30/12/2025
দাজ্জালের আগমন যেকোনও সময় ঘটে যেতে পারে! দাজ্জাল এসেই মৃতকে জীবিত করার অভিনয় করবে, আকাশ থেকে বৃষ্টি নামাবে, ক্ষুধার্তকে খাবার দেবে, আর তখনো অধিকাংশ মানুষ তাকে চিনতে পারবেনা- সে কে?
ইসলাম বলে—সে-ই দাজ্জাল!
দাজ্জাল কোনো কল্পকাহিনি নয়, কোনো রূপক চরিত্রও নয়— সে হলো কিয়ামতের আগে মানুষের জন্য সবচেয়ে ভয়ানক পরীক্ষা! সে এমন এক ফিতনা যার তুলনা আর কোনো ফিতনার সাথে হয় না।
নবী মুহাম্মদ ﷺ বলেছেন—
“আদম (আ.) থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে বড় ফিতনা আর আসেনি।”
(সহিহ মুসলিম)
দাজ্জালের সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
ইসলামী আকিদা অনুযায়ী দাজ্জাল দেখতে মানুষ আকৃতির কিন্তু সাধারণ মানুষ নয়।
তার এক চোখ অন্ধ, অপর চোখ হবে ভয়ংকরভাবে বিকৃত। তার কপালে লেখা থাকবে ‘কাফির’ (ك ف ر)—যা শুধু মুমিনরা পড়তে পারবে।
সে নিজেকে খোদা বলে দাবি করবে, আর তার সাথে থাকবে এমন সব ক্ষমতা ও ভ্রম, যা দেখে দুর্বল ঈমানের মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যাবে।
তার সাথে থাকবে—
এক মিথ্যা জান্নাত
এক মিথ্যা জাহান্নাম
আর ভয়ংকর সত্য হলো—
তার জান্নাত আসলে জাহান্নাম, আর জাহান্নামই আসলে জান্নাত।
দাজ্জাল এখন কোথায় এবং কোথা থেকে তার আগমন ঘটবে? - সহিহ মুসলিমে বর্ণিত তামীম দারী (রা.)-এর হাদিসে জানা যায়—দাজ্জাল বর্তমানে আল্লাহর হুকুমে কোথাও বন্দী, শিকলবন্দি অবস্থায়।
নির্দিষ্ট জায়গার নাম বলা হয়নি, তবে হাদিসের ইঙ্গিত অনুযায়ী— তার আগমন ঘটবে পূর্ব দিক থেকে।
নবী ﷺ বলেন—
“দাজ্জাল পূর্ব দিক থেকে বের হবে।”
(তিরমিজি)
অনেক আলেমের মতে, সে প্রথমে মানুষকে তার দলে আহ্বান করবে, তারপর পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে—
কিন্তু সে কখনোই মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না।
ভিন্ন ধর্মে দাজ্জালের ইঙ্গিত:
✝️ খ্রিস্টধর্মে
দাজ্জালকে বলা হয়েছে Antichrist—
একজন মিথ্যা খ্রিস্ট, যে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করবে।
শেষ সময়ে যীশু খ্রিস্ট ফিরে এসে তাকে পরাজিত করবেন—এ বিশ্বাস খ্রিস্টানদের মধ্যেও রয়েছে।
✡️ ইহুদি ধর্মে
এখানে দাজ্জালের নাম নেই, তবে আছে False Messiah—
এক ভণ্ড মুক্তিদাতা, যে নিজেকে প্রকৃত মসিহ বলে দাবি করবে।
🕉️ হিন্দু ধর্মে
দাজ্জালের মতো নির্দিষ্ট চরিত্র নেই, তবে কলিযুগে অধর্ম, ভণ্ড গুরু ও মিথ্যার আধিপত্যর কথা বলা হয়েছে,
যার শেষে কল্কি অবতারের আগমন ঘটবে।
দাজ্জালের আগমনের আলামত (লক্ষণসমূহ)
হাদিস অনুযায়ী দাজ্জালের আগমনের আগে—
১/ দীনের জ্ঞান উঠে যাবে।
২/ সত্য আলেম কমে যাবে।
৩/ মিথ্যাবাদী ও ভণ্ডের সংখ্যা বাড়বে।
৪/ হারামকে হালাল বলা হবে।
৫/ ব্যভিচার, সুদ, জুলুম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
৬/ হঠাৎ হঠাৎ হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাবে।
৭/ সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে মনে হবে।
৮/ টানা খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে।
৯/ মানুষ চরম হতাশায় পড়বে।
১০/ সবচেয়ে ভয়ংকর আলামত—
মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে ভুলে যাবে। (ইত্যাদি)
আজ যদি আমরা তাকাই—
এই আলামতগুলোর প্রায় সবই কি আমাদের চোখের সামনে নয়? - এতেই বুঝা যায় দাজ্জালের আগমন খুব সন্নিকটে।
তাহলে এখন আমাদের করণীয় কী?
