21/12/2025
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
Official page of Adarsha College Chatrodol (ACC), the student wing of Bogura BNP
21/12/2025
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
18/12/2025
“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি’র মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত।
15/12/2025
সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
02/12/2024
জনগণকে সঙ্গে রাখুন, জনগণের সাথে থাকুন।
-তারেক রহমান।
19/11/2024
03/11/2024
৭ নভেম্বরের চেতনা
-ড. মাহবুব উল্লাহ
আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫-এর ৭ নভেম্বরের পর থেকে জাতি এই দিবসটি পালন করে আসছে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শপথ গ্রহণ এবং সামরিক বাহিনী ও জনগণের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে। স্বাধীনতা দিবসসহ যে ক’টি দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে গুরুত্বের দাবি করে, এ দিবসটি সেগুলোর মধ্যে অনন্য মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দিবসটি পালন করা হচ্ছিল এবং দিবসটি ছিল জাতীয় ছুটির দিন।
বড়ই পরিতাপের বিষয়, বতর্মান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে এই দিবসটির এক কানাকড়ি মূল্য নেই। মূল্য থাকলে এই দিবসটিকে জাতীয় ছুটির তালিকা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হতো না।
দিবসটিকে দলীয় রাজনীতির বিবেচনা থেকে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যে দিবস স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ়করণের প্রতীকস্বরূপ জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সৈনিক-জনতার ঐক্য ও সংহতির পরিচয় বহন করে, সেই দিবসের প্রতি তাচ্ছিল্যের এই মনোভাব সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কুশীলবদের এক বিশেষ মানসিকতারই প্রতিফলন ঘটায়। তারা কি তাহলে বিশেষ একটি রাজনৈতিক মহলের প্রীতিধন্য হতে চেয়েছেন? বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ কি তাদের কাছে মূল্যহীন? তারা কি মনে করেন না, এ দেশের স্বাধীন অস্তিত্ব নিশ্চিত করার জন্য জনগণ ও সামরিক বাহিনীর ঐক্যচেতনা শাণিত করার প্রয়োজন আছে? এসব প্রশ্নের জবাবে শুধু একটি কথাই বলা যায়, সেটা হলো, এদের দেশপ্রেমের মধ্যে কোথাও কোনো দুর্বলতা আছে।
১৯৭৫-এর ৭ নভেম্বর কী ঘটেছিল? এর আগে ১৫ আগস্ট একটি রক্তাক্ত অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে একদলীয় স্বৈরাচারী সরকারের। এদিনের রক্তপাতের ঘটনা অত্যন্ত মর্মন্তুদ ও নির্মম; কিন্তু ইতিহাস তো ক্ষমাহীন। যে দেশের মানুষ রক্তের বন্যায় ’৭০-এর নির্বাচনের গণতান্ত্রিক রায়কে বানচাল করে দেয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ করে উপমহাদেশের ইতিহাসে অনন্যসাধারণ ত্যাগের নজির স্থাপন করেছে, তাদের পক্ষে কোনোক্রমেই গণতন্ত্র হত্যার মতো ঘটনা মেনে নেয়া সহজ ছিল না। ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকারীরা জনগণের এই মনোভাবের মধ্যেই তাদের সাফল্যের সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছিল। সেই সময়কার শাসনব্যবস্থা মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন ঘটিয়েছিল তার পরিচয় পাওয়া যায় তাজউদ্দীন আহমদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন মঈদুল হাসানের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি লেখা থেকে। মরহুম তাজউদ্দীন আহমদের শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত মঈদুল হাসান জানতে পারার পর তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে তার যে কথা হয়, তার একটি অংশ এইরূপ : ‘জিজ্ঞেস করলাম, পদত্যাগের পর আপনার জীবনের নিরাপত্তা কতখানি? লান হাসলেন, বললেন-না, বেশি নয়। তবে মনে হয়, আমার কথাবার্তায় বিরক্ত হয়ে তিনি যদি আমাকে বরখাস্ত করেন আর আমিও যদি কিছুকাল কিছু না করি, কেউ হয়তো আমাকে প্রাণে মারবে না।’ এতো ছিল স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম সাড়ে ৩ বছরের অবস্থা! যেখানে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী মরহুম তাজউদ্দীন আহমদও জীবনের নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না; সিরাজ শিকদার বা অন্যদের কথা কী বলব!
১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পাল্টে দিতে ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে। কয়েক দিনের জন্য বাংলাদেশ সরকার শূন্য অবস্থায় পড়ে যায়। জনগণ নিমজ্জিত হয় চরম হতাশা ও আতঙ্কে। তারা ভাবতে শুরু করে, দুর্ভিক্ষের দিনগুলো আবার বুঝি ফিরে আসছে। ফিরে আসছে একদলীয় শাসনের দুঃসময়। ফিরে আসছে রুশ-ভারত অক্ষশক্তির তাঁবেদারির যুগ। ফিরে আসছে সংবাদপত্রের শৃঙ্খলিত হওয়ার দিনগুলো। জনগণ ছিল কিংকর্তব্যবিমূঢ়। তাদের পরম আস্থার উৎস সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান অভ্যুত্থানকারীদের দ্বারা বন্দি। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে এই মানুষটি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে হতবিহ্বল জাতির প্রাণে প্রতিরোধের শিখা প্রজ্বলিত করেছিলেন। সেই মানুষটিকে যারা বন্দি কিংবা হত্যা করতে পারে, তারা আর যাই হোক, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বের বন্ধু হতে পারে না। এমনি এক শঙ্কা ও নৈরাশ্যের দুর্যোগে ৬ নভেম্বর মধ্যরাতের পর বিপ্লবী সৈনিকদের কামানের গোলার গর্জন কুচক্রীদের সব চক্রান্ত ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কুচক্রীরা পালানোর পথ পায়নি। সুবেহ সাদেকের সূর্যালোক উদ্ভাসিত হলে ঢাকায় রাজপথে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। ট্রাকে ট্রাকে সৈনিকরা আকাশের দিকে গুলিবর্ষণ করে তাদের বিজয়ের কথা জানান দিল। সৈনিক ও জনগণ অভূতপূর্ব আনন্দ মিছিলে যোগ দিল। সেনা ট্যাঙ্কে ফুলের মালা পরিয়ে জনগণ সিপাহী বিপ্লবকে অভিনন্দিত করল। রেডিওতে আবার জিয়ার কণ্ঠস্বর শোনা গেল, ‘আমি জিয়া বলছি।’ জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। বুকের ওপর থেকে জগদ্দল পাথর সরে গেল।
’৭৫-এর ৭ নভেম্বর প্রমাণ করেছে সামরিক বাহিনী ও জনগণের ঐক্য অটুট থাকলে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হরণ করা সম্ভব নয়। আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পর্যায়ে ঠেলে দিতে বিশেষ বিশেষ মহল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের অন্যতম একটি কৌশল হলো, সামরিক বাহিনী ও জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে তাদের ঘৃণ্য লক্ষ্য হাসিল করা। বাংলাদেশের সচেতন জনগণ তাদের এই অভিসন্ধি কখনোই সফল হতে দেবে না। ৭ নভেম্বরের চেতনা সব ধরনের জাতিঘাতী এবং রাষ্ট্রঘাতী অপকৌশলের বিরুদ্ধে এক শাণিত হাতিয়ার।
লেখক: অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অধ্যাপক, উন্নয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।