18/03/2025
https://www.facebook.com/share/161WTCjv6s/
১৭ই রমাদ্বান, যেদিন সৃষ্টিকূলের সেরা সৃষ্টি নবী মুহাম্মাদ ﷺ'র প্রিয় সহধর্মিণী পৃথিবী থেকে পর্দা করেন।
নবীদের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরুষের কন্যা (সাইয়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দিক رضي الله عنه), মুমিনদেরদের জননী, এবং ইসলামের প্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নারী আলিম - আম্মাজান সাইয়্যিদা আয়িশা সিদ্দিকা رضي الله عنها
রাসূলুল্লাহ ﷺ তার পবিত্র কোলেই শেষ মুহূর্ত অতিবাহিত করেন।
সাইয়্যিদুনা জিবরাঈল عليهما السلام একদা সবুজ রেশমি কাপড় নিয়ে নবীজি ﷺ'র কাছে আসেন যার গায়ে সাইয়্যিদাতুনা আয়িশা رضي الله عنها'র প্রতিচ্ছবি ছিল এবং বলেন:
"ইনি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার স্ত্রী।"
[সুনান আত-তিরমিজি ৩৮৮০]
আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা আয়িশা সিদ্দিকা رضي الله عنها ৫৭ অথবা ৫৮ হিজরির ১৭ রমাদ্বান তারিখে মদিনা আল-মুনাওয়ারাতে ইন্তেকাল করেন। সাইয়্যিদুনা আবু হুরায়রা رضي الله عنه তার জানাযার নামাজের ইমামতি করেন। আম্মাজানের ইচ্ছানুযায়ী রাতের বেলায় তাকে জান্নাতুল বাকীতে রাসূলুল্লাহ ﷺ'র অন্যান্য সম্মানিতা স্ত্রীদের পাশে দাফন করা হয়।
[শারহ্ আল-যুরকানি, ৪র্থ খন্ড, ৩৯২ পৃষ্ঠা]
আল্লাহ ﷻ তার আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তার মর্যাদাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করুন। ১৭ রমাদ্বানের দিনে বদর যুদ্ধের অংশগ্রহণকারী সাহাবাগণ, শহিদগণ এবং আমাদের প্রিয়তম ও মহিমান্বিত আম্মাজানকে স্মরণ করুন।
াংলা
05/03/2025
https://www.facebook.com/share/1L4txk8TzB/
রাসূলুল্লাহ ﷺ দুনিয়া থেকে পর্দা করার পর সাইয়্যিদা ফাতিমা আস-যাহরা رضي الله عنها গভীর শোকে ও অস্থিরতায় নিমজ্জিত হন। দিনরাত কাঁদতে কাঁদতে তিনি তার মহান পিতা ﷺ'র সান্নিধ্য পাওয়ার আকুতি প্রকাশ করতেন। আল্লাহর হাবিব ﷺ'র বিদায়ের মাত্র ছয় মাস পর, ৩রা রমাদ্বান তারিখে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ছেড়ে চলে যান সাইয়্যিদা ফাতিমা আয-যাহরা। তার মর্মভেদী বেদনা ও বিরহযন্ত্রণাই তাকে অকালে বিদায় নিতে বাধ্য করেছিল। [মাদারিজুন নবুওয়াত]
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইতোপূর্বেই তাকে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন: "তুমিই আমার পরিবারের প্রথম সদস্য যে আমার সাথে মিলিত হবে (আখিরাতে)।" [সহিহ্ বুখারি ও মুসলিম]
সাইয়্যিদা আয়িশা رضي الله عنها বর্ণনা করেন, আল্লাহর নবী ﷺ সাইয়্যিদা ফাতিমা رضي الله عنها'কে বলেন: "তুমি কি খুশি নও যে তুমি সমস্ত মুমিন নারীর সর্দারিনী, অথবা (তিনি বলেন) এই উম্মাহ্'র নারীদের নেত্রী?" [সহিহ্ বুখারি ও মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ ﷺ সাইয়্যিদুনা হুজাইফা رضي الله عنه'কে বলেন: "এই রজনীর আগে কখনো এই ফেরেশতা দুনিয়াতে অবতরণ করেনি। তিনি তার রবের থেকে অনুমতি নিয়ে আমাকে সালাম জানান আর সুখবর দেন যে ফাতিমা জান্নাতি নারীদের নেত্রী..." [তিরমিজি]
সাইয়্যিদা আয়িশা বলেন: “ফাতিমা'র চেয়ে নবীজি ﷺ'র সাথে আচরণ, অভ্যাস, আখলাক, বসা ও দাঁড়ানোর দিকে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আর কাউকে আমি দেখিনি।” [আবু দাউদ]
