26/03/2026
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে বিএলআরআই এ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
অদ্য ২৬/০৩/২০২৬ খ্রি. তারিখে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। এসময় মহাপরিচালক মহোদয়ের সাথে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, দপ্তর প্রধানগণ, প্রকল্প পরিচালকগণসহ ইনস্টিটিউটের সকল পর্যায়ের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।
এছাড়াও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে বাদ আসর ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি গত ২৫/০৩/২০২৫ খ্রি. তারিখ বাদ আসর ২৫ মার্চ কালোরাতে নিহতদের স্মরণে ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এর পাশাপাশি বিএলআরআই এর আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহও পতাকা উত্তোলন, পুষ্পস্তবক অর্পণসহ উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে অন্যান্য কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে।
09/03/2026
নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার
--মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সাভার (ঢাকা), সোমবার, ৯ মার্চ, ২৪ ফাল্গুন :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশের প্রান্তিক খামারি ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
আজ বিকেলে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) - এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বাণিজ্যিকভাবে মহিষ পালনে উদ্যোক্তা উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিখাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা, উপজেলা পর্যায়ে খামারিদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, পোলট্রি ও ডেইরি খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে সহজলভ্য করা এবং এ খাতকে একটি শিল্পে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং ভ্যাকসিন কর্মসূচি জোরদারের মাধ্যমে প্রান্তিক খামারিদের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রোটিন চাহিদা পূরণে পোলট্রি ও ডেইরি খাতের পাশাপাশি মহিষ পালন সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মহিষের মাংস পুষ্টিকর এবং দুধ উৎপাদনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে মহিষ পালনে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গরুর তুলনায় মহিষ দুধ উৎপাদনে অধিক সক্ষম হওয়ায় মহিষের সংখ্যা ও খামারি বাড়াতে হবে এবং এ বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং খামারিদের সহায়তা দিতে সরকার ইতোমধ্যে কৃষক ও খামারিদের মধ্যে ফার্মার্স কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খামারিদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হলে ভবিষ্যতে তাদের বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রদান সহজ হবে এবং খামারের পরিধি বাড়িয়ে তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। তিনি বলেন, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা এবং এ খাতে পর্যাপ্ত বাজেট নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা আরও বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্ব করেন। এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও খামরীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় সাংবাদিক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশে মহিষ পালন ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দুধ ও মাংস উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। তিনি বলেন, প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোতে দুধ উৎপাদনের একটি বড় উৎস মহিষ হলেও বাংলাদেশে এ খাতে এখনো পিছিয়ে আছে। তাই উন্নত জাতের মহিষ সংগ্রহ, বাছুর খামারিদের মধ্যে বিতরণ এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিষ পালন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় দুই ব্যাচে দেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত ১০০ জন খামারি ও উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণে মহিষ পালনে বিএলআরআই উদ্ভাবিত বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, মহিষ পালনে খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধে করণীয়, ফডার চাষ ও সংরক্ষণ, মহিষের প্রজনন ব্যবস্থাপনা, খামারের বর্জ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীগণ প্রশিক্ষণার্থীগণকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন।
21/02/2026
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে বিএলআরআই এ শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত
অদ্য ২১/০২/২০২৬ খ্রি. তারিখে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়।
শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়।
একই সাথে বিএলআরআই এর আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহেও পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে অন্যান্য কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
