বাংলাদেশ ইনসাফ পার্টি-Bip

বাংলাদেশ ইনসাফ পার্টি-Bip

Share

বাংলাদেশ ইনসাফ পার্টি-BIP
"অনৈক্যের ঐক্য" ন্যায়, ইনসাফ ও আজাদীর লড়াই।

21/03/2026

ঈদ মোবারক 🌺

08/03/2026

তোমরা মেয়েরাই সভ্যতার দূত
– মওলানা ভাসানী

দক্ষিণের বড় বারান্দায় একটা নিচু চৌকিতে মওলানা সাহেব নামাজ সেরে বসেছিলেন। মহিলারা একপাশে একটু আড়াল করে বসলেন, আর সব ছেলেমেয়েরা পরম কৌতূহল নিয়ে ওঁর সামনে গোল হয়ে দাঁড়াল। শিরিন ও তার দুই ভাই অগাধ বিস্ময়ভরা চোখ তুলে ওঁকে দেখতে লাগলো। মওলানা সাহেব হেসে হেসে উর্দুতে ওদের নাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘দেহাত’ (গ্রামের বাড়ি) কোথায়, কীভাবে ওরা যায় জানতে চইলেন। এভাবে জড়তা কেটে গেল। সহজ কথ্য উর্দুতে উনি কথা বলছিলেন। বোহরাদের সম্প্রদায় কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তাও বললেন। আরও বললেন, চলমান আন্দোলন ঘাতক সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে, কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। যদি এ দেশকে আপন ভেবে সৎ ব্যবসা চালিয়ে যাও তবে বাঙালিরাও তোমাদের আপন করে নেবে, বাঙালিরা অসাম্প্রদায়িক, (উনি একটি উর্দু শব্দ ব্যবহার করেছিলেন) ছিল এবং থাকবে।
এরপর মওলানা সাহেব নারীর ভূমিকা নিয়ে কিছু কথা বললেন, যা সকলের মনকেই ছুঁয়ে গেল। বললেন, তোমরা মেয়েরাই সভ্যতার দূত। যুগে যুগে দেশে দেশে তোমরাই আন্তর্জাতিকতার বাহক। তোমাদের স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে তোমরা পৃথিবীর যেখানেই যাও সেখানেই নীড় তৈরি কর, কোনো জাতপাত ভেদ, কোনো সাম্প্রদায়িকতা, কোনো জাতীয়তাবাদী সংকীর্ণতা তোমাদের স্পর্শ করে না। তাই বোম্বাই জন্মে তোমরা রেঙ্গুনে ঘর বাঁধতে পারো, ঢাকায় জন্মে পারো মাদ্রাজে ঘর বাঁধতে। কি, ঠিক বলেছি না? তোমাদের যদি বোম্বাই, দুবাই বা করাচিতে মা-বাপ বিয়ে দিয়ে দেয় তোমরা সেখানেই চলে যাবে আর সেটাই নিজের ঘর বলে গ্রহণ করবে, তাই না? মেয়েরা মাথা নেড়ে সায় দিল। মায়েরা সায় দিল আরও আন্তরিকভাবে, ‘হা, সহি বাত।’
[ফেলে আসা রাজনৈতিক মঞ্চের আত্মকথন-জায়নাব আখতার] ছবিটি: তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে একটি রাজনৈতিক ভ্রমণের সময় তোলা। সে সময় যে বাড়িতে মওলানা আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন- এটি সে বাড়ির নারীদের ছবি।
Photo ©: Layli Uddin

05/03/2026

হুজুরের হুজুরাখানায় কিংবা ঘরে মৌসুমী ফলমুল, শাক-সব্জী স্তুপীকৃত হইয়া যাইত। আধ্যাত্মিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, মানবিক সকল প্রকারের ভক্ত শিষ্য হুজুরের জন্য যাহা আনিতেন তাহা একদিকে এই ভাবে জমা হইত, অপর দিকে বিলিবন্টন হইতে থাকিত।

