ভাবছেন, মুখে লম্বা দাড়ি রাখলে আর প্যান্ট টাখনুর উপরে পরলে নিজেকে খ্যাত লাগবে?
ভাই, পৃথিবীর একমাত্র ড্যাশিং আর হ্যান্ডসাম মানুষটির কিন্তু লম্বা দাড়ি ছিল আর তাঁর কাপড় কোনদিনও টাখনুর নিচে নামে নি...
কে তিনি জানেন? তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। যার সমতুল্য কেউ দুনিয়াতে কোনদিন জন্মায় নি, না কখনো জন্মাবে!
এই মানুষটিই বেঁচে থাকা অবস্থায় আমাদের মাগফিরাতের জন্য দিনের পর দিন কেঁদেছেন! এই মানুষটিই কিয়ামাতের বিভীষিকাময় সময়টাতে নিজেকে নিয়ে না, বরং তার উম্মাহ্, এই আমাদের ক্ষমা ভিক্ষার জন্য "ইয়া রাব্বি উম্মাতি! উম্মাতি!" আহাজারি নিয়ে সিজদায় লুটিয়ে কাঁদবেন! অথচ তাঁকে আইডল মানতেই আপনার এত সংকোচবোধ??
কখনো কি ভেবেছেন, যে অফিস বা কর্মক্ষেত্র আপনার রাসূলের সুন্নাহকে সম্মান দিতে জানে না, সেই প্রতিষ্ঠানের স্যালারীতে বারাকাহ আশা করাটা আপনার জন্য কতটা বোকামি?
তাই যে যাই বলুক, যা ইচ্ছা বিশেষণে বিশেষায়িত করুক না কেন আপনি আজ, কাল পরশুর চিন্তা না করে বরং এ মূহুর্ত থেকে প্রতিজ্ঞা করেন মুখে রেজার না, ট্রিমিং না.. স্রেফ দাঁড়িকে লম্বা রাখবেন। অন্তত এটুকু সাদৃশ্য নিয়ে যাতে তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারেন। আর হ্যা যে কোন পরিস্থিতিতেও প্যান্ট অবশ্যই টাখনুর উপরে পরবেন...
এখনো লজ্জা লাগছে?
যদি এখনো মনে একরাশ দ্বিধা জমে থাকে তবে দুঃখিত - রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধায় এখনো সিক্ত হতে পারেনি আপনার কঠোর আর ইগোপূর্ণ হৃদয়।
এখনো সেই ভালোবাসায় পূর্ণতা আসে নি ব্রাদার...
Salat "&" সালাত
এসো বন্ধুরা আমরা সময়মত নামাজ আদায় করি""" @[154063498277525:]
★একটি বাসর রাত★
পুরো লেখাটা না পড়ে মন্তব্য করবেন
না,,,,
আজ পারভেজ ও মিম এর বাসর রাত।
পারিবারিক ভাবেই তাদের বিয়ে
হয়েছে।
মিম শিক্ষিত মেয়ে এবং পারভেজ
পড়ালেখা শেষ করে নিজেদের
পারিবারিক ব্যবসা দেখাশুনা করে।
রাত ১২:৩০
পারভেজ বাসর ঘরে আসলো সবাই কে
বিদায় জানিয়ে। মিম খাট থেকে
নেমে
পারভেজ এর পা ছুয়ে সালাম করলো।
পারভেজ মিম কে উঠিয়ে খাটের উপর
বসাল।পারভেজ মিম কে বলল "আজ
আমাদের
বাসর রাত। সবার মতই আমাদের জীবনেও
বহু
প্রতিক্ষিত রাত এই রাত।
!
""""
"""
আজ এই শুভক্ষনে আমি তোমাকে কিছু
কথা
বলতে চাই আশা করি মনযোগী হয়ে
শুনবে।
কাল কেও তুমি শুধু একটা মেয়ে ছিলে।
আজকে তুমি কারো স্ত্রী, কারো
সংসারের
বউ। কারো ভাবি, কারো জা,কারো
চাঁচি,
কারো মামী।আজ থেকে তোমার
অনেক
দায়িত্য বেড়ে গেছে। যেহেতু আমরা
পরিবারের কথা মত বিয়ে করেছি তাই
হয়তো একে অপরকে জানার সময় কম
পেয়েছি।
তবুও কিছু কথা
আজ থেকে তুমি আমার স্ত্রী এবং আমি
তোমার স্বামী। যেহেতু আমাকে
তোমার
বর হিসেবে মেনে নিয়েছি তাই মনে
করছি
আমাকে তোমার যোগ্য মনে করেছ।আর
আমাকে যদি তোমার যোগ্য করে কেউ
গড়ে
তোলে তারা হল আমার আব্বু আম্মু।
আশা করি তুমি তাদের কে সম্মান
দিয়ে
চলবে।তাদের কে নিজের আব্বু আম্মু
মনে
করবে।
তারা আমাকে তোমার যোগ্য করেছে
তার
