04/01/2023
"The Laws On Service In Bangladesh"
সিভিল, ক্রিমিনাল, রীট, কোম্পানি ম্যাটার কেস রেফারেন্স ~ হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্ট, ঢাকা
04/01/2023
"The Laws On Service In Bangladesh"
এসি(ল্যান্ড) অফিসের বিভিন্ন পদ ও পদবীর পরিচয়ঃ
#এসি (ল্যান্ড): এসি (ল্যান্ড) বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। প্রকৃত পক্ষে তার পুরো পদবী হলো সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা Assistant Commissioner (Land)।
1. তিনি কালেক্টর বা ডিসি এর প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন আইনের অধীনে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের কাজ করে থাকেন।
2. আপনার ভূমি সংক্রান্ত অধিকাংশ সমস্যার সমাধানের এখতিয়ার বা Authority এসি (ল্যান্ড) এর রয়েছে।
3. তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এডিসি (রেভিন্যু) এবং সর্বোপরি ডিসি বা জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে থেকে কাজ করেন।
#কানুনগো
কানুনগো একজন ২য় শ্রেণীর রাজস্ব কর্মকর্তা। এই পদবীটি সুপ্রাচীন। ফারসি ভাষায় কানুনগো শব্দের অর্থ যিনি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ বা দক্ষ। কানুনগো মূলতঃ মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিস সমূহ পরিদর্শন করে এসি (ল্যান্ড)কে রিপোর্ট করে থাকেন এবং এসি (ল্যান্ড)কে ভূমি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে থাকেন।
#সার্ভেয়ার
সার্ভেয়ার একজন ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী। সার্ভেয়ার জমি-জমার মাপজোক, নকশা প্রস্তুত ইত্যাদি কাজে অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন। কোন জমি নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে এসি (ল্যান্ড) তাকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলে থাকেন।
#নামজারি_সহকারী
নামজারি সহকারী একজন ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী। তিনি মূলতঃ এসি (ল্যান্ড) অফিসের মিউটেশন কেস নথি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকেন। অনেক সময় তিনি মিস কেসের (Miscellaneous Case) নথিও এসি (ল্যান্ড) এর নিকট উপস্থাপন করে থাকেন।
#নাজির
নাজির একজন ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী। তিনি এসি (ল্যান্ড) অফিসের রেকর্ড রুমের দায়িত্বে থাকেন। নামজারি কেস মঞ্জুরের পর তিনিই মিউটেশন পড়চা ও ডিসিআর সরবরাহ করে থাকে। রেকর্ড কারেকশনের দায়িত্বও তার। এসি (ল্যান্ড) অফিসের রেকর্ড বইসমূহ তার তত্ত্বাবধায়নে থাকে।
#চেইনম্যান
চেইনম্যান একজন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী। তিনি সাধারণত জমি মাপার কাজে সার্ভেয়ারকে সহায়তা করে থাকেন।
#প্রসেস_সার্ভার_বা_জারীকারক
প্রসেস সার্ভার বা জারীকারক একজন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী। তিনি মিউটেশন কেস, মিস কেস বা অন্য যে কোন নোটিশ ও চিঠিপত্র জারী করে থাকেন।
#এসি_ল্যান্ড_হালুয়াঘাট
#মুসলিম বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন ফি কত ?
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রেশন) আইন ১৯৭৪ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে ‘অন্য যে কোন আইন, রেওয়াজ বা প্রথায় যাহাই থাকুক না কেন মুসলিম আইন অনুযায়ী সম্পন্ন প্রতিটি বিবাহ এই আইনের বিধান অনুসারে রেজিষ্ট্রেশন করিতে হইবে’। বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন না করা এই আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ যার জন্য তিন মাস পর্যন্ত বিনা শ্রম কারাদন্ড বা ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় প্রকার দন্ডই হতে পারে।
কিন্তু এই রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য যে ফি প্রদান করতে হয় তার যথাযথ হিসাব না জানার কারণে অনেক সময় বিয়ের আসরে ঝামেলা হয়। রেজিষ্ট্রেশন ফি হিসাব করা হয় বিয়েতে নির্ধারিত দেনমোহরের উপর। দেনমোহর যতই নির্ধারিত হোক না কেন এর জন্য সর্বোচ্চ রেজিষ্ট্রেশন ফি হচ্ছে চার হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ফি পঞ্চাশ টাকা। দেনমোহরের প্রতি হাজারের জন্য ফি প্রদান করতে হয় ১০ টাকা।
যেমনঃ কারো দেনমোহর ৪০০০ টাকা হলে তাকে ফি দিতে হবে ৫০ টাকা (এ ক্ষেত্রে হাজার প্রতি ১০ টাকা করে হিসাব করলে হবে না)।
আবার কারো দেনমোহর ৪,০০,০০০ বা তার উর্দ্ধে যা হোক না কেন তাকে ফি পরিশোধ করতে হবে ৪০০০ টাকা (এ ক্ষেত্রেও প্রতি হাজারে ১০ টাকার হিসেব প্রযোজ্য নয়)।
অর্থাৎ চার হাজার থেকে চার লক্ষ টাকার মধ্যে হাজার প্রতি দশ টাকা হিসেব করে ফি ধার্য্য হয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কারো দেনমোহর এক লক্ষ টাকা হলে তাকে ফি পরিশোধ করতে হবে এক হাজার টাকা। এই ফি বর বা বর পক্ষকে পরিশোধ করতে হবে। রেজিষ্ট্রেশন ফি জমা দেয়ার পর কাজীর কাছ থেকে একটি প্রাপ্তি রশিদ বুঝে নেয়া উচিত হবে।
