বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবসে, তাঁকে "স্মরণ এবং শ্রদ্ধা" জানানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে - বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও লক্ষ্য সমুহ অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির চেতনা এবং জন্ম-আকাঙ্ক্ষা সমুহকে -"সমাজ এবং রাষ্ট্র-ব্যবস্থায়" বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।
সংক্ষেপে বাংলাদেশের "স্বাধীনতা ও মুক্তির" পূর্ব নির্ধারিত ও সুনির্দিষ্ট "আদর্শ, লক্ষ্য, চেতনা এবং জন্ম-আকাঙ্ক্ষা সমুহ" নিম্নরূপ : -
১) বাঙলা ভাষা ভিত্তিক বাঙালী জাতীয়তাবাদ তথা বাঙালীর জন্য একটি "স্বাধীন এবং স্বতন্ত্র" জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা বা স্বপ্ন।
২) ধর্ম-নিরপেক্ষতা তথা সকল ধর্ম-বর্ণের বসবাস উপযোগী, অসাম্প্রদায়িকতা সমৃদ্ধ, একটি "বাঙালী সমাজ ও রাষ্ট্র-ব্যবস্থা" প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা বা স্বপ্ন।
৩) অর্থনৈতিক সমতা-ভিত্তিক ও মৌলিক মানবাধিকার সমৃদ্ধ - "বাঙালী সমাজ এবং রাষ্ট্র-ব্যবস্থা" গঠনের স্বপ্ন বা আকাঙ্ক্ষা।
৪) আমলা-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটিয়ে, "স্বাধীন রাষ্ট্র ও সমাজ" উপযোগী অর্থাৎ গণমূখী তথা জনগন-নিয়ন্ত্রিত, রাজনৈতিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করার আকাঙ্ক্ষা বা স্বপ্ন।
৫) বৃটিশ-পাকিস্তানি উপনিবেশিক তথা সামন্তবাদী আইন-কানুন, সমাজ-কাঠামো এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে - স্বাধীন রাষ্ট্র ও সমাজ উপযোগী - "আইন, সমাজ-কাঠামো এবং গণমূখী ও বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা-ব্যবস্থার" প্রচলন তথা বাস্তবায়ন করার আকাঙ্ক্ষা বা স্বপ্ন।
উপরোল্লেখিত 'আদর্শ, লক্ষ্য, চেতনা তথা জন্ম- আকাঙ্ক্ষা সমুহ"- যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের "সমাজ ও রাষ্ট্র-ব্যবস্থায়" প্রতিষ্ঠা তথা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি - সেহেতু "স্বাধীনতা আন্দোলন-সংগ্রাম এবং যুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী অথবা অংশগ্রহণকারী"- সবাইকে এই ব্যর্থতার দায়ভার নিতেই হবে।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। জয় বাংলা।
যুব পরিষদ
অভ্যন্তরীণ
পরাধীনতা’ মুক্ত বাংলা গড়ে
সব রাজনৈতিক বেনিয়াদের বয়কট করুন। সব রাজনৈতিক বেনিয়াদের মিথ্যা আস্বাস, মিথ্যা বুলি, বয়কট করুন এবং তাদের চরিত্র উন্মোচন করুন। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য নিজেদের সংগঠন তৈরী করুন । আমরা তরুনরা আপনাদের সাথে আছি "Jubo Porishad”
29/08/2020
# বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হওয়ার পর পরই, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট -"স্বাধীন রাষ্ট্র-ব্যবস্থা" পূনর্গঠনের জন্য - "নিউক্লিয়াসসের প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বাধীনতার রূপকার" সিরাজুল আলম খান "১৫ দফা" সুপারিশ-মালা প্রদান করেছিলেন।
