03/03/2026
With Orchid Bari Green Village – I just got recognized as one of their top fans! 🎉
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বুনো Buno, Nature Preserve, Dhaka.
বুনো BUNO
বুনো আমাদের দেশের গাছ, লতা-গুল্ম আর ঔষধি উদ্ভিদের গল্প বলার জায়গা। এখানে পাওয়া যাবে তাদের বৈজ্ঞানিক ও স্থানীয় পরিচয়, উপকারিতা, ব্যবহার আর লোকজ কাহিনি। প্রকৃতিকে জানি, ভালোবাসি – এটাই বুনোর মূল লক্ষ্য।
03/03/2026
With Orchid Bari Green Village – I just got recognized as one of their top fans! 🎉
02/03/2026
দাদমর্দন (Candle Bush)
বাংলা নাম: দাদমর্দন
ইংরেজি নাম: Candle Bush / Ringworm Bush
বৈজ্ঞানিক নাম: Senna alata
দাদমর্দন একটি ভেষজ ও ঔষধি গাছ, যা ত্বকের বিভিন্ন রোগ বিশেষ করে দাদ (Ringworm) চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত হয়। এজন্যই এর নাম হয়েছে "দাদমর্দন"—অর্থাৎ দাদ নাশক।
এর উজ্জ্বল হলুদ ফুলগুলো দেখতে মোমবাতির শিখার মতো—সেখান থেকেই এসেছে “Candle Bush” নামটি। বড় সবুজ পাতা আর আকর্ষণীয় ফুল মিলিয়ে এটি যেমন ঔষধি, তেমনি শোভাবর্ধকও।
উদ্ভিদের পরিচিতি ঃ
এটি মাঝারি আকারের ঝোপজাতীয় গাছ। উচ্চতা সাধারণত ৬–১০ ফুট পর্যন্ত হয়। পাতা বড়, যৌগিক ও গাঢ় সবুজ রঙের।
ফুল উজ্জ্বল হলুদ রঙের এবং মোমবাতির মতো সোজা খাড়া হয়ে ফোটে—এই কারণে একে Candle Bush বলা হয়। শুঁটির মতো লম্বা ফল ধরে।
বিস্তৃতি ও জন্মস্থান ঃ
দাদমর্দন মূলত দক্ষিণ আমেরিকার দেশসমূহে উৎপত্তি হলেও বর্তমানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাওয়া যায়। গ্রামাঞ্চলে রাস্তার ধারে, পতিত জমিতে ও বাড়ির আঙিনায় সহজেই জন্মে।
ঔষধি গুণাগুণ
দাদমর্দন গাছের পাতা ও ফুল ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে অ্যান্টিফাংগাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে।
প্রধান উপকারিতা:
১। দাদ ও চুলকানি নিরাময়
পাতার রস আক্রান্ত স্থানে লাগালে দাদ ভালো হতে সাহায্য করে।
২। ত্বকের সংক্রমণ রোধ
একজিমা, খোসপাঁচড়া ইত্যাদিতে উপকারী।
৩। কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ
এর পাতা হালকা জোলাপ হিসেবে কাজ করে।
৪। প্রদাহনাশক গুণ
শরীরের ফোলা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
ব্যবহার পদ্ধতি ঃ
তাজা পাতা বেটে আক্রান্ত স্থানে দিনে ১–২ বার লাগানো হয়।
শুকনো পাতা গুঁড়া করে ব্যবহার করা যায়।
কখনও কখনও ক্বাথ (পাতা সিদ্ধ করা পানি) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
দ্রষ্টব্যঃ তবে অতিরিক্ত সেবন করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
শোভাবর্ধক গাছ হিসেবে ঃ
এর হলুদ ফুল গাছটিকে অনেক আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই অনেকেই বাগানের শোভাবর্ধক গাছ হিসেবেও রোপণ করেন।