11/01/2026
বিলুপ্ত প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষণ করে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। প্রাণীর সুরক্ষা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
উপদেষ্টা আজ দুপুরে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক আয়োজিত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত ‘পার্বত্য অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন গবেষণা পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা এসময় আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বা অন্যান্য কারণে প্রাণীর অভিযোজন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অন্য এলাকার ছাগল বা এখানকার মুরগি কোথায় কেমন করবে তা পর্যবেক্ষণ করা দরকার। শুধু ব্রয়লার বা লেয়ার মুরগির উপর নির্ভর না করে দেশীয় পশু ও মুরগির জাত সংরক্ষণ ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করতে হবে।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, সময়মতো ভ্যাকসিন না দিলে রোগ ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। ভ্যাকসিনেশন শুধু পশু নয়, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও জরুরি। তিনি বলেন, পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতে শিক্ষিত ও উদ্যোক্তা তরুণদের সম্পৃক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
উপদেষ্টা বলেন, বাজারজাতকরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে খামারিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া, মুরগির বাচ্চা ও ফিডের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিমের দাম কমলে খামারিদের দুর্ভোগও বাড়ে। ফিডে আমদানির নির্ভরতা কমাতে দেশীয়ভাবে ভুট্টা ও সয়াবিন উৎপাদন বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর এবং বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুলহাস আহমেদ। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।
এর আগে উপদেষ্টা বিএলআরআই-এর আঞ্চলিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত “উন্নত প্রযুক্তিতে স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও ভ্যালু এডেড পোল্ট্রি উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ” শীর্ষক খামারি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া তিনি আঞ্চলিক কেন্দ্রে একটি বৃক্ষ রোপণ, নির্বাচিত খামারিদের মাঝে গবেষণা উপকরণ এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রের বিভিন্ন সংরক্ষিত প্রাণীর গবেষণা শেড পরিদর্শন করেন।
কর্মশালায় বিএলআরআই -এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
06/01/2026
বিদেশী গরুর মাংস আমদানিতে ঝুঁকি আছে: মপ্রাম উপদেষ্টা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব ফরিদা আখতার বলেছেন, আমেরিকা আমাদের দেশে মাংস রপ্তানি করতে চায়, ব্রাজিল স্বল্পমূল্যে মাংস রপ্তানি করতে চায়। কিন্তু আমি বিদেশে গিয়ে দেখেছি তাদের ডোমেস্টিক মাংসের দাম কম না। তারা আসলে তাদের প্রাণিসম্পদ ইন্ড্রাস্ট্রির উদ্বৃত্ত মাংস আমাদের দেশে রপ্তানি করতে চায়। বিদেশ থেকে মাংস আমদানির ক্ষেত্রে নানাবিধ ঝুঁকি রয়েছে। একটি ঝুঁকি তো হলো, মাংস আমদানি করা হলে আমাদের খামারিরা বিপদে পড়বে, তাদের গরুর মাংস বিক্রি হবে না। এছাড়া বিদেশি মাংস সাবান-শেম্পুর মতো ইন্ড্রাস্ট্রির পণ্য হওয়ায়, এগুলো আমদানির ফলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও থেকে যায়।
আজ বিকেলে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়িত “আইওটি বেইজড 4F মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের খরা-প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সেমিনার ও ‘4F মডেল’ এর রেপ্লিকা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি ভাষণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব ফরিদা আখতার একথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, কোন সেক্টরই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বাইরে নয়। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন এবং কার্বন নিঃসরণ রোধকল্পে ‘4F মডেল’ একটি আকর্ষণীয় মডেল। এই মডেল মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হবে। আমার আরও ভালো লেগেছে এটি জেনে যে, এই মডেলটি বিশেষ করে আমাদের দেশের ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য অধিক উপযোগী। এতে করে একদিকে যেমন প্রান্তিক খামারিরা লাভজনক খামার করতে পারবে, তেমনিভাবে জৈব গ্যাস ও জৈব সার তাদের বাড়তি লাভের যোগানও দিতে পারবে।
