29/04/2025
১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলির মধ্যে অন্যতম । ২৪শে এপ্রিল বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বিশাল এলাকা জুড়ে উৎপন্ন এই ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে তীব্রতর হয়ে ২৮শে এপ্রিল উত্তর-পূর্ব দিকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে এবং ২৯শে এপ্রিল বাংলাদেশের উপকূলের কাছে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের শক্তিতে পরিণত হয় । ঘূর্ণীজড় চলাকালীন চট্টগ্রাম জেলায় উপর দিয়ে প্রায় ২৫০ কিমি/ঘণ্টা (১৫৫ মাইল) বেগে বাতাস বইতে থাকে থাকে এবং এর প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬.১ মিটার (২০ ফুট) উচ্চতার জোয়ার সৃষ্টি হয় যা উপকূলীয় এলাকাসমূহ প্লাবিত করে যার ফলে প্রায় ১,৪০,০০০/- মানুষ মৃত্যুবরণ করে।
ঝড়ের আঘাতে চট্রগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মোহনার কংক্রিট বাঁধটি ভেঙ্গে পুরো উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এ সময় প্রচুর নৌকা এবং ছোট জাহাজ ডুবে যায়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনী উভয়েরই চট্টগ্রামে ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পতেঙ্গায় অবস্থিত ঈশা খাঁ নৌঘাঁটি প্লাবিত হয় এবং জাহাজগুলির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বিমান বাহিনীর বেশিরভাগ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় উভয়চর জাহাজসহ ১৫টি জাহাজ এবং ৩০০০ নাবিক নিয়ে গঠিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উভচর টাস্ক-ফোর্স আমেরিকার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জজ ডব্লিউ বুশ-এর নির্দেশে বঙ্গোপসাগরে অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল পরিচালনার জন্য আসে। উক্ত অপারেশন পরিচালনার মাধ্যমে অসংখ্য মৃত মানুষকে উদ্ধার এবং বেঁচে যাওয়া আনুমানিক ১৭ লক্ষ মানুষকে ত্রাণ সরবরাহ করা হয়। উক্ত কার্যক্রমে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান এবং জাপানও অংশগ্রহণ করেছিল। বিদ্যুত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সে সময় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় ঘূর্ণীঝড়ের আঘাতের ফলে ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা দেখতে গিয়ে পেট্রিক মুর নামের একজন আমেরিকান সাংবাদিকের সাথে স্বাক্ষাতে বিধ্বস্থ উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতি এবং অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে পেরেছিলাম । এ সময় তাঁর কাছ থেকে পাওয়া ত্রাণ হিসেবে বিতরনের জন্য আমারেকান সরকার কর্তৃক প্রদত্ত একটি বিস্কুট খাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই বিস্কুটি দূর্যোগপূর্ণ এলাকার মানুষের জন্য বিশেষভাবে তৈরী যা খাওয়ার পর দীর্ঘসময় ক্ষুধা নিবারনে ভূমিকা রাখে ।
সে সময়ে চট্রগ্রামের বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী হালিশহরের বাসিন্দা হিসেবে স্ব-পরিবারে ভয়ংকর একটি নির্ঘুম রাতে ঘূর্ণীঝড়টির আঘাতে সৃষ্ট ধ্বংসলীলার কালের স্বাক্ষী হয়ে রইলাম।