আইনের উন্মুক্ত পাঠশালা

আইনের উন্মুক্ত পাঠশালা

Share

আইনের উন্মুক্ত পাঠশালা
আইন চর্চার মুক্ত আকাশ আইন চর্চার মুক্ত আকাশ

দেওয়ানি আদালতের গঠন ও আর্থিক এখতিয়ার » update 2026 31/03/2026

দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা-৩ অনুসারে ৫ ধরনের দেওয়ানি আদালত থাকবে, যথা-
(ক) জেলা জজ আদালত (the Court of the District Judge),
(খ) অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত (the Court of the Additional District Judge),
(গ) যুগ্ম-জেলা জজ আদালত (the Court of the Joint District Judge),
(ঘ) জ্যেষ্ঠ দেওয়ানি জজ আদালত (the Court of the Senior Civil Judge),
(ঙ) দেওয়ানি জজ আদালত (the Court of the Civil Judge)।

এসব আদালতের বিচারকের সংখ্যা সরকার পরিবর্তন করতে পারে। অর্থাৎ, দেওয়ানি আদালতসমূহের বিচারকের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। (ধারা-৪, দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭)

দেওয়ানি আদালতের গঠন ও আর্থিক এখতিয়ার » update 2026 দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ নম্বর ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, “যে মোকদ্দমায় সম্পত্তির অধিকার অথবা একটি পদের অধিকার ....

21/02/2026

মানসিক অক্ষম ব্যক্তি তাকে বলা হবে—

◉ বিচারক্রমে আদালত যাকে মানসিক অক্ষম বলে সাব্যস্ত করেছে; এবং

◉ বিচারক্রমে মানসিক অক্ষম সাব্যস্ত না করা হলেও, আদালতের অনুসন্ধানে যখন দেখা যায় যে মোকদ্দমাকারী ব্যক্তি বা যার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করা হয়েছে, তিনি মানসিক অক্ষমতা বা দুর্বলতার কারণে নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে অক্ষম।

পড়ুন কমেন্ট থেকে।

20/02/2026

অনেকেই নিঃস্ব ও দেউলিয়া শব্দ দুটি প্রতিশব্দ মনে করে ভুল করেন। প্রকৃতপক্ষে, নিঃস্ব ব্যক্তি ও দেউলিয়া ব্যক্তি একই নয়। নিঃস্ব ব্যক্তির ধারণা দেওয়ানি কার্যবিধির সঙ্গে সম্পর্কিত। উক্ত আইনের আদেশ-৩৩-এ নিঃস্ব ব্যক্তি কর্তৃক মোকদ্দমার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেউলিয়া ব্যক্তির জন্য আলাদা আইন দেউলিয়া বিষয়ক আইন, ১৯৯৭ প্রচলিত আছে। দেউলিয়া ব্যক্তির ধারণা দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয়। তবে কেউ কেউ নিঃস্ব ব্যক্তিকে ভুলবশত দেউলিয়া ভাবেন বিধায় বিষয়টি এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে।

পড়ুন কমেন্ট থেকে...

10/02/2026

গণভোট ২০২৬: কেন আমি “না”–এর পক্ষে ভোট দেব

গণভোট কোনো খেলনা নয়, কোনো আবেগী স্লোগানও নয়। গণভোট মানে রাষ্ট্রের কাঠামো নিয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত। তাই প্রশ্নটা হওয়া উচিত—এই গণভোট কার স্বার্থে, কোন প্রেক্ষাপটে, এবং কিসের ফল হিসেবে আনা হচ্ছে।

২০২৬ সালের প্রস্তাবিত গণভোটে আমি স্পষ্টভাবে “না”–এর পক্ষে ভোট দেব। কারণ এই গণভোট জনগণের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নয়; বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার একটি শর্টকাট পথ।

