োবারক
আনন্দঘন উৎসব মুখর হোক সকলের অনাগত দিন।
দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত সকলের জন্য ঈদ শুভেচ্ছা।
Emran Diary
Migrant's Rights Activist
27/05/2026
২০১৯ সালের ঘটনা। তুরস্কের ৪৫ বছর বয়সী দুই সন্তানের জনক আলী শিফশি তার বাড়িতে এক চোরের মুখোমুখি হন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি তিন তলার জানালা দিয়ে নিচে পড়ে যান। সেই প্রচণ্ড আঘাতে তার খুলির বেশিরভাগ অংশ চূর্ণ হয়ে যায়।
চিকিৎসকরা তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন, আলীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ। টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা অসংখ্য অস্ত্রোপচারের পর যখন তার অবস্থা স্থিতিশীল হলো, ততক্ষণে তার খুলির ৮৩ শতাংশ অংশই হারিয়ে গেছে।
দুর্ঘটনার পর কয়েক বছর আলী তীব্র ব্যথা আর ভয়ে দিন কাটিয়েছেন। মাথার আকৃতি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি লোকসমাজে যেতে লজ্জা পেতেন। নিজের চেহারা নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগতেন এবং ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। মনে হচ্ছিল, তিনি যেন নিজেরই এক ভাঙাচোরা শরীরের ভেতর বন্দি হয়ে আছেন।
এরপর আলীর জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এলো ইস্তাম্বুলের 'গুলহানে ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ হসপিটাল'। সেখানকার সার্জন এবং ইঞ্জিনিয়াররা এমন এক পরিকল্পনা করলেন যা কয়েক বছর আগেও অসম্ভব ছিল। তারা থ্রিডি-প্রিন্টেড টাইটানিয়াম ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করে তার খুলি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। ইঞ্জিনিয়াররা আলীর মাথার সিটি স্ক্যান করে একটি নিখুঁত ডিজিটাল মডেল তৈরি করেন।
নিখুঁত মাপ অনুযায়ী টাইটানিয়াম দিয়ে কৃত্রিম হাড় তৈরি করা হয়। সার্জনদের অনুমোদনের পর সেই টাইটানিয়াম অংশগুলো আলীর মাথায় সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।
আজ আলী যন্ত্রণামুক্ত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ। তার হারানো চেহারা ফিরে এসেছে, সাথে ফিরে এসেছে আত্মবিশ্বাস। এখন আর তাকে দুনিয়ার কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে হয় না।
আলীর এই ঘটনাটি বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বিপ্লবের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাবিশ্বে এখন জটিল হাড়ের চিকিৎসায় এবং খুলি পুনর্গঠনে এই থ্রিডি-প্রিন্টেড টাইটানিয়াম ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি অস্ত্রোপচারের সময় কমিয়ে দেয় এবং নিখুঁত ফলাফল নিশ্চিত করে।
সংগৃহীত
27/05/2026
দেশে বিদেশে অবস্থান/কর্মরত সবাইকে ঈদ উল আযহার শুভেচ্ছা।
18/05/2026
⛔অংশীদারি ব্যবসার চুক্তিনামার একটি ফরম্যাট।👇
অংশীদারি ব্যবসার চুক্তিনামা (Partnership Deed) – বিস্তারিত ফরম্যাট
নিচে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারযোগ্য অংশীদারি ব্যবসার চুক্তিনামার নমুনা দেওয়া হলো। এটি বাংলাদেশে সাধারণ ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের জন্য উপযোগীভাবে তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনজীবীর মাধ্যমে যাচাই করে ব্যবহার করা উত্তম।
অংশীদারি ব্যবসার চুক্তিনামা
এই মর্মে চুক্তিনামা সম্পাদিত হইল
আজ _________ তারিখ ____________ খ্রিস্টাব্দ, নিম্নস্বাক্ষরকারী পক্ষগণের মধ্যে নিম্নবর্ণিত শর্তাবলীর ভিত্তিতে একটি অংশীদারি ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে এই চুক্তিনামা সম্পাদিত হইল।
✡১। পক্ষগণের পরিচয়
প্রথম পক্ষ:
নাম: __________________________
পিতার নাম: ____________________
মাতার নাম: ____________________
জাতীয় পরিচয়পত্র নং: _____________
ঠিকানা: ________________________
দ্বিতীয় পক্ষ:
নাম: __________________________
পিতার নাম: ____________________
মাতার নাম: ____________________
জাতীয় পরিচয়পত্র নং: _____________
ঠিকানা: ________________________
তৃতীয় পক্ষ (যদি থাকে):
নাম: __________________________
পিতার নাম: ____________________
জাতীয় পরিচয়পত্র নং: _____________
ঠিকানা: ________________________
অতঃপর উক্ত পক্ষগণ সম্মিলিতভাবে “অংশীদার” নামে পরিচিত হইবেন।
✡২। ব্যবসার নাম
ব্যবসার নাম হইবে:
“___________________________________”
✡৩। ব্যবসার ধরন
ব্যবসার প্রকৃতি হইবে:
(যেমন: পাইকারি/খুচরা ব্যবসা, আমদানি-রপ্তানি, অনলাইন ব্যবসা, কনস্ট্রাকশন, আইটি সার্ভিস ইত্যাদি)
✡৪। ব্যবসার ঠিকানা
ব্যবসার প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা:
