প্রেমিক এবং প্রেমিকার মধ্যে কথা
হচ্ছে -
ছেলে : **"বাদাম খাবে ?"
মেয়ে : "না, তুমি খাও।"
ছেলে :"আরে একটু খাওনা। আমি
ছিলে দিচ্ছি, নাও একটু খাও।"
মেয়ে :"একটু সিরিয়াস হবে ?
তোমার সাথে আমার কিছু কথা
আছে।"
ছেলে :"সিরিয়াস কথা বলবে তো
বল কিন্তু এই বাদাম কি
দোষ কি করল ? এত গুল বাদাম কি
আমি একা খাব নাকি? নাও
খাও।"
মেয়ে :"রুদ্র বি সিরিয়াস, প্লিস।
আমি কাল তোমাকে
দেখেছি।"
ছেলে :"আমি তো রোজই তোমার এই
সুন্দর মুখটা দেখি
আমার স্বপ্নে। তোমার লম্বা কাল চুল।
কাজল দেয়া চোখ,
মুখে এক চিলতে হাসি। "
মেয়ে :"কাল তোমাকে আমি
একজনের সাথে দেখেছি স্টেশনে।
উনি কে ?"
ছেলে : "আরে এত সিরিয়াস হচ্ছ
কেন ? উনি আমার এক
আত্মীয়। কেন কিছু হয়ছে নাকি ?"
মেয়ে :"কেমন আত্মীয় ?"
ছেলে : "....................."
মেয়ে :"ওভাবে তাকিয়ে না
থেকে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও
রুদ্র।"
ছেলে :"একটা জিনিস খেয়াল
করেছ ? তুমি যখনি আমার উপর
খুব রাগ হও তুমি আমাকে আমার নাম
ধরে ডাক। ইশ! তোমাকে
নিয়ে আমি কি করব বলত ? তুমি যদি
এমন ভাবে আমার নাম
ধরে রাগে মুখ লাল করে ডাক
তাহলে তো আমি তোমার প্রেমে
ফানাহয়ে যাব। তুমিএত cute কেন
বলত ?"
মেয়ে :"তুমি আমার প্রশ্নের উত্তর
দাওনি।"
ছেলে :"আচ্ছা আচ্ছা দিচ্ছি
ম্যাডাম। জো হুকুম আপনার।
উনি আমার পিতা মহাদয়।"
মেয়ে :"ওই লোকটা কি করে ?"
ছেলে :"লোকটা ? উনি মুদির
দোকানে কাজ করে গ্রামে।"
মেয়ে :"এই জন্যই তো ওরকম ক্ষ্যাত।
কি রকম ছেঁড়া একটা
স্পঞ্জের স্যান্ডেল পরে ছিল। আর
চুলে কেমন তেল দিয়ে
রেখেছিল, দেখলেই ঘিন্না করে।
কি রকম করে লুঙ্গির উপর
পাঞ্জাবি পরে ছিল দেখলেই
জোকার লাগে। হা হা হা হা।"
ছেলে :"তুমি জান তোমার হাসিটা
কি সুন্দর ? তোমার এই
হাসি দেখেই আমি তোমার প্রেমে
পরেছিলাম। কিন্তু কি
আশ্চর্য আজ তোমার হাসিটা খুব
কুৎসিত লাগছে।"
মেয়ে :"রুদ্র! তুমি আর কথা বলনা।
তোমার লজ্জা করে না
এমন একটা গাঁইয়াকে বাবা বলে
ডাকতে ? এতদিন তুমি আমার
সাথে প্রতারণা করেছ। তুমি আমাকে
তোমার বাবার সম্পর্কে
কিছু বলনি কেন ?"
ছেলে :"হ্যাঁ আমি অনেক বড়
প্রতারণা করে ফেলেছি আমার সৎ
খেঁটে খাওয়া বাবার কথা না বলে
যিনি আমাকে কষ্টকরে টাকা
পাঠিয়েছেন টিউশনের...
**************************************
বন্ধু : "আরে দোস্ত এখানে একা বসে
কি করিস ?"
রুদ্র -"কি আর করব। দেখছিস না বাদাম
খাচ্ছি।"
বন্ধু :"এত গুল বাদাম একা খাচ্ছিস ?