প্রথমত, সংসদীয় গণতন্ত্রকে পাশ কাটানোর চেষ্টা।
বাংলাদেশ একটি সংসদীয় গণতন্ত্র। সংবিধান অনুযায়ী জনগণের ম্যান্ডেট সংসদের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। যখন নির্বাচিত সংসদ বিদ্যমান, তখন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গণভোটের নামে সংসদকে বাইপাস করা আসলে জনপ্রতিনিধিত্বের অবমূল্যায়ন। এটি দীর্ঘমেয়াদে সংসদকে দুর্বল করে, শক্তিশালী করে অনির্বাচিত ও অদৃশ্য ক্ষমতাকে।

দ্বিতীয়ত, গণভোট সহজে ম্যানিপুলেট করা যায়।
জটিল রাষ্ট্রীয় প্রশ্নকে “হ্যাঁ/না”–এর বাইনারিতে নামিয়ে আনা হয়। জনগণ সিদ্ধান্ত নেয় তথ্যের গভীর বিশ্লেষণ নয়, বরং আবেগ, গুজব ও ভয়ের ওপর ভিত্তি করে। ইতিহাস বলে—গণভোট সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে পপুলিস্ট ও দায়িত্বহীন শক্তির হাতে। গণতন্ত্র শক্ত হয় আলোচনায়, সংসদীয় বিতর্কে; গণভোটে নয়।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশের বাস্তবতায় গণভোট মানে অস্থিতিশীলতা।
আমরা এখনো প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রকে স্থায়ী ভিত্তিতে দাঁড় করানোর লড়াইয়ে আছি। এই পর্যায়ে গণভোট মানে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক চাপ এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি। উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ধারাবাহিকতা দরকার—অ্যাডভেঞ্চার নয়।

চতুর্থত, আওয়ামী লীগ ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা।
আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবে সংসদীয় গণতন্ত্র, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক। এই রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিষ্ঠান শক্ত করতে হবে, শর্টকাট নয়। যে রাজনীতি গণভোটকে হাতিয়ার বানিয়ে সংসদকে দুর্বল করে, তা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্র নয়—ক্ষমতার খেলা।

পঞ্চমত, জনগণের ক্ষমতা গণভোটে নয়, জবাবদিহিতে।
আসল গণতন্ত্র হলো—নির্বাচন, সংসদীয় বিতর্ক, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, মুক্ত গণমাধ্যম এবং সাংবিধানিক জবাবদিহি। গণভোট এই কাঠামোর বিকল্প নয়। বরং এটি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার একটি পথ।

আমি “না” ভোট দেব, কারণ আমি চাই শক্ত সংসদ।
আমি “না” ভোট দেব, কারণ আমি চাই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা।
আমি “না” ভোট দেব, কারণ আমি চাই রাষ্ট্র চলুক প্রতিষ্ঠান দিয়ে, আবেগ দিয়ে নয়।

