01/09/2026
সংগ্রাম, ত্যাগ ও গণতন্ত্রের পথ পেরিয়ে বিএনপির ৪৮ বছর
জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান—বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপি
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ ৪৮ বছরের পথ পাড়ি দিয়ে আজ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ৪৯তম বছরে পদার্পণ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। নানা চড়াই-উতরাই, আন্দোলন-সংগ্রাম, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদল, কারাবরণ, মামলা, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং অসংখ্য নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দলটি আজ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তম বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দলটির নিজস্ব ইতিহাসেও বলা হয়েছে, একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শকে সামনে রেখে দলটির যাত্রা শুরু হয়।
৪৮ বছর পর সেই বিএনপিই এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
অর্থাৎ প্রতিষ্ঠার ৪৮তম বার্ষিকীতে বিএনপি এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের পর তাঁর সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া এবং পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বে তারেক রহমান—তিনটি অধ্যায় যেন একই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় এসে মিলিত হয়েছে।
শহীদ জিয়ার হাত ধরে প্রতিষ্ঠা
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও একদলীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। এই বাস্তবতায় বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্যের ধারণাকে সামনে রেখে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির আত্মপ্রকাশ ঘটে।
রামনা বটমূলে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বিএনপি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটির প্রতিষ্ঠার ঘোষণায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি, আত্মনির্ভরতা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার পাশাপাশি দলটি দ্রুত জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।
জিয়াউর রহমানের শাহাদাত এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক বিদ্রোহের সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকটে পড়ে।
এই কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেন বেগম খালেদা জিয়া।
শুরুতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না। কিন্তু সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে তিনি ধীরে ধীরে প্রধান বিরোধী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
১৯৮০-এর দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ আন্দোলন, হরতাল, অবরোধ, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন বিজয়ের পথে এগিয়ে যায়।
১৯৯১—বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় তাঁর সরকারের সময় সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়।
বিএনপির সমর্থকদের কাছে এটি ছিল শহীদ জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের রাজনৈতিক দর্শনের ধারাবাহিকতা।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। বেগম খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। এরপর রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আবারও বিজয়ী হয় এবং বেগম খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন।
তারেক রহমানের রাজনীতিতে আগমন
বিএনপির তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন তারেক রহমান।
দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বিএনপির তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেন। ধীরে ধীরে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের সময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা।
১/১১, গ্রেপ্তার ও লন্ডনযাত্রা
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হন।
তারেক রহমানও ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। দীর্ঘ সময় তিনি লন্ডনে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে এই সময়টি ছিল দলের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। একদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের কারাবরণ, অন্যদিকে মামলা, রাজনৈতিক চাপ এবং সাংগঠনিক সংকট—সবকিছু মিলিয়ে দলটি বড় ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়।
দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসেন বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজধানীতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
তাঁর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
কিন্তু দেশে ফেরার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই আসে দলের জন্য আরেকটি গভীর শোকের ঘটনা।
খালেদা জিয়ার বিদায়—একটি যুগের অবসান
২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
পরদিন ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সেই জানাজা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমের ঘটনা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হয়।
রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন না; তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের প্রতীক।
তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে একটি প্রজন্মের নেতৃত্বের অবসান হলেও তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এখন তারেক রহমানের হাতে।
গুম, হত্যা, মামলা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ
গত দেড় দশকের বেশি সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মামলা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন বলে দলটি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে।