মানে তারা আমার থেকে অনেক
বেশি
যোগ্য তাই তারা বয়সের কারনে হয়তো
রাগারাগি করতে পারে। তখন তুমি
তাদের
সামনে মাথা নত রেখে নরম স্বরে কথা
বলবা।
কারন " কখনো কখনো তোমার মুখটা বন্ধ
রাখতে হবে। গর্বিত মাথাটা নত করতে
হবে
এবং স্বীকার করে নিতে হবে যে তুমি
ভুল।
এর অর্থ তুমি পরাজিত নাও, এর অর্থ তুমি
পরিণত এবং শেষ বেলায় জয়ের
হাসিটা
হাসার জন্য ত্যাগ স্বীকারে দৃঢ়
প্রতিজ্ঞ।"
যদি তুমি তাদের রাগের সময় ভাল
ব্যবহার
কর তাহলে তারা আর কখনই তোমার
সাথে
রাগবে না।যদি তুমি আব্বু আম্মুকে মন
থেকে ভালবাসো তাহলে তারা
তোমাকে
অনেক আশির্বাদ করবে যা অমুল্য।
তোমাকে রান্না করতে হবে।আম্মু যখন
রান্না করবে তখন তুমি আম্মু কে গিয়ে
বল
যে আম্মু আমি রান্না পারি না
আমাকে
শিখাবেন?? আম্মু খুশি হবে। তোমাকে
রান্না করতে হবে না তখন তবু খুশি
থাকবে।
বিকেলবেলা একটু চা বানিয়ে
তাদের কে
দিয়ে আসলে তারা অনেক খুশি হবে
তোমার উপর।
শুনেছি সব ভাবিরা নাকি ননদ, জা
দের কে
দেখতে পারে না।তুমি এই ধারনা
পাল্টে
দিবা। আমার বোন রা ৬মাস পর হয়তো
আসবে থাকবে ৬দিন। এই ৬দিন তাদের
কে
নিজের বোন মনে করে আদর কর যেন
পরের
বার তোমার টানেই আসে আবার।
তুমি হয়তো জানো না যে একবার আমি
অসুস্থ হইছিলাম এবং আমার আব্বু আম্মু
ছিল
না। আমার ১ বোন সারারাত আমার
মাথার
পাশে না ঘুমিয়ে সেবা করেছিল এখন
ভাবো তুমি তাদের কে কেমন
ভালবাসবে?
আমার বড় ভাই আছে যে আমার চাওয়ার
আগেই আমার অভাব পুরন করছে আশা
করি
তুমি তাকে নিজের ভাইয়ের মত
দেখবে।
যদি ভাইয়ার কাছে কিছু আবদার কর
তাহলে
তিনি তোমার উপর খুশি হবে। আর
ভাবি
তো তোমাকে বোন বানিয়েই
ফেলেছে।
আমাদের বাড়িতে অনেক
বাচ্চাকাচ্চা
আছে।তাদের কে আদর করবে সারাদিন
তাদের সাথে সময় কাটাবে
একঘেয়েমি দুর
হবে।
অতঃপর
ভালবাসা দিয়ে সব জয় করা যায়
হিংসা
দিয়ে নয়।ভালবাসা দানে বাড়ে কমে
না।
যতযত ভালবাসা দিবে সবাই তেমন
ভালবাসা তোমাকে দিবে। সবাইকে
ভালবাসবে।আর তুমি যদি এতকিছু কর
তাহলে আমি নিশ্চয় তোমাকে খারাপ
রাখতে চাইব না?
আর একটা মেয়ের কাছে স্বামীর সুখের
চেয়ে বড় কিছু নেই।
এমন কিছু করবে যেন এইঘর টাকে স্বর্গ
মনে
হয়।
প্রতিদিন পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বা।
তুমি অনেক রুপসী কিন্তু সেটা সবার
জন্য
নয়। তাই বাইরে সংযত হয়ে চলাফেরা
করবে।
তোমার কিছু বলার থাকলে বল।
মিম মাথা উঠেই নিলয় এর দিকে
তাকালে
পারভেজ দেখে মিম কাঁদছে।
পারভেজ বলল কাঁদছ কেন?
মিম বলল জীবনে কাউকে বলিনি আজ
বলছি
"আমি তোমাকে ভালবাসি "
আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ উপহার তোমার
মত
কাউকে জীবনে সঙ্গি করে পাওয়া।
পারভেজ বলল আমিও ভালবাসি
তোমাকে
কথা বলতে বলতে আযান দিয়ে দিল
যাও তুমি নামাজ পরে ঘুমাতে যাও
আমি
মসজিদে গিয়ে নামাজ পরে
আসতেছি।
পরের দিন থেকে শুরু হল এক শান্তির
সংসার। আমার আব্বু আম্মু যেন বউ
পায়নি
পেয়েছে একটা মেয়ে।
আমাকে বাদ দিয়ে সারাদিন বউকে
নিয়েই
ব্যস্ত থাকে বাড়ির সবাই।
আমিও কিছু বলিনা।
দিন গেলে রাতটাতো আমার।...........