ওহ! আর thanks রে।
কাল আমার ক্লাসটার জন্য আব্বাকে
আনতে যেতে পারিনি।
তুই যদি স্টেশন থেকে না আনতি
তাহলে আব্বা যে কি করে কি
করত কে জানে।"
রুদ্র - "আরে না কি যে বলিস। কেমন
আছে চাচা ? আর ওরকম
একজন মানুষের সাথে পরিচয় হতে
পারাই তো ভাগ্যের ব্যাপার।
চাচা যত কষ্ট করে তোকে বড়
করেছে।"
বন্ধু :"হ্যাঁ সত্যি আব্বা অনেক কষ্ট
করে বড় করেছেন
আমাদের। তুইতো সব জানিস। তোর
আব্বার খবর কি ? দেশে
ফিরেছেন ?"
রুদ্র - "না, ৬ তারিখ ফিরবে। এখন
আছে ব্যবসা নিয়ে। কত যে
টাকা কামাবে কে জানে।"
বন্ধু :"চিন্তা করিস না দোস্ত। তিথি
কই রে ? সব সময়
তোদের দুইজনকে একসাথে দেখি।"
রুদ্র - "চিত্ত বিনে বিত্তে আশ এতেই
তার পূর্ণ শ্বাস।"
বন্ধু :"মানে ?"
রুদ্র - "কিছু না। চল উঠি। অনেক দিন
আব্দুল চাচার চা খাওয়া
হয়না। আজ দুজনে মিলে খাব চল....।
বইপোকা
বই প্রকৃত বন্ধু ৷ বইয়ের জ্ঞানে নিজেকে আলোকিত করাই প্রতিটি মানুষের মুল লক্ষ্য হওয়া উচিত ৷
নিচে কিছু সম্ভাব্য প্রশ্ন দেওয়া হলঃ
-
১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক কাকে বলা হয় ?
উঃ বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান।
-
২) শেখ মুজিবকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি কে দেন?
উ: তোফায়েল আহম্মেদ
-
৩) কোথায় 'বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়া হয়?
উ: রেসকোর্স ময়দানে
-
৪) শেখ মুজিবকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়া হয় কবে?
উ: ২৩ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯ সালে
-
৫) ছয়দফা ১ম কবে ঘোষনা করেন?
উ: ৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৬
-
৬) বিরোধীদলের সম্মেলনে মুজিব কবে ছয়দফা উপস্থাপন করেন?
উ: ১৩ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৬
-
৭) শেখ মুজিব আনুষ্ঠানিকভাবে কবে ছয়দফা ঘোষনা করেন?
উ: ২৩ মার্চ ১৯৬৬
-
৮) কোন প্রস্তাবের ভিত্তিতে ছয়দফা রচিত হয়?
উ: লাহোর প্রস্তাব
-
৯) ঐতিহাসিক 'ছয়দফা' কে ষোষনা করেন?
উ: শেখ মুজিবুর রহমান
-
১০) 'বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সনদ' হিসেবে পরিচিত কোনটি?
উ: ছয়দফা
-
১১) পূর্ব পাকিস্থানের নামকরণ "বাংলাদেশ" করা হয় কবে?
উ: ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯ সালে
-
১২) কে বাংলাদেশ নামকরন করেন?
উ: শেখ মুজিবুর রহমান
-
১৩) শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' ঘোষনা করা হয় কবে?
উ: ৩ মার্চ ১৯৭১
-
১৪) কে শেখ মুজিবকে জাতির জনক ঘোষনা করেন?
উ: আ.স.ম. আব্দুর রব
-
১৫) শেখ মুজিব কে জাতির জনক ঘোষনা করা হয় কোথায়?
উ: পল্টন ময়দানে
-
১৬) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় কবে?
উ: ৩ জানুয়ারী ১৯৬৮
-
১৭) আগরতলা মামলার মোট আসামী কতজন ছিল?
উ: ৩৫ জন (শেখ মুজিব সহ)
-
১৮) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী কে ছিল?
উ: শেখ মুজিবুর রহমান
-
১৯) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কি নামে দায়ের করা হয়েছিল?