বিএনপি ও মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগের মধ্যে ছিল গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ক্রসফায়ার, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক মামলার ব্যাপক ব্যবহার।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘদিনের আন্দোলনও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ‘মায়ের ডাক’-এর মতো প্ল্যাটফর্ম গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের একত্রিত করে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান, সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচারের দাবি সামনে নিয়ে আসে।
এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক দল নয়, গুমের শিকার পরিবারগুলোর মানবিক আকুতি এবং মানবাধিকারের প্রশ্নকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ৫ আগস্টের পরিবর্তন
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন এবং দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এক পর্যায়ে বিস্ফোরিত হয়।
৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আমূল পরিবর্তিত হয়।
এরপর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপিও সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়।
দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রাম শেষে বিএনপি তখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬—বিএনপির প্রত্যাবর্তন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির জন্য ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে ওঠে। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করে।
১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ পড়ান। একই দিনে নতুন মন্ত্রিসভাও শপথ নেয়।
প্রায় দুই দশক পর বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়।
একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেই তারেক রহমান এখন দেশের সরকারপ্রধান।
মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্ব
বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ২০২৬ সালে নতুন সাংবিধানিক দায়িত্বে আসীন হয়েছেন।
তিনি ২০ আগস্ট ২০২৬ সংসদ সদস্যদের ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ৮৮ ভোটের বিপরীতে জয়ী হন।
২১ আগস্ট বঙ্গভবনে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
ফলে বিএনপির ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে—দলের দীর্ঘদিনের মহাসচিব দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন।
বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিও তাঁর নেতৃত্বে ঘোষণা করা হয়েছে।
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি
বিএনপি ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
সকাল ৯টায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করবেন।
৫ সেপ্টেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
৪৮ বছরে বিএনপি: সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
বিএনপি আজ রাষ্ট্রক্ষমতায়। কিন্তু ক্ষমতায় আসা কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য শেষ গন্তব্য নয়; বরং এটি নতুন দায়িত্বের সূচনা।
বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনীতিকে গতিশীল করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।
দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতিতে থাকা বিএনপিকে এখন সরকার পরিচালনার কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আন্দোলনের রাজনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার রাজনীতি এক নয়। জনগণের ভোটে পাওয়া ম্যান্ডেটকে সফল রাষ্ট্র পরিচালনায় রূপান্তর করাই এখন বিএনপির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
জিয়া-খালেদা-তারেক—একটি রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা
বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসকে যদি তিনটি বড় অধ্যায়ে ভাগ করা হয়, তাহলে প্রথম অধ্যায় শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠার সময়; দ্বিতীয় অধ্যায় বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের আন্দোলন ও রাষ্ট্র পরিচালনা; আর তৃতীয় অধ্যায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের বিএনপি।
এই তিন নেতৃত্বের রাজনৈতিক পথ এক নয়, সময়ও এক নয়। কিন্তু বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বয়ানে তাঁদের মধ্যে একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে।
শহীদ জিয়াউর রহমান দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়া সেই দলকে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে টিকিয়ে রেখেছেন এবং একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে গেছেন।
তারেক রহমান দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর দেশে ফিরে সেই দলের নেতৃত্বে নির্বাচনী বিজয় অর্জন করে এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে।
শেষ কথা
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ৪৮ বছর কম সময় নয়। এই দীর্ঘ সময়ে বিএনপি কখনো ক্ষমতায় থেকেছে, কখনো বিরোধী দলে থেকেছে; কখনো আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে, কখনো নিজেই কঠিন রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে।
হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগ, অসংখ্য পরিবারের কান্না, কারাবরণ, মামলা, আন্দোলন এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটি আজকের অবস্থানে এসেছে—এটাই বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা।
আজ যখন বিএনপি ৪৮ বছরে পা রাখছে, তখন দলটির সামনে একই সঙ্গে আনন্দ, গৌরব ও দায়িত্বের সময়।
প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পর বিএনপি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই দলটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।
শহীদ জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্রের সংগ্রাম এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন—এই তিন ধারাকে সমন্বয় করে বিএনপি আগামী দিনে কীভাবে এগিয়ে যায়, সেটিই এখন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
৪৮ বছরের বিএনপি আজ শুধু অতীতের ইতিহাস স্মরণ করার দিন পালন করছে না; বরং আগামী বাংলাদেশের জন্য নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকার নতুন করে নির্ধারণের সময়ও এসেছে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি
মহাসচিব
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এনডিপি