19/02/2026
পলাশ ফুল আগুনরঙা বসন্তের দূত :
পলাশ আমাদের উপমহাদেশের এক অনন্য সৌন্দর্যময় বৃক্ষ। বসন্ত এলেই গাছভর্তি লাল-কমলা আগুনের শিখার মতো ফুলে যখন ডালপালা ছেয়ে যায়, তখন প্রকৃতি যেন নতুন করে জেগে ওঠে। এ কারণেই পলাশকে অনেকে “বসন্তের অগ্নিশিখা” বা “Flame of the Forest” বলে ডাকেন।
বাংলা নাম: পলাশ
ইংরেজি নাম: Flame of the Forest
বৈজ্ঞানিক নাম: Butea monosperma
পরিবার: Fabaceae (ডালজাতীয় উদ্ভিদ পরিবার)
আবাসস্থল: বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল
গাছের বৈশিষ্ট্য :
পলাশ একটি মধ্যম আকৃতির পর্ণমোচী গাছ। শীতকালে এর পাতা ঝরে যায়, আর বসন্তে পাতাহীন ডালে হঠাৎ করেই ফোটে রঙিন ফুল।
ফুলের রং উজ্জ্বল কমলা-লাল
পাপড়ি মোমের মতো মোটা ও বাঁকানো
একেকটি ফুল দেখতে যেন পাখির ঠোঁটের মতো
ফুল ফোটার সময় পুরো গাছটা যেন আগুনে জ্বলে উঠেছে—দূর থেকে দেখলেই বোঝা যায়।
ঔষধি ও ব্যবহারিক গুরুত্ব :
পলাশ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এর রয়েছে নানা ব্যবহার—
ভেষজ গুণ: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় পলাশের ফুল, বীজ ও ছাল ব্যবহার হয়।
প্রাকৃতিক রং: আগে হোলি বা দোল উৎসবে পলাশ ফুল শুকিয়ে প্রাকৃতিক রং তৈরি করা হতো।
মৌচাষ: এর ফুলে প্রচুর মধু থাকে, যা মৌমাছির জন্য উপকারী।
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি: ডালজাতীয় উদ্ভিদ হওয়ায় মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ করে।
সংস্কৃতি ও সাহিত্যে পলাশ :
বাংলা সাহিত্য ও লোককথায় পলাশ প্রেম, বেদনা ও উচ্ছ্বাসের প্রতীক। বসন্ত উৎসবের রঙে পলাশের আগুনরঙা আভা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শান্তিনিকেতনের দোল উৎসবে পলাশ ফুল যেন এক আলাদা আবেগ সৃষ্টি করে।
প্রতীকি অর্থ :
পলাশ মানে—
নতুন সূচনা
উচ্ছ্বাস ও শক্তি
প্রেম ও আবেগ
বসন্তের আহ্বান
উপসংহার :
পলাশ ফুল শুধু একটি গাছের ফুল নয়, এটি প্রকৃতির এক অগ্নিসৌন্দর্য। শহরের কংক্রিটের ভিড়ে যদি কোথাও পলাশ ফুটে ওঠে, তখন মনে হয়—প্রকৃতি এখনও বেঁচে আছে, আগুনরঙা আশা নিয়ে।
চাইলে তুমি এটি বইয়ের অধ্যায় আকারে, কবিতার আকারে, বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য বিশেষভাবে সাজিয়ে দিতে পারি।
15/02/2026
গঙ্গাতারা
Botanical Name: Asystasia gangetica (L.) T. Anderson
Family: Acanthaceae
গঙ্গাতারা একটি সুন্দর শোভাবর্ধক লতানো উদ্ভিদ, যা বাগান, ছাদবাগান ও রাস্তার আইল্যান্ড সাজাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর বড় আকারের নরম রঙের ফুল এবং ঘন সবুজ পাতা একে খুব আকর্ষণীয় করে তোলে।
উদ্ভিদের পরিচিতি ঃ
গঙ্গাতারা মূলত আফ্রিকা মহাদেশের উদ্ভিদ, তবে বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি শোভা বর্ধনের জন্য লাগানো হয়। এটি দ্রুত বর্ধনশীল ও মাটিতে বিছিয়ে বেড়ে ওঠা একটি গ্রাউন্ড কাভার টাইপ গাছ।
