68.
"তুমি কি জানো"
জানো!!
এখন কবিতা লিখতে পারি না, শুধু
মন খারাপের সময়গুলোকে বেঁধে রাখি;
এখন আর লেখনীতে মনোযোগ দিতে
পারি না, শুধু আনমনে অন্ধ কারাগার আঁকি।
শুনেছো!!
এখন আর কাউকে আঘাত করি না,
শুধু হৃদয় আঙিনায় কৃত্রিম যুদ্ধে লিপ্ত হই;
এখন কেউ অপেক্ষায় থাকেনা, শুধু
আমি নিজেকে তাড়িয়ে এনে যুদ্ধে পরাজিত হই।
জানো!!
আমি এখন গল্প শুনতে পারি না, শুধু
নিজের ভিতর থাকি যেথায় একাকিত্বই সঙ্গী;
এখন আর কেউ আমায় খুঁজে না, শুধু
অস্তিত্বে আমি মৃত হয়ে আমাতেই বেঁচে আছি।
(আননাফে রিফাত)
অদ্ভুত সফর 'জন্ম-মৃত্যু' 'Born-Death' A Weird Journey
"অস্তিত্বরা হারায় না, মাঝেমধ্যে লুকিয়ে থাকে।"
67.
"ওরাও শেখায়"
নীল আকাশ মেঘেদের অশ্রু,
বুকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা শেখায়;
পাহাড় অসীম একাকিত্ব নিয়েও,
উঁচু মাথায় দিব্যি দাঁড়িয়ে থাকতে শেখায়।
ঝর্ণা আর নদীর দুঃখ কাঁধে বয়ে,
কীভাবে গর্জন করতে হয় তা সমুদ্র শেখায়;
জীবন শুন্য থেকে জন্ম নিয়ে,
সব ফেলে শুন্য হয়ে চলে যাওয়া শেখায়।
(আননাফে রিফাত)
66.
"একাকিত্বের ব্যাথায়"
তোমার দুনিয়ায়, এই মানুষটাকে থাকতে দিবানা,
তাহলে অল্প সময়ের জন্য, স্বপ্ন দেখালে কেন?
তোমার দুনিয়ায়, মানুষটার জন্য জায়গা ছিলো না,
তাহলে তার দুনিয়ায়, পা রাখতে আসছিলা কেন?
কখনও জিজ্ঞেস করবে না, আর জানতে চাইবে না,
শুধু নিজেকেই বলে, তার কী এমন ভুল ছিলো?
এখন সে ভালোই আছে, তাকে নিয়ে কেউ ভাবেনা,
শুধু তার একাকিত্ব, তার বুক ব্যাথায় ডুব দিলো।
(আননাফে রিফাত)
65.
"মাতাল ঢেউয়ের প্রেমিক"
উত্তাল সাগর আমায় ডাকে,
আমি যে তার মাতাল ঢেউয়ের প্রেমিক;
অদ্ভুত নিঃসঙ্গতা সমুদ্রের বুকে,
তবুও সে ভাগ্যলিপির মতোই নির্ভীক।
(আননাফে রিফাত)
64.
"তুমি আমার না হও"
সুখে থাকি বা কষ্টেই থাকি, তোমার নামে
লিখা কবিতা কভু মুছে ফেলা যাবে না;
তুমি আমার না হও, আমি তোমার না হই,
তবু অশ্রুজলে নয়ন কখনো কেউ দেখবে না।
হয়তো সে দিন থেকে আর দেখা হবে না,
হয়তো সে দিনের পরে কখনো কথাও হবে না;
আমি তোমার না হই, তুমি আমার না হও,
তবে সর্বদা ভালো থাকার আবদারটি রাখা হবে না।
নিয়ম করে কারও রাগ, অভিযোগ, অভিমান,
মন খারাপগুলো শুনে আমার কষ্ট হবে না;
তুমি আমার না হও, আমি তোমার না হই,
তবু তোমার জন্য ভালো থাকার দোয়া শেষ হবে না।
(আননাফে রিফাত)
63.
"নেশাগ্রস্ত"
কাউকে হয়তো প্রেমের নেশায় পেয়েছে
হয়তো কাউকে বিষাদের নেশায়,
কেউ এখানে জলের নেশায় মজেছে,
কেউ বা আবার ধোঁয়ার নেশায়।
ওরা হয়তো বইয়ের নেশায় পড়েছে
নতুবা শুধু কবিতার নেশায়,
এখন ওদের ঘাড়ে-পিঠে নেশা লেগেছে
মেরুদণ্ড পুড়েছে লেখাপড়ার নেশায়।
মানুষগুলো বেমালুম হয়ে যন্ত্রস্বরূপ খাটছে
সবারই এখন টাকা রোজগারের নেশা,
ঘর্মাক্ত শরীরগুলো আজ রঙিন স্বপ্নে মেতেছে
নিঃশব্দে বলছে টাকার নেশাই সেরা নেশা।
সবাই তাদের শুধু মাতলামিই দেখেছে
তাই নাম দিয়েছে নেশাগ্রস্ত,
অথর্বগুলো কেউ একটিবার দেখেনি চেয়ে
শহরটাই যে সমস্ত নেশায় আসক্ত।
(আননাফে রিফাত)
62.
