“কুরআনকে কুরআনের ভাষায় বুঝার গুরুত্ব ও তাৎপর্য” শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা।
▪️আলোচক:
শাহীনা আখতার
প্রশিক্ষক, ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টার
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
📌 শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য
🗓 তারিখ: ৪ জুন ২০২৬
🕘 সময়:সকাল ৯:৩০ মিনিট
📍স্থান:
প্রফেসর আমিনুল ইসলাম সেমিনার হল
নলেজ টাওয়ার, লেভেল–৬
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
বিরুলিয়া, সাভার, ঢাকা
আয়োজনে: ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টার।
DIU Islamic Library -Female Zone
যে ব্যক্তি ইলম(জ্ঞান) অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে,আল্লাহ তার জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।
[সহীহ মুসলিমঃ২৬৯৯]
27/05/2026
تَقَبَّلَ اللّهُ مِنَّا وَ مِنْكُمْ
উচ্চারণ : ‘তাক্বাব্বালাল্লহু মিন্না ওয়া মিনকুম।✨🌸
অর্থ : ‘আল্লাহ তা'আলা আমাদের ও আপনাদের নেক আমল তথা ভাল কাজগুলো কবুল করুন
(আমিন)
রমাদানের পর বছরের শ্রেষ্ঠ ১০ দিন! জিলহজের প্রথম দশক 🌱
প্রিয় বোনেরা,
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ফজরে জিলহজের প্রথম দশ রাতের শপথ করেছেন, যা থেকে এই দিনগুলোর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য সহজেই অনুমেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "জিলহজের প্রথম ১০ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো সময়ের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয়।"
এই বরকতময় দিনগুলোতে আমাদের করণীয় ও আমলগুলো হতে পারে এমন:
▪️প্রত্যেক ভালো কাজ শুরুর পূর্বে নিয়ত করা।আগামী দিনগুলোর প্রত্যেক ভালো কাজ ইবাদাত, জিকির,তিলাওয়াত, দান সাদাকা যাই করা হউক না কেন সওয়াবের উদ্দেশ্য নিয়ে নিয়ত করে শুরু করা।আমাদের আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল এবং ফলাফল পরিণতির উপর নির্ভরশীল।
▪️ ১ থেকে ৯ জিলহজের রোজা রাখা। এই ৯ দিন রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। বিশেষ করে ৯ জিলহজ, অর্থাৎ আরাফার দিনের রোজা। রাসুল (সা.) বলেছেন, আরাফার দিনের রোজার বিনিময়ে আল্লাহ বান্দার পেছনের এক বছর ও সামনের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেন।
▪️অধিক পরিমাণে তাকবির পাঠ করা। ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।
তাকবির: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
▪️চুল ও নখ না কাটা। যারা কোরবানি দেবেন, তাদের জন্য জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি দেওয়া পর্যন্ত শরীরের কোনো পশম বা লোম ও নখ না কাটা মুস্তাহাব বা সুন্নত।
▪️নফল ইবাদত ও দান-সদকা করা। এই দিনগুলোর প্রতিটি নফল রোজা এক বছরের রোজার সমান এবং প্রতিটি রাতের ইবাদত ‘শবে কদর’-এর ইবাদাতের মতো । তাই বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত,
তাহাজ্জুদসহ নফল সালাত ও দান-খয়রাত করা।
▪️আল্লাহর জিকির: রাসুল (সা.) এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন।এছাড়াও এই দিনগুলোতে অধিক পরিমাণে অনান্য জিকির করা।