উক্ত রেপ্লিকা উদ্বোধন এবং সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব গাজী মো. ওয়ালি-উল-হক। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিএলআরআই গবেষণা খামারে অবস্থিত প্রকল্প এলাকার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এসময় প্রকল্প আওতায় স্থাপিত ‘4F মডেল’ এর রেপ্লিকা উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব ফরিদা আখতার। এসময় তিনি প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এরপর অতিথিগণ বিএলআরআই এর চতুর্থ তলার কনফারেন্স রু্মে আয়োজিত সেমিনারে অংশ নেন। বিকাল ০৩.০০ ঘটিকায় পবিত্র কুরআন হতে তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে সেমিনারটি শুরু হয়। এর পর আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এ বি এম মুস্তানুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্যের পরে “আইওটি বেইজড 4F মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের খরা-প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন কার্যক্রম পদ্ধতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদি সার্বিক বিষয়ে উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং ইনস্টিটিউটের বায়োটেকনোলজি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষজ্ঞ আলোচনা। এসময় আলোচনা করেন বিএলআরআই এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উৎপাদন গবেষণা কেন্দ্রের দপ্তর প্রধান ড. সরদার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এর ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ও বিএলআরআই এর সাবেক মহাপরিচালক ড. খান শহীদুল হক। পাশপাশি এসময় প্রকল্প কার্যক্রম সম্পর্কে অনলাইনে মতামত ব্যক্ত করেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো (একাডেমিক স্টাফ) ড. রফিকুল ইসলাম।
বিশেষজ্ঞ আলোচনার পরে প্রকল্পের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুজন খামারি প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। এর পরে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা। উন্মুক্ত আলোচনা অংশ পরিচালনা করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। এসময় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত প্রতিনিধি ও শিক্ষকগণ, বিভিন্ন সংগঠন থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ, বিএলআরআই এর বিজ্ঞানীগণ ও অন্যান্য আমন্ত্রি অংশগ্রহণকারীগণ। উন্মুক্ত আলোচনার পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা একে একে তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।
উক্ত সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে আগত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, প্রাণী ও পোল্ট্রি উৎপাদন এবং খামার ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত বিশেষজ্ঞ, খামারি, উদ্যোক্তা ও সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিএলআরআই-এর বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম হতে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এর অর্থায়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক “আইওটি বেইজড 4F মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের খরা-প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে জুলাই, ২০২৫ হতে জুন, ২০২৭ সময়কাল পর্যন্ত এবং প্রাক্কলন ব্যস্ত নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০.০০ লক্ষ টাকা মাত্র। সাতটি জেলার ১৪ টি উপজেলার নির্বাচিত খামারিদের নিয়ে প্রকল্পটির গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
চলমান প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলে 4F মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই ও জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিজ আমিষের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পুষ্টি ও খাদ্যের নিরাপত্তা বিধান এবং গ্রীণ হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে মাটি ও মানব স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সাধন। 4F মডেল এর মধ্যে রয়েছে প্রাণিখাদ্য (Feed), মানব খাদ্য (Food), জৈব জ্বালানী (Fuel) এবং জৈব সার (Fertilizer)। 4F মডেলের মাধ্যমে এই চারটি উপাদানের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের মাধ্যমে কম খরচে প্রাণিখাদ্য ও মানব খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জৈব সার উৎপাদনের একটি চক্র নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পটির প্রধান প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ হলো- ১) গুণগত মানসম্পন্ন প্রাণী খাদ্য উৎপাদন, তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কম খরচ সমৃদ্ধ দুধ ও মাংস উৎপাদন, গোবর ও খামারের উচ্ছিষ্টাংশের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানী ও জৈব সার উৎপাদন নিশ্চিত করা; ২) ক্লাউডভিত্তিক IoT বেসড মনিটরিং সিস্টেম বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানির অপচয় রোধ করা এবং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা; ৩) গ্রীণ হাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ নির্ণয় করা এবং হ্রাসের পদ্ধতি নিরূপণ করা এবং ৪ সর্বোপরি লো কার্বন নিঃসরণ পদ্ধতির মাধ্যমে অধিক উৎপাদনক্ষম টেকসই এবং জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন করে খরা প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার মান উন্নয়ন করা।
