Emran Diary

Directions Contact the organization

Emran Diary Migrant's Rights Activist

24/09/2026

এই সব-ই আমার/আমাদের ভিতরের কথা।
আহ কী সুন্দর কোমল অনুভব।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে যোগদানপত্রে DPEO স্যারের স্বাক্ষর নেওয়ার দিন.... ADPEO স্যার পাশে ডেকে বলেছিলেন, "আপনাদে...
23/09/2026

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে যোগদানপত্রে DPEO স্যারের স্বাক্ষর নেওয়ার দিন.... ADPEO স্যার পাশে ডেকে বলেছিলেন,
"আপনাদের অনেকেরই চরাঞ্চলের স্কুলগুলোতে পোস্টিং হবে। শুরুতে সেখানে গিয়ে এডজাস্ট করাটা কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু চেষ্টা করবেন যেকোনো পরিস্থিতিতে বিনয়ী থাকার জন্য।"

স্যারের এই কথার মর্মার্থ হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছিলাম স্কুলে জয়েন করার পর।

জয়েনের আগে অনেকের মতো আমিও ভাবতাম, এডজাস্ট করা কী এমন কঠিন কাজ!! সহজেই পারবো।

কিন্তু বাস্তবতা যে ১৮০° এঙ্গেলে ভিন্ন হবে, সে ব্যাপারে আইডিয়া ছিল না।

এজন্য এই ডিপার্টমেন্টে জব করার প্রাক্টিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স ছাড়া বাইরে থেকে কেউ কিছু বললে, এখন আর ডিফেন্ড করতে যাই না।
যে যা বলে খুশি থাকে, থাকুক না! 🥱

তবে আমার মতে, বাংলাদেশের সব প্রাইমারি স্কুলের পরিবেশ, টিচারর্স & স্টুডেন্টদেরকে কোনোভাবেই এক কাতারে ফেলা উচিত না।

কেবল লোকেশনের উপর ভিত্তি করে প্রাইমারি স্কুলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য চোখে পড়বে আপনার।

শহর, গ্রাম এবং এই দুয়ের মাঝামাঝি লোকেশনে থাকা..... মোট ৩ ধরণের স্কুলের সার্বিক অবস্থাও ৩ রকমের হয়।

আমার এই লেখাটা কাউকে ডিমোটিভেট করার উদ্দেশ্যে লেখা না।

আমি নিজেই এখন এই জবটা উপভোগ করতে শুরু করেছি।
এই জবই কন্টিনিউ করে যাব, যতদিন জব করবো.... ইনশাআল্লাহ।

যাই হোক,
আমি কী কী সিচুয়েশন ফেইস করেছি, সেই এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করাটাই মূল উদ্দেশ্য।

আমার পোস্টিং যেহেতু গ্রামে পড়েছে, তাই এই লেখাটা পড়ার সময় গ্রামের স্কুলকে মাথায় রেখেই পড়বেন।

দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকার পর, সরাসরি এক চরাঞ্চলের স্কুলে নতুন জয়নিং-এ যা যা আমার জন্য প্রতিকূলে ছিল সেসব শেয়ার করছি আগে। তাহলে হয়তো বুঝতে সুবিধা হবে।
অনুকূলে কীভাবে আনলাম, সেসব পরে লিখবো।

প্রতিকূল অবস্থা-

১. বাসা থেকে স্কুলের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় ৩বার গাড়ি পরিবর্তন করতে হতো। সেই চরাঞ্চলে প্রতিদিন যাওয়া-আসা মিলিয়ে ২.৫ঘণ্টারও বেশি সময় নষ্ট হতো। ভ্যানে বসে ভাঙাচোরা রাস্তার ঝাঁকির কথা আর না-ই বা বললাম!

২. একদিন স্কুলের এক স্টুডেন্টের ভ্যানগাড়িতে উঠে, আমি জাস্ট আকাশ থেকে পড়েছিলাম।
প্রথমে আমি চিনতে পারিনি, পরে শুনি সে আমাদের স্কুলেরই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
সকাল ১১টায় স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত, সে ভ্যান চালায়।
এই হচ্ছে পরিস্থিতি!
নতুন অবস্থায় এমন একটা এক্সপেরিয়েন্স হবে, এটা আমার কল্পনারও বাইরে ছিলো।

৩. যথেষ্ট শালীনতা বজায় রেখে চলা, সেলোয়ার-কামিজ পরা আমাকেও গ্রামের লোকজনের কমেন্ট হজম করতে হয়েছে।
যেসব জীবনে কোনোদিন শুনিনি আগে।
শুধু মেয়ে জন্য না; ছেলে শিক্ষকদের মধ্যেও অনেকে এমন সিচুয়েশন ফেইস করেছে।

৪. আশেপাশে প্রতিটা স্কুলের ম্যাডামরা বোরখা পড়ে। এরমধ্যে আমি যেন এক এলিয়েন তাদের চোখে!

৫. আমি ছিলাম আনম্যারিড। সদ্য অনার্স পাশ করা, মাস্টার্সের স্টুডেন্ট আমি তখনও।
যে গ্রামে বেশিরভাগ মেয়েকেই পারলে স্কুলের গন্ডি পার হওয়ার আগেই বিয়ে দেয়; সেখানে আমি তখনও বিয়ে না করাটা মোটামুটি ক্রাইমের চোখেই দেখেছে বেশিরভাগ গ্রামবাসী!

৬. নিজ উদ্যোগে স্কুলের সভাপতি থেকে শুরু করে, অটো-ভ্যানওয়ালারাও ঘটক হয়ে বিভিন্ন বিয়ের প্রপোজাল নিয়ে আসতো সরাসরি আমার কাছে।
যেন আমাকে বিয়ে দেওয়াটা উনাদের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য!
একদিনেই ৪টা প্রপোজালও পেয়েছিলাম।
(গ্রামের দিকে সরকারি চাকরি করা প্রাইমারির টিচারদের আবার বেশ ডিমান্ড! স্যার / ম্যাডাম যে-ই হোক না কেন!)

৭. অফিসের সব কলিগ আমার চেয়ে অনেক বেশি সিনিয়র। কেউ কেউ বাবা-মায়ের বয়সী। উনাদের সাথে আমার জেনারেশন গ্যাপ বিশাল।
চিন্তা-ভাবনা মিল পাওয়া কঠিন।
(যদিও জুনিয়র হিসেবে ভালোই স্নেহ পেয়েছি। পরবর্তী স্কুলের মধ্যমণিও হয়েছি। সেসব পরের আলাপ।)

৮. শুরুর দিকে এক কলিগ সুযোগ পেলেই বিয়ে/পর্দা করা/ ধর্মের বাণী নিয়ে বসতেন।
ধর্মের নামে অনেক ধর্মান্ধতাও মিশে থাকায়, বিরক্ত লাগতো খুব।
আর অযাচিত টপিক 'বিয়ে' নিয়ে কথা শুনলে তো রাগই লাগতো।
কিন্তু ADPEO স্যার বলে দিয়েছিলেন, বিনয়ী থাকতে হবে! থেকেছি।

৯. এক আপু তো জয়েনের প্রথম দিনে উনার হেডটিচারের সাথে কী যেন এক ঝামেলা বেঁধে যাওয়ায়, কান্না করতে হয়েছিলো তাকে শেষপর্যন্ত।

১০. পঠাদানের সময় ক্লাসে আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে পড়ালেও, স্টুডেন্টদের কাছ থেকে সে অনুযায়ী আউটপুট পাই না বললেই চলে।
ঐদিকে প্রতিদিন বাসায় ফিরে আমি মাথাব্যথায় পাগলপ্রায়!