21/03/2017
ইদানীং যে বিয়েগুলো হচ্ছে বিশেষ করে উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে, সেখানে দুইজন মানুষের বিয়েকে ঘিরে প্রায় একমাস ধরে নানা আয়োজন চলে। কানের দুল থেকে শুরু করে পায়ের নেইল পলিশ এবং পাঞ্জাবী থেকে শুরু করে বরের বাড়ির সবার জন্য ম্যাচিং করে কাপড় পাঠানো- কী নেই এতে? সামাজিক স্টেইটাস মেন্টেইন করতে গিয়ে বরকে নেয়া লাগছে সুদের শর্তে ব্যাংক লোন। বিয়ের মত ইবাদাতে অপচয় এর গুনাহ করতে সে জড়িয়ে পড়লো সুদের গুনাহতে। দেখুন কিভাবে পাপের একটা চক্র বেড়ে উঠছে।
যেই ছেলে ৫০ লাখ টাকা ধার দেনা করে মাত্র ৪-৫ দিনের একটা বিয়ের আয়োজন করল, সে বিয়ের পরের দিনেই ঋণে পড়ে গেল। এই ঋণের বোঝা তাকেই টানা লাগবে। পাশের মানুষগুলো বিয়ের ওয়ালিমাতে আসবে, মেয়ের বাবার টাকায় খরচ করা অনুষ্ঠানে আসবে, মুরগির রোস্ট খাবে - তারপর টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে চলে যাবে। ফেইসবুকের কাভার ফটোতে কয়েকমাস হয়ত বিয়ের চোখ ধাঁধানো গ্রুপ ফটো থাকবে। কিন্তু, সেই কয়েকটা দিনের ঋণের বোঝা বয়ে নিতে তাদের যে কি পরিমাণ কষ্ট হচ্ছে তা কেবল তারাই জানে।
দুই পক্ষেরই দোষ আছে। ছেলের বাড়ি সবসময় চাইবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটাকে, সাথে বাবার অঢেল সম্পত্তি আবার পড়াশুনাতেও তুখোড় মেয়ে। মেয়েকে আবার কম বয়সী হতে হবে। অথচ আমাদের দেশে মাস্টার্স পাশ করতে করতে করতে আমাদের দেশে লেগে যায় গড়ে ২৫ এর উপর। পাত্র খুঁজে পেতে পেতে আরো দুই তিন বছর। ততদিনে সেই অষ্টাদশী কিশোরীর চামড়ায় টান পড়ে গিয়েছে। বাবা মা এত কিছু দেখেনি। মেয়েও দেখে নি। আগে যে ক্যারিয়ারের হাতছানি ছিল। ক্যারিয়ার দাঁড় করতে করতে সুন্দর সংসারের স্বপ্নটাই যে বসে পড়লো। তবে যারা অতি আধুনিকা মেয়ে, বিয়ে হওয়া বা না হওয়া একই। এমনিতেই "অন্যভাবে" ডিমান্ড ফুলফিল করে তাদের কথা এখানে বলছি না।
অন্যদিকে মেয়ে পক্ষ খুঁজবে গুলশান, ধানমন্ডিতে নিজের এপার্টমেন্ট; নিজের মার্সিডিজ গাড়ি, ডুবাইয়ে সেকেন্ড হোম, তিন চারটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক, প্রতি বেলায় তাদের মেয়েকে হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানী খাইয়ে ভরণ পোষণ করবে এমন ছেলে। এসব করতে করতে ছেলে বয়স পার করে ফেলে চল্লিশ। জীবনের অর্ধেকের বেশি শেষ করে এসে দেখে মাথার বেশ অনেক চুলেই পাক ধরেছে, মাথায় চুল পড়ে টাকও পড়ে যায় অনেক সময়। সেই ছেলে এতদিন কিভাবে সময় পাড় করে এসেছে। নিতান্ত সাধুগোছের না হলে তার সময় কেটেছে মাস্টারবেইট করে, পর্ণ দেখে অথবা সাহসী কোন বান্ধবীর সাথে ফ্ল্যাটে গিয়ে। এই চল্লিশ বছরে এসে তার জন্যে এমন মেয়ে আনা হচ্ছে যেও কিনা তার এই বয়সে আসতে আসতে তিন চারজন ছেলের সাথে শুয়ে এসেছে। আমি লজ্জা শরমের মাথা খেয়েই লিখছি। কারণ, এই লিখাগুলো সবার পড়া উচিত। বাবা মায়ের আগে পড়া উচিত। প্রিন্ট করে তাদের পড়তে দেওয়া উচিত, যাতে তারা এটুকু অন্তত বুঝে তাদের মাথা নিচু করে থাকা হাবলু সেজে থাকা ছেলে টা কিংবা আদুরে কথা বলা মেয়েটার চরিত্র কিভাবে বাজারে বিক্রি করছে। আপনারা বুঝুন। আপনাদেরকেই বলছি, সম্মানিত বাবা- মা।
বিয়ে কেন করি আমরা? রিলেশানশীপ স্টেইটাস চেইঞ্জ করতে? হানিমুনে যেতে? মেয়ের বাড়ি থেকে ট্রাকবোঝাই যৌতুক আনতে? পাশের বাড়ির চৌধুরী সাহেবের ছেলের বউয়ের চেয়েও আরো ধনীর বাড়ির মেয়ে আনতে? গায়ে হলুদে দেশের সবচেয়ে স্বনামধন্য ওয়েডিং ফটোগ্রাফারের কাছে টাকা দিয়ে, ব্যান্ড পার্টি আর ডিজে ভাড়া করে ছেলে মেয়েদের নোংরামী করার সুযোগ করে দিতে?
