DMRCian '16

DMRCian '16

Share

এখানে আগামী এখন

EIIN: 133965
College Code: 1180

'সংগ্রাম ও সংহতিতে আদর্শ বঙ্গবন্ধু'- সাকিবুর রহমান সায়েম 20/08/2018

পড়ার অনুরোধ রইলো।

'সংগ্রাম ও সংহতিতে আদর্শ বঙ্গবন্ধু'- সাকিবুর রহমান সায়েম সাকিবুর রহমান সায়েমঃ সাধারন মানুষ ছিলেন না তিনি। তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান, তাঁর থেকেই একটি আন্দোলন,সে আন্দোলন .....

19/07/2018

শুভকামনা এইচএসসি ফলাফল প্রত্যাশীদের জন্য।

18/11/2016

ভর্তি পরীক্ষার্থীরা..

তোমাদের সাথে কিছু বাস্তব
অভিজ্ঞতা শেয়ার করি-

• ঢাকার নামকরা একটি কলেজের
ফার্স্ট বয় এইচএসসি তে এ প্লাস মিস
করে এবং এখন দ্বিতীয় সারির একটি
প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ে।

• ঢাকার নামকরা এক কলেজের প্রথম
সারির এক ছাত্র এ প্লাস মিস করছে
অল্পের জন্য, কিন্তু এখন ঠিকই ঢাবিতে
পড়ে।

• নামকরা কলেজের গোল্ডেন পাওয়া
ছাত্র কোন পাবলিক ভার্সিটিতে
চান্স না পেয়ে এখন প্রাইভেটে পড়ে।

উপরে যেই কথাগুলো বললাম সবগুলো
বাস্তব সত্য। আর কোন উদ্দেশ্যে বলেছি
আশা করি বুঝেছ।

# তোমাদের মধ্যেও কেউ কেউ
গোল্ডেন পাইছ,প্লাস পাইছ,,,বাট চান্স
পাওনি।
আবার কেউ এ প্লাস না পেয়ে ও চান্স
পাইছ। তাই বলে প্লাস না পেয়ে চান্স
পেয়েও যেমন অহংকারে অন্যকে হেয়
করার কিছু নাই তেমনি এ প্লাস পেয়ে
ও চান্স না পাওয়ায় লজ্জায় আত্মহত্যা
করার কোন যৌক্তিকতা নাই।



# যেই কথটি না বললেই নয়...
যদি কোথাও চান্স নাই পাও তাহলে
কি হবে? মারা যাবে, নাকি জীবন
থেমে থাকবে?
কিচ্ছুই হবেনা বরং ক্ষতি তখনই হবে যখন
নিজে ভেঙ্গে পরবা।
..এমন হাজারও উদাহরন আছে ক্লাসের
তৃতীয় সারির ছাত্র যেখানে বস
সেখানে ফার্স্ট বয় উনার কর্মচারী
আবার এমন আছে জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সফল হয়ে এখন
পাবলিক ভার্সিটির ছাত্রদের চাকুরী
দেয়।

# আচ্ছা আমরা কেন সবাই এত
ক্যারিয়ার পড়শোনা নিয়ে চিন্তা
করি?
হুম উত্তর টা সবারই জানা আর সেটা হল
- "জীবনে উন্নতি করার জন্য, সম্মান
পাবার জন্য, টাকা কামানোর জন্য
ইত্যাদি।"

# কিন্তু একবার ভেবে দেখতো- তুমি
পড়াশুনা শেষ করার পর যেই বড়
চাকুরীতে পাবে তার প্রথম বেতন টা
ভোগ করতে পারবা তার গ্যারান্টি
কি?
খুব বেশি বলে ফেললাম, আমরা যে
পড়শোনা শেষ করা পর্যন্ত বেচে
থাকবো তার নিশ্চয়তাই তো নাই আর
ক্যারিয়ার তো পরের কথা।

এমনো তো হতে পারতো ১ টা হাত
অথবা পা নাও থাকতে পারত আমাদের,
দুইবেলা পেট ভরে খাওয়ার মত সামর্থ্যও
তো অনেকের থাকেনা, ওই হিসেবে
তো আমরা অনেক ভাল আছি। তাই
আল্লাহ যা দিছে তার উপর শুকরিয়া
করে নিজের উন্নতির জন্য সর্বাত্মক
চেষ্টা কর এরপর যদি চান্স না পাও
ভেঙ্গে পরার কিছু নাই। জীবনের এখনই
সব শেষ হয়ে যায়নি। বেচে থাকলে
অনেক সুযোগ আসবে যেগুলো হয়তো এখন
আমাদের জানা নাই কিন্তু সময় ঠিকই
সুযোগ তৈরী করে দিবে।
==========