নবী ﷺ আমাদের ভয় দেখাননি, বরং প্রস্তুতির পথ দেখিয়েছেন। দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় জানিয়েছেন—
নিয়মিত সূরা কাহফ পড়া, বিশেষ করে সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত,
ঈমান ও আমল মজবুত করা,
গুজব ও অন্ধ অনুসরণ থেকে দূরে থাকা,
সত্য ও সহিহ জ্ঞানের সাথে যুক্ত থাকা,
আল্লাহর কাছে দোয়া করা—
“হে আল্লাহ, আমি দাজ্জালের ফিতনা থেকে তোমার আশ্রয় চাই।”
কারণ দাজ্জালকে চিনতে পারবে কেবল শক্ত ঈমান দিয়ে, চোখ দিয়ে নয়—
আর টিকে থাকবে কেবল তারাই, যাদের অন্তর আল্লাহর দ্বীনের আলোর সাথে যুক্ত।
শেষ কথা,
দাজ্জাল কবে আসবে সেই দিন, তারিখ, সাল —আমরা জানি না। কিন্তু সে যে আসবে তার আসার সকল আলামত প্রকাশ পেয়ে গেছে—এটা নিশ্চিত।
নিজেকে একবার নিজেই প্রশ্ন করুন—
সে আসার আগে আমি কতটা প্রস্তুত?
নাকি সে আসার পর তার ফিতনা আর মিথ্যা অলৌকিকতার মোহে পড়ে আপনি/আমি হারিয়ে যাব?
এই দাজ্জাল এসেই শেষ নয়…
কারণ দাজ্জালের পরে আরও বড় বড় ঘটনা অপেক্ষা করছে— যেমন ঈসা (আ.)-এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজ, আর কিয়ামত। এই সব বিষয় আর দাজ্জাল সম্পর্কে আরও যদি জানতে চান— কমেন্ট-এ জানাবেন। কোনও প্রশ্ন থাকলে করুন..
আপনি চাইলে সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত দিয়ে দিব আরবি ও বাংলা অনুবাদসহ।
আর যেসকল ভাই-বোনদের সূরা কাহফ মুখস্থ আছে, তারা কমেন্টে লিখুন "আলহামদুলিল্লাহ"৷
মহান আল্লাহ আমাদের দাজ্জালের ফিতনা ও আক্রমণ থেকে হেফাজত করে ঈমানের সাথে মোকাবেলা করার তৌফিক দান করুন: সবাই পড়ুন আমিন।
04/06/2025
পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপের কামড়ে হাতিও মারা যায়,কিন্তু একটি প্রাণী টিকে যায়–তার নাম ঘোড়া! 🐎
জানেন কি? পৃথিবীর যেকোনো বিষধর সাপের বিষ—even কিং কোবরা’র মতো মারাত্মক সাপের কামড়েও—ঘোড়া মারা যায় না।
সাপের বিষ শরীরে ঢোকার পর ঘোড়া কিছুটা অসুস্থ থাকে,মাত্র তিন দিন।এরপর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে,যেন কিছুই হয়নি।
এটাই প্রকৃতির এক অভূতপূর্ব বিস্ময়।
আর এই ঘোড়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে মানুষের জীবন রক্ষাকারী এক অনন্য গোপন রহস্য—Anti-venom।
🧬 কীভাবে তৈরি হয় এই অ্যান্টি-ভেনাম?
👉 প্রথমে সাপের বিষ সংগ্রহ করে তা ঘোড়ার শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়।
👉 ঘোড়ার শরীর তার নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম দিয়ে এই বিষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
👉 ২-৩ দিনের মাথায় ঘোড়ার রক্তে তৈরি হয়ে যায় বিষের প্রতিষেধক—অ্যান্টিবডি।
👉 এরপর ঘোড়ার শরীর থেকে রক্ত নিয়ে তার লাল অংশ (RBC) আলাদা করে ফেলা হয়।
👉 সাদা অংশ (প্লাজমা) থেকে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় অ্যান্টি-ভেনাম।
👉 এই অ্যান্টি-ভেনামই ইনজেকশনের মাধ্যমে সাপ-কামড় খাওয়া মানুষকে জীবন ফিরিয়ে দেয়।
ভারতে অসংখ্য অ্যান্টি-ভেনাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আছে,যারা শত শত ঘোড়া পালন করে এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরি করছে।
ভাবুন একবার—এই নিরীহ প্রাণীটির কারণেই আমরা সাপের ভয়াবহ বিষ থেকে রক্ষা পেতে পারি।
ঘোড়া না থাকলে,সাপের এক ছোবলে বহু মানুষের প্রাণ যাওয়া অবধারিত হতো।
🍃 আল্লাহর সৃষ্টির অপার রহস্য ও করুণার আরেকটি নিদর্শন:
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
“অতএব,তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?”