নাকি, বিয়ের মাধ্যমে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সা) কে খুশি করতে? নেককার সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে উম্মাতের সংখ্যা বাড়াতে? নিজে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে?
উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করতে বসে যান, আজই।
একটা সময় দেখতাম যে বিয়ের সময় বউ কাঁদতো। মেয়ের বাবা অশ্রুজল দিয়ে এতদিনের বড় করা কলিজার টুকরাকে বিদায় দিচ্ছেন। আজ থেকে তার সমস্ত আবদার তার স্বামীর কাছে বলবে। সেখান থেকেই মৃত্যুর পরে তার লাশ বের হবে। সেই ছেলের বাবা মা- ই তার বাবা মা ; এই সবক দিয়ে কান্না করে মেয়েকে বিদায় দিত। এখন কি তা হয়? গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কনের উদ্দাম নাচ দেখে বুঝার উপায় নেই তার মনে কোন দু:খ আছে বলে। লজ্জা!
আমার লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায়- যখন দেখি একজন ছেলে তার পুরো স্কুল, কলেজ আর ভার্সিটি লাইফের সব ফ্রেন্ডদের সামনে বউকে দেখিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে। সিরিয়াসলি, আমি আসলেই বুঝি না- এই "বউ দেখানো" তে তারা কি মজা পায়? আসলেই তারা কি চায়? এরপর যদি তার বউ, সেই বরের কোন ফ্রেন্ড এর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। তার বরের বিশ্বাস ভাঙ্গে তখন সে তার স্ত্রীকেই দোষারোপ করে। আরেহ ভাই, আপনিই তো নিজের বউকে বিয়ের দিন নিলামে তুলে খদ্দের খুঁজছিলেন। বাসায় সব ফ্রেন্ড ডেকে যেদিন দাওয়াত করেছিলেন- সেদিন বউকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। বউয়ের হাতের চায়ের যেদিন সবাই সুনাম করেছিল সেদিন সুযোগ করে দিয়েছিলেন আপনার বউকে সবার সামনে আসার। তাদের একা ড্রইং রুমে কথা বলতে দিয়ে নিজে ভিতরের রুমে গিয়েছেন। আর মেয়েরা সচেতন থাকলে এসব হত না। স্ত্রীর যাবতীয় ছেলে ফ্রেন্ড, জাস্ট ফ্রেন্ডকে বাসায় ২৪ ঘন্টা আসা যাওয়ার অনুমতি দিয়ে রেখেছেন। এখন আপনার সাথে কেউ আপনার স্ত্রীকে শেয়ার করলে তার দায় যেমন আপনার স্ত্রীর, আপনারও স্বামী হিসেবে একই। দুইজনই অপরাধী।
আসলে সব খারাপের শুরু হয়েছে যখন আমরা বিয়েকে ইবাদাত হিসেবে না নিয়ে মানুষের খুশি করার একটা মাধ্যম হিসেবে নিয়েছি, তখন থেকে। আল্লাহ সহজ করে দিক। এই খারাপ চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে। সম্পর্কগুলো এই দুনিয়াতে শুরু করে যাতে জান্নাতে গিয়ে শেষ হয়। আমীন।
_
লেখা - Misbah Mahin
Share & Join with - SALAT
17/02/2017
সূরা আন নিসা ( মদীনায় অবতীর্ণ ), আয়াত সংখাঃ ১৭৬
আরবী থেকে বাংলা অনুবাদ ১৬১-১৭০
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
وَأَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُواْ عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
161
আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করতো অন্যায় ভাবে। বস্তুত; আমি কাফেরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব।
لَّـكِنِ الرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ مِنْهُمْ وَالْمُؤْمِنُونَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَالْمُقِيمِينَ الصَّلاَةَ وَالْمُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالْمُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أُوْلَـئِكَ سَنُؤْتِيهِمْ أَجْرًا عَظِيمًا
162
কিন্তু যারা তাদের মধ্যে জ্ঞানপক্ক ও ঈমানদার, তারা তাও মান্য করে যা আপনার উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার পূর্বে। আর যারা নামাযে অনুবর্তিতা পালনকারী, যারা যাকাত দানকারী এবং যারা আল্লাহ ও কেয়ামতে আস্থাশীল। বস্তুতঃ এমন লোকদেরকে আমি দান করবো মহাপুণ্য।
إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِن بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإْسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُودَ زَبُورًا
163
আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি, যেমন করে ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের প্রতি এবং সে সমস্ত নবী-রসূলের প্রতি যাঁরা তাঁর পরে প্রেরিত হয়েছেন। আর ওহী পাঠিয়েছি, ইসমাঈল, ইব্রাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব, ও তাঁর সন্তাবর্গের প্রতি এবং ঈসা, আইয়ুব, ইউনূস, হারুন ও সুলায়মানের প্রতি। আর আমি দাউদকে দান করেছি যবুর গ্রন্থ।