পরিমাণে কম বেটাইম বলিয়া বিলিবন্টন করিতে হুজুর যেমন কোন প্রকার সঙ্কোচ বোধ করিতেন না, ঠিক তেমনি যাহাকে দিতেন তাহারও কোন আপত্তি থাকিত না। সবার মনে একটা কথা দোলা দিয়া যাইত- মওলানা ভাসানী আমাকে ইফতার দিয়াছেন।
১৯৭০ সালের নভেম্বর মাসে রোজার দিন ছিল।

আমার ডায়রিতে উল্লেখ আছে, এক সকালে প্রখ্যাত সাহিত্যিক-সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মেহদী ইস্পাহানী সন্তোষে আসেন। হুজুরের সহিত ঘণ্টাখানেক আলাপ করিয়া তাহারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হইলেন। হুজুর দুইজনকে ২টি ডালিম ও ২টি লেবু দিয়া বলিলেন, ইফতার কইরো।

‘বহু সম্মানে বারেক ঠেকানো মাথা’ –এর মত লইয়া তাহারা চলিয়া গেলেন।
[রমজানের দিবারাত্রি ; মুর্শিদ মওলানা ; সাপ্তাহিক হক কথা । ]

20/02/2026

ভাটিবাংলার মহানায়ক ইসা খান

ঈশা খাঁ (১৫২৯ –১৫৯৯) ছিলেন ষোড়শ শতকের বাংলার এক প্রখ্যাত স্বাধীনতাকামী নেতা ও বারো ভূঁইয়া সর্দারদের অন্যতম। তিনি খিজিরপুর (বর্তমান সোনারগাঁও) অঞ্চলের শক্তিশালী জমিদার ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলার বিভিন্ন প্রভাবশালী ভূস্বামী একত্রিত হন এবং মুঘল সাম্রাজ্যের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন সফল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁর মৃত্যুর পরই বাংলার এই অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে মুঘলদের অধীনে চলে যায়।

ঈসা খানের জন্ম হয় সুলতানি শাসনামলের ভাটি অঞ্চলের সরাইলে। ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর বাংলা জয় করার পর ভাটি অঞ্চলের স্বাধীনতা রক্ষার লক্ষ্যে ঈসা খান স্থানীয় প্রভাবশালী জমিদারদের সংগঠিত করেন, যাঁরা ইতিহাসে বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত। মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আকবর পর্যায়ক্রমে তাঁর একাধিক সেনাপতিকে ঈসা খানের বিরুদ্ধে পাঠান, কিন্তু প্রতিটি সংঘর্ষেই মুঘল বাহিনী পরাজিত হয়। ফলে ঈসা খানের জীবদ্দশায় পূর্ব বাংলায় প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় মুঘলরা পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়।

ঈসা খানের বাড়ি বর্তমান বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার তৎকালীন জমিদার কুইচ রাজাকে পরাজিত করে সেখানে নিজের আবাস নির্মাণ করেন। তাঁর শাসনামলের বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন আজও কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাসে একজন সাহসী ও প্রভাবশালী স্বাধীনতাকামী নেতা হিসেবে ঈসা খান আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বৃহত্তম ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে বানৌজা ঈসা খান।

লিখেছেন: মাহিম দেওয়ান

18/02/2026

আলহামদুলিল্লাহ
🤲
সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা
BIP

18/02/2026

✅আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (১৮৮০–১৯৭৬) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা, যিনি 'মজলুম জননেতা' হিসেবে পরিচিত। কৃষক-শ্রমিক অধিকার আদায়ে আজীবন সংগ্রামী, তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগ (বর্তমান আওয়ামী লীগ) ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (NAP) প্রতিষ্ঠা করেন। সিরাজগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই নেতা আসামের ভাসানচরে কৃষক আন্দোলনের কারণে 'ভাসানীর মওলানা' উপাধি পান।

✅মাওলানা ভাসানীর জীবনী সম্পর্কিত মূল তথ্যাবলি:
জন্ম ও শৈশব: ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর (মতান্তরে ১৮৮৭) সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন]। বাবা হাজী শরাফত আলী খান।

