্ভাব্য বিদ্রোহের কথা জানানো হয়। তাপস তাতে সম্মতি দেয় এবং তাদের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেয়। পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তাপসও এই ষড়যন্ত্রকে কার্যকর হিসাবে মনে করে। ২৪ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ফজলে নুর তাপসের ধানমন্ডিস্থ বাসায় ২৪ জন বিডিআর হত্যাকারী চুড়ান্ত শপথ নেয়। তোরাব আলী ও তার ছেলে লেদার লিটন পরিকল্পনাকারীদেরকে গোপন আস্তানা ও যাবতীয় সহায়তা প্রদান করে। বিডিআর বিদ্রোহের পরের দিন বিকালে শেখ তাপসের ঘোষনা প্রচার করা হয়, যাতে করে পিলখানার ৩ মাইল এলাকার অধিবাসীরা দূরে সরে যান। আসলে এর মাধ্যমে খুনীদের নিরাপদে পার করার জন্য সেফ প্যাসেজ তৈরী করা হয়েছিল। তাপসের এহেন কর্মকান্ডের বদলা নিতে তরুন সেনা অফিসাররা পরবর্তীতে তাপসের ওপর হামলা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। পরে ৫ চৌকস কমান্ডো অফিসার চাকরীচ্যুত হয়ে কারাভোগ করছে। বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সেনা তদন্ত এড়াতে তাপস কিছুদিন গা ঢাকা দেয় বিদেশে।
bdr4৭. মীর্জা আজম: যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এই হুইপটি পিলখানার ঘটনাকালে বিদ্রোহীদের সাথে সেল ফোনে কথা বলতে শুনা যাচ্ছিল। সে হত্যাকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দেয় কর্নেল গুলজারের চোখ তুলে ফেলতে এবং দেহ নষ্ট করে ফেলতে (এর অডিও রেকর্ড আছে), কেননা র্যাবের পরিচালক কর্নেল গুলজারের নেতৃত্বে জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে ধরা হয়েছিল ও পরে ফাঁসি দেয়া হয়। শায়খ রহমান ছিল মির্জা আজমের দুলাভাই। আজম এভাবেই দুলাভাই হত্যার বদলা নেয় গুলজারকে হত্যা করে, এমনকি তার লাশও জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও ২০০৪ সালে নানক-আজমের ব্যবস্থাপনায় শেরাটন হোটেলের সামনে গানপাউডার দিয়ে দোতলা বাসে আগুন লাগিয়ে ১১ বাসযাত্রী পুড়িয়ে মারার ঘটনা তদন্ত করে এই গুলজারই নানক-আজমকে সম্পৃক্ত করে। এর প্রতিশোধেই গুলজারে শরীর এমন ভাবে নষ্ট করা হয়, যেনো কেউ চিনতে না পারে। ১৫ দিন পরে ডিএনএ টেষ্ট করে চিহ্নিত করা হয় গুলজারের লাশ।
৮. জাহাঙ্গীর কবির নানক: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী। উনি বিডিআরের ঘাতকদের নেতা ডিএডি তৌহিদের ক্লাশমেট। বিডিআর ট্রাজেডির আগে থেকেই তৌহিদ যোগাযোগ রাখত নানকের সঙ্গে। ঘটনার দিন ২০৪ মিনিট কথা বলে তৌহিদ-নানক। ২৫ তারিখ বিকালে পিলখানার বিদ্রোহীদের নিয়ে শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে মিটিং করিয়ে নিরাপদে ফেরত পাঠায় সে। ডিএডি তৌহিদকে বিডিআরের অস্থায়ী ডিজি ঘোষণা করে নানক। কর্নেল গুলজার হত্যায় মীর্জা আজমের সাথে নানক সরাসরি জড়িত। কেননা, র্যাবের পরিচালক গুলজারই তদন্ত করে উদঘাটন করে- শেরাটনের