ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পরিচিতি
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
ভূমিকাঃ
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালনার জন্য যুগে যুগে সত্য দীনসহ অগণিত নবী-রাসূল সা. প্রেরণ করেছেন। নবী-রাসূলগণ সা. হক-বাতিল, ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সফলতা-ব্যর্থতার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিধানপূর্বক শান্তি, কল্যাণ ও মুক্তির সঠিক পন্থা নির্ধারণ করে গেছেন। তাঁরা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ে
র প্রতিরোধের মাধ্যমে মানবজীবনকে সুন্দর , সফল, সার্থক ও শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় সমাসীন করেছেন। আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর পর এ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে উম্মতে মুহাম্মদী অর্থাৎ গোটা মুসরিম জাতির ওপর। এ দায়িত্ব মুসলমানরা যে যুগে যতটুকু পালন করেছেন সে যুগে ততটুকু শান্তি, কল্যাণ ও মুক্তি পেয়েছেন।
আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামের সুমহান আদর্শে দেশের শতকরা প্রায় ৯০ জন লোক বিশ্বাসী।ইসলামের প্রতি এদেশের মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও দরদ অত্যন্ত গভীর। জনগণ চায় ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হোক। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী, কায়েমী স্বার্থবাদী মহল, সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের এজেন্টদের বহুমুখী ষড়যন্ত্র ইসলামী আদর্শ কায়েমের পথে অন্তরায় হয়ে রয়েছে। একদিকে জনগণকে বার বার ধোকা দিয়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য শাসকগোষ্ঠী ইসলামের নাম ব্যবহার করে আসছে। অন্যদিকে ইসলামের উত্থানকে ঠেকানোর জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ফলে দেশে বিরাজ করছে অগণিত সমস্যা। এ সমস্যার কথা অনেকেই স্বীকার করেন এবং তা সমাধানে বার বার আন্দোলনও হয়েছে, কিন্তু সমস্যা রয়েই গেছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানেরর জন্য সর্বাগ্রে মূল কারণ চিহ্নি করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, যতক্ষণ পর্যন্ত নৈতিক আদর্শ বিবর্জিত সমাজ কাঠামোর পরিবর্তন ও দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের সর্বস্তরে যোগ্য, খোদাভীরু লোকের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত দেশের কোন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ সত্য উপলব্ধির প্রেক্ষিতে দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ওলামায়ে কিরাম, পীর-মাশায়েখ ও দীনদার বুদ্ধিজীবীগণের নেতৃত্বে ১৯৮৭ সালের ১৩ই মার্চ জালেম শাসকগোষ্ঠী ও শোষণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। যা গত ২০ নভেম্বর’০৮ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামে নিবন্ধন লাভ করে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ এর নিবন্ধন নং-০৩৪।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রচলিত কোন রাজনৈতিক দল নয়। দলাদলী ইসলাম সমর্থন করে না, কারণ দলীয় রাজনীতি সংকীর্ণতা, কোন্দল ও হানাহানি সৃষ্টির নামান্তর। দলীয় রাজনীতি মুসলিম উম্মাহর সংহতি ও ঐক্যকে বিনষ্ট করে উম্মাহকে শতধাবিভক্ত করে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বস্তুতঃ ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দল-মত নির্বিশেষে একটি সর্বজনীন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন। স্বাধীনতা আন্দোলন কিংবা ভাষা আন্দোলন যেমন কোন দলীয় আন্দোলন ছিল না, যা ছিল দু’টি ইস্যুকে সামনে রেখে দলমত নির্বিশেষে একটি সর্বজনীন আন্দোলন। অনুরূপ নিছক নেতা বা সরকার পরিবর্তন নয়, দেশে প্রচলিত মানবরচিত সকল অনৈসলামী নীতি এবং জাহেলী সমাজের সার্বিক পরিবর্তন সাধন করে ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই ইসলামী আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ৫২’র ভাষা আন্দোলন বা ’৭১ এর স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে ইসলামী আন্দোলনের কোনরূপ তুলনা করা হয়নি। কারণ ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সাথে অন্য কোন আন্দোলনের তুলনা করা আদৌ যুক্তিসঙ্গত নয়। এটা শুধুমাত্র আন্দোলনের ধরণ বুঝাবার জন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের মূল ইস্যু হচ্ছে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠা।
