কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগ

কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগ

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগ, Political organisation, বড়গ্রাম, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা-১২১১, Dhaka.

18/04/2026

ফাঁস হওয়া নথিতে চাঞ্চল্যকর দাবি
মার্কিন কূটনীতিকের বাসায় সরকার পতনের ছক, ভেতরের খবর রাখতেন নাঈমুল ইসলাম খান

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :

কোয়াডে যোগ না দেওয়া এবং চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরে শেখ হাসিনার সরকার পতনের দীর্ঘমেয়াদি ছক কষেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কূটনীতিক হেলেন লা-ফেইভের বাসভবন ও নেপালের রিসোর্টে একাধিক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের ভেতরের খবর রাখার জন্য নাঈমুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও সুশীল সমাজের কয়েকজনের যুক্ত থাকার দাবি।

আজকের কন্ঠ ডেস্ক,

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের নেপথ্যে কাজ করেছে দীর্ঘমেয়াদি এক ‘বেসামরিক-সামরিক’ (সিভিল-মিলিটারি) ছক। আর এই পরিকল্পনার বীজ বোনা হয়েছিল খোদ মার্কিন কূটনীতিকের বাসভবন ও নেপালের একটি রিসোর্টে। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ‘কোয়াড’ (QUAD) জোটে যোগ দিতে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের অস্বীকৃতি এবং চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই এই পটপরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে সম্প্রতি ফাঁস হওয়া কিছু নথিতে দাবি করা হয়েছে।

ফাঁস হওয়া এসব নথির তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ঘন ঘন ঢাকা সফরের প্রধান লক্ষ্যই ছিল এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের নীলনকশা বাস্তবায়ন।

গোপন বৈঠক ও অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা
নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭-০৮ সালের অসমাপ্ত ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অনুগত অরাজনৈতিক সরকার গঠনের পরিকল্পনা করা হয়। ২০২৩ সালে ঢাকায় তৎকালীন মার্কিন কূটনীতিক হেলেন লা-ফেইভের বাসভবনে এবং নেপালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মনিকা চৌধুরীর মালিকানাধীন একটি রিসোর্টে একাধিক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকগুলোতে হেলেন লা-ফেইভ ও তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ছাড়াও অনেক বাংলাদেশি নাগরিক উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। পিটার হাস ও ডোনাল্ড লু মূলত বাংলাদেশের সামরিক ও বেসামরিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে মিলে এই সরকার পরিবর্তনের সমন্বয় করেন।

বয়ান তৈরি ও নাঈমুল ইসলাম খানের ভূমিকা
সরকার পরিবর্তনের এই ছকে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের একটি অংশকে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ডোনাল্ড লুর নির্দেশনায় রাষ্ট্রদূত পিটার হাস যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শিক্ষাবিদ আলী রীয়াজকে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে জনমত গঠনের দায়িত্ব দেন। এমনকি শেখ হাসিনা সরকারের ভেতরের খবর রাখার জন্য নাঈমুল ইসলাম খানকে প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। নথিতে দাবি করা হয়, সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও অভ্যন্তরীণ তথ্যগুলো নির্দিষ্ট মহলে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন তিনি।

পাশাপাশি ‘গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’–এর অভিযোগ প্রচারে কাজ করে আদিলুর রহমান শুভ্রর ‘অধিকার’ এবং সানজিদা তুলির ‘মায়ের ডাক’। অন্যদিকে, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং ফরহাদ মজহারের মতো ব্যক্তিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক, বামপন্থী ও ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী এবং ‘রাষ্ট্র সংস্কার’–এর আকর্ষণীয় ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেন।