উল্লেখ্য সরকার বিয়ে রেজিষ্ট্রী ফি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সময়ে সময়ে পরিবর্তন করার অধিকার সংরক্ষণ করেন বিধায় এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জেনে রাখলে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা বা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
©©©
সুপ্রিম কোর্টে মামলা পরিচালনার পদ্ধতি:
~~কোনো বিচারপ্রার্থী জেলা জজ আদালতের রায়ে অসন্তোষ্ট হলে তিনি ন্যায় বিচারের আশায় উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারেন । এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি আগাম জামিন, অন্তর্বর্তীকালীন জামিন, রিট মামলা এবং জনস্বার্থে যেকোনো বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা যায়। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্টই হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালত। উচ্চ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির পরপর তা বাস্তবায়ন হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টের দুটি শাখা রয়েছে । একটি হাইকোর্ট বিভাগ এবং অপরটি আপিল বিভাগ । অনেক দেশে সুপ্রিম কোর্টের পরও ব্রিটেনের প্রিভি কাউন্সিলে আপীল করার সুযোগ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখন সেই ব্যবস্থা নেই। পাশের দেশ ভারতে একাধিক হাইকোর্ট থাকলেও বাংলাদেশে হাইকোর্ট একটি। হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগ দুটো একই এলাকায় অবস্থিত।
#যেসব বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়ঃ
সাধারণত জেলা জজ আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হলে তার পরে হাইকোর্ট বা উচ্চ আদালতে আপিল করা যায়। এ ছাড়া নিম্ন আদালতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা বাস্তবায়নে সরকার পক্ষ হাইকোর্টের অনুমোদনের জন্য আসতে পারে। আবার নিম্ন আদালতে চলমান বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েও উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা যায়। এ ছাড়া কিছু কিছু বিষয়ে হাইকোর্ট কোনো নির্দিষ্ট মামলার ব্যাপারে নিম্ন আদালতকে নির্দেশনা দেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে মামলাটিকে উচ্চ আদালতে নিয়ে আসেন। কিছু কিছু মামলা আছে যেগুলোতে সরাসরি হাইকোর্টে যেতে হয়, যেমন : কোম্পানি সংক্রান্ত মামলা, খ্রিস্টান বিবাহ সংক্রান্ত মামলা, এডমিরালিটি বা সমুদ্রগামী জাহাজ সংক্রান্ত মামলা। হাইকোর্টের মোট ৩৩টি বেঞ্চ রয়েছে। তন্মধ্যে বেশির ভাগই দ্বৈত বেঞ্চ। কয়েকটি একক বেঞ্চও রয়েছে। এসব বিচারকক্ষে বিচার সম্পন্ন হয়।
#রিটঃ
কোনো নাগরিক জনস্বার্থ বা ব্যক্তিগত বিষয়ে বা সরকারি-বেসরকারি কোনো সিদ্ধান্তে অসন্তোষ্ট হলে সংবিধানের ১০২ ধারা অনুসারে তিনি রিট দায়ের করতে পারেন। রিটের বিষয়টি মামলার মতো হলেও দুটির মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। কেউ যদি মনে করে সরকারের প্রণীত কোনো আইন প্রচলিত অন্য আইনের পরিপন্থী বা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, সে ক্ষেত্রেও আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করা যায়। অবশ্য কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে রিট এবং সাধারণ মামলা দুটিই করা চলে। রিটে খরচ কিছুটা বেশি হলেও সাধারণত দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।
#আগাম জামিনঃ
কোনো মামলায় জেলা জজ আদালত জামিন দিতে অস্বীকার করলে এর বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বা উচ্চ আদালতে আবেদন করলে আদালত জামিনের নির্দেশ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মামলাটি নিম্ন আদালতে চলতে থাকে, যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে বেরিয়ে আসার সুযোগ পান। সাধারণত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আগাম জামিনের সুবিধা পান। যদি কেউ আশঙ্কা করেন যে তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা হতে পারে, তবে তিনি আগে থেকেই হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। হাইকোর্ট গুরুত্ব বুঝে আগাম জামিনের নির্দেশ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা গেলেও ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায় না।
#অন্তর্বর্তীকালীন জামিনঃ
কোনো ব্যক্তি যেকোনো মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারেন। নিম্ন আদালত জামিন না দিলে সে ক্ষেত্রে তিনি হাইকোর্টবে জামিন চাইতে পারেন। হাইকোর্ট জামিন আবেদন বাতিল করলে তিনি আপিল বিভাগে জামিন চাইতে পারেন। ন্ম্নি আদালত থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত মামলার কয়েকটি স্তর। তবে আপিল বিভাগের রায় চূড়ান্ত।