▪️ তওবা ও ইস্তেগফার: জীবনের সব ধরনের ছোট-বড় পাপ থেকে খাঁটি মনে তওবা করা এবং অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার পাঠ করা।
▪️সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি করা।১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তাদের কোরবানি আদায় করা।
আমাদের কারো হজে যাওয়ার সৌভাগ্য না হলেও, ঘরে বসেই এই দিনগুলোকে কদর করে আমলের মাধ্যমে আমরা সমপরিমাণ নেকি হাসিল করতে পারি।এছাড়াও আমাদের যাদের দোআ কবুল হয় না বা হওয়ার প্রত্যাশী রয়েছি, তারা এইদিনগুলোতে অধিক পরিমাণে প্রত্যেকটি নেক চাওয়া ধরে ধরে রবের দরবারে কান্নাকাটি করে দোআ করতে পারি ইন শা আল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই দিনগুলো পরিপূর্ণ আমল ও ইবাদতের সাথে কাটানোর এবং এর বরকত ও নিয়ামত হাসিল করার তৌফিক দান করুন! আমিন।
আমরা পূর্বসূরী পুণ্যবান মনীষীদের ইতিহাস পড়ে তাদের কষ্ট-ক্লেশ, জ্ঞান অর্জন, ইবাদাত-বন্দেগী, দুনিয়াবিমুখতা এবং আকাশছোঁয়া মনোবল দেখে বিস্ময়ে বিহ্বল হয়ে যাই। প্রকৃতপক্ষে এখানে আশ্চর্যের কিছু নেই। কারণ, তাঁরা এমন নারীদের জঠরে জন্মেছেন, এমন পবিত্র নারীদের দুধপান করেছেন, এমন নিষ্ঠাবান নারীদের ছত্রছায়ায় লালিত-পালিত হয়েছেন, যাঁরা নিজেরাই ছিলেন আল্লাহর ওলী। তাঁরা নিজেরাই একেক জাতির সমতুল্য ছিলেন। তাহলে কেন তাদের সন্তানাদি এমন হবেন না? কেন আমগাছে আম-ই ফলবে না? আল্লাহর ওলীদের গর্ভ থেকে আল্লাহর ওলী বের হবেন, এ আর আশ্চর্যের কী! আর বেহায়া নারীর গর্ভে বেহায়া পাপাচারীই পয়দা হবে। আর এখানেই রয়েছে উম্মাহর মূল অসুখ,,,,!!
07/05/2026
মা শা আল্লাহ।
আমাদের লাইব্রেরির নতুন সদস্যদের এক অংশ। বইগুলোর দিকে তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যায়, না জানি পড়তে কতটা সুন্দর 🌸
আর হ্যাঁ, ইনবক্সে এসে,,,"আপুউ,এই বইটা আমার জন্য রাখুন "--- বলার আগে
আগের বইগুলো কোথায় আছে একটু খোঁজ নিন তো,,,ফেইসবুকে বইয়ের পিক না দেখে সামনে থাকা বইগুলো আগে পড়ে শেষ করুন 👀 📖
02/05/2026
মদিনাতে একটা বিশেষ আইসক্রিম পাওয়া যেত।
আজওয়া খেজুরের আইসক্রিম। কি অদ্ভুত মজার স্বাদ! এমন আইসক্রিম আমি জীবনে কখনো খাইনি সুবহানআল্লাহ! এই আইসক্রিম, সেই মদিনার আঙিনা - হু হু করে ছুটে যেতে মন চায়! আল্লাহ আফিয়াহ, বারাকাহর সাথে আবারো আমাদেরকে কবুল করুন এমন এক সফরের জন্য, যেই সফরের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর আরও প্রিয় বান্দা হয়ে ফিরে আসতে পারবো ইন শা আল্লাহ।
আমি আসলেই অবাক হয়ে যাই...!
প্রিয় রসূল ﷺ এর শহর মদিনাতে কি যে আপ্যায়ন! একবার যাইনাবের বাবা মসজিদে নববী থেকে বের হয়েই মনে মনে ভাবছিলেন, 'ইয়া আল্লাহ! আমার খুব খেজুর খেতে ইচ্ছা করছে। আপনি আমাকে খাওয়াবেন? অন্য কোনটা না। শুকনো, মিষ্টি সুক্কার খেজুর আছে না? আমার সেটাই খেতে ইচ্ছা করছে ...!'
কি অদ্ভুর আশ্চর্য বিষয়। ভদ্রলোক ২-৩ পা বাড়িয়েই দেখলেন যে, এক ভাই সুক্কার খেজুর বিলি করছেন সুবহানআল্লাহ! মেডজুল না, আজওয়া না! সেই সুক্কার খেজুরই! সুবহানআল্লাহ। তিনি হাসলেন, ভাই এর কাছে গিয়ে সুক্কার খেজুর নিয়ে আসলেন। কি অদ্ভুত তৃপ্তি, তাই না?