১১. হাতে গোনা ১/২ জন বাদে, বাকি স্টুডেন্টদের গার্ডিয়ানদের মাঝে সচেতনতার লেশমাত্র নাই।
কিছু বাচ্চার মায়েরাই দেখতে স্টুডেন্ট বয়সী। অল্প বয়সে বিয়ে & বাচ্চা হওয়ার পাশাপাশি সংসারের অমানুষিক পরিশ্রম.... সবমিলিয়ে অপুষ্টিতে ভুগছে তারা নিজেরাই!

১২. সকালে খেয়ে স্কুলে আসার জন্য বলে দিলেও, না খেয়েই চলে আসে অনেক স্টুডেন্ট। এরপর পেটব্যথা বলতে থাকে। গার্ডিয়ানরাও এমনই অসচেতন, না খাওয়ায় পাঠিয়ে দেয় বাচ্চাদের।

হ্যাঁ, ওদেরকেই আমরা পড়াই!

১৩. একে তো বাচ্চারা অপুষ্টির শিকার, ওদের মনোযোগ পড়ার দিকে থাকে না একদমই।
আবার বেশিরভাগ সময়ই কারেন্ট না থাকায়, গরমে অস্থির হয়ে থাকে বাচ্চারা। ওদের এমন অবস্থা যেন, পড়াশোনা গোল্লায় যাক!

ক্লাস ওয়ান/টু এর ছেলেরা তো শার্টখুলে খালিগায়ে ক্লাসে বসে থাকে। থ্রি/ফোরেরা শার্টের বোতাম খুলে রাখে।

১৪. আবার শীতের দিনে দেখি, কোনো শীতের কাপড় ছাড়া ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে স্কুলে আসে অনেকেই।

১৫. একদিন স্কুলের মাঠে এক গার্ডিয়ান বলতেছিলো, উনার মেয়েটার দিকে যেন খেয়াল রাখি।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "কোন ক্লাসে পড়ে?"
তিনি বলতে পারলেন না।
নিজের মেয়ে কোন ক্লাসে পড়ে সেটাও জানেন না। শুধু একটা শ্রেণিকক্ষের দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারলেন।
জ্বি, বাস্তব কথাই বলছি।

১৬. কেউ স্কুলে না আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে উত্তর আসে, বাবা-মা বোনের বাড়িতে পাঠিয়েছিলো।
এই কাজে, সেই কাজে সাথে নিয়ে গেছে বাবা-মা।

১৭. স্কুলে না এসে, মরিচ তোলার কাজ করে ২০০টাকা পেয়েছে। বাবা-মা খুশি, ওরাও খুশি।
স্যার-ম্যামরা গিয়ে বাবা-সোনা ডেকে,
রিকুয়েস্ট করে স্কুলে আনতে হয় ওদেরকে।

১৮. আমাদের স্কুলে দপ্তরি থাকায় একদিক থেকে লাকি। অনেক টিচারের কাছে শুনি, নিজেরা গিয়ে অফিস খুলে। রুমও ঝাড়ু দিতে হয় প্রয়োজনে।

১৯. স্কুলের কমিটি গঠনের সময় নিয়ম অনুযায়ী একজন গ্র্যাজুয়েট লোক খুঁজে পাওয়া যায় না পুরো এলাকা খুঁজেও....এমন অনেক এলাকা আছে।

কিন্তু কমিটিতে আসার পর, শিক্ষকদেরকেই পারলে উনাদের স্টুডেন্ট ভাবা শুরু করে।

কমিটির লোক ছাড়াও অনেক এলাকাবাসী শিক্ষকদের সামনে পাওয়ার দেখানোর সুযোগ পেলে, সেইটা দেখাতে পিছপা হোন না।

২০. ঊর্ধ্বতন অফিসাররা এসে যদি দেখে, স্টুডেন্ট পড়া পারছে না.... যাবতীয় দোষ শিক্ষকদের।
এটা কেউ দেখেন না, সেই অপারগ বাচ্চাগুলোর ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড কী!!
পড়াশোনাটা গ্রহণ করার মতো সক্ষমতা বাচ্চাটার আছে কিনা, বা আদৌ কতটুকু আছে!!

২১. অন্যদিকে... ক্লাসে পড়া না পারলেও, কোনো বাচ্চাকে বকা দিতে পারবেন না। কারণ মানসিক & শারীরিক যে কোনো ধরণের নির্যাতনই নিষিদ্ধ।
আবার বকা দিলে, স্কুলে আসা বন্ধ করে দিবে। তাহলেও বিপদ টিচারদেরই।
বকা দেওয়ায় পাশের স্কুলের ক্লাস ফাইভের এক স্টুডেন্ট টিচারকেই থ্রেট দিয়েছে, "ম্যাডাম ৯৯৯ এ কল দিব কিন্তু! "
ওরা আসলে বুঝে গেছে, ওরা পড়ুক বা না পড়ুক, বাবা-মাও কিছু বলবে না; স্যার ম্যাডামও কিছুই বলতে পারবে না। স্কুলে যে আসে, এটাই অনেক!!

যাই হোক, এমন অসংখ্য পয়েন্ট আপনিও লিখতে পারবেন, স্কুলে জয়েন করার পর; বাস্তব অভিজ্ঞতা হওয়ার পর।
তবে শহরের স্কুলগুলোর চিত্র তুলনামূলক অনেকটা ভালো।
অলরেডি বিশাল বড় হয়ে গেছে লেখাটা।
বাকিসব আরেকদিন লেখবো।
এই জবের পজেটিভ দিকগুলো নিয়েও লেখার ইচ্ছা আছে।

বাই দ্যা ওয়ে, এগুলো একান্তই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। কেউ ডিমোটিভেটেড হবেন না।

প্রাইমারির শিক্ষক হওয়ার জন্য মনস্থির করে থাকলে, সময়ের সাথে সাথে সবকিছু এডজাস্ট করে নেওয়া যায় একদিন..... 🖤

© Emasha Ipsi

22/09/2026

বাংলায় গান গাই, বাংলায় সুর মেলাই।
বাংলা সংস্কৃতির ঝর্ণা ধারার শীতল হোক প্রান।
© Yousuf Alamgir

21/09/2026

আমি জীবনে প্রায় দশ হাজার খাতা দেখেছি। বাংলা পরীক্ষার খাতা। লাল কালির কলম দিয়ে নম্বর দিয়েছি। কোথাও আট। কোথাও বারো। কোথাও পঁচিশ। কোথাও শূন্য। মানুষের লেখা দেখে মানুষকে বিচার করা আমার পেশা ছিল। কখনো ভাবিনি, একদিন একটা খাতা আমার নিজের জীবনটাকেই বিচার করবে।

ঘটনাটা আজ থেকে প্রায় বাইশ বছর আগের।

তখন আমি মোহনগঞ্জ হাই স্কুলের শিক্ষক। নবম শ্রেণির খাতা দেখতাম। সেবার একটা রচনা ছিল, “আমার দেখা একটি বর্ষার দিন।”

বেশিরভাগ ছাত্র একই কথা লিখেছিল। বৃষ্টি। কাদামাটি। ছাতা। ভেজা রাস্তা। খিচুড়ি। নদী। কারও কারও লেখায় রবীন্দ্রনাথও এসেছিলেন। কারও লেখায় নজরুল। কেউ লিখেছিল, “বর্ষা আমার প্রিয় ঋতু।” কেউ লিখেছিল, “বর্ষার সৌন্দর্য অপরূপ।” সবই পরিচিত কথা।