ভূরাজনীতি ও কৌশলগত দ্বন্দ্ব
বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে সরে গেলে শেখ হাসিনা চীনের দ্বারস্থ হন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে যথাক্রমে রাশিয়া ও জাপানের সহায়তা নেন। যুক্তরাষ্ট্র এর বিপরীতে তাদের চীনবিরোধী নিরাপত্তাবলয় ‘কোয়াড’–এ যুক্ত হতে চাপ দিলে শেখ হাসিনা ‘আঞ্চলিক ভারসাম্য’–এর কথা বলে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলে রোহিঙ্গা সংকটের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে একটি ‘খ্রিষ্টান-ইহুদি’ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করেছে। ভারত, মিয়ানমারের রাখাইন ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ তকমা দিয়ে আন্তর্জাতিক একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, যার সঙ্গে সাবেক কয়েকজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তাও জড়িত ছিলেন।

সামরিক-বেসামরিক যোগসূত্র ও ড. খলিলুর রহমান
২০০১ সালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমান এই পটপরিবর্তনে অন্যতম প্রধান কুশীলব ছিলেন। ড. ইউনূসের সহায়তায় জাতিসংঘে প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপ স্টেট’, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন এবং জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

জানা যায়, রামুর সেনানিবাসে জাতিসংঘের মানবিক করিডোর ও শান্তিরক্ষী ঘাঁটি স্থাপনের জন্য ড. ইউনূস ও ড. খলিলুর রহমান উদ্যোগ নিলেও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাতে ঘোর আপত্তি জানান। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করা যাবে না এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত কেবল নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের এখতিয়ার।

বর্তমান পরিস্থিতি ও মার্কিন দূতের সাক্ষাৎ
নথিতে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের (২০২৬ সাল) চিত্রও উঠে এসেছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং ড. খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ১৩ এপ্রিল (২০২৬) বাংলাদেশে নিযুক্ত বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার এক দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং ইলিশ মাছ খাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগির ফের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নজর দেবে এবং বাংলাদেশকে সামরিক চুক্তি আকসা (ACSA) ও জিসোমিয়া (GSOMIA)–তে সই করার জন্য চাপ প্রয়োগ করবে।

#বাংলাদেশ #ইউনুস

18/04/2026

চারপাশের ‘চট্টগ্রাম বলয়’ ও গোয়েন্দা নির্ভরতাই কাল হয়েছিল শেখ হাসিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আকস্মিক পতনের নেপথ্যে কাজ করেছে তাঁর চারপাশের একটি শক্তিশালী ‘চট্টগ্রাম বলয়’ এবং শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওপর তাঁর অন্ধ নির্ভরতা। শীর্ষ কর্মকর্তারা অত্যন্ত ‘সূক্ষ্ম কৌশলে’ তাঁকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে পুরোপুরি নিজেদের ওপর নির্ভরশীল করে তোলেন এবং চূড়ান্ত মুহূর্তে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজ’-এ সাংবাদিক এনায়েত কবিরের লেখা ‘বাংলাদেশের মুখোশ উন্মোচন পর্ব ৭’ শীর্ষক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এসব দাবি করা হয়েছে।

সর্বনাশা ‘চট্টগ্রাম বলয়’ ও গোয়েন্দা নির্ভরতা
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার সুযোগ থাকলেও শেখ রেহানা ও সালমান এফ রহমানের প্ররোচনায় সেনাপ্রধান, ডিজিএফআই ও এনএসআই প্রধানদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করেন হাসিনা। নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁর চারপাশে একটি শক্তিশালী ‘চট্টগ্রাম বলয়’ গড়ে উঠেছিল। এই বলয়ের মূল কুশীলব ছিলেন:

প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ কায়কোবাদ

এনএসআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোর্শেদ

ডিজিএফআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল হামিদুল হক
এ ছাড়া সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবির আহমেদ এবং প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খানও এই বলয়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। রাজনৈতিক নেতাদের বদলে এই কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করাই ছিল শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল।

৬ সমন্বয়ক আটকে রাখা ছিল ‘আত্মঘাতী ফাঁদ’
নর্থইস্ট নিউজের দাবি অনুযায়ী, ১৬ জুলাই থেকেই ডিজিএফআই ও এনএসআই মূলত সরকারের বিপক্ষে কাজ শুরু করে এবং আন্দোলনকে সশস্ত্র সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়। ডিবি কার্যালয়ে ৬ জন ছাত্রনেতাকে (সমন্বয়ক) আটকে রেখে জোরপূর্বক আন্দোলন প্রত্যাহারের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করানোর ঘটনাটি ছিল গোয়েন্দাদের পাতা আত্মঘাতী ফাঁদ, যা সরকারের পতন ত্বরান্বিত করে।