# এই ১৫ দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের সমাজ এবং রাষ্ট্র-ব্যবস্থায়, সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে, বঙ্গবন্ধুর "অমানবিক এবং নির্মম-হত্যাকান্ড" সম্ভব ছিল না। বাংলাদেশকেও আজ এই -"ঘুষ, দূর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের"- এই দুরাবস্থার মধ্যে থাকতে হতোনা।
# খান সাহেবের ১৫ দফা "রূপ-রেখাটি" নিন্মরূপ : -
১) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং পুনর্গঠনের একটা পর্যায় পর্যন্ত বাংলাদেশ - একটি "বিপ্লবী জাতীয় সরকার" দ্বারা পরিচালিত হবে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ- কারী, সকল দলের সমন্বয়ে গঠিত, এই সরকারের প্রধান থাকবেন বঙ্গবন্ধু।
২) কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত হবে, মুক্তিযুদ্ধের পরীক্ষিত নেতৃত্ব দ্বারা - যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন।
৩) বঙ্গবন্ধুর মর্যাদার বিষয়ে, বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়ােজনবােধে তিনি রাজধানীর বাইরে অবস্থান করবেন। তাকে কেন্দ্র করে, বাঙালি জাতির "চেতনা বিকাশের ধারা" প্রবাহিত হবে।
৪) বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলােকে - কোনাে দেশের অনুকরণে নয়। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে, একটা "সংবিধান প্রণয়ন কমিটি" গঠন করা।
৫) চিরাচরিত প্রথার সেনাবাহিনী গঠন না করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে - জাতীয় পর্যায়ে "রেভলুশনারি গার্ড বাহিনী" গঠন করা হবে।
"এফএফ এবং বিএলএফ" সহ - সকল মুক্তি- যােদ্ধাদেরকে নিয়ে, এই বাহিনী তৈরি করা হবে এবং এর সমান্তরাল - অন্য কোনাে বাহিনী থাকবে না।
৬) রেভল্যুশনারি গার্ডের মধ্যে থাকবে : -
ক) বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ-প্রাপ্ত জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী - যা কিনা হবে "পিপলস আর্মি"।
খ) কৃষি কাজে সহায়তা দেওয়ার জন্য "রেভল্যুশনারি কৃষক ব্রিগেড"।
গ) শিল্প এলাকার জন্য রেভল্যুশনারি লেবার ব্রিগেড।
৭) নিবর্তন-মূলক পুলিশ বাহিনীর বদলে, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গঠন করা হবে। পুলিশ নামটি ব্যবহার করা হবে না।
৮) শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলাে আপাততঃ খােলা হবে না। মুক্তিযােদ্ধা শিক্ষক-ছাত্রদের নিয়ে, ছােট ছােট স্কোয়াড তৈরি করে, সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং এক বছরের মধ্যে ৬০ শতাংশ মানুষকে স্বাক্ষরতার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
৯) উচ্চ-শিক্ষার সুযােগ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রয়ােজনে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষা শেষ করে, কর্মক্ষেত্রে যােগ দিয়ে - ঋণ পরিশােধের সুযােগ দেওয়া হবে।
১০) ব্রিটিশ-পাকিস্তানি উপনিবেশিক আমলের ধারাবাহিকতায় - জেলা, মহকুমা এবং থানায়, কমপক্ষে দুই-তিন বছর "প্রশাসনের কোনাে ক্যাডার" বা গােষ্ঠীকে "জন-প্রশাসনের" দায়িত্বে রাখা যাবে না।
১১) মুক্তিযুদ্ধের সময়, যারা জেলা-মহকুমা-থানা পর্যায়ে "কমান্ডারের" দায়িত্ব পালন করেছেন - তাঁরাই জন-প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবেন।
১২) জন-প্রশাসনে "প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ" - এই সব শ্রেণি-বিন্যাস থাকবে না । কাজের ক্ষেত্রে, দায়িত্ব পাওয়ার জন্য - যেসব স্তর হবে - তার কোনাে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত থাকবে না।
১৩) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত হবে অনধিক ১ : ৭।
১৪) সমবায়-ভিত্তিক অর্থনৈতিক-ব্যবস্থা চালু হবে। পরিত্যক্ত কলকারখানা, মুক্তিযােদ্ধা শ্রমিক- কর্মচারীদের সমবায়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
১৫) কেবল ভারত ও রাশিয়ার ওপর নির্ভর না করে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে - "কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক" সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।
# এই ১৫ দফা কর্মসূচি টি - এক ঝলক দেখে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব - সেটা তার টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দেন। ঐ ড্রয়ার থেকে, সেটা আর কখনো বের হয়নি।
# আজো অর্থাৎ দীর্ঘ ৫০ বছর পরেও - এই কর্মসূচি তথা সুপারিশ-সমুহ - সম্পূর্ণ বাস্তবতা সমৃদ্ধ। এর মধ্যে দেশ- প্রেম ছাড়া, ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কোন বিষয় ছিলনা।
# এই রাষ্ট্র-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে, বাংলাদেশ আজ কোথায় থাকতো !! মুক্তিযোদ্ধারা আজ কোথায় থাকতো !! এদেশের শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের অবস্থান আজ কোথায় থাকতো !!!
পুরানো বিষয় সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য দুঃখিত। ধন্যবাদ। বাংলা এবং বাঙ্গালীর জয় হোক।
# আমার এই উপস্থাপনাটি "বঙ্গবন্ধু এবং সিরাজুল আলম খানের" - "ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্মিলন" সম্পর্কিত - বাংলাদেশের "রাজনৈতিক সমীকরণ"
সবাইকে ধন্যবাদ।
27/06/2020
একটি উপলব্ধি।।
জাসদ একটি সংগ্রাম।।
================
প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের সফলতা - ব্যর্থতা থাকে, উত্থান -পতনও আছে। সেটা জাসদেরও আছে।এদলের আছে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস, জীবন দিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার অহংকার। বিপন্ন গনতন্ত্র পুনঃউদ্ধারে আপোষহীন লড়াইয়ের ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াইয়ে অকাতরে জীবন উৎসর্গ করার গৌরবদীপ্ত অহংকার। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও দলীয় সন্ত্রাস মোকাবিলা করার আপোষহীন লড়াইয়ের ইতিহাস। বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়ানোর উজ্জ্বল চিত্র। অন্যায়ের সাথে আপোষ না করে হাসতে হাসতে ফাঁসির দড়িকে আলিঙ্গন করার সাহসী ও গৌরবময় ইতিহাস।
আমাদের দলীয় নেতাদের দ্বন্দ্ব সংঘাত, অপরিপক্কতা, বিশ্বাস, অবিশ্বাস অদূরদর্শিতা , আভ্যন্তরীন কলহ, দলভাঙ্গার কারণে,কিছু নেতার এদিক ওদিক দৌড়ানোর জন্য, আমরা সংগ্রামের ফসল ঘরে তুলতে পারিনি । এটা দলের জন্য যেমন কলংক, জাতির জন্য তেমনি দূর্ভাগ্যজনক। কারণ একটি আপোষহীন গনতান্ত্রিক শক্তির উত্থান বছরে বছরে হয়না,এটা হতে সময় লাগে, সেই শক্তি বা দল ভুল করলে, দল, জাতি ও দলের নেতাকর্মীদের মাসুল দিতে হয়। এবং আমরা সেটা দিচ্ছি!
আজকের তরুন যুবক ও ছাত্ররা আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস ভুলতে বসেছে। এর কারণও আছে, যখন যারা ক্ষমতায় থাকে তারা সবসময়ই সম্পূর্ণ বিকৃত বা আংশিক বিকৃত ইতিহাস জাতির সামনে হাজির করে থাকে। কিনতু উনারা জানেন যে, ইতিহাস এর দেয়ালে শেওলা লাগে না , সত্য একদিন বেরিয়ে অাসবেই। এটাই ইতিহাসের অমোঘ বিধান! । তরুণ প্রজন্ম মনে করছে এই দলটির দেশ গঠনে, গনতান্ত্রিক সংগ্রামে,সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সংগ্রামে বা আমাদের জাতির অহংকার ও সবচেয়ে গৌরবের বিষয় মহান মুক্তিযুদ্ধে কোন অবদান নেই।বর্তমানে আওয়ামীলীগের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করছে এবং আওয়ামীলীগ করুণা করে ঐক্যে রেখেছে। তাছাড়া সরকারি দল সেরকমই প্রচার করে থাকে!
এ লেখাটি আমার একজন ছোটভাই সহযোদ্ধার তার আজকের এই উপলব্ধি থেকে আমাদের অনেকের অনেক কিছু শিক্ষণীয় আছে তার কপি করলাম। মহামতি লেনিন বলে গেছেন "ভুল ও পরাজয় ছাড়া কক্ষনো শিক্ষা সম্পুর্ণ হয় না"।আমাদেরকেও এ উপলব্ধি থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগুতে হবে।কোন বুর্জোয়া রাজনৈতিকদলের লেজুড়বৃত্তি, আপোষকামীতা বামবিচ্যুতি বা সুবিধাবাদের নামান্তর। আমাদের এখান থেকে মুক্ত হতে হবে।তবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক আদর্শিক ধারায় ফিরতে পারবো।।
মনে রাখতে হবে জাসদের সৃষ্টি সময়ের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা এবং প্রয়োজনীয়তায়। গদবাধা কিছু কথা তড়বড় করে বলে গেলেই সব সত্য বলা হয়ে যায় না। উপমহাদেশের সব রাজনৈতিক দলেরই অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহনই দল, জনগন, রাষ্ট্র, সরকারের নিজের চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছ। জাসদের ভুল আছে, সেই সাথে আছে সংগ্রাম এবং সাহসের সাথে বৈরী শাসনের বিরুদ্ধে নির্ভিক জিবনদানের হিরন্ময় ইতিহাস। ৭৪-৭৫ পর্যন্ত ও পরবর্তীতে সবাই ক্ষমতার দালালী করেছে, এখনও দালালের কমতি নাই। জাসদের মতো একটি আগুনঝরা সময়ের রাজনৈতিক দলের চুড়ান্ত মুল্যায়ন বোদ্ধা রাজনৈতিক বিশ্লেষকগন একদিন নির্মোহ দৃষ্টিতে অবশ্যই করবেন।
প্রসঙ্গক্রমে বলছি, জাসদের প্রারম্ভিক ইতিহাস এবং রক্ষীবাহিনী এবং গণবাহিনীর সৃষ্টির প্রেক্ষাপট নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হতে পারে তাই বলে আমাদের থেমে গেলে চলবে না।
25/06/2020
জবাব দিবে ইতিহাস।
যা হবে নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠ।।
-----------------------------------------
( নুতন প্রজন্মকে জানতে হবে)
অনেকেই বলছেন তোফায়েল আহমেদের ইতিহাস বিকৃতির জবাব সিরাজুল আলম খান কেন দিচ্ছেন না? শুধুমাত্র তাদের অবগতির জন্য বলছি।তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। কিম্তু তার পরবর্তী ছাত্রলীগ কমিটিতে সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকি সহ মাত্র ৬জন তার সমর্থক ছিল।আবার নুরে আলম সিদ্দিকি ১৯৭০ সালের কমিটির সভাপতি ছিলেন ১৯৭২সালে যখন ছাত্রলীগ বিভক্ত হয় তখন সরওয়ার্দীর সন্মেলনে বঙ্গবন্ধুকেও প্রধান অতিথি করতে পারলেও কোন ছাত্রলীগ নেতৃত্ব খুজে পান নাই।তাই বাধ্য হয়ে মনিরুল হক চৌধুরীকে সভাপতি ও শফিউল আলম প্রধানকে সাধারন সম্পাদক করে তাদের ছাত্রলীগের কমিটি করতে হয়েছিল।যার মধ্যে জনাব মনিরুল হক চৌধুরী এখন বিএনপি নেতা আর শফিউল আলম প্রধান ৭জনকে খুন করে জিয়ার অনুকম্পায় কারামুক্তি পেয়ে কি করেছেন সবার জানা।
১৯৭১সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় ছাত্রলীগের কি ভুমিকা ছিল সেটা আলোচনায় জনাব তোফায়েল আহমেদ ও নুরে আলম সিদ্দিকির বাইরে আর কেউ অবশিষ্ট নেই কিন্তু জনাব সিরাজুল আলম খানের সাথে রয়ে গেছে ছাত্রলীগের অগনিত ভক্ত যারা প্রত্যেকেই স্বাধীনতার এক একটি অংশ।তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৯ এর গন অভ্যুত্থানের একটি অংশ যার মুল ছিল বঙ্গবন্ধু উপাধি সেটাও সিরাজুল আলম খানের অনুসারী ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল হক চৌধুরী মোসতাকের মস্তিষ্কপ্রসুত।আর বঙ্গবন্ধুর বদান্যতায় সিরাজুল আলম খান তাকে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদে যুক্ত করেছিলেন বলেই তিনি মুজিব বাহিনীর একজন।এর বাইরে তার নিজস্ব আর কোন কৃতিত্ব নেই।জনাব তোফায়েল আহমেদ তার সামগ্রিক আলোচনায় ৬৯ থেকে বের হতে পারেন নি।১০জন ছাত্রনেতা আর ২৩শে ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু উপাধি এর মাঝেই তিনি সীমাবদ্ধ। ১৯৬৯ এর গন অভ্যুত্থান স্বাধীনতার ইতিহাসের একটি অধ্যায় কিন্তু পুরোটা নয়।তার আলোচনায় মনে হয় ৬৯সালটাই স্বাধীনতা।আসলে তিনি বাকি ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই ঘুরেফিরে সেই উনসত্তর নিয়েই সবটা বলার চেষ্টা করেন।তবে ভাগ্য ভালো জনাব তোফায়েল আহমেদ স্বাধীনতা পুর্বকালে কোনদিন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান নাই।তাহলে হয়তো আরো কিছু স্মৃতিকাহিনী আমরা জানতে পারতাম।
জনাব নুরে আলম সিদ্দিকির জীবনে একবার সুযোগ এসেছিল মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কের নাম লেখাবার কিন্তু নিজের বুদ্ধিতেই হোক বা তার রাজনৈতিক গুরুদের পরামর্শে হোক তিনি সে সুযোগ হারিয়েছেন।যে ব্যক্তি তার নিজ সংগঠনের স্বাধীন বাংলার প্রস্তাবের বিরোধীতা করেন তিনি কি করে স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হতে পারেন যে কারনে ১৯৭১ সালে তাকে কেউ বিশ্বাস করে নি। তাকে মুজিব বাহিনীর কোন কর্মকান্ডেই শেখ ফজলুল হক মনি বা সিরাজুল আলম খান কেউ নিতে রাজি হন নি।এমনকি তার রাজনৈতিক গুরু শাহ মোয়াজ্জেম বা কে এম ওবায়দুর রহমানও তাকে মুক্তিযুদ্ধের কোন অংশেই যুক্ত করেন নি।ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ছিলেন অপাঙ্গতেও।তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন সারাদেশের ছাত্রলীগ মুজিব বাহিনী ও গণবাহিনীর নামে যেদিন ঢাকা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সংবরণ করে উনি সেদিন উপস্থিত হন নি। কিভাবে হবেন উনার নাছিল কোন ট্রেনিং না ছিল কোন অস্ত্র ফলে জমা দেওয়ার কি থাকতে পারে।
এর বাইরে আর কোন ইতিহাসবীদ আমার জানা নেই তবে সিরাজুল আলম খানের সাথে ছিলেন অগনিত স্বাধীনতাযোদ্ধা যাদের রয়েছে নিজস্ব অজস্র কৃতী। ফলে জনাব তোফায়েল আহমেদ আজকে যে পীর কাহানী বর্ননা করছেন তার জবাব দিতে সিরাজুল আলম খানের মুখ খোলার কোন প্রয়োজন নেই। তার শিষ্যরাই যথেষ্ট। ইতিমধ্যে অনেকই জবাব দেওয়া শুরু করেছেন।কেউ কেউ পর্যবেক্ষণ করছেন কতটা মিথ্যাচার তোফায়েল আহমেদ করতে পারেন।জনাব তোফায়েল আহমেদ হয়তো বুঝেন নাই তিনি তার পীরের মাধ্যমে ভেমরুলের চাকে খোচা মেরেছেন এই ভীমরুলের হুলের বীষ তাকেও হজম করতে হবে। ইতিমধ্যে তার জীবনের বড় কৃত্বীত্ব বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়া সেটাও তিনি হারিয়েছেন। দেশের মানুষ জেনে গিয়েছে এটা তার মস্তিষ্কজাত নয় এটা ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল হক মোস্তাক বহু আগেই তার লেখনীতে এনেছিলেন।তিনি হয়তো জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষকের মতো ঘোষনাই করেছিলেন।আজকে হয়তো ক্ষমতার জোরে "আমি সিরাজুল আলম খান" বইটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে পেরেছেন। কিন্তু সিরাজুল আলম খানের হাজার হাজার অনুসারীদের কাছে যে ইতিহাস রয়ে গেছে সেটা প্রত্যাহার করবেন কিভাবে। তার এই পীর কাহানীর কারনে আজকে সিরাজুল আলম খানের শিষ্যরা আরো একবার তাদের জানা ইতিহাসকে ঝালাই করে নিচ্ছে যাতে সময় এলে এর পুরোটাই জাতিকে জানানো সম্ভব হয়।।
জনাব আসম আব্দুর রব,শাহজাহান সিরাজ,মনিরুল ইসলাম, মেসবাহউদ্দিন , হাসানুল হক ইনু,শরীফ নুরুল আম্বিয়া, শিব নারায়ণ দাস,মাহফুজুর রহমান, গোলাম ফারুক, রায়হান ফেরদৌস মধু,রফিকুল ইসলাম রেজাউল হক মোস্তাক, মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক, মোশাররফ হোসেন,হাবিবর রহমান শওকত,মোস্তফা মহসিন মন্টু,কামরুল আলম খসরু, শামসুদিন আহমেদ,হুমায়ুন কবির,নুরুল আমিন খোদাবক্স চৌধুরী, কামরুজ্জামান টুকু,আলিহোসেন মনি,রবিউল আলম, আবুল হাসিব খানসহ হাজার হাজার অনুসারী।এরা সবাই রাজপথের সাক্ষী। কতোজনের মুখ বন্ধ করবেন।।
(দুবছর আগে লিখেছিলেন জনাব আহমেদ ফজলুর রহমান মুরাদ ভাই)
আজ ২৩ জুন পলাশী দিবস :
১৭৫৭ সালের এইদিনে বাংলা,বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা এই বাংলারই কিছু কু-সন্তান,দুস্কৃতিকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে সিংহাসনচ্যুত হন।ফলে প্রায় দু'শত বছর (১৯০ বছর) এ ভূখণ্ড পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ হয়।এর অল্প কিছুদিন পরে নবাব সিরাজ এই মাটিরই বে-জন্মা কিছু খলনায়কের হাতে প্রাণ হারান।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Website
Address
Address: 3/B-DCC Market, 2. Kazi Nazrul Islam Avenue, Paribagh Opposite Of Hotel Ruposhi Bangla, Shahbagh
Dhaka