অতএব, যতদিন বাংলার জমিনে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠা না হবে ততদিন পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
উদ্দেশ্যঃ দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতের মুক্তি লাভের জন্য আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন।
লক্ষ্যঃ প্রচলিত জাহেলী সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করে ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে খেলাফতে রাশেদার নমুনায় বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা।
কর্মসূচিঃ
১. দাওয়াত: একটি সুখী সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জনসাধারণকে সচেতন করা এবং সর্বস্তরে ‘আমর বিল মা’রূফ ও নাহি আনিল মুনকার’ তথা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা চালাতে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা।
২. সংগঠন: আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে প্রতি আগ্রহী সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, দল ও ব্যক্তিদেরকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কাফেলায় সংঘবদ্ধ করা।
৩. জ্ঞানার্জন ও প্রশিক্ষণ: নৈতিকতাসমৃদ্ধ আলোকিত মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান প্রসারের পাশাপাশি প্রচলিত জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, কর্মমূখি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগণকে সুশিক্ষিত, দক্ষ ও আদর্শিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। সংঘবদ্ধ লোকদের আদর্শিক আধ্যাত্মিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক দিক থেকে ইসলামী সমাজ গঠনের যোগ্য সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলা।
৪. ঐক্য: ইসলামের সুমহান আদর্শের ভিত্তিতে গণমানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সংহতি সৃষ্টির চেষ্টা চালানো।
৫. শিক্ষা সংস্কার: জাতীয়ভাবে সর্বজনীন কল্যাণকে সামনে রেখে প্রচলিত মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষাকে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ে কর্মমূখি শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের চেষ্টা চালানো।
৬. খেদমতে খালক: খেদমতে খালক বা সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষের সেবা, জালিমের প্রতিরোধ এবং খেটে খাওয়া মজলুম মানুষের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা।
৭. সমাজ সংস্কার ও অর্থনৈতিক মুক্তি: সর্বস্তরে সুদ, ঘুষ দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি ইত্যকার সামাজিক ব্যাধি উচ্ছেদ করে গণবিপ্লবের মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ গঠন করা। অপরদিকে দারিদ্রের অভিশাপ থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে সম্পদের সর্বোত্ত ও সঠিক ব্যবহার, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং কৃষি বিপ্লবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের পাশাপাশি দুসভিত্তিক সমাজব্যবস্থা উৎখাত করে ইসলামের যাকাত ও হালাল ব্যবসার নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা।
৮. অপশক্তি-অপসংস্কৃতি প্রতিরোধ: জাহেলী অপশক্তি ও অপসংস্কৃতির সয়লাব রোধ করে সুস্থ্য ধারার সৃজনশীল ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর সক্রিয় প্রয়াস চালানো।
৯. অমুসলিম বা সংখ্যালঘুদের অধিকার: অমুসলিম বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জান-মাল, ইজ্জত-আবরুর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ সকল নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান।