প্রয়োজনে অংশীদারগণের সম্মতিতে শাখা অফিস খোলা যাইবে।
✡৫। ব্যবসা শুরু হওয়ার তারিখ ও মেয়াদ
ব্যবসা শুরু হইবে: ____ / ____ / ______ তারিখ হইতে।
এই অংশীদারি ব্যবসা:
অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান থাকিবে
অথবা
____ বছর মেয়াদ পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে।
✡৬। মূলধন বিনিয়োগ
অংশীদারগণ নিম্নরূপ মূলধন বিনিয়োগ করিবেনঃ
অংশীদারের নামবিনিয়োগের পরিমাণশতাংশ____________________________ টাকা_____%____________________________ টাকা_____%____________________________ টাকা_____%
প্রয়োজনে অতিরিক্ত মূলধন অংশীদারগণের সম্মতিতে প্রদান করা যাইবে।
✡৭। লাভ-লোকসান বণ্টন
ব্যবসার নিট লাভ ও লোকসান নিম্নরূপ হারে বণ্টিত হইবেঃ
অংশীদারের নামলাভের হারলোকসানের হার_______________________%_____%_______________________%_____%_______________________%_____%
✡৮। দায়িত্ব ও ক্ষমতা
১। সকল অংশীদার ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা করিবেন।
২। কোনো অংশীদার অন্য অংশীদারের লিখিত সম্মতি ব্যতীত—
ঋণ গ্রহণ,
বড় অংকের লেনদেন,
ব্যবসার সম্পদ বিক্রয়,
নতুন অংশীদার গ্রহণ
করিতে পারিবেন না।
৩। প্রতিটি অংশীদার ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা করিতে বাধ্য থাকিবেন।
✡৯। ব্যাংক হিসাব
ব্যবসার নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হইবে।
ব্যাংক হিসাব পরিচালনার নিয়মঃ
☐ একক স্বাক্ষরে
☐ যৌথ স্বাক্ষরে
স্বাক্ষরকারী ব্যক্তির নাম: ________________________
✡১০। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা
১। ব্যবসার সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হইবে।
২। প্রতি অর্থবছর শেষে হিসাব প্রস্তুত করা হইবে।
৩। প্রয়োজনবোধে নিরীক্ষক নিয়োগ করা যাইবে।
✡১১। বেতন, ভাতা ও কমিশন
কোনো অংশীদার ব্যবসায় পূর্ণকালীন কাজ করিলে পারস্পরিক সম্মতিতে মাসিক বেতন/ভাতা পাইতে পারেন।
বিস্তারিতঃ
✡১২। নতুন অংশীদার অন্তর্ভুক্তি
সকল বর্তমান অংশীদারের লিখিত সম্মতি ব্যতীত নতুন কোনো অংশীদার অন্তর্ভুক্ত করা যাইবে না।
✡১৩। অংশীদারের অবসর, মৃত্যু বা অপসারণ
১। কোনো অংশীদার ব্যবসা ছাড়িতে চাইলে কমপক্ষে _____ দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করিবেন।
২। কোনো অংশীদারের মৃত্যু ঘটিলে তাহার আইনগত উত্তরাধিকারীগণ প্রাপ্য পাওনা গ্রহণ করিবেন।
৩। প্রতারণা, তহবিল আত্মসাৎ বা গুরুতর অসদাচরণের কারণে অংশীদার অপসারণ করা যাইবে।
✡১৪। গোপনীয়তা
অংশীদারগণ ব্যবসার গোপন তথ্য তৃতীয় পক্ষের নিকট প্রকাশ করিবেন না।
✡১৫। বিরোধ নিষ্পত্তি
চুক্তি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ সৃষ্টি হইলে প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হইবে।
সমাধান না হইলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হইবে।
✡১৬। চুক্তি সংশোধন
এই চুক্তির কোনো ধারা পরিবর্তন বা সংশোধন করিতে হইলে সকল অংশীদারের লিখিত সম্মতি আবশ্যক হইবে।
১৭। বিলুপ্তি
নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে অংশীদারি ব্যবসা বিলুপ্ত হইতে পারেঃ
সকল অংশীদারের সম্মতিতে
দেউলিয়াত্ব
আদালতের আদেশে
ব্যবসা অবৈধ ঘোষিত হইলে
বিলুপ্তির পর সম্পদ বিক্রয় করিয়া দায়-দেনা পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ অংশীদারগণের মধ্যে বণ্টন করা হইবে।
✡১৮। ঘোষণা
আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এই মর্মে ঘোষণা করিতেছি যে, উপরোক্ত সকল শর্তাবলী পড়িয়া, বুঝিয়া ও স্বেচ্ছায় এই চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করিলাম।
অংশীদারগণের স্বাক্ষর
নামস্বাক্ষরতারিখ__________________________________________________________________________________________________________________
সাক্ষীগণের স্বাক্ষর
সাক্ষী – ১
নাম: __________________________
ঠিকানা: _______________________
স্বাক্ষর: ______________________
সাক্ষী – ২
নাম: __________________________
ঠিকানা: _______________________
স্বাক্ষর: ______________________
নোটারি / অ্যাফিডেভিট (প্রয়োজনে)
নোটারি পাবলিক কর্তৃক সত্যায়িত করা যাইতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
ব্যবসার ধরন অনুযায়ী TIN, Trade License, VAT, RJSC Registration প্রয়োজন হতে পারে।
বড় বিনিয়োগ বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন আইনজীবীর মাধ্যমে চুক্তি যাচাই করানো উচিত।
স্ট্যাম্পে চুক্তিনামা সম্পাদন করলে এটি অধিক গ্রহণযোগ্য হয়।
#চুক্তিনামা #অংশীদারি_Business
সংগৃহীত
18/05/2026
সৃষ্টি নিখুঁত..... জীবদেহ নিখুঁতের মিথ
মানুষের ডিজাইনে কিছু মারাত্মক ত্রুটি!
