20/01/2025
আসসালামুআলাইকুম।
আগামী ০৩ ফেব্রুয়ারী হতে ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ইসায়ী, রোজ সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার (৪ দিন ব্যাপী) জহুরীয়া দরবার শরীফ এর উদ্যোগে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, মুক্তির পথ প্রদর্শক, কোরআন ও হাদীসের আলোকে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বিশ্লেষণকারী জাহেরী ও বাতেনী ইলমের আলোক বর্তীকা, ইসলামী জাগরণের অগ্রদূত, শির্ক ও বিদ-আতের মূল উৎপাটনকারী, সমাজ সংস্কারক, ফুরফুরা শরীফের খলিফা, ভূতপূর্ব অধ্যাপক-পদার্থবিজ্ঞান ও উপাধ্যাক্ষ-সরকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, পীরে কামেল-
আলহাজ্ব হযরত মাওলানা অধ্যাপক মোঃ জহুরুল ইসলাম আল কাদেরী রহমতুল্লাহ আলাইহি এঁর
২১ তম ইন্তিকাল বার্ষিকী উপলক্ষে “আল ইসলাম জহুরীয়া হাজী আইনউদ্দীন দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গন, উত্তর বাহেরচর, তারানগর, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকায় ৪ দিন ব্যাপি বার্ষিক ঈছালে ছাওয়াব ও তা’লীমি মাহ্ফিল-এর আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত মাহ্ফিলে স্ববান্ধব উপস্থিত হয়ে আল্লাহ্পাক ও রাসূলে করিম সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর মহব্বত হাসিল করুন।
17/07/2024
শোক সংবাদ
إنا لله و إنا اليه راجعون
রফিকে আ'লার দরবারে চলে গেলেন ভারত উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠতম আধ্যাত্মিক চর্চা কেন্দ্র, দক্ষিণ বঙ্গের ইলমে শরীয়াত ও ত্বরীকতের প্রাণকেন্দ্র, ঐতিহাসিক ছারছীনা দরবার শরীফের হযরত পীর এবং মুর্শিদ ছারছীনা দরবার শরীফের আ'লা হযরত পীর কিবলা।
■ দেশ-বিদেশের কোটি কোটি মানুষের আধ্যাত্মিক রাহবার বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লার মাননীয় আমির, প্রায় দুই হাজার দ্বিনিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মুদার্রেসিন এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও মসজিদে গাউসুল আজম কমপ্লেক্সের মুতাওয়াল্লী এবং ছারছীনা দরবার শরীফের পীরে কামেল শাহ সূফী আ'লা হযরত মাওলানা শাহ মোহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ রহমতুল্লাহ আলাইহি আজ রাত দুইটা ১১ মিনিটের সময় রাজধানী সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী র’জিয়ূন! ইন্তেকালের সময় মরহুমের বয়স হয়েছিল ৭০ এর কাছাকাছি!"
■ পীর সাহেব কেবলা(রহঃ)দীর্ঘদিন যাবত বার্ধক্য জনিত বিভিন্ন রোগে ভুগতে ছিলেন। প্রথমতঃ তিনি রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে, এরপরে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে এবং সর্বশেষ গ্রিন রোদস্থ সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
■ ইন্তেকালের সময় তিনি স্ত্রী, দুইপুত্র এবং তিন কন্যা সহ অনেক নাতি নাতনি রেখে যান। সকল পীরভাই, মুহিব্বীন দের নিকট পীর সাহেব কেবলার রুহের মাগফিরাতের জন্য দু'আ কামনা করছেন হযরত পীর সাহেব কেবলা (রহঃ) এর বড় সাহেবজাদা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছরুদ্দীন আহমদ হোসাইন (মাঃআঃ)।
■ জানাজা ও দাফনঃ
আগামীকাল ১৮ জুলাই, ০৩ শ্রাবণ, ১১ মুহাররম, রোজ- বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় ছারছীনা দরবার শরীফ (পিরোজপূর জেলার, নেসারাবাদ থানা/ঊপজেলা) ময়দানে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে ইন শা আল্লাহ! সকল পীরভাই, মুহিব্বীন এবং দল-মত ও ছেলছেলা নির্বিশেষে সকল ঈমানদার মুসলমান ভাইদেরকে হুজুরের জানাজায় উপস্থিত হবার/থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি!