#কারা মামলা করতে পারেনঃ
বাংলাদেশের সব আদালতে বিচার প্রার্থী ইচ্ছে করলে নিজের মামলা নিজে পরিচালনা করতে পারেন। আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইনগত দিক বুঝে আত্মপক্ষ সমর্থন বা নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণত বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক যেসব আইনজীবী উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছেন, শুধু তাঁরাই উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারেন।
#চেম্বার জজ:
হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের মধ্যবর্তী সেতু হলো চেম্বার জজ আদালত। কোনো মামলা হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হওয়ার পর আপিল করতে হলে প্রথমে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করতে হয় । এ ছাড়া আপিল বিভাগ ছুটিতে থাকাকালীন জরুরি বিষয়ে নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের একজন বিচারককে চেম্বার জজ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি আবেদনকারীর আবেদন বিবেচনা করে প্রয়োজনে নির্দেশ দেন, কিংবা নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য বিষয়টি পাঠিয়ে দেন। তিনি অফিস সময়ের বাইরেও আবেদন শুনতে পারেন, এমকি বাসায়ও আবেদন বিবেচনা করে রায় দিতে পারেন। তবে দেরি করলে আবেদনকারীর ক্ষতি হতে পারে কেবল এমন আবেদনই তিনি বিবেচনা করেন।
#আপিল বিভাগ:
হাইকোর্ট বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির পর কোনো পক্ষ অসন্তোষ্ট হলে তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশে আপিল বিভাগের রায় চূড়ান্ত রায়। তবে কোনো ব্যক্তি আপিল বিভাগের রায়ে অসন্তোষ্ট হলে একই বিভাগে পুনরায় রায়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন। যাকে আমরা রিভিউ হিসেবে জানি। বর্তমানে আপিল বিভাগে দুটি বেঞ্চ রয়েছে।
©©©
#ফৌজদারি মামলা ও আদালতসমূহ:
~~~ব্যক্তির অধিকার ও সম্পত্তির অধিকার ব্যতিত যেকোনো অপরাধ ফৌজদারি মামলার অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হাঙ্গামা, ব্যক্তির জীবন হরণ, অর্থসম্পদ লুটপাট ও যৌন হয়রানির অপরাধে ফৌজদারি মামলার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এক কথায় চুরি, ডাকাতি, খুন, জখম, প্রতারণা, দস্যুতা, লুটপাট, বিস্ফোরণ, ধর্ষণ, অপহরণ, বেআইনি সমাবেশ, যৌন হয়রানি, জালিয়াতি, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান প্রভৃতি অপরাধে যেসব মামলা দায়ের করা হয় তাকে ফৌজদারি মামলা বলা হয়। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে জেল জরিমানা, যাবজ্জীবন এবং মৃত্যুদণ্ড হয়ে থাকে।
ফৌজদারি মামলা
সাধারণত ফৌজদারি মামলায় দুইভাবে চিহ্নিত করা হয়, আমলযোগ্য ও আমল অযোগ্য মামলা। আবার আমলযোগ্য মামলাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, একটি জি আর বা পুলিশি মামলা অন্যটি সি আর বা নালিশি মামলা।
আমলযোগ্য মামলা
আইন মোতাবেক কিছু অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারবে। এসব ক্ষেত্রে থানার ভারপ্রাপ্ত র্কমর্কতা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে থাকেন। এসব অপরাধে যে মামলা হয় তাকে আমলযোগ্য মামলা বলা হয়।
আমল অযোগ্য মামলা
কিছু অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারে না। অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে প্রসিকিউিশন ওয়ারেন্ট বা নন-এফআইআর মামলা আদালতে দাখিল করেন। এগুলো আমল অযোগ্য মামলা। এ ধরনের অপরাধের মামলা কোর্টের নন-জিআর রেজিস্ট্রারভুক্ত হয়ে পরিচালিত হয় বলে এ মামলাকে নন-জিআর মামলা বলা হয়।
নালিশি বা সিআর মামলা
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি গিয়েও কোর্ট ফি দিয়ে বিচার প্রার্থনা করা যায়। এ ক্ষেত্রে কার্যবিধির ২০০ ধারায় শপথ নিয়ে আবেদনের উল্টো পিঠে জবানবন্দি রেকর্ড করতে হয়। কোর্ট রেজিস্ট্রার মামলা নথিভুক্ত করে পরিচালিত হওয়ার কারণে এগুলোকে সিআর মামলা বলা হয়।
পুলিশি মামলা
থানার ভারপ্রাপ্ত র্কমর্কতার কাছে এজাহার দায়েরের মাধ্যমে যে মামলা শুরু হয় তাই পুলিশি মামলা নামে পরিচিত। পুলিশি মামলাকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটি হলো জিআর ও নন জিআর মামলা।
জিআর মামলা
কোনো আমলযোগ্য অপরাধ ঘটার খবর পেলে থানার ভারপ্রাপ্ত র্কমর্কতা কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুসারে মামলা করে আদালতে এফআইআর দাখিল করে কার্যবিধির ১৫৬ ধারা অনুসারে মামলার তদন্ত শুরু করেন। এটাই জিআর মামলা। থানা থেকে এফআইআর আদালতে আসার পর কোর্ট ইন্সপেক্টর/সাব-ইন্সপেক্টর বা জিআর, জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার উক্ত এফআইআরটি মামলা হিসেবে কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি করে তা দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে আনেন।