© অলোক সরাক
আমাদের মানুষদের “সৃষ্টি” কে নিখুঁত ভাবার বাতিক আছে!
গ্রিকরা গাণিতিকভাবে নিখুঁত দেহের প্রতি অবসেসড ছিল, কিন্তু সৃষ্টি মোটেই নিখুঁত নয়, মানুষের শরীরে ডিজাইনের প্রচুর ত্রুটি আছে, কারণ পিছনে কোন “বুদ্ধিমান ডিজাইনার” নেই, বরং বিবর্তন আমাদের দেহকে কোনরকমে জোড়াতালি দিয়ে প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রতি ফিট বা মানানসই করেছে মাত্র।
এইসব ডিজাইন ফ্ল বা ত্রুটি না থাকলে মানুষ অনেক দীর্ঘ ও আরামদায়ক জীবনযাপন করত।
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক নৃবিজ্ঞানী অ্যালান মানের কথায় "বিবর্তন পরিপূর্ণতা তৈরি করেনা, বরং জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানোর মত করে প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রতি ফিট করে মাত্র"
মানুষের শরীরের কয়েকটি বহুল পরিচিত ডিজাইন ফ্ল বা ত্রুটি -
বেদনাদায়ক অস্বস্তিকর মেরুদণ্ড: বর্তমানে মানুষের মেরুদণ্ড একটি জগাখিচুড়ি! আমাদের অমানব পূর্বপুরুষদের মেরুদণ্ড ধনুকের মতো খিলান তৈরি করে নীচে ঝুলে থাকা অঙ্গগুলির ওজন সহ্য করার জন্য বিবর্তিত হয়েছিল, কারণ আমাদের পূর্বপুরুষরা অতীতে হাতে-পায়ে হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করত, পরের স্টেজে সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটত, তখন সব ঠিক ছিল, কিন্তু তারপর আমরা উঠে দাঁড়ালাম, ফলে মেরুদণ্ড একটি কলামে পরিণত হতে বাধ্য হল, এই পরিবর্তনটি নিম্ন কশেরুকার উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে কশেরুকার মাঝে থাকা ডিস্ক স্লিপ হয় এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিঠে ব্যথা শুরু হয়, ভারী ওজন তুললে কম বয়সেই মেরুদন্ড নষ্ট হয়ে যায়।
চারপেয়ে প্রাণিদের জীবনে এই সমস্যা নেই। তাই মানুষের বার্ধক্যে হাড়ের ক্ষয়, পিঠ, কোমরে ব্যথা অত্যন্ত সাধারণ।
অনমনীয় হাঁটু: মানুষের শরীরের সবচেয়ে জটিল জয়েন্টটির ডিজাইনে মারাত্মক ভুল! হাঁটু শুধুমাত্র দুটি দিকে ঘোরে, সামনে এবং পিছনে। এই জয়েন্টটি যদি কাঁধ এবং নিতম্বের মতো বল-সকেট দিয়ে তৈরি হত, তাহলে তাড়াতাড়ি হাঁটুর হাড় ক্ষয়ে গিয়ে ব্যথা হত না।
আবার দুই পায়ে দাঁড়ানোর কারণে হাঁটুতে অত্যধিক চাপ পড়ে, ফলে জঙ্ঘা ও পায়ের জয়েন্ট ভঙ্গুর, লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় থাকে, আর্থ্রাইটিস হয়।
সরু পেলভিস: এই ডিজাইন ভুলের জন্য মানব নারীদের প্রবল প্রসব বেদনা সহ্য করতে হয়, আমাদের বড় মস্তিষ্ক ও সরু পেলভিস হওয়ার জন্য এটা হয়, নারীদের শ্রোণির প্রস্থ প্রায় ২ লক্ষ বছর ধরে পরিবর্তিত হয়নি।
পুরুষদের শরীরের বাইরে ঝুলন্ত অণ্ডকোষ: মানুষের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি শরীরের বাইরে ঝুলে থাকে, যার ফলে আঘাতের প্রতি অসহায়।
ঘন সারিবদ্ধ দাঁত: যখন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্ক প্রসারিত হয়, তখন চোয়ালটি আরও ছোট হয়ে যায়, ফলে দাঁতগুলি কাছাকাছি এসে যায়, বিশেষ করে পেষাই দাঁত গুলির মাঝে খুব পাতলা ফাঁকে খাবার জমে, ফারমেন্টেশন হয়ে অ্যাসিড তৈরি হয়, যত্ন না নিলে দাঁত নষ্ট হয়, আরেকটি সমস্যা হল, সবচেয়ে দূরবর্তী মোলার দাঁতের জন্য কোন জায়গা অবশিষ্ট থাকে না, ফলে "আক্কেল দাঁত" বেরোনোর সময় ব্যথা হয়।
প্যাঁচানো ধমনী: মানুষের বাহু এবং পায়ে একটি করে প্রধান ধমনী দিয়ে রক্ত সরবরাহ হয়, যা শরীরের সামনের দিকে বাইসেপস বা হিপ ফ্লেক্সর দিয়ে প্রবেশ করে, ফলে পিছনের দিকের ট্রাইসেপস এবং হ্যামস্ট্রিং টিস্যুতে রক্ত সরবরাহ করতে হাড়ের চারপাশে বৃত্তাকার পথ ধরতে হয় এবং স্নায়ুর সঙ্গে পেঁচিয়ে যায়, এই কারণেই হাতে বা পায়ে কিছুক্ষণ চাপ পড়লে অসাড় হয়ে যায়।