গণভোট ২০২৬—না।
গণতন্ত্র, সংবিধান ও স্থিতিশীলতার পক্ষে—না।

— শেয়ার করলে যুক্তি নিয়ে শেয়ার করুন, স্লোগান নয়।

10/02/2026

Open Society এবং Open Government Partnership (OGP)—এই দুই ধারণা একে অন্যের কাছাকাছি হলেও প্রকৃতপক্ষে তারা ভিন্ন স্তরে কাজ করে। একটিকে বলা যায় সমাজদর্শন, আর অন্যটি রাষ্ট্র পরিচালনার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।
Open Society মূলত একটি দার্শনিক ধারণা। কার্ল পপার এই ধারণা সামনে আনেন এমন এক সমাজের কথা বলতে গিয়ে, যেখানে ব্যক্তি স্বাধীন, চিন্তা ও মতপ্রকাশ মুক্ত, ক্ষমতা প্রশ্নাতীত নয়, বরং সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত। Open Society–এর কেন্দ্রে আছে pluralism, critical thinking এবং power decentralization। এখানে রাষ্ট্র শুধু একটি অংশ; নাগরিক, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর—সব মিলিয়েই সমাজ। ফলে Open Society কোনো নির্দিষ্ট আইন, চুক্তি বা সদস্যপদভিত্তিক কাঠামো নয়; এটি একটি আদর্শ, যার বাস্তবায়ন নির্ভর করে সমাজের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নাগরিক চর্চার ওপর।
এর বিপরীতে Open Government Partnership (OGP) একটি স্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ। ২০১১ সালে কিছু রাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে এটি গঠিত হয়, যার লক্ষ্য হলো সরকারকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিকবান্ধব করা। OGP কোনো দর্শন নয়; এটি একটি working mechanism। এখানে রাষ্ট্র স্বেচ্ছায় সদস্য হয়, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য Action Plan নেয়, যেখানে তথ্যপ্রকাশ, দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা, নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার থাকে। এই অঙ্গীকারগুলো পরিমাপযোগ্য, মূল্যায়নযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় পড়ে।
এই দুইয়ের পার্থক্য বোঝার একটি সহজ উপায় হলো—Open Society প্রশ্ন তোলে, আর OGP উত্তর দেওয়ার কাঠামো তৈরি করে। Open Society ক্ষমতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করতে শেখায়—রাষ্ট্র কেন সিদ্ধান্ত নেবে, কার স্বার্থে নেবে, এবং নাগরিক কীভাবে তা চ্যালেঞ্জ করবে। OGP সেই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রকে বলে দেয়—তুমি কীভাবে তথ্য দেবে, কীভাবে নাগরিককে যুক্ত করবে, কীভাবে নিজের কাজের ব্যাখ্যা দেবে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো পরিসরের। Open Society রাষ্ট্রের বাইরেও বিস্তৃত—গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শিক্ষাব্যবস্থার মুক্ত চিন্তা, সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ—সবই এর অংশ। কিন্তু OGP রাষ্ট্রকেন্দ্রিক; এখানে মূল অভিনেতা সরকার, আর নাগরিক সমাজ সহযোগী বা পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত থাকে।
সংক্ষেপে বলা যায়, Open Society একটি মানসিক ও সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি, আর Open Government Partnership সেই প্রস্তুতির একটি প্রশাসনিক প্রয়োগমাত্র। Open Society ছাড়া OGP কেবল আনুষ্ঠানিকতা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে; আর OGP ছাড়া Open Society কেবল আদর্শ হিসেবেই থেকে যেতে পারে।

Open Society ও Open Government Partnership (OGP)—এই দুই ধারণার পার্থক্য সবচেয়ে স্পষ্ট হয় তখনই, যখন আমরা inclusive society, LGBTQ, ধর্ম, শিক্ষা ব্যবস্থা—এই সংবেদনশীল কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রগুলোর আলোকে তাদের অবস্থান দেখি। কারণ এখানে আদর্শ আর প্রশাসনিক কাঠামোর ফারাকটা নগ্নভাবে ধরা পড়ে।

১. Inclusive Society (অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ)
Open Society–এর মৌলিক শর্তই হলো inclusiveness। এখানে অন্তর্ভুক্তি কোনো “নীতি” নয়, বরং একটি নৈতিক পূর্বধারণা। জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, ভাষা, যৌন পরিচয়—কোনোটাই নাগরিকত্বের শর্ত হতে পারে না। সংখ্যালঘু মত বা জীবনধারা সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুকম্পায় টিকে থাকবে—এই ধারণাই Open Society অস্বীকার করে। বরং সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষা করা সংখ্যাগরিষ্ঠের দায়িত্ব।
OGP–এর ক্ষেত্রে inclusiveness আসে প্রশাসনিক ভাষায়। সরকার তথ্য উন্মুক্ত করবে, নীতিনির্ধারণে “stakeholders” যুক্ত করবে, marginalized groups–এর জন্য participatory mechanism তৈরি করবে—এটাই OGP–র দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু এখানে অন্তর্ভুক্তি সরকারের সদিচ্ছা ও কর্মপরিকল্পনার পরিধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
👉 অর্থাৎ, Open Society বলে “তুমি অন্তর্ভুক্ত, কারণ তুমি মানুষ”;
OGP বলে “আমরা অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রোগ্রাম নেব”।