গণভবনে হত্যার ছক ও ‘যুদ্ধপরিস্থিতি’ তৈরির পরিকল্পনা
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি হলো, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে গণভবনে ক্ষুব্ধ জনতার ভিড়ে হত্যার জন্য ফেলে রাখার একটি ছক কষা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশে একটি ‘যুদ্ধপরিস্থিতি’ তৈরি করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের হস্তক্ষেপের বৈধতা আদায় করা। কিন্তু ভারতের এক শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার সময়োচিত হস্তক্ষেপে সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

যেভাবে চূড়ান্ত হয় পতনের ক্ষণ
৫ আগস্ট দুপুরে আর্টিলারি ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার রফিকের নির্দেশে উত্তরা এলাকার ‘কারফিউর ব্যারিকেড’ হঠাৎ তুলে নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ঢাকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয় এবং সরকারের পতন নিশ্চিত হয়।

টুঙ্গিপাড়ার কথা বলে নেওয়া হয় বিমান ঘাঁটিতে
শেখ হাসিনা নিজেও সম্প্রতি দাবি করেছেন, ৫ আগস্ট তিনি ভেবেছিলেন নিরাপত্তার কারণে তাঁকে টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) পাহারায় তাঁকে কুর্মিটোলার বাশার ঘাঁটিতে নেওয়ার পরই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে এবং ক্ষমতা আর তাঁর হাতে নেই।

দেশত্যাগে ভারতীয় সেনাপ্রধানের ভূমিকা
৫ আগস্ট সকালেই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর কাছ থেকে সামরিক বিমানের ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের পূর্বানুমতি নিয়ে রেখেছিলেন। দেশ ছাড়তে হাসিনা রাজি না থাকলেও ভারতীয় কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তাঁকে ও শেখ রেহানাকে দ্রুত দিল্লিতে পাঠানো হয়।

জাতিসংঘের বিতর্কিত প্রস্তাব
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জাতিসংঘের তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধি গুইন লুইস হাসিনাকে ঘিরে রাখা ওই শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তিনি রামু সেনানিবাসকে স্থায়ী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ঘাঁটিতে রূপান্তর এবং রাখাইন অঞ্চলে একটি সামরিক করিডোর তৈরির বিতর্কিত প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।

পতন-পরবর্তী সামরিক বাহিনীর ‘বাছাইকৃত’ ভূমিকা
সরকার পতনের পর সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নর্থইস্ট নিউজ। আইএসপিআর সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৭ জনের তালিকা প্রকাশ করলেও সেখানে বৈষম্য ছিল। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের মতো অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে যশোর সেনানিবাসের নিরাপদ রুট ব্যবহার করে ভারতে পালাতে সহায়তা করা হয়। ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন তাঁকে সহায়তা করেন।

প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়, এই পটপরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ফলাফল ছিল জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পুনর্বাসন। সেনাবাহিনী বিচার বিভাগকে রক্ষা না করে কেবল রাষ্ট্রপতির সুরক্ষায় মনোযোগ দেওয়ায় পুরো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অরাজক পরিস্থিতির মুখে পড়ে।

#বাংলাদেশ

18/04/2026

উত্তরার ব্যারিকেড সরানোই ছিল পতনের চূড়ান্ত সংকেত, বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হাসিনা!