অনেক কথা বললাম... একটি ছোট্ট নির্মম
বাস্তবতার উদাহরন দিয়ে শেষ করি,
আশা করি এরপর আর কারো আফসোস বা
কষ্ট থাকার কথা না।

সাইনসের ছাত্র-ছাত্রীদের
ড্রিমল্যান্ড হচ্ছে # বুয়েট। এই বুয়েটে এ
যাবৎ কালে সর্বোচ্চ নাম্বার যিনি
পেয়েছিলেন তিনি নিজেও তার
১৪/১৫ বছরের শিক্ষাজীবনের
পরিশ্রমের ফল, মনের গভীরে লালিত
স্বপ্ন, তার স্বপ্নের বুয়েটের ক্যাম্পাসে
ক্লাস করতে পারেনি।

..ক্লাস শুরুর মাত্র কয়েকদিন ব্রেইন
স্ট্রোকে মারা যান তিনি।
( ভাল থাকুক সব মন খারাপ করে বসে
থাকা মানুষ গুলো)..
(collected)

07/11/2016

একজন মানুষকে নিয়ে যত বেশি সমালোচনা হয় তাকে নিয়ে তত বেশি আলোচনা হয় । সমালোচনার বিষাক্ত ছোবলে যারা নিজেকে দৃঢ় রাখতে পারে তারাই কালজয়ী উপন্যাসের নায়ক হয় ।
সমাজ অাপনাকে নিয়ে সমালোচনা করবেই ।
কিন্তু এরা দুই দিনের,অাজ অাছে কাল নেই !
কিন্তু মনে রাখতে হবে, হিটলার হতে গেলে সেই লেভেলের কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে।
কাজী নজরুলের মত বিদ্রোহী হতে গেলেই সেই লেভেলের সমালোচনা সইতে হবে ।

03/11/2016

খুব হাসি পাচ্ছে আজ,খুবই!!!!!
পত্রিকায় পড়লাম,
১৯ উইকেটের হিরো মিরাজকে নাকি নতুন বাড়ি গিফট করা হবে।
আমি ক্রিকেটকে খুব পছন্দ করি,তারপরও হাসছি,আসলে এ হাসি সুখের নয়,বড়ই দু:খের,,,,,,,,,,,,,,
২৫ বছর ধরে পড়াশুনা করে আমরা কি পেলাম ?????
SSC-------GPA 5.00
HSC-------GPA 5.00
Honours..CGPA---3.75
ইচ্ছে করে এই সার্টিফিকেট গুলো ছিড়ে টুকরা টুকরা করি,
কুত্তার মত দিন রাত পড়াশুনা করেও BCS এ বাদ।
বাবা বলে আর কতদিন বাবা???
মা চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে চুপি চুপি কাদেন আর আমাকে কি যেন বলতে চান।
বিশ্বাস করেন,,,চোরের মত পালিয়ে যায়।
কি বলবো আমি,,???
কাকে কি বলবো,কিভাবে বোঝাবো তাদের???
কিছুই ভেবে কুল পাইনা।
সবার সামনে কেন জানি চোরের মত,লুকিয়ে চলাফেরা করতে হয়,অনেক কিছুই মুখ বুজে সহ্য করতে হয়।
আমার কথা না হয় বাদ ই দিলাম,,
খুব কাছ থেকে এক বড় ভায়ের বাবাকে মারা যেতে দেখেছি,যিনি নিজের অসুস্থতার দিকে না তাকিয়ে,ভাইয়াকে টাকা পাঠাতেন।এখন মা ও খুব অসুস্থ।
প্রিলি পার করেছেন,,পার করেছেন রিটেন ও,,,কিন্তু ভাইভা মিলিয়ে হাতে হারিকেন,,
মাঝখানে ,জীবন থেকে হারালো আরো কয়েক বছর।
এই শিক্ষা ব্যবস্থা আর কত সাধারন পরিবারের চোখের জল নিয়ে খেলবে,আর কতদিন আমাদেরকে অপরাধির মত মাথা নিচু করে চলতে হবে,????????
(ওসমান গণি ভাই-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)

29/10/2016

শুভ দীপাবলি :)

Photos 27/10/2016

prothom alo :)

10/10/2016

আমাদের ১৬ ব্যাচ এর কে কে মেডিকেল এ টিকছে?
দ্রুত জানাও প্লিজ..!