তারপর একটা খাতা পেলাম। খাতাটা অন্যগুলোর মতো ছিল না। ছেলেটা লিখেছিল,
“আমাদের বাড়িতে বৃষ্টি হলে মা হাঁড়ির নিচে আরেকটা হাঁড়ি বসায়। কারণ ছাদ দিয়ে পানি পড়ে।”
আমি পড়তে থাকলাম।
“আমার মা বলে, বৃষ্টি ভালো। কারণ বৃষ্টি হলে ধুলো কমে।”
তারপর,
“আমি বৃষ্টি পছন্দ করি না।”
পরের লাইনে কারণ লিখেছে,
“বৃষ্টির দিনে বাবার মেজাজ খারাপ থাকে।”
আমি একটু থেমে গেলাম।
ছেলেটা লিখেছে,
“বাবা রিকশা চালায়। বৃষ্টি হলে মানুষ রিকশায় কম ওঠে। তাই সেদিন আমাদের ভাত কম হয়।”
তারপর শেষ দিকে একটা লাইন,
“আমি বড় হয়ে এমন একটা কাজ করতে চাই, যেদিন বৃষ্টি হলে কারও ভাত কমবে না।”

আমি অবাক হয়ে দেখলাম, ছেলেটা সবগুলো প্রশ্নের উত্তর লেখেনি। মাত্র তিনটা প্রশ্নের উত্তর লিখেছে। বাকী দুইটাতে তেরো পেয়েছে। অর্থাৎ রচনায় বিশের মধ্যে বিশ না পেলে ছেলেটা ফেইল করবে।

জানি না কেন, আমি আমার শিক্ষাগত জীবনে প্রথমবারের মতো নিয়ম ভাঙলাম। আমি খাতাটা বন্ধ করলাম। উপরে নম্বর দিলাম, ৩৩।
৩৩ খুব বেশি নম্বর না। ছেলেটা ভালো লিখেছিল।
আমি খাতার উপর ছোট করে লিখে দিলাম,
“ভাষা ভালো। নিজের অভিজ্ঞতা ধরে রাখবে।”

সেদিন প্রায় একশো বিশটা খাতা দেখেছিলাম। রাতে বাসায় ফিরে খাতাটার কথা ভুলে গেলাম।

বারোদিন পর স্কুল থেকে একটা চিঠি এলো। কয়েকটা খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে। একটা খাতায় অভিযোগ, নম্বর বেশি দেওয়া হয়েছে। খাতাটা আমার হাতে এলো। আমি নাম দেখে চিনতে পারলাম। সেই ছেলেটা। নাম,
সাইফুল ইসলাম। তার নম্বর ৩৩ থেকে ২০ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কারণ হিসেবে হেডস্যার লিখেছেন,
“অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ। প্রশ্নের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি।”

আমি আবার খাতাটা পড়লাম। একই লেখা। একই বৃষ্টি। একই ভাঙা ছাদ। একই রিকশাওয়ালা বাবা। আমি ৩৩ ই রাখলাম।

হেডস্যার আমার উপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হলেন। এই কারণেই কি-না, মাসখানেক পর আমাকে রাঙামাটি সরকারি হাইস্কুলে বদলি করা হলো।

তারপর অনেক বছর কেটে গেল।

আমি অবসর নিলাম। আমার ছাত্ররা দেশের নানা জায়গায় ছড়িয়ে গেল। কেউ ডাক্তার। কেউ ব্যাংকার। কেউ শিক্ষক। কেউ বিদেশে। কেউ আর কোনোদিন যোগাযোগ করেনি। এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষকের জীবনে ছাত্ররা আসে। থাকে।তারপর চলে যায়। শুধু কিছু খাতা থেকে যায়। কিছু বাক্য থেকে যায়।

একদিন দুপুরে আমার বাসায় একজন যুবক এল। বয়স পয়ত্রিশের কাছাকাছি। পরনে খুব সাধারণ শার্ট। হাতে একটা ফাইল।
সে বলল,
“স্যার, আমাকে চিনেছেন?”
আমি বললাম,
“চেহারা পরিচিত লাগছে।”
সে হাসল।
“চিনবেন না।”
তারপর ফাইল খুলে একটা পুরোনো কাগজ বের করল।
আমার লেখা।
লাল কালিতে।
“ভাষা ভালো। নিজের অভিজ্ঞতা ধরে রাখবে।”
আমি অনেকক্ষণ কাগজটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
তারপর বললাম,
“সাইফুল?”
সে মাথা নেড়ে হাসল।
“জি।”
আমি অবাক হয়ে বললাম,
“এত বছর পর?”
“আপনাকে একটা জিনিস দেখাতে আসছি।”

সে ফাইল থেকে একটা ছবি বের করল। ছবিতে একটা বড় ঘর। অনেকগুলো মেশিন।
দেয়ালে লেখা,
“বৃষ্টির দিনেও কাজ বন্ধ হবে না।”
আমি ছবিটার দিকে তাকিয়ে বললাম,
“এটা কী?”
সে বলল,
“আমার কারখানা।”
“তুমি কারখানা করেছ?”
“জি।”
“কী তৈরি করো?”
“রেইনকোট।”
আমি হেসে ফেললাম।

সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
আমি তাকে চা দিলাম।
সে বলল,
“স্যার, আমি একটা কথা বলতে চাই।”
“বলো।”
“আপনি যদি ঐ খাতায় ৩৩ না দিতেন!”
সে থেমে গেল।
“তাহলে?”
“বাবা আমার লেখাপড়া বন্ধ করে দিতো।”
তারপর একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
”হয়তো বাবার মতো আমাকেও রিকশা চালাতে হতো।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“তুমি সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দাওনি কেন?”
সে একটু নিচের দিকে তাকাল।
“আমার মা খুব অসুস্থ ছিল।”
আমি চুপ করে শুনছিলাম।
“নেত্রকোনা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময়ও জানতাম না মা বাঁচবে কি না। হলের মধ্যে বসে বারবার মনে হচ্ছিল, আমি এখানে কী করছি?”
সে একটু থামল।
“সেদিন আমার মাথায় পরীক্ষা ছিল না, স্যার। শুধু মনে হচ্ছিল, মা একা শুয়ে আছে।”
“তোমার মা?”
“একমাস পর মারা গেছেন।”
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম।
বললাম,
“কলেজে ভর্তি হয়েছিলে?”
“জি”
“বিশ্ববিদ্যালয়?”
“জি?”
“কী নিয়ে পড়েছো?
“টেক্সটাইল।”
আমি হেসে বললাম,
“তাহলে রেইনকোটের সঙ্গে সম্পর্ক আছে।”
সে বলল,
“আছে।”
তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
“কিন্তু আমার আসল কাজ অন্য।”
“কী?”
সে জানালার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি এমন কাপড় বানানোর চেষ্টা করি যেটা খুব সস্তায় মানুষের শরীর শুকনো রাখতে পারে।”
আমি বললাম,
“কেন?”
সে আমার দিকে তাকাল।
“কারণ আমি বৃষ্টিতে ভাত কম খেয়েছি।”

আমি আর কথা বললাম না। তারপর সে আমাকে কারখানায় নিয়ে গেল। বিশাল কারখানা। হাজারের উপর কর্মী। বেশিরভাগই নারী।
একটা মেশিনের সামনে দাঁড়িয়ে সাইফুল বলল,
“বৃষ্টি হলে এখানে কারো ভাতের অভাব হয় না।”
আমি বললাম,
“তুমি কি সব কর্মীকে বৃষ্টির দিনে বাড়তি টাকা দাও?”
সে বলল,
“না।”
“তাহলে?”
“বৃষ্টি হলে কাজ বেশি দিই।”
আমি বুঝলাম না।
সে বলল,
“বাইরে যারা রাস্তায় কাজ করতে পারে না, তাদের জন্য এই কারখানাটা খোলা থাকে।”