চোখে পশ্চাৎমুখী রেটিনা: মানুষের চোখের রেটিনার ফটোরিসেপ্টর কোশগুলি পিছনের দিকে মুখ করে সজ্জিত থাকে, এই ডিজাইনের ফলে রেটিনা ডিট্যাচ বা খুলে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে, যা অন্ধত্বের একটি প্রধান কারণ। মানুষের তুলনায় অক্টোপাশ ও স্কুইডদের চোখের ডিজাইন অনেক উন্নত।
ভুল পথে স্নায়ু: রেকারেন্ট ল্যারিঞ্জিয়াল নার্ভ (RLN) আমাদের কথা বলার এবং খাবার গেলার মেকানিজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভ্রূণের বিকাশের সময় RLN ঘাড়ের টিস্যুর একটি ছোট পিণ্ডে জড়িয়ে যায়, যা মহাধমনীর চারপাশে স্নায়ুটিকে লুপ করে দেয়, যা এই জায়গায় আঘাতের প্রতি আমাদের অসহায় করে তোলে।
স্বরযন্ত্র ভুল জায়গায়: শ্বাসনালী ও খাদ্যনালী গলবিলে একই স্থানে খোলে, আবার এখানেই স্বরযন্ত্রেরও অবস্থান, শ্বাসনালীতে যাতে খাবার না ঢুকে যায় তার জন্য এপিগ্লটিস খাবার গেলার সময় স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে শ্বাসনালীর ছিদ্রকে ঢেকে দেয়, কিন্তু কখনও কখনও এপিগ্লটিস যথেষ্ট দ্রুত কাজ করেনা, ফলে খাওয়ার সময় কথা বললে খাবার পিছলে পড়ে শ্বাসনালীতে আটকে যেতে পারে, ফলে মানুষের দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর পরিস্থিতি চলে আসে, এইভাবে অনেক মানুষ বেঘোরে প্রাণ হারায়।
পায়ু ও জননছিদ্রের কাছাকাছি অবস্থান: এই ছিদ্র দুটির কাছাকাছি অবস্থানের জন্য মানুষ মূত্রনালীতে সংক্রমণের শিকার হয়, বিশেষ করে মহিলারা এই ডিজাইনের জন্য বেশি অসহায় হয়ে উঠেছে।
মানুষের ডিএনএ মেরামত দক্ষতা দুর্বল - ফলে মানুষের কোশ ক্যান্সারাস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।
বিবর্তন একটি পরিবর্তনকারী শক্তি, কোনও দক্ষ, মেধাবী ইঞ্জিনিয়ার নয়, বিবর্তন শূন্য থেকে পুনরায় নকশা করার পরিবর্তে পুরানোগুলির উপরে নতুন বৈশিষ্ট্য তৈরি করে। এর ফলে অনেক "প্যাচওয়ার্ক" বা জোড়াতালি ডিজাইন তৈরি হয়। ক্রমববিবর্তনের কারণে “প্যাচওয়ার্ক” ডিজাইন - প্রাকৃতিক নির্বাচন মানুষের দেহে অনেক জায়গায় ত্রুটির আপাত সমাধান করেছে, অর্থাৎ জোড়াতালি দিয়ে, প্যাচওয়ার্ক করে কাজ চালিয়েছে, পুরানো কাঠামোর ওপর নতুন অংশ বসিয়েছে।
যেমন স্বরযন্ত্রের স্নায়ু, এই স্নায়ু স্বরযন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে, মস্তিষ্ক থেকে সরাসরি গলায় যাওয়ার পরিবর্তে, এটি বুকে একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয় এবং তারপর আবার উপরে উঠে আসে। জিরাফের ক্ষেত্রে এই স্নায়ু অপ্রয়োজনীয়ভাবে কয়েক মিটার এগিয়ে যায়! কারণ এটি আমাদের প্রাথমিক মাছের মতো পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছিল যাদের শারীরস্থান সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছিল, কিন্তু স্নায়ু পথটি রয়ে গেছে।
মানুষের চোখে অন্ধবিন্দু বা ব্লাইন্ডস্পট - অপটিক স্নায়ু মানুষের রেটিনার পিছনের দিকে যুক্ত, যাতে রেটিনার একটি অংশে কোন আলোক সংবেদনশীল কোশ থাকেনা। স্বাভাবিক অবস্থায় ব্লাইন্ড স্পট সমস্যার সৃষ্টি করে না কারণ মস্তিষ্ক অন্য চোখ এবং আশেপাশের দৃষ্টিক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে অনুপস্থিত তথ্য পূরণ করে নেয়। তবে কোন রোগের কারণে যদি ব্লাইন্ডস্পট বড় হয়ে যায়, তখন সমস্যা দেখা দিতে পারে যাকে স্কোটোমাবলা হয় , চোখের ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, গ্লুকোমা বা রেটিনা ডিটাচমেন্টের মতো অবস্থার কারণে ঘটে, এছাড়া এই ভুল ডিজাইনের কারণে চোখের ভেতরে তরলের চাপ বাড়ার ফলে গ্লুকোমা হলে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং দৃষ্টিশক্তির স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে দৃষ্টিতে অন্ধ দাগ বা "প্যাচি ব্লাইন্ড স্পট" দেখা দিতে পারে।