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-

সামরিক বাহিনীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করাই ছিল শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় ভুল।

উত্তরায় ‘কারফিউর ব্যারিকেড’ তুলে নেওয়ার নির্দেশই ছিল সরকারের পতনের চূড়ান্ত সংকেত।

৫ আগস্ট গণভবনে যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরির ছক ভেস্তে যায় ভারতীয় কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে।

ছয় সমন্বয়ককে আটকে রাখার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত পতনকে ত্বরান্বিত করে।

সরকার পতনের পর সামরিক বাহিনীর ‘বাছাইকৃত নিষ্ক্রিয়তায়’ বাড়ে অরাজকতা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬

গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি ‘সূক্ষ্ম কৌশলের’ মাধ্যমে প্রথমে নিজেদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল করে তুলেছিলেন শীর্ষ সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এরপর তাঁকে একটি ‘বেষ্টনীর’ মধ্যে ফেলে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজ’-এ সাংবাদিক এনায়েত কবিরের লেখা ‘বাংলাদেশের মুখোশ উন্মোচন: পর্ব ৭’ (আনমাস্কিং বাংলাদেশ) শীর্ষক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার সুযোগ থাকলেও, সামরিক বাহিনীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করাই ছিল শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই ভুলের মাশুল দিয়েই তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়।

যেভাবে চূড়ান্ত হয় পতনের ক্ষণ

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ৫ আগস্ট বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গন্তব্য নিয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) কর্মকর্তাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তবে ক্ষমতা ছাড়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগেই হাসিনা বুঝে গিয়েছিলেন যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তিনি জানতে পারেন, আর্টিলারি ডিভিশনের তৎকালীন কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার রফিকের নির্দেশে উত্তরা এলাকার প্রবেশমুখে বসানো ‘কারফিউর ব্যারিকেড’ হঠাৎ তুলে নেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় উত্তরায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা মাইকে ঘোষণা করতে শুরু করেন, “কোনো কারফিউ নেই, আপনারা ঢাকার দিকে যেতে পারেন।” মূলত এই ব্যারিকেড সরানোর মধ্য দিয়েই ঢাকায় জনস্রোত ঢোকার পথ উন্মুক্ত হয় এবং সরকারের পতন নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর ঢাকা সেনানিবাস থেকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা আসে, যা ছিল সরকার পরিবর্তনের একটি পরিষ্কার ইঙ্গিত।

দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট ও ভারতীয় সংযোগ
নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে মূলত দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সম্প্রতি এক বার্তায় শেখ হাসিনা নিজেও দাবি করেছেন, তিনি ভেবেছিলেন নিরাপত্তার কারণে তাঁকে টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কুর্মিটোলার বাশার ঘাঁটিতে পৌঁছে তিনি বুঝতে পারেন, ক্ষমতা আর তাঁর হাতে নেই।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৫ আগস্ট সকালেই জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে কথা বলেন এবং বাংলাদেশি সামরিক বিমানের ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি নিয়ে রাখেন। দেশ ছাড়ার বিষয়ে শেখ হাসিনা অনিচ্ছুক থাকলেও, ভারতের এক শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার সময়োচিত হস্তক্ষেপে তাঁকে এবং তাঁর বোন শেখ রেহানাকে সামরিক বিমানে করে দিল্লিতে নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলা হয়, ৫ আগস্ট গণভবনে ভিড়ের মাধ্যমে হাসিনাকে হত্যা করে দেশে একটি ‘যুদ্ধপরিস্থিতি’ তৈরির পরিকল্পনা ছিল, যাতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের হস্তক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়া যায়। কিন্তু ভারতীয় ওই কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

হাসিনাকে ঘিরে ‘চট্টগ্রাম বলয়’ ও সামরিক নির্ভরতা

আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা রাজনৈতিকভাবে তা সমাধানের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ রেহানা ও সালমান এফ রহমানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান, ডিজিএফআই ও এনএসআই প্রধানরা হাসিনাকে ‘সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল’ হতে রাজি করান।

নর্থইস্ট নিউজ বলছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর শেখ হাসিনাকে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল করে তোলা হয়। তাঁর চারপাশে একটি ‘চট্টগ্রাম বলয়’ গড়ে উঠেছিল। প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিসেবে মোহাম্মদ কায়কোবাদ, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোর্শেদ এবং ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে মেজর জেনারেল হামিদুল হককে নিয়োগ দেওয়া হয়। সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবির আহমেদ এবং প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খানও এই বলয়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া জাতিসংঘের তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধি গুইন লুইস এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তিনি রামু সেনানিবাসকে স্থায়ী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ঘাঁটিতে রূপান্তর ও রাখাইন অঞ্চলে একটি সামরিক করিডোর তৈরির বিতর্কিত প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা ও ‘৬ সমন্বয়ক’