পাতা ডিম্বাকার, গাঢ় সবুজ ও কোমল। ফুল ঘণ্টার মতো বড় আকৃতির, সাধারণত হালকা হলুদ বা বেগুনি আভাযুক্ত হয়। ফুলের মাঝখানে গাঢ় রঙের নকশা থাকে, যা ফুলকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তোলে।
ফুল ও প্রজনন ঃ
গঙ্গাতারা প্রায় সারা বছরই ফুল দেয়, তবে বসন্ত ও বর্ষাকালে বেশি ফোটে।
ফুল মৌমাছি ও প্রজাপতি আকর্ষণ করে।
গাছটি সাধারণত কাটিং বা ডাল রোপণের মাধ্যমে সহজেই বংশবিস্তার করে।
আবহাওয়া ও চাষপদ্ধতি ঃ
রোদ: পূর্ণ রোদ থেকে আংশিক ছায়া উপযোগী।
মাটি: ঝুরঝুরে ও পানি নিষ্কাশন ভালো হয় এমন মাটি প্রয়োজন।
পানি: নিয়মিত পানি প্রয়োজন, তবে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না।
যত্ন: দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাই মাঝে মাঝে ছাঁটাই করা জরুরি।
ব্যবহার ঃ
বাগানের বর্ডার বা প্রান্তসজ্জা
লন কভার হিসেবে
টবে বা হ্যাংগিং বাস্কেটে
রাস্তার মিডিয়ান ও আইল্যান্ড সজ্জা
বিশেষ বৈশিষ্ট্য ঃ
দ্রুত বৃদ্ধি পায়
কম যত্নেই ভালো থাকে
মাটিকে ঢেকে আগাছা দমন করে
দৃষ্টিনন্দন ও দীর্ঘস্থায়ী ফুল ফোটে
গঙ্গাতারা তার রঙিন ও আকর্ষণীয় ফুলের কারণে বাগানপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি শোভাবর্ধক উদ্ভিদ। সঠিক যত্ন নিলে এটি পুরো বছরজুড়ে আপনার বাগানে এক মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য এনে দেবে।
14/02/2026
আমরা বেঁচে আছি, কিন্তু সুস্থ আছি তো?
আমরা এখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি,
যেখানে মানুষ ক্লান্ত—
শরীরে নয় শুধু,
মনেও।
প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙে তাড়াহুড়ায়,
দিন চলে যায় দায়িত্বে,
আর রাত নামে অবসাদ নিয়ে।
এই দৌড়ের মধ্যে কোথাও
নিজের শরীরের জন্য জায়গা নেই।
আমরা ভাবি—
“আরেকটু পরে দেখবো”
কিন্তু সেই পরে আর আসে না।
এই যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে নীরব শত্রু হলো—
অবহেলা।
আর তার সবচেয়ে ভয়ংকর সঙ্গী—
ভেজাল খাদ্য।
আমরা যা খাচ্ছি,
তা আর খাবার নেই—
তা শুধু পেট ভরানোর বস্তু।
চকচকে ফল, টাটকা সবজি, বড় মাছ—
দেখতে সুন্দর,
কিন্তু ভেতরে বিষ।
কেমিক্যালে বড় হওয়া খাবার
আমাদের শরীরেও কেমিক্যালের মতো কাজ করছে—
ধীরে, নীরবে, কিন্তু ভয়ংকরভাবে।
আজ ওজন বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে,
কাল রক্তে চিনি বাড়ছে,
পরশু হার্ট দুর্বল হচ্ছে।
স্নায়ু ক্লান্ত,
হাঁটু ব্যথা,
শরীর ভারী—
তবু আমরা বলি,
“সব ঠিক আছে।”
আসলে ঠিক কিছুই নেই।
ডায়াবেটিস, হৃদরোগ,
স্নায়বিক সমস্যা, বাত—
এই রোগগুলো আলাদা আলাদা না।
এরা সবাই
একই ভুল জীবনের সন্তান।
সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা কী ?