মানুষের তুলনায় স্কুইড এবং অক্টোপাসের চোখ ভিন্নভাবে বিবর্তিত হয়েছে, তাদের চোখে এই ত্রুটি নেই।
সাইনাসের খারাপ নিষ্কাশন ব্যবস্থা - মানুষের সাইনাস, বিশেষ করে বড় ম্যাক্সিলারি সাইনাস সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গহ্বরের উপরের দিকে অবস্থিত খোলা জায়গা (অস্টিয়া) দিয়ে নাকের গহ্বরে প্রবেশ করে, ফলে শ্লেষ্মাকে মাধ্যাকর্ষণের বিরুদ্ধে চলতে হয়, যার ফলে মাথা কাত না করে থাকলে বা শুয়ে না থাকলে কার্যকরভাবে শ্লেষ্মা নিষ্কাশন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি বেশিরভাগ চারপেয়ের প্রাণীদের তুলনায় বিপরীত, ওদের সাইনাস মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সাথে কাজ করে আরও দক্ষতার সাথে নিষ্কাশন করে। সাইনাসের প্রাকৃতিক খোলা অংশ (অস্টিয়া) তুলনামূলকভাবে সরু এবং সাধারণ সর্দি, অ্যালার্জি বা প্রদাহের কারণে সহজেই এটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এই বাধা সাইনাস গহ্বরের ভিতরে শ্লেষ্মা আটকে রাখে, যা ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত একটি গরম, অন্ধকার, তরলপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে, যা সংক্রমণের দিকে পরিচালিত করে, এর ফলে ঘন ঘন সাইনাস সংক্রমণ হয়। এটারও কারণ হল মানুষের প্রাথমিক খুলির নকশাটি মাছের মত প্রাণিদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত, যারা জলে আনুভূমিক অবস্থায় জীবন কাটাত।
ভ্যারিকোজ শিরা - মানুষ ও মহাবানরদের মত দাড়িয়ে থাকা প্রাণিদের ক্ষেত্রে হৃৎপিন্ড অনেক উচুঁতে থাকে, ফলে পায়ের রক্তকে উপরের দিকে হৃৎপিন্ডে ফিরিয়ে আনতে মানুষের পায়ের শিরাগুলিকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সাথে লড়াই করতে হয়, এই সিস্টেমটি হল মূলত সোজা হয়ে হাঁটার জন্য ছিলনা, যার ফলে ভ্যারিকোজ শিরা দেখা দিতে পারে, শিরাগুলোর ভালভ দুর্বল হয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্থ হলে রক্ত হৃৎপিণ্ডের দিকে সঠিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে না এবং শিরায় জমা হয়, যার ফলে শিরাগুলো ফুলে যায়, পেঁচিয়ে যায়।
অবশিষ্ট অঙ্গ - যেমন অ্যাপেনডিক্স মূলত বেশি উদ্ভিদভোজী পূর্বপুরুষদের অঙ্গের অবশিষ্ট অংশ, বিবর্তন এটিকে টিকিয়ে রেখেছে কারণ এর এখনও রোগ প্রতিরোধে সামান্য ভূমিকা রয়েছে, তবে এটি একটি অবশিষ্ট রেট্রোফিট, এতে প্রদাহ হতে পারে (অ্যাপেনডিসাইটিস), কখনও কখনও মারাত্মকও হতে পারে।
কব্জির হাড়ের অনেক টুকরো - মানুষের কব্জিতে ৮টি ছোট কার্পাল হাড় রয়েছে , যা মূলত গাছে বসবাসকারী স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আরোহণ এবং আঁকড়ে ধরার জন্য বিকশিত হয়েছিল, কিন্তু মানুষে রয়ে যাওয়া কাঠামোটি প্রয়োজনের তুলনায় জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কব্জির পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ, যেমন টাইপিং, মাউস, কলম, যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা বা কোনো নির্দিষ্ট কাজে বারবার হাত ব্যবহার করলে হাত ও বাহুতে ব্যথা, অসাড়তা দেখা দেয়, ঝিনঝিন করে, কারণ কব্জির কার্পাল টানেলের মধ্য দিয়ে যাওয়া মিডিয়ান নার্ভে (মধ্যমা স্নায়ু) চাপ পড়ে ও সংকুচিত হয়, যার ফলে ব্যথা, ঝিঁঝিঁ করা এবং দুর্বলতা দেখা দেয়। একে কার্পাল টানেল সিনড্রোম বলে।
সুতরাং প্রকৃতির ডিজাইন নিখুঁত - এটি একটি মিথ, কারণ প্রকৃতি বা বিবর্তন কোন দক্ষ চেতনা নিয়ন্ত্রিত ইঞ্জিনিয়ার নয়, আজকের সব জীবদের প্রাকৃতিক নির্বাচন ধীরে ধীরে তৈরি করেছে। তাই আদর্শ, নির্ভুল ডিজাইনের পরিবর্তে “যা টিকে যায়” তাই চলছে।