১০. গণআন্দোলন: সমাজ ও রাষ্ট্রের অকল্যাণকামী ভোগবাদী ও খোদাদ্রোহী নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে খোদাভীরু দেশপ্রেমিক যোগ্য লোকের নেতৃত্বে ইসলামী আদর্শভিত্তিক একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনসাধারণকে অনুপ্রাণিত করে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা।
সাংগঠনিক কাঠামোঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাশে-এর কেন্দ্রীয় কাঠামোতে রয়েছে ঃ
ক. একজন আমীর
খ. মজলিসে সাদারাত (প্রেসিডিয়াম)
গ. মজলিসে শুরা (পরামর্শ পরিষদ)
ঘ. মজলিসে আমেলা (কার্যনির্বাহী পরিষদ)
সাংগঠনিক স্তরঃ
আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত লোকদের সাংগঠনিক মানে উন্নীত করার জন্য তিনটি স্তর রয়েছে: (ক) সদস্য (খ) কর্মী (গ) মুবাল্লিগ।
ক. সদস্য:
যিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাতে একমত হয়ে সদস্য ফরম পূরণ এবং সাপ্তাহিক বৈঠকসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করবেন তিনি আন্দোলনের একজন সদস্য বলে গণ্য হবেন।
খ. কর্মী:
যে সদস্য নিম্মলিখিত ছয়টি কাজ নিয়মিত আঞ্জাম দিবেন তিনি আন্দোলনের কর্মী বলে গণ্য হবেন।
১. নিয়িমিত সাপ্তাহিক, মাসিক বৈঠক ও সভা-সমাবেশে যোগদান।
২. নির্ধারিত হারে নিয়মিত মাসিক এনায়ত (চাঁদা) প্রদান।
৩. নিয়মিত কুরআন-হাদীস, বুজুর্গানেদীনের কিতাব, ইসলামী সাহিত্য ও সাংগঠনিক সিলেবাসভুক্ত বই অধ্যয়ন করা।
৪. নির্ধারিত ফরমে ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণ।
৫. তিন ছবকের বাস্তবায়ন (ক. দীন কায়েমের নিয়তে প্রতিদিন দু’রাকাত নামাজ আদায় খ. সাধ্যানুযায়ী আল্লাহর রাস্তায় দান করা,
গ. মাসে কমপক্ষে ৪ জনকে দাওয়াতের মাধ্যমে আন্দোলনের সদস্য করা।)
গ. মুবাল্লিগ:
উপরোক্ত পাঁচটি কাজ অব্যাহত রেখে যে কর্মী নিুলিখিত পাঁচটি গুণ অর্জন করবেন তিনি আন্দোলনের সর্বোচ্চ স্তরের অধিকারী অর্থাৎ মুবাল্লিগ হবেন।
১. ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার কাজকে জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বানানো অর্থাৎ সকল কাজের উপর আন্দোলনের কাজকে প্রাধান্য দান।
২. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উন্নতির-জন্য সার্বক্ষণিক চিন্তা-ফিকির করবেন।
৩. উত্তরোত্তর ইলম-আমল, জান-মাল ও সময়ের কুরবানী বৃদ্ধির চেষ্টা চালাবেন।
৪. সকল প্রকার প্রলোভন ও ভয়কে পরিহার করে আন্দোলেনর জন্য যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবেন।
৫. দশটি মৌলিক দোষ: যথা- কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা, মিথ্যা, কীনা, গীবত, কৃপনতা, রিয়া ও বড়াই বর্জন করা এবং দশটি মৌলিক গুণাবলী: যথা- ছবর, শোকর, ভক্তি একীন, ইলম, তওবা, খুলুছ ভয়, তাওয়াক্কুল ও মহব্বত অর্জন করা।
বাইতুল মালঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নীতিমালা অনুযায়ী সংগঠনের সর্বস্তরে বাইতুল মাল বা অর্থ তহবিল থাকবে। দায়িত্বশীল, সদস্য, কর্মী, মুবাল্লিগ, অধঃস্তন শাখাসমূহ, শুভাকাক্সক্ষী ও সহযোগি সংগঠনের নিয়মিত মাসিক এককালিন এয়ানত-ই (চাঁদা) এ আন্দোলনের আয়ের উৎস। প্রকাশ থাকে যে, নিরীক্ষা কমিটির মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের সার্বিক হিসাব নিরীক্ষা করা হয়।
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
১. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রচলিত কোন দলীয় রাজনীতি নয় বরং এটা দীন কায়েমের এক সর্বজনীন আন্দোলন যা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ ও রাসূল সা. নির্দেশিত এবং হযরত সাহাবায়ে কিরামের অনুসৃত পথে পরিচালিত।
২. হক্কানী ওলামা-পীর-মাশায়েখ ও দীনদার বুদ্ধিজীবীদের সমন্বিত নেতৃত্ব।
৩. পরামর্শের ভিত্তিতে (শুরা) সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
৪. দেশে বিরাজমান মতাদর্শগত (অর্থাৎ এদেশের মানুষ পুঁজিবাদী, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, চায় না ইসলামী আদর্শভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র চায়) সংকট নিরসনকল্পে গণভোট (রেফারেন্ডাম) ও মুসলিম জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রবক্তা।
