17/07/2020
করোনা কান্ডে সাহেদ-সাবরিনার গ্রেপ্তারে যারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন তাদের জ্ঞ্যাতার্থে বলছি শোনেন, 'ক্যাসিনো কান্ডে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তারা রাজার হালে হাসপাতালে শুয়ে বসে ভিআইপি কেবিনে দিন কাটাচ্ছেন। সম্রাট নিজ দলীয় কর্মীদের সাথে ভিআইপি কেবিনে প্রতিদিন মিটিং করছেন, পরশকে দল গোছাতে সাহায্য করছেন। জিকে শামীম ভিআইপি কেবিন থেকে নিয়মিত দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তার সকল ব্যবসা বাণিজ্য চালু রেখেছেন। কারা কর্তৃপক্ষ বলছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন তাদের ফেরত দিতে আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন কারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন তাদের নিয়ে যেতে। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে কেউই কিছুই করছেন না। টাকার কুমির এনু ও রুপন জেলে থেকেই তাদের অবৈধ ১২৮ টা বাড়ি থেকে নিয়মিত ভাড়া তুলছেন। জেলখানার একটা কামরাকে ভিআইপি কামরা বানিয়ে দুই ভাই আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন। আর কয়েকদিন পরেই বেরিয়ে আসবেন বলে স্থানীয় নেতা কর্মীদের আশ্বস্ত করছেন। এদিকে যে যুগ্মসচিবের গাড়ির অপেক্ষায় কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের ফেরি ছাড়তে তিন ঘণ্টা দেরি হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক স্কুলছাত্র অকালে মৃত্যুবরণ করেছেন, সেই যুগ্ম সচিব সম্প্রতি প্রমোশন পেয়েছেন। তিনি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। ঢাকায় এমপি হোস্টেলে থেকে নরসিংদীতে অন্যকে দিয়ে নিজের বোর্ড পরীক্ষা দেওয়ানো এমপি তামান্না নুসরাত বুবলি ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বাজারমূল্যের শুল্কমুক্ত গাড়ি কিনেছেন। এমপি হওয়ার আগে তিনি রিকশায় চড়েছেন। এখন এমপি’র স্টিকার লাগানো সেই গাড়ির সামনে দাড়িয়ে তিনি ছবি দিয়েছেন। ওদিকে এমপি পাপুল এইচএসসি পাসের আগেই অনার্স পাস করেছেন! সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রীর জন্য তাজমহল বানিয়েছেন, পাপুল তার স্ত্রীকে নিজ ক্ষমতার অংশ করেছেন-বিনা ভোটে এমপি বানিয়েছেন। সাংবাদিক কাজল ক্ষমতাসীনদের ওয়েস্টিন হোটেল কান্ডের নিউজ প্রকাশ করে ভয়ংকর অপরাধীদের মত জেল খাটছেন। বালিশ ছাড়া খালি মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন। করোনা মহামারিতে বিনা চিকিৎসায়, খাদ্যের অভাবে, বাড়ি ভাড়ার অভাবে প্রতিদিন বোবা কান্নায় এক অন্তঃহীন, অনিশ্চিত ভবিষ্যত সামনে নিয়ে মানুষ ঢাকা শহর ছাড়ছেন। অন্যদিকে পাপিয়ার খদ্দের মন্ত্রী এমপিরা নিয়মিত পাপিয়ার খোঁজ খবর রাখছেন। জেলের ভেতর তারা পাপিয়ার জন্য আলাদা কামরা ঠিক করে দিয়েছেন, বিনোদনের জন্য রঙিন টেলিভিশন দিয়েছেন, হোটেল ওয়েস্টিন থেকে নিয়মিত তারা খাবার পাঠাচ্ছেন। এমপি দুর্জয় তাকে আগামী ৬ মাসের ভেতর বের করে আনবেন বলে কথা দিয়েছেন। সাহেদও ৬ মাসের ভেতর বেরিয়ে আসবেন বলে র্যাব কার্যালয়ে হুমকি দিয়েছেন! আগামী ৬ মাসের ভেতর পাবলিক ঠান্ডা হয়ে যাবেন কিংবা শেখ হাসিনা সরকার নতুন কোন ইস্যু এনে পাবলিককে চুপ করিয়ে দিবেন বলে দুর্জয়, সাহেদরা আশা করছেন। সাহেদ কেলেঙ্কারী ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর প্রথমে শেখ হাসিনা সরকার তাকে আড়াল করতে 'ডিজিএফআই' এর গাড়িতে করে বর্ডারে পাঠিয়েছেন, পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই সেখান থেকে 'র' গাড়িতে তিনি কলকাতায় শেখ হাসিনার 'সুখরঞ্জন বালি সেইফ হোম' এ গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। 'র' এর অফিসাররা প্রথমে তাকে মুর্শিদাবাদে নিতে চেয়েছেন কিন্তু ওখানে আগে থেকেই ইলিয়াস আলী ও ব্রিগেডিয়ার আমান আযমী থাকায় তারা সিদ্বান্ত পরিবর্তন করে সাহেদকে কলকাতায় এনেছেন। পরবর্তীতে সাহেদকে গ্রেফতারের জন্য চাপ বাড়লে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে কলকাতা থেকে সাতক্ষীরায় নিয়ে এসে ওখান থেকে র্যাবের হেলিকপ্টারে জামাই আদরে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নাটক সাজিয়েছেন। পাবলিকের চোখে ধুলো দিয়ে আড়ালের কুশিলবরা সব আড়ালেই থেকেছেন। আপনারা সাবরিনার পোশাক, সাহেদের নৌকা-বোরখা-প্যান্ট-পিস্তল-গলায় নতুন গামছা আর হেলিকপ্টার ভাড়া নিয়ে রসিকতা করছেন। আড়ালের কুশিলবদের নাম জানতে চাইছেন। জিকে শামীম, সম্রাট, পাপিয়া, সাবরিনা, সাহেদরা গড মাদারের কথামত যথারীতি তাদের মুখ বন্ধ রেখেছেন।
তবে দেরিতে হলেও ওয়ান ইলেভেনের কুশিলবদের একজন লে: জে হাসান সারওয়ার্দী ফ্রুটিকা খেয়ে গতকাল সাংবাদিক কনক সারোয়ারের সাথে লাইভে মুখ খুলেছেন। তিনি রেশমা উদ্ধার নাটকের সকল দায় দায়িত্ব অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর চাপিয়েছেন। তিনি আকারে ইঙ্গিতে বলেছেন, শেখ হাসিনা তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। রেশমা উদ্ধারের নাটক সরাসরি শেখ হাসিনা মনিটরিং করেছেন এবং আর্মির ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের লোকজন ভেতরে সেটা পরিচালনা করেছেন। তারাই রেশমাকে কাপড় পরিয়েছেন, ঐখানে তার একসেস ছিলো না। পরবর্তীতে নাটক পরিচালনাকরী অফিসারদেরকে প্রমোশন দিয়ে শেখ হাসিনা একজনকে ইন্দোনেশিয়ার রাস্ট্রদূত বানিয়েছেন অন্যদেরকে আরও বড় বড় পদে পদায়ন করেছেন। আশার কথা হলো, দেরিতে হলেও লে: জে: হাসান সারওয়ার্দী ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সব বলে দিয়েছেন। তিনি আকারে ইঙ্গিতে এটাও বলেছেন, শেখ হাসিনা তাকে রেশমা উদ্ধার নাটকের মুখপাত্র বা সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করেছেন। শেখ হাসিনা ঘটনার পর রেশমাকে মেয়ে বানিয়েছেন, রেশমা এখন খুবই কষ্টে আছেন। তিনি লে: জে: হাসান সারওয়ার্দীকে খুঁজে বের করেছেন এবং শেখ হাসিনার সাথে এখন দেখা করতে চাইছেন। শেখ হাসিনা রেশমাকে ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলেছেন। শেখ হাসিনা লে: জেনারেল হাসান সারওয়ার্দীকেও ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলেছেন। লে: জেনারেল হাসান সারওয়ার্দী সেনা প্রধান হতে চেয়েছিলেন। শেখ হাসিনা তার জায়গায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফের বড় ভাই সুপারসিডেড আর্মি অফিসার আজিজকে সেনা প্রধান করেছেন। সেনা প্রধান হয়ে জেনারেল আজিজ লে: জেনারেল হাসান সারওয়ার্দীকে ক্যান্টনমেন্টে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। এজন্য লাইভে তিনি শেখ হাসিনার সাথে জেনারেল আজিজকেও কামড় দিয়েছেন। এক বাটপার আরেক বাটপারকে বাটপার বলছেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে লুটপাট, চুরি, ডাকাতি, ঘুষ, দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করেছেন। আল-জাজিরা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের সকল করাপশনের মা বলে অভিহিত করেছেন। শেখ হাসিনা আল-জাজিরাকে বাংলাদেশে নিষিদ্ব ঘোষণা করেছেন। ভোট ডাকাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে আওয়ামী লীগ, পুলিশ, মিলিটারি, জুডিশিয়ারি ও পুরো প্রশাসন মিলে একটা মাফিয়া সিস্টেম তৈরী করেছেন। জিকে শামীম, সম্রাট, এনু-রুপন, পাপিয়া, সাবরিনা, সাহেদরা শেখ হাসিনার সেই সিস্টেমের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। শেখ হাসিনা সারাদেশে এরকম অসংখ্য জিকে শামীম, সম্রাট, এনু-রুপন, পাপিয়া, সাবরিনা, সাহেদ তৈরী করেছেন। শেখ হাসিনা জুডিশিয়ারি থেকে মিলিটারি - এই দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এক এক করে ধ্বংস করেছেন। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা তাকে গিয়ে থ্রেট করেছেন। করোনা মহামারিতে শেখ হাসিনা জনগণের ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে মুজিব বর্ষ পালন করেছেন। শেখ হাসিনার চামচারা প্রধানমন্ত্রী তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েন সুতরাং করোনা আমাদের দেশে আসবে না, আসলেও আমাদের দেশের কোন ক্ষতি করতে পারবে না বলে করোনা মোকাবেলার প্রস্তুতি না নিয়ে ৪০০ কোটি টাকায় আমোদ ফুর্তি করেছেন। তিন মাস পরে আবার করোনা প্রস্তুতির নামে নতুন করে লুটপাট করেছেন। এন-৯৫ মাস্কের নামে ডাক্তারদের ফালতু মাস্ক দিয়েছেন, ডাক্তার-নার্সদের পিপিই রেশনিং করেছেন, ওয়েবসাইট বানানোর তামাশা করেছেন, চারটা ওয়েবসাইটের জন্য ১০ কোটি টাকা বিল দিয়েছেন, বাসায় বসে জুম মিটিং করে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা খরচ দেখিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়। বাসায় বসে মাত্র তিনটা জুম মিটিং করে খাবার খরচের বিল ৪ লাখ টাকা, খাতা, কলম, প্যাড বাবদ খরচ ১৪ লাখ টাকা, জুম ডাউনলোড- খাতা কলম কেনার জন্য আরেকটা প্রাইভেট সংস্থাকে দিয়েছেন প্রায় ১১ লাখ টাকা। এভাবে জুম মিটিং আর খাবার দাবারেই ৫৭ লাখ টাকা লুট করেছেন। একটা চরমতম সংকটকে কেন্দ্র করে এভাবেই তারা সব লুটপাটে নেমেছেন। ভূঁইফোড় সহযোগী সংগঠনকে লাইসেন্স দিয়েছেন। রিজেন্ট -জেকেজির নামে টাউট বাটপারদেরকে প্রমোট করেছেন। ভারতের স্বার্থে পাটকলগুলো বন্ধ করতে ৫৭৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা লোকসান দেখিয়েছেন, এর মধ্যে ৬৬ কোটি টাকাই শুধুমাত্র শ্রমিক আন্দোলন থামানোর খরচ দেখিয়েছেন! এদের কারো শাস্তি হয়নি, অথচ নবম শ্রেণীর ছাত্র প্রধানমন্ত্রীকে বিধবা বলে শাস্তি পেয়েছেন। ইতালি প্রবাসী একজন লোক দীর্ঘ ক্লান্তিকর ফ্লাইট শেষে দেশে ফিরে বাচ্চাকাচ্চা-বুড়ো মানুষদের নিয়ে এয়ারপোর্টে নেমেছেন, শেখ হাসিনা সরকার তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা, পানির ব্যবস্থা, বাথরুমের ব্যবস্থা না করে ধুলোয় ধুসরিত হজ্ব ক্যাম্পে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। প্রবাসী লোকটা 'ফাক ইউ বাংলাদেশ সিস্টেম' বলে গালি দিয়েছেন। আপনারা তাকে নিয়ে তখন ট্রল করেছেন। ভদ্রলোক কোন ফাকাফাকি সিস্টেম নিয়ে কথা বলেছেন এখন বুঝেছেন? কাজেই সাহেদ-সাবরিনার গ্রেপ্তারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করে মূল জায়গায় হাত দেন। সাহেদ-সাবরিনা তৈরীর ফ্যাক্টরিটা বন্ধ করেন। আর তা না হলে বিনা ভোটে নির্বাচন আর প্রশাসনকে ব্যবহার করে রাতের ভোট ডাকাতির নির্বাচন আস্তে আস্তে যেভাবে হজম করে ফেলেছেন তেমনি জিকে শামীম, সম্রাট, এনু-রুপন, পাপিয়া, পাপুল, বুবলি, সাবরিনা, সাহেদদেরও আস্তে আস্তে তারা হজম করিয়ে দিবেন! বিশ্বজিৎ এর খুনিদের মত তারাও এক এক করে সব বেরিয়ে আসবেন।'