06/10/2016

আমিই বাংলাদেশ! আমার ডাক নাম লজ্জা!!
আমি বিশ্বজিত,আমি অভিজিৎ,আমি নাদিয়া, আমি তনু, আমি খাদিজা, আমি রাজন! আমি ব্যার্থ ছাত্র, আমি প্রশ্নপত্র না পাওয়া হত দরিদ্র! আমি অবিরাম বাংলার মুখ! আমি লাল সবুজের কফিন! আমি পিলখানার অসহায় সেনা অফিসারের আঁধারে দাফন! আমি পাতানো নির্বাচন! আমি স্বাধীন দেশের পরাধীন জনগন! আমি আন্তর্জাতিক 'নিরাপরাধ' ট্রাইবুনাল! আমি শেয়ার বাজার, ডেসটিনি, হলমার্ক, রিজার্ভ চুরি! আমি বাসে ধর্ষিতা মাজেদা! আমি ছেলের সামনে ধর্ষিতা মা! আমি ভাইয়ের সামনে ধর্ষিতা বোন! আমি এমপির গুলিতে গুলিবিদ্ধ সৌরভ! আমি গুম হওয়া সন্তানের মায়ের নিরব কান্না! আমি রানা প্লাজার ধুলোয় উড়া লাশ! আমি সরকারী ভবনে রডের বদলে বাশঁ! আমি তাজরীনের অগ্নিকান্ডের অসহায় গরীব কর্মচারী! আমি শিল্পী হয়েও স্তব্ধ আসিফ আর মনির খান! আমি 'দৈনিক আমার দেশ, ইসলামিক ও দিগন্ত টিভি'! আমি শত্রু রাষ্ট্র ভারতের পা চাটা গোলাম! আমি ধ্বসে পড়া ভবনের নিচে গলিত লাশের গন্ধ আর পদ্মার লঞ্চ ডুবি! আমি গুম হওয়া ইলিয়াস,আযমী, আরমান আর হুম্মাম! আমি সাগর-রুনির মেঘ! আমি ছিনতাই হওয়া অসহায় পথচারীর ব্যাগ! আমি জন্মের আগেই গুলিবিদ্ধ নবজাতক শিশু! আমি শাপলা চত্বরের নির্মম গনহত্যা! আমি সাত খুণ শীতলক্ষ্যার পাড়! আমি ফেলানী,আমি ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য ঝুলে আছি কাঁটাতারে! আমি অন্ধ, তাই আমার বিবেকের দরজা বন্ধ।
# collected

02/10/2016

আমিঃ আই লাভ ইউ ইরি।
ইরিঃ থাপ্পড় চিনেন?
- চিনি তো
- খাবেন?
- কে দেবে?
- আমি।
- দেরী করছো কেনো?
এক্ষুনি দাও।
- লজ্জা করেনা আপনার?
- আমি তো প্যান্ট পরে আছি।
- আপনাকে যে কি করি?
- বিয়ে করো।
- আসলেই একটা থাপ্পড় দেয়া উচিত
আপনাকে।
- চাইলে কিস ও করতে পারো।
- সামনে থেকে সরুন।
- পেছন পেছন আসবো নাকি?
- আপনি কি করেন?
- স্টাডি করি।
- আপনার বাবা কি করেন?
- বাবা নেই।
-মারা গেছেন?
- না,আসলে আমি জানি না,
আমার বাবা কে?
আমি পিতৃ পরিচয় হীন।
- আপনার মা?
-আমার মা আমার জন্মের সময় মারা
গেছেন।
- থাকেন কোথায়?
-বস্তিতে,
এক ভিক্ষুকের সাথে।
এখন তিনিই আমার মা।
- আমি আপনাকে ভালোবাসতে পারবোনা।
- কেনো?
- ভিখারীর ছেলেকে কি করে বয়ফ্রেন্ড
বানাই?
ফকিন্নির ছেলের আবার ভালোবাসার শখ!!
- আচ্ছা।
- কি আচ্ছা?
- আর ডিস্টার্ব করবো না তোমাকে।
- ধন্যবাদ।

আমি আর কিছুই বললাম না।
নীরবে চলে আসলাম।
আসলে জোর করে ভালোবাসা হয় না।
তাছাড়া আমি যেহেতু ভিখারীর সন্তান,
সেহেতু এসব ভাবাও
আমার জন্য পাপ।