প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের খরা-প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে স্বল্প খরচে গুণগত মানসম্পন্ন প্রাণিখাদ্যের উৎপাদন, তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দুধ ও মাংসের উৎপাদন ২০-৩০% বৃদ্ধি করে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। গোবর ও খামারের উচ্ছিষ্টাংশের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানী উৎপাদন করে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপরে নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা যাবে। পাশাপাশি বায়োগ্যাস হতে উৎপাদিত বায়োস্লারিকে বায়ো ফার্টিলাইজারে রূপান্তরিত করে ঘাসের জমিতে প্রয়োগের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের ব্যবহার প্রায় ৪০- ৫০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে, জমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ প্রায় ২০- ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকল্প এলাকায় বছরব্যাপী সবুজ ঘাসের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যাবে। ক্লাউডভিত্তিক আইওটি বেইজড মনিটরিং সিস্টেম বাস্তবায়নের মাধ্যমে খামারে পানির অপচয় ৭০% কমিয়ে এর দক্ষ ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়াও পরিচালিত গবেষণার মাধ্যমে নেপিয়ার ঘাস বিভিন্ন স্টেজে পরিবেশ থেকে কি পরিমাণ CO2 শোষণ করে তার মূল, কাণ্ড ও পাতার মাধ্যমে কি পরিমাণ কার্বন সিকুয়েস্ট্রেশন করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে তা নিরূপণ করা হবে। সর্বোপরি প্রকল্প এলাকার মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ২০-২৫% গ্রীণহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে মাটি ও মানব স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হবে।
16/12/2025
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে বিএলআরআই এ মহান বিজয় দিবস উদযাপিত
অদ্য ১৬/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। এসময় মহাপরিচালক মহোদয়ের সাথে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, দপ্তর প্রধানগণ, প্রকল্প পরিচালকগণসহ ইনস্টিটিউটের সকল পর্যায়ের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।
এছাড়াও বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদ জোহর ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
পাশাপাশি ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগীয় ভবন ও প্রশাসনিক ভবনে বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা করা হয়।
একই সাথে বিএলআরআই এর আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহেও পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জাকরণসহ উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে অন্যান্য কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়।
08/12/2025
“মহিষ পালন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রযুক্তি, খামারি পর্যায়ে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন কৌশল ও গবেষণা ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
বিএলআরআই, ০৮/১২/২০২৫ খ্রি.
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক পরিচালিত মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প কর্তৃক আয়োজিত “মহিষ পালন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রযুক্তি, খামারি পর্যায়ে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন কৌশল ও গবেষণা ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অদ্য ০৮/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। সকালে সাভারে বিএলআরআই এর প্রধান কার্যালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বিএলআরআই এর ট্রেনিং ডরমিটরিতে পবিত্র কুরআন হতে তেলোয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০.০০ ঘটিকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই এর পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয় পরিচিতি পর্ব। পরিচিতি পর্বের পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি পরীক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ছাদেক আহমেদ।
স্বাগত বক্তব্যের পরে মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, চলমান গবেষণা, এ পর্যন্ত অর্জিত সাফল্য, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদি সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মহোদয় বলেন, দেশের আঠারো কোটি মানুষের খাদ্য যোগান দেওয়া এবং খাদ্য উৎপাদনের পিছনে গবেষক ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মানসম্মত উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথেও গবেষক ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা যুক্ত। বিএলআরআই ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাজের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সমন্বয় থাকতে হবে। গবেষণা করে যে সকল ফলাফল পাওয়া যাবে তা সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করবেন তাদের উচিৎ জনগণকে ঠিক মতো সেবা দেওয়া। পাশাপাশি গবেষকদের উচিৎ নিজেদের