সামনে দোতলা বাস জ্বালিয়ে ১১ যাত্রী হত্যা করা হয় নানকের নির্দেশে। ২৫ তারিখে বেঁচে যাওয়া লে: কর্নেল মঞ্জুর এলাহী পালিয়ে ছিল ম্যানহোলে। তার স্বজনরা এসএমএস মারফত খবর পেয়ে নানকের সাহায্য চায়। উদ্ধার করার বদলে ঐ অফিসারটিকে খুঁজে বের করে হত্যা করায় নানক। এটা সেনানিবাসের সবাই জানে। সেনাবাহিনীর তদন্ত পর্ষদ এড়াতে তদন্তের সময় নানক হঠাৎ বুকের ব্যথার অযুহাতে চিকিৎসার কথা বলে অনেকদিন সরে থাকে সিঙ্গাপুরে। এ নিয়ে সেনা অফিসারদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসিরকে চাকরীচ্যুত করে হাসিনা।
army enters1৯. সাহারা খাতুনঃ সুপরিকল্পিত বিডিআর ধংসযজ্ঞ সংগঠনের নিমিত্ত ভারতের পরামর্শে হাসিনার কেবিনেটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিয়োগ করা হয় অথর্ব সাহার খাতুনকে। বিদ্রোহের দিন কোনো তৎপরতা ছিলো না সাহারার। বরং সেনা অভিযান ও পিলখানায় র্যাব ঢোকার অনুমতি চাইলে সাহারা খাতুন ‘না’ করে দেন। বিকালে বিদ্রোহীদের সাথে করে প্রেস ব্রিফিং করে এই মন্ত্রী। অথচ ডিজি শাকিলের কোনো খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেননি। কারন সে সব জানত। বিদ্রোহীদের সাথে সমঝোতার পরে রাতে তিনি পিলখানায় যেতে চাননি। বরং আইজি নূর মোহাম্মদ তার মেয়েকে পিলখানা থেকে উদ্ধারের জন্য একাই অভিযান চালাতে উদ্যত হলে ঠেলায় পরে সাহারা যান পিলখানায়, তাও প্রধানমন্ত্রীর বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চড়ে। তিনি বিডিআর অফিসারদের পরিবার পরিজন উদ্ধার না করে কেবল আইজিপি নুর মোহাম্মদের কন্যাকে উদ্ধার করেন। অথচ বাকী পরিবার ঐ রাতের আঁধারে নির্যাতিত হয়। সাহারা খাতুনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মেডিকেল টীমের এম্বুলেন্স ও রেড ক্রিসেন্টের এম্বুলেন্স পিলখানায় ঢুকে। এরপরে পিলখানার বাতি নিভিয়ে ঘাতকদের ঐ এম্বুলেন্সে করে পিলখানার বাইরে নিরাপদ যায়গায় সরানো হয়। তখনও অনেক অফিসার আহত হয়ে পিলখানা নানাস্থানে লুকিয়ে ছিলো। কিন্তু সাহারা এদের উদ্ধার করেনি। কর্নেল এমদাদ, কর্নেল রেজা্, আফতাব ও কর্নেল এলাহীকে সাহারা পিলখানা ত্যাগ করার পরে হত্যা করা হয়।
১০. শেখ সেলিম: শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই। ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ ঘটনায় সে ধরা পরেও রহস্যজনকভাবে বেঁচে যায়, কিন্তু তার ভাই শেখ মনি নিহত হয়। সেনাবাহিনীর ওপরে তারও রাগ ছিলো প্রচন্ড। তা ছাড়া ১/১১র পরে সেনারা ধরে নিয়ে যায়ে এই সেলিমকে, এবং ডিজিএফআই সেলে ব্যাপক নির্যাতন করে শেখ হাসিনার অনেক গোপন কথা, চাঁদাবাজি, বাসে আগুণ দেয়া সংক্রান্ত জবানবন্দী আদায় করে। এতে করে সেনাবাহিনীর ঐ সেটআপের উপর তার রাগ ছিল। বিডিআরের ঘটনার আগে বিদ্রোহী দলটি কয়েকদফা মিটিং করে শেখ সেলিমের সাথে। ১৩ ফেব্রুয়ারীতে শেখ সেলিমের বনানীর বাসায় এ ধরনের একটি মিটিং হয় বলে সেনা তদন্তে প্রমান পাওয়া গেছে।
