26/03/2026
শিয়া আকিদা: বিভ্রান্তির অন্তরালে মুসলিম ষড়যন্ত্র
-------------------------------
❌ ১. শিয়া সম্প্রদায়ের একটি অন্যতম ও মূল আক্বীদা এই যে, আল্লাহ তায়ালা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) কে ওহি দিয়ে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর নিকট পাঠিয়ে ছিলেন। কিন্তু তিনি ভুল করে মুহাম্মদ (সাল্লালাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) এর নিকট তা অবতীর্ণ করেছেন। (আল মুনিয়াহ ওয়াল আমাল ফি শারহিল মিলাল ওয়াননিহাল,পৃ. ৩০)।
এজন্য তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেও অপছন্দ করে।
❌ 02. শিয়াদের দাবি যে কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ এর সাথে এটিও বলতে হবে যে ‘ওয়া আলিউন ওয়ালিউল্লাহ’ অর্থাৎ আলি আল্লাহ তায়ালার ওলী। আজানে তারা এই বাক্যটি ব্যবহার করে এমনকি মৃত ব্যক্তিকে এই কালিমা বলে তালকীন করে। (ফুরুউল কাফী-খ.৩ পৃ.৮২)।
❌ 03. শিয়াদের শায়খদের অভিমত হচ্ছে যে ব্যক্তি আবুবকর, ওমর, উছমান, মুআবিয়া , আয়েশা এবং হাফসা রাযয়াল্লাহু আনহুমদের প্রতি ফরজ নামাজের পর অভিশাপ দিবে, তারা আল্লাহ তায়ালার অতি নৈকট্যশীল বান্দা হতে পারবে। (ফরুউল কাফী: খ.৩ পৃ. ২২৪)।=
মহান আল্লাহ এসকল সাহাবাকে জান্নাতের সুসংবাধ দিয়েছে অতচ তাদেরকে তারা কাফের বলে—- এর পরও তাদের মুসলিম বলবেন?
❌ 04. শিয়া শায়খদের অভিমত হচ্ছে যে, ইমামদের কবরের দিকে হজ করা কাবায় হজ করার থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ছাওয়াবের কাজ। (ছাওয়াবুল আমাল ওয়া ইকাবুল আমাল: পৃ.১২১-১২২)। এজন্য তারা কাবা ঘরকে অপছন্দ করে
❌ 05. শিয়াদের একটি আক্বীদা হচ্ছে, যে ব্যক্তি হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর কবর যেয়ারত করলো সে যেন আরশে আল্লাহ তায়ালার যেয়ারত করলো। (আলমাযার আল মুফীদ: পৃ.৫১)।
❌ 06. মুতা বিবাহ (সাময়ীক সময়ের জন্য চুক্তিভিত্তিক বিবাহ) যা ইসলামে নিষিদ্ধ বা হারাম সেই নিষিদ্ধ বিষয়টিকে তারা হালাল ঘোষণা করে। তারা বলে একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবেনা যতক্ষননা সে অবিভাবক ও সাক্ষি ব্যতিত মুতা বিবাহ করে। এমনকি তারা বলে, একজন মুমিন নারীর সাথে মুতা করা 70 বার কাবা যিয়ারতের থেকেও উত্তম। (মিসবাহুত তাহাজ্জুদ: পৃ.২৫২)।
❌ 07.খোমেনী বলে, যেকোন ধরণের যৌন লালসা পুরণ করায় কোন গোনাহ নেই এমনকি তা যদি দুগ্ধপায়ী শিশুর সাথেও হয়। (তাহরীরুর ওয়াসিলাহ: খ.২ পৃ.২২১)।
08. খোমেনী তার ইসলামী হুকুমত কিতাবের মধ্যে লিখেছে যে, আমাদের ইমামদের এমন মর্যাদা রয়েছে যেখানে কোন নিকটস্থ ফেরেস্তা বা কোন প্রেরিত নবীও পৌঁছাতে পারবে না।
❌ 09. মাজলিসী তার লিখিত হাক্কুল ইয়াকীন গ্রন্থে বলে যে, আবুবকর ও ওমর তারা দুজন কাফের। আর যারা তাদেরকে ভালবাসবে তারাও কাফের। (পৃ.৫২২)।
❌ 10. শিয়াদের ধারণা, আলী (রাযিয়াল্লাহ আনহু) অদৃশ্যের খবর জানেন। তারা বলে, তিনি বলেছেন, ‘আমি জমিনের প্রতিপালক। আমার মাধ্যমেই জমীন স্থীর রয়েছে। দেখুন: মিরআতুল আনওয়ার: ৫৯)। তারা এটিও বিশ্বাস করে যে, তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করতে পারেন। দেখুন: উসুলুল কাফি: খ.১ পৃ.৩০৮)।
আল্লাহ যেখানে বলেন = সূরা আন-নামল (২৭:৬৫): "قُلْ لاَ يَعْلَمُ مَنْ فِيْ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلاَّ اللهُ" - (হে নবী) আপনি বলে দিন: আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত কেউ গায়েব জানে না।
❌ 11. আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন সময়ে প্রথম আসমানে নেমে আসেন, এটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের একটি মূল আক্বিদা। অথচ শিয়ারা এটি বিশ্বাস করেনা। বরং তাদের মতে যারা এই বিশ্বাস করে তারা সকলেই কাফের। (উসূলুল কাফী- খ.১ পৃ.৯০-৯১)।
❌12. শিয়াদের একটি উপদল ইমামিয়্যাহ, তারা তাদের ইমামদেরকে আল্লাহ তায়ালার গুণে গুণান্নিত মনে করে। এমনকি তারা তাদেরকে আল্লহর নামেও ডাকে। (উসূলুল কাফী-খ.১ পৃ.৩১০)।
❌13. শিয়াদের শায়খ ও কর্তাব্যক্তিরা এই বিশ্বাস রাখে যে, কোরআনে অনেক ত্রুটি রয়েছে। মূলত সঠিক কোরআন যখন ছাহাবাদেও মাঝে ধর্ম ত্যাগ দেখা দিয়েছে (তাদের মতে) তখন তা আসামানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। (আত তানবীহ ওয়ার রাদ্দ পৃ.২৫)।
❌14. তাদের ধারণা যে, তাদের ইমামরাই আল্লাহ তায়ালা ও মানুষের মাঝে মধ্যস্থতাকরী। যেকোন সমস্যার সমাধানে তারা এগিয়ে আসতে পারবে। (বিহারুল আনওয়ার: খ.২৩ পৃ.৯৯)।
❌ 15. শিয়া শায়খদের ধারনা এবং দাবি যে, তারা সাধারণ শিয়াদের জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে। (রিজালুল কাশি: খ.৫ পৃ.৪৯০-৪৯১)।
❌16 তাদের মতে হুসাইন (রাযিল্লাহু আনহু) এর কবরের মাটি সকল রোগের জন্য শিফা বা আরোগ্যের মাধ্যম। (আমালী: ৩১৮)।
❌17. আল্লাহ তায়ালা এবং তাদের ইমামদের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। (মাছাবীহুল আনওয়ার ফি হাল্লি মুশকিলাতিল আখবার: খ.২ পৃ.৩৯৭)।
❌ 18. শিয়াদের একটি বিশ্বাস হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা ফেরেস্তাদেরকে তাদের ইমামদের নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর এই ফেরেস্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে, তারা হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর কবরের পাশে কাঁদবে। এধরনের চার হাজার ফেরেস্তা কেয়ামত পর্যন্ত হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর কবরের পাশে কাঁদতে থাকবে। এছাড়া অন্যান্য সকল ফেরেস্তারা আল্লাহর নিকট অনুমতি চাইবে যেন তাদেরকে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর কবর যেয়ারত করার সুযোগ দেয়া হয়। অতএব কিছু ফেরেস্তা যিয়ারত শেষে আকাশে উঠে যাবে আর অন্যরা অবতরণ করবে। (কানযু জামেউল ফাওয়ায়েদ: পৃ.৩৩৪)।
❌ 19. শিয়াদের শায়খ আলবা ইবনে দিরা মর্যাদার দিক থেকে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) এর চেয়ে বেশী প্রধান্য দেয়। একথাও বলে যে মুহাম্মদকে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ই পাঠিয়েছেন। তাদের ধারণা এটিও যে আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম) কে পাঠিয়েছেন যেন তিনি মানুষকে আলী (রাযিয়াল্লাহ আনহু) এর দিকে ডাকেন। কিন্তু তা না করে তিনি মানুষকে নিজের দিকে ডাকতে শুরু করেছেন। (বিহারুল আনওয়ার: খ.২৫ পৃ.৩০৫)।
❌20. শিয়াদের শায়খরা বলে, তাদের ইমামরা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ওহী ব্যতীত কথা বলে না। এব্যাপারে সকলকে ঈমান রাখতে হবে। (বিহারুল আনওয়ারা: খ.১৭ পৃ,১৫৫)।
❌ 21. শিয়াদের শায়খ কুলাইনী তার কিতাবে উল্লেখ করেছে যে, ভাগ্য খারাপ ও ভাল হওয়া এবং জান্নাত জাহান্নামে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু তারকা ও নক্ষত্রের প্রভাব রয়েছে। (আর রওজা মিনাল কাফী খ.৮ পৃ.২১০৩)।
❌ 22. শিয়াদের একটি আক্বীদা হচ্ছে, মৃত ব্যক্তিকে সর্বপ্রথম আলে বাইতের ভালবাসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। (বিহারুল আনওয়ার: খ.২৭ পৃ.৭৯)।
= যা ইসলাম ধর্মের সাথে কোন মিল নেই,,, এর পরও তাদের তুমি কি বলবে?
❌ 23. শিয়ারা এই ধারণা পোষণ করে যে, আবুবকর ও ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে প্রতি হজের মৌসুমে জামারাতে রাখা হয় যেন পাথর নিক্ষেপের সময় তাদেরকেও পাথর নিক্ষেপ করা হয়।
❌ 24. শিয়া শায়খদের অভিমত, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মৃত ব্যক্তিকে জিবিত করতে সক্ষম। (উসূলুল কাফি: খ.১ পৃ.৩৪৭)।
❌ 25. তাদের আক্বীদা যে, উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলের সময়ে প্রকাশ্যে ঈমানদার ছিলেন, তবে ভিতরে ভিতরে তিনি ছিলেন মুনাফিক। (আনওয়ারে নোমানী: খ.১ পৃ.৮১)। সাথে সাথে তারা এ বিশ্বাস করে যে, যে ব্যক্তি উসমান (রা.) এর ক্ষেত্রে মনের মধ্যে শত্রুতা না রাখবে এবং তাকে কাফের মনে না করবে সে আল্লাহ ও তার রাসুলের শত্রু। এবং সে কাফের। (নাফহাতুল উহুত ফী লানিল জিবতি ওয়াততাগুত, কায়েদা নং ৫৭)।
❌26. শিয়ারা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ও হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে কাফের মনে করে। (তাফসীর কুম্মি পৃ.৫৯৭ সুরায়ে গাফের)। তাদের বিশ্বাস, জাহান্নামের সাতটি দরজাই আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর জন্য। এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ব্যভিচারিনী। (এটি একটি বিরাট অপবাদ)। তাদের প্রতিক্ষিত ইমাম মাহদি তাকে জিবিত করবেন এবং তার উপর হদ কায়েম করবেন বা তার বিচার করবেন। (ইলালুশ শারায়ে খ.২ পৃ.৫৬৫)।
❌ 27. শিয়াদের ইমাম ও ওলীদের কবর বা মাজার যেয়ারত করা অন্যান্য ফরজের মত একটি ফরজ। যে ব্যক্তি এটি পরিত্যাগ করবে সে কাফের। (কামেলুয যিয়ারাত পৃ. ১৮৩)।
❌ 28. শিয়াদের প্রধান ও অন্যতম আক্বীদা হচ্ছে তাকিয়া। অর্থাৎ বাস্তবতাকে গোপন করা এবং নিজের অন্তরের বিশ্বাসটি প্রকাশ না করা। অন্যভাবে বলা যায় তাকিয়া অর্থ ধোকবাজী ও মুনাফেকীর একটি সমন্বিত রূপ বা পদ্ধতি। এই তাকিয়া যে বিশ্বাস করবেনা তার ঈমান থাকবে না। অর্থাৎ যে ধোকাবাজী করবেনা সে শিয়া হতে পারবেনা। (উসূলুল কাফী: খ.২ পৃ.৫৭৩)। এই তাকিয়া বর্জন করা নামাজ বর্জন করার মত অপরাধ।
❌ 29. তাদের বিশ্বাস, কেয়ামতের পুনরুত্থানের পূর্বেই অনেক মানুষ মৃত্যুর পর আবার দুনিয়াতে সেই চেহারা ছুরত বা আকৃতি নিয়ে আবার আসবে। এটি একটি কুফুরি মতবাদ বা হিন্দুয়ানী মতবাদ। (আওয়াইলুল মাকালাত পৃ.৪৬)।
❌ 30. তারা মনে করে প্রতিক্ষিত মাহদী আসার পূর্ব পর্যন্ত তাদের উপর জুমার নামাজ ওয়াজিব নয়। তার যখন আবির্ভাব হবে তখন তিনি তাদের নিয়ে জুমা আদায় করবেন। (মিফতাহুল কারামাহ: খ.২ পৃ৬৯)।
❌ 31. শিয়ারা প্রতিক্ষিত মাহদী আসার পূর্ব পর্যন্ত জিহাদকে হারাম মনে করে। তাদের মতে এটি রক্ত, শুকরের গোশ্ত ও মৃতের মত হারাম।
❌ 32. শিয়াদের বিশ্বাস, তাদের ইমাম প্রতিক্ষিত মাহদী এসে আবুবকর ও ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে জিবিত করে শুলিতে চড়াবেন। এবং প্রতিদিন তাদেরকে হাজারবার হত্যা করবেন। (বাসায়েরুদ দারাজাত: পৃ.১৮৭-১৮৮)।
❌ 33✅. তাদের বিশ্বাস, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের লোকেরা জাহান্নমী। তারা অপবিত্র, কাফের, তাই তাদে জানাযা নামাজ পড়া জায়েয হবে না। তাদের কোরবানী হালাল হবে না। এবং তারা সকলেই জারজ সন্তান। তাদেরকে হত্যা করা, তাদের সম্পদ চুরি করা, তাদের সাথে মতবিরোধ করা বৈধ। এমনকি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের লোকদের অভিসাপ দেয়া উত্তম ইবাদত। (বিহারুল আনওয়ার: খ.৮ পৃ ৩৬৮-৩৭০)। দেখুন তারা আমাদের কাফের ভাবে আর আপনি এই জালেমদের মুসলমান ভাবেন!!!
❌ 34. শিয়ারা বলে, আলী(রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর কবর যিয়ারত করলে প্রতিটি পদে পদে তার জন্য একটি কবূল হজ, একটি মাবরুর ওমরা এবং একশত শহীদের ছওয়াব লেখা হবে। তার পূর্বের ও পরের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তার হিসাব সহজ করা হবে। ফেরেশ্তাগণ তাকে স্বাগত জানাবে। (তাহজীবুল আহকাম: খ.৬ পৃ.১৩০৬)।
❌ 35. শিয়াদের একটি বিশ্বাস যে কেয়ামতের দিন হিসাব আল্লাহ তায়ালার নিকট নয় বরং তাদের ইমামদের নিকট দিতে হবে। (উসূলুল আইম্মাহ: খ.১ পৃ.৪৪৬)। =আস্তাগফিরুল্লাহ
সংক্ষিপ্তাকারে উপরোল্লেখিত আক্বীদাগুলোই তাদের কুফুরীর প্রমানের জন্য যথেষ্ট। এছাড়াও শিয়াদের আরও অনেক ভ্রান্ত ও কুফুরী মতবাদ রয়েছে।

26/03/2026
26/03/2026
26/03/2026
26/03/2026
26/03/2026
08/03/2026