আমি আল-ফারাবী।
ডাক নাম ফারাবী।
ঢাকা শহরের একটা বস্তিতে থাকি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্সে অনার্স
করছি।
আমার বাবা কে তা
আমি জানিনা।
মা জন্মের সময় মারা
গেছেন।
মাকে কখনো তাই দেখতে
পারিনি।
বড় হয়েছি এক ভিখারীর কাছে।
তিনিই এখন আমার মা।
কিছুটা বুঝতে যখন শিখেছি,
তখন টোকাই দলে নাম লিখেছি।
সারাদিন টোকাই গিরি
করে যা পেতাম তাতে
আমার দিন যেতো।
একদিন পাশের মহল্লার কিছু
টোকাই ছেলে আমাকো মেরেছিলো।
তারপর আমার মা (যার কাছে থাকি)
তিনি আমাকে স্কুলে ভর্তি করে দিলেন।
আর তিনি ভিক্ষা করতেন।

প্রাইমারী পাশ দেবার পর
আসি হাইস্কুলে ভর্তি হলাম।
বেশ মেধাবী ছিলাম আমি।
সবসময় সব ক্লাসে ফার্স্ট হতাম।
পাশাপাশি একটা প্লাস্টিক কারখানাতেও
জব করতাম।
যে টাকা বেতন
দিত,
তাতে পেট চলতো।
পড়ালিখার টাকা মা ভিক্ষা করে জোগাড়
করতো।
মোটামুটি চলে যেতো দিন।

খুব ভালো খাবার খেতে পারতাম না।
নিম্ন মানের চালের ভাত আর পিয়াজ বা
কাঁচামরিচের ঝাল হলেই পেট ভরে খেতাম।
মাঝে মাঝে মা ডাস্টবিন হতে বড়
লোকদের ফেলে দেয়া আধখাওয়া পঁচা
বাসি খাবার নিয়ে আসতেন।
আমার চোখ খাবার লোভে চকচক করতো।
আমি গপাগপ গিলতাম।
খাবার শেষে তৃপ্তির
ঢেঁকুর তোলে মায়ের দিকে
তাকাতাম।
দেখতাম আমার মায়ের
দুচোখে জল চিকচিক
করছে।
আমি তাকালেই মা
মুখ ঘুরিয়ে নিত।
আঁচলে চোখ মুছতো
আমাকে আড়াল করে।
মাঝে মাঝে বলতো,
"বা'জান, চোকে মনে অয় সমেস্যা দেহা
দিচে।
খালি পানি পড়ে
চোক দিয়া।
কবে বড় অবি তুই
বা'জান?
আমারে মেম সাএব গো মতোন এককান
সসমা কিন্না দিবি কবে?"

আমার গলা ধরে আসে।
আমি তো জানি,
আমার মায়ের চোখের জলের উৎস।
আমাকে বড় হতে
হবে।
অনেক বড়।
অনেক......

প্লাস্টিক কারখানার চাকরি ছেড়ে
দিলাম।
মালিকটা খালি প্যানপ্যান করে।
কিছু হলেই মায়েরে নিয়া বাজে কথা বলে।
দিন চুক্তি রিক্সা নিলাম
জাবেদ চাচার থেকে।
স্কুলের সময় স্কুলে যেতাম।
বাকী সময় রিক্সা চালাতাম।

একদিন এক বড়লোকের ছেলে আর তার
গার্লফ্রেন্ড নিয়ে গ্রীনরোড থেকে
রবীন্দ্র সরোবর যাচ্ছিলাম।
রিক্সায় বসে বসে
তারা আজ কত টাকার শপিং
আর খাবার কিনেছে
তার হিসেব করছিলো।
আমি মনে মনে খুশি
হলাম।
ভাড়ার পাশাপাশি
চাইলে হয়তো কিছু বখশিসও পেতে পারি।
রবীন্দ্র সরোবরে এসে
বললাম,
স্যার নামেন।
ছেলেটি আর তার গার্লফ্রেন্ড নামলো।
ছেলেটি আমাকে একটা
দশ টাকার নোট ধরিয়ে
দিলো।
আমি বললাম,
স্যার, হয় না তো।
আরো দশটা টাকা দেন না।
লোকটি আমার গালে থাপ্পড় মারলো।
হয়তো এটাই বখশিস ছিলো।
লোকটির গার্লফ্রেন্ড বললো,
কি দরকার বাবু?
ছোটলোকদের গালে থাপ্পড় মারা?
ওদের গালে জীবানু থাকে তো।
কিছু বলিনি।
নীরবে চোখের জল ফেলেছি।
গরীবের জন্ম হয়,
মার খাবার জন্য।