ব্যক্তিগত উন্নয়নের পরিবর্তে দেশের উপকারে আসবে, মানুষের উপকারে আসবে এমন বিষয়ে গবেষণা করা। এসময় তিনি বিএলআরআই এর গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএলআরআই এর মহাপরিচালক বলেন, বিএলআরআই ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একসাথে প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। বিএলআরআই মহিষ সংক্রান্ত অনেক জনপ্রিয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে যাবে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায়ও অনেক কাজ হয়েছে এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। দেশের দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গরুর পাশাপাশি আমাদের মহিষকেও গুরুত্ব দিতে হবে। মহিষ প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা করতে পারে বলে খামারিরা যাতে মহিষ পালনে উৎসাহী হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি এসময় তিনি নতুন জেগে ওঠা চর মহিষ খামারিদের বরাদ্দ প্রদানের লক্ষ্যে উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি পরীক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ছাদেক আহমেদ। আর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. গৌতম কুমার দেব।
মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় কর্মরত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপ-পরিচালক কৃত্রিম প্রজনন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পর্যায়ের মোট ৩০ জন কর্মকর্তাকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। বিএলআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত ও মাঠ পর্যায়ে বহুল ব্যবহৃত মহিষ পালন সংক্রান্ত জনপ্রিয় প্রযুক্তিসমূহ, খামারি পর্যায়ে গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন কৌশল ও গবেষণা ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ের উপরে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।
এসময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় হতে আগত সম্মানিত প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিএলআরআরআই এর বিভিন্ন বিভাগ/দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও দপ্তর প্রধান এবং প্রকল্প পরিচালকগণ।
মহিষ সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দেশীয় মহিষের জাত সংরক্ষণ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকল্পে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থায়নে ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট “মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন” শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। প্রারম্ভিকভাবে প্রকল্পের সময়কাল নির্ধারণ করা হয় জুলাই’২০২০ হতে জুন’২০২৫ পর্যন্ত। পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদকাল জুন’২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
13/11/2025
বিএলআরআইতে ইনসেপশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত
১৩/১১/২০২৫ খ্রি.; বিএলআরআই, সাভার, ঢাকা
অদ্য ১৩/১১/২০২৫ খ্রি. তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়িত এবং Bangladesh Academy of Science (BAS) এর অধীনে U.S. Department of Agriculture (USDA) এর অর্থায়নে পরিচালিত “Profitable Napier silage preparation for the present market and the future TMR industry” শীর্ষক প্রকল্পের ইনসেপশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান অতিথি কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান। আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি পরীক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ছাদেক আহমেদ।
সকাল ১০.০০ ঘটিকায় ইনস্টিটিটউটের ট্রেনিং ডরমিটরিতে পবিত্র কুরআন হতে তেলোয়াত এবং পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এর পর আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউটের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার। স্বগত বক্তব্যের পাশাপাশি এসময় তিনি প্রকল্পের সার-সংক্ষেপ ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে মূল প্রবন্ধও উপস্থাপন করেন।
স্বাগত বক্তব্য ও উপস্থাপনার পরে পরে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা। উন্মুক্ত আলোচনা অংশটি পরিচালনা করেন প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি পরীক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ছাদেক আহমেদ। এসময় কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিএলআরআই এর বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও দপ্তর প্রধানগণ প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করেন এবং প্রকল্পের কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে নিজ নিজ মতামত ও পরামর্শ ব্যক্ত করেন।