তারপর আরেকটা মেশিনের পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
একজন মহিলা সেলাই করছিল।
সাইফুল তাকে বলল,
“খালা, আজ কয়টা?”
মহিলা বললো,
“বত্রিশ।”
সাইফুল হেসে বলল,
“ঠিক আছে।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“তার নাম?”
“শাহিদা।”
“কতদিন ধরে কাজ করে?”
“দুই বছর।”
শাহিদা আমাদের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলো।
তারপর আবার কাজ করতে লাগলো।

বাড়ি ফেরার আগে সে আমাকে একটা ছোট প্যাকেট দিল।
আমি বললাম,
“এটা কী?”
“পড়ে খুলে দেখবেন।”
“কেন?”
“আমার সামনে খুললে আমি লজ্জা পাব।”
আমি হেসে প্যাকেটটা নিলাম।

বাড়ি ফেরার পথে খুলে দেখি, একটা রেইনকোট। খুব সুন্দর। ভেতরে ছোট একটা কাগজ। তাতে লেখা- “স্যার, আপনি আমাকে নম্বর দিয়েছিলেন। আমি শুধু চেষ্টা করেছি, নম্বরটার মান রাখতে।”
আমি অনেকক্ষণ কাগজটা হাতে নিয়ে বসে থাকলাম। সময়টা উদযাপন করতেই কি-না, বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো। আমি রেইনকোটটা ব্যাগ থেকে বের করে গায়ে দিলাম। রাস্তা ভিজে যাচ্ছিল। রিকশাগুলো ধীরে চলছিল। দোকানের টিনের চাল থেকে পানি পড়ছিল। একটা বাচ্চা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল। তার হাতে ছাতা নেই। কিন্তু সে ভয় পাচ্ছিল না। আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তাকে দেখলাম। তারপর হঠাৎ মনে হলো, মাঝে মাঝে পৃথিবীর এক প্রান্তে নিয়ম ভাঙতে হয়, যেন পৃথিবীর আরেক প্রান্তে দারুণ কিছু গড়ে ওঠে।

আমি হয়তো সারা জীবন খাতায় নম্বর দিয়েছি। কিন্তু সেদিন প্রথমবারের মতো বুঝতে পেরেছি, কখনো কখনো একজন শিক্ষক শুধুমাত্র ছাত্রের খাতা দেখেন না। তার সামনে পড়ে থাকে একজন মানুষের ভবিষ্যৎ। আর সেই ভবিষ্যৎকে পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য সামান্য কয়টা নম্বরই যথেষ্ট!

© Sohel R Rana

বিশ্বজুড়ে এখন ২০২৬ সাল, অথচ ইথিওপিয়ায় ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে ২০১৯ সাল! অবাক করার মতো হলেও এটি কোনো ভুল নয়, ইথিওপিয়া প্...
20/09/2026

বিশ্বজুড়ে এখন ২০২৬ সাল, অথচ ইথিওপিয়ায় ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে ২০১৯ সাল! অবাক করার মতো হলেও এটি কোনো ভুল নয়, ইথিওপিয়া প্রায় ১ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে।

ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের চেয়ে সাধারণত ৭ থেকে ৮ বছর পিছিয়ে। এই ক্যালেন্ডারে ১২টি মাস ৩০ দিন করে, আর শেষের ১৩তম মাসে থাকে ৫ দিন, তবে অধিবর্ষে হয় ৬ দিন।

শুধু বছর নয়, সময় গণনার নিয়মও আলাদা। সেখানে দিন শুরু হয় সূর্যোদয়ের সময়, অর্থাৎ সকাল ৬টা বা ৭টার দিকে। তাদের হিসাবে সকাল ৭টা হলো দিনের প্রথম ঘণ্টা।

তবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, ব্যবসা ও স্কুলের কাজে ইথিওপিয়ায় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারও ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ একই সঙ্গে দুটি ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মানিয়ে চলেন দেশটির মানুষ।

ইথিওপিয়ানদের কাছে এটি শুধু সময় গণনার পদ্ধতি নয়, বরং তাদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ।

© তথ্যলিপি

 #শৈলপ্রান্তের_সুরপাহাড়ের কাছে গেলেই মনে হয়, নিত্যদিনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাবগুলো কোথাও এসে থেমে যায়। যে জীবনটাকে সম...
18/09/2026

#শৈলপ্রান্তের_সুর

পাহাড়ের কাছে গেলেই মনে হয়, নিত্যদিনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাবগুলো কোথাও এসে থেমে যায়। যে জীবনটাকে সমতলে এত জরুরি মনে হয়, পাহাড়ের নিসর্গে দাঁড়িয়ে তার অনেকটাই হঠাৎ তুচ্ছ বলে মনে হয়। শৈলপ্রান্তরের নৈঃশব্দ্য যেন বহির্জগতের কোলাহল পেরিয়ে অন্তরের কোনো সুপ্ত কপাটে ধীরে ধীরে করাঘাত করে।

নীলাভ জলরাশিকে ঘিরে থাকা শ্যামল পাহাড়, ভোরের ম্লান স্বর্ণাভ আলো, জলের বুকে সূক্ষ্ম তরঙ্গ আর বাতাসে সিক্ত মৃত্তিকার সৌরভ, এই দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয়, সৌন্দর্য বোধ হয় দেখার কোনো বিষয় নয়, অনুভবের এক গভীরতম অবস্থা। কুয়াশা যখন পাহাড়ের গায়ে নেমে আসে, শিশিরে ভিজে থাকে ঘাস, দূরের সবুজ ঢাল ধীরে ধীরে মেঘের আড়ালে হারিয়ে যায়, তখন মনে হয় পৃথিবী তার সমস্ত ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে কয়েক মুহূর্তের জন্য নিঃশব্দ হয়ে আছে।

দুর্গম ঊর্ধ্বপথে উঠতে উঠতে শরীরে ক্লান্তি জমে, পায়ের নিচে সিক্ত মৃত্তিকা, শ্যাওলা ধরা শিলা, চারপাশে কুয়াশার আবরণ। তবু কোনো বাঁক পেরিয়ে যখন হঠাৎ মেঘ সরে যায়, দূরের পর্বতসারি আর সবুজ উপত্যকা একসঙ্গে চোখের সামনে উদ্ভাসিত হয়, তখন মনে হয়, জীবনের কিছু প্রাপ্তি বুঝি সহজে পাওয়ার জন্য নয়। তার জন্য পথ পেরোতে হয়, অপেক্ষা করতে হয়, কখনো নিজের ক্লান্তির সঙ্গেও সন্ধি করতে হয়।

সন্ধ্যা নামে আরও ধীরে। জুমের ঢালে শেষ আলোর আবছায়া, কাঠের ঘরের জানালায় ক্ষীণ প্রদীপ, বাতাসে পত্রমর্মর আর দূরের ঝিরির অনুচ্চ কলধ্বনি। সেই মুহূর্তে শহরের অগণিত চাওয়া-পাওয়ার কথা মনে পড়ে। কত কিছু পেয়েও কত কিছু যে অধরা থেকে যায়, কত মানুষের ভিড়েও মনের কতখানি একা থাকে। অথচ পাহাড়ের এই সামান্য সন্ধ্যা, এই নিঃশব্দ আলো, এই অকারণ প্রশান্তি কিছু না পেয়েও যেন এক অদ্ভুত প্রাপ্তির অনুভব এনে দেয়।