জাবেদ চাচার গ্যারেজে রিক্সা জমা
দিয়ে এসে আমাদের বস্তির খুপরিতে
ঢুকলাম।
মা বাতাস দিতে লাগলো।
আমি মুড়ি খেয়ে পড়তে
বসলাম।
সামনেআমার এস.এস.সি পরীক্ষা।
অনেক কষ্টে
আমি আর মা
ফরমফিলাপের টাকা
জোগাড় করেছি।
আমি পড়ছি।
মা বাতাস করছেন।
মাঝে মাঝে মায়ের
চোখের দিকে তাকাই।
মায়ের দুচোখে রাজ্যের স্বপ্ন ভাসে।
যে স্বপ্নে বিভোর হয়ে মা সারাদিনের
কষ্ট আর
ক্লান্তি ভুলে যায়।
আর আমি আমার
মায়ের স্বপ্নভরা চোখের
দিকে তাকিয়ে আরো
অদম্য হয়ে উঠি।
জোরে পড়তে থাকি।

এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি দিলাম একসময়।
গোল্ডেন প্লাস পেয়েছিলাম।
পত্রিকাতে ছবিও দিয়েছিলো।
সাংবাদিক যখন এসেছিলো
ছবি নিতে ,
তখন গত রমজানে পাওয়া এক সাহেবের
যাকাতের টাকায়
কেনা শার্টটা
পরেছিলাম।
নতুন গন্ধ এখনো যায়নি
শার্টটা থেকে।
খুব সুন্দর একটা
ছবি উঠছিলো।
হয়তো নতুন
শার্ট নয়তো দামী
ক্যামেরার কারনে।

আমার মাকে এস.এস.সি এর রেজাল্টের পর
বলেছিলাম,
মা, আমি গোল্ডেন প্লাস পাইছি।
তখন আমার মা বলেছিলো,
"কিরুম্মা পিলাচ বা'জান?
ওই যে কারেন্টের কাম
করে?
কত বেচন যাইবো
পিলিচটা?
বেচতে পারলে
এক কেজি চাইল
কিনিস।
আজকে চাইল নাই।"


আমি কিছু বলতে পারিনি সেদিন।
কান্না চেপে ধরে রেখেছিলাম।
পরে মা চলে
যাবার পর চিৎকার
করে কেঁদেছিলাম।
ফুলবানু খালা
উঁকি মেরে অবাক
চোখে দেখছিলো
আমাকে।
ভেবেছিলো হয়তো বড়
পাশ দিছি,তাই আনন্দে কাঁদছি।

একদিন আমি রিক্সার উপর
বসে গামছা দিয়ে ঘাম
মুছছিলাম।
এমন সময় দেখলাম
আমার মা কোনো
এক সাহেবের
গাড়ির জানালার পাশে
দাড়িয়ে অনুনয় করছে।
"ছার,ও ছার....
আমার পোলারে ভাসিটিত ভত্তি
করামু,
কয়টা ট্যাহা দিয়া
সাহায্য করেন না.....
আল্লা আপনের মঙ্গল করবো।"
সাহেব কি বললো তা
আমি শুনিনি।
তবে আমার মাকে
ধাক্কা দিয়ে ফেলে
দিয়েছিলো।
আমার মায়ের হাত
ভেঙ্গে গিয়েছিলো
নিষ্ঠুর কালো পিচঢালা
রাস্তার উপর পরে।
যন্ত্রনায় কঁকিয়ে উঠেছিলো আমার মা।
আমি ছুটে গিয়ে
মাকে কোলে করে রিক্সায়
উঠিয়ে বস্তিতে নিয়ে আসলাম।
আমার মা ব্যাথায়
নয়,লজ্জায় চুপসে
গিয়েছিলেন।
কেননা,আমার সামনে
তিনি ধাক্কা খেয়েছিলেন।
এটা খুবই লজ্জাজনক।
ডাক্তার দেখাতে পারিনি টাকার জন্য।
প্রতিদিন ফুলবানু খালা
তেল গরম করে মায়ের
হাতে মালিশ করে দিতো।
যদিও মায়ের হাতটা আর সোজা হয়নি,
তবে ব্যাথা আস্তে আস্তে
কমে গিয়েছে।