এই রোগগুলো আর বয়স্কদের না।
আজ যুবকরাও ক্লান্ত,
যুবকরাও রোগে ভরা।
আমরা নিজের শরীরকে ব্যবহার করছি
একটা মেশিনের মতো—
কিন্তু মেশিনের মতো সার্ভিস দিচ্ছি না।
ভেঙে গেলে তখন মেরামতের কথা ভাবি,
কিন্তু ভাঙার আগের যত্ন নিই না।
এই লেখা কোনো উপদেশ না,
এই লেখা একটা প্রশ্ন—
আমরা যে জীবনটা চাচ্ছি,
এই শরীর কি সেই জীবনটার জন্য তৈরি?
একটু থামা অপরাধ না।
ভালো খাবার চাওয়া বিলাসিতা না।
নিজের শরীরের কথা ভাবা স্বার্থপরতা না।
এই যান্ত্রিক সময়ের সবচেয়ে বড় সাহস হলো—
নিজের স্বাস্থ্যের পক্ষে দাঁড়ানো।
কারণ শেষ পর্যন্ত,
আমরা যা অর্জন করবে—
সবই এই শরীরের কাঁধে ভর করে।
আর যদি শরীরটাই হেরে যায়,
তাহলে জেতার গল্পগুলোও
অর্থহীন হয়ে যায়।
10/02/2026
বাংলা নাম- হুড়হুড়ি,
ইংরেজিতে- Spider Flower
বৈজ্ঞানিক নাম- Cleome spinosa
হুড়হুড়ি গ্রামবাংলার পরিচিত এক ধরনের ভেষজ ও শোভাবর্ধক গাছ। এর ফুলগুলো মাকড়সার পায়ের মতো ছড়িয়ে থাকায় একে ইংরেজিতে Spider Flower বলা হয়। সাধারণত অনাবাদি জমি, বাড়ির আশেপাশে ও রাস্তার ধারে এই গাছ সহজেই জন্মায়।
গাছের বৈশিষ্ট্য :
এটি একটি মাঝারি আকৃতির ঝোপালো গাছ। পাতাগুলো যৌগিক, সবুজ রঙের এবং গাছটি দ্রুত বেড়ে ওঠে। ফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি বা হালকা বেগুনি রঙের হয়ে থাকে, যা দেখতে খুবই আকর্ষণীয়।
ভেষজ গুণাগুণ (লোকজ ব্যবহার) :
শরীরের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়
বাত ও জয়েন্টের ব্যথায় উপকারী
পাতার বাটা ক্ষত বা ফোলা জায়গায় লাগানো হয়
সর্দি-কাশি ও জ্বরে লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার আছে
হজম শক্তি বাড়াতে সহায়ক বলে ধারণা করা হয়
ব্যবহার পদ্ধতি (লোকজ) :
পাতা বেটে বাহ্যিকভাবে লাগানো হয় বা সীমিত মাত্রায় ক্বাথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সতর্কতা :
ভেষজ হলেও অতিরিক্ত বা ভুল ব্যবহারে ক্ষতি হতে পারে। গর্ভবতী নারী ও গুরুতর রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
উপসংহার :
হুড়হুড়ি শুধু সৌন্দর্যই নয়, ভেষজ গুণেও সমৃদ্ধ একটি উদ্ভিদ। তবে যেকোনো ভেষজ উদ্ভিদের মতোই সঠিক জ্ঞান ও পরিমিত ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
09/02/2026
জগৎ মদন / জাগমদন
ইংরেজি নাম হলো Willow-leaved Justicia, Gandarusa plant, Willow-leaf justicia, Gendarussa
বৈজ্ঞানিক নাম: Justicia gendarussa
পরিবার: Acanthaceae
লোকজ নাম: জগৎ মদন, জাগমদন, বিশল্যকরণী গোত্রের উদ্ভিদ
গ্রামবাংলার পরিচিত এই ভেষজ গাছটি প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর ভেষজ গুণাগুণ বিশল্যকরণী গাছের সঙ্গে অনেকটাই মিল থাকায় অনেক জায়গায় একে “বিশল্যকরণীর আত্মীয়” নামে পরিচিত। ইংরেজিতে এর নাম Willow-leaved Justicia, কারণ এর পাতাগুলো দেখতে উইলো (Willow) গাছের পাতার মতো লম্বা ও সরু।