■ মরহুমের ইন্তিকালে ঐতিহ্যবাহী জহুরীয়া দরবার শরীফ এর বর্তমান পীর সাহেব কিবলা পীরে তরিকত আলহাজ্ব শাহ সূফী মোহাম্মাদ আজহারুল ইসলাম আল কাদেরী, মাঃজিঃআঃ আজ সকালে এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি শোকাহৃত মরহুমের পরিবার ও ভক্ত-অনুরক্ত সকলের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মরহুমের রাফয়ে দারাজাত কামনা করেন।
।। ডেস্ক_রিপোর্ট।।
জহুরীয়া দরবার শরীফ
উত্তর বাহেরচর, তারানগর
কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা।
১৭ জুলাই ২০২৪, রোজ বুধবার
০২/০৪/১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১০/০১/১৪৪৬ হিজরী
02/10/2022
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে ঐতিহ্য বাহী জহুরীয়া দরবার শরীফের উদ্দোগে শুরু হয়েছে ১২ দিন ব্যাপী খতমে কুরআন, খতমে খাজিগান, ওয়াজ, মিলাদ, দোয়া মাহফিল এবং ইসলামিক রেলী।
উত্তর বাহেরচর, তারানগর, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা।
✨ অনষ্ঠান সূচীঃ
— — — — — — —
✨১ রবিউলআউয়াল হতে ১২ রবিউলআউয়াল
— — — — — — — — — — — — —
পহেলা রবিউলআউয়াল হতে ১২ রবিউলআউয়াল- প্রতি দিন বাদ ফজর ও বাদ আসর ছাওয়াব রেছানী, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
✨১১ রবিউলআউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী। ০৮ অক্টোবর ২০২২ ঈসায়ী, রোজ শনিবার।
— — — — — — — — — — — — —
সকাল ০৯ টাঃ খতমে কুরআন
বাদ আসরঃ খতমে খাজিগান, মিলাদ, দোয়া
বাদ মাগরিবঃ ছাওয়াব রেছানী, জিকির তা’লিম
বাদ ইশাঃ রাসূল ﷺ এঁর জীবনে বিভিন্ন দিক নিয়ে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা
রাত ১১ টাঃ মিলাদ ও দোয়া, তোবারক বিতরণ।
✨১২ রবিউলআউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী। ০৯ অক্টোবর ২০২২ ঈসায়ী, রোজ রবিবার।
— — — — — — — — — — — — —
বাদ ফজরঃ ছাওয়াব রেছানী, জিকির তা’লিম, মিলাদ ও দোয়া
সকাল ৭ টাঃ দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ হতে ইসলামিক রেলী শুরু
সকাল ১১ টাঃ সংক্ষিপ্ত আলোচনা, মিলাদ ও তোবারক বিতরণ।এবং বিশ্ব মুসলিম, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কল্যানকামনা, আল্লাহ্ ও রাসূলে পাক ﷺ এঁর মহব্বত হাসিলের জন্য দোয়া-মুনাজাত।
ঈদে মীলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে মুবারক র্যালিতে সহ ১২ দিনের সকল অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের আশিকানে রাসূল ছাত্র-জনতার উপস্থিতি কামনা করছি৷
26/09/2022
০৯ অক্টোবর, রোববার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ
বাংলাদেশের আকাশে আজ কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এ হিসাবে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বুধবার থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে এবং আগামী ৯ অক্টোবর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ পালিত হবে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৯ অক্টোবর রোববার সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উদযাপিত হবে।
সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মো. মুনিম হাসান এঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
02/06/2022
ইসলামিক পদ্ধতিতে পশু-পাখি জবাই করলে কষ্ট পায় কিনা
পৃথিবীর সব দেশেই মুসলমানরা পশু-পাখি আল্লাহ্ প্রদত্ত ইসলাম নির্দেশিত পন্থায় জবাই করেন। মুসলমানরা প্রতিটি কাজ আল্লাহ ইচ্ছামাফিক ও রাসূল ﷺ এঁর তরিকা/পন্থা অনুযায়ী করে থাকেন। নিজের ইচ্ছায় কিছুই করেন না।
আল্লাহতায়ালা প্রাণী সম্পর্কে পবিত্র কোরআন শরীফে বলেন, ‘ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল প্রত্যেকটি জীব এবং (বায়ুমন্ডলে) নিজ ডানার সাহায্যে উড়ন্ত প্রত্যেকটি পাখি তোমাদের মতোই একেকটি জাতি।’ –সূরা আনআম ৩৮
পবিত্র কোরআনুল কারিমে পশুপাখির মর্যাদা এবং মানবসমাজে তাদের অবস্থানও সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। আল্লাহতা’য়ালা বলেন, ‘আর চতুষ্পদ জন্তুগুলো তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তাতে রয়েছে উষ্ণতার উপকরণ ও বিবিধ উপকার। তা থেকে তোমরা আহার গ্রহণ করো। তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে সৌন্দর্য, যখন সন্ধ্যায় তা ফিরিয়ে আনো এবং সকালে চারণে নিয়ে যাও। এগুলো তোমাদের বোঝা বহন করে এমন দেশে নিয়ে যায়, ভীষণ কষ্ট ছাড়া যেখানে তোমরা পৌঁছাতে সক্ষম হতে না। তোমাদের পালনকর্তা অনুগ্রহশীল, পরম দয়ালু।’ -সূরা নাহল ৫-৭।
আপনার কাছে পশু-পাখি জবাই করাটা কষ্টের কিংবা নিষ্ঠুরতা মনে হলেও পশু-পাখির স্রষ্টা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের প্রয়োজনে পশু-পাখি জবাইয়ের হুকুম দিয়েছেন। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় আজ প্রমাণিত যে, মাথায় ধরে পশুকে মাটিতে শুইয়ে দিলে কিংবা তার গলদেশে অবস্থিত প্রধান তিনটি রগ কেটে দিলে সাথে সাথেই পশুটির মস্তিষ্ক বোধ ও অনুভুতি শক্তি হারিয়ে ফেলে। তখন দেখতে যেমনই মনে হোক, পশু-পাখির মারাত্মক কোনো কষ্ট বা যন্ত্রণা হয় না। এ সময়টিতে তার দেহের প্রবাহিত রক্ত (যা হারাম) সজোরে নির্গত হয়ে শেষ হয়। কয়েক মিনিট তার দেহ আন্দোলিত হওয়ার সুযোগ শরিয়ত এ জন্য রেখেছে যে, তার দেহের প্রতিটি শীরা-উপশীরা ও কোটি কোটি কোষ থেকে মানুষের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ রক্তের সাথে যেন নিঙড়ে বের হয়ে যেতে পারে।