✅শিক্ষা ও কর্মজীবন: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কম থাকলেও তিনি স্ব-শিক্ষিত ছিলেন এবং দেওবন্দ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। টাঙ্গাইলের কাগমারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

✅রাজনীতিতে প্রবেশ: ১৯১৯ সালে খেলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

মজলুম জননেতা উপাধি: আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসানচরে ✅অসহায় কৃষকদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনের কারণে তিনি ভাসানীর মওলানা বা মাওলানা ভাসানী নামে পরিচিতি পান।

✅রাজনৈতিক দল ও ভূমিকা:
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
পরবর্তীতে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (NAP) গঠন করেন।

✅স্বাধীনতা যুদ্ধ: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

✅মৃত্যু: ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে সমাহিত করা হয়।

আজীবন সাধারণ মানুষের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করায় তিনি 'লাল মাওলানা' নামেও পরিচিত ছিলেন।

16/02/2026

✅শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হক
শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২) ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী, দূরদর্শী রাজনীতিবিদ এবং বাংলার কৃষকের অকৃত্রিম বন্ধু। ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালে জন্ম নেওয়া এই মহান নেতা "বাংলার বাঘ" (Sher-e-Bangla) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৩৭-১৯৪৩ সাল পর্যন্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী, কলকাতার মেয়র এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন, যিনি কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় "ঋণ সালিশী বোর্ড" গঠনসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

✅শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের বিস্তারিত জীবনী:
জন্ম ও শৈশব: ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জের সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম ছিল 'হক সাহেব'।

✅শিক্ষা জীবন: তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

✅পেশা ও রাজনীতি: পেশাগত জীবনে তিনি আইনজীবী ছিলেন। ১৯১৩ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করে তিনি বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ শুরু করেন।

✅রাজনৈতিক অবদান:
অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী: ১৯৩৭-১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

✅কৃষকবন্ধু: তিনি কৃষকদের ঋণের বোঝা কমাতে "ঋণ সালিশী বোর্ড" গঠন করেন।

✅কলকাতা মেয়র: ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র হন।

✅যুক্তফ্রন্ট: ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং জয়লাভ করেন।

✅"শেরে বাংলা" উপাধি: তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অসীম সাহস এবং বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের কারণে তাঁকে "শেরে বাংলা" বা "বাংলার বাঘ" উপাধি দেওয়া হয়।

✅মৃত্যু: এই মহান নেতা ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি শুধু রাজনীতিবিদই ছিলেন না, বরং বাংলার শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

15/02/2026

✅হাজী শরীয়তুল্লাহ
হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০) ছিলেন বাংলার একজন প্রখ্যাত ইসলামী সংস্কারক, শিক্ষাবিদ এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত। তিনি ১৮১৮ সালে বাংলায় “ফরায়েজি আন্দোলন” শুরু করেন, যার লক্ষ্য ছিল মুসলিম সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করা এবং শোষিত কৃষকদের অধিকার রক্ষা করা। জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারে পিষ্ট মেহনতি মানুষকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

✅জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
জন্ম: ১৭৮১ সালে মাদারীপুর জেলার শ্যামাইল গ্রামে একটি তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

✅শিক্ষা ও মক্কা ভ্রমণ: শৈশবেই পিতৃহারা হয়ে চাচা মুহাম্মদ আজিমের কাছে লালন-পালন হন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে (১৭৯৯ সালে) তিনি মক্কায় গমন করেন।

✅আরবে অবস্থান: মক্কায় তিনি দীর্ঘ ২০ বছর আরবি, ফারসি ও ইসলামী শিক্ষা অর্জন করেন এবং সুফিবাদে দীক্ষিত হন। ১৮১৮ সালে তিনি বাংলায় ফিরে আসেন।

✅ফরায়েজি আন্দোলন
লক্ষ্য: ইসলামের মূল বিধান 'ফরজ' পালনের ওপর জোর দেন বলে তাঁর আন্দোলনের নাম হয় “ফরায়েজি”।

সংস্কার: তিনি শিরক, বিদআত এবং সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।

✅শোষণ বিরোধী: তৎকালীন বাংলার মুসলমান কৃষক ও তাঁতিদের উপর জমিদার এবং ব্রিটিশ নীলকরদের অত্যাচার রুখতে তিনি সোচ্চার ছিলেন।

দাবী: তিনি মতবাদ প্রচার করেন যে, “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী”।

✅মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
মৃত্যু: ১৮৪০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উত্তরসূরি: তাঁর পুত্র দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে আরও বেগবান ও সুসংগঠিত করেন।

স্মৃতি: তাঁর নামানুসারে বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের শরীয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে।

হাজী শরীয়তুল্লাহের কর্মজীবন ছিল ধর্মীয় চেতনা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক অসামান্য সংমিশ্রণ।

15/02/2026

✅মীর নিসার আলী তিতুমীর
তিতুমীর (১৭৮২-১৮৩১) ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও স্থানীয় জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন প্রখ্যাত বাঙালি বিপ্লবী ও বীর শহীদ। ১৭৮২ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার হায়দারপুরে জন্ম নেওয়া এই বীর নারকেলবেড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহীদ হন।

✅জন্ম ও প্রাথমিক জীবন:
পুরো নাম: সাইয়িদ মীর নিসার আলী (তিতুমীর)।
জন্ম: ২৭ জানুয়ারি ১৭৮২, চব্বিশ পরগনা জেলার (পশ্চিমবঙ্গ) বসিরহাটের হায়দারপুর গ্রামে।
পরিবার: সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম। বাবা মীর হায়দার আলী ও মা আমিনা খাতুন।
শিক্ষা: প্রাথমিক শিক্ষা শেষে স্থানীয় মাদ্রাসায় কুরআন ও হাদিস এবং পরে আরবি ও ফার্সি ভাষায় পারদর্শী হন। একইসাথে শারীরিক কসরত ও কুস্তিতেও বেশ পারদর্শী ছিলেন।

✅সংগ্রাম ও বাঁশের কেল্লা:
মক্কা যাত্রা: ১৮২২ সালে মক্কায় হজ পালনে গিয়ে তিনি সৈয়দ আহমদ বেরলভীর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হন এবং দেশে ফিরে সমাজ সংস্কার ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ডাক দেন।

✅শোষণ বিরোধী সংগ্রাম: জমিদারদের অত্যাচার এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে তিনি সাধারণ কৃষকদের একত্রিত করেন।

✅বাঁশের কেল্লা: ১৮৩১ সালে নারকেলবেড়িয়া গ্রামে তিনি বাঁশ ও কাদা দিয়ে একটি বিশেষ দুর্গ নির্মাণ করেন, যা বাঁশের কেল্লা নামে পরিচিতি।

✅বিদ্রোহ: তিনি নিজে 'বাদশাহ' হিসেবে ঘোষণা দেন এবং চব্বিশ পরগনা, নদীয়া ও ফরিদপুর অঞ্চলে ব্রিটিশদের কর দেওয়া বন্ধ করে দেন।

✅মৃত্যু ও উত্তরাধিকার:
যুদ্ধে বীরত্ব: ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নির্দেশে লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীর সাথে তিতুমীরের বাহিনীর যুদ্ধ হয়।

✅শাহাদাত: আধুনিক কামানের গোলার আঘাতে বাঁশের কেল্লা ধ্বংস হয় এবং তিতুমীর ও তাঁর অনেক অনুসারী যুদ্ধক্ষেত্রে শাহাদাত বরণ করেন।

✅স্মরণ: তিতুমীর বাঙালি মুসলমানের লোকগাঁথা ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় বীর হিসেবে স্মরণীয়।

তিতুমীরের জীবন ও সংগ্রাম শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ।

14/02/2026

আলহামদুলিল্লাহ
বাংলাদেশ ইনসাফ পার্টি- BIP
যাত্রা শুরু

Want your business to be the top-listed Government Service in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Bangladesh
Dhaka