৫. রূহানিয়াত ও জিহাদের সমন্বিত প্রয়াস।
৬. অপশক্তি (ঊারষভড়ৎপব), অপসংস্কৃতি (উবাবষরংয ঈঁষঃঁৎব) ও সকল প্রকার জুলুম-নির্যাতন প্রতিরোধে সোচ্চার কণ্ঠ।
৭. আদর্শ মানুষ গড়ার এক অনন্য সংগঠন।
৮. প্রচলিত ধারার রাজনীতি নয় বরং আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব পালনে একটি ঐক্যপ্রয়াসী শক্তি।
৯. ইসলামীবিরোধী নারী নেতৃত্বসহ সকর বাতিলের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থান।
১০. এই আন্দোলনের বিপ্লবী শ্লোগান-
“শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই”
অতএব, দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে উদাত্ত আহ্বান, আসুন দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদানের মাধ্যমে ঈমানী দায়িত্ব পালন করি এবং বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করার সর্বাত্মক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে উভয় জাহানের কামিয়াবী অর্জন করি।
কর্মী /মুবাল্লিগদের দৈনন্দিন আমলঃ
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়েতে আদায় ও তাহাজ্জুদের অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা।
২. প্রতিদিন ফজর ও মাগরিব নামাজের পর কিছু সময় জিকির, অযিফা, তেলাওয়াতে কুরআনসহ নফল ইবাদতের চেষ্টা করা।
৩. নিয়মিত কুরআন-হাদীস, মাসয়ালা-মাসায়েল,আল্লাহর অলীদের কিতাব, আন্দোলনের বই পুস্তক ও পত্র-পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করা।
৪. সাধ্য মোতাবেক চলতে-ফিরতে , ওঠতে-বসতে সর্বদা জিকরুল্লাহ ও দরুদ শরীফ জারী রাখা।
৫. দৈনিক সাধ্যানুযায়ী আন্দোলনের দাওয়াত দেয়া।
৬. দীন কায়েমের নিয়তে প্রতিদিন দু’রাকাত নামায (সালাতুল হাজত) আদায় করা।
৭. আল্লাহর পথে পরিমানে কম হলেও নিয়মিত দান করা ও জান-মাল কুরবানীর জন্য আল্লাহর দরবারে তাওফীক কামনা করা।
৮. প্রতিদিনের পারস্পরিক লেনদেন পরিস্কার রাখা এবং আচার-আচরণ সুন্দর হওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখা।
৯. প্রত্যহ কারো কোন উপকার করা।
১০. হালাল উপার্জন ও হারাম থেকে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করা।
১১. অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে আদায়ের চেষ্টা করা।
১২. রাতে ঘুমানোর পূর্বে সমস্ত দিনের কাজকর্মের এহতেসাব (আত্মসমালোচনা করে ভুল-ত্র“টির জন্য আল্লাহর দরবারে এস্তেগফার ও ভাল কাজের জন্য শুকরিয়া আদায় করা।
১৩. ঘুমানোর সময় অজু রেখে সুরায়ে ফাতেহা ও সুরায়ে এখলাসসহ দোয়া-দরুদ পড়ার অভ্যাস করা।
আল্লাহ্ আমাদের সকলকে দ্বীন কায়েমের পথে শহীদ অথবা গাজী হিসেবে কবুল করুন-আমীন।
Website: www.islamiandolanbd.org
Email: [email protected]
Facebook: www.facebook.com/iab87
Twitter: www.twitter.com/islamiandolanbd
Youtube: www.youtube.com/islamiandolanbd
02/06/2026
সীমান্তে ভারত কর্তৃক মানুষ পুশইন করার মতো বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিতে হবে
-মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বিএসএফ কর্তৃক ১৩ জনকে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে বলেছেন,যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ অন্তত ১৩ জনকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে সীমান্তের সাদিপুর গ্রামের বোম্বে তলা এলাকার শূন্যরেখায় কাঁটাতারের বেড়ার কাছে ১০০-১১০ জন জড়ো করেছে। যা সকল বিবেচনাতেই আন্তর্জাতিক নিয়ম উপেক্ষা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এর প্রতিবাদে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিতে আহবান করছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা শুরু করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছে।
