03/03/2016
কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে থাকছে না সাভারের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
বাংলা ফটো নিউজ (সাভার) : কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না সাভারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। প্রশাসনের নানামুখী উদ্যোগে কোন ভাবেই ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, খুন ও সন্ত্রাসের রাশ টেনে ধরতে পারছে না। এ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন সাভারের সরকারী দলের নেতারা। র্যাব ও পুলিশের একাধিক অভিযানেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, রাতে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা, প্রকাশ্যে গুলি করে ছিনতাই এবং দিন দিন বেড়েই চলেছে অজ্ঞানপার্টি দৌরাত্ম্য। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় সহ বিভিন্ন মূখি অপরাধ কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ বর্তমান সাভারবাসী।
সূত্র জানায়, সাভার উপজেলার ২টি থানা এলাকায় প্রতিদিনই খুন, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এ অপরাধের কোন সঠিক হিসাব নেই
পুলিশের কাছেও । পুরো উপজেলার প্রধান ঢাকা-আরিচা সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলিগুলো এখন ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের দখলে। সাভারের কোথাও কোথাও রাতে নয়, দিনের বেলায়ই মানুষ আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছে। চুরি, ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের অধিকাংশ ঘটনায় থানায় মামলা হচ্ছে না। অনেক সময় বাড়তি ঝামেলার জন্য মানুষ থানায় গিয়ে মামলা করতে চায় না। আবার ভুক্তভোগী কেউ থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে।এমনকি অভিযোগ করতে গিয়ে বিপাকে পরতে হয় ভুক্তভোগীরই এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলেও ধরা পড়ছে না দুর্বৃত্তরা। শুধু রাতে নয়, দিন দুপুরেও ছিনতাই হচ্ছে প্রতিদিন। প্রতিদিন রাতে এবং দিনে পথচারী বা রিকশাযাত্রীদের চিৎকার শোনা যায়-নিয়ে গেলো, নিয়ে গেলো, সব নিয়ে গেলো। ছিনতাইকারীরা প্রতিদিন পথচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মোবাইলসহ মূল্যবান মালামাল কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনেদুপুরে ও প্রকাশ্যে জাতীয় পার্টির নেতা আজাদকে গুলি করে হত্যার ঘটনা এবং মহাসড়কে এক মহিলাকে প্রকাশ্যে গুলি করে টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মহাসড়ক সহ অলিগলি গুলো এখন অরক্ষিত। কখন কে ছিনতাইয়ের শিকার হবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই। মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালিত অটো রিক্সাই বেশী ছিনতাই করছে দুর্বৃত্তরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সন্ত্রাসীদের বিস্তারিত তথ্য পুলিশ প্রশাসন ও র্যাবের কাছে না থাকায় পৌরসভা এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় র্যাব ও পুলিশের চোখের সামনে ঘুরে বেড়ালেও কেউ তাদের চিনতে পারছে না। মাঠ পর্যায়ে পুলিশের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল।
তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের নির্দেশেই উপজেলার ২টি থানা এলাকার অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। তালিকভুক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। গার্মেন্টস মালিক, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিকসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও জায়গা জমি কেনা-বেচা করতে গেলেও সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হচ্ছে। নির্যাতিত অনেকেই থানায় সাধারণ ডায়েরি ও মামলা করে নানা হুমকি-ধমকি সহ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

02/03/2016
05/02/2016