এগুলো ছাড়াও আরো অনেক ত্রুটি আছে।
#বিজ্ঞানকথা
#শুভ_জন্মদিন_গুরু
Anisur Rahman Khan
জীবনের দীর্ঘ পথে অনেক মানুষের সান্নিধ্য পাওয়া যায়, কিন্তু খুব অল্প কিছু মানুষ থাকেন যাদের উপস্থিতি পথকে আলোকিত করে, মনকে পরিশুদ্ধ করে এবং মানুষ হওয়ার শিক্ষাটি নিভৃতে হৃদয়ে গেঁথে দেন। আমার জন্য আপনি তেমনই এক বিরল মানুষ।
আপনি কেবল একজন শুধু অভিবাসী শ্রমিকের সেবার আস্থার প্রতীক নন, বরং মানবিকতা, সততা ও সৌম্য প্রজ্ঞার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। জ্ঞানের গভীরতা যার বিনয়ে ঢাকা, অভিজ্ঞতার দীপ্তি যার আচরণে নির্মল হয়ে ফুটে ওঠে।
জীবনের কোলাহলময় ভিড়ে আপনি এক শান্ত আলোকবর্তিকা হয়ে শুধু মানুষকে কেবল পথ দেখান না, বরং সাহস জোগান, আস্থা ফিরিয়ে দেন এবং সুস্থ চিন্তার দিকে আহ্বান করেন। আপনার নিরহংকার ব্যক্তিত্ব, নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি ও সহৃদয় ব্যবহারে হয়ে উঠেছেন অনেকের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও নির্ভরতার নাম।
আপনার জ্ঞানের গভীরতা ও অভিজ্ঞতা কখনো অহংকারে রূপ নেয়নি, বরং বিনয়ের আবরণে তা আরও মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে। প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আপনার মমত্ব, সত্যের প্রতি অবিচল অবস্থান এবং নির্মল হৃদয়ের সৌরভ আমাদের মতো অনুজদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। আপনি কেবল পথপ্রদর্শক নন, আপনি আশ্রয়, আপনি প্রজ্ঞার দীপশিখা।
আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আপনার সহযোদ্ধা হিসেবে আমার একান্ত প্রার্থনাঃ
মহান স্রষ্টা আপনার জীবনকে সুস্বাস্থ্য, প্রশান্তি ও দীর্ঘ আলোকময় সময়ের আশীর্বাদে পূর্ণ করুন। আপনার প্রজ্ঞার ছায়া যেন আরও বহু মানুষকে সৎ পথের সাহস জোগায়, আপনার নির্মল হৃদয় যেন মানবতার কল্যাণে আরও দীর্ঘকাল জেগে থাকে। সময় বদলাবে, পৃথিবীর রংও পাল্টাবে, তবু আপনার মতো সৎ, নিরহংকারী ও জ্ঞানী মানুষেরা চিরকাল মানুষের হৃদয়ে সবুজ বৃক্ষের মতো বেঁচে থাকুন।
আপনার জন্মদিন হোক শুভবোধ, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ প্রজ্ঞাময় জীবনের নতুন অধ্যায়। সময়ের স্রোত বয়ে যাক, কিন্তু আপনার চিরসবুজ মানবিকতা ও আলোকিত মনন অমলিন থাকুক মানুষের হৃদয়ে।
শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অফুরন্ত শুভকামনায় আপনার প্রিয়শত্রু/অনুজ/সহযোদ্ধা।
© EMRAN MOHAMMAD KHAN
#বান্দরবান_বন্দনা
পাহাড়ের উঁচুনিচু ঢাল, সবুজ তরুলতা আর সুউচঁটিলার মাঝে যেন মানবজীবনের গভীর প্রতিচ্ছবি লুকিয়ে আছে। দূর থেকে পাহাড় যত শান্ত, তার পথ ততই দুর্গম, মানুষের জীবনও তেমনি বাহ্যিক স্থিরতার আড়ালে বহন করে অগণিত সংগ্রাম। কখনো জীবন কোমল সবুজের মতো প্রশান্ত, কখনো পাথুরে চড়াইয়ের মতো কঠিন। তবু মানুষ থেমে থাকে না।
পাহাড় যেমন ঝড়-বাদল সহ্য করেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি মানুষও দুঃখ ও ব্যর্থতা পেরিয়ে নতুন শক্তি খুঁজে নেয়। সবুজে মোড়া পাহাড় শেখায় প্রতিকূলতার মাঝেও সৌন্দর্য ও আশার জন্ম হয়। তাই পাহাড় কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, ধৈর্য, সহাবস্থান ও জীবনের অদম্য প্রত্যয়ের এক জীবন্ত প্রতীক।
সময়কাল- ১৫/০৪/২০২৬
EMRAN MOHAMMAD KHAN
06/05/2026