(সূরাহ: আর-রহমান, আয়াত-১৩)
প্রকৃতির প্রতিটি জিনিসই সৃষ্টিকর্তার একেকটি নিদর্শন। আজ ঘোড়ার মতো এক সাধারণ প্রাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আল্লাহর করুণা কত গভীর,কত বিস্ময়কর।
🌿 তাই কৃতজ্ঞ হই,সচেতন হই,আর সৃষ্টির প্রতিটি রহস্যে খুঁজে ফিরি স্রষ্টার ছোঁয়া।
ধন্যবাদ সবাইকে 🖤
24/05/2025
মৃ'ত্যু আসার আগেই আপনার পরিবারকে যেসব বিষয়ে ওসিয়ত করে যাবেন।
১.আমার মৃ'ত্যুর সংবাদ শুনলে "ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন" পড়বেন।
২.আমার মৃ'ত্যুকে অকাল মৃ'ত্যু বলবেন না, কারণ আমি আমার নির্ধারিত রিযিক ভোগ করে ফেলেছি।
৩.আমাকে নিয়ে বিলাপ মাতম করবেন না, জোরে জোরে কান্নাকাটি করবেন না কারণ এটা সুন্নাহ বিরোধী এবং রাসুল (সাঃ) কতৃক নিষিদ্ধ কাজ।
৪.আমার মৃ'ত্যুতে চল্লিশা, কুল-খানি, মিলাদ করবেন না।কারণ এটা স্পষ্ট বিদ'আত।
৫.যারা আমার মৃ'ত্যুর খবর শুনবেন তারা অবশ্যই আমার জানাজায় অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করবেন।
৬.আমার ল!শ মাহরাম ছাড়া অন্য কাউকে দেখাবেন না।
৭.আমার লা"শকে সুন্দরভাবে বিশ্বস্ত মানুষ দ্বারা গোসল করানোর ব্যবস্থা করবেন।
৮.লা"শ দাফনে ইসলামিক রীতিনীতি অবলম্বন করবেন, সমাজের নয়।
৯.আমাকে কবরস্থ করার পর কিছুক্ষণ সেখানেই থাকবেন আর পড়বেন "আল্লাহুম্মা সাব্বিতহু আল্লাহুম্মা সাব্বিতহু"। আমার কবরের আজ!ব লাঘবের জন্য ও মুনকার নাকিরের প্রশ্নের উত্তর যেন দিতে পারি সেই দোয়া করবেন "আল্লাহুম্মা সাব্বিত হু আলাল ইমান"।
১০.আমার হয়ে দান-সাদাকা করবেন। আমার সাদাকায়ে জারিয়া চালু থাকলে সেটার খবর নিবেন, সে গুলোকে সমুন্নত করার চেষ্টা করবেন।
১১.আমার মৃ'ত্যু থেকে এই শিক্ষা নিয়ে ফিরে যাবেন।আপনার সময়ও অতি নিকটে।
১২. আমার ছবি কোথাও দিবেন না, আমার আইডি বা অন্য কারো কাছে আমার ছবি থাকলে তা ডিলিট করে দিবেন। বাসায় আমার ছবি থাকলে ফেলে দিবেন, দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখবেন না।
১৩.আমার পাওনা আমার পরিবারকে ফিরিয়ে দিবেন, না পারলে আমার জন্য সাদকাহে জারিয়া করবেন, তাও না পারলে আজীবন আমার জন্য দু'আ করবেন, আমি ক্ষমা করে দিব ইনশাআল্লাহ।
১৪.আপনি আমার কাছে কিছু পেয়ে থাকলে আমার জীবিত অবস্থাতেই আমার কাছে চেয়ে নিবেন, আর যদি ম"রে যাই পরিবারের কাছে চাইবেন (পরিবারের লোকেদের বলবো আপনারা তাদের পাওনা দয়া করে দিয়ে দিবেন)। আর পরিবার না দিলে আল্লাহর জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিবেন, এতে আল্লাহ ও আপনাকে ক্ষমা করবেন।
১৫.আমার জন্য বেশি বেশি দুআ করবেন। আমার নামে গী'বত করবেন না। কারণ, আমি আমার স্থানে পৌঁছে গিয়েছি।
আল্লাহর কাছে আকুলতা, আল্লাহ যেন আমাদের ইমানের সহিত ক!লিম! উচ্চারণের মাধ্যমে শ"হী'দি মৃ'ত্যু দান করেন।আমিন 🤲🏻
24/05/2025
সুন্দরী নারীকে বিবাহ করার পরিণাম।
- ইমরান ইবনে হাত্তান,
❛❛ একজন সুন্দরী খাওয়ারিজ (গুমরাহ) মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন এই উদ্দেশ্যে যে তিনি তাকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের পথ দেখাবেন। কিন্তু মহিলা তাকে গুমরাহদের নেতা বানিয়ে দিয়েছে। ❜❜
📗 সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১৪
বিঃদ্রঃ- এর মানে এই নয় যে, সুন্দরী নারীরা খারাপ। মূলত নারীর সৌন্দর্য তার দ্বীনিদারীতায়। যদি দ্বীনদার নারী সুন্দরী,সম্পদশালী,শিক্ষিত হয় তাহলে সেটি প্লাস পয়েন্ট। তবে যদি নারীর দ্বীনদারী না থাকে তাহলে বাকী সব অনর্থক।
আল্লাহ আমাদের সবার সঠিক বুঝ দান করুন।
عمران بن حطان نے خوارج کی ایک خوبصورت عورت سے یہ سوچ کر شادی کی کہ وہ اسے راہ راست پہ لے آئے گا۔ عورت نے اسے خارجیوں کا سردار بنا دیا۔
[ سير أعلام النبلاء :٢١٤ ]
সংগৃহীত
06/05/2025
খাচায় বন্দি মনে হতে পারে কিন্তু এটাই গাইরত এটাই ইসলাম ❤️
05/05/2025
বদনজরে কি মানুষের ক্ষতি হয়?
কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি আশ্চর্য হয়ে উপহাস করে, হিংসা করে কিংবা লোভনীয় ভঙ্গিমায় দৃষ্টি দিলে এতে যদি তার ক্ষতি হয়, তাহলে তাকে অশুভ দৃষ্টি বা বদনজর বলা হয়।
বিভিন্ন দেশে সামাজিক প্রথা অনুযায়ী ছোট বাচ্চাদের কপালের পাশে কালো টিপ দেওয়া হয়। এতে তারা অশুভ দৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকতে পারবে বলে মনে করা হয়। ফলের গাছ বা ফসলের ক্ষেতে কারো ‘মুখ লেগে যাওয়ার’ ভয়ে মাটির পাতিলে চুনা লাগিয়ে টানিয়ে রাখার প্রথাও গ্রামগঞ্জে প্রচলিত আছে।
ঘর-বাড়ি সোনা-রুপার পানি দিয়ে ধৌত করে বদনজর কাটানোর চেষ্টা করা হয়। যদিও এগুলো বদনজর রোধ করার ইসলামসম্মত পদ্ধতি নয়। তথাপি বদনজর লাগার বিষয়টিও একেবারেই অবাস্তব বা কুসংস্কার নয়। বাস্তবিক অভিজ্ঞতাকে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান দিয়ে মাপা যায় না। পবিত্র কোরআন ও হাদিস থেকে জানা যায়, কুদৃষ্টি বা বদনজর লেগে যাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত সত্য।
মানুষের চোখ লাগা (কুদৃষ্টি) এবং এর ফলে অন্য মানুষ বা জন্তু-জানোয়ারের ক্ষতি হওয়া সত্য। এটা মূর্খতাসুলভ কুসংস্কার নয়। এক আয়াতে এসেছে : ‘কাফিররা যখন কোরআন শোনে, তখন তারা যেন তাদের তীক্ষ� দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছড়িয়ে ফেলবে...। ’ (সুরা : কলম, আয়াত : ৫১)
এ আয়াতে কুদৃষ্টির প্রভাবের বিষয়ে ইঙ্গিত আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)ও বদনজরের প্রভাবকে সত্য বলে উল্লেখ করেছেন। এক হাদিসে এসেছে : ‘অশুভ দৃষ্টির প্রভাব সত্য। যদি কোনো কিছু ভাগ্যের লিখনকে অতিক্রম করত, তাহলে অশুভ দৃষ্টিই তা করতে পারত। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৮৩১; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬৩৯)
নবী করিম (সা.) আরো ইরশাদ করেছেন, ‘অশুভ দৃষ্টি মানুষকে কবরে এবং উটকে পাতিলে প্রবেশ করিয়ে ছাড়ে। ’ (সহিহুল জামে, হাদিস : ৪১৪৪)
এসব আয়াত ও হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে কুদৃষ্টি বা বদনজর অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। ক্ষতিকর ওষুধ কিংবা খাদ্য যেমন মানুষকে অসুস্থ করে, শীত ও গ্রীষ্মের তীব্রতায় যেমন রোগব্যাধির জন্ম নেয়, ঠিক তেমনি কুদৃষ্টিরও বিশেষ প্রভাব আছে। তবে এ ক্ষেত্রে এই বিশ্বাস রাখতে হবে, দৃষ্টিশক্তির মধ্যে এমন ক্ষমতা মহান আল্লাহই দান করেছেন। তাই মানুষের উচিত আল্লাহর ওপর ভরসা করা, তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।