উ: "রাষ্ট্রদ্রোহীতা বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য"
আপনার মুখস্ত রাখার প্রয়োজনে শেয়ার করে টাইমলাইনে রাখুন অথবা খাতায় লিখে রাখুন।
একটি জীবনের কাহিনী(একটি
ভালবাসার সত্য গল্প)
Posted by রাসেদ
♥♥♥ ভালোবেসে পাহাড় কেটে ছয় হাজার সিঁড়ি নির্মাণ, যে কোন রোমান্টিক গল্পকেও হার মানাবে এ জীবনের কাহিনীটি ♥♥
লিউ জুজিয়াং তখন ১৯ বছরের টগবগে
সুদর্শন এক তরুণ। খোশমেজাজি,
সদালাপি। হুট করে প্রেমে পড়লেন
তাঁর চেয়ে ১০ বছরের বড়
স্বামীহারা , এক সন্তানের জননি সু
চাওকিনের।
সে আজ থেকে ৫০ বছর আগের কথা।
আজকের তুলনায় তখনকার চীন ছিল
আরও রক্ষণশীল। প্রথমত বয়সে বড়
কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়া
ছিল অনৈতিক ও নিষিদ্ধ। সেই
নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল ডিঙিয়ে
জুজিয়াং হাত ধরলেন সু চাওকিনের।
জুজিয়াংয়ের ভালোবাসা নিয়ে
চারদিকে শুরু হলো টিটকারি।
স্ত্রীকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ আর সইতে
পারছিলেন না। “নাহ, এখানে আর
নয়”-ভাবলেন জুজিয়াং। চলে
গেলেন মনুষ্য সমাজের বাইরে, দূর
পাহাড়ে।
জিয়াংজিন প্রদেশের অনেক
গভীরে পাহাড়ের গায়ে এক চিলতে
গুহাকে ঠিক করলে বাসস্থান
হিসাবে। আশপাশের কয়েক মাইলের
মধ্যে জনমানবের চিহ্ন নেই। মাথা
গোঁজার ঠাঁই মিলল, কিন্তু খাবার
নেই, কাপড় নেই। আছে শুধু
ভালোবাসা, আর এর শক্তি। রাত
হলেই নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার।
তবে সব ছাপিয়ে, ভালোবাসা
দিয়েই জয় করলেন সব।
সবকিছুর চেয়ে জুজিয়াং বেশি কষ্ট
পাচ্ছিলেন স্ত্রীর কষ্ট দেখে।
পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে উঠতে-
নামতে কষ্ট হয় চাওকিনের। একদিন
হাতে বানানো হাতুড়ি-বাটাল,
কোদাল নিয়ে চলে গেলেন বাড়ির
কাছাকাছি ঢালটায়। নেমে পড়লেন
পাহাড়ি ঝোপঝাড় পরিষ্কারের
কাজে। একটু জায়গা পরিষ্কার করতেই
অর্ধেক দিন চলে গেল। বাকি অর্ধেক
দিনে দুটো সিঁড়ির ধাপ বানাতে
পারলেন। সেই থেকে শুরু।
প্রতিদিন কাজের ফাঁকে সুযোগ
পেলেই জুজিয়াং চলে যেতেন
পাহাড়ের ঢালে। নিবিষ্টমনে
সিঁড়ি বানাতেন।তবে কোনদিনই
এটা প্রিয়তমাকে জানতে দেন নি
তিনি। স্ত্রী তাঁর কোমল পায়ে
সিঁড়ি বেয়ে নামবেন, আর তিনি মুগ্ধ
নয়নে চেয়ে চেয়ে দেখবেন। এমন
স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকতেন
মানুষটি। দিন যায়, মাস যায়, যায়
বছরের পর বছর। জুজিয়াংয়ের সিঁড়ি
বানানো তবু শেষ হয় না। স্ত্রী
কতবার বারণ করেছেন। কিন্তু
জুজিয়াংয়ের ওই এক পাগলামো।
পাহাড়ের পাদদেশ অবধি সিঁড়ি
তিনি বানিয়েই ছাড়বেন।সময়
গড়িয়ে যায়, কিন্তু জুজিয়াংয়ের
সিঁড়ি বানানো শেষ হয় না। দীর্ঘ ৫০
