Bangladesh Islamic Research Foundation.;;;;;BIRF
ইসালামিক ওয়াজ তুলে ধরা হবে।
26/02/2022
কোথায় গেলে পীর পাওয়া যায়???
রচনাঃ শাইখ হোসাইন আহমেদ জাহিদ
=============================
সম্প্রতি মাওলানা হাফিজুর রহমান কুয়াকাটার একটা ওয়াজে শুনলাম, "এই যুবক, যদি জান্নাতে যেতে চাও তাহলে পীরের কাছে গিয়ে মুরিদ হও"। এরকম কথা শুনার পর থেকে আমার আর ঘুম নাই। কারন, জান্নাতে যেতে চায়না এমন মুসলিম খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আমিও এর বিপরীত নই। খুঁজা শুরু করলাম পীর। অনেক খুঁজা খুঁজি করলাম। দেশের বাহিরে থাকি, আর দেশের পীরদের উপর তেমন বিশ্বাস ও নেই, তাই দেশী পীরের কাছে গেলাম না। আমার দরকার ছিলো ইন্টারন্যাশনাল পীর।
ইচ্ছা ছিলো মুরিদ হওয়ার পর ধীরে ধীরে খেলাফত নিয়ে বিশ্বব্যাপী আমার পীর মুরিদী কায়েম করবো। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পরিচিত মানুষ আছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করলাম। সৌদিআরব, কাতার, আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত সহ ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করলাম। কিন্তু কোথাও কেনো পীরের সন্ধান পেলাম না। সবাই আমাকে বললো পীর চাইলে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে যোগাযোগ করুন। এই তিন দেশ ছাড়া বর্তমানে আল্লাহ অন্য কোথাও পীর পাঠান না। আমিতো পড়লাম মহা চিন্তায়, আল্লার এমন স্বজনপ্রীতি আমার একদম ভালো লাগলো না। কেনো উনি শুধু পীর গুলোকে এই তিন দেশের জন্য পাঠালেন। এখন অন্যান্য দেশের মানুষ জান্নাতে যাবে কেমনে। তবে কি এই তিন দেশের পীরদের মুরিদ ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবেনা?
এগুলা চিন্তা করছিলাম এমন সময় একজন সোমালিয়ান আসলো, অনেকদিন থেকে সোমালিয়ানদের দেখছিলাম, তারা ধর্মের ব্যপারে খুবি কঠোর। নামায কাযা দেয়না, কারো হক নষ্ট করে না। উনাকে দেখে খুবি পরহেজগার মনে হলো। আর অনেক দিন থেকে দেখে আসছিলাম উনাকে, তাই বলতে পারি বাংলাদেশের যেকোনো পীর থেকে অনেক আমলওয়ালা এবং তাকওয়াবান উনি। এক কথায় পবিত্র কোরআনে বর্নীত পীর এর ডেজিগনেশনে যা বলা হইছিলো ঐ লোকটা ঠিক ঠিক তাই ছিলো। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে পীর হতে হলে ইমানদার আর মুত্তাকী হতে হবে।
যাইহোক, উনাকে বললাম আমি মুরীদ হবো, উনি বললেন কালকে আসবো, এসে কথা বলবো। পরের দিন উনি আসলেন, সাথে ছিলো একটা কুরআন আর হাদিসের একটি কিতাব। উনি আমাকে এই দুইটা দিয়ে বল্লেন এই দুইটা পড়বেন, যখনই কিছু বুঝতে অসুবিধা হবে তখন গুগল এ সার্চ দিবেন। দেখবেন পক্ষে বিপক্ষে মতামত চলে আসছে। ঐখান থেকে যে মতামতটা কোরআন হাদিসের আলোকে ঠিক মনে হবে সেটা আমল করা শুরু করে দিবেন।
আমিতো ভয়ে শেষ, উনাকে বললাম কি! তিনি বলেন আমি নিজে নিজে পড়ে এগুলো বুঝতে। নিজে নিজে কেমনে বুঝে নিবো, বাংলাদেশের আলেমরাতো বলেন নিজে নিজে পড়ে কোরআন বুঝা যাবেনা, পীর এর কাছে যেতে হবে। পীর যা বলেন তাই করতে হবে। একজন তো এমনও বলছেন যে পীরের কোনো কথা যদি কোরআন হাদিসের বিপরীতও যায় তাহলে কোনো প্রশ্ন ছাড়া তা মেনে নিতে হবে।
এই কথা শুনেতো উনি খুব রেগে গেলেন, বললেন, তোমাদের দেশের মানুষ গুলো কি বোকা, তারা কেমনে কুরআন হাদিস রেখে চোখ বন্ধ করে পীরের কথা মেনে চলে, পীর তো মানুষ, উনারওতো ভুল হতে পারে, এটা চুড়ান্ত বোকামী। আর পবিত্র কোরআন আল্লাহ খুব সহজ করে পাঠিয়েছেন যাতে সহজেই মানুষ তা বুঝতে পারে। এই মর্মে একটা কোরআনের আয়াতের রেফারেন্সও দিলেন উনি। তার পর বললেন, কোরআন যদি বুঝতে না পারো তবে তার তাফসির দেখো, এখন নেটে সার্চ দিলে সব রকমের তাফসীর পাওয়া যায়। একবিংশ শতাব্দিতে এসে ইসলামের নামে কেউ ধোকা দিলে এখনকার জেনারেশন এটা ধরে ফেলার কথা। কারন তারা সারাক্ষন নেটে থাকে আর নেটে এসব নিয়ে ঘাটাঘাটি করলে অবশ্যই সমাধান পাওয়া যাবে।
আমি বললাম ধরুন কোনো মাসআলা নিয়ে আমি বিপদে পড়ছি, একেকজন একেক রকম বলতেছেন, তখন কি করবো? এটা শুনে উনি বললেন ইউটিউব অথবা গুগলে সার্চ দিবেন। দেখবেন বিশ্বের বড় বড় আলেমরা এ ব্যপারে কি মতামত দিয়েছেন। তাদের রেফারেন্স গুলো খেয়াল করবেন। তার পর আবার ঐ রেফারেন্স গুলো নেটে সার্চ দিয়ে যাচাই করে নিবেন, দেখবেন সমাধান পেয়ে গেছেন। আমি বল্লাম তাইলে আমাদের দেশের একজন দামী বক্তা যে বললেন জান্নাতে যাইতে চাইলে পীর ধরতে হবে। এটা শুনে উনি বললেন ঐ বক্তা ধর্মব্যবসায়ী, জাহেল। নিজের ঈমান বাঁচাতে হলে এদের থেকে দুরে থাকবেন। আর পীর গুলাকি সব আপনাদের দেশে আসে আমাদের দেশে আসেনা কেন। তার মানে হচ্ছে আপনাদের দেশের মানুষ ধর্মপ্রান হলেও ধর্মসচেতন না। আমি বললাম জ্বি ঠিক বলছেন।
পরিশেষে যা বলবো- বর্তমানে পৃথিবীতে কোনো পীর নাই। যে কয়টা আছে ওগুলো উত্তরাধিকার সুত্রে হইছে। আগেরকার দিনে মানুষের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান খুবি কম ছিলো, হুজুর যা বলতো তাই মেনে নিতো, তাই: মানুষজন একটু পড়াশুনা জানা আলেমদের পীর বানাই দিতো। আর স্বার্থান্বেষী হুজুররা এগুলোতে সাই দিয়ে যেতেন ভালো খাবার দাবার আর হাদিয়া পাওয়ার লোভে। পীর মুরুীদিটা ঐ রকমই শুরু হইছে। না হইলে আগেকার দিনের পীরদের কত অলৌকিক ঘটনা শুনা গেলেও বর্তমান যুগের পীরদের কোনো অলৌকিক ঘটনা শুনা যায়না কেনো?। কারন আগে মানুষ চোখ বন্ধ করে পীরদের বিশ্বাস করে নিলেও বর্তমানে নেয়না। তাই আর মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নতুন করে কেউ পীর হতে পারেনা।
আসুন বর্তমান পীর গুলো থেকে দুরে থাকি ঈমান বাঁচাই।
Copy posr
26/02/2022
আল্লাহ সর্বশক্তিমান
17/02/2022
পেন্সিলে আঁকা সোনাই….❤️❤️
(এঁকেছেন Shahadat..ধন্যবাদ ও ভালোবাসা)
কোথায় গেলে পীর পাওয়া যায়???