وَرُسُلاً قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِن قَبْلُ وَرُسُلاً لَّمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ اللّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا
164
এছাড়া এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাইনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে কথোপকথন করেছেন সরাসরি।
رُّسُلاً مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلاَّ يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا
165
সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারী রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশীল, প্রাজ্ঞ।
لَّـكِنِ اللّهُ يَشْهَدُ بِمَا أَنزَلَ إِلَيْكَ أَنزَلَهُ بِعِلْمِهِ وَالْمَلآئِكَةُ يَشْهَدُونَ وَكَفَى بِاللّهِ شَهِيدًا
166
আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তিনি যে তা সজ্ঞানেই করেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহ নিজেও সাক্ষী এবং ফেরেশতাগণও সাক্ষী। আর সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُواْ وَصَدُّواْ عَن سَبِيلِ اللّهِ قَدْ ضَلُّواْ ضَلاَلاً بَعِيدًا
167
যারা কুফরী অবলম্বন করেছে, এবং আল্লাহর পথে বাধার সৃষ্টি করেছে, তারা বিভ্রান্তিতে সুদূরে পতিত হয়েছে।
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُواْ وَظَلَمُواْ لَمْ يَكُنِ اللّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلاَ لِيَهْدِيَهُمْ طَرِيقاً
168
যারা কুফরী অবলম্বন করেছে এবং সত্য চাপা দিয়ে রেখেছে, আল্লাহ কখনও তাদের ক্ষমা করবেন না এবং সরল পথ দেখাবেন না।
إِلاَّ طَرِيقَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللّهِ يَسِيرًا
169
তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের পথ। সেখানে তারা বাস করবে অনন্তকাল। আর এমন করাটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।
يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءكُمُ الرَّسُولُ بِالْحَقِّ مِن رَّبِّكُمْ فَآمِنُواْ خَيْرًا لَّكُمْ وَإِن تَكْفُرُواْ فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَكَانَ اللّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
170
হে মানবজাতি! তোমাদের পালনকর্তার যথার্থ বাণী নিয়ে তোমাদের নিকট রসূল এসেছেন, তোমরা তা মেনে নাও যাতে তোমাদের কল্যাণ হতে পারে। আর যদি তোমরা তা না মান, জেনে রাখ আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সে সবকিছুই আল্লাহর। আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, প্রাজ্ঞ।
তোমাদের মাধ্যে এমন কিছু লোক তো অবশ্যই থাকা উচিত, যারা নেকি ও কল্যানের দিকে মানুষকে ডাকবে, ভালো কাজের হুকুম দেবে এবং খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে। যারা এ কাজ করবে তারাই সফল হবে।
( সূরা আলে ইমরান--১০৪)
মনটা তো এদিক সেদিক করবেই! মনটাকে এখনি টেনে ধরে ভালপথে আনতে হবে। মনের খায়েশ পুরা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও এই মনকে তৃপ্ত করা সম্ভব নয়।এই জাত এমনই খারাপ।এখনি থামাতে হবে, না হলে, মনটা এমন এমন কাজ করা শুরু করবে, তখন লাগামহীন ঘোড়ার মত ছুটবে আর ছুটবে। তখন সামলাতে আরও বেশি বেগ পেতে হবে। তাই এখনি নফসকে গুডবাই জানাতে হবে।
নামায ওয়াক্ত অনুযায়ীই পড়তে হবে, নিজের মন মতো সময়ে পড়লে গ্রহণযোগ্য হবেনাঃ
"ইন্নাস-সালাতি কানাত আ'লাল মুমিনিনা কিতাবান মাওক্বুতা।"
অর্থঃ নিশ্চয়ই নামায মুমিনদের জন্য সুনিদিষ্ট সময়ের সাথেই ফরয করা হয়েছে।
সুরা আন-নিসা, আয়াত ১০৩।
_____🔥আসসালামুআলাইকুম🔥_____
ঘুমন্ত মানুষের আত্মা প্রসঙ্গে মহানবী (সাঃ) যা বলেছেনঃ.....
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ "মানুষ ঘুমালে তার আত্মা আকাশে চলে যায় এবং তাকে আল্লাহর আরশে কাছে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়।যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ঘুমায় তার আত্মা আল্লাহর আরশের কাছেই সিজদা দেয় এবং যে ব্যক্তি অপবিত্র ছিল তার আত্মা আরশ থেকে দূরে সিজদা দেয়" !!!
( বায়হাকী, ইমাম বুখারী এ হাদীসটি তাঁর আত-তারীখুল কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন )
হযরত মহানবী (সাঃ) বলেছেনঃ "যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ঘুমায় তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা রাত যাপন করে এবং ঐ ব্যক্তি জাগ্রত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে।"হে আল্লাহ ! তুমি তোমার এই বান্দাকে ক্ষমা করে দাও কেননা সে পবিত্র অবস্থায় রাত যাপন করছে" !!!