এক কোপে পশু-পাখির মাথা আলাদা করা বা বলি দেয়ার পদ্ধতি ইসলামী শরিয়ত সমর্থন করে না। এতে জবাইয়ের উদ্দেশ্য ও রহস্য কোনোটাই পূরণ হয় না। জবাই করাই ইসলামের পদ্ধতি। এ পদ্ধতি ছাড়া পশু-পাখি হালাল হবে না। হালাল পশু-পাখি হালাল পন্থায়ই জবেহ্ করতে হবে। উটের ক্ষেত্রে নহর পদ্ধতিও স্বীকৃত। অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত, তিনটি রগ কাটার পর পশুকে রক্ত প্রবাহিত হয়ে সে নিস্পন্দন হওয়া পর্যন্ত সময় দেয়া ওয়াজিব। নিস্পন্দন হওয়া আগে ছোট ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে গলার হাঁড়ের মধ্যকার রগগুলো কেটে দিয়ে দ্রুত মেরে ফেললে বা যথেষ্ট পরিমাণ প্রবাহিত রক্ত নিঙড়ে বের হওয়ার আগেই কোন ভাবে পশুটি মেরে ফেলি, তবে ঐ পশুর গোশত হালাল হওয়া নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সুতরাং ইলেকট্র্রিক শক কিংবা এক কোপে মাথা আলাদা করে ফেলা অথবা ক্যাপটিভ বল্ট গান (Captive Bolt Pistol) দ্বারা মাথার নির্দিষ্ট স্থানে জোরে প্রহারের মাধ্যমে অচেতন করে পশু জবাই করা জায়েজ নয়।
শাদ্দাদ ইবনে আউস বলেন, হজর রাসূলুল্লাহ ﷺ -এঁর কাছ থেকে আমি দু’টি কথা শিখেছি। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর প্রতি দয়া প্রদর্শন করা আল্লাহতায়ালা আবশ্যক করেছেন। তাই কোনো জন্তু হত্যা করতে হলে উত্তমপন্থা গ্রহণ করো। জবাই করতে হলে উত্তমভাবে জবাই করো। ছুরি-চাকু ধারালো করো। জবাই করা পশুর জন্য সহজ করো।’ –মুসলিম শরীফ।
অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, এক লোক একটি ভেড়া জবাই করার জন্য মাটিতে শোয়ায়। এরপর সে চাকুতে ধার দিতে শুরু করে। তা দেখে নবী করিম ﷺ বললেন, ‘তুমি কি তাকে কয়েকবার মারতে চাও? শোয়ানোর আগে কেন চাকু ধারাতে পারলে না? –আত তারগিব ওয়াত তারহিব: ২২৬৫।
পশু-পাখির প্রতি দয়ার বিধান হিসেবে নবী করিম ﷺ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। (এক) পশু-পাখিকে আরেক পশু-পাখির সামনে জবাই না করা। (দুই) পশু-পাখিকে বেশি সময় বেঁধে ফেলে না রাখা। (তিন) ছুরি-চাকু দেখিয়ে মানসিক কষ্ট দেওয়া যাবে না। এসবের কারণে তারা মৃত্যুর চেয়ে বেশি কষ্ট পায়।(চার) পশু-পাখি জবাই করার জন্য ভোতা ছুরি ব্যাবহার করা যাবেনা। তীক্ষ্ন ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হবে। (পাঁচ) পশুপাখি জবাই করার সময় কষ্ট দিতে নিষেধ করেন। (ছয়) জবাই করার জন্য টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে শারীরিক কষ্ট দেওয়া যাবে না।(সাত) পশু-পাখির প্রাণ বের হয়ে থিতিয়ে যাওয়ার আগেই চামড়া ছোলা শুরু না করা। অর্থাৎ জবাইয়ের পর পশু-পাখির শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে যাওয়ার জন্য ও প্রাণ বের হওয়া পর্যন্ত পর্যাপ্ত সময় দেওয়া। পশু-পাখির দেহের প্রাণস্পন্দন একেবারে থেমে যাওয়া বা নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো বা অন্য কোনো অঙ্গ কাটা মাকরূহ।