১১. সোহেল তাজ: স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। শেখ সেলিমের বাসায় অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে সোহেল যোগ দেয়। বিদেশী হত্যাকারীদেরকে নিরাপদে মধ্যপ্রাচ্য, লন্ডন ও আমেরিকায় পৌছানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সোহেল তাজকে। জনগনকে ধোকা দেয়ার জন্য প্রচার করা ঘটনার সময় তাজ আমেরিকায় ছিল। এটি সম্পুর্ন মিথ্যা কথা। সে সময়ে তাজ ঢাকায়ই ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে কয়েকজন হত্যাকারীসহ তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং সে রাতেই তাজ ওসমানী বিমানবন্দর থেকে হত্যাকারীদের সাথে নিয়ে বিদেশের পথে যাত্রা করে। সেই হেলিকপ্টারের একজন পাইলট ছিল লেঃ কর্নেল শহীদ। যাকে পরে হত্যা করা হয়, টাঙ্গাইলে রহস্যজনক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলামের সাথে। এছাড়া বিমানের বিজি ফ্লাইট ০৪৯ দু’ঘন্টা বিলম্ব করে চারজন খুনী বিডিআরকে দুবাইতে পার দেয়া হয়। এ খবরটি মানবজমিন ছাপে ৩ মার্চ ২০০৯.
১২. কর্নেল ফারুক খান: তিনি ছিলেন পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তের লক্ষে গঠিত ৩টি কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে। জনগণকে ধোকা দেয়ার জন্য প্রথমেই তিনি ঘোষণা করেন, পিলখানার ঘটনায় ইসলামী জঙ্গীরা জড়িত। এটা খাওয়ানোর জন্য সোবহান নামে এক লোককে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়। পরে কুলাতে না পেরে সেখান থেকে সরে আসেন। সেনাবাহিনীর তদন্তে অনেক সত্য কথা উঠে আসলেও তা আলোর মুখ দেখেনি এই ফারুক খানের জন্য। ধামাচাপা দেয়া হয় মূল রিপোর্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মূল রিপোর্ট বদল করে গোজামিলের রিপোর্ট তৈরী করান ফারুক খান।
1238321_162880917252316_1460033134_n১৩. হাজী সেলিম: লালবাগ এলাকার আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি। বিডিআর হত্যাকান্ডের সময় তিনি খুনীদের রাজনৈতিক সাপোর্ট দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে হাজী সেলিম বেশ কিছু গোলাবারুদ ক্রয় করে, যা ভারতীয় খুনীরা প্রথমে ব্যবহার করে। ঘটনার দিন দুপুরে হাজী সেলিমের লোকেরা বিডিআর ৪ নং গেটে বিদ্রোহীদের পক্ষে মিছিল করে। ২৫ তারিখ রাতের আঁধারে পিলখানার বাতি নিভিয়ে দেয়াল টপকে সাধারন পোষাক পরে বিদ্রোহীরা লালবাগ এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায় হাজী সেলিমের সিমেন্ট ঘাটকে ব্যবহার করে। হাজী সেলিমের সন্ত্রাসীরা স্থানীয় জনগনকে সেখান থেকে সরিয়ে রাখে। একটি বেসকারী টিভি চ্যানেল ২৫ তারিখ রাত ১টার সংবাদে উক্ত ঘটনার খবর প্রচার করে। সেই রিপোর্টে ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য তুলে ধরে, যাতে বলা হয় যে, বেশ কিছু স্পীডবোর্টকে তারা আসা যাওয়া করতে দেখেছে; কিন্তু তারা কাছাকাছি যেতে পারেনি যেহেতু আওয়ামীলীগের কিছু কর্মীরা তাদেরকে সেদিকে যেতে বাধা দেয়।