এরপর আমন্ত্রিত অতিথিরা একে একে তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, প্রাণিসম্পদ পালনের ক্ষেত্রে বর্তমানে আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো খাদ্য খরচ কমানো। খাদ্য খরচ কমানোর লক্ষ্যে ঘাস চাষ বৃদ্ধি এবং গবাদিপ্রাণিকে ঘাস জাতীয় খাদ্য খাওয়ানোর বিকল্প নেই। বর্তমান ব্যবস্থায় প্রাণীকে দানাদার খাদ্য বেশি খাওয়াতে হয় বলে খামারিরা লাভজনকভাবে খামার পরিচালনা করতে পারছেন না। বর্তমান সরকারও প্রাণিখাদ্যের দাম কমানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই জাতীয় গবেষণা কার্যক্রমের বিকল্প নেই। একই সাথে ইনসেপশন কর্মশালার মতো বিজ্ঞানভিত্তিক সভা-সেমিনার বেশি বেশি করে আমাদের আয়োজন করতে হবে। এতে করে বিজ্ঞানীরাই উপকৃত হবেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন বিএলআরআই এর বিভিন্ন বিভাগ/দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও দপ্তর প্রধানগণ সহ বিএলআরআই-এর বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও, জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে কর্মশালায় যুক্ত হন জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (FAO) এর প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি (BAS) এর প্রতিনিধিগণ।
উত্তম ঘাস চাষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গবাদিপ্রাণির খাদ্য খরচ কমিয়ে লাভজনক খামার তৈরি, বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে লাভজনকভাবে নেপিয়ারভিত্তিক সাইলেজ তৈরি, খাদ্য সংকট নিরসনের লক্ষ্যে নতুন ধারণা হিসেবে ‘কমিউনিটি ফডার ব্যাংক’ স্থাপন এবং তার মাধ্যমে সংকটকালীন সময়ে খামারিদের নিরবিচ্ছিন্ন খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, ঘাস চাষের ফলে মাটির স্বাস্থ্য ও পুষ্টিগত পরিবর্তন ও প্রভাব বিশ্লেষণ, ঘাস চাষের ফলে কি পরিমাণ গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হচ্ছে এবং বায়ুমণ্ডল থেকে কি পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) শোষণ হচ্ছে তা নিরূপণ ইত্যাদি উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে জুলাই’২৫ হতে জুন’২০২৭।
23/10/2025
বিএলআরআইতে ‘বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০২৫' এর সমাপনী অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সমাপ্ত গবেষণাসমূহের ফলাফল ও অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ‘বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০২৫’ সমাপনী অনুষ্ঠান গত ২৩/১০/২০২৫ খ্রি. তারিখ বিএলআরআই এর মূল কেন্দ্র সাভারে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালাটির সমাপনী ঘোষণা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত অতিরিক্ত সচিব জনাব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জনাব শাহ আলম মুকুল। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই দুইদিনব্যাপী চলা এই কর্মশালায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান। সুপারিশমালা উপস্থাপনের পরে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। পর্বটি পরিচালনা করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর বলেন, গবেষণা এবং উন্নয়ন ছাড়া কোন শিল্প বা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না। তাই গবেষণায় আমাদের আরও জোর দিতে হবে। পাশাপাশি গবেষণা সংক্রান্ত লেখা নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে।
এসময় তিনি আরও বলেন, দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় যে সব সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত মূল্যবান। এসকল সুপারিশ অনুসরন করা গেলে বিএলআরআই এর গবেষণার মানোন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীগণ যে সকল সুপারিশ প্রদান করেছে, বিএলআরআই এর সক্ষমতা সাপেক্ষে সেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিতে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রাণী ও পোল্ট্রি খাদ্যের দাম কমানোর লক্ষ্যে গবেষণা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে বিএলআরআই অচিরেই স্টেকহোল্ডার সভা আয়োজন করবে। পাশাপাশি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিএলআরআই উদ্ভাবিত H9N2 ভ্যাকসিনটি হস্তান্তর করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়েও অতিদ্রুত এ সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা হবে।
বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০২৫ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে আগত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, প্রাণী ও পোল্ট্রি উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত বিশেষজ্ঞ এবং সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, খামারি এবং বিএলআরআই-এর বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