হয়তো প্রকৃতির সৌন্দর্যের এটাই গূঢ়তম আবেশ। সে আমাদের কোনো উত্তর দেয় না, তবু অনেক প্রশ্নকে নিঃশব্দ করে দেয়। কোনো প্রতিশ্রুতি দেয় না, তবু মনের ভেতর অদৃশ্য এক আশ্বাস রেখে যায়।

পাহাড় থেকে ফিরে এসেও সেই আবেশ কাটে না। নীল জল, কুয়াশার ভেজা স্পর্শ, সবুজ ঢালে আলোছায়ার খেলা, সিক্ত মাটির সৌরভ সবকিছু যেন স্মৃতির বাইরে গিয়ে অন্তঃকরণে এক অদৃশ্য আকর্ষণ হয়ে থাকে।
তারপর সমতলের জীবনে ফিরে আসি। আবার হিসাব, ব্যস্ততা, প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির দিনযাপন। তবু কোথাও এক গভীর টান থেকে যায়। কোনো কারণ ছাড়াই মনে হয়, আবার সেই সবুজের কাছে যেতে হবে, আবার সেই নৈঃশব্দ্যের মধ্যে দাঁড়াতে হবে।

কেন যেতে ইচ্ছে করে, তার কোনো সুস্পষ্ট উত্তর নেই।
শুধু মনে হয়, পাহাড়ের কাছে গেলে মানুষ প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে যায় না, নিজের ভেতরে হারিয়ে যাওয়া কোনো এক নির্মল অনুভূতির সন্ধানে যায়। আর সেই অদৃশ্য অনুভূতিটাই হয়তো পাহাড়ের সবচেয়ে গভীর মায়া।

ভ্রমণকাল- ১৭/০৪/২০২৬
© EMRAN MOHAMMAD KHAN

17/09/2026

সামনে নির্বাচন।
হাসির ছলে নির্মম বাস্তবতার প্রতিফলন।

16/09/2026

কথা মহাসত্য চির কালীন সত্য, আমৃত্যু সত্য।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে মোহনদাস গান্ধী এবং মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, এই দুজনই অপরিহার্য। একজন অহিংস গণআন্দোলনের ম...
15/09/2026

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে মোহনদাস গান্ধী এবং মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, এই দুজনই অপরিহার্য। একজন অহিংস গণআন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়েছিলেন; অন্যজন সাংবিধানিক রাজনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানদের পৃথক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের পথ আলাদা হয়ে যায় কিন্তু তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক মোটেই শত্রুতার ছিল না।

গান্ধীর চেয়ে জিন্নাহ ভারতীয় জাতীয় রাজনীতিতে আগে প্রতিষ্ঠিত হন। ব্যারিস্টার জিন্নাহ প্রথম জীবনে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের বদলে সাংবিধানিক অধিকার, প্রতিনিধিত্ব এবং ধাপে ধাপে স্বশাসন অর্জনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন।
"হিন্দু-মুসলমানের যৌথ রাজনৈতিক আন্দোলন ছাড়া ব্রিটিশদের পরাজিত করা সম্ভব নয়" এটাই ছিল তাঁর প্রাথমিক অবস্থান।

১৯০৬ সালে ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হলেও জিন্নাহ এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না। বরং তিনি প্রথমদিকে মুসলিম লীগকে সাম্প্রদায়িক সংগঠন মনে করে দূরে ছিলেন এবং ১৯১৩ সালে সংগঠনটিতে যোগ দেন। একই সময়ে তিনি কংগ্রেসের সদস্যও ছিলেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ঐতিহাসিক বিবরণ অনুসারেও জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনের এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ।

১৯১৬ সালের লক্ষ্ণৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় জিন্নাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই কারণেই কংগ্রেস নেত্রী সরোজিনী নাইডু তাঁকে “হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত” বলে অভিহিত করেছিলেন। তখনকার জিন্নাহ পাকিস্তানের দাবিদার নন; বরং একটি ঐক্যবদ্ধ ভারতবর্ষে মুসলমানদের সাংবিধানিক নিরাপত্তার প্রবক্তা।

গান্ধী ১৯১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই কংগ্রেসের রাজনীতিকে আমূল বদলে দেন। কংগ্রেস এতদিন মূলত শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত মানুষের সাংবিধানিক সংগঠন ছিল। গান্ধী কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এলেন।

এখানেই দুজনের মৌলিক পার্থক্য প্রকাশ পায়।

গান্ধী বিশ্বাস করতেন সত্যাগ্রহ, অসহযোগ, ব্রিটিশ আইন অমান্য এবং অহিংস গণআন্দোলনে। জিন্নাহ বিশ্বাস করতেন আইনসভা, আলোচনা, রাজনৈতিক সমঝোতা ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে। গান্ধীর ধর্মীয় প্রতীকনির্ভর গণরাজনীতিও জিন্নাহকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। ব্যক্তিজীবনে শিয়া মুসলিম হলেও জিন্নাহর রাজনৈতিক ভাষা ছিল মূলত আধুনিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও আইনকেন্দ্রিক।

১৯২০ সালে গান্ধী অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে খিলাফত আন্দোলনকে যুক্ত করলে জিন্নাহ তীব্র আপত্তি করেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, রাজনীতিতে ধর্মীয় আবেগ এবং জনতার উত্তেজনা প্রবেশ করলে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা নষ্ট হবে। তিনি গান্ধীকে চিঠি লিখে সতর্ক করেন এবং শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ত্যাগ করেন।

এটি শুধু ব্যক্তিত্বের সংঘাত ছিল না; ছিল রাজনৈতিক দর্শনের বিরোধ। গান্ধীর কাছে স্বাধীনতা ছিল নৈতিক ও গণজাগরণের সংগ্রাম। জিন্নাহর কাছে তা ছিল ক্ষমতা, অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের একটি সাংবিধানিক সমীকরণ।

গান্ধী ও জিন্নাহ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন এবং প্রবল মতবিরোধের মধ্যেও একে অপরকে গুরুত্ব দিতেন। বর্তমান যুগের রাজনীতিতে যা একেবারেই দেখতে পাওয়া যায়না বলেই আমাদের মাথায় ওদের মধ্যকার এই সম্পর্কটা কেমন ছিল সেটা কল্পনা করা কঠিন।

তাঁদের জীবনযাপনেও তীব্র বৈপরীত্য ছিল। গান্ধী পরতেন ধুতি, থাকতেন আশ্রমে এবং সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলতেন। জিন্নাহ ছিলেন নিখুঁত পোশাকপরিচ্ছদের শিক্ষিত ব্যারিস্টার; তাঁর রাজনীতি ছিল পরিমিত, যুক্তিনির্ভর এবং অভিজাত সংসদীয় ধারার।

গান্ধী জনতার হৃদয়ের ভাষা বুঝতেন। জিন্নাহ বুঝতেন আইন, রাষ্ট্রক্ষমতা ও দর-কষাকষির ভাষা। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে দুজনেরই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাঁদের পদ্ধতিগত দূরত্ব ক্রমে রাজনৈতিক দূরত্বে পরিণত হয়।

১৯৩০-এর দশকের শুরুতে ভারতীয় রাজনীতির প্রতি হতাশ হয়ে জিন্নাহ লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে আইন পেশায় মনোযোগ দেন। অনেকেই মনে করেন, তিনি তখন কার্যত সক্রিয় ভারতীয় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছিলেন।

এই সময়ে আল্লামা ইকবাল জিন্নাহকে পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসে ভারতীয় মুসলমানদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। ইকবাল ১৯৩০ সালের এলাহাবাদ ভাষণে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে নিয়ে একটি স্বায়ত্তশাসিত মুসলিম রাজনৈতিক এককের ধারণা দেন। এটি পরবর্তী পাকিস্তান-চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি হলেও তখনকার প্রস্তাবটি ১৯৪৭ সালের মতো সম্পূর্ণ স্বাধীন পাকিস্তানের সুস্পষ্ট নকশা ছিল না।

১৯৩৬–৩৭ সালে ইকবাল জিন্নাহকে লেখা চিঠিতে মুসলমানদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দারিদ্র্য, ইসলামী সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোর স্বশাসন নিয়ে আলোচনা করেন। বলা যায়, ইকবাল জিন্নাহকে নতুন করে মুসলিম নেতৃত্বের ঐতিহাসিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করেছিলেন।

জিন্নাহ ১৯৩৪ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসে মুসলিম লীগকে পুনর্গঠিত করেন। দুর্বল অভিজাত সংগঠন থেকে লীগকে তিনি ধীরে ধীরে শক্তিশালী গণরাজনৈতিক দলে পরিণত করেন।

১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের পর কংগ্রেস কয়েকটি প্রদেশে সরকার গঠন করে। মুসলিম লীগ আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। কংগ্রেস নিজেকে সব ভারতীয়ের প্রতিনিধি মনে করত; কিন্তু জিন্নাহর বক্তব্য ছিল, মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে কংগ্রেস এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকেন্দ্রিক রাজনীতি, মুসলিম লীগের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগিতে অনীহা এবং ভবিষ্যৎ স্বাধীন ভারতে মুসলমানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সব মিলিয়ে জিন্নাহর অবস্থান কঠোর হতে থাকে।

কাজেই "জিন্নাহ একাই ভারত ভেঙ্গেছে" - এই দাবিটা খুবই একতরফা এবং ভুল। ভারতীয় লেখক যশবন্ত সিং তাঁর "জিন্নাহ: ইন্ডিয়া পার্টিশন ইনডিপেনডেন্স" বইয়ে উপমহাদেশ ভাগের জন্য জিন্নাহকে এককভাবে দায়ী করার প্রচলিত ধারণা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। তাঁর বিশ্লেষণে, দেশভাগ শুধু জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্ব বা রাজনৈতিক অবস্থানের ফল ছিল না; এর পেছনে কংগ্রেসের কিছু রাজনৈতিক ভুল, মুসলিম লীগের কৌশল এবং ব্রিটিশদের নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

বইটিতে বলা হয়েছে, ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের পর উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস মুসলিম লীগের সঙ্গে সরকার গঠনে রাজি না হওয়ায় জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর হয়। একইভাবে ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা (ব্রিটিশ সরকারের একটি প্রস্তাব, যা ভারতে ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনের জন্য আনা হয়েছিল) নিয়ে জওহরলাল নেহরুর বক্তব্য জিন্নাহর মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করে। পরে জিন্নাহ পরিকল্পনা থেকে সরে গিয়ে ডাইরেক্ট অ্যাকশনের এর ডাক দেন।

যশবন্ত সিংয়ের বিশ্লেষণে ব্রিটিশদের ডিভাইড এন্ড রুল নীতি এবং শেষ পর্যায়ে লর্ড মাউন্টব্যাটেনের তড়িঘড়ি করে ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্তও দেশভাগের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অর্থাৎ তাঁর দৃষ্টিতে দেশভাগ ছিল জিন্নাহ, মুসলিম লীগ, কংগ্রেস ও ব্রিটিশ শাসকদের নানা সিদ্ধান্ত ও ব্যর্থতার সম্মিলিত ফল।

অন্যদিকে গান্ধী বিশ্বাস করতেন, ভারত কোনো দুটি পৃথক জাতির আবাস নয়। হিন্দু, মুসলমান, শিখ, খ্রিষ্টানসহ সবাই মিলে একটি ভারতীয় জাতি। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগকে তিনি নৈতিক ও ঐতিহাসিক বিপর্যয় মনে করতেন।

জিন্নাহর যুক্তি ছিল ভিন্ন। তাঁর মতে, হিন্দু ও মুসলমান কেবল দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায় নয়; তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক বিধান ও রাজনৈতিক স্বার্থ আলাদা। ব্রিটিশরা চলে গেলে সংখ্যাগরিষ্ঠের গণতন্ত্র মুসলমানদের স্থায়ী রাজনৈতিক সংখ্যালঘুতে পরিণত করতে পারে। তাই তাদের জন্য প্রয়োজন কার্যকর সাংবিধানিক নিরাপত্তা অথবা পৃথক রাষ্ট্র।

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোতে “স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ” গঠনের কথা বলা হয়। সেখানে সরাসরি “পাকিস্তান” শব্দটি ছিল না, কিন্তু পরে এটিই পাকিস্তান দাবির রাজনৈতিক ভিত্তি হয়ে ওঠে।

গান্ধী দেশভাগ ঠেকাতে চেষ্টা করেন। ১৯৪৪ সালে বোম্বেতে তাঁর ও জিন্নাহর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। দুজন মুখোমুখি বসে চিঠি ও যুক্তির মাধ্যমে সমাধান খোঁজেন। গান্ধী জিন্নাহকে “কায়েদে আজম” (মহান নেতা) সম্বোধন করলেও তাঁর দ্বিজাতিতত্ত্ব মেনে নেননি। জিন্নাহও মুসলমানদের পৃথক জাতি হিসেবে স্বীকৃতি ছাড়া কোনো সমঝোতায় রাজি হননি।

তাঁদের আলোচনা ব্যর্থ হয়। তবু এই সাক্ষাৎ প্রমাণ করে তাঁরা শুধু পরস্পরকে আক্রমণ করেননি; শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বোঝানোর চেষ্টাও করেছেন।

১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা একটি শিথিল ভারতীয় ইউনিয়ন বজায় রেখে প্রদেশগুলোকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ প্রথমে শর্তসাপেক্ষে এটি গ্রহণ করলেও পরিকল্পনার ব্যাখ্যা ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। নেহরুর বক্তব্য মুসলিম লীগের মধ্যে আশঙ্কা সৃষ্টি করে যে কংগ্রেস পরে পরিকল্পনাটি পরিবর্তন করতে পারে। জিন্নাহ সমর্থন প্রত্যাহার করেন।

এরপর “ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে”, কলকাতা, নোয়াখালী, বিহার, পাঞ্জাবসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড ভারতীয় ঐক্যের সম্ভাবনাকে প্রায় ধ্বংস করে দেয়।

১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে গান্ধী ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে একটি নাটকীয় প্রস্তাব দেন: জিন্নাহকে অবিভক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হোক; কংগ্রেস প্রয়োজন হলে সেই সরকারকে সহযোগিতা করবে। জিন্নাহ তা গ্রহণ না করলে কংগ্রেস সরকার গঠন করবে।

এটি মূলত দেশভাগ ঠেকানোর জন্য গান্ধীর শেষদিকের মরিয়া রাজনৈতিক উদ্যোগ ছিল। তিনি প্রথমে মাউন্টব্যাটেনের কাছে পরিকল্পনাটি উত্থাপন করেছিলেন। গান্ধীর প্রস্তাবের বিবরণ তাঁর জীবনবিষয়ক গান্ধী-সংক্রান্ত ঐতিহাসিক বইগুলোতে পাওয়া যায়।