১৪. তোরাব আলী ও তার ছেলে লেদার লিটন: আওয়ামীলীগের ৪৮ নং ওয়ার্ডের সভাপতি। ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে এ্বই তোরাব আলী বিডিআর বিদ্রোহীদের পরিচয় করিয়ে দেয় এমপি তাপসের সাথে। মূল পরিকল্পনায় তোরাব আলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় স্থানীয় লজিষ্টিক সম্বয় সাধনের জন্য। তার বাড়িতেও বিদ্রোহীদের মিটিং হয়েছে। সে মূলত অবৈধ অস্ত্রের ডিলার। তার ছেলে সন্ত্রাসী লেদার লিটনের মাধ্যমে বিদ্রোহী বিডিআরদের পালিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে। এ সংক্রান্ত খরচাদি আগেই তাকে দেয়া হয়। উক্ত লিটনকে ২ মাস আগে তাপস ও নানক জেল থেকে ছাড়িয়ে আনে। ২৫ ফেব্রুয়ারী রাত ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে স্পীড বোটযোগে হত্যাকারীদের বুড়িগঙ্গা নদী পার করিয়ে দেয় লেদার লিটন।
১৫. মহিউদ্দিন খান আলমগীর: পিলখানার ঘটনার সময় এই সাবেক আমলা ও জনতার মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা মখা মেতে উঠেন বিভৎস উল্লাসে। বার বার ফোন করে খোঁজ নেন বিদ্রোহীদের কাছে, এর অডিও রেকর্ড আছে। এমনকি নিহতদের লাশ গোপন করার জন্য এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হুকুমদাতা ছিলেন তিনি। যার বদৌলতে তাকে পরে প্রমোশন দেয়া হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতে।
১৬. হাসানুল হক ইনু: বাংলাদেশের রাজনীতির অন্ধকার গলির নেতা। তিনি ১৯৭৫ সালে অনেক সেনা অফিসার হত্যা করেছেন কর্নেল তাহের বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড থেকে। ১৯৭৫ সাল থেকে অদ্যাবধি দেশে সংঘটিত সকল সামরিক অভ্যুত্থানে তার যোগসাজস রয়েছে। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি তার ঘনিষ্ট বিডিআরদের ফোন করে হত্যায় উৎসাহ যুগিয়েছেন, এবং তাদের পরামর্শ দিয়েছেন কি করে লাশ গোপন করতে হবে।
bdr2পাঁচ বছর হয়ে গেছে ৫৭ সেনা অফিসার সহ ৭৭ মানুষ হত্যার। বিডিআর বাহিনী বিলুপ্ত করা হয়েছে। ভারতীয় সহায়তায় বিজিবি গঠন করা হয়েছে, যারা এখন বিএসএফের সাথে ভাগাভাগি করে ডি্উটি করে! কয়েক হাজার বিডিআর সদস্যকে কোমরে দড়ি লাগিয়ে বিচারের প্যারেড করানো হয়েছে। জেল হয়েছে সবার। অন্যদিকে রাঘব বোয়লদের বিরুদ্ধে সাক্ষী গায়েব করতে ৫৩ জন বিডিআরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ৫৭ সেনা হত্যার বিচার এখনো বাকী। যেনো তেনো কোনো বিচার চায়না সেনাবাহিনী। তাই হত্যা মামলাও আগাচ্ছে না। যতদিন লাগে লাগুক, হয় কঠিন বিচার হবে, নয়ত বদলা হবে, এটাই তাদের চাওয়া।
সুত্রঃ bdrmutiny1_article_photo
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka
