04/03/2026
আপনি যা অনুভব করেন, শিশুও তাই অনুভব করে
আপনি হয়তো বলছেন - ভয় পেও না, সব ঠিক আছে - কিন্তু আপনার কণ্ঠ কাঁপছে, শ্বাস দ্রুত হয়ে যাচ্ছে। তাহলে কি শিশু শান্ত বোধ করবে?
গবেষণা বলছে, শিশু আপনার কথার চেয়ে বেশি শেখে আপনার শরীরের ভাষা, শ্বাসের গতি, কণ্ঠের টোন ও মুখের ভঙ্গি থেকে। কিন্তু শিশু কীভাবে এগুলো বোঝে? চলুন জনে নেই -
সিঙ্কিং: শরীর-মনের ছন্দ মিলে যাওয়া
অনেক সময় শিশু ও অভিভাবকের মধ্যে জৈবিক ছন্দ মিলে যেতে পারে, যেমন - হৃদস্পন্দন, কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) এমনকি মস্তিষ্কের কার্যকলাপও। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, যিনি শিশুর দেখাশোনা করেন – যিনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর মা - তার উপস্থিতি ও কণ্ঠ শিশুর স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড বলছে, ছোট শিশু একা একা স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; তারা প্রাপ্তবয়স্কের স্থিরতার ওপর নির্ভর করে।
এটি শিশুর টিকে থাকার কৌশল
বিবর্তনের দৃষ্টিতে, শিশুর স্নায়ুতন্ত্র এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে, সে নিরাপত্তার সংকেত খোঁজে বড়দের মধ্যে। বড়রা শান্ত হলে শিশুর শরীরও সেফ মোড-এ যায়। বড়রা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকলে, শিশু কারণ না বুঝেই সেই অস্থিরতা শোষণ করে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘস্থায়ী চাপের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে বলেছে, বারবার উচ্চচাপের পরিবেশে থাকলে শিশুর উদ্বেগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গা-ঘেষা না কি স্নায়ুতন্ত্রের সংকেত?
অনেক সময় শিশুর আঁকড়ে ধরা, খিটখিটে আচরণ বা হঠাৎ কান্না - এসবকে আমরা জেদ বা গা-ঘেষা আচরণ মনে করি। কিন্তু আসলে শিশুর বারবার উচ্চ মানসিক চাপের পরিবেশে থাকলে এই আচরণগুলো করতে পারে।
তবে ভালো খবর আছে। তা হলো - এই প্রক্রিয়া দু’দিকেই কাজ করে। বড়রা শ্বাস ধীর করলে, কণ্ঠ নরম করলে, কয়েক সেকেন্ড চোখে চোখ রাখলে, শিশুর সিস্টেমও দ্রুত শান্ত হতে শুরু করে।
তাই বাসায় ঝগড়ার আগে ৩০ সেকেন্ড গভীর শ্বাস নিযে নিজেকে শান্ত করে নিন। শিশুকে জড়িয়ে ধরুন, ধীরে ও নিচু স্বরে কথা বলুন। এবং অবশ্যই প্রতিদিন শিশুকে ১০ মিনিট নিরবচ্ছিন্ন সময় দিন। কারণ, আপনার শান্ত থাকা শুধু আপনার জন্য নয়; এটি সন্তানের ভবিষ্যৎ আবেগ নিয়ন্ত্রণের নকশা।
সূত্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সাইকোলজি টুডে । সংগ্রহিতঃ জাগো নিউজ ২৪ অনলাইন।

09/02/2025
25/08/2024
20/05/2024
07/01/2024
01/04/2023
07/05/2022
11/05/2021
05/05/2021