২. LGBTQ প্রসঙ্গ
এই জায়গায় দুই ধারণার ফারাক আরও তীক্ষ্ণ।
Open Society–তে LGBTQ অধিকার একটি স্বাভাবিক নাগরিক অধিকার। যৌন পরিচয় রাষ্ট্র বা সমাজের অনুমতির বিষয় নয়। সমাজের নৈতিকতা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়; বরং নৈতিকতাও সমালোচনার অধীন। ফলে Open Society–তে LGBTQ ইস্যুতে আইনি স্বীকৃতি, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—সবই যৌক্তিক দাবি হিসেবে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে OGP নিজে LGBTQ অধিকার ঘোষণা করে না। এটি মানবাধিকার সনদের মতো নর্মেটিভ দলিল নয়। কোনো রাষ্ট্র যদি তার Action Plan–এ LGBTQ–সম্পর্কিত transparency, anti-discrimination policy বা service access অন্তর্ভুক্ত করে—তবেই বিষয়টি আসে। না করলে OGP নিজে চাপিয়ে দেয় না।
👉 তাই বলা যায়, Open Society–তে LGBTQ principle;
OGP–তে LGBTQ policy option।

৩. Religious Society ও ধর্মের অবস্থান
Open Society ধর্মবিরোধী নয়, কিন্তু ধর্ম–নিয়ন্ত্রিত সমাজের বিরোধী। ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাস হিসেবে সম্মানিত, কিন্তু রাষ্ট্রনীতি বা সামাজিক নৈতিকতার একমাত্র উৎস হতে পারে না। ধর্মীয় বিশ্বাস সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়—এটাই Open Society–র সবচেয়ে বিতর্কিত কিন্তু মৌলিক অবস্থান।
এখানে ধর্মীয় সমাজ টিকে থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় আধিপত্য নয়। ধর্ম পালন অধিকার, ধর্ম চাপিয়ে দেওয়া নয়।
OGP এই জায়গায় অনেক বেশি সতর্ক ও নীরব। এটি ধর্মনিরপেক্ষতা বা ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কোনো দর্শন দেয় না। রাষ্ট্র ধর্মভিত্তিক হোক বা ধর্মনিরপেক্ষ—OGP কেবল দেখে সরকার কতটা স্বচ্ছ, তথ্যপ্রবাহ কেমন, নাগরিক অংশগ্রহণ আছে কি না।
👉 ফলে ধর্মীয় রাষ্ট্রও OGP–র সদস্য হতে পারে,
কিন্তু কঠোর ধর্মীয় সমাজ Open Society–র সঙ্গে মৌলিকভাবে সংঘর্ষে যায়।

৪. শিক্ষা ব্যবস্থা
Open Society–তে শিক্ষা মানে প্রশ্ন করতে শেখানো। মুখস্থ নয়, আনুগত্য নয়—বরং critical thinking। পাঠ্যবই, ইতিহাস, ধর্ম, রাষ্ট্র—সবকিছুই প্রশ্নের আওতায় আসতে পারে। শিক্ষক এখানে কর্তৃত্ব নয়, facilitator।
OGP–তে শিক্ষা আসে governance–এর অংশ হিসেবে। শিক্ষা বাজেট, নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ডিজিটাল তথ্যপ্রবাহ—এসব বিষয় গুরুত্ব পায়। কিন্তু পাঠ্যবস্তুর আদর্শিক চরিত্র OGP নির্ধারণ করে না।
👉 তাই Open Society বলে “কি শেখানো হবে এবং কেন”;
OGP বলে “শিক্ষা ব্যবস্থাপনা কতটা স্বচ্ছ”।

৫. মতপ্রকাশ, বিরোধিতা ও dissent
Open Society–র প্রাণই হলো dissent। সরকার, ধর্ম, সংস্কৃতি—সবকিছুর বিরোধিতা বৈধ ও প্রয়োজনীয়। বিরোধী কণ্ঠ সমাজের শত্রু নয়, বরং সমাজের স্বাস্থ্যচিহ্ন।
OGP dissent–কে সরাসরি “অধিকার” হিসেবে নয়, বরং নাগরিক অংশগ্রহণ ও feedback mechanism হিসেবে দেখে। অর্থাৎ সমালোচনা থাকবে, কিন্তু তা কাঠামোর ভেতরে।