"য়োরুবা জাতিগোষ্ঠী কেন নাইজেরিয়ায়─ এবং খুব সম্ভবত সমগ্র আফ্রিকাতেই─ সফলতম জাতিগোষ্ঠী, এর কারণ অনুধাবন করা যায় নিজনিজ মা-বাবার প্রতি প্রত্যেক য়োরুবা ব্যক্তির শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মানপ্রদর্শনের ঐতিহ্য দেখে। আমি পৃথিবীর বহু দেশে ভ্রমণ করে বহু জাতিগোষ্ঠীর সাথে সময় কাটিয়েছি, কিন্তু কখনো কোথাও এমন একটিও জাতিকে দেখিনি যারা য়োরুবাদের মতো নিজেদের মা-বাবাকে নিজেদের জীবনের প্রত্যেকটি স্তরে এতোটা উঁচুতে স্থান দেয়, এতোটা শ্রদ্ধা করে।
যে-মানুষেরা তাঁদের মাতাপিতাকে সম্ভবপর সর্বোচ্চ উপায়ে মূল্যায়ন করেন, তাঁদের জীবনযাত্রাকে পৃথিবীর চোখ থেকে লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাঁরা, মূলত মানবিক সমাজসংস্কারক। ফেমি ওতেদোলা─ একজন বিশ্বখ্যাত ব্যবসায়ী ও বিলিয়োনিয়ার─ যিনি একজন য়োরুবান, যখনই তাঁর বাবার সাথে দেখা হয়, রাস্তায়-ঘরে-কাজে, বাবার সামনে সাষ্টাঙ্গে নত হয়ে, তাঁর পায়ে কপাল ঠেকিয়ে মাটিতে নুয়ে থাকেন কিছুক্ষণ, রোজ, আমি দেখেছি।
যখন একজন মানুষ তাঁর মাতাপিতাকে অমন সম্মান করেন─ ঐতিহ্যগতভাবেই হোক কিংবা ব্যক্তিগতভাবে─ সেখানে সৃষ্টিকর্তারও কোনো কারণ থাকে না সেই মানুষটিকে এবং তাঁর পরিবারকে চূড়ান্ত উন্নতির শিখরে উত্তোলন না-করার। য়োরুবানদের সাফল্যের গোপন রহস্য সন্ধান করছেন? অন্য কিছু নয়, তাঁদের জন্মদাত্রী ও জন্মদাতার প্রতি তাঁদের কৃতজ্ঞতাপ্রকাশের দিকে তাকান, আটপ্রহর শ্রদ্ধাপ্রদর্শনের মধ্য দিয়ে।
প্রথম আফ্রিকান সামরিক শাসক, যিনি আফ্রিকান অঞ্চলে বিরল উদাহরণ রেখে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন─ ওলেসেগুন ওবাসাঞ্জো...
প্রথম আফ্রিকান নোবেল লরিয়্যেট─ অধ্যাপক ওলে সোয়িঙ্কা...
প্রথম নাইজেরিয়ান পুলিৎজার বিজয়ী─ দেলে ওলোজেদে...
মার্কিন সরকারে প্রথম আফ্রিকান ক্যাবিনেট সদস্য─ ওয়ালে আদেয়েমো...
প্রথম নাইজেরিয়ান গ্র্যামি বিজয়ী─ সানি আদে...
ফোর্বস ম্যাগাজিনের শীর্ষ পঁচিশ জন আফ্রিকান ধনাঢ্য ব্যক্তির চার জন─ মাইক আদেন্যুগা, ফেমি ওতেদোলা, তোপে আওতোনা ও ফলোরুনশো আলাকিজা...
নাইজেরিয়ার সর্বোচ্চ স্বাক্ষরতার হার ও সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের ভূরাজনৈতিক অঞ্চল...
সবাই, সমস্তই, য়োরুবা।
আমি বলবো, নাইজেরিয়ায়─ হয়তোবা পুরো আফ্রিকা মহাদেশেই─ য়োরুবা জাতির মানসিক, শিক্ষাগত, পেশাগত ও আচরণগত জাতীয় সাফল্যের মূল নিহিত আছে তাদের বংশপরম্পরায় অনুশীলিত মা-বাবার প্রতি ঐতিহ্যিক এই শ্রদ্ধাবোধের মধ্যেই।"
Salah Uddin Ahmed Jewel অনুদিত─
সাহিত্যিক রেনো ওমক্রি'র নিবন্ধ #য়োরুবা,
'আফ্রিকান হিস্ট্রি আর্কাইভ' থেকে।
05/05/2026
মুন্দারি গোত্র, দক্ষিণ সুদানের।
এ গোত্রের কোনো পুরুষ নির্দিষ্ট কোনো নারীকে বিয়ে করার মনস্থির করলে, অবশ্যই সেই নারীকেই জানাতে হবে। অত:পর, নারীটি যদি সেই নির্দিষ্ট পুরুষটিকে নিজের বিবাহের যোগ্য মনে করে, তাহলে নিজের জামাকাপড় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিশপত্র নিয়ে, পুরুষটির বাড়িতে গিয়ে থাকতে আরম্ভ করবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায়, একটিবারের জন্যও, কোনোভাবেই, পছন্দের কনেটিকে বিয়ে করার আগ্রহের কথাটি কনের বাবাকে জানাবে না পুরুষটি। একদম না। ভুল করেও না। যদি বাবাকে জানায়, তাহলে, বাবা তার আত্মীয়স্বজন নিয়ে এসে কন্যার পাণিপ্রার্থী পুরুষটিকে ইচ্ছেমতোন পেটাবে; বেদম প্রহার যাকে বলে। এই পেটানোটি সেই গোত্রের আইনে বৈধ, এর জন্য কোনোই শাস্তি নেই। এবং এই পেটানোর একমাত্র কারণ─ কোনো নারীকে বিয়ের আগ্রহের কথাটি সেই নারীকে না-জানিয়ে তার বাবা বা অন্য অভিভাবককে জানানোর অর্থ: বাবা ও কন্যা উভয়কেই অপমান করা, যেহেতু, পুরুষটি বিয়ে তো বাবাকে করছে না, করতে চাইছে তার কন্যাকে।
মুন্দারি গোত্রের ঐতিহ্য, এবং নারী ও সংসারের প্রতি মর্যাদা প্রদর্শনের গভীর দর্শন এটি। ভাবা যায়?
