03/02/2023
সাহিত্য ফোরাম গ্রন্থাগার উদ্দোগ্যে শীতার্তদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ।
বগুড়া সদর প্রতিনিধি: বগুড়া সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের বামনপাড়া গ্রামে শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন সাহিত্য ফোরাম গ্রন্থাগার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব আলী আহম্মেদ রাজুর পিতা আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন, সমাজ সেবক, বামনপাড়া।
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে কষ্টে থাকে সুবিধা বঞ্চিত ও গ্রামের দরিদ্র মানুষ। এসব অসহায় শীতার্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাহিত্য ফোরাম গ্রন্থাগার।
সাহিত্য ফোরাম গ্রন্থাগার কেন্দ্র এলাকার শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকায় আরও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে বলে ঘোষণা দেন সাহিত্য ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো: মানিক।
তিনি বলেন, শীতবস্ত্র বিতরণ গরীবদের প্রতি কোন করুণা নয় বরং এটা সামর্থবানদের নৈতিক দায়িত্ব। ইসলামী সাহিত্য ফোরামের কার্যক্রমে সহায়তা দানকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানান আলী আহম্মেদ রাজু ও মো: নুরুন নবী (নয়ন) সহ ইমরান হোসেন, ধলমোহিনী ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আলহাজ্ব আলী আহম্মেদ রাজুর পিতা আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন বলেন, দুর্ভোগহীন এক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী সাহিত্য ফোরাম অন্যান্য কার্যক্রম দরিদ্র মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। আশা করি ক্রমানয় তাদের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত হবে। উক্ত সংগঠনের প্রতি সবার সহযোগিতা বৃদ্ধি করার জন্য অনুরোধ করছি। সংগঠনের উদ্দোগ্যে ফ্রি কোরআন শিক্ষা কোর্চ শুরু হয়েছে। বামন পাড়া সরলপুর, চারমাথা বাজারে ফ্রি কোরআন শিখানো হবে পুরুষ ও মহিনাদের। সুন্দর সমাজ গঠনে এমন সংগঠনে যুক্ত থাকার সবাইকে আহ্বান জানাই। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মো: ইমরান হোসেন, বিশিষ্ট পোল্ট্রি ব্যবসায়ী, ধলমোহিনী। মতিউর হরমান মতি, চারমাথা বন্দর। আফছার উদ্দিনসহ আরো অনেকে।
পরে সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীদের নিয়ে মহাস্থান শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেঘুরে তাদের অসহায় জীবনের গল্প শুনে খাবার ও “দুঃস্থ ও অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ” করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মো: মানিক মিয়া, প্রতিষ্ঠাতা, মাহবুর রহমান (মানিক)- সাধারণ সম্পাদক, আইনুর ইসলাম- ক্রিয়া সম্পাদক, রাকিব হাসান- প্রচার সম্পাদক, রোবাই সহ-দপ্তর সম্পাদক, রিফাত সহ-প্রচার সম্পাদক ও আব্দুর রহিম, সদস্য সাহিত্য ফোরাম গ্রন্থাগার।
উক্ত আয়োজন সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যাদের একান্ত প্রচেষ্ঠায় উক্ত সেবা মূলক কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমান (রিদয়)-সিনিয়র সভাপতি, মো: শরিফুল ইসলাম আহ্বাদক ও শীত বস্ত্র বিরতণ কাযক্রমের সভাপতি, মো: জাকির হাসান- সহ-প্রচার সম্পাদক, সিয়াম হাসান সহ-কোষাদক্ষ, আব্দুল্লাহ ওমর ফারুক সাংগঠনিক সম্পাদক, তৌফিক পরিচালক অনলাইন লাইব্রেরি, মোহাম্মদ তৌহিদুল সহ-সেক্রেটারি, মাহমুল হাসান সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মেহেদুল হাসান দপ্তর সম্পাদক, ইমরান সহ-সভাপতি, মেহেদী হাসান –পরিচালক সংগঠনের সভাপতি হাফেজ এনামুল হক।
উল্লেখ্য, ইসলামী সাহিত্য ফোরাম একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক শিক্ষা, মানবকল্যাণে নিবেদিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। যা মানবিক দায়িত্ববোধে নিবেদিত তারুণ্যের আয়োজন। দারিদ্রতার কষাঘাতে যারা শুধু বেঁচে থাকার সংগ্রামকেই জীবন মনে করে তাদের কাছে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক মানবিক অধিকারগুলো সহজলভ্য করাই এ সংগঠনের প্রয়াস। দেশের সামাজিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের উৎকর্ষতা সাধনের স্বপ্ন নিয়ে সংগঠনটি দীর্ঘ নয় বছর যাবত দেশের বিভিন্ন এলাকায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসার প্রত্যয় নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
07/12/2016
সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী মহাস্থানগড়, উচ্ছ্বসিত বগুড়া শহর
নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ২০:২৮, নভেম্বর ২৪, ২০১৬
৩
বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ বগুড়ার মহাস্থানগড় সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেল। আজ সার্ক কালচারাল সেন্টারের ঢাকায় সফররত পরিচালক ওয়াসান্থে কোতুবেলার নেতৃত্বে সংস্থার একটি দল এ ঘোষণা চূড়ান্ত করে। আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের রাজধানী মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে মহাস্থান গড় সুমহান ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে সারা বিশ্ব আমাদের এই প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে জানবে। আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এর ফলে যেমন প্রসার পাবে, আবার এর মাধ্যমে পর্যটনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সাড়া মিলবে।’