"চাওয়া-পাওয়া"
চাওয়াটা আমাদের হাতে থাকে,
সমস্ত কিছু পাওয়াটা না;
ভালবাসাও আমাদের হাতে থাকে,
তবে অনুরাগী প্রেমটা না।
তাই চাওয়াই হোক বা ভালবাসা,
তীব্রতর হওয়াই উচিৎ;
আর পাওয়াই হোক বা প্রেম তা,
ভাগ্যের লেখকের হাতেই ছেড়ে দেয়া সমীচীন।
(আননাফে রিফাত)
61.
"স্বপ্ন বুনা মানুষগুলো"
বর্ষার একঘেয়ে বৃষ্টিতে আত্মহুতি দিয়েও, যেমন
সাদা কাফনে মেঘেদের রাজত্ব বিরাজমান থাকে;
স্বপ্ন বুনা মানুষগুলোরও নিজ নিজ জগৎ, তেমনি
শেষ নিদ্রা পর্যন্ত নিঃশব্দে বিস্তীর্ণ, বিস্তৃত থাকে।
কুয়াশার ঘনঘটা কেটে গেলেও, যেমন বসন্তের
ভোরে শিশির বিন্দুতে তার অস্তিত্ব টিকে থাকে;
স্বপ্ন বুনা মানুষগুলোও তাদের শহরে, প্রতীক্ষার
প্রহর অন্তে নিজ অস্তিত্বে তেমনি বেঁচে থাকে।
(আননাফে রিফাত)
60.
"অবহেলায় আঠারো"
নেই কোথাও আজ বয়স আঠারোর,
সে যৌবন, সেই জীবিত উচ্ছ্বাস;
বয়স আঠারো কবেই হারিয়ে গেছে,
নেই তারুণ্য, নেই তার উল্লাস।
বয়স আঠারোকে ভুল বুঝিয়েছি,
যেমন শিখেছি, পুস্তকের পাতায়;
অদ্য বয়স আঠারোও চুপসে গেছে,
দিব্যি আছে, হেলায় খেলায়।
((আননাফে রিফাত))
59.
"আমি বাংলাদেশ বলছি"
আমি শিক্ষার্থী বলছি,
বলছি শিক্ষার সেই প্রাঙ্গণ থেকে;
যেখানে আমায়, রক্তাক্ত
করা হয় আমারই শিক্ষাগুরুর নির্দেশে।
আমি মানুষ বলছি,
বলছি মানুষ গড়ার সেই কারখানা থেকে;
যেখানে আমি, মানুষ গড়ার
কারিগরের জাঁতাকলে মরছি পিষে।
আমি সৈনিক বলছি,
বলছি সেই সাজানো রণাঙ্গন থেকে;
যেখানে আমিই, আমার
শত্রু হয়ে আমার সাথে লড়াই করে যাচ্ছি।
আমি সাধারণ মানুষ বলছি,
বলছি স্বপ্ন বুননের সেই দেশ থেকে;
যেখানে ছাত্রদের, হাত ধরেই
স্বাধীনতার সুখ পেয়েছিল একটি মানচিত্র।
আমি বাংলাদেশ বলছি,
বলছি আঘাত প্রাপ্ত আত্মা থেকে;
যেই আত্মার রক্তাক্ত, দেহের উপরে
দাঁড়িয়ে তোমরা ক্ষমতার জোর দেখাচ্ছো।
আমি বাংলাদেশ বলছি,
বলছি তাদের সাথে জবরদস্তি ছেড়ে দিতে;
যাদের বুকের রক্ত, শুকিয়েছে
এই জমিনে ঐক্যবদ্ধভাবে আমার জন্মকালে।
(আননাফে রিফাত)
58.
"স্বরণে ফিরেছে"
স্মৃতির পাতাকে স্বরণে নিতে চাইছি;
হোক সে কান্না অথবা হাসির
হোক সে পাওয়া বা না পাওয়ার,
হোক সে আর্তনাদ কিংবা ঔৎফুল্লের;
হোক সে ভুল অথবা সঠিকের
হোক সে পূরণীয় বা অপূরণীয় চাহিদার,
হোক সে প্রাক্তন কিংবা নতুনত্বের।
গত হওয়া দিনগুলোও স্বরণে ফিরেছে;
হোক সে স্বস্তি বা অস্বস্তির
হোক সে জয় কিংবা পরাজয়ের,
হোক সে সঙ্গ পাওয়া বা একাকিত্বের;
হোক সে আনন্দ বা কষ্টের
হোক সে ঘৃণা অথবা ভালবাসার,
হোক সে শত্রুতা কিংবা বন্ধুত্বের।
(আননাফে রিফাত)
57.
"ক্যাম্পাস"
উদ্ভাসিত করেছো, করছো
তুমি শত কোটি প্রাণ;
এক জমিনেই লাখো নক্ষত্র
তোমারই সম্প্রদান।
দেখেছো তুমি কত উত্থান
কত না পতনের মুখ;
আগলে রেখেছো বাংলার
স্বাধীনতার রক্তাক্ত সুখ।
যারা সাবেক, তাদের কাছে
কখনও অতীত হওনি;
শত, সার্ধশত পেড়িয়েও তুমি
আজও বুড়ো হওনি।
বর্ষীয়ান অথচ আধুনিক তুমি
সদা ঐতিহ্যমন্ডিত রবে;
হাজারো প্রেমিকের তুমিই অনুরক্তি
সহস্রাব্দের ইতিহাস হবে।
(আননাফে রিফাত)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the business
Telephone
Address
Dhaka