জার্মানির প্রচলিত ক্যাপটিভ বল্ট গান (Captive Bolt Pistol) দ্বারা মাথার নির্দিষ্ট স্থানে জোরে প্রহারের মাধ্যমে অচেতন করে পশু জবাই এবং সরাসরি ধর্মীয় পদ্ধতিতে ছুরির জবাই — এ দুইটির মধ্যে ব্যথা অনুভব ও অজ্ঞান হওয়ার মাত্রা নির্ধারণ করে তুলনামূলক একটি পরীক্ষা করেন জার্মান চার গবেষক। ১৯৭৮ গবেষণাটি জার্মানিতে হয়েছিল। জার্মানির হ্যানোভার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন গবেষকের (W. Schulze, H. Schultze-Petzold, A.S. Hazem ও R. Gross) । জবাইয়ের সময়ে EEG পরীক্ষা করে পশুর মস্তিষ্ক এবং ECG পরীক্ষা করে পশুর হার্ট দেখেন। তাঁরা দেখতে পান জবাইয়ের পরে EEG গ্রাফে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না, অর্থাৎ পশু কোনো ব্যাথা পায় না। EEG রেকর্ডে দেখা যায়, পশু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকার মতো অচেতন হয়ে থাকে, শরীর হতে প্রচুর রক্ত বের হয়ে যাওয়ায় ব্রেইনে রক্ত সরবরাহ হয় না বলে এই অচেতন অবস্থা হয়। EEG গ্রাফে Zero level দেখাচ্ছিলো, তার মানে পশু কোনো ব্যাথা পাচ্ছিলো না। গবেষণায় দেখা যায়, ক্যাপটিভ বল্ট গান দিয়ে প্রহারের ফলে EEG গ্রাফে মস্তিষ্কের কার্যক্রম বেশী পরিলক্ষিত হয়। যা ব্যথা অনুভব হওয়ার কারণেই হয় বলে উল্লেখ করা হয়। অপরদিকে, ধর্মীয় পদ্ধতিতে সরাসরি জবাইয়ে গলা কাটার পর EEG গ্রাফে তেমন কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। এ গবেষণায় তাঁরা ২৩টি ভেড়া ও ১৫টি বাছুর ব্যবহার করেছিলেন।
জবাইয়ের পর পশু-পাখির যে খিচুনি আমরা দেখি সেটা Spinal cord এর একটি Reflex Reaction, এটি মোটেও ব্যাথার জন্য হয় না। সুবহানাল্লাহ্। আল্লাহ রাব্বুল আল-আমীন এঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত নিখুঁত ও নির্ভুল। যাঁরা ভাবেন যে পশু-পাখি জবাইয়ের মাধ্যমে মুসলমানরা পশু-পাখিকে কষ্ট দিচ্ছে তারা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের এই রহমতের কথা জানতে পারলে সত্যিই অবাক হবেন। তবে অবিশ্বাসি অথবা ইসলাম বিদ্বেষিগণের কথা ভিন্ন।
02/04/2022
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এলো মাহে রমাদান।
01/12/2021
শুরু হলো গৌরবদীপ্ত বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। পূর্ণ হলো গৌরবময় বিজয়ের ৫০ বছর। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্মম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বাংলার দামাল ছেলেরা দীর্ঘ ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে ও অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে মাতৃভূমিকে হানাদারমুক্ত করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল উনিশশ একাত্তরের ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে। স্বাধীনতাকামী বীর বাঙালির হৃদয়ে ঘটনাবহুল মাসটি আনন্দের, গৌরবের। একইসংগে স্বজন হারানোর বেদনায় এ মাস শোকেরও।
28/09/2021
পান করার সুন্নাত
অসংখ্য অগুনিত নিয়ামত আল্লাহ্ তাঁর বান্দার জন্য সৃষ্টির পরতে পরতে আসমানে ও জমিনে বিছিয়ে রেখেছেন। আল্লাহতা’আলার অপার এক নিয়ামতের নাম পানি।
আল্লাহতা’আলা বলেন,
‘অতঃপর আমি পানিকে জমিনের বুকে সংরক্ষিত করি’ -সূরা আল মুমিনুন- ১৮
আমাদের পান করা পানির প্রতিটি বিন্দু আল্লাহর কুদরতি ব্যবস্থাপনায় আমাদের দেহের ভেতরে পৌছে যায়।