আজ ২ জুন, মঙ্গলবার দেয়া এক বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই মন্তব্য করেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' (SIR) প্রক্রিয়ার অধীনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ (৯ মিলিয়ন) ভোটারের নাম বাতিল বা বাদ দেওয়া এবং ভারতের সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএসএ) বা নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইনের ঘটনাকে আমরা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দেখছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে এর প্রতিক্রিয়া আমাদের ওপরেও এসে পড়ছে। ফলে এটা এখন আর ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয় নাই। এটা এখন আন্তর্জাতিক বিষয়। আমরা রোহিঙ্গা সংকটের মতো আর কোন সংকটে পড়তে চাই না। আজকে ১০-১২ জন পুশইন করছে বলে বিষয়টাকে ছোট দেখার সুযোগ নাই। পশ্চিমবঙ্গের সরকার ৯০ লাখ মানুষকেই বিতরিত করতে চাইছে। তাই সরকারকে বলবো, এর বিরুদ্ধে দ্রুত ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব বলেন, যদি বাংলাদেশের কোন নাগরিক ভারতে অবৈধভাবে থেকে থাকে তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঠালে আমরা গ্রহণ করব। কিন্তু অবৈধভাবে ঠেলে দেয়া আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি বহির্ভুত এবং অমানবিক। বাংলাদেশ তা বরদাস্ত করবে না।
বার্তা প্রেরক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
01/06/2026
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ওমান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা সাবের আহমেদ-র স্ত্রী মুছাম্মদ উম্মে রোমান সিদ্দিকা (৪৭) আজ ১ জুন সকাল ৮ ঘটিকায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না-লিল্লাহ ও ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, তিন মেয়ে ও অসংখ্য গুনাগ্রহী রেখে গেছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মরহুমার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
01/06/2026
বিশ্ববাজারের সাথে তাল না মিলিয়ে দেশের মানুষের সামর্থ্য বিবেচনায় জ্বালানির দাম সমন্বয় করুন
-মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, বিশ্ববাজারের সাথে সমন্বয়ের কথা বলে জ্বালানির দাম আবারও বাড়ানোর নিন্দা জানাচ্ছি এবং বিশ্ববাজার নয়, বরং দেশের মানুষের সামর্থ্য চিন্তা করে জ্বালানির দাম সমন্বয় করার আহ্বান জানাচ্ছি।
৩১ মে রাত ১২টা থেকে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম ৫ টাকা করে বাড়ানোর প্রেক্ষিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র আজ ১ জুন, মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই নিন্দা ও আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, জ্বালানির দাম ওঠানামা করে। কিন্তু দেশে জ্বালানির দাম কেবলই বাড়ে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় দ্রব্যমূল্যও কেবলই বৃদ্ধি পায়। কখনোই জ্বালানির দাম কমতে দেখা যায় না এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধিজনিত কারণে বেড়ে যাওয়া দ্রব্যমূল্যকেও কখনো কমতে দেখা যায় না। জ্বালানির ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারের সাথে সমন্বয়ের কথা বলে জনতাকে কেবলই ঊর্ধ্বমুখী চাপে ফেলা হয়। সরকারের এমন গণবিরোধী আচরণের পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাপন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। নতুন সরকার আসার পরে মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। সেই আশার গুড়ে সরকার নিয়মিত বালি ছিটিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক চাপসহ নানামুখী সমস্যা মোকাবিলা করার জন্যই সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার যদি সব চাপ জনতার ওপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে সরকারের অপরিহার্যতা-সম্পর্কিত ধারণা দুর্বল হয়। তাই সরকারকে আবারও বলব, মানুষের আর্থিক বোঝা লাঘব করুন।
বার্তা প্রেরক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
29/05/2026
বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ভারত সীমান্তে ভিড় উদ্বেগজনক
-মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসে বিভৎসভাবে ধর্মবিদ্বেষ ছড়িয়েছে। রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লাগিয়েছে, সামাজিকভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উস্কে দিয়েছে। গোটা পশ্চিমবাংলাকে মুসলমানদের জন্য অগ্নিগর্ভে পরিনত করেছে। তারই ফলশ্রুতিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তে নিপীড়িত মানুষের ভিড় বেড়েছে, তারা ভারত ছাড়তে চায়। সভ্যতার উৎকর্ষের যুগে এই জাতিগত বিদ্বেষ ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানাচ্ছি।
আজ ২৯ মে, শুক্রবার এক বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, পশ্চিমবাংলার সাথে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত একদেশ সম্পর্ক ছিলো। ৪৭ এর সীমানার পরে উভয় দিকেই এমন বহু মানুষ পাওয়া যাবে যাদের অন্যপাশের ইতিহাস আছে। এটা দেশভাগের অপরিহার্য বাস্তবতা। এখন বাংলাদেশে ঠিকানা ছিলো এই অজুহাতে মানুষকে বাস্তচ্যুত করা আইনসিদ্ধ নয়, একই সাথে তা অমানবিক।
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার তাই করছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে বলবো, বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনায় আনতে হবে। কারো রাজনৈতিক অভিলাষের শিকার আমরা হতে পারি না। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই অন্তহীন সমস্যায় আছে। নতুন করে উদ্ভাস্তু নেয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের নাই। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা তুলতে হবে এবং মানুষকে বাস্তচ্যুত করার অমানবিকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বার্তা প্রেরক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
29/05/2026
ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থীর গোস্ত বিতরণ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ ঈদুল আজহা গতকাল ঈদের ১ম দিন ও আজকে ঈদের ২য় দিন ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কোরবানী দিতে না পারা মানুষদের মাঝে কোরবানীর গোস্ত বিতরণ করেছেন।
গতকাল ঈদের প্রথম দিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুগদা থানা সংলগ্ন স্থানে, হাজারীবাগ শাহী মসজিদ এলাকা, খিলগাঁও গোড়ান এলাকায় গোস্ত বিতরণ করেছেন। আজকে ঈদের ২য় দিন ওয়ারিতে গোস্ত বিতরন করেন।
গোস্ত বিতরনকালে শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, একটু সমন্বয় করলে এবং সমন্বিত উদ্যোগ নিলে যারা কোরবানী করেন নাই তাদের সকলের কাছে সন্মান ও বিনয়ের সাথে গোস্ত পৌছানো যায়। আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিজন নাগরিকের কাছে সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় গোস্ত পৌছানো হবে ইনশাআল্লাহ।
বার্তা প্রেরক
কেএম শরীয়াতুল্লাহ
প্রধান সমন্বয়ক
কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
29/05/2026
সুবিধাবঞ্চিত নগরবাসীর মাঝে পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওতাধীন মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর উত্তর, মিরপুর ও উত্তরা পশ্চিম থানা শাখার উদ্যোগে কোরবানির গোশত বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ নুরুল ইসলাম নাঈম, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ মুরাদ হোসেন, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানসহ থানা শাখার দায়িত্বশীলবৃন্দ।
27/05/2026
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসে অবস্থানরত সকলের উদ্দেশ্যে ঈদ শুভেচ্ছা বার্তা
মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীরসাহেব চরমোনাই)
আমীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
27/05/2026
শরীয়াহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের প্রতিজ্ঞায় উদ্ভাসিত হোক ঈদুল আজহা
-পীর সাহেব চরমোনাই
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে বলেছেন, হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম নিজের পুত্রকে কোরবানী করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ঈদুল আজহার মূলবার্তা হলো মহান আল্লাহর নির্দেশনার সামনে নিজের সবকিছুকে কোরবানী করা, উৎসর্গ করা বা ত্যাগ করা।