গাছের পরিচয় ঃ
এটি একটি মাঝারি আকৃতির ঝোপালো ভেষজ গাছ। এর পাতাগুলো লম্বা, সরু ও সবুজ রঙের, স্বাদে তিতা। সাধারণত রাস্তার ধারে, বাড়ির আশেপাশে এবং অনাবাদি জমিতে স্বাভাবিকভাবে জন্মাতে দেখা যায়।
জগৎ মদনের প্রধান ভেষজ গুণ ঃ
১। বাত ও জয়েন্টের ব্যথা উপশম
পাতা বেটে বা রস করে খেলে বাত, হাঁটু ব্যথা ও শরীর ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়।
২। স্নায়ু শক্তিশালী করে
নার্ভ দুর্বলতা, হাত-পা ঝিনঝিন করা কমাতে সহায়ক।
৩। প্রদাহ ও ফোলা কমায়
শরীরের ভেতরের ইনফ্লামেশন ও বাহিরের ফোলা কমাতে কার্যকর।
৪। আঘাত ও ক্ষত নিরাময়
পাতা বেটে ক্ষতস্থানে লাগালে দ্রুত আরোগ্য হয় (লোকজ চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত)।
৫। মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন
পাতার রস বা পাতা বাটা কপালে লাগালে আরাম মেলে।
৬। সর্দি-কাশি ও জ্বর
রস বা ক্বাথ বানিয়ে খেলে জ্বর ও কাশি উপশমে সাহায্য করে।
৭। হজম শক্তি বাড়ায়
পেট পরিষ্কার রাখতে ও বদহজমে উপকারী।
৮। রক্ত পরিশোধক
রক্ত পরিষ্কার করে ত্বকের সমস্যায় সহায়তা করে।
৯। যৌন দুর্বলতায় উপকারী (লোকজ ধারণা)
পুরুষদের শারীরিক দুর্বলতায় সীমিত মাত্রায় ব্যবহার করা হয়।
সেবনের নিয়ম (লোকজ পদ্ধতি) ঃ
১। পাতার রস
৩–৫ চা চামচ সকালে বা রাতে (পরিমিত মাত্রায়)
২। পাতা বাটা প্রলেপ
ব্যথা বা ক্ষতে বাহ্যিকভাবে লাগানো হয়
৩। ক্বাথ (সেদ্ধ পানি)
পাতা পানিতে ফুটিয়ে হালকা উষ্ণ অবস্থায় পান
সতর্কতা ঃ
❌ অতিরিক্ত সেবন ক্ষতিকর
❌ দীর্ঘদিন টানা খাওয়া ঠিক নয়
❌ গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীরা এড়িয়ে চলুন
❌ গুরুতর রোগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
দ্রষ্টব্য ঃ
মনে রাখবেন ভেষজ মানেই নিরাপদ নয়, মাত্রাই আসল।
#জগৎমদন
#জাগমদন
#ভেষজগাছ
#দেশিভেষজ
#গ্রামবাংলারচিকিৎসা
#আয়ুর্বেদ
#প্রকৃতিরউপহার
07/02/2026
ত্রিধারা
সাধারণ নাম: Coatbuttons / Tridax Daisy
বৈজ্ঞানিক নাম: Tridax procumbens
পরিবার: Asteraceae
বর্ণনা:
ত্রিধারা হলো Tridax গনের এক প্রকার সপুষ্পক উদ্ভিদ, যা ডেইজি পরিবারভুক্ত। এটি ক্ষতিকারক এবং বিষাক্ত উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি প্রদেশে এটি ক্ষতিকারক উদ্ভিদ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
নামের উৎপত্তি:
Procumbens শব্দের অর্থ হলো “শায়িত”, যা গাছের লতানো বা trailing অভ্যাসকে বোঝায়।
Tridax শব্দটি এই ফুলের তিনটি খাঁজ বা লোব বোঝায়।