২০১৫ সাল থেকে সার্ক কালচারাল সেন্টার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোনো একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলকে সার্কের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে আসছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর ইংরেজি নামের আদ্যক্ষরের ভিত্তিতে দেশগুলোর স্থান বেছে নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য আফগানিস্তানের বামিয়ানকে গত বছর সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। মহাস্থানগড়কে যে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হবে, তা গত বছরই জানানো হয়েছিল বলে জানান বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলতাফ হোসেন। ২০১৭ থেকে এক বছরের জন্য মহাস্থানগড় সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে থাকবে।
খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে মহাস্থানগড়ে মানববসতির চিহ্ন পাওয়া যায় বলে জানান এ অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্যের গবেষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। মহাস্থানগড়কে সার্কের রাজধানী হিসেবে বেছে নেওয়ার ঘোষণাকে সঠিক এবং তাৎপর্যপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সুফি মোস্তাফিজ বলেন, ‘কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এই সাংস্কৃতিক রাজধানীকে পর্যটন ও আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কাজে লাগাতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে।’
সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হওয়ার পর মহাস্থানগড়ে সারা বছর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। শুধু সেখানেই নয়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠান চলবে। এসব অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হবে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক সম্ভারকে।
১৮৭৯ সালে প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম। পুণ্ড্ররাজ্যের রাজধানী বর্তমানের রাজশাহী, দিনাজপুর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সুফি মোস্তাফিজ বলেন, পুণ্ড্র সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল বলে মনে করা হয়। তবে এর যথার্থ প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
বগুড়ায় আনন্দ মিছিল: বগুড়া প্রতিনিধি জানান, সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণা করায় বগুড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনন্দের বন্যা বইছে। ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরে আনন্দ মিছিল বের করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এতে সাংস্কৃতিক ও নাট্যকর্মী এবং সংগঠকেরা ছাড়াও নানা পেশাজীবীরা অংশ নেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন সন্ধ্যায় মুঠোফোনে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মহাস্থানগড়কে ঘিরে রয়েছে পুণ্ড্র সভ্যতার কয়েক শ বছরের ইতিহাস। সার্কের রাজধানী ঘোষণার ফলে মহাস্থানগড় বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দ্বার উন্মোচিত হলো। এর ফলে বগুড়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক লোক ঐতিহ্য বিশ্বজুড়ে তুলে ধরা সহজ হবে। বিশ্বের নানা দেশ থেকে পর্যটকের আনাগোনা বাড়বে। এতে শুধু বগুড়ার সংস্কৃতি বিকশিত হবে না, হোটেল-মোটেল ব্যবসা ও খাবারের হোটেল ব্যবসা, নকশিকাঁথা, হস্তশিল্পের বিকাশ ঘটবে। বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু দই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাবে। এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি চাঙা হবে।
কবি ও লেখক তোফাজ্জল হোসেন (শোয়েব শাহরিয়ার ) বলেন, ইতিহাসের দলিল অনুযায়ী মহাস্থানগড়ে প্রাচীন ১৬টি সভ্যতার বিবর্তন ঘটেছে। ভারতবর্ষের সবচেয়ে পুরোনো এই সভ্যতা এত দিন সুপ্ত ছিল। সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণার মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল এবং পুণ্ড্র নগরের প্রাচীন ইতিহাসের দ্বার উন্মোচিত হলো।
সার্ক কালচারাল সিটি ঘোষণায় আবেগাপ্লুত বগুড়া ইয়্যুথ কয়্যারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তৌফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘আশির দশকে ইয়্যুথ কয়্যারের মাধ্যমে বগুড়ার আঞ্চলিক গান দেশজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলেছিলাম। এখন সার্কের রাজধানী হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বগুড়ার সংস্কৃতি ও কৃষ্টি তুলে ধরা সহজ হবে।’
বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান বলেন, মহাস্থানগড়কে সার্কের রাজধানী ঘোষণা করায় শুধু সংস্কৃতিকর্মীরা নয়, বগুড়ার সর্বস্তরের মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সংস্কৃতিমন্ত্রীর প্রতি বগুড়াবাসী কৃতজ্ঞ। এর ফলে মহাস্থানকে ঘিরে ঘুমিয়ে থাকা কয়েক শ বছরের সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিকশিত হবে। বগুড়ার সংস্কৃতির বিশ্বজুড়ে পরিচিতি ঘটবে।
আমরা কজন শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি আবদুস সামাদ বলেন, মহাস্থানকে সার্কের রাজধানী ঘোষণায় বগুড়ার সংস্কৃতিতে প্রাণ ফিরে পেল। স্থানীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরার নতুন দিক উন্মোচিত হলো।
সাহিত্যিক বজলুল করিম বাহার বলেন, মহাস্থানগড়ের লুপ্ত সভ্যতা এত দিন ঘুমিয়ে ছিল। সার্ক কালচারাল সিটি ঘোষণায় নতুন সভ্যতা জেগে উঠবে। বগুড়ার আন্তর্জাতিক পরিচিত বাড়বে। বিদেশি পর্যটকের ভিড় বাড়বে। ভিনদেশের সঙ্গে বগুড়ার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, কৃষ্টি-কালচারের বিনিময় ঘটবে।
26/02/2016
আমরা বগুড়ার ছল পুটি মাছ ধরবার যায়ে, ধরে আনি বোল,,,,,,,,,,