নেহরু ও বল্লভভাই প্যাটেলসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পনাটি সমর্থন করেননি। তাঁরা আশঙ্কা করেছিলেন, নির্বাচনে কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার পরও পুরো কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিম লীগের হাতে তুলে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হবে। নেহরু-প্যাটেলসহ কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরোধিতায় গান্ধীর পরিকল্পনাটি আর এগোয়নি। কিছু ঐতিহাসিক বিবরণে জিন্নাহও এমন প্রস্তাব গ্রহণ করতেন না বলে উল্লেখ রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস নেতৃত্ব দেশভাগ মেনে নেয়। গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে মেনে নিতে না পারলেও একা তা ঠেকাতে পারেননি।

১৯৪৭ সালের আগস্টে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হয়। জিন্নাহ পাকিস্তানের গভর্নর-জেনারেল হন; নেহরু হন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

দুইশ বছর পর ভারতীয় উপমহাদেশের এই স্বাধীনতা এসেছিল ভয়াবহ মূল্য দিয়ে। পাঞ্জাব ও বাংলার বিভাজন, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুতি সহস্র বছর প্রাচীন সভ্যতার অঞ্চলটিকে রক্তাক্ত করে। জিন্নাহ নতুন রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। গান্ধী স্বাধীনতার উৎসব থেকে দূরে থেকে কলকাতা ও দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।

১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে গান্ধী পাকিস্তানের প্রাপ্য আর্থিক অংশ পরিশোধ এবং ভারতে মুসলমানদের নিরাপত্তার দাবিতে অনশন করেন। উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা এ কারণে তাঁকে “মুসলিম ও পাকিস্তানপন্থী” বলে অভিযুক্ত করেছিল।

৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮ নাথুরাম গডসে গান্ধীকে হত্যা করে।
এই নাত্থুরাম গোডসের সংগঠন ছিল আরএসএস, যাদের অবৈধ সন্তান আজকের বিজেপি। বিজেপি সমর্থকদের চোখে গান্ধী এখনও পাকিস্তান ও মুসলিমদের দালাল! আর বাঙ্গু অশিক্ষিত ছাগুদের চোখে মোদী-গান্ধী সবাই সমান!
গান্ধীর মৃত্যুর সময়ে জিন্নাহ তখন পাকিস্তানের গভর্নর-জেনারেল হিসেবে করাচিতে ছিলেন। তিনি শোকবার্তায় গান্ধীকে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্ম দেওয়া অন্যতম মহান ব্যক্তি বলে অভিহিত করেন এবং তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য গভীর ক্ষতির কথা জানান।
এর কয়েক মাস পরেই, একই বছর এগারো সেপ্টেম্বর তারিখে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও মারা যান।

ভারত-পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ফ্যাক্ট এই যে এই দুটি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই তাদের জাতির পিতারা মারা যান। যে স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে তাঁরা দেশদুটো স্বাধীন করেছিলেন, সেই স্বপ্নের পথে তাঁরা কোন কাজই করতে পারেননি।
তাঁরা বেঁচে থাকলে কি করতে পারতেন, নায়ক হতেন, নাকি ভিলেন হতেন সেসব কল্পনা করাটা বোকামি।

ইতিহাসের ট্র্যাজেডি এখানেই: যিনি একসময় “হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত” ছিলেন, তিনিই পরে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা হলেন। আর যিনি অখণ্ড ভারতের জন্য শেষ দিন পর্যন্ত লড়েছিলেন, স্বাধীনতার কয়েক মাস পরই একজন হিন্দু উগ্রবাদীর গুলিতে নিহত হলেন।

এখন আসে বাংলাদেশের ব্যাপারে জিন্নাহর ভূমিকা কি? যারা ঘৃণা করছেন, এই ঘৃণা কতটা জাস্টিফায়েড? আর যারা দেবতা বানিয়ে দিয়েছেন, সেটাই বা কতটা সঠিক?
তারও আগে আসি আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি কি ছিল তাঁর ব্যাপারে। উনি কি জিন্নাহ বিরোধী ছিলেন? দ্বিজাতি তত্বের বিরোধী ছিলেন? যতদূর জানি, না। বরং তিনি তরুণ বয়সে মুসলিম লীগের কর্মী ছিলেন, পাকিস্তান আন্দোলনে অংশ নেন এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করেন। তবে ১৯৪৭ সালের পর পূর্ব বাংলার প্রতি বৈষম্য এবং বিশেষ করে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এমনকি ১৯৬৫ সালে আইয়ুব বিরোধী নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামীলীগ ফাতিমা জিন্নাহর পক্ষ নেয় এবং পূর্ব পাকিস্তানে প্রচারণা চালায়।

১৯৪৮ সালে জিন্নাহ ঢাকায় এসে ঘোষণা করেন, “উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।” শেখ মুজিবুর রহমান তখন বাংলা ভাষার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাদের একজন ছিলেন এবং এই নীতির বিরোধিতা করেন।
অনেককেই দেখছি "উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে কি সমস্যা হতো" তা নিয়ে প্রশ্ন করেন।
সহজ ভাষায় বললে, সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে সব দিক দিয়েই বাঙালি পিছিয়ে যেত। ব্রিটিশরা যখন ভারতীয় উপমহাদেশ দখল করে, তখন ফার্সির বদলে অফিস আদালতের ভাষা ইংলিশ করে। মুসলিমরা গোড়ামি করে ইংলিশ ভাষা শিখেনি। ফলে মুসলিম সমাজ পিছিয়ে গিয়েছিল। একই ঘটনা ঘটতো যদি কেবলই উর্দু হতো পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এর অর্থ এই ছিল না যে আমরা তখন "উর্দুমে বাতচিৎ, গুফতগু কারতে।" আমরা বাংলাতেই কথা বলতাম, উর্দু না জানলে বস্তিতে বাস করতাম, ফকির মিসকিন থাকতাম।
জিন্নাহর নিজের মাতৃভাষা ছিল "সিন্ধি।" ইনফ্যাক্ট, উর্দু পাকিস্তানের কোন অঞ্চলেরই মাতৃভাষা না। তবে ওদের দ্বারা উর্দু ভাষা বলা ও লেখা সহজ, আমাদের দ্বারা সেটা না।

অনেকে গোলাম আযম এবং জিন্নাকে এক কাতারে ফেলছে। জিন্নাহকে ইসলামের নেতা বানিয়ে ফেলছে! ভাইরে, মূর্খামির একটা লিমিটতো থাকা দরকার!
জিন্না ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান এনেছিলেন ঠিকই, কিন্তু জামাতে ইসলাম এবং জিন্নাহর রাজনীতির মূল পার্থক্য হচ্ছে, জিন্না চেয়েছিলেন "মুসলিমদের শাসন" - আর মওদুদীর জামাত চায় "ইসলামের শাসন।"
জিন্নাহ নিজেও নিজেকে ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে আগ্রহী ছিলেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে নিউজিল্যান্ডের লেখক হেক্টর বলথোর গ্রন্থে। সেখানে বলা হয়েছে, একবার একটি শোভাযাত্রায় তাঁকে ‘মাওলানা জিন্নাহ’ বলা হলে তিনি শোভাযাত্রা থামিয়ে জানান, তিনি কোনো ধর্মীয় নেতা নন, তিনি রাজনৈতিক নেতা। তবে ভারতীয় মুসলিমদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিয়ে তাঁর অবস্থানকে কেউ "সাম্প্রদায়িক" বললে তিনি সেই পরিচয় গ্রহণ করতেও আপত্তি করেননি।