নন জিআর মামলা
আমলযোগ্য মামলা সংঘটিত হওয়ার সংবাদ পেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেটিকে এজাহার হিসেবে গণ্য না করে পুলিশি প্রবিধান ৩৭৭ অনুসারে জিডি এন্ট্রি করে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন রিপোর্ট দায়ের করতে পারেন। এগুলো নন-জিআর মামলা নামে পরিচিত।
ফৌজদারি মামলা পরিচালিত হয় যে আদালতে
ফৌজদারি মামলাগুলো সাধারণত চারটি আদালতে পরিচালিত হয় তা হলো
১। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২। হাইকোর্ট বিভাগ ৩। দায়রা জাজ আদালত ৪। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
জেলা পর্যায় যে বা যারা ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করেন তাদের সেশন কোট বা দায়রা আদালত বলে। এই আদালতের বিচারকরা হলেন : ১। দায়রা জজ : যিনি জেলা পর্যায়ে ক্রিমিনাল মামলার প্রধান বিচারক। ২। অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩। যুগ্ম দায়রা জজ।
দায়রা জজ আইন আরোপিত সব ধরনের শাস্তি দিতে পারেন। শুধু ডেথ পেনাল্টির কার্যকর করার ক্ষেত্রে হাইকোটের অনুমতি লাগবে। যুগ্ম দায়রা জজ ডেথ পেনাল্টি বা ১০ বছরের বেশি কারাদণ্ডাদেশ দিতে পারবেন না।
মেট্রোপলিটন এলাকার ম্যাজিস্ট্রেটের শ্রেণি বিভাগ নিম্নরূপ : ১। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) ২। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
অন্যদিকে মেট্রোপলিটন বা মহানগর এলাকার বাইরের ম্যাজিস্ট্রেটরা বা জেলা আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত : ১. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২. অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রটদের মধ্যে রয়েছেন : ১. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ২. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, ৩. দ্বিতীয় শ্রেণির মেজিস্ট্রেট ও ৪. তৃতীয় শ্রেণির মেজিস্ট্রেট।
প্রথম শ্রেণির মেজিস্ট্রেট নির্জন কারাবসসহ পাঁচ বছরের অনধিক কারাদণ্ড দিতে পারবেন এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবেন। দ্বিতীয় শ্রেণির মেজিস্ট্রেট নির্জন কারাবাসসহ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবেন। তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক দুই বছরের সাজা এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবেন। কোনো আসামি যদি জরিমানার টাকা দিতে না চান সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের টাকা অনাদায়ের জন্য আসামিকে দণ্ডদানের যে ক্ষমতা রয়েছে তার এক-চর্তুথাংশের বেশি দিতে পারবেন না। অর্থাৎ কারো কারাদণ্ড যদি ২ বছরের হয় এবং এর সঙ্গে অর্থদণ্ডও হয় সে ক্ষেত্রে আসামি যদি অর্থ দিতে না পারে তাহলে মেজিস্ট্রেট বাড়তি আরো সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিতে পারবেন।
©©©
√√দেওয়ানী কার্যবিধি মূলত দেওয়ানী আদালত সমূহ কি প্রক্রিয়ায় বিচার কাজ পরিচালনা করবে সে বিষয়ে আলোচনা করে। যখন কোন মোকদ্দমার উৎপত্তি হয় তখন কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তির সমষ্টি প্রতিকারের আশায় দেওয়ানী আদালতে প্রতিকার প্রার্থনা করে। আদালত উক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তি সমষ্টির প্রার্থিত প্রতিকার প্রদানযোগ্য কিনা উহা নিরূপণ করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করে এবং এই প্রক্রিয়ায় দেওয়ানী আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। দেওয়ানী আদালত সব সময় দেওয়ানী প্রকৃতির মোকদ্দমার বিচার করে থাকে। এখন আসুন জেনে নেয়া যাক-
#দেওয়ানি আদালতের মামলাঃ
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ
ঘোষণা মামলা
দলিল বাতিল
দলিল সংশোধন
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
বাটোয়ারা মামলা
চুক্তি রদ
সুনির্দিষ্ট চুক্তি প্রবলের মামলা
দখল পুনঃরুদ্ধার সংক্রান্ত মামলা
ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা
ইজমেন্ট মামলা
টাকা মামলা
অগ্রক্রয় মামলা
হক সুফা অগ্রক্রয় মামলা
অর্পিত সম্পত্তি পুনঃরুদ্ধার মামলা
ভুমি জরিপ সংক্রান্ত মামলা
আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা মামলা
ক্ষুদ্র মামলা
আর্বিট্রেশন মামলা
সাকসেশন মামলা
পারিবারিক মামলা
বিবাহ বিচ্ছেদ
দেন-মোহর
খোরপোষ
অভিভাবকত্ব
দাম্পত্য অধিকার পুনঃরুদ্ধার মামলা
অফিস সংক্রান্ত মামলা
ঘোষনা মামলা
আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা
স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা
চুক্তি রদ সংক্রান্ত মামলা
----------------------------------
#কোন_আদালতে_যাব?
জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও অফিস সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে
মামলার মুল্যমান- ১- ২০০০০০/- টাকা পর্যন্ত সহকারী জজ আদালত
মামলার মুল্যমান- ২০০০০১- ৪০০০০০/- টাকা পর্যন্ত সিনিয়র সহকারী জজ আদালত
মামলার মুল্যমান- ৪০০০০১- অসীম – যুগ্ম জেলা জজ আদালত
পারিবারিক মামলা
সাকসেশন মামলা
এখতিয়ার সম্পন্ন যুগ্ম জেলা জজ আদালত
আর্বিট্রেশন মামলা
এখতিয়ার সম্পন্ন যুগ্ম জেলা জজ আদালত l
©©©
#ফৌজদারি মামলা ? কোন আদালতে ফৌজদারি মামলা পরিচালিত হয়?
√সাধারন ভাষায় কোন ব্যক্তিকে যখন মারামারি, চুরি,ডাকাতি,খুন, যখম, প্রতারনা, দস্যুতা, রেইপ,
অপহরণ, বে-আইনি সমাবেশ, ইভ-টিজিং ,
জালিয়াতি, মিথ্যা সাক্ষ্যদান প্রভুতি অপরাধে
দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্বে মামলা দায়ের
করা হয় তাকে বলে ফৌজদারি মামলা ক্রিমিনাল
কেস।
পেনাল কোডে অপরাধ এবং এর শাস্তির পরিমাণ
উল্লেখ আছে কিন্তু কিভাবে অপরাধিকে শাস্তি
দেয়া হবে তার কথা উল্লেখ আছে কোড অফ
ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ বা ফৌজদারি
কার্যবিধিতে।
ব্যাপক ভাবে ক্রিমিনাল আদালত তিনভাগে
বিভক্ত: (ধারা-৬)
ব্যক্তির অধিকার ও সম্পত্তির অধিকার ব্যতিত যেকোনো অপরাধ ফৌজদারি মামলার অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হাঙ্গামা, ব্যক্তির জীবন হরণ, অর্থসম্পদ লুটপাট ও যৌন হয়রানির অপরাধে ফৌজদারি মামলার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এক কথায় চুরি, ডাকাতি, খুন, জখম, প্রতারণা, দস্যুতা, লুটপাট, বিস্ফোরণ, ধর্ষণ, অপহরণ, বেআইনি সমাবেশ, যৌন হয়রানি, জালিয়াতি, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান প্রভৃতি অপরাধে যেসব মামলা দায়ের করা হয় তাকে ফৌজদারি মামলা বলা হয়। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে জেল জরিমানা, যাবজ্জীবন এবং মৃত্যুদণ্ড হয়ে থাকে।
প্রকৃতপক্ষে ফৌজদারী মামলাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়, একটি আমলযোগ্য মামলা, অন্যটি আমল অযোগ্য মামলা। আবার আমলযোগ্য মামলাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়, একটি জি আর বা পুলিশী মামলা অন্যটি সি আর বা নালিশী মামলা।
১) আমলযোগ্য মামলা:
আইন মোতাবেক কিছু অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে থাকেন। এসব অপরাধে যে মামলা হয় তাই আমলযোগ্য মামলা। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪(১) উপধারায় ক্লজ চ-এ আমলযোগ্য মামলা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
২) আমল অযোগ্য মামলা:
কিছু অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে না। অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে প্রসিকিউশন রিপোর্ট বা নন-এফআইআর মামলা আদালতে দাখিল করে। এগুলো আমল অযোগ্য মামলা। এধরনের অপরাধের মামলা কোর্টের নন-জিআর রেজিস্টার ভুক্ত হয়ে পরিচালিত হয় হয় বলে এ মামলাকে নন-জিআর মামলা বলা হয়। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪ (১) উপধারার ক্লজ ঢ-এ আমল অযোগ্য মামলা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
নালিশী বা সিআর মামলা:
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি গিয়েও কোর্ট ফি দিয়ে বিচার প্রার্থনা করা যায়। এক্ষেত্রে কা:বি: ২০০ ধারায় শপথ নিয়ে আবেদনের উল্টো পিঠে জবানবন্দি রেকর্ড করতে হয়। কোর্ট রেজিস্টারে মামলা এন্ট্রি হয়ে পরিচালিত হওয়ার কারণে এগুলোকে সিআর মামলা বলা হয়।
পুলিশী মামলা:
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে এজাহার দায়েরের মাধ্যমে যে মামলা শুরু হয় তাই পুলিশী মামলা নামে পরিচিত। পুলিশী মামলাকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়:
ক) জি আর মামলা:
থানায় কোন আমলযোগ্য অপরাধ ঘটার খবর পেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কা:বি: ১৫৪ ধারা অনুসারে মামলা করে আদালতে এফআইআর দাখিল করে কা:বি: ১৫৬ ধারা অনুসারে মালার তদন্ত শুরু করেন। এটিই জি আর মামলা। থানা থেকে এফআইআর আদালতে আসার পর কোর্ট ইন্সপেক্টর/সাব-ইন্সপেক্টর বা জিআরও (জেনারেল রেজিস্টার অফিসার) উক্ত এফআইআর-টি মামলা হিসেবে কোর্টের জেনারেল রেজিস্টারে এন্ট্রি করে তা দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেট এর নজরে আনেন।
খ) নন জি আর মামলা:
আবার থানায় আমলযোগ্য মামলা সংঘটিত হওয়ার সংবাদ পেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেটিকে এজাহার হিসেবে গণ্য না করে পুলিশ প্রবিধান এর প্রবিধি ৩৭৭ অনুসারে জিডি এন্ট্রি করে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন রিপোর্ট দায়ের করতে পারেন। এগুলো নন-জিআর মামলা নামে পরিচিত।
ফৌজদারি মামলা পরিচালিত হয় যে আদালতে
ফৌজদারি মামলাগুলো সাধারণত চারটি আদালতে পরিচালিত হয় তা হলো
১। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২। হাইকোর্ট বিভাগ ৩। দায়রা জাজ আদালত ৪। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
জেলা পর্যায় যে বা যারা ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করেন তাদের সেশন কোট বা দায়রা আদালত বলে। এই আদালতের বিচারকরা হলেন : ১। দায়রা জজ : যিনি জেলা পর্যায়ে ক্রিমিনাল মামলার প্রধান বিচারক। ২। অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩। যুগ্ম দায়রা জজ।
দায়রা জজ আইন আরোপিত সব ধরনের শাস্তি দিতে পারেন। শুধু ডেথ পেনাল্টির কার্যকর করার ক্ষেত্রে হাইকোটের অনুমতি লাগবে। যুগ্ম দায়রা জজ ডেথ পেনাল্টি বা ১০ বছরের বেশি কারাদণ্ডাদেশ দিতে পারবেন না।
মেট্রোপলিটন এলাকার ম্যাজিস্ট্রেটের শ্রেণি বিভাগ নিম্নরূপ : ১। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) ২। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
অন্যদিকে মেট্রোপলিটন বা মহানগর এলাকার বাইরের ম্যাজিস্ট্রেটরা বা জেলা আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত : ১. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২. অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রটদের মধ্যে রয়েছেন : ১. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ২. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, ৩. দ্বিতীয় শ্রেণির মেজিস্ট্রেট ও ৪. তৃতীয় শ্রেণির মেজিস্ট্রেট।
প্রথম শ্রেণির মেজিস্ট্রেট নির্জন কারাবসসহ পাঁচ বছরের অনধিক কারাদণ্ড দিতে পারবেন এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবেন। দ্বিতীয় শ্রেণির মেজিস্ট্রেট নির্জন কারাবাসসহ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবেন। তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক দুই বছরের সাজা এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবেন। কোনো আসামি যদি জরিমানার টাকা দিতে না চান সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের টাকা অনাদায়ের জন্য আসামিকে দণ্ডদানের যে ক্ষমতা রয়েছে তার এক-চর্তুথাংশের বেশি দিতে পারবেন না। অর্থাৎ কারো কারাদণ্ড যদি ২ বছরের হয় এবং এর সঙ্গে অর্থদণ্ডও হয় সে ক্ষেত্রে আসামি যদি অর্থ দিতে না পারে তাহলে মেজিস্ট্রেট বাড়তি আরো সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিতে পারবেন।
©©©
#স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত দেওয়ানী মামলাঃ
--------------------------------------------------
দেওয়ানী আদালতের প্রায় ৯০ ভাগ মামলায় জমি জমা সংক্রান্ত। জমিজমা সংক্রান্ত কিছু দেওয়ানী মামলার তালিকা এখানে দেয়া হলো। এখানে এসবের বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই। অবশ্য এ তালিকার বাইরেও জমি-জমা সংক্রান্ত আরো অনেক মামলা রয়েছে।
(১) অগ্রক্রয় মামলা:
-------------------