পানি অথবা পানিয় কীভাবে পান করতে হবে এ ব্যাপারে রাসূল ﷺ সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন; সুন্নাত তরিকা অনুযায়ী পান করলে আমরা পান করার পাশাপাশি বিরাট ছাওয়াবের অধিকারী হতে পারি। অন্য দিকে স্বাস্থগত ভাবে সুফল পেতে পারি।
পান করার সুন্নাতসমূহঃ
১। বসে পান করা। দারিয়ে পানি না পান করা।
২। আলোতে দেখে পান করা। অন্ধকারে এবং না দেখে কিছু পান না করা।
৩। টুপি মাথায় দিয়ে পান করা। খোলা মাথায় কিছু পান না করা।
৪। পানের শুরুতে বিসমিল্লাহ পাঠ করা।
৫। ডান হাতে পান করা। বাম হাতে কোন কিছু পান না করা। কারন শয়তান বাম হাত দিয়ে পান করে।
৬। পান করার পাত্র যদি ভাঙা থাকে পাত্রের ভাঙা অংশের দিক দিয়ে পান না করা। পাত্রের ভালো অংশের দিক দিয়ে পান করা।
৭। যে পাত্রে পানি রাখা হয় সে পাত্র দিয়ে পানি পান না করা। অর্থাৎ বড় পাত্রে মুখ লাগিয়ে পান না করা।
৮। পানি তিন ঢোকে অন্য কিছু অল্প অল্প করে পান করা।
৯। পান করার সময় নিঃশ্বাস পাত্রের বাইরে ফেলা। নিঃশ্বাস পাত্রের ভিতরে না ফেলা।
১০। গরম কিছু পান করার সময় ফু দিয়ে দিয়ে পান না করা।
১১। পানি পান করার পর অন্যজনকে দিতে হলে প্রথমে ডান পাশের জনকে দেবেন। সেও তার ডান পাশের জনকে দেবে, এভাবেই চলবে। চা ও অন্যান্য পানীয় এ নিয়মেই পান করতে হবে। বাম দিকের জনকে পরিবেশন না করা।
১২। পান করার পর الحمد لله বলা।
রাসূল ﷺ বলেন, বান্দা যখন আহার করে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে, তিনি বান্দার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। তদ্রুপ পানীয় পান করার পর আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করলে তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান।
-মুসলিম শরীফঃ ২৭৩৪
শুধু পানাহার নয়, বরংচ প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী ﷺ -এঁর নির্দেশিত পদ্ধতিকে অর্থাৎ প্রতিটি সুন্নাহ্ বাস্তব ও স্বাস্থ্যসম্মত বলে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন।
সম্পাদনায়ঃ
আলহাজ্ব শাহ্ সুফী মুহাম্মাদ আজহারুল ইসলাম আল কাদেরী মাঃ জিঃ আঃ
বর্তমান হযরত পীর সাহেব কিবলা, জহুরীয়া দরবার শরীফ।
07/01/2020
দুর্লভ একটি সংগ্রহ। মরহুম পীর ছাহেব কিবলা রহমতুল্লাহ আলাইহি এঁর দুনিয়াবি জীবনের শেষ বছর, ৬৩ বছর বয়সে প্রশাসনিক প্রয়জনে ছবিটি উঠানো হয়েছিল।
জিনি নিজেই শুধু আলোকিত ছিলেন না, তিনি আলোকিত করেছেন হাজাড়ো দিষাহীন মানুষকে। যে ফুলের বাহারে-সৌরভে এক দিন বিষাল জনপদ মাতোয়ারা ছিল আজ সে প্রাঙ্গণ মুখরিত-শোভিত শত ফুলের সৌরভ-সোভায়।
24/12/2019
জহুরীয়া দরবার শরীফ নিউজ আপডেটঃ
০৯ ও ১০ জানুয়ারি, রোজ বৃহস্পতি ও শুক্রবার বাহেরচরের ফুল, শিরক্ ও বিদআতের মূল উৎপাটন কারি, পীরে কামিল আলহাজ্ব প্রফেস মোঃ জহুরুল ইসলাম আল কাদেরি রহমতুল্লাহ আলাইহি এঁর ১৬ তম ইন্তিকাল বার্ষিকি উপলক্ষে বাষির্ক ইছালে ছাওয়াব মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
মাহফিলে আপনারা সকলে আমন্ত্রিত ।