____________🔥🔥( তারাবানী ও বায়হাকী )
বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন রাসূল (সাঃ) আমাকে বললেন, যখন তুমি শোয়ার বিছানায় যেতে চাও, তখন তুমি সালাতের অযূর মত অযূ করবে । এরপর ডান পাশের উপর কাত হয়ে শুয়ে পড়বে। আর এ দু'য়া পড়বে, "হে আল্লাহ ! আমি আমার চেহারকে (অর্থাৎ যাবতীয় অঙ্গ -প্রত্যঙ্গকে) তোমার নিকট হস্তে সমর্পণ করলাম। আর আমার সকল বিষয় তোমারই নিকট সমর্পন করলাম এবং আমার পৃষ্টদেশ তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। আমি তোমার গযবের ভয়ে ভীত ও তোমার রাহমাতের আশায় আশান্বিত। তোমার নিকট ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল নেই এবং নেই মুক্তি পাওয়ার স্থান। তুমি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছ, আমি তার উপর ঈমান এনেছি এবং তুমি যে নবী পাঠিয়েছ আমি তাঁর উপর ঈমান এনেছি"। যদি তুমি এ রাতেই মরে যাও, তোমার সে মৃত্যু স্বভাবধর্ম ইসলামের উপরই গন্য হবে। অতএব তোমার এ দু'য়া গুলো যেন তোমার এ রাতের সর্বশেষ কথা হয় !!!
_______________🔥🔥( বুখারী হাঃ ৬৩১১ )
আসুন আমরা পবিত্র অবস্থায় ঘুমাই যাতে আমাদের আত্মা আল্লাহর আরশের কাছেই সিজদা দিতে পারে এবং ফেরেশতা আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, আমীন !!!
★----তাওবা----★
"তাওবাহ করে ইসলামের পথে ফিরে আয়।"
- "আমিতো আসতে চাই কিন্তু.."
এই 'কিন্তু'টা শুধু একটি শব্দ না।
এই 'কিন্তু'তে মিশে আছে শতশত 'ভয়, দুঃখ, কষ্ট, বিপর্যয়'।
যা একজন মানুষকে ইসলামের পথে আসতে কিংবা এ পথে অটল-অবিচল থাকতে বাধা দেয়..
ভয়ংকর সব বাধা..
একজন মানুষকে কোণঠাসা করে ফেলার মতো বাধা..
তাই ইসলামের পথে আসার আগে এই 'কিন্তু'টা ভাবনার জগতে হাজারবার উঁকি দেয়।
,
"ইসলামের পথে এসে অটল থাকা অনেক কঠিন"- এ বাক্যটা যেমন সত্য, তেমনভাবে এটাও সত্য যে এই 'কঠিন' জিনিসটাকে আমরা এক্সট্রা অর্ডিনারিভাবে 'কঠিন' বানিয়ে ফেলি.. যেন এটা 'অসম্ভব'।
'অসম্ভব' আর 'কঠিন' এর মধ্যে অনেক পার্থক্য.. অ-নে-ক! মানুষ ইসলামের পথে আসতে চায় না পথটাতে চলা কঠিন(পড়ুন অসম্ভব) মনে করে..
যেন ইসলামের পথে না এসে এই পৃথিবীতেই 'দুঃখ-কষ্ট'হীন একটা জীবন কাটিয়ে দিবে। অথচ সেই মানুষটাকেই যদি জিজ্ঞেস করা হয়, "তুমি কি পৃথিবীতে অন্তত একজন মানুষ দেখাতে পারবে যার জীবনে বিন্দু পরিমাণ কষ্ট কিংবা বিপর্যয় নেই?"
সে উত্তর দিতে ব্যর্থ হবে।
,
আমরা যে পথই বেছে নেই না কেন আমরা 'দুঃখ-কষ্ট', 'বিপর্যয়'হীন জীবন কাটাতে পারবোনা.. কারণ এ পৃথিবীটা 'জান্নাত' কিংবা 'জাহান্নাম' না.. এটা 'দুনিয়া'।
এখানে আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা প্রত্যেকের জীবনেই 'বিপর্যয়' পাঠান.. কারও ক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে, কারও ক্ষেত্রে পরীক্ষা হিসেবে.. আমরা মানুষেরা সেই পরীক্ষাকে কিভাবে নিতে পারি সেটাই মূল বিষয়।
রাস্তায় শুয়ে থাকা পথশিশুটার জীবনে বিপর্যয় আসে..
ল্যামবরগিরি গাড়ি হাঁকিয়ে চলা সেই কোটিপতি ছেলেটার জীবনেও বিপর্যয় আসে.. সালাত আদায় করা সেই মুসলিম ভাইটির জীবনে বিপর্যয় আসে..
দিনরাত 'মাস্তি' করে সময় কাটানো সেই কুফফারের জীবনেও বিপর্যয় আসে..
তবে পার্থক্য হলো সেই মুসলিম ভাইটি এমন এক পথে আছে যে পথ তাঁকে প্রতিটি মুহূর্তে আশার আলো জ্বালিয়ে দিবে. যে পথ তাঁকে ধৈর্য ধরতে শেখাবে..
যে পথ তাঁকে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার 'বেস্ট ওয়ে'টা শেখাবে..
যে পথ তাঁকে মানুষের মতো মানুষ বানিয়ে তুলবে..
যে পথ তাঁকে তাঁর রবের কাছাকাছি করে তুলবে..
তাঁর রব তাঁকে ভালোবাসবেন..
এরথেকে উত্তম বিষয় আর কি হতে পারে?
,
এ দুনিয়ার জীবন যেমন জান্নাত না,
তেমনি জাহান্নামও না..
বিপর্যয়গুলো একসময় ফুরিয়ে যাবে.. পরীক্ষাগুলো শেষ হয়ে যাবে..