বছর পর ২০০১ সালে শেষ হলো
জুজিয়াংয়ের সিঁড়ি বানানো।
স্ত্রীকে ডেকে এনে অবাক করে
দেন লিউ। নিজেকে তাঁর মনে হয়
দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষ। গুনে
দেখা গেল, পাহাড়ের পাদদেশ
থেকে চূড়া পর্যন্ত ছয় হাজারের
বেশি ধাপ হয়ে গেছে।
সেই বছরই একদল অভিযাত্রী বেড়াতে
এলেন ওই এলাকায়। গহীন অরণ্যে
মানুষের হাতে গড়া সিঁড়িটা
তাঁদের নজর এড়াল না। খোঁজ করতে
গিয়ে বেরিয়ে এল সব তথ্য। লিউ
দম্পতির সাত সন্তানের একজন
জানালেন, ‘বাবা-মা একটি দিনের
জন্য একে অন্যকে চোখের আড়াল হতে
দেননি। মা খুব একটা নিচে না
নামলেও বাবা নিজ হাতে তৈরি
করেছেন সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ।’
জানাজানি হওয়ার পর তাঁদের নিয়ে
তৈরি হলো প্রামাণ্যচিত্র। স্থানীয়
সরকার সিঁড়িটি সংরক্ষণ করার
ঘোষণা দিল। ২০০৬ সালে চায়নিজ
উইমেন উইকলির সেরা ১০
ভালোবাসার গল্পে স্থান পেল
লিউ-জুর কাহিনী। প্রকাশ করে।
এক বছর পরের কথা। জুজিয়াংয়ের বয়স
তখন ৭২। হঠাত্ একদিন বাড়ি ফিরে
অসুস্থ হয়ে পড়লেন। স্ত্রীকে কাছে
ডাকলেন। হাতখানা মুঠোয় পুরে গাঢ়
দৃষ্টিতে স্ত্রীর চোখে চোখ
রাখলেন। বললেন, ‘চললাম। ভালো
থেকো।’ সূর্য তখন পশ্চিম দিগন্তে
হেলে পড়েছে। চাওকিন অশ্রুসজল
চোখে স্বামীর প্রতি অভিযোগ
তোলেন, ‘তুমি বলেছিলে সব সময়
আমার পাশে থাকবে। কিন্তু তুমি
কথা রাখবে না কেন! এখন আমি একা
একা কী করে থাকি!’ আমার জীবনে
পাই নাই কাওকে তার জন্য আমি এমন
করবো । জানি না পাব কি না
কোনদিন।
★ জীবন ★
একদিন এক ছোট্ট
ছেলে একটি খেলার মাঠের
পাশে দাড়িয়ে কাঁদছিলো।এক
বৃদ্ধলোক সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন।
তিনি ছেলেটির
কান্না শুনতে পেয়ে ছেলেটির
কাছেএগিয়ে গেলেন।বৃদ্ধ
লোকটি তাকে প্রশ্ন করলেন
যে সে কেন কাঁদছে?
উত্তরে ছেলেটি লোকটিকে জানালো যে তার
অনেকদিনের স্বপ্ন তার
একটা ঘুড়ি থাকবে এবং সেটা সবার
চাইতে উঁচুতে উড়বে,কিন্তু তার নিকট
কোনো টাকা না থাকায় সে কোন
ঘুড়ি কিনতে পারছে না।বৃদ্ধ
লোকটি হেসে ছেলেটিকে বললেন
তুমিযদি কাল পর্যন্ত
অপেক্ষা করতে পারো তবে তোমাকে আমি একটি ঘুড়ি এনে দিবো।
পরদিন বৃদ্ধ লোকটি তার
দেয়া কথামতো একটি ঘুড়ি উপহার
দিলো ছেলেটিকে।ছেলেটিঅন্য
সবার সাথে তার
ঘুড়িটি উড়াতে লাগলো।উচ্চতায়
এবং উড়ার দিক থেকে সবার
ঘুড়িকে ছাড়িয়ে গেল ছেলেটির
ঘুড়ি।ছেলেটি খুব উক্তেজিত
হয়ে পড়লো।সে অন্য
সবাইকে ডেকে তার
ঘুড়িটি দেখিয়ে বলতে লাগলো তার
ঘুড়ির সঙ্গে প্রতিযোগীতা করতে।
কিন্তু কেউ ই রাজী হলোনা।
ছেলেটি তার
ঘুড়িটি আরো উঁচুতে উঠানোর জন্য
সুতা ছাড়তে লাগলো।হঠাত্ করেই
আকাশটা কালো হয়ে উঠলো।
চারিদিক অন্ধকার
করে ঝড়ো হাওয়া বইতে লাগলো।