মসজিদে নববী এখন দেখতে এত সুন্দর যে চোখ জুড়িয়ে যায়।
এত কংক্রিট, উঁচু বিল্ডিং, শপিং মলের আলো আর চোখ ধাঁধানো কারুকাজের মাঝে আমি আমার প্রিয় রসূল ﷺ এর সেই সাদাসিধে কাদামাটির মসজিদে নববীটা খুঁজতে থাকি। আমি আমাদের সরল সাহসী সাহাবীদের সাথে তাঁর গল্প করার দৃশ্যগুলো মনের দৃশ্যপটে আঁকতে থাকি...!
আমি খুঁজে বেড়াই শক্ত খেজুর চাটাই এর বিছানা, যেখানে শুয়ে থাকার জন্য রসূল ﷺ এর পিঠ মুবারকে লম্বা লম্বা দাগ বসে যেত। সেই দাগের চিহ্ন দেখে উমার (রা) হু হু করে কেঁদে উঠত। প্রিয় বন্ধুর কান্না দেখে রসূল ﷺ বলতেন, 'ইয়া উমার! তুমি কি এটা চিন্তা করে খুশি নও যে, তারা দুনিয়া পাচ্ছে এবং আমরা আখিরাত পাচ্ছি, আলহামদুলিল্লাহ?'
ইয়া আল্লাহ! ইয়া আল্লাহ! ইয়া আল্লাহ!
কোথায় যাচ্ছি আর কীসের পথে ছুটছি?
মৃত্যুর পরে, হাউজে কাউসারের ঝর্নার পাশে প্রিয় রসূল ﷺ এর মুখ থেকে যদি একবার শুনতে পারি যে, 'তুমি কি এটা চিন্তা করে খুশি নও যে, তারা দুনিয়া পাচ্ছে এবং আমরা আখিরাত পাচ্ছি?'
ব্যস! আমার সবকিছু সার্থক তখন। আর কিছুই চাই না।
অবশ্য 'কিছুই চাই না' বললে ভুল হবে। প্রিয় রসূল ﷺ এর পাশে বসে আজওয়া খেজুরের আইসক্রিম খেতে চাই জান্নাতে... এবং ছোট মানুষের মতন আমার হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে তাঁকে আমার মদিনার গল্প শোনাতে চাই —
'ইয়া রসূলুল্লাহ ﷺ ! জানেন কি হয়েছিল? আপনার প্রাণের শহর মদিনায় গিয়েছিলাম আমি ... খুব গলা শুকিয়ে গেল হাঁটতে হাঁটতে ... ছোট খুপড়ির মতন সুন্দর সুন্দর দোকানে বিক্রি করছিল খেজুরের আইসক্রিম ... আমরা ভাবলাম, কি দারুণ কাণ্ড... খেজুরের আবার আইসক্রিম হয়? ... শুনুন আমাদের প্রিয় রসূল ﷺ , এরপর আমার বাবুর বাবা কি করলেন জানেন? ... ... "
_____________
আমার উমরাহর গল্প
#রাইটিং_থেরাপি
~ শারিন সফি অদ্রিতা
প্রিয় বোনেরা,,,
ফাইনাল তো প্রায় শেষের দিকে,সেমিস্টার ব্রেকে পড়তে বই নিচ্ছেন কবে?
📚🌸
বর্তমানে আমাদের মধ্যে যত ব্যাধি আছে তারমধ্যে এমন এক বড় ব্যাধি রয়েছে যা আমরা প্রচুর নামাজ,রোজা, জিকির ইত্যাদি করার পরেও আমাদের আমলের খাতাকে শূন্য করে দেয় এবং অন্তরের পরিবর্তনে বাঁধা সৃষ্টি করে।
সেই ব্যাধি হচ্ছে - গীবত বা পরনিন্দা।
• বর্তমানে এটি অফলাইন মাধ্যম ছাড়িয়ে অনলাইনের গন্ডিও পেরিয়েছে।
অনলাইনে একজনের আড়ালে আরেকজনকে
নিয়ে বেফাঁস চ্যাটিং করা,মন্তব্য করা,পোস্ট করা ইত্যাদিও যেন গীবতের ছোঁয়ায় পরিপূর্ণ।
• এটিকে আমরা অনেকেই হালকা ভেবে কেবল গসিপ মনে করে যা করি,মূলত এটি আমাদের যেসব ক্ষতি করে থাকে-
# প্রথমত, ইবাদতের সওয়াব ধ্বংস হওয়া:
গীবতকে বলা হয় 'নেকি ভক্ষণকারী'। হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন গীবতকারীর নেকি বা সওয়াব সেই ব্যক্তির আমলনামায় চলে যাবে যার গীবত করা হয়েছে। ফলে প্রচুর নামাজ-রোজা করেও আমলনামা শূন্য হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
# দ্বিতীয়ত, মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সমান:
পবিত্র কুরআনে গীবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো জঘন্য ও ঘৃণ্য কাজের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তির মন মানসিকতা এমন একটি নিকৃষ্ট কাজে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তার পক্ষে ইবাদতের মাধ্যমে চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জন করা কঠিন।
# তৃতীয়ত,অহংকার ও আত্মতৃপ্তি:
গীবত মূলত নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার একটি পথ। অন্যকে ছোট করে কথা বলার মাধ্যমে মানুষ অবচেতনভাবে নিজেকে বড় মনে করতে শুরু করে, যা ইবাদতের মূল ভিত্তি 'বিনয়'কে নষ্ট করে দেয়।
# চতুর্থত, তওবা কবুলের বাঁধা: গীবত এমন এক গুনাহ যা কেবল আল্লাহর কাছে মাফ চাইলে হয় না, বরং যার নামে গীবত করা হয়েছে তার কাছ থেকেও মাফ পেতে হয়। এই কঠিন শর্তের কারণে গীবতকারী অনেক সময় তওবা করার সুযোগ তো পায়ই না বরং গুনাহের মধ্যেই নিমজ্জিত থাকে।
# পঞ্চমত ,অন্তরের কঠোরতা:
ক্রমাগত পরচর্চা ও পরনিন্দা করলে মানুষের অন্তর শক্ত হয়ে যায় (কাসাওয়াতুল ক্বালব)। ফলে নামাজ বা তিলাওয়াতে যে কোমলতা আসার কথা ছিল, তা আর আসে না।
গীবত হলো একটি ছিদ্রযুক্ত বালতির মতো, আপনি ইবাদত দিয়ে বালতি ভরছেন ঠিকই, কিন্তু গীবতের ছিদ্র দিয়ে সব সওয়াব বেরিয়ে যাচ্ছে। তাই বাহ্যিক ইবাদতের পাশাপাশি জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে আমাদের তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধি পাওয়া অসম্ভব।
আল্লাহুম্মাগফিরলী।।
10/04/2026
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহ মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
DIU Islamic Library -Female Zone কর্তৃক আয়োজিত সাপ্তাহিক তালিম, তা'লিমুন নিসা।
📅 ১৩ ই এপ্রিল , ২০২৬ ইং.সোমবার
⏰ বাদ যুহর, ১:৩০ মিনিট
📍 মেয়েদের সেন্ট্রাল মসজিদ,ডিআইইউ
▪️আলোচনার বিষয়বস্তু
"সালাতে খুশু -খুজু বজায় রাখার উপায় "
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা যাকে ভালোবাসেন তাকেই দ্বীনের জ্ঞান দান করেন, তাই জানার প্রয়োজনীয়তা এবং নিজের আমলকে বার বার পরিশুদ্ধ করার নিয়তে তা'লিমি মজলিসে অংশগ্রহণ করা অতীব জরুরী। তাই সময়মতো সকলে তালিমে চলে আসার এবং অজু সাথে আদবের সহিত তালিমে বসার চেষ্টা করবো ইন শা আল্লাহ।
07/04/2026
ভার্সিটি পড়ুয়া বোনরা যারা বিয়েকে ক্যারিয়ারের জন্য বাঁধা বা চাপ মনে করেন,,,,,
হ্যেঁ, এটা সত্য যে মেয়েদের পড়াশোনা যখন শেষের পথে থাকে তখন বা তারও আগে থেকে মা বাবারা মেয়ের বিয়ে নিয়ে চিন্তা করা শুরু করেন এবং পরিবার থেকে পাত্র দেখাও শুরু করেন।
তবে অনেক বোনেরাই এই বিষয়টিকে ক্যারিয়ারের পথে বাঁধা মনে করেন,যা সম্পূর্ণ ভুল।