খতিয়ানভুক্ত ওয়ারিশগন ও পার্শ্ববর্তী জমির মালিক ব্যতীত
আগন্তুক লোকের নিকট জমি বিক্রয় করলে ওয়ারিশগন বা
পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আদালতে অগ্রক্রয়ের মামলা
করতে পারবেন।
(৩) স্বত্বের মামলাঃ
-----------------
কোন জমিতে কারো স্বত্ব থাকলে স্বত্ব ঘোষণাসহ খাস
দখলের মামলা করতে পারেন।
(৩) খাস দখলের মামলাঃ
------------------------
কেউ তার দখলীয় জমি হতে বেদখল হলে এ মামলা করতে
পারেন।
(৪) ঘোষণার মামলাঃ
--------------------
কারো স্বত্বের উপর কোনরূপ প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হলে এ
মামলার মাধ্যমে তা নিরসন করা যায়।
(৫) অনুমতি দখলকার উচ্ছেদের মামলাঃ
---------------------------------------------
কারো জমিতে অন্য কাউকে থাকার অনুমতি দিলে
পরবর্তীতে ঐ অনুমতি দখলকার যদি জমির দখল ছাড়তে
না চান, তাহলে এ মামলা করতে হয়।
(৬) বাটোয়ারা মোকদ্দমাঃ
-------------------------
সহ-শরীক বা ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ-বন্টনের নিমিত্তে এ
মামলা।
(৭) দলিল বাতিল করনের মামলাঃ
-----------------------------------
কেউ তঞ্চকতামূলক কোন ফেরবী দলিল সৃজল করলে এ
মামলা।
(৮) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলাঃ
-----------------------------------
কাউকে তার স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি থেকে অন্য কেউ
বেদখল করতে চাইলে এ মামলা।
(৯) চুক্তি প্রবলের মামলাঃ
--------------------------
কেউ বায়নানামা বা অন্য কোন চুক্তি করার পর পরবর্তীতে
জমি রেজিস্ট্র্রী দিতে অস্বীকার করলে এ মামলা।
জমি-জমা সংক্রান্ত মামলা বলতেই দেওয়ানী মামলা বুঝায়। কিন্তু জমি জমার জন্যে মাঝে মধ্যে অবস্থার প্রেক্ষিতে ফৌজদারী মামলাও করতে হয়।
©©©
#দলিল বাতিল কেনো করবেন এবং প্রক্রিয়া:
√√√মনে করুন, আপনার একটি দলিল বা আইনি ডকুমেন্ট ছিল, যা অন্যের হস্তগত হয়েছে, কিংবা সেটির এমন পর্যায়ে রয়েছে, যার কার্যকারিতা বহাল থাকলে আপনার জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। দলিল বাতিল করার এরকম কোনো প্রয়োজন পড়লে দেওয়ানি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে কাজটি করা যায়। বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন মারুফ আল্লাম
দৃশ্যপট-১
মনির সাহেব একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তার বয়স চলি্লশেরও বেশি। এরকম বয়সে শরীরে নানা রকম রোগবালাই বাসা বাঁধে। মনির সাহেবেরও তাই হয়েছে। ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বেশকিছু শারীরিক সমস্যায় তিনি আক্রান্ত। এমন সময় তার মনে হলো একটা লাইফ ইন্স্যুরেন্স করবেন। ইন্স্যুরেন্স প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি কথা বলে বুঝলেন, তার লাইফ ইন্স্যুরেন্স করতে হলে তার শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে বেশ কিছু মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেসব রিপোর্টে তার শারীরিক বড় রকমের ত্রুটি পাওয়া গেলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি তার লাইফ ইন্স্যুরেন্স করবে না। বিষয়টা মনির সাহেবকে খুব ভাবিয়ে তুলল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন অসদুপায় অবলম্বন করবেন। ঢাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বড় কর্তার সঙ্গে তার দহরম-মহরম সম্পর্ক। তাকে দিয়ে তিনি অনেক ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করে নিলেন, যেগুলোতে তাকে সুস্থ হিসেবে সনদ দেয়া হলো। এই রিপোর্টগুলোর ভিত্তিতে তার লাইফ ইন্স্যুরেন্স হয়ে গেল। কিছুদিন পর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি কোনো মাধ্যম থেকে জানতে পারল যে, যেসব ডকুমেন্টের ভিত্তিতে ইন্স্যুরেন্স পলিসি সম্পাদন করা হয়েছে, সেগুলো প্রতারণামূলক। এখন এই পলিসির কী হবে?