কিন্তু ইসলামের পথে যদি না আসা হয় তাহলে জাহান্নামের আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হতে হবে,
সেই আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হবার কষ্টটা কখনোই শেষ হবেনা, ভাই..
কারণ সেটা দুনিয়া না; সেটা 'জাহান্নাম'! খানিকটা সময়ের বিপর্যয়ের জন্য আপনি মহাবিপর্যয় থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন না?
কখনো কি ভেবে দেখেছেন আপনি কেন সালাত আদায়
করছেননা! কোন যুক্তিতে, কোন প্রেক্ষাপটে, কার উপর
রাগ করে! যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন তার কথা
কেন মানছেননা! যে মহান রবের এতো এতো নি'আমতের
মধ্যে আছেন যে, যা কখনো পরিশোধের ক্ষমতা আপনার
নেই। একটু ভাবুন, সময় অাছে ফিরে অাসুন রবের দিকে কল্যানের দিকে
আজকাল প্রতিটি ঘরেই স্যাটেলাইট কানেকশন। সারাদিন সিরিয়ালে দেখা যায় 'সুন্দরী' প্রদর্শণক্ষম মেয়েদের মূল্য, আকর্ষণ। 'সিক্সপ্যাক' শব্দটা আগে শোনা যেতনা, এখন ছেলেরা প্যাক অর্জনের যন্ত্রণায় অস্থির থাকে। যতই জ্ঞানীগুণী আর হুজুরের পরিবার হোক, এখনকার কিশোর-কিশোরীরা এগুলো অবশ্যই অবশ্যই জানে - এগুলোই তাদের চারপাশ। তাদের এফএম রেডিও সারাদিনই প্রেমের গানে, প্রেমের আলাপে, লাভগুরুতে ভরপুর থাকে। ফ্রেন্ডসদের আড্ডাবাজির এসএমএস পড়ে শোনায়। যাদের কোন মেয়ে/ছেলে বন্ধু নাই "আড্ডা" মারার, "গল্প" করার, "পিকনিক" করার, "ফোনে কথা" বলার, "ট্যূর" দেয়ার, "লং ড্রাইভে" যাবার - তারা নিজেদের অসহায় ভাবতে বাধ্য হয়। পারিবারিক জ্ঞান বাবা-মা দিয়ে রাখলে সেক্ষেত্রেও তাদের যুদ্ধ হয় কঠিন যুদ্ধ। প্রতিদিন, অনেকবার। বয়ষ্করা এসব জানেনা, বুঝতেও পারবে না ভিতরে এসব কালচার কীভাবে কাজ করে, আমরাই পারিনা ঠিকমতন!
একটা ছেলে তার বন্ধুদের মাঝে গিয়ে শুধু গার্লফ্রেন্ডের আলাপ শুনে - তার কাছে মনে হতে থাকে, আমারো হয়ত থাকা উচিত ছিল। তার সামনে অকূল পাথার, নৈতিকতার সাথে যুদ্ধ। ক'দিন? শরীর আর মনের এই অমোঘ চাওয়ার সাথে ক'দিন যুদ্ধ? ১৬-১৭ তে পরিপূর্ণ বড় হয়ে যাওয়া ছেলেটি সামনে ১০ বছরের বেশি সময়ের নিরাশার দেখা খুজে পায়। বিয়ে হয় এখন ৩০ বছরে। আগে তাদেরই কেবল বিয়ে হয় - যাদের সম্পদ বেশি। এবং তারা প্রেম করে ধনী মা-বাবার ঘাড়ে উঠেই খরচা করে বিয়ে করে। তাহলে? ১৫ বছর এই ছেলেটা প্রতিটি দিন, প্রতিবেলা যুদ্ধ করে যাবে? আর বাবা-মা কখনই তাদের হয়ে ভাবেন না। আর সম্ভাবনার সীমানা দেখতে না পাওয়ায় তাদের "স্বাভাবিকভাবেই" হতাশা আগলে ধরে।
অনেক সুশীল ইতর লোক আছে - এমন আলোচনায় এসে টাকা ইনকামের প্রয়োজনীয়তার গল্প ফাঁদবেন। টাকা দিয়ে বিয়ে হয়না, চলার পথেও টাকার ব্যাপার যা - তার চাইতে অনেক বেশি স্বভাব আর চরিত্র। চরিত্রহীন সন্তান বা স্বামীর টাকা দিয়ে কারো কিছুই আসে যায় না। অথচ, এই টাকার দেখা, উপার্জনক্ষমতা তখন আপনার কাছে মূল্যহীন হবে, যখন আপনার সন্তান অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে বাসায় ফিরবে। হয়ত তাকে এই শহরের চিপায় চাপায় দেখা যাবে আর ক'দিন পরেই। তখন উপার্জন ধুয়ে পানি খেতে হবে এইসব বেকুব অভিভাবকদের।
পূর্বের প্রজন্মের পাপ, অলসতা, বুদ্ধিবৃত্তিক অসারতার খেসারত আমাদের নোংরা সংস্কৃতি। সেই অভিভাবকরা আবার সংস্কৃতির উত্তাপের কড়াইতে পরের প্রজন্মকে ভেজে ভেজে লবণ ছিটিয়ে দেন তাদের কথার বুলিতে। অভিভাবকরা তো তাদের উপযুক্ত শিক্ষা পাবেই - তারা কোনদিনই শান্তি পাবেন না অন্তরে - এটা হলফ করে বলতে পারি।
একটা ছেলে ভার্সিটি লাইফে ক্লাস করে ফিরে পরের দিন ল্যাব/কুইজ না থাকলে কি করে বাসায়/হলে? তার আশেপাশের সবই তার পশুত্বকে জাগিয়ে তোলার জিনিসপত্র। টিভি চ্যানেল, মুভি, নাটক, গান, পত্রিকা, টেলিভিশনের অ্যাড - সে শুধুই যুদ্ধ করে। ঘরে শিক্ষা না থাকলে ফোনে মেয়েদের কাছে পৌছাতে চায়। রোমান্স আজকাল পথে ঘাটেই থাকে। ভ্যাসলিনের কোমলতা বুঝাতে টপস পরা মেয়েদের বিলবোর্ডে দেখা যায়। বছরের পর বছর 'ভালোবাসার টানে, পাশে আনে' বিলবোর্ডে ছেলের বুকে একটা মেয়ে মাথা রেখে হেলান দিয়ে থাকে বিশাল মাঠের ঘাসে। আর এসব থেকে বছরের পর পছর একটা ছেলে যুদ্ধ করতে থাকবে - তাকে অভিভাবকরা সন্নাসী মনে করে, নাকি নপুংসক মনে করে - কে জানে? নীতিকথায় শরীর ভিজে? ক'দিন থিওরি বুঝিয়ে সামলাবেন এইসব?