উদ্বাধনী অনুষ্ঠানের পরে শুরু হয় কারিগরি সেশন। এবারের কর্মশালায় ছয়টি সেশনে সর্বমোট ৩৩ (তেত্রিশ) টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে প্রথম দিনে “অ্যানিম্যাল অ্যান্ড পোল্ট্রি ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস” শীর্ষক প্রথম সেশনে ০৬ (ছয়) টি, “অ্যানিম্যাল অ্যান্ড পোল্ট্রি ডিজিজ অ্যান্ড হেলথ” শীর্ষক দ্বিতীয় সেশনে ০৬ (ছয়) টি এবং “এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট” শীর্ষক তৃতীয় সেশনে ০৫ (পাঁচ) টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে “বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড ডেইরি রিসার্চ” শীর্ষক চতুর্থ সেশনে ০৬ (ছয়) টি, “নিউট্রিশন, ফিডস অ্যান্ড ফিডিং ম্যানেজমেন্ট” শীর্ষক পঞ্চম সেশনে ০৫ (পাঁচ) টি এবং “সোশিও-ইকোনোমিকস অ্যান্ড ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ” শীর্ষক ষষ্ঠ ও সর্বশেষ সেশনে ০৫ (পাঁচ) টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। প্রবন্ধ উপস্থাপনার পাশাপাশি কর্মশালায় বিএলআরআই এর চলমান বিভিন্ন গবেষণার উপর মোট ৬১ (একষট্টি) টি পোস্টারও প্রদর্শন করা হয়।
গত ২২/১০/২০২৫ খ্রি. তারিখে প্রধান অতিথি হিসেবে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালাটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব ফরিদা আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। এছাড়াও সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
22/10/2025
মাংস আমদানি করবো না, উৎপাদন খরচ কমাবো: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
মাংস আমদানি করবো না, বরং উৎপাদন খরচ কমিয়ে মাংসের দাম কমাবো। মাংস আমদানি করে দেশর ক্ষতি করবো না। মাংস আমদানির ফলে নানাবিধ ক্ষতির আংশকা থাকে। প্রধানত মাংস আমদানি করা হলে এদেশের খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়বে। অনেক দেশ আমাদের স্বল্পমূল্যে মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দেয়। কিন্তু অন্য দেশের উদ্বৃত্ত মাংসের “Dumping Export” বাংলাদেশে হতে পারে না।
সকালে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) কর্তৃক আয়োজিত ‘বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০২৫’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব ফরিদা আখতার এ কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, ঘাস তথা প্রাণিখাদ্যের উপরে কাজ করে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। আমাদের অন্তত আগের দামে ফিরে যেতে হবে, সে লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সাথেও যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়াও, মানুষের ও গবাদি পশুর স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। যে রোগ প্রাণীর হয়, তা মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। আবার যে রোগ মানুষের হয়, তা প্রাণীর মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। একারণে ‘ওয়ান হেলথ’ ইস্যুকে গুরুত্বে সাথে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। প্রাণীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ম্যানিউর ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আরও বেশি গবেষণা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশীয় জাতসমূহের সংরক্ষণেও আমাদের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এসময় আরও বলেন, গবেষণায় যখন অর্থ বরাদ্দ কমানো হলে আমি মর্মাহত হই। গবেষণা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা দরকার। এলক্ষ্যে আরও নতুন নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রচারণা বাড়াতে হবে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গবেষণার গুরুত্ব যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে। একারণে গবেষণা শেষ হওয়া মাত্রই উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্রুত সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিকট হস্তান্তর করা প্রয়োজন। আবার সম্প্রসারণ কার্যক্রমে কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে বা কোন বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরেরও উচিৎ বিএলআরআই এর মাধ্যমে তার সমাধান করা।
বিএলআরআই কর্তৃক ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সমাপ্ত গবেষণাসমূহের ফলাফল ও অগ্রগতি পর্যালোচনা লক্ষ্যে ‘বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ২০২৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অদ্য ২২/১০/২০২৫ খ্রি. তারিখ রোজ বুধবার সকালে বিএলআরআই এর মূল কেন্দ্র সাভারে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব ফরিদা আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। এছাড়াও সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
সকাল ১০.০০ ঘটিকায় পবিত্র কুরআন হতে তেলোয়াত এবং পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এর পর আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এ বি এম মুস্তানুর রহমান। এছাড়াও বিএলআরআই এর চলমান গবেষণা কার্যক্রমসমূহ এবং আয়োজিত কর্মশালার সার সংক্ষেপ তুলে ধরেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান।