বাংলায় এই উদ্ভিদের নাম “ত্রিধারা”করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. কাজী আব্দুল ফাত্তাহ ১৯৭০ সালে নামকরণ করেন। ইংরেজি নাম Coatbuttons রাখা হয়েছে কারণ ফুলের আকৃতি কোটের বোতামের মতো।
বৈশিষ্ট্য:
ত্রিধারার ফুল ডেইজি-প্রজাতির, পাপড়ীর মাঝখানে হলুদ। প্রতিটি পাপড়িতে তিনটি খাঁজ থাকে।
এটি প্রধানত প্রধান মূল বিশিষ্ট perennial তৃণ, শাখা প্রশাখা লতানো বেস থেকে অধিরোহী।
কান্ড নলাকার, প্রায়ই বেগুনী, লম্বা (প্রায় ৭৫ সেমি) এবং সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত শাখা সাদা হয়।
পাতা সরল, ০.৫–৫ সেমি লম্বা, ডিম্বাকার-উপবৃত্তাকার, করাতের মতো খাঁজ কাটা।
ফুল প্রায় ২ সেমি লম্বা, ১০–৩০ সেমি লম্বা বৃন্তে জন্মায়, পাপড়ী সাদা, মাঝখানে হলুদ।
ফল খুব ছোট, প্রতিটি দীর্ঘ পালকবৎ পাপুস লোমের একটি মাথা থাকে।
প্রাপ্তিস্থান:
ত্রিধারা আদিবাস ক্রান্তীয় আমেরিকা, কিন্তু বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ক্রান্তীয়, উপক্রান্তীয় এবং মৃদু তাপমাত্রাযুক্ত অঞ্চলে দেখা যায়।
এটি সাধারণত পথপাড়, সড়কের ধারে, ঘরের পাশে, পতিত জমিতে বা পুরানো দেয়ালের গর্তে জন্মায়। যদিও কেউ রোপণ করে না, তবুও এটি বছরের প্রায় সব সময় ফুল ফোটায়, নতুন বংশধর তৈরি করে এবং প্রজাপতি ও মৌমাছির জন্য উৎস।
ঔষধি ও বৈজ্ঞানিক গুণাবলি:
এর এ্যারিয়াল অংশ থেকে procumbenetin নামে নতুন ফ্ল্যাভোনয়েড আলাদা করা হয়েছে।
ট্র্যাডিশনাল মেডিসিনে ব্যবহৃত:
রক্ত পাতলা করা (anticoagulant)
চুলের টনিক (hair tonic)
ছত্রাকনাশক (antifungal)
ডায়রিয়া ও ডিসেন্ট্রি
ক্ষত নিরাময় (wound healing)
সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে Tridax procumbens এবং Allium sativum একত্রে cutaneous leishmaniasis এবং Leishmania mexicana সংক্রমণে কার্যকর।
নির্যাস ও petroleum ether মিশ্রণে পুরুষদের চুলের বৃদ্ধি এবং alopecia areata-তে চমৎকার ফলাফল পাওয়া যায়।
সতর্কীকরণ:
উপরোক্ত ঔষধি গুণাগুণ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হলেও, এটি কোনো ধরনের চিকিৎসার নির্দেশনা নয়। ব্যবহার করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
05/02/2026
Cleome viscosa হলুদ হুড়হুড়ে
04/02/2026
সোনালু গাছ (Senna siamea)
ইংরেজি নাম:
Golden Shower Tree / Siamese Cassia
পরিবার: Fabaceae
গাছের পরিচিতি
সোনালু একটি মাঝারি থেকে বড় আকারের ছায়াদানকারী গাছ। গাছটির ডালপালা ছড়ানো এবং পাতাগুলো গাঢ় সবুজ ও যৌগিক। বসন্ত ও গ্রীষ্মের শুরুতে গাছ ভরে যায় উজ্জ্বল হলুদ ফুলে, যা দূর থেকেই নজর কাড়ে। ফুলগুলো ঝুলন্ত থোকার মতো ধরে, আর তখন পুরো গাছ যেন সোনালি রঙে ঢেকে যায়—এই কারণেই এর নাম সোনালু।
03/02/2026
সাগর লতা
ইংরেজি নাম: Beach Morning Glory / Goat’s Foot Creeper
পরিবার: Convolvulaceae
পরিচিতি