নর্থইস্ট নিউজের দাবি, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকেই ডিজিএফআই ও এনএসআই সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং আন্দোলনকে সশস্ত্র সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়। ৬ জন ছাত্রনেতাকে (সমন্বয়ক) আটকে রেখে জোরপূর্বক আন্দোলন প্রত্যাহারের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করানোর ঘটনাটি ছিল আত্মঘাতী। এটি সরকারের পতনে বড় ভূমিকা রাখে। তবে এই বুদ্ধি কে দিয়েছিল, তা জানা যায়নি।

পতনের পরের বিশৃঙ্খলা ও বাছাইকৃত নিরাপত্তা

শেখ হাসিনার আকস্মিক প্রস্থানে সরকারের অনেক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা বিপাকে পড়েন। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অরাজক শক্তির হাতে চলে যায়। বিচারকদের জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। সামরিক বাহিনীর ‘ইচ্ছাকৃত ও বাছাই করা নিষ্ক্রিয়তা’ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার পতনের পর আইএসপিআর বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৭ জনের তালিকা প্রকাশ করে। তবে অনেককে নিরাপত্তা দিয়ে দেশ ছাড়তে সহায়তা করা হলেও, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের মতো অনেককে সেনানিবাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যশোর সেনানিবাসের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন তাঁকে সহায়তা করতে দেশে ফিরেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়, সরকার পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ফলাফল ছিল জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পুনর্বাসন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কিছু সেনানিবাসে নিষিদ্ধ জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে প্রশাসন ও রাজনীতিতে তাদের প্রভাব বাড়তে থাকে। সেনাবাহিনী বিচার বিভাগকে রক্ষা না করে, কেবল রাষ্ট্রপতির সুরক্ষায় মনোযোগ দিয়েছিল বলেও এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

#বাংলাদেশ #রাজনীতি

18/04/2026

🥹

18/04/2026
18/04/2026

চারপাশের ‘চট্টগ্রাম বলয়’ ও গোয়েন্দা নির্ভরতাই কাল হয়েছিল শেখ হাসিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আকস্মিক পতনের নেপথ্যে কাজ করেছে তাঁর চারপাশের একটি শক্তিশালী ‘চট্টগ্রাম বলয়’ এবং শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওপর তাঁর অন্ধ নির্ভরতা। শীর্ষ কর্মকর্তারা অত্যন্ত ‘সূক্ষ্ম কৌশলে’ তাঁকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে পুরোপুরি নিজেদের ওপর নির্ভরশীল করে তোলেন এবং চূড়ান্ত মুহূর্তে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নর্থইস্ট নিউজ’-এ সাংবাদিক এনায়েত কবিরের লেখা ‘বাংলাদেশের মুখোশ উন্মোচন পর্ব ৭’ শীর্ষক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এসব দাবি করা হয়েছে।

সর্বনাশা ‘চট্টগ্রাম বলয়’ ও গোয়েন্দা নির্ভরতা
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার সুযোগ থাকলেও শেখ রেহানা ও সালমান এফ রহমানের প্ররোচনায় সেনাপ্রধান, ডিজিএফআই ও এনএসআই প্রধানদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করেন হাসিনা। নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁর চারপাশে একটি শক্তিশালী ‘চট্টগ্রাম বলয়’ গড়ে উঠেছিল। এই বলয়ের মূল কুশীলব ছিলেন:

প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ কায়কোবাদ

এনএসআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোর্শেদ

ডিজিএফআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল হামিদুল হক
এ ছাড়া সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবির আহমেদ এবং প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খানও এই বলয়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। রাজনৈতিক নেতাদের বদলে এই কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করাই ছিল শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল।

