আমাদের জীবনের ধমনীগুলো কীভাবে বিষাক্ত হচ্ছে? শিল্প বর্জ্য, প্লাস্টিক এবং গন্ধ্য জলের কারণে বর্ধমান, যমুনা, গঙ্গা—এমনকি আমাদের স্থানীয় নদীগুলো মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। এতে জীবজগত নষ্ট হচ্ছে, পানি সংকট বাড়ছে। চলো, সচেতন হই—প্লাস্টিক কমাই, বর্জ্য নদীতে ফেলব না। একটু চেষ্টা করে নদীকে বাঁচাই, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য! 🌊💧 #নদীদূষণ_বন্ধ_করো
Bangshi River - বংশী নদী
Bangshi River (বংশী নদী) is an important river in central Bangladesh from the course o
Bangshi River (বংশী নদী) is an important river in central Bangladesh from the course of the old Brahmaputra.
19/08/2025
পরিবেশ অধিদপ্তর গত রোববার এক পরিপত্রে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ এই প্রথম নেওয়া হলো। এই প্রেক্ষাপটে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ কী, কেন কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা হয়, এই ঘোষণার পর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়—এসব বিষয় আলোচনায় এসেছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫-এর ক্ষমতাবলে সমগ্র সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিধি ৫ অনুযায়ী, কোনো এলাকার বায়ুমান নির্দিষ্ট মানমাত্রা অতিক্রম করে মারাত্মক দূষিত এলাকায় পরিণত হলে এলাকাটিকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা যাবে।
ডিগ্রেডেড এয়ারশেড কী
বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়মিতভাবে জাতীয় মান অতিক্রম করলে কোনো এলাকাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পর এলাকাটিতে বিশেষ পরিবেশ আইন ও বিধি প্রযোজ্য হয়। শিল্পকারখানা ও প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়।
জারি হওয়া পরিপত্রে বলা হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাভারের বায়ুর বার্ষিক মানমাত্রা জাতীয় বার্ষিক নির্ধারিত মানমাত্রার প্রায় তিন গুণ অতিক্রম করেছে। জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর এই মাত্রাতিরিক্ত দূষিত বায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা মারাত্মক বায়ুদূষণযুক্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পাঁচ মাস উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বায়ু প্রবাহিত হয়। ফলে সাভার উপজেলায় সৃষ্ট বায়ুদূষণ ঢাকা শহরে প্রবেশ করে। এটি ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা দেওয়া একটি সতর্কবার্তা। বায়ুদূষণের কারণে এলাকাটিতে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাভার এলাকায় বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এখন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বায়ুদূষণ পরিস্থিতি
বায়ুদূষণের একটি বড় উৎস ইটভাটা। ২০২৩ সালে বেসরকারি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের পেছনে ইটভাটা ২৮ শতাংশ দায়ী।
২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে মোট ৭ হাজার ৮৬টি ইটভাটা চালু আছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০৫ ইটভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের চার বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অবৈধ ইটভাটা বেড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজার অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করলেও সেগুলোর ৭৫ শতাংশই আবার চালু হয়ে গেছে। অবশ্য বেসরকারি পর্যবেক্ষণ বলছে, দেশের বেশির ভাগ ইটভাটা নিয়মবহির্ভূতভাবে চলছে। এসব ইটভাটার কারণে ঘটছে বায়ুদূষণ।
‘টেকসই ইট উৎপাদনে জাতীয় কৌশল’ শীর্ষক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ইট উৎপাদনে নিম্নমানের কয়লা ব্যবহার করা হয়। শুধু ঢাকার চারপাশে থাকা ইটভাটা থেকে বছরে প্রায় ৫৩ হাজার টন অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা-১০ (পিএম ১০) এবং ১৭ হাজার টন পিএম ২.৫ নির্গত হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সাভার উপজেলায় ১০৭টি ইটভাটা আছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি ইটভাটায় পরিবেশবান্ধব উপায়ে ইট তৈরি করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত বায়ুদূষণবিষয়ক এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়, দূষিত বায়ুতে থাকার কারণে বছরে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছয় বছর আট মাস কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৪৮ লাখ মানুষ সারা বছর দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত মানমাত্রা—প্রতি ঘনমিটারে অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা ৫ মাইক্রোগ্রামের চেয়ে বেশি।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের ‘বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০২৪’ অনুযায়ী, বায়ুদূষণে ২০২৪ সালে দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর নগর হিসেবে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দূষিত নগর ছিল ঢাকা।
সাভার কেন ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’
পরিবেশ অধিদপ্তরে তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সাভার উপজেলার বায়ুমান ৩৬৫ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দিন ছিল মানমাত্রা–বহির্ভূত ছিল।
সাভারকে কেন ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা হলো, জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মো. জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৩ সালে সাভার উপজেলায় ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১৬৪ দিনের বায়ু ছিল মানমাত্রা–বহির্ভূত। আর ঢাকার বায়ু মাত্রা–বহির্ভূত ছিল ১৫৬ দিন। পরের বছর ২০২৪ সালে সাভারে দূষিত বায়ুর দিন ছিল ১৪৯ দিন, ঢাকায় ১২৮ দিন।
জিয়াউল হক বলেন, ‘ঢাকা শহরের ছয়টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যে আমরা দেখেছি, ঢাকা আর সাভারের বায়ুদূষণ প্রায় সমান। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুম। এ সময় উত্তর থেকে দক্ষিণে বাতাস প্রবাহিত হয়। ঢাকা দক্ষিণে হওয়ায় সাভারের দূষণ ঢাকা পর্যন্ত চলে আসে। সে কারণে ঢাকার দূষণও বেড়ে যায়। এ কারণে সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে।’
কী কী পদক্ষেপ
বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এ বলা আছে, ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার বায়ুমান উন্নয়নের জন্য একটা কর্মপরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিতে হবে। এসব ব্যবস্থার ফলে বায়ুমানের উন্নতি হলে দুই বছর পর এই ঘোষণা প্রত্যাহার করা যাবে।
রোববারের পরিপত্র অনুযায়ী, ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষিত সাভারে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারী কিছু কার্যাবলি পরিচালনা বা সম্পাদন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ বিষয়গুলো হলো—আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সাভার উপজেলার অন্তর্গত সব ধরনের ইটভাটায় (টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া) ইট পোড়ানোসহ ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালনা। উন্মুক্ত অবস্থায় কঠিন বর্জ্য পোড়ানো। বায়ুদূষণ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে—এমন সব ধরনের নতুন শিল্পকারখানার অনুকূলে অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান। এই উদ্দেশ্যে প্রণীত কর্মপরিকল্পনায় উল্লিখিত অন্যান্য কার্যাবলি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, সাভারে নতুন করে বায়ুদূষণ করে—এমন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। সাভারে ১০৭টি ইটভাটা আছে। সবগুলোই পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে। শিল্পকারখানার দূষণ খুব বেশি নেই। উন্মুক্ত বর্জ্য পোড়ানো হয় এখানে। সেটাও বন্ধ করা হবে।
জিয়াউল হক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা একটা উপজেলা দিয়ে শুরু করলাম। ভবিষ্যতে এ রকম পদক্ষেপের আওতা বাড়বে।’
শুভ নববর্ষ
Compass, quadrant and sextant contrive
No farther tides ... High in the azure steeps
Monody shall not wake the mariner.
This fabulous shadow only the sea keeps.
23/10/2024
সাভারের আদীম জনগোষ্ঠী - SAVAR BAZAR কোন এলাকার মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বলতে গেলে সেই এলাকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পর্ব...
05/08/2024
নদী হলো প্রকৃতির এক মহাকাব্য, যার স্রোতে জীবন খুঁজে পায় নতুন পথ।
নদী হলো জীবনের প্রবাহ, যা সমস্ত অস্তিত্বকে সজীব করে তোলে।
ঈদ মোবারক ♥️
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা
আসুন নদীর প্রতি যত্নবান হই। সোচ্চার হয় নদী রক্ষায়। দখলদারদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করি।
04/12/2023
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার সব খাল এবং বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদী যত দ্রুত সম্ভব পুনরুদ্ধার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) তার কার্যালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর নাব্য রক্ষা ও দূষণ রোধে প্রণীত মহাপরিকল্পনার আলোকে জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা ও আশপাশের নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের জন্য সাতটি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো– গাজীপুর, গড়ানচটবাড়ি, সাভার, পূর্বাচল, কল্যাণপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচর। প্রধানমন্ত্রী এই সাতটি চিহ্নিত হটস্পটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই হটস্পট কৌশল বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন। বৈঠকে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া।
এর আগে সভায় সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা নদীদূষণ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে বলেন, দেশকে বাঁচাতে হলে নদী বাঁচাতে হবে। আমাদের বাংলাদেশের বেঁচে থাকাও এই নদীর ওপর নির্ভর করে।
বিগত বছরগুলোতে নদীদূষণ, দখল বন্ধ ও নাব্য পুনরুদ্ধারে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসার পর তারা সবসময় নদীগুলো রক্ষা ও নাব্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন।
অপরিকল্পিত নিম্ন উচ্চতার সেতু নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সেতুগুলো মানুষের জন্য উপকারী হলেও নির্মাণের সময় নৌযান চলাচলের বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি এবং সে কারণেই নৌচলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং এই সেতুগুলো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ভিত্তিক একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের আরেকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশ রক্ষায় নদী বাঁচাতে হবে
বাংলাদেশকে রক্ষা করতে চাইলে নদীগুলোকে বাঁচানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর তার সরকারের লক্ষ্য ছিল নদী রক্ষা, নাব্য বজায় রাখা এবং দূষণ থেকে রক্ষা করা। তার সরকারের প্রথম মেয়াদে নদী ড্রেজিং শুরু হয়েছিল এবং জমি পুনরুদ্ধারের জন্য পলিমাটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ড্রেজিং করতে হবে এবং নাব্য বজায় রাখতে হবে। নদীভাঙন রোধকল্পে আমাদের ড্রেজিং করতে হবে। একসময় নদী শাসনের নামে উর্বর ফসলি জমিতে বেড়িবাঁধ তৈরি করা স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। নদীর ধারে যেসব শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠে সেগুলোর বর্জ্য সাধারণত নদীতে যায়। স্যুয়ারেজ লাইনের সমস্ত বর্জ্যও নদীতে যায়, যার ফলে দূষণ বাড়ছে। আমরা যাই করি না কেন, প্রথমেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। দূষণের কারণে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে দুর্গন্ধ আসা খুবই বেদনাদায়ক।
রাজধানীর আশপাশের নদীগুলোকে বাঁচাতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কথাও বলেন শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, নদী শাসনের জন্য নদীর গভীরতার কথা বিবেচনায় রাখতে হবে এবং আমাদের অবশ্যই বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নদীর পাশাপাশি একটি বাফার জোন তৈরি করতে হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণের কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা
সরকার প্রধান পরিবেশ সংরক্ষণের কথা মাথায় রেখে যেকোনও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপরেও জোর দেন। তিনি বলেন, আমি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সবাইকে সব নগরীর জন্য পরিকল্পনা তৈরি করতে বলেছি। আমরা যে পরিকল্পনাই গ্রহণ করি না কেন সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানির প্রবাহ সঠিকভাবে বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে অতীতে দেশের উন্নয়ন কর্মসূচি পরিকল্পিতভাবে হয়নি। পাকিস্তান আমলে এটি ঘটেনি এবং এমনকি ১৯৭৫ সালের পর অবৈধ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারী যারা অস্ত্র নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল তারাও দেশের সামগ্রিক সমন্বিত ও পরিকল্পিত উন্নয়নে মনোযোগ দেয়নি। পরিবেশগত সমস্যাগুলো উপেক্ষিত হয়েছে এবং নদীগুলোও দখল করা হয়েছে। সূত্র: বাসস।
নদীকে জানুন
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the business
Address
Dhaka
1340