সাগর লতা একটি উপকূলীয় লতানো উদ্ভিদ, যা সমুদ্রের বালুময় তটভূমিতে স্বাভাবিকভাবে জন্মায়। এটি মাটির ওপর বিছিয়ে ছড়িয়ে বেড়ে ওঠে এবং লম্বা, শক্ত লতার সাহায্যে বালু আঁকড়ে ধরে রাখে। পাতাগুলো মোটা, সবুজ এবং ছাগলের খুরের মতো আকৃতির। ফুল বেগুনি বা হালকা গোলাপি রঙের, দেখতে অনেকটা কলমি ফুলের মতো।
প্রাপ্তিস্থান
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, সমুদ্র সৈকত, নদীর মোহনা ও বালুময় এলাকায় সাগর লতা প্রচুর দেখা যায়।
বিশেষ করে—
✔ সমুদ্র তীর
✔ চর এলাকা
✔ লবণাক্ত বালুমাটি
31/01/2026
দুধিয়া / দুধরাজ (Euphorbia hirta)
পরিবার: Euphorbiaceae
ইংরেজি নাম: Asthma Plant, Snake W**d, Milk W**d
গাছের পরিচিতি ঃ
দুধিয়া বা দুধরাজ একটি অতি পরিচিত ভেষজ আগাছা। গাছটি সাধারণত ৩০–৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। কান্ড নরম, কিছুটা লালচে বা সবুজ রঙের এবং সূক্ষ্ম লোমে ঢাকা থাকে। পাতা ডিম্বাকৃতির, বিপরীত বিন্যাসে জন্মায় এবং প্রান্তে ছোট ছোট দাঁতের মতো খাঁজ থাকে।
গাছের পাতা বা কান্ড ভাঙলে সাদা দুধের মতো কষ বের হয়—এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই এর নাম দুধিয়া বা দুধরাজ। ফুল ছোট, হালকা লালচে বা সবুজাভ, পাতার গোড়ায় গুচ্ছাকারে ফোটে।
প্রাপ্তিস্থান ঃ
বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র এই গাছ জন্মে।
বিশেষ করে— রাস্তার ধারে,পতিত জমিতে,শুকনো মাঠে,বাড়ির আশেপাশে
সাধারণ আগাছা হিসেবে দেখা গেলেও এর ভেষজ গুণের কারণে বহু মানুষ এখন এটি সংরক্ষণ করছে।
ঔষধি গুণাবলি ও উপকারিতা
দুধিয়া গাছ বহু যুগ ধরে লোকজ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
১। রক্ত আমাশয় ও ডায়রিয়া উপশমে কার্যকর
২। পেট ব্যথা ও হজম সমস্যা কমাতে সহায়ক
৩। কাশি, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টে উপকারী—এ কারণেই একে Asthma Plant বলা হয়
৪। গাছের সাদা কষ জীবাণুনাশক, ক্ষত ও ফোঁড়া দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে
৫। ত্বকের প্রদাহ, ঘা, চুলকানি ও ফোঁড়া নিরাময়ে পাতার ব্যবহার উপকারী
৬। পাতার রস প্রস্রাবকারক, শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে
৭। রক্ত পরিশোধনে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়
ব্যবহারের পদ্ধতি
পাতা বা পুরো গাছ সিদ্ধ করে বা রস আকারে সেবন করা হয়। বাহ্যিক ব্যবহারে পাতার রস বা কষ ক্ষতস্থানে লাগানো যায়
সতর্কতা
গাছের সাদা দুধসদৃশ কষ চোখে বা খোলা ক্ষতে লাগলে জ্বালাপোড়া হতে পারে। অতিরিক্ত বা ভুল ব্যবহার ক্ষতিকর হতে পারে
ব্যবহারের আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা হারবাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন