সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশকে প্রকৃতির লীলা নিকেতন বলা হয় | অপূর্ব সৌন্দর্য, শস্য সম্পদ ও নানা প্রকার বৈচিত্র্যে ভরা এরূপ দেশ পৃথিবীতে বিরল | ফুলে ফলে ও সৌন্দর্যে ভরা বাংলাদেশের এ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে মুগ্ধ হয়ে কবি গেয়েছেন-
"এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাক তুমি*
সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি |"
বিগত ১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হ
য় | এর উত্তর দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, আসাম, পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা রাজ্য, মিজোরাম ও বার্মা (মায়ানমার), দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত |বাংলাদেশ
পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ | বহু নদ-নদী এর ওপর দিয়ে প্রবাহিত | বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনভাগে ভাগ করা যায় | যথাঃ টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ ও সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি, পার্বত্য চট্টগ্রামের শৈলশ্রেণী, জলপ্রপাত একে অপূর্ব সৌন্দর্য দান করেছে |
বাংলাদেশ একটি গ্রামবহুল দেশ | এর একটি গ্রাম যেন প্রকৃতির লীলা নিকেতন | যেদিকে দৃষ্টিপাত করি না কেন, দেখা যায় ছায়াঘেরা পল্লী, তৃণাচ্ছাদিত সবুজ মাঠ, আম-জাম, কাঁঠালের কুঞ্জবন, তাল, নারকেল, সুপারি বৃক্ষের সারি, পুকুর, দীঘি, জলাশয়, ফুল-ফলময় বৃক্ষ, তৃণগুল্ম শোভিত অরণ্যানীর মনোরম শোভা আর শস্য-শ্যামল ক্ষেত | কবির ভাষায়-
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ | এদেশে নদীগুলো জালের মত বিছিয়ে আছে | এ রকম নদ-নদী বিশ্বের আর কোন দেশে নেই | পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলি, শীতলক্ষা প্রভৃতি নদী বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এদেশের সমভূমি এলাকাকে শস্য শ্যামলা করেছে এবং নদীপথে চলাচলের সুবিধা করে দিয়েছে | এ সকল নদীর দৃশ্য অতি মনোরম | নদীপথে যখন অসংখ্য সারিবদ্ধ নৌকা পাল তুলে চলতে থাকে তখন নদীর ঢেউয়ে পাল তোলা নৌকাগুলোকে খুব সুন্দর দেখায় |
বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্র্য এখানকার নৈসর্গিক দৃশ্যের অনেক পরিবর্তন ঘটায় | গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত -এ ছয়টি ঋতু নিরন্তর চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে চলে | গ্রীষ্মের প্রখর সূর্যতাপে যখন তরুলতা, মাঠ, ঘাট দগ্ধ হয়ে উঠে তখন বাগানে
বাগানে আম পাকতে শুরু করে |
বর্ষার আগমনে খাল-বিল, মাঠ-ঘাট পানিতে থৈ থৈ করে | প্রবল জলোচ্ছ্বাস পাট খেত, ধানের খেত, মাঠ-ঘাট পূর্ণ করে তোলে | এ সময়ে আকাশ হতে বিপুল বর্ষণধারা নামে, কুহুকেকার আনন্দ ধ্বনি জাগে | বনে বনে যুথী, কেয়া ও কদম্ব ফুলের স্নিগ্ধ সৌরভ ভেসে বেড়ায় |
বর্ষার পর শরৎ তার শুভ্র জ্যোৎস্না নিয়ে আগমন করে | তখন জলহারা সাদা মেঘ আকাশে ভেসে বেড়ায় | এ সময় শেফালি, কামিনী প্রভৃতি ফুল ফুটে সৌন্দর্য সৃষ্টি করে |
অতঃপর হেমন্তের আগমনে শস্যক্ষেত ধীরে ধীরে হরিদ্রাবর্ণ ধারণ করে, তখন প্রকৃতি অপরূপ শোভায় সজ্জিত হয় | এ সময় রাত্রিতে খুব শিশিরপাত হয় | প্রাতঃকালে শিশিরস্নাত তৃণগুলোর ওপর সূর্যরশ্মি পড়লে এক মনোহর দৃশ্যের সৃষ্টি হয় | শীতের আগমনে সমস্ত গাছপালা শুষ্ক, বিবর্ণ ও শ্রীহীন হয়ে পড়ে | এ সময় খেজুর গাছে রস হয় | এ রস দ্বারা গুড়, বিভিন্ন প্রকার পিঠাপায়েস তৈরি করা হয় |
সবশেষে আসে বসন্ত, এ সময় সব গাছে গাছে নতুন পাতা জন্মায় | গাছে গাছে পাখি গান গায় | এ সময় গাছে গাছে ফুল ফোটে | এ জন্য বসন্তকে "ঋতুরাজ" বলা হয় |
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্য যেমনি অতি মনোরম, অতি মনোহর, অতি সুন্দর, তেমনি এ দেশের মানুষও বৈচিত্র্য পিয়াসী | শরতের ক্ষীণস্রোতা নদী বর্ষায় যেমন নব যৌবন লাভ করে, তেমনি এখানকার অধিবাসীদের মনেও এর প্রভাব পড়ে | প্রকৃতির ব্যাপকতার সাথে তাল মিলিয়ে মাঝি ধরে গান | অন্যান্য পেশার মানুষও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঋতুর পরিবর্তনকে হৃদয় দিয়ে উপভোগ করে | পৃথিবীর কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের সৌন্দর্যের তুলনা হয় না |
আমাদের এই প্রাকৃতিক বাংলাদেশের সুন্দর, মনোরম, মনোহর দৃশ্যের ছবি/দৃশ্যপট যার নিকট যা সংগ্রহ আছে, এই গ্রুপে সবার সাথে শেয়ার করার জন্যে সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ রইল |