এখন শেষে কেবল একটা কথাই বলি - ইতিহাসে যে যা করেছে, সেটাকে সেভাবেই উপস্থাপন করতে হবে। মোদির অপকর্মের জন্য গান্ধীকে গালাগালি করা এবং বর্তমান পাকিস্তানের জন্য জিন্নাহকে দোষারোপ করাটা নিজেকেই ছোট করে। উপমহাদেশের রাজনীতিতে এই দুই নেতাই ছিলেন মহান নেতা। তাঁদের কেউই নিখুঁত ছিলেন না। তাঁদের সিদ্ধান্ত, সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু তাঁদের একজনকে দেবতা এবং অন্যজনকে খলনায়ক বানালে ইতিহাস বোঝা যায় না। ইতিহাস পড়তে হয় নির্মোহভাবে।

© Manzur Choudhury

*নারী চার প্রকার। 🌸*কামশাস্ত্র বলে নারী চার জাত, আর মারফত বলে নারী চার স্তরের প্রেম। এই চার জাতকে চিনতে পারলেই তুমি বুঝব...
15/09/2026

*নারী চার প্রকার। 🌸*

কামশাস্ত্র বলে নারী চার জাত, আর মারফত বলে নারী চার স্তরের প্রেম। এই চার জাতকে চিনতে পারলেই তুমি বুঝবে কার সাথে কিভাবে সাধনা করতে হয়।

--- ১. পদ্মিনী নারী - জান্নাতি ফুল 🌷

এরা হলো সবচেয়ে উঁচু স্তরের নারী।

*চেনার উপায়:* এদের শরীর থেকে সবসময় পদ্মের মতো সুগন্ধ বের হয়। এরা দেখতে কোমল, চোখে লজ্জা, কথায় মধু। বেশি খায় না, বেশি ঘুমায় না, বেশি সাজে না। অল্পতেই খুশি।

*মারফতের বাণী:* পদ্মিনী নারী হলো সেই নারী, যে স্বামীকে দেখলেই তার ভিতরের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেয়। সে রাগ করে না, সে অভিমান করে। তার অভিমানও প্রেম। তার একটু ছোঁয়ায় পুরুষের হাজার বছরের সাধনা পূর্ণ হয়ে যায়। এমন নারীকে যে পায়, সে দুনিয়াতেই জান্নাত পায়।

*এদের মন:* এরা প্রেমের কাঙাল, শরীরের না। এদেরকে যদি তুমি একটা ফুল দিয়ে বলো "তুমি আমার সব", সে তোমার জন্য জীবন দিয়ে দেবে।

---২. চিত্রিণী নারী - প্রেমের কবিতা 🎨

এরা হলো শিল্পীর জাত।

*চেনার উপায়:* এরা সাজতে ভালোবাসে, গান ভালোবাসে, ছবি আঁকতে ভালোবাসে। এদের চোখে সবসময় একটা স্বপ্ন থাকে। এরা কথায় পটু, হাসিতে মুক্তা ঝরে। এদের রাগও সুন্দর, হাসিও সুন্দর।

*মারফতের বাণী:* চিত্রিণী হলো সেই নারী, যে পুরুষের জীবনকে রঙিন করে দেয়। যে পুরুষ সারাদিন দুনিয়ার সাথে যুদ্ধ করে ঘরে ফেরে, চিত্রিণী তার মাথায় হাত বুলিয়ে সব যুদ্ধ ভুলিয়ে দেয়। সে স্বামীকে শুধু স্বামী ভাবে না, তাকে বন্ধু ভাবে, প্রেমিক ভাবে।

*এদের মন:* এদেরকে সময় দিতে হয়। এদের সাথে গল্প করতে হয়। তুমি যদি এদের মনের কথা না শোনো, এরা ভিতরে ভিতরে মরে যাবে।

--- ৩. শঙ্খিনী নারী - আগুনের ফুল 🔥

এরা হলো তেজস্বিনী।

*চেনার উপায়:* এদের রাগ একটু বেশি, জেদ বেশি। এরা সহজে কাউকে বিশ্বাস করে না। কিন্তু একবার বিশ্বাস করলে তার জন্য সব করতে পারে। এরা সংসারকে আগলে রাখে, সন্তানকে যোদ্ধা বানায়।

*মারফতের বাণী:* শঙ্খিনীকে ভয় পেও না দরদী, তাকে বোঝো। তার ভিতরে যে আগুন আছে, সেটা অহংকারের আগুন না, সেটা ভালোবাসার আগুন। সে চায় তার স্বামী শুধু তারই থাকুক। সে ভাগ দিতে পারে না। এই অধিকারবোধ থেকেই তার রাগ। তুমি যদি তার রাগকে প্রেম দিয়ে ঠান্ডা করতে পারো, তাহলে সে তোমার জন্য দুনিয়ার সাথে লড়াই করবে।

*এদের মন:* এদেরকে শক্ত হাতে নয়, নরম হাতে ধরতে হয়। এদের রাগের সময় চুপ থাকতে হয়, রাগ কমলে বুকে টেনে নিতে হয়।

--- ৪. হস্তিনী নারী - গভীর সাগর 🌊

এরা হলো সবচেয়ে গভীর। এদেরকে সবাই বোঝে না।

*চেনার উপায়:* এদের শরীর একটু ভারী, চলা একটু ধীর। এরা বেশি কথা বলে না, কিন্তু যখন বলে, তখন দিল ছুঁয়ে যায়। এরা খেতে ভালোবাসে, ঘুমাতে ভালোবাসে, কিন্তু ভালোবাসলে পাগলের মতো ভালোবাসে।

*মারফতের বাণী:* হস্তিনী নিয়ে সমাজ অনেক বাজে কথা বলে, কিন্তু মারফত বলে - হস্তিনী হলো মা। তার বুকের ভিতরে সাগরের মতো মমতা। সে তার স্বামীকে সন্তানের মতো আগলে রাখে। সে হয়তো পদ্মিনীর মতো সুগন্ধি না, চিত্রিণীর মতো রঙিন না, কিন্তু তার ভালোবাসা হলো সবচেয়ে খাঁটি। যে পুরুষ হস্তিনীকে অবহেলা করে, সে নিজের কপাল নিজে পোড়ায়। কারণ হস্তিনী যখন কাঁদে, তখন আরশ কেঁপে ওঠে।

*এদের মন:* এদেরকে কখনো শরীর নিয়ে খোঁটা দিও না। এদেরকে বলো - "তুমি আমার শান্তি"। দেখবে, সে তোমার জন্য জান্নাত থেকে ফুল এনে দেবে।

নারী পদ্মিনী হোক, চিত্রিণী হোক, শঙ্খিনী হোক বা হস্তিনী হোক - দিনশেষে সে নারী। আর নারী মানেই মা। মায়ের জাতকে সম্মান করতে শেখো।

যে পুরুষ নারীকে ভোগের চোখে দেখে, সে সারাজীবন ফকির থাকে। আর যে পুরুষ নারীকে মায়ের চোখে, প্রেমিকার চোখে দেখে, তার ঘরে আল্লাহর রহমত নাজিল হয়।

*নারীকে চিনতে হলে চোখ লাগে না, দিল লাগে।*

জয় গুরু 🙏
(সংগৃহীত)

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Emran Diary posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Emran Diary:

Shortcuts

Share

Category