আমি মাকে একটা টং দোকান ভাড়া করে
দিয়েছি।
সেখানে মা পান সিগারেট বিক্রি করে।

আমি ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি।
আমার অনেক বন্ধু।
একদিন স্যার আমাকে বললেন,
ফারাবী,তোমার নিজের সম্পর্কে বলো।
আমি সেদিন সব বলেছিলাম।
সেদিনের কথাগুলো বলার পর
আমার আর কোনো বন্ধু নেই।
তারা আমাকে ছেড়ে দিয়েছে।
কেমন করে যেনো কথা বলে।
একদিন তো সায়ান আবিরকে বলেছে,
দেখ আবির,ফারাবী ফকিন্নির পোলারে
পাত্তা দিবি না।
তারা হয়তো ভেবেছিলো,
আমিও কোনো বড়লোক নামক
গন্ডারের চামড়ার জাত।
কিন্ত না,
আমি ফকিন্নির সন্তান।

পিয়নের ডাকে বাস্তবে ফিরে এলাম।
এতক্ষন অতীতে ডুবে ছিলাম।
আমি এখন ম্যাজিস্ট্রেট।
বিসিএস পরীক্ষাতে উর্ত্তীন্ন হয়ে
সেদিনকার বড়লোক সায়ান আবিরদের
স্যার।
টাকা পয়সা,ধন সম্পদ,
মান সম্মান সব আছে।
আছে একটা হাত ভাঙ্গা
ভিখারী মা।
না,তিনি এখন ভিখারী নন,
তিনি এখন একজন ম্যাজিস্ট্রেট এর মা।

সেদিন পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দিলাম
পাত্রী চাই শিরোনামে।
ঠিকানা দিয়ে দিলাম।
কোনো এক পাত্রীর বাবা বাসায় এসে
হাজির পরদিন।
আমি আর আমার মা এবং বাসা সব কিছু
পছন্দ হলো উনার।
উনি উনার বাসার ঠিকানা দিলেন।
আমি আর মা পরদিন গেলাম।
কোনো একদিন আমি রিক্সা চালাতাম,
মা রিক্সায় বসে থাকতো।
আজ আমি নিজের গাড়ি নিজে চালাচ্ছি,
আমার মা পাশে বসে আছেন।
মেয়ের বাসার সামনে গাড়ি পার্ক করলাম।

ভেতরে ঢুকলাম।
মেয়ের বাবা সাদর সম্ভাষন জানালো।
মেয়ের মা আমাদেরকে নাস্তা দিলেন।
কিছুক্ষণ পর মেয়ে আসলো।
লম্বা ঘোমটা দেয়া।
বান্ধবীরা দুপাশে ধরে নিয়ে এসেছেন।
আমার মা বললেন,
ঘোমটা সরাতে।
মেয়ের একটা বান্ধবী ঘোমটা সরালো।
আমি মেয়ের দিকে তাকাতেই
চমহে উঠলাম।
এটা তো ইরি.....
যার পেছনে আমি আমার কলেজ জীবনে
ঘুরেছিলাম।
ইরি আমার দিকে তাকিয়ে হাঁসি দিলো ।
আচ্ছা,
সে কি আমাকে চিনেছে?
চেনার কথা নয়।
সেদিনকার কালো চিকন ফারাবী এখন
সাস্থ্যবান আর অনেক স্মার্ট।
আমি বললাম, মেয়ের সাথে আমি একটু কথা
বলবো।
সবাই রাজি হলো,
আমি আর ইরি ছাদে গেলাম।

আমি কয়েকটা কাঁশি দিলাম।
ইরিঃ পানি খাবেন?
আমিঃ নাহ্।
- কেমন আছেন?
- ভালো, তুমি?
- ভালো।
- কি করছো আজকাল ইরি?
- আপনি আমার এই নাম কোথায় পেলেন?
- কেনো?
- না, এম্নি।
- আমাকে তোমার পছন্দ হয়েছে?
- জ্বী।
- আমার পরিচয় জানো?
- আপনি একজন ম্যাজিস্ট্রেট।
এতটুকু জানি।
- নাহ্,এর বাইরেও কিছু পরিচয় আছে।
- কি সেটা? বলুন।
- আমি ফারাবী।
কোনো একসময় তোমার পেছন ঘুরতাম।
কোনো এক ভিখারীর সন্তান আমি।
চিনতে পেরেছো?
- আপনি?
আপনি কি করে এতো বড় হলেন?