তো, নারীটি জামাকাপড় নিয়ে চলে এলো হবু স্বামীর বাড়িতে। এরপর, ব্যাপারটি বুঝে নিয়ে, সেই বাড়িতে আসবে নারীর পরিবারের অভিভাবকেরা। এসে, তারা তাদের কন্যার, অর্থাৎ কনের, পণ নির্ধারণ করে জানিয়ে দেবে পুরুষটির কাছে। সেই নির্ধারিত পণ পরিশোধ করতেই হবে পুরুষটিকে; না-করে বা না-পেরে, হবু স্ত্রীকে বাপেরবাড়ি ফেরত পাঠানোর বা বিয়ে না-করার আর কোনোই সুযোগ নেই পুরুষটির কাছে। নেই মানে নেই। কারণ─ নারীটির যোগ্যতার ভিত্তিতে তার যোগ্য-পণমূল্য জেনেবুঝেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে পুরুষটি, এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতার নারীর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পণমূল্য নির্ধারণ করাই থাকে মুন্দারি সমাজে─ এটাই নিয়ম। উল্লিখিত এই পণের পরিমাণ, তাকে বিয়েতে আগ্রহী পুরুষটির ক্ষমতার বাইরে নয় কখনোই। একারণে, মুন্দারি সমাজে, কোনো পুরুষই স্বেচ্ছাচারীভাবে যাকেতাকে বিয়ের জন্য পাগলামি করতে পারে না, নিজের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক যোগ্যতার আওতার মধ্যকার নারীকেই বিয়ে করতে পারে সে। ফলে, মুন্দারি সমাজে নারীপুরুষের মধ্যে পরস্পরকে পাওয়ার অসম আগ্রহ, কিংবা না-পেয়ে আত্মহন বা নির্যাতন, এসবের উদাহরণ নেই। অর্থাৎ─ তুমি যাকে নিয়ে সংসার করবে, তার সামাজিক মূল্য তোমাকে জানতেই হবে। সে তো খেলনা নয়। সংসার ছেলেখেলা নয়।
এবং, উল্লিখিত এই পণমূল্যটি মোটেই পুরুষের উপরে অর্থনৈতিক চাপের মতো পরিমাণের নয়─ সৌন্দর্যটি এখানেই! এটা স্রেফ নিজের ও আকাঙ্ক্ষিতা নারীর সামাজিক অবস্থান জেনে রাখার পদ্ধতি মাত্র। মুন্দারি গোত্রের সভ্যতা ভাবুন তো এবার!
এবার আসি পণমূল্যে। কনের এই পণ কখনোই নগদ অর্থে নির্ধারিত হয় না, লেনদেনও নগদে হয় না। হবু স্বামী তার হবু স্ত্রীকে এই পণ দেবে গরুতে। হ্যাঁ, গরু। কনেপক্ষের অভিভাবকেরা তাদের কন্যার পণ নির্ধারণ করবে গরুর সংখ্যায়। যতোটি গরু দাবি করা হবে তাদের কন্যার শিক্ষাদীক্ষা ও মানমর্যাদা অনুযায়ী, ততোটি গরুই দিয়ে দেবে হবু জামাই তার শ্বশুরপক্ষকে। এবং, পণের গরুর সংখ্যা নিয়ে পুরুষকে প্রকৃতপক্ষে মোটেই চাপে ফেলা হয় না─ এই পণের সৌন্দর্যটি এখানেই। মুন্দারি গোত্রের প্রত্যেক বাড়িতে গরু গিজগিজ করছে! ওরা গরু খায় না, বিক্রিও করে না। গরুতে ভরপুর প্রতিটি বাড়ি।
মুন্দারি গোত্রের একজন কন্যার বিয়ের পণের গরু সর্বোচ্চ ৭০টি পর্যন্ত হতে পারে।
এ গোত্রের পরিবারে, পুত্রসন্তানের চেয়ে কন্যাসন্তান বেশি আরাধ্য; কারণ─ যতো বেশি কন্যাসন্তান, ততো বেশি গরুর মালিক হওয়ার সম্ভাবনা। এবং, এ গোত্রের চমৎকার একটি সংস্কৃতি হচ্ছে─ এরা নগদ অর্থের পরিমাপে কাউকে ধনী এবং মর্যাদাসম্পন্ন গণ্য করে না, এ গোত্রে সে-ই বেশি ধনী ও সম্ভ্রান্ত যার মালিকানায় বেশি সংখ্যক গরু আছে।
মুন্দারি গোত্র, চমৎকার ঐতিহ্যের একটি গোত্র বটে। মানুষের মূল্যায়ন করতে জানে এরা।
© Salah Uddin Ahmed Jewel
#মুন্দারি
তথ্যসূত্র: আফ্রিকান হিস্ট্রি আর্কাইভ
০৪.০৫.২০২২ খৃঃ।
03/05/2026
BOESL এর মাধ্যমে যারা নিন্মোক্ত কাজে ফিজি যেতে আগ্রহী তারা আবেদন করতে পারেন।
আবেদন এর লিংক: https://brms.boesl.gov.bd/
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Website
Address
Dhaka