অন্য সব ছেলে গুলো দ্রুত
সুতো গুছিয়ে ঘুড়ি নিয়ে বাসায়
চলে গেল।কিন্তু ছেলেটি এত
বেশী পরিমাণে সুতা ছেড়েছিলো যে তার
তখনো অর্ধেকের ও বেশী সুতাই
গোছানো হয়নি।
ধীরে ধীরে বাতাসের বেগের
সাথে পাল্লা দিয়ে ঘুড়ির টান ও
বাড়তে লাগলো।একটা সময় ছিড়েই
গেল সুতা।
ঘুড়িটি চলে যেতে লাগলো ছেলেটির
দৃষ্টিসীমার অন্তরালে।ছেলেটি
হা করে সেদিকে তাকিয়ে রইলো।
এতক্ষণ বৃদ্ধ লোকটি ছেলেটির
ঘুড়ি ওড়ানো দেখছিলেন।এবার
তিনি ছেলেটিকে ঘুড়িটি ধরে আনতে বললেন।
ছেলেটি জানালো সে পারবেনা কারণ
ঘুড়িটি অনেক দূরে চলে গিয়েছে।
এবার বৃদ্ধ লোকটি ছেলেটির
দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালেন
তারপর বজ্রকন্ঠে বললেন
পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কিছুই নেই।ভয়
পেয়ে এবার ছেলেটি ঘুড়ির
পিছনে দৌড়াতে লাগলো।অনেক
চেষ্টার
পরে সে ঘুড়িটি ধরে নিয়ে আসলো।
এবার
লোকটি ছেলেটাকে একটা গল্প
শোনালেন..."আজ থেকে পঞ্চাশ বছর
পূর্বের কথা।দশ বছরের এক
ছেলেকে নিয়ে এই গল্পের শুরু।
ছেলেটার নাম মার্কেস।মার্কেস
ের স্বপ্ন ছিলো জাহাজের নাবিক
হওয়া।সমুদ্রের নীল
জলরাশি তাকে খুব কাছে টানতো।
মার্কেসেরবাবা জন্মের পূর্বেই
পরলোকগমন করেছিলেন।দশ বছর
বয়সে যখন মা ও চলে গেলেন তখন
চাচাদের কাছে আশ্রয় চেয়ে আশ্রয়
এর পরিবর্তে অর্ধচন্দ্র ছাড়া কিছুই
জুটলো না।দীর্ঘদিনের
কয়েকটি পুরনো পোশাক,খাবার
রুটি,ফ্রেমে বাঁধাইকরা মা এর
একটি ছবি এবং বাইবেলটাসঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো মার্কেস।
গন্তব্যচোখ যেদিক পানে যায়।
সারাদিন হাটলো সে।চেনা বেশ
কয়েকটি গ্রাম ছেড়ে অচেনা এক
শহরে যখন উপস্হিত হলো তখন
সন্ধ্যে হয়ে এসেছে।
পুঁটলি থেকে বের
করে গুনে দেখলো তিনখানা শুকনো রুটি ছাড়া আর
কিছুই নেই।
আধাখানা রুটি খেয়ে দুহাতের
আঁজলা ভরে পানি পান করলো ।হঠাত্
মার্কেসের চোখে পড়লো বয়সের
ভাড়ে নুইয়ে পড়া এক বৃদ্ধের উপর।
লোকটির মাথায় একটি বড় স্যুটকেস
এবং ডানহাতে একটি ব্যাগ।দেখেই
বোঝা যাচ্ছে খুব কষ্ট
হচ্ছে লোকটার।মার্কেস
এগিয়ে গিয়ে ব্যাগটা নিয়ে লোকটারসাথে চলতে লাগলো।
লোকটা বেশ খুশিহলো মার্কেসের
এই ব্যবহারে।লোকটা সাউদাম্পটন
থেকে জাহাজে করে নিউইয়র্ক
যাবেন।জাহাজে ওঠার
পূর্বে লোকটি মার্কেসের
দিকে কিছু ডলার বাড়িয়ে দিলো।
মার্কেস
তা নিতে অসম্মতি জানালো।
সে বিনীত
ভাবে লোকটাকে অনুরোধ
জানালো যে তিনি যেন
তাকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত
জাহাজে করে নিয়ে যায়।বৃদ্ধ
লোকটি মার্কেসের অনুরোধ
রাখলেন।আটলান্টিক
মহাসাগড়ে তখন জলদস্যুরা বেশ
সক্রিয়।পথিমধ্যেজলদস্যুদের
কবলে পড়ে যাত্রীরা সর্বস্ব
হারালেন।
বাঁধা দিতে গিয়ে জাহাজের
ক্যাপ্টেন সহ কয়েকজন শ্রমিক নিহত
হলেন।এরপর এক এক
করে সবাইকে মেরে সাগড়ে ফেলে দিলো জলদস্যুরা।
ভবিষ্যত্ এ
কাজে লাগতে পারে বলে মারলো না শুধু
মার্কেস কে।মার্কেস জলদস্যুদের
জাহাজে কাজ পেল।তার কাজ
রান্নার কাজে সাহায্য করা।
সামান্য এই কাজ করতেই
হাঁপিয়ে উঠতো মার্কেস।
কাজটা সহজ মনে হলেও
আদতে কাজটা ছিলো বেশ কঠিন।
প্রায় প্রতিদিনই
পনেরো থেকে বিশকেজি সিদ্ধ আলু
ছিলতে হতো তাকে।সকলের ফাই
ফরমাশ খাটতে হতো।
সকালে খেয়ে তারপর জাহাজ
নিয়ে বেরিয়ে পড়তো সবাই।
উদ্দেশ্য নতুন কোন জাহাজ শিকার
করা।ভালো ব্যবহার দিয়ে খুব অল্প
দিনের মধ্যেই দস্যু সর্দারের প্রিয়
পাত্র হয়ে উঠলো মার্কেস।একদিন
সাহস করে সর্দার কে বলেই
ফেললো নাবিক হবার কথাটা।সর্দার
অন্যান্য নাবিকদের
সাথে মার্কেসকে থাকতে দিলেন।
এক সময় জাহাজ চালানোয়
বেশপারদর্শী হয়ে গেল সে।একবার
ভুলবশত ব্রিটিশ রাজপরিবারের
জাহাজে আক্রমণ
করে বসলো জলদস্যুরা।আক্রমণের পরেই
বুঝতে পারলো কি ভুল
করে ফেলেছে তারা।আধুনিক
অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত রাজরক্ষীদের
সাথে কিছুতেই
পেরে উঠছিলো না তারা।
উল্টো পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত
হয়ে পড়লো।একসময় জলদস্যু সর্দার
আত্মসমর্পণ করার কথাও ভাবলেন।
কিন্তু মার্কেস বাদ সাধলো।
সে সর্দারকে বলে জাহাজের
নিয়ন্ত্রণ নিলো এবংদ্রুত গভীর
সমুদ্রের
দিকে নিয়ে গিয়ে জাহাজটিকে বাঁচালো।
সেবার মার্কেসের সাহসেই প্রাণ
বাঁচলো অর্ধশতাধিক দস্যুর।দস্যু সর্দার
খুশি হয়ে মার্কেসকে একটি জাহাজ
উপহার দিলো এবং তাকে যখন
যেখানে যাবার
ইচ্ছা যেতে পারো এমন
স্বাধীনতা দিলো॥এরপর
সর্দারকে বলে একদিন
দেশে ফিরে আসলো মার্কেস।
সে নাবিক
হতে চেয়েছিলো সে নাবিক
হতে পেরেছে।জাহাজ চালানোয়
চল্লিশ বছরের বেশী অভিগ্গতা সম্পন্ন
মার্কেস এখন তার দেশের রাজকীয়
নৌ কমান্ডার॥"এই পর্যন্ত
বলে ছেলেটির
দিকে তাকালো বৃদ্ধলোকটি।
ছেলেটি এতক্ষণ মুগ্ধ হয়ে শুনছিলো।
লোকটি তখন
ছেলেটিকে বললো কে এই মার্কেস
জানো?আমিই হলাম সেই মার্কেস।
আমার জীবনের গল্প
শুনে তুমি কি শিখলে?
ছেলেটি বললোঃ"জীবনের
লক্ষ্যটা ঠিক
আকাশে উড়তে থাকা ঘুড়ির মতন।
সুতাটা লক্ষ্যে পৌছাবার রাস্তা।
জীবনে সফলতা অর্জন
করতে চাইলে একটা নির্দিষ্ট
লক্ষ্যের
দিকে আস্তে আস্তে এগুতে হয়।
লক্ষ্যের
সুতা টা মাঝে মাঝে ছিড়ে যাবেই,ঝড়
এসে এলোমেলো করে দিয়ে যাবে আমার
স্বপ্নগুলো ।তাই
বলে থেমে গেলে চলবে না।নতুন
উদ্যমে লক্ষ্যপূরণে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।""হার
মেনে নেয়ার নাম জীবন নয়,স্বপ্ন
নিয়ে লড়াই করে বেঁচে থাকার
নামই জীবন"॥
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
S. M Hall , Dhaka University
Dhaka
1000