সার-সংক্ষেপ উপস্থাপনের পরে বিএলআরআই এর চলমান বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের উপরে বাছাইকৃত ০৫ (পাঁচ) টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথগণ বিএলআরআই এর বিজ্ঞানীদের উপস্থাপনা উপভোগ করেন। এছাড়াও পাশাপাশি তারা এলআরআই সম্মেলন কক্ষ (চতুর্থ তলা) এর ছাদে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের উপরে উপস্থাপিত পোস্টারসমূহ পরিদর্শন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে কাজের যে বৃহৎ ক্ষেত্র আছে তা আমরা উপলব্ধি করি না। প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে দুইটি বিষয়ের উপরে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। একটি হলো প্রাণীর সুস্থ্যতা। একারণে নিয়মিত প্রাণীর ভ্যাকসিনেশন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যটি হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপরে জোর দেওয়া। আমাদের খামার পর্যায়ে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন এটি জবাই করে ফেলা হয়। সেটির মাংস খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এসময় তিনি আরও বলেন, প্রাণীর জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রাণীর খাবারের দাম বাড়ার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে কেনো দম বেশি, অন্যান্য দেশ খাদ্য হিসেবে কি কি জিনিস ব্যবহার করে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশীয় প্রাণীর সংরক্ষণে কাজ করা এবং প্রাণীর মানোন্নয়নে কাজ করাও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার প্রভাব এবং ফলাফল যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করতে পারছি না বলেই গবেষণায় আমরা বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে পারছি না।
সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ফুড সেফটি এবং ওয়ান হেলথ বিষয়ে বিএলআরআই এর বিশেষায়িত গবেষণা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি খামারিদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে অতিদ্রুত বিএলআরআই উদ্ভাবিত H9N2 ভ্যাকসিনটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিকট হস্তান্তর করা প্রয়োজন। এলক্ষ্যে প্রয়োজনবোধে দুই প্রতিষ্ঠান একত্রিতভাবে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে কাজ শুরু করতে হবে। দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের জন্য দুই প্রতিষ্ঠান একত্রে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, আমরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও পুষ্টি তথা আমিষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারিনি। দেশীয় জাতসমূহ আমাদের আবহাওয়ায় অভিযোজিত হওয়ায় দেশীয় জাতগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে আমাদের উন্নত জাতসমূহেরও দরকার রয়েছে। এছাড়াও, দেশীয় সম্পদকে গুরুত্ব দিয়ে এসব জাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজন। এজন্য এদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য খরচ কমানোর জন্য বিএলআরআই বিভিন্ন গবেষণা পরিচালনা করছে। কৃষকদের চাহিদা মাথায় রেখেই বিএলআরআই সব সময় গবেষণা প্রকল্প হাতে নিয়ে থাকে।
উদ্বাধনী অনুষ্ঠানের পরে শুরু হয় কারিগরি সেশন। এবারের কর্মশালায় ছয়টি সেশনে সর্বমোট ৩৩ (তেত্রিশ) টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে প্রথম দিনে “অ্যানিম্যাল অ্যান্ড পোল্ট্রি ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস” শীর্ষক প্রথম সেশনে ০৬ (ছয়) টি, “অ্যানিম্যাল অ্যান্ড পোল্ট্রি ডিজিজ অ্যান্ড হেলথ” শীর্ষক দ্বিতীয় সেশনে ০৬ (ছয়) টি এবং “এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট” শীর্ষক তৃতীয় সেশনে ০৫ (পাঁচ) টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে “বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড ডেইরি রিসার্চ” শীর্ষক চতুর্থ সেশনে ০৬ (ছয়) টি, “নিউট্রিশন, ফিডস অ্যান্ড ফিডিং ম্যানেজমেন্ট” শীর্ষক পঞ্চম সেশনে ০৫ (পাঁচ) টি এবং “সোশিও-ইকোনোমিকস অ্যান্ড ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ” শীর্ষক ষষ্ঠ ও সর্বশেষ সেশনে ০৫ (পাঁচ) টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। প্রবন্ধ উপস্থাপনার পাশাপাশি কর্মশালায় বিএলআরআই এর চলমান বিভিন্ন গবেষণার উপর মোট ৬১ (একষট্টি) টি পোস্টারও প্রদর্শন করা হয়।
এর আগে সকালে মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয় বিএলআরআই’র চলমান “মহিষ উন্নয়ন ও গবেষণা (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে নির্মিত বিএলআরআই গেইট-২ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে আগত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, প্রাণী ও পোল্ট্রি উৎপাদন এবং খামার ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত বিশেষজ্ঞ, খামারি, উদ্যোক্তা ও সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিএলআরআই-এর বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম হতে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিএলআরআই-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ হতেও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
আগামী ২৩/১০/২০২৫ খ্রি. তারিখে বিশেষজ্ঞ সুপারিশ পর্যালোচনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী চলমান ‘বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা-২০২৫’ শেষ হবে।