আমাদের জীবন যাপনের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ-র ইচ্ছা শরীয়াহ আকারে হাজির আছে। নিজের বুঝ, স্বার্থ ও চিন্তাকে কোরবানী দিয়ে এই শরীয়াহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের প্রতিজ্ঞাই হবে ঈদুল আজহার স্বার্থকতা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর আজ ২৭ মে, বুধবার এক বিবৃতিতে এই শুভেচ্ছা বার্তা দেন। তিনি বলেন, ঈদের ঘরমুখো এবং ঢাকা ফেরত মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সরকারের প্রচেষ্টাকে আরো নিবিড় করতে হবে। ঢাকায় এবং দেশের সর্বত্র নিরাপত্তায় মনোযোগী হতে হবে। যারা কোরবানী দিচ্ছেন তারা গরীব এবং কোরবানী দিতে না পারা আত্মীয় ও প্রতিবেশিদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে। ঈদ একটি ইবাদত। এই ইবাদতের দিনে কোন গুনাহের কাজ যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর প্রশাসন বিশেষ করে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবাই ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত কিন্তু আপনারা মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছেন। আপনাদের এই পরিশ্রমের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা রইলো।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আল্লাহ সকলের কোরবানীকে কবুল করুন। সকলকে নিরাপদে রাখুন এই প্রত্যাশা ও কামনা করছি।
বার্তা সম্পাদক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
27/05/2026
দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত সবাইকে পবিত্র ঈদ উল আজহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।
26/05/2026
ঈদে ঘরমুখো মানুষের হয়রানী রোধে সরকারের কার্যক্রম আরো দৃশ্যমান হতে হবে
-অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমদ আজ ২৬ মে, মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ঢাকা কেন্দ্রীক অর্থনৈতিক বিকাশ, পারিবারিক বন্ধন, আত্মীয়তার টান ও সাংস্কৃতিক কারণে ঈদে লাখো মানুষ ঘরমুখো হয়। মানুষের এই ঘরমুখো হওয়া আমাদের স্যোশাল ক্যাপিটাল বা সামাজিক পুজিকে সমৃদ্ধ করে, একই সাথে আর্থিকখাতেও তারল্যের প্রবাহও বৃদ্ধি করেন। কিন্তু ঈদে মানুষের ঘরে-ফেরা নিয়ে সরকারের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতা দেখে মনে হয় মানুষ কোন অপরাধ করছে। প্রতিবছর দুর্ঘটনা, বাড়তি ভাড়া আদায়, যানজট ও বিশৃংখলা যেনো আমাদের ঈদের সংস্কৃতিতে পরিনত হয়েছে। গতকালও মার্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৫ জন মানুষ মারা গেছে। রাস্তায় তিন থেকে চারগুন ভাড়া বেশি আদায় করা হচ্ছে। মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকেও বাড়তি ভাড়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত বাসে উঠতে পারছে না। এহেন বাস্তবতায় সরকার কি উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানি না, কিন্তু জনগণের হয়রানী ও দুর্ভোগ দুর হয় নাই। আমরা সরকারকে বলবো, ঈদে ঘরমুখো মানুষের হয়রানী ও দুর্ভোগ লাঘব করতে প্রশাসনের কার্যক্রম আরো দৃশ্যমান করুন। পরিবহন খাতের মালিকদের স্বার্থ না দেখে জনগনের স্বার্থ দেখুন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, বিশেষ করে পোশাকখাতে শ্রমিকদের দুর্ভোগ বহুমাত্রিক। তাদের বেতন-বোনাস কম, সকলে একসাথে ছুটি পায়, অনেকে আবার বেতন-বোনাসও পায় না, কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার সময় তাদেরকে ভাড়া গুনতে হয় দুই থেকে তিনগুন। তারা যে টাকা পায় তা রাস্তাতেই খরচ হয়ে যায়। টাকা বাঁচাতে অনেকেই অপ্রচলিত যাতায়াত পদ্ধতি বেছে নেয় যা আবার দুর্ঘটনার কারণ হয়। সামগ্রিকভাবে ঈদযাত্রা একটি বহুমাত্রিক অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার প্রতিকে পরিনত হয়েছে যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। আমরা সরকারকে বলবো, পরিবহনখাতে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করুন। আর ঈদযাত্রাকে সহজ ও আনন্দময় করতে প্রশাসনিক উদ্যোগকে আরো দৃশ্যমান ও কঠোর করুন।
বার্তা সম্পাদক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