আম্মাজান সাইয়্যিদা আয়িশা আরও বলেন: “আমি তার পিতা (নবীজি ﷺ) ব্যতিত ফাতিমা (رضي الله عنها)'র চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কাউকে দেখিনি।” [আল-হাকিম]
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: “ফাতিমা আমার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাকে যা আনন্দিত করে, তা আমাকেও আনন্দিত করে। তাকে যা ব্যথিত করে, তা আমাকেও ব্যথিত করে।” [আল-হাকিম]
ইমরান ইবনে হুসাইন হতে বর্ণিত: “নবীজি ﷺ ফাতিমা (رضي الله عنها)'র গলার নিচে (যে স্থানে মালা পরানো হয়) হাত রাখলেন আর দু'আ করলেন, ‘হে ক্ষুধা নিবারণকারী, প্রয়োজন পূরণকারী ও মর্যাদা উচ্চস্থকারী! ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ (ﷺ)'কে ক্ষুধার্ত করো না।’ পরবর্তীতে আমি তার সাথে দেখা করে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, 'সেদিন থেকে আমি কখনো ক্ষুধার্ত হইনি।'” [আল-বায়হাকি ও অন্যান্য]
আল্লাহর মাহবুব ﷺ বলেন: "মাহদি হবে আমার বংশধরদের মাঝে ফাতিমা'র সন্তানদের মধ্য থেকে।" [আবু দাউদ]
াদ্বান #ফাতিমা #আয়িশা
াংলা
26/01/2025
https://www.facebook.com/share/1WrR6Dgb7D/
মসজিদুল বুরাকের গম্বুজের শিলা, যেখানে আল্লাহ'র হাবিব ﷺ মি'রাজ গমনের পূর্বে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। আর এই স্থান হতেই আল্লাহ'র হাবিব ﷺ উর্ধ্বাকাশে (মি'রাজ) গমন করেন।
াংলা
21/01/2025
যখন সম্মানিতা মাতা, সাইয়্যিদা আমিনা বিনতে ওয়াহাব رضي الله عنها মহানবী ﷺ'কে নিজ গর্ভে বহন করেছিলেন, তখন সকল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সরকারে কায়েনাত, রাসূলে আকরাম ﷺ'র বরকতময় মিলাদ (জন্ম) উপলক্ষ্যে বিস্ময়কর নিদর্শনগুলি প্রকাশ পেয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ছিল:
সাইয়্যিদুনা সাহল ইবনে আবদুল্লাহ্ আল-তুস্তারি বলেন, "যখন মহান আল্লাহ ﷻ আমাদের আক্বা মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ ﷺ'কে মা আমিনার জঠরে প্রেরণের ইচ্ছা করেন সেই সময়টি ছিল রজব মাস আর দিনটি ছিল শুক্রবারের রজনী। তখন আল্লাহ ﷻ জান্নাতের জিম্মাদার রিদওয়ান ফেরেশতাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের (সর্বোচ্চ জান্নাত) দুয়ার খুলে দিতে নির্দেশ দেন।
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে একজন আহ্বানকারী ঘোষণা করেন: ‘নিশ্চয়ই, গোপন ও সংরক্ষিত নূর হতে পথপ্রদর্শক ও নবী ﷺ তাশরিফ আনবেন, তা আজ রাতে মায়ের গর্ভে স্থির হবে। সেখানেই তার সৃষ্টি সম্পন্ন হবে আর তিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে আবির্ভূত হবেন।"
বর্ণিত আছে, সেই রাতে আসমান ও তার বিস্তৃতি জুড়ে এবং সেইসাথে জমিন ও তার অঞ্চলগুলিতে ঘোষণা করা হয়: "আজ রাতে পবিত্র গর্ভে স্থির হবে যে গোপন নূর, যেখান হতে হাবিবাল্লাহ ﷺ আত্মপ্রকাশ করবেন। ধন্য আমিনা (رضي الله عنها) , সত্যিই সে ধন্য।
সেদিন দুনিয়ার সব মূর্তি বিনষ্ট করা হয়। কুরাইশরা যারা প্রচন্ড খরা ও চরম দুঃখ-কষ্টে ভুগছিল তারা দেখে জমিন সবুজ হয়ে উঠেছে, গাছে ফল ধরেছে আর চারদিক বরকতে ভরে গেছে। সুতরাং, যে বছর রহমাতুল্লিল আলামিন রাসূলুল্লাহ ﷺ মায়ের গর্ভে তাশরিফ আনেন সে বছরকে "শুভাগমন ও আনন্দের বছর" বলা হয়।
[আল-জুরকানি, আল-কাসতাল্লানির আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৬-১৯৭'র উপর তার মন্তব্যে]
#.Clarifying_Light