যেই সমাজে বিয়ে কঠিন হয়, সেই সমাজে ব্যভিচার সস্তা হয়ে যায়।
এই লেখা কেউ পড়ুক না পড়ুক। আমি জানি এই ভয়াবহতা কত বেশি। একটা মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের হাল। যারা সংকীর্ণমনা নির্বোধ ইতর, তারাই কেবল এই কথার প্রতিবাদ করবে - চিন্তিত না হয়ে। কেননা, আপনি/আপনার সন্তান হয়ত সাময়িকভাবে মুক্ত (আমি বিশ্বাস করিনা, কেননা পদস্খলনে কয়েক মূহুর্ত লাগে), কিন্তু তারা যাদের সাথে চলে - অথবা এই সমাজেরই আরো অনেক ছেলেমেয়ে সম্পূর্ণ অন্যরকম হয়ে চলেছে। নীতির কথা তাদের কাছে হাস্যকর। তারা আপনাদের ভেজে খাবে। আপনাদের চিন্তার অসারতার কারণেই তা হবে, হবেই। আমি হলফ করে বলতে পারি। এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অনেক অল্পতেই শারীরিক ব্যাপারগুলো ভালো করে বুঝে ফেলে। দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়ে সপাত্রে/সপাত্রীতে হস্তান্তর করে দিতে না পারলে ভুক্তভোগী - পরিবারের হর্তাকর্তারাই হবে - হচ্ছে হরদম।
অথচ এসব ভাবার কেউ যেন নাই। একদিন পারিবারিক বন্ধনগুলো সব ধ্বংস হবে - তখন হয়ত টের পাবে। প্রতিটি পরিবারের অবস্থা সঙ্গীন। প্রতিটি ছেলেমেয়েরই নৈতিক অবস্থা ভয়াবহ। এখানে এগিয়ে আসার কেউ নাই। আফসোস! সজ্ঞানে বিগত ৫-৭ বছর ধরে এসব দেখতে দেখতে আজকে প্রথম লেখলাম। না লিখে পারলামনা। এই চিন্তাগুলা প্রতিদিনই আতঙ্কগ্রস্ত করে।
যারা সবকিছুকে এড়িয়ে চলতে পারে - তারা এই লেখাকেও এড়াবে। এই চিন্তাগুলোর বাস্তবতা খুব ভালো করে দেখছি। শত শত সমসাময়িক ছেলেমেয়েকে উদাহরণ হিসেবে জানি। হাজারখানেক ছেলেমেয়ের সার্কেলের ও কালচারাল ট্রেণ্ড জানি। অভিভাবকরা পদক্ষেপ না নিলে একটা ধ্বংস অবধারিত। যেহেতু সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে ঠেকানোর উপায় নেই--পরিবারকে ঠেক দেয়াই এখনকার প্রথম কর্তব্য হওয়া উচিত। তাই বলছি, বিপদে যাবার আগে, সমাজকে ধ্বংস হতে দেবার আগে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে, নৈতিক শিক্ষা বলীয়ান করে সন্তানদের বিয়েকে এগিয়ে নিয়ে আসুন।
তা নাহলে? সাধু সাবধান!!
_
Share & Join with - SALAT
-হে আমার মালিক ! আমাকে সালাত কায়েমকারী বানাও, আমার ছেলে-মেয়েদেরকে ও নামাজী বানিয়ে দাও , হে আমার মালিক ! আমার দোয়া তুমি কবুল কর।
_______________ সূরা ইব্রাহীমঃ ৪০
নামাজ জীবনকে বদলে দিবে। চিন্তা ধারা বদলে যাবে। মনকে স্থির করুন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন এবং পরিপূর্ণ একটি জীবন গড়ুন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Dhaka