আমি রহস্যময় একটা হাঁসি দিলাম।
যে হাঁসির অর্থ একেকজনের কাছে একেক
রকম।
আমি ছাদের উপর পায়াচারি করছি।
ইরির চোখে মুখে স্পষ্ট বিস্ময় আর
অবিশ্বাসের চাপ।
আমি দাড়িয়ে পড়লাম।
আকাসের পানে তাকিয়ে আছি।
আজকের বিকেলটা অনেক সুন্দর।
কিছু পাখি উড়ে যাচ্ছে মাথার উপর দিয়ে।
পাশের ছাদে কয়েকটা ছেলে মেয়ে
দাড়িয়ে আছে।
ইরির দিকে তাকাতে গিয়েও পারছি না।
হয়তো এখনো বিস্ময়ের ঘোর কাটেনি।
থাকুনা আপাতত কিছু সময় বিস্ময় আর
অবিশ্বাসের মাঝামাঝি।
প্রকৃতি মাঝে মাঝে মানুষকে হতবাক করে
দেয়।
এটাই হয়তো প্রকৃতির লীলা খেলা।
কোথাও যেনো একটা গান বাজছে,
"নদীর এপার ভাঙ্গে,
ওপার গড়ে-
এইতো নদীর খেলা।
সকাল বেলার ধনীরে
তুই-
ফকির সন্ধ্যা বেলা।"

লিখাঃ ক্যাপ্টেন ফারাবী

12/09/2016

ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন...!