৬ সমন্বয়ক আটকে রাখা ছিল ‘আত্মঘাতী ফাঁদ’
নর্থইস্ট নিউজের দাবি অনুযায়ী, ১৬ জুলাই থেকেই ডিজিএফআই ও এনএসআই মূলত সরকারের বিপক্ষে কাজ শুরু করে এবং আন্দোলনকে সশস্ত্র সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়। ডিবি কার্যালয়ে ৬ জন ছাত্রনেতাকে (সমন্বয়ক) আটকে রেখে জোরপূর্বক আন্দোলন প্রত্যাহারের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করানোর ঘটনাটি ছিল গোয়েন্দাদের পাতা আত্মঘাতী ফাঁদ, যা সরকারের পতন ত্বরান্বিত করে।

গণভবনে হত্যার ছক ও ‘যুদ্ধপরিস্থিতি’ তৈরির পরিকল্পনা
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি হলো, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে গণভবনে ক্ষুব্ধ জনতার ভিড়ে হত্যার জন্য ফেলে রাখার একটি ছক কষা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশে একটি ‘যুদ্ধপরিস্থিতি’ তৈরি করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের হস্তক্ষেপের বৈধতা আদায় করা। কিন্তু ভারতের এক শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার সময়োচিত হস্তক্ষেপে সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

যেভাবে চূড়ান্ত হয় পতনের ক্ষণ
৫ আগস্ট দুপুরে আর্টিলারি ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার রফিকের নির্দেশে উত্তরা এলাকার ‘কারফিউর ব্যারিকেড’ হঠাৎ তুলে নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ঢাকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয় এবং সরকারের পতন নিশ্চিত হয়।

টুঙ্গিপাড়ার কথা বলে নেওয়া হয় বিমান ঘাঁটিতে
শেখ হাসিনা নিজেও সম্প্রতি দাবি করেছেন, ৫ আগস্ট তিনি ভেবেছিলেন নিরাপত্তার কারণে তাঁকে টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) পাহারায় তাঁকে কুর্মিটোলার বাশার ঘাঁটিতে নেওয়ার পরই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে এবং ক্ষমতা আর তাঁর হাতে নেই।

দেশত্যাগে ভারতীয় সেনাপ্রধানের ভূমিকা
৫ আগস্ট সকালেই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর কাছ থেকে সামরিক বিমানের ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের পূর্বানুমতি নিয়ে রেখেছিলেন। দেশ ছাড়তে হাসিনা রাজি না থাকলেও ভারতীয় কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তাঁকে ও শেখ রেহানাকে দ্রুত দিল্লিতে পাঠানো হয়।

জাতিসংঘের বিতর্কিত প্রস্তাব
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জাতিসংঘের তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধি গুইন লুইস হাসিনাকে ঘিরে রাখা ওই শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তিনি রামু সেনানিবাসকে স্থায়ী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ঘাঁটিতে রূপান্তর এবং রাখাইন অঞ্চলে একটি সামরিক করিডোর তৈরির বিতর্কিত প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।

পতন-পরবর্তী সামরিক বাহিনীর ‘বাছাইকৃত’ ভূমিকা
সরকার পতনের পর সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নর্থইস্ট নিউজ। আইএসপিআর সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৭ জনের তালিকা প্রকাশ করলেও সেখানে বৈষম্য ছিল। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের মতো অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে যশোর সেনানিবাসের নিরাপদ রুট ব্যবহার করে ভারতে পালাতে সহায়তা করা হয়। ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন তাঁকে সহায়তা করেন।

প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়, এই পটপরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ফলাফল ছিল জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পুনর্বাসন। সেনাবাহিনী বিচার বিভাগকে রক্ষা না করে কেবল রাষ্ট্রপতির সুরক্ষায় মনোযোগ দেওয়ায় পুরো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অরাজক পরিস্থিতির মুখে পড়ে।

07/04/2026

শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প হয়না,তিনি একজনই🇧🇩🔥

07/04/2026

😜

07/04/2026

‘আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়।’

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


বড়গ্রাম, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা-১২১১
Dhaka