12/04/2023
শাবিপ্রবির শিক্ষক শুভজিতকে লিডিং ইউনিভার্সিটিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা-
একাডেমিক রিভিউ কমিটির মিটিং বর্জন শিক্ষকদের।
নিজস্ব প্রতিবেদক। ১২ এপ্রিল, ২০২৩
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক হলেও লিডিং ইউনিভার্সিটিতে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ান তিনি। পেশায় শিক্ষক হলেও লিডিং ইউনিভার্সিটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপসহ নানান অপরাধের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ঠিকাদার কোম্পানি হোমল্যান্ডের একসময় বেতনভুক্ত ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে লিডিং ইউনিভার্সিটির শহিদমিনার নির্মাণে প্রায় কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির সাথে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তার। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শুভজিৎ চৌধুরী নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জন্ম দিচ্ছেন একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপাচার্য আজিজুল মওলার বিশেষ ছাত্র হিসেবে লিডিংয়ে তার মুক্ত পদচারণা শুরু। সম্প্রতি উপাচার্য আজিজুল মওলার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরব শুভজিত চৌধুরী। ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৬ মার্চ উপাচার্য আজিজুল মওলার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা-স্বজনপ্রীতিতা, বিদেশে অর্থপাচার, প্রতারণার মাধ্যমে আয়কর ফাঁকি, অনুমোদনহীনভাবে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ দায়ের করেছেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান। এর প্রেক্ষিতে বিগত ১৩ মার্চ সাংবাদিকদের জেরার মুখোমুখি হতে হয় আজিজুল মওলাকে। বহিরাগত শুভজিত ঐদিন সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত সারাদিন লিডিং ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে বেআইনিভাবে অবস্থান করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নেতিবাচকভাবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই।
শুধু তাই নয়, ১৩ মার্চ বাংলানিউজ২৪.কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুভজিত লিডিং ইউনিভার্সিটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও ওইদিন লিডিং ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে অসৌজন্যমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করেন তিনি। ‘দীর্ঘদিন লিডিং ইউনিভার্সিটিতে নির্মাণ কাজ করার সময় তার চোখেও প্রতিষ্ঠানটির অব্যবস্থাপনা চোখে পড়েছে’ বলে পত্রিকায় বিবৃতি দেন শুভজিত। এতে শুভজিতের বিরুদ্ধে লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষক শুভজিত চৌধুরীর এমন আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে গত ১৪ মার্চ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মোঃ মফিজুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদানের দায়ে অভিযুক্ত শুভজিতের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয় চিঠিতে। এদিকে শুভজিতের বিরুদ্ধে ইস্যুকৃত চিঠি প্রত্যাহারের জন্য রেজিস্ট্রারকে অন্যায়ভাবে চাপ প্রয়োগ করেন ভিসি আজিজুল মওলা। চিঠি প্রত্যাহারের পাশাপাশি, লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেন উপাচার্য। রেজিস্ট্রার চিঠি প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে রেজিস্ট্রারের অফিশিয়াল ইমেইল ব্যবহার করে নিজেই তাঁর স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে শুভজিতের বিরুদ্ধে ইস্যুকৃত চিঠি প্রত্যাহার করার জন্য শাবিপ্রবি'র উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কাছে মেইল করেন আজিজুল মওলা। বিষয়টির নিয়ে রেজিস্ট্রার মোঃ মফিজুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।
বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। গত ১০-১১ এপ্রিল লিডিং ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত 'সামার-২০২২ এর থিসিস জুরি'র বিচারক হিসেবে বিতর্কিত শিক্ষক শুভজিতকে আমন্ত্রণ জানান লিডিংয়ের আর্কিটেকচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ শওকত জাহান চৌধুরী। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে নামপরিচয় গোপন রেখে পারিতোষিক হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকাও তুলে দেওয়া হয় শুভজিতকে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠপরিবেশকে ব্যাহত করতেই বিতর্কিত শুভজিতকে বারবার লিডিং ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে আসা হচ্ছে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা। লিডিং ইউনিভার্সিটিতে বহিরাগত এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ লুতফর রহমান বলেন, লিডিং ইউনিভার্সিটিতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জোরদার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগ নিচ্ছে।
১০-১১ এপ্রিল তারিখে অনুষ্ঠিত জুরিতে শুভজিতকে বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ ও নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে ১২ এপ্রিল সকাল ১১:০০ টায় অনুষ্ঠিতব্য একাডেমিক রিভিউ মিটিং সম্মিলিতভাবে বর্জনের ঘোষণা দেন লিডিং ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান এবং বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ।
এদিকে, পূর্বপরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার বিষয়টি জানাজানি হলে শুভজিতকে লিডিং ইউনিভার্সিটিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ফাইনাল সেমিস্টারের একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘লিডিং ইউনিভার্সিটি আমাদের আবেগের জায়গা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করে সংবাদ মাধ্যমে বিতর্কিত ও মানহানিমূলক বক্তব্য প্রদানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুভজিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। এ নিয়ে মানববন্ধনেরও প্রস্তুতি চলছে।’
এ বিষয়ে শুভজিতের সাথে একাধিকবার ফোনে কথা বলতে চাইলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে শিক্ষক শুভজিৎ চৌধুরী দীর্ঘ ছুটিতে আছেন বলে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য কাজী আজিজুল মওলার সাথে কথা বলতে চাইলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

13/03/2023