12/09/2016

দামাদামি শেষে গরুর মালিক ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায় গরু দিতে রাজি হলেন। রতন সাহেব এবার খুব খুশি। ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছেন। এলাকার সবচে বড় কুরবানিটা উনিই দিচ্ছেন। মনে মনে প্র্যাক্টিস করছেন বারবার, লোকে দাম জিজ্ঞেস করলে কোন স্টাইলে বলবে। হাসিটা কেমন করে দিলে গরুর দামের সাথে মিলবে। এসব ভাবতে ভাবতে গরু নিয়ে বাসার দিকে হাঁটতে শুরু করলেন।
বাড়িতে ফোন করে বউকে বলে দিলেন, - ‌'হ্যালো শুনছো? গরু কেনা শেষ। সবাইকে বলে দিও, এবারে এলাকার সবচে বড় কুরবানিটা আমিই দিচ্ছি।' বউ আশপাশের বাসায় 'ভাবি-ভাবি' করে সেকি হুলুস্থুল কারবার। পরিবারের ছেলে মেয়েরা খবর পেয়ে বাড়ির গেইটে ভীড় করেছে। কখন গরু নিয়ে আসবে।
রতন সাহেব ইচ্ছে করেই গরুর সাথে পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন। আলাদা গেলে লোকে যদি আবার অন্য কাউকে মালিক ভেবে বসে! রাস্তায় কেউ দাম জিজ্ঞেস করলেও বলছেন। আবার না জিজ্ঞেস করলেও বলছেন। এতগুলো টাকা খরচ করে কুরবানি দেয়া হচ্ছে, লোকে যদি না-ই জানলো। তবে আর লাভ কী!
গরু নিয়ে বাড়িতে আসতে আসতে প্রায় রাত হয়ে গেলো। ফলে আশপাশের তেমন কেউ গরু দেখতে এলো না। ভাবছেন এবারের গরুটা বাড়ির সামনে জবাই না দিয়ে স্কুলের মাঠে সবার সাথে দিবেন। এতে গরুর দাম জানতে চাইবে অনেকে। চোখেও পড়বে ব্যপারটা।
রতন সাহেবের বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছেন। কখন সকাল হবে, প্রতিবেশীরা ভীড় করবে রতন সাহেবের গরু দেখার জন্য। সবাই গুনগুন করে বলবে, রতন সাহেবের গরুটাই এই এলাকার সবচে দামি।
হঠাৎ শুনলেন, দরজায় ঠক ঠক শব্দ। অবাক হলেন না রতন সাহেব। গরুর দাম শুনে এই মধ্যরাতে কেউ আসতেই পারে। দরজাটা খুললেই তো বলবে, '- আহা রতন সাহেব, কি একখান গরু কিনলেন ভাই, কাঁপায়া দিলেন তো' মুচকি হাসতে হাসতে দরজা খুললেন রতন সাহেব। খুলেই অবাক হয়ে গেলেন। কারণ, অপরিচিত একটা গ্রাম্য মানুষ এসেছে। চোখে-মুখে ঘাম, পায়ে জুতা নেই। একটু পর পর চোখ মুছছে লোকটা। গায়ে ময়লা কাপড়। সাথে ১১/১২ বছরে ছোট একটা ছেলে।
রতন সাহেব খুব বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
- কে আপনি?
- স্যার আমি আফনের গ্যারেজে রাখা গরুটার মালিক!
- মালিক মানে! আমি গতসন্ধ্যায় এত দাম দিয়ে কিনে নিয়ে এলাম, আর আপনি বলছেন 'গরুর মালিক!'
- না স্যার, আসলে আমি গরুটার মালিক আছিলাম, মানে গতসন্ধ্যায় আমিই গরুটা আফনের কাছে বিক্রি করছি।
- ও আচ্ছা, তো এত রাতে কেনো আসছো? ভুল করে টাকা কম দিয়েছিলাম? নাকি জাল নোট পড়েছে?
গ্রাম্যলোকটা চুপ করে আছে। চোখ থেকে পানি পড়ছে অনবরত।
রতন সাহেব বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
- আরে কী হয়েছে বলবা তো! কাপড়-চোপড় লাগবে? নাকি আরও টাকা চাও?
- না স্যার, আসলে গরুটারে একটু দেখতে আসছিলাম। আমার পোলাডায় সারা রাইত কিছু খায়নাই। বারবার গরুটারে দেখতে চাইতেছে। তাই এই রাইতে ৯ মাইল হাঁইট্যা আসছি স্যার।যদি কিছু মনে না করেন, আমারে একটু সুযোগ দিলে গরুটারে একটু দেইখ্যা যাইতাম।
রতন সাহেব নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন। গ্যারেজ খুলে দিলেন। গ্রাম্য লোকটা ভেতরে ঢুকেই গরুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন। ছোট ছেলেটাও কাঁদছে আর লোকটাকে জড়িয়ে ধরে বলছে, ‌'বাজান, ওই স্যাররে ট্যাকা ফেরত দিয়া দেও, আমি গরু নিয়া যামু! বাজান! ও বাজান! আমি গরু নিয়া যামু'
গ্রাম্যলোকটা তার ছেলেকে কোনো উত্তর দিতে পারছে না। শুধু কেঁদেই যাচ্ছে। রতন সাহেব দূর থেকে চুপচাপ দেখে যাচ্ছেন সব। বেশ কিছুক্ষণ পরে দুজন বেরিয়ে এলো। চোখ মুছতে মুছতে বললো,
- স্যার, আফনেরে কষ্ট দিলাম, মনে কিছু নিয়েন না।
- ও কি তোমার ছেলে?
- জী স্যার, একটা পোলাই। এইডারে পড়ালেখা করানোর জন্যই আদরের গরুটা বেইচ্যা দিলাম। গেলাম স্যার... দোয়া রাইখেন....
- একটু দাঁড়াও,
রতন সাহেব ঘর থেকে এক হাজার টাকার একটা নোট জোর করে ছোট ছেলেটার হাতে গুজে দিলেন। বললেন, ঈদের দিন এসে বাসায় খেয়ে যেয়ো। বিদায় দিয়ে রতন সাহেব ভেতরে ঢুকতে গেলেন। লোকটা আবার চিৎকার করতে করতে দৌঁড়ে এলো,
- স্যার স্যার, আরেকটা কথা স্যার,
- হ্যা, বলো,
- জবাইয়ের আগে গরুটারে একটু আস্তে ফালায়েন স্যার... অনেক আদরের গরু তো.....
এতটুকু বলেই লোকটা আবার কেঁদে উঠলো। আবার কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে রতন সাহেবকে সালাম দিয়ে রাস্তার দিকে হাঁটতে শুরু করলো গ্রাম্যলোকটা। রতন সাহেব অনেক দিন পরে অনুভব করলেন, নিজের চোখ দিয়ে টপটপ পানি পড়ছে।
গেইটের গ্রিলে ভর করে নিশ্চুপ তাকিয়ে আছেন,
সত্যিকারের কুরবানি দেয়া খালি পায়ের অচেনা মানুষটার দিকে...
(Collected)

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Demra Road, Jatrabari
Dhaka
1362