বিয়ে ক্যারিয়ারের জন্য বাঁধা নয় বরং সহায়ক ও পরিপূরক।এই বিষয়টিকে যদি আমরা ইসলামের দৃষ্টিতে দেখি, তবে এখানে অত্যন্ত সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান পাওয়া যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিয়ের এই বিষয়টি নিয়ে কিছু ভাবনা তুলে ধরা হলো:
১. বিয়ে একটি সুন্দর অধ্যায়ের শুরু, কোনো ‘স্টপ সাইন’ নয়-
অনেকে মনে করেন বিয়ে মানেই ক্যারিয়ার বা স্বপ্নের ইতি। কিন্তু ইসলামে বিয়েকে বলা হয়েছে 'দ্বীনের অর্ধেক'। একজন সঠিক জীবনসঙ্গী আপনার লক্ষ্য অর্জনে বাধা নন, বরং সহায়ক হতে পারেন। বিবি খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসায়িক সফলতা বা আয়েশা (রা.)-এর পাণ্ডিত্য বিয়ের পরেও অব্যাহত ছিল। পরিবার যখন বিয়ের কথা বলে, তখন তা ভয়ের কারণ না হয়ে নতুন এক প্রশান্তির সূচনা হতে পারে।
২. আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল ও উত্তম রিজিক-
আজকাল পড়াশোনা শেষ মানেই চাকরির যুদ্ধ শুরু।যদিও বোনদের জন্য বিষয়টি তুলনামূলক কম তবুও এই অনিশ্চিত সময়ে বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তা আসা স্বাভাবিক। তবে কোরআনে বলা হয়েছে, "তারা যদি অভাবী হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন।" (সূরা নূর: ৩২)। ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে গিয়ে বিয়ের বরকত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সঠিক সময়ে বিয়ে জীবনের অস্থিরতা কমিয়ে কাজে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. পরিবারের প্রতি ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি-
মা-বাবা যখন মেয়ের বিয়ের কথা ভাবেন, তখন তার মূলে থাকে মেয়ের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা। ইসলামের শিক্ষা হলো মা-বাবার সাথে দয়া ও নমনীয়তার সাথে কথা বলা। আপনার যদি পড়াশোনা বা ক্যারিয়ার নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা থাকে, তবে তা মা-বাবাকে বুঝিয়ে বলুন।ক্যারিয়ারের ভালো পদক্ষেপে সহায়ক এমন কাউকে খুঁজতে বলতে পারেন।
ইসলামে মেয়ের সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি মা-বাবার অবাধ্য হওয়াও বড় গুনাহ। তাই আলোচনার মাধ্যমে একটি মাঝামাঝি অবস্থানে আসা উচিত।
৪. সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচনের মানদণ্ড:
রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমাদের কাছে যদি এমন কোনো ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীনদারী ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে বিয়ে সম্পন্ন করো।" (তিরমিজি)। পরিবার যখন পাত্র দেখে, তখন কেবল তার ডিগ্রি বা ব্যাংক ব্যালেন্স না দেখে তার আখলাক ও দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। একজন দ্বীনদার স্বামী আপনার উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ারের পথে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবেন।
৫. দুয়া ও ইস্তিখারা:
জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে আল্লাহর সাহায্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মা-বাবার পছন্দ আর নিজের স্বপ্নের মধ্যে যখন দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তখন বেশি বেশি 'ইস্তিখারা' করুন। আল্লাহ যেন আপনার জন্য যা কল্যাণকর তা-ই নির্ধারণ করেন।
শেষ কথা:
ভার্সিটি জীবনের শেষ সময়টা এমনিতেই আবেগ আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা থাকে। এই সময়ে বিয়ের প্রস্তাব আসা মানে আপনার জীবনের একটি অধ্যায় শেষ হয়ে অন্য একটি বরকতময় অধ্যায় শুরু হওয়া। ইসলাম আমাদের শেখায় ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে। তাই এটিকে ‘চাপ’ হিসেবে না দেখে, আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ‘সুযোগ’ হিসেবে দেখুন।
তাছাড়া মুমিন নারীর ক্যারিয়ার একজন নেককার স্ত্রী ও ভালো মা হওয়াতেও কম কিসে?!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Daffodil Smart City-DSC, Birulia, Savar
Dhaka