সংক্ষেপে বললে—
Open Society একটি মানসিকতা ও মূল্যবোধের কাঠামো
OGP একটি রাষ্ট্র পরিচালনার টেকনিক্যাল প্ল্যাটফর্ম
Open Society ছাড়া OGP কাগুজে স্বচ্ছতায় সীমাবদ্ধ থাকে।
OGP ছাড়া Open Society অনেক সময় আদর্শবাদী স্বপ্ন হয়ে যায়।

01/11/2019

প্রসঙ্গ: এলএলবি শেষ বর্ষে ভর্তির আন্দোলন
বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও এলএলবি শিক্ষার্থীদের প্রতি উদার্ত আহ্বান, এলএলবি প্রিলি পাশ করা হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ান।

গত ২৭ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিকভাবে এলএলবি শেষ পর্বে ভর্তির শর্ত হিসেবে প্রিলিতে ৪০% নম্বরের শর্ত জুড়ে দেয়। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি:-

১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত রুলস এন্ড রেগুলেশন্স অনুসারে এলএলবি প্রথম বর্ষে ৩৬% নম্বর পেলেই শেষবর্ষে ভর্তি করানোর নিয়ম।

২. নিয়ম অনুযায়ী প্রথম বর্ষের প্রাপ্ত নাম্বার এলএলবি সার্টিফিকেট প্রদানে কোনো কাজেই আসে না। এমনকি প্রথম বর্ষে কেউ ফার্স্ট ক্লাস পেলেও শেষবর্ষে এই রেজাল্ট কোনো কাজেই লাগে না। প্রথম বর্ষে প্রাপ্ত নম্বর সম্পর্কে কোনো তথ্যই এলএলবি সার্টিফিকেট কিংবা শেষ বর্ষের মার্কশীটের সঙ্গে উল্লেখ করা হয় না। ফলে প্রথম বর্ষের পরীক্ষার ক্ষেত্রে অধিকাংশ শিক্ষার্থী অধিক নাম্বারের উপর গুরুত্ব দেয় না।

৩. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি পরীক্ষায় সাধারণত নম্বর কম দেয়া হয়। এ পর্যন্ত গড়ে কিছু কিছু বিষয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ থেকে ৫০ নম্বর পাওয়া গেলেও অধিকাংশ বিষয়েই সাধারণত ৪০% কম নম্বর দেয়া হয়। ফলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ৪০%-এর কম নম্বর পায়।

৪. কেউ কেউ দাবি করতে পারেন, খারাপ লিখলে নাম্বার দিবে কি করে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা এলএলবি করতে আসে তাদের ৯০ ভাগই অনার্স, মাস্টার্স কমপ্লিট করে আসে (কিছু শিক্ষার্থী সাধারণ ডিগ্রি পাশ করেও ভর্তি হয়)। এদের অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় বড় পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া স্টুডেন্ট। যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্স্ট ক্লাস পেতে পারে তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সেকেন্ড ক্লাস পেতেও হিমশিম খায়। এটা কি যৌক্তিক? তাহলে আমরা কি প্রশ্ন রাখতে পারি না যে, কম নম্বর প্রাপ্তির ঘটনা শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার অভাবে হয় নাকি পরীক্ষকগণ কম নম্বর দেয় বলে হয়?

৫. এ বছর শেষ বর্ষের ফলাফল প্রকাশের পর একজন প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, একজন পরীক্ষক এক ছাত্রকে ৬০-এর বেশি নম্বর দেয়ায় তিনি ওই পরীক্ষককে বকা দিয়েছেন। শেষে ওটা ৫০-৫২ নম্বরে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।

এমতাবস্থায়, আমরা মনে করি, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই, হঠাৎ করে ৪০% নম্বরের শর্ত জুড়ে এলএলবি শেষ বর্ষে ভর্তির ঘোষণা হঠকারী, অন্যায় ও অনৈতিক। এই হঠকারী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এ সিদ্ধান্ত বাতিলের আন্দোলন গড়ে তোলার উদার্ত আহ্বান জানাই।

আহ্বানে:
মিফতাহুর রহামন তায়েফ
সভাপতি
বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Dhaka
1000