দৃশ্যপট-২
শামিম সাহেব তার জীবদ্দশায় কিছু সম্পত্তি আবেদ সাহেবকে দান করে গিয়েছিলেন। আবেদ সাহেব সেই সম্পত্তি সালাম সাহেবের বরাবর উইল করে মারা যান। আবেদ সাহেবের মৃত্যুর পর জাহিদ সাহেব সেই সম্পত্তির দখল নিয়ে নেন এবং সম্পত্তিতে সালাম সাহেবের স্বত্ব অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, তিনি একটি ভুয়া ট্রাস্ট দলিল তৈরি করেন, যার মাধ্যমে দাবি করা হয়_ শামিম সাহেব আবেদ সাহেবকে ওই সম্পত্তির ট্রাস্টি নিয়োগ করেছিলেন এবং জাহিদ সাহেবকে তার সুবিধাভোগী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ ধরনের ভুয়া ট্রাস্ট দলিলের ফলে সম্পত্তিতে সালাম সাহেবের স্বত্ব হুমকির মুখে পড়ে। এমন অবস্থায় সালাম সাহেব কী করতে পারেন?
উপরিউক্ত দুই ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও সালাম সাহেব চাইলে যথাক্রমে ইন্স্যুরেন্স পলিসি ও ট্রাস্ট দলিল বাতিলের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। মনে করুন, আপনার একটি দলিল বা আইনি ডকুমেন্ট ছিল, যা অন্যের হস্তগত হয়েছে, কিংবা সেটির এমন পর্যায়ে রয়েছে, যার কার্যকারিতা বহাল থাকলে আপনার জন্য সমস্যার তৈরি হতে পারে। দলিল বাতিল করার এরকম কোনো প্রয়োজন পড়লে দেওয়ানি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে কাজটি করা যায়।
আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারা থেকে ৪১ নাম্বার ধারা পর্যন্ত আদালত কর্তৃক দলিলাদি বাতিলিকরণ সম্পর্কে বিধান বর্ণিত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ নাম্বার ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে সেটি তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে, সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারেন এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং এবং 'চুক্তি বিলুপ্ত' হিসেবে ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করতে পারে।
দলিলটি যদি রেজিস্ট্রেশন আইন অনুসারে রেজিস্ট্রিকৃত হয়ে থাকে, তাহলে আদালত ডিক্রির একটি কপি সেই সংশ্লিষ্ট অফিসারের কাছে প্রেরণ করবেন, যার অফিসে উক্ত দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে এবং সেই অফিসার সেই বইয়ে দলিলের নকলে সেটির বিলুপ্তির বিষয় লিপিবদ্ধ করবেন।
মামলা করতে হবে কতদিনের মধ্যে
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ৯১ ধারা অনুসারে যে দলিল বাতিলের জন্য প্রার্থনা করা হয়, সে দলিল সম্পর্কে জানার বা অবগত হওয়ার তিন বছরের মধ্যে মামলা দাখিল করতে হবে, নয়তো এ ধরনের মামলা তামাদি হয়ে যাবে এবং এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না। অবশ্য এ ধরনের মামলা তামাদি হয়ে গেলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ নাম্বার ধারা অনুসারে 'ডিক্লেরেশন মামলা' বা ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করে ভিন্নভাবে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ আছে।
কোর্ট ফি
নালিশী দলিলে যিনি পক্ষে থেকে উক্ত দলিলে রদ বা বাতিলের জন্য মামলা করেন, সে ক্ষেত্রে কোর্ট ফি অ্যাক্টের বিধান মতে 'এডভোলেরম কোর্ট ফি' প্রদান করে মামলা দায়ের করতে হবে। উল্লেখ্য, এডভোলেরম কোর্ট ফি বলতে বোঝায় সম্পত্তির মূল্যমান অনুসারে আরোপকৃত কোর্ট ফি। সম্পত্তির মোট মূল্যের ২ শতাংশ বাবদ যে পরিমাণ আসে, সেই অর্থ এবং সেই অর্থের ওপর অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ মিলিয়ে যে পরিমাণ দাঁড়াবে, সেটাই হবে কোনো মামলার কোর্ট ফি। তবে কোনো সম্পত্তির মূল্যমান যত বেশিই হোক না কেন, দলিল বাতিলের মামলায় সর্বোচ্চ কোর্ট ফি হবে ৪৬,০০০ টাকার বেশি হবে না।
বাদী যদি নালিশী কবলায় কোনো পক্ষ না থাকেন এবং উক্ত দলিল তার ওপর বাধ্যকর নয় মর্মে বিজ্ঞাপনী ডিক্রির প্রার্থনা করেন, সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোর্ট ফি প্রদানে মামলা করা যাবে।
৩৯ ডিএলআরের 'সুফিয়া খানম চৌধুরী বনাম ফাইজুন্নেছা চৌধুরী মামলা'র সিদ্ধান্ত অনুসারে, কোনো দলিল রদের প্রার্থনা ছাড়াই শুধু উক্ত দলিল বাতিল মর্মে ঘোষণার মামলা চলতে পারে। তবে যদি দেখা যায় যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ নাম্বার ধারা অনুসারে উক্ত দলিল রদের ঘোষণা দরকার কিন্তু এ ধরনের কোনো প্রার্থনা করা হয়নি, সে ক্ষেত্রে বাদীকে অতিরিক্ত কোর্ট ফি প্রদান করতে বলা হবে।
©©©