29/09/2022
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ. بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ.
اِنَّ الْحَمدَ للهِ نَحْمَدُهُ وَ نَسْتَعِيْنُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَ مَنْ يُّضْلِلْ فَلَا هَادِىَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنْ لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَ رَسُوْلُهُ💝.
ওহে মুসলিম (!) নিজেকে মুসলিম দাবী কর, তাহলে দেখে নাও আসলেই তুমি মুসলিম কীনা ↘️
পবিত্র আল কুর'আনে মহান রব্বুল আলামীন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেনঃ
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِهٖ وَ لَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ﴿۱۰۲﴾
হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।
O you who have believed, fear Allah as He should be feared and do not die except as Muslims [in submission to Him].
[সূরাঃ আলে-ইমরান | Al-i-Imran |
আয়াত ১০২। سورة آل عمران -]
তাফসীর/ব্যাখ্যাঃ
এর অর্থ হল, ইসলামের যাবতীয় বিধান মেনে চলা, তার আদেশ-নিষেধ
সম্পূর্ণভাবে পালন করা এবং যত নিষিদ্ধ বস্তু আছে, তার ধারে-কাছেও না যাওয়া।
(তাফসীরে আহসানুল বায়ান)
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের হক্ক আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাকওয়ার ঐ স্তর অর্জন কর, যা তাকওয়ার হক। কিন্তু তাকওয়ার হক বা যথার্থ তাকওয়া কি? আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, রবী, কাতাদাহ ও হাসান রাহিমাহুমুল্লাহ বলেন, তাকওয়ার হক হল, প্রত্যেক কাজে আল্লাহর আনুগত্য করা, আনুগত্যের বিপরীতে কোন কাজ না করা, আল্লাহকে সর্বদা স্মরণে রাখা- কখনো বিস্মৃত না হওয়া এবং সর্বদা তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা- অকৃতজ্ঞ না হওয়া। [ইবন কাসীর]
এতে বুঝা যায় যে, পূর্ণ ইসলামই প্রকৃতপক্ষে তাকওয়া। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণ আনুগত্য করা এবং তার অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার নামই হচ্ছে তাকওয়া অবলম্বন। আয়াতের শেষে মুসলিম না হয়ে যেন কারও মৃত্যু না হয় সেটার উপর জোর দেয়া হয়েছে।
সুতরাং জন্মসূত্রে মুসলিম নয়, মুসলিম/মুসলমান হতে হয়। আর মুসলিম হতে হলে প্রধান শর্তঃ মহান রব্বুল আলামীন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্নসমর্পণ করা অর্থাৎ জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সমস্ত বিধিনিষেধ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা-
একমাত্র মহান রব্বুল আলামীন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে খুশি করার জন্য জীবনের সমস্ত কাজ সম্পাদন করা, মানুষকে ভয় করে বা মানুষকে খুশি করার জন্য নয়-কোন স্বজনপ্রীতি নয়, মহান রব্বুল আলামীন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার বিধানকে উপেক্ষা করে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া বা অন্যায়ের সাথে সমঝোতা নয়। কাল কী হবে, কী করলে কী হবে তা একমাত্র মহান রব্বুল আলামীন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলাই ভাল জানেন-এ ব্যাপারে নিজে মনে করে নিয়ে, মানুষকে ভয় করে বা মানুষকে খুশি করার জন্য মহান রব্বুল আলামীন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার বিধানকে উপেক্ষা করা স্পষ্টতঃই শিরকী কাজ।
[ نَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ ذَالِكْ- أمين]
_______________________________________________________
↘️ মূল প্রসঙ্গে আসিঃ
অন্যায়ের প্রতিবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ কাজ।
পবিত্র কোরআনেও বলা হয়েছে,
کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ تَنۡهَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ ؕ وَ لَوۡ اٰمَنَ اَهۡلُ الۡکِتٰبِ لَکَانَ خَیۡرًا لَّهُمۡ ؕ مِنۡهُمُ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ وَ اَکۡثَرُهُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ﴿۱۱۰﴾
‘তোমাদেরকে (মানুষকে) সৃষ্টিই করা
হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য, মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করবে।’ (সূরা আল ইমরান, আয়াত : ১১০)
🇸🇦 সর্বোত্তম জিহাদঃ সাহাবী আবূ উমামা বাহেলি রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْمِي الْجَمْرَةَ الْأُولَى فَأَعْرَضَ عَنْهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُ عِنْدَ الْجَمْرَةِ الْوُسْطَى فَأَعْرَضَ عَنْهُ، فَلَمَّا رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةَ، وَوَضَعَ رِجْلَهُ فِي الْغَرْزِ قَالَ: «أَيْنَ السَّائِلُ؟» قَالَ: أنَا ذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «أَفْضَلُ الْجِهَادِ مَنْ قَالَ كَلِمَةَ حَقٍّ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ»
(বিদায় হাজ্জ্বের সময়) প্রথম জামারায় পাথর নিক্ষেপের সময় এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন জিহাদ সর্বোত্তম? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এড়িয়ে গেলেন। অতপর দ্বিতীয় জামারায় গিয়েও তিনি তাঁর উদ্দেশে একই প্রশ্ন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও একইভাবে এড়িয়ে গেলেন। অবশেষে তৃতীয় জামারায় বা জামারা ‘আকাবায় গিয়ে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর নিক্ষেপ করলেন এবং উটের রেকাবীতে পা রাখলেন, তিনি জানতে চাইলেন, ‘প্রশ্নকারী ওই ব্যক্তি কোথায়?’ ওই ব্যক্তি বললেন, এই আমি এখানে হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, ‘সর্বোত্তম জিহাদ ওই ব্যক্তি করে যে অত্যাচারীর (অন্যায়ের বিরুদ্ধে) সামনে সত্য কথা বলে।’ 💝💝💝[মুসনাদ আহমদ : ১৮৮৩০; ইবন মাজাহ, ৪০১২; নাসাঈ : ৪২০৯। অনুরূপ বর্ণনা আরও রয়েছে, তিরমিযী, ২১৭৪, শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]
আমরা সাধারণত সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শত অন্যায়-অবিচার দেখেও কথা বলি না, অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানো দূরের কথা যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানান তাদের অন্তত সমর্থন পর্যন্ত করি না। অথচ অন্যায় করা আর অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করা একই অপরাধ। সত্য উপলব্ধি করেও তা উচ্চারণ না করা এবং মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেয়া থেকে সতর্ক করে আল্লাহ বলেন,
﴿ وَلَا تَلۡبِسُواْ ٱلۡحَقَّ بِٱلۡبَٰطِلِ وَتَكۡتُمُواْ ٱلۡحَقَّ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ٤٢ ﴾ [البقرة: ٤٢]
“আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন করো না।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪২)
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ» .
‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অন্যায় হতে দেখবে সে যেন তা হাত দিয়ে বদলে দিতে চেষ্টা করে। যদি তা না পারে তাহলে তার ভাষা দিয়ে, অন্যথায় অন্তর দিয়ে বদলে দিতে চেষ্টা করবে। আর এটি দুর্বলতম ঈমানের স্তর।’ [মুসলিম : ৭৪]
সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করা-বাধা দেয়া-প্রতিবাদ করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা শৈথিল্য প্রদর্শন আল্লাহর গজব তরান্বিত করে। ডেকে আনে বহুবিধ আসমানী বিপদ। পবিত্র কুরআনে মুমিনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে,
﴿ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتُ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِيَآءُ بَعۡضٖۚ يَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَيُطِيعُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓۚ أُوْلَٰٓئِكَ سَيَرۡحَمُهُمُ ٱللَّهُۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٞ ٧١ ﴾ [التوبة: ٧١]
‘আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা ভাল কাজের আদেশ দেয় আর অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, আর তারা সালাত কায়িম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। এদেরকে আল্লাহ শীঘ্রই দয়া করবেন, নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা আত-তাওবা, আয়াত : ৭১)
কোনো জাতি যখন অন্যায়ের প্রতিবাদ ছেড়ে দেয়। ব্যস্ত থাকে কেবল নিজেকে নিয়ে। তখন সে জাতির ওপর বিপদ অত্যাসন্ন হয়ে পড়ে। পৃথিবীর ইতিহাসে বহু জাতির পতন ও চূড়ান্ত ধ্বংস ডেকে এনেছে এই কর্তব্য কাজে অবহেলা। আল্লাহ বনী ইসরাইল সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন,
﴿ كَانُواْ لَا يَتَنَاهَوۡنَ عَن مُّنكَرٖ فَعَلُوهُۚ لَبِئۡسَ مَا كَانُواْ يَفۡعَلُونَ ٧٩ ﴾ [المائدة: ٧٩]
‘তারা যেসব গর্হিত কাজ করত তা হতে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ৭৯)
অতএব আমরা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অন্যায় দেখে মূক ও বধিরের মতো বসে থাকতে পারি না। আমাদের দায়িত্ব হবে সাধ্যমত অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। অন্যায় কাজে যথাসাধ্য বাধা প্রদান করা। সত্য উচ্চারণে অকুতোভয় এবং অকুণ্ঠ হওয়া। দশের সামনে সত্য তুলে ধরে মিথ্যার ভিত কাঁপিয়ে দেয়া। দৃপ্তপদে সত্য উচ্চারণে আমরা আরোহণ করতে পারি ঈমানের চূড়ায়। নির্মুল করতে পারি অসত্যের দাপট।
🤲 মহান রব্বুল আলামীন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের সত্যোচ্চারণে দৃপ্ত শপথে বলীয়ান করুন। মিথ্যার বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ ও রুখে দাঁড়াবার তাওফীক দিন। সকল সত্যবাদী ও সত্যোচ্চারণকারীদের সহায় হোন।
[أمين❤️]
[الله أعلم ❤️]
-------------------------------------------------------------------
বিঃদ্রঃ বর্তমান পারিবারিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেকের সাথে একেবারেই যেন মিলে যায় পবিত্র আল কুর'আনের এই আয়াতগুলো-হাদীসের বাণীগুলো মনে হয় যেন কেবলই নাযিল হয়েছে বা কেবলই রসূল (স) এর মুখ থেকে শুনলাম ❤️
মহান রব্বুল আলামীন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেন,
اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا سَوَآءٌ عَلَیۡهِمۡ ءَاَنۡذَرۡتَهُمۡ اَمۡ لَمۡ تُنۡذِرۡهُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۶﴾
নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস করছে তাদের জন্য উভয়ই সমান; তুমি তাদেরকে ভয় প্রদর্শন কর বা না কর, তারা বিশ্বাস (ঈমান) আনবে না (তদানুযায়ী কাজ করবে না)।
Indeed, those who disbelieve - it is all the same for them whether you warn them or do not warn them - they will not believe (nor work as said).
(পবিত্র আল কুর'আনঃসূরা বাকারাঃআয়াত ৬)
اِذَا رَاَیۡتَهُمۡ تُعۡجِبُکَ اَجۡسَامُهُمۡ ؕ وَ اِنۡ یَّقُوۡلُوۡا تَسۡمَعۡ لِقَوۡلِهِمۡ ؕ کَاَنَّهُمۡ خُشُبٌ مُّسَنَّدَۃٌ ؕ یَحۡسَبُوۡنَ
کُلَّ صَیۡحَۃٍ عَلَیۡهِمۡ ؕ هُمُ الۡعَدُوُّ فَاحۡذَرۡهُمۡ ؕ قٰتَلَهُمُ اللّٰهُ ۫ اَنّٰی یُؤۡفَکُوۡنَ ﴿۴﴾
আর যখন তুমি তাদের প্রতি তাকিয়ে দেখবে তখন তাদের শরীর তোমাকে মুগ্ধ করবে। আর যদি তারা কথা বলে তুমি তাদের কথা (আগ্রহ নিয়ে) শুনবে। তারা দেয়ালে ঠেস দেয়া কাঠের মতই। তারা মনে করে প্রতিটি আওয়াজই তাদের বিরুদ্ধে। এরাই শত্রু, অতএব এদের সম্পর্কে সতর্ক হও। আল্লাহ এদেরকে ধ্বংস করুন। তারা কিভাবে সত্য থেকে ফিরে যাচ্ছে।
And when you see them, their forms please you, and if they speak, you listen to their speech. [They are] as if they were pieces of
wood propped up - they think that every shout is against them. They are the enemy, so beware of them. May Allah destroy them; how are they deluded?
[সূরা আল মুনাফিক্বুনঃ আয়াত ৪]
তাফসীর/ব্যাখ্যাঃ
তুমি যখন তাদের দিকে তাকাও, তখন তাদের দেহাকৃতি তোমাকে মুগ্ধ করে[1] এবং তারা যখন কথা বলে, তখন তুমি সাগ্রহে তা শ্রবণ কর;[2] তারা যেন দেওয়ালে ঠেকানো কাঠের খুঁটি,[3] তারা যে কোন শোরগোলকে মনে করে তাদেরই বিরুদ্ধে।[4] তারাই শত্রু অতএব তাদের সম্পর্কে সতর্ক হও, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন! বিভ্রান্ত হয়ে তারা কোথায় চলেছে?
[1] অর্থাৎ, তাদের সৌন্দর্য, লাবণ্য, সজীবতার কারণে।
[2] অর্থাৎ, ভাষার বিশুদ্ধতা এবং বাকপটুতার কারণে।
[3] অর্থাৎ, তারা তাদের দেহের উচ্চতা, সৌন্দর্য ও শ্রীতে এবং বোধহীনতা ও কল্যাণ স্বল্পতায় ঐরূপ, যেরূপ দেওয়ালে ঠেকানো কাঠ। দর্শককে তা দেখতে ভাল লাগে, কিন্তু কারো কোন উপকারে আসে না। অথবা এটা ‘মুবতাদা মাহযুফ’ (ঊহ্য উদ্দেশ্য) এর বিধেয়পদ। অর্থ হল, এরা আল কুর'আন ও হাদীসের কথা এভাবে শুনে, যেমন প্রাচীরে ঠেকানো কাঠ। এরা না কোন কথা শোনে, না বোঝে। (ফাতহুল ক্বাদীর)
[4] অর্থাৎ, এরা এত ভীরু যে, কোন শোরগোল বা হট্টগোল শুনলেই মনে করে, তাদের উপর কোন বিপদ এসে পড়ছে। কিংবা এই ভেবে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে যে, হয়তো তাদের কুকীর্তি -ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেছে বা তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। যেমন, চোর ও অপরাধীদের মন অভ্যন্তরীণভাবে সব সময় ধুক্পুক্ করতে থাকে। ‘ [তাফসীরে আহসানুল বায়ান]
🤲 اْللّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ، وَقُدْرَتَكَ عَلَى اْلَخلْقِ، أَحْيِنِي إِذَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْراً لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي، اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْحَقِّ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَا. وَأَسْأَلُكَ
الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى. وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لاَ يَنْفَدُ، وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لاَ تَنْقَطِعُ. وَأَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْقَضَاءِ، وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ. وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ، مِنْ غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَلاَ فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، اَللَّهُمَّ زَيِّنَّا بِزِينَةِ الإِيمَانِ، وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِين. ❤️
سُبْحَانَ ٱللَّٰهِ❤️ سُبْحَانَ ٱللَّٰهِ وَبِحَمْدِهِ ❤️ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ ❤️
اِنَّمَاۤ اَشۡکُوۡا بَثِّیۡ وَ حُزۡنِیۡۤ اِلَی اللّٰهِ وَ اَعۡلَمُ مِنَ اللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ❤️
************************************************************