রচনাঃ শাইখ হোসাইন আহমেদ জাহিদ
=============================
সম্প্রতি মাওলানা হাফিজুর রহমান কুয়াকাটার একটা ওয়াজে শুনলাম, "এই যুবক, যদি জান্নাতে যেতে চাও তাহলে পীরের কাছে গিয়ে মুরিদ হও"। এরকম কথা শুনার পর থেকে আমার আর ঘুম নাই। কারন, জান্নাতে যেতে চায়না এমন মুসলিম খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আমিও এর বিপরীত নই। খুঁজা শুরু করলাম পীর। অনেক খুঁজা খুঁজি করলাম। দেশের বাহিরে থাকি, আর দেশের পীরদের উপর তেমন বিশ্বাস ও নেই, তাই দেশী পীরের কাছে গেলাম না। আমার দরকার ছিলো ইন্টারন্যাশনাল পীর।
ইচ্ছা ছিলো মুরিদ হওয়ার পর ধীরে ধীরে খেলাফত নিয়ে বিশ্বব্যাপী আমার পীর মুরিদী কায়েম করবো। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পরিচিত মানুষ আছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করলাম। সৌদিআরব, কাতার, আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত সহ ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করলাম। কিন্তু কোথাও কেনো পীরের সন্ধান পেলাম না। সবাই আমাকে বললো পীর চাইলে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে যোগাযোগ করুন। এই তিন দেশ ছাড়া বর্তমানে আল্লাহ অন্য কোথাও পীর পাঠান না। আমিতো পড়লাম মহা চিন্তায়, আল্লার এমন স্বজনপ্রীতি আমার একদম ভালো লাগলো না। কেনো উনি শুধু পীর গুলোকে এই তিন দেশের জন্য পাঠালেন। এখন অন্যান্য দেশের মানুষ জান্নাতে যাবে কেমনে। তবে কি এই তিন দেশের পীরদের মুরিদ ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবেনা?
এগুলা চিন্তা করছিলাম এমন সময় একজন সোমালিয়ান আসলো, অনেকদিন থেকে সোমালিয়ানদের দেখছিলাম, তারা ধর্মের ব্যপারে খুবি কঠোর। নামায কাযা দেয়না, কারো হক নষ্ট করে না। উনাকে দেখে খুবি পরহেজগার মনে হলো। আর অনেক দিন থেকে দেখে আসছিলাম উনাকে, তাই বলতে পারি বাংলাদেশের যেকোনো পীর থেকে অনেক আমলওয়ালা এবং তাকওয়াবান উনি। এক কথায় পবিত্র কোরআনে বর্নীত পীর এর ডেজিগনেশনে যা বলা হইছিলো ঐ লোকটা ঠিক ঠিক তাই ছিলো। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে পীর হতে হলে ইমানদার আর মুত্তাকী হতে হবে।
যাইহোক, উনাকে বললাম আমি মুরীদ হবো, উনি বললেন কালকে আসবো, এসে কথা বলবো। পরের দিন উনি আসলেন, সাথে ছিলো একটা কুরআন আর হাদিসের একটি কিতাব। উনি আমাকে এই দুইটা দিয়ে বল্লেন এই দুইটা পড়বেন, যখনই কিছু বুঝতে অসুবিধা হবে তখন গুগল এ সার্চ দিবেন। দেখবেন পক্ষে বিপক্ষে মতামত চলে আসছে। ঐখান থেকে যে মতামতটা কোরআন হাদিসের আলোকে ঠিক মনে হবে সেটা আমল করা শুরু করে দিবেন।
আমিতো ভয়ে শেষ, উনাকে বললাম কি! তিনি বলেন আমি নিজে নিজে পড়ে এগুলো বুঝতে। নিজে নিজে কেমনে বুঝে নিবো, বাংলাদেশের আলেমরাতো বলেন নিজে নিজে পড়ে কোরআন বুঝা যাবেনা, পীর এর কাছে যেতে হবে। পীর যা বলেন তাই করতে হবে। একজন তো এমনও বলছেন যে পীরের কোনো কথা যদি কোরআন হাদিসের বিপরীতও যায় তাহলে কোনো প্রশ্ন ছাড়া তা মেনে নিতে হবে।
এই কথা শুনেতো উনি খুব রেগে গেলেন, বললেন, তোমাদের দেশের মানুষ গুলো কি বোকা, তারা কেমনে কুরআন হাদিস রেখে চোখ বন্ধ করে পীরের কথা মেনে চলে, পীর তো মানুষ, উনারওতো ভুল হতে পারে, এটা চুড়ান্ত বোকামী। আর পবিত্র কোরআন আল্লাহ খুব সহজ করে পাঠিয়েছেন যাতে সহজেই মানুষ তা বুঝতে পারে। এই মর্মে একটা কোরআনের আয়াতের রেফারেন্সও দিলেন উনি। তার পর বললেন, কোরআন যদি বুঝতে না পারো তবে তার তাফসির দেখো, এখন নেটে সার্চ দিলে সব রকমের তাফসীর পাওয়া যায়। একবিংশ শতাব্দিতে এসে ইসলামের নামে কেউ ধোকা দিলে এখনকার জেনারেশন এটা ধরে ফেলার কথা। কারন তারা সারাক্ষন নেটে থাকে আর নেটে এসব নিয়ে ঘাটাঘাটি করলে অবশ্যই সমাধান পাওয়া যাবে।
আমি বললাম ধরুন কোনো মাসআলা নিয়ে আমি বিপদে পড়ছি, একেকজন একেক রকম বলতেছেন, তখন কি করবো? এটা শুনে উনি বললেন ইউটিউব অথবা গুগলে সার্চ দিবেন। দেখবেন বিশ্বের বড় বড় আলেমরা এ ব্যপারে কি মতামত দিয়েছেন। তাদের রেফারেন্স গুলো খেয়াল করবেন। তার পর আবার ঐ রেফারেন্স গুলো নেটে সার্চ দিয়ে যাচাই করে নিবেন, দেখবেন সমাধান পেয়ে গেছেন। আমি বল্লাম তাইলে আমাদের দেশের একজন দামী বক্তা যে বললেন জান্নাতে যাইতে চাইলে পীর ধরতে হবে। এটা শুনে উনি বললেন ঐ বক্তা ধর্মব্যবসায়ী, জাহেল। নিজের ঈমান বাঁচাতে হলে এদের থেকে দুরে থাকবেন। আর পীর গুলাকি সব আপনাদের দেশে আসে আমাদের দেশে আসেনা কেন। তার মানে হচ্ছে আপনাদের দেশের মানুষ ধর্মপ্রান হলেও ধর্মসচেতন না। আমি বললাম জ্বি ঠিক বলছেন।
পরিশেষে যা বলবো- বর্তমানে পৃথিবীতে কোনো পীর নাই। যে কয়টা আছে ওগুলো উত্তরাধিকার সুত্রে হইছে। আগেরকার দিনে মানুষের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান খুবি কম ছিলো, হুজুর যা বলতো তাই মেনে নিতো, তাই: মানুষজন একটু পড়াশুনা জানা আলেমদের পীর বানাই দিতো। আর স্বার্থান্বেষী হুজুররা এগুলোতে সাই দিয়ে যেতেন ভালো খাবার দাবার আর হাদিয়া পাওয়ার লোভে। পীর মুরুীদিটা ঐ রকমই শুরু হইছে। না হইলে আগেকার দিনের পীরদের কত অলৌকিক ঘটনা শুনা গেলেও বর্তমান যুগের পীরদের কোনো অলৌকিক ঘটনা শুনা যায়না কেনো?। কারন আগে মানুষ চোখ বন্ধ করে পীরদের বিশ্বাস করে নিলেও বর্তমানে নেয়না। তাই আর মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নতুন করে কেউ পীর হতে পারেনা।
আসুন বর্তমান পীর গুলো থেকে দুরে থাকি ঈমান বাঁচাই।
09/02/2022
17/12/2